Feeds:
Posts
Comments

Archive for January, 2013

“A man who cannot reach a decision promptly, once he has all the necessary facts, cannot be depended upon to carry through any decision he may make.”

– Andrew Carnegie

 ৯.

গবেষণা ছাড়া কিছু করা যায়? আমার ধারণা, একেবারেই না৷ অনেক সময় শর্টকাট করে বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি বেছে নিলেও তা আমাদের জন্য ঠিক মতো মেলে কিনা তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ বেঞ্চমার্ক পদ্ধতি হচ্ছে অন্যদেরটা (পাশাপাশি জিডিপি) দেখে কপি করা, বিদেশী পরামর্শক আমাদের দেশকে ভালো ভাবে না বুঝে যখন অন্য দেশের টেমপ্লেটে ফেলে দেন৷ বিদেশী পরামর্শকের খুব একটা দোষ দেয়া যায় না, যেখানে আমরা জনবলের অভাবে রিপোর্টগুলো ঠিকমতো বুঝে নিতে পারি না৷ বিদেশী পরামর্শককে আমাদের স্টাটিসটিকাল পার্টিকুলারগুলো বোঝানোর মতো লোক নেই৷ বাংলাদেশ অনেক দেশ থেকেই অনেক আলাদা৷ আমাদের প্যারামিটারগুলো অন্য কারো সাথে মেলে না৷ যে কোনো ভালো পদ্ধতি বের করতে হলে গবেষণা প্রয়োজন৷ যত বেশী তথ্য ততো বেশী বিশ্লেষণ – সিদ্ধান্ত ততো ভালো না হয়ে যাবে কোথায়৷

১০.

কার্নেগী নিজেই গবেষনায় বিশ্বাসী ছিলেন৷ তিনি হিলকে দিয়ে সেই তত্ত্ব গবেষণা করাতে চাইলেন যার ব্যাপ্তি হবে বিশ বছরের মতো৷ কার্নেগী কিভাবে এত বড় হলেন তার ধারণা হিলকে দিলেও ওই সময়ের দুশোরও বেশী কোটিপতিদের সাক্ষাতকারের আয়োজনের ব্যবস্থা করে দিবেন বলে ধারণা দিলেন৷ হেনরী ফোর্ড, প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট, রাইট ভাতৃদয়, গ্রাহাম বেল থেকে থমাস আলফা এডিসন কেউ সেই সাক্ষাতকার লিস্ট থেকে বাদ পড়েননি৷  কার্ণেগীর ধারণা, সব মানুষ বড় হবার পেছনে কিছু প্যাটার্নের মিল থাকবে যা তাদেরকে অন্য সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা করে রেখেছে৷ আর এই প্যাটার্ন বের করতে পুরো যুক্তরাষ্ট্র চষে বেড়াতে হবে হিলকে৷ বিশ বছরের সেই সব তথ্যের সংকলনের গবেষণালব্ধ তত্ত্ব প্রকাশের যাবতীয় খরচসহ প্রস্তাবনা দিলেন কার্নেগী৷ কার্নেগী তার প্রগ্জ্ঞাকে কাজে লাগিয়ে এই গবেষণা করাতে হিলকে পছন্দ করেছিলেন৷

১১.

হিলের লেখা “থিংক এন্ড গ্রো রিচ” এ বর্ণিত বড় বা বড়লোক হবার সুত্র কার্ণেগীর পৃষ্ঠপোষকতায় তার তত্ত্বকে আজকেও অম্লান রেখেছে৷ বইটা তখনকার সময়েরই হাজার কোটিপতি লোকের উপর পরীক্ষার ফলাফল যা পরবর্তীতেও আরো লাখো লোকের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে৷ কার্নেগী চাচ্ছিলেন এই সুত্রগুলো সবাই জানুক৷ এই ম্যাজিক তত্ত্ব যা কার্নেগীসহ অনেককে নিস্বঃ থেকে কোটিপতিতে রূপান্তর করেছে৷ কার্নেগী মূলতঃ এই জ্ঞানটা তাদেরই জন্য উন্মুক্ত করতে চাচ্ছিলেন যাদের সেই সময়ে জ্ঞান আহরণ করার সামর্থ্য ছিলনা৷ তখন এখনকার মতো ইন্টারনেট বা শিক্ষা ব্যবস্থা ছিলনা বললেই চলে৷ কার্নেগী বিশ্বাস করতেন এই তত্ত্ব ঠিক ভাবে স্কুল কলেজে পড়ানো হলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা পাল্টে যাবে৷ আর স্কুলের সময় অর্ধেকের চেয়ে কমে আসবে যার প্রতিফলন কার্নেগিমেলন উনিভার্সিটিতে পড়েছে৷

 ১২.

আমি হলে কার্ণেগীর মুখের কথা পড়ার আগেই প্রস্তাবটা লুফে নিতাম৷ তবে আমি তা আমার বর্তমান প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে বলছি৷ তবে আমার ধারণা, সেই উনিশশো আট সালে আমাকে বলা হলে আমি হয়তোবা সিদ্ধান্তহীনতায় পড়তাম৷ যুক্তরাষ্ট্র মহাদেশ চষে বেড়াতে হতো বিশ বছর ধরে৷ মোবাইল ফোন তো দুরের কথা, টেলিফোনও ঠিকমতো কাজ শুরু করেনি৷ যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য ভরসা করতে হতো বাস্পীয় ইঞ্জিনের উপর৷ মজার কথা, পরবর্তীতে জানা গিয়েছিলো যে হিল উনত্রিশ সেকেন্ডের মাথায় তার মতামত দিয়েছিলেন৷ কার্ণেগীর জীবনী থেকে জানা গেছে যে সেটা এক মিনিটের বেশী হলেই কার্নেগী তার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে নিতেন৷ তার মতে, প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও যে লোক সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে, তার কোনো সিদ্ধান্তের উপর ভরসা করা যায়না৷

Advertisements

Read Full Post »

“The starting point of all achievement is DESIRE. Keep this constantly in mind. Weak desire brings weak results, just as a small fire makes a small amount of heat.”

Napoleon Hill, Think and Grow Rich

৫.

“থিংক এন্ড গ্রো রিচ” বইটার নাম এ শতাব্দীতে কিছুটা বিভ্রান্তিকর হলেও এটা এযাবতকালের সবচেয়ে বেশী পঠিত – সার্বজনীন “সেল্ফ হেল্প” টেক্সট৷ তা না হলে, আজও পচাত্তর বছর পর এটা কিভাবে আমাজনের বেস্ট সেলারের এক নম্বর পদ ধরে আছে, সেটা একটা বিশ্বয়৷ বইয়ের টাইটেল থেকে ধনী হবার ফর্মুলা বাতলানোর ধারণা আসলেও নেপোলিয়ন হিলের ভাষ্যমতে এই নীতি ব্যবহার করে যে কোনো মানুষ যে কোনো কাজে সাফল্য বা সে যা চায় তা সে পেতে পারে৷ তার প্রমান সেই সময়কার দুইশো কোটিপতির জীবন বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন তিনি৷ পরে, আরো হাজার মানুষ কিভাবে এই ফর্মুলা দিয়ে কোটিপতি বা যা হতে চেয়েছেন তা হতে পেরেছেন, একুশ শতকের এডিশনে তা বিশদভাবে এসেছে৷

৬.

বইটার লেখক হিসেবে নেপোলিয়ন হিলের নামটা চলে আসলেও বইটা লেখার জন্য যার অবদান সবেচেয়ে বেশী, তিনি হচ্ছেন এন্ড্রু কার্নেগী৷ এন্ড্রু কার্নেগীর দর্শনশাস্ত্র বা ফিলোসফি যাই বলেন না কেনো, তার জীবন থেকে নেয়া শিক্ষাগুলো বইটাতে উঠে এসেছে৷ ইংরেজিতে “ব্যাগ (rag) টু রিচেস”  বা অতি দারিদ্র্য থেকে কোটিপতি হবার গল্প এর ব্যাক স্টোরি হিসেবে আনবো আপনাদের সামনে৷ আমেরিকান সেরা দ্বিতীয় ধনী (রকফেলার ছিলেন প্রথম) হলেও সেরা জনহিতৈষী বা ফিলানথ্রপিস্ট হিসেবে ইতিহাসের খাতায় উনার নাম এক নম্বরে৷ আমেরিকার সবচেয়ে বড় স্টিল ইন্ডাস্ট্রীজের মালিক হয়েও উনার প্রায় সমস্ত সম্পত্তি বিলিয়ে দিয়েছিলেন আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও আরো কয়েকটা দেশের স্কুল, কলেজ, লাইব্রেরী আর ইউনিভার্সিটির পেছনে৷ কার্নেগী পরে তার ইস্পাত সাম্রাজ্য বিক্রি করে দেন জেপি মর্গানের কাছে যারা পরে সেটাকে “ইউএস স্টিল” হিসেবে নাম দেন৷ মৃত্যুর পরে হিসেব করে দেখা যায় প্রায় পাঁচ বিলিয়ন ডলার উনি বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করে গেছেন৷ বইটার একটা বড় অংশ লেখক এই কার্নেগী সাহেবের জীবন থেকে নিয়েছেন৷

৭.

উনিশ শতকের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে মন্দা অর্থনীতির মাঝে নেপোলিয়ন হিল একটা পত্রিকা অফিসে কাজ নিয়েছিলেন৷ যদিও একাজ থেকে ওরকম পয়সাপাতি না পেলেও তার কাজের ধারাটা ছিলো একেবারেই অন্য রকমের৷ অল্প বেতনের চাকুরী হলেও এটা যেকোনো বুদ্ধিমান মানুষের না বলাটা বোকামি হতো৷ একটা হিসাবে দেখা গেছে, আপনি যাদের সাথে সবসময় ওঠাবসা করেন তাদের কাছাকাছি আয় করবেন আপনি৷ কারণ, আপনার আশেপাশের মানুষের চিন্তাধারা প্রতিনিয়ত আপনার মানসিকতাকে পাল্টাতে থাকে৷ আপনার আশেপাশের লোকজন যেকোনো পেশার হলেও আপনার আয় তাদের থেকে কম হবার কথা নয়৷ বিশ্বাস না করলে পরীক্ষা করে দেখতে পারেন৷ মানুষের সাফল্যগাথা জীবন নিয়ে লিখতে লিখতে সেসময়ের প্রায় সব শিল্পপতিদের সাথে কথাবলার যোগসূত্র করে দিয়েছিলো তার এই কাজটি৷ এর ফলে যুক্তরাষ্টের ইস্পাত সাম্রাজ্যের নির্মাতার সাথে দেখা হতে সময় লাগেনি হিলের৷ সেইসময়কার এই কোটিপতি এন্ড্রু কার্নেগী পরবর্তীতে হিলের মেন্টর হয়েছিলেন৷

 ৮.

 হিলের সাথে কার্ণেগীর যোগসূত্র পত্রিকার সেই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাতকারের পর থেকে৷ হিলের যেকোনো বিষয়ের ভেতরে যেয়ে উপলব্ধি করার ক্ষমতা কার্নেগীকে হিলকে তার সাম্রাজ্যে নিমন্ত্রণ করতে বাধ্য করেছিলো৷ পরের দুদিন হিলের জীবন পাল্টে দিয়ে ছিলো৷ কার্নেগী হিলকে বোঝাতে পেরেছিলেন যে সাধারণ যে কোনো মানুষ বড় হতে পারে, মানুষের চিন্তা করার সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষকে আটকে রাখে বড় হওয়া থেকে৷ বড় হবার নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতি ঠিকমতো আয়ত্তে আনতে পারলে মানুষ যেকোনো জিনিস করতে পারে, সবচেয়ে বড় ধনী হবার পদ্ধতি এর বাহিরে কিছু নয়৷ “লজ্জার কথা” কার্নেগী বলছিলেন, “বড় হবার পদ্ধতিগুলো অনেক সুস্পষ্ট হলেও প্রতিটি নতুন প্রজন্মকে – প্রতিবার অনেক ভুল শুদ্ধ পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়৷”

Read Full Post »

There are no limitations to the mind except those we acknowledge.

১.

আমিও তাই চিন্তা করেছিলাম৷

এই বই পড়ে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না৷ পচাত্তর(ভুল নয়!) বছর আগের লেখা বইয়ের আবেদন এসময়ে না থাকাটাই স্বাভাবিক৷ আবার, ধনী হবার ফর্মুলা নিয়ে বইয়ের গল্পগুলো ওই দেশের আর্থসামাজিক ভিত্তিতে কাজ করলেও সেগুলোর সাথে বাংলাদেশের সমীকরণ বেশ আলাদা৷

রাস্তা ঘাট, ফুটপাথ আর ট্রাফিক সিগনালে প্রচুর বই দেখছি প্রতিদিন৷ “ধনী হবার একশো-এক উপায়” ধরনের বইয়ের ছড়াছড়ি ছিলো একসময়৷ বর্তমানে এটা যে খুব পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না৷ তবে এই ধরনের বই অভিজাত বইয়ের দোকান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে৷ আর হারাবেই না কেন? খোদ বইয়ের দোকানই হারিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ থেকে৷

২.

বইয়ের নাম নিয়ে বিভ্রাট এই প্রথম নয়, তবে এবার কানের কাছ থেকে বাঁচিয়ে দিলেন ওয়াজেদ “রজার” সালাম৷ তার সেমিনারের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের ক্যাডেট কলেজের সিনিয়র ভাই৷ অনলাইনে বুকিং দেবার পর জানলাম ছুটির দিনে সেই ভোর সকাল থেকেই উনার সেমিনার৷ সেই ভোরে যাবার পর বুঝলাম, এই ভোরে যাবার ব্যাপারটাও উনার বক্তৃতার অংশ ছিলো৷ ছুটির দিনে অত সকালে তারাই আসবেন যারা নিজেদের জীবনকে পাল্টে দিতে চাইবেন৷ অন্তত, আমারটা পাল্টে গিয়েছে৷

আমাদের দেশে পার্সোনাল মোটিভেশন সেমিনারের অত চল এখনো শুরু না হলেও, উন্নত দেশগুলোতে কোম্পানিগুলো নিজের গাটের পয়সা খরচ করে তাদের ওয়ার্কফোর্সকে তৈরী করে নেয়৷ এছাড়া, নিজেদের প্রয়োজনে অনেকে এধরনের সেমিনারে যেয়ে নিজেদের জীবন পাল্টে নিয়ে আসেন৷ আপনি চাইলে আপনিও পারবেন৷ মানুষ মাত্রই পারেন৷

৩.

আমার টুইটার বন্ধুরা অনেকবারই জিজ্ঞাসা করেছেন এই বইটার ব্যাপারে৷ সময় পেলেই এই বইটার “কোট” টুইট করতাম৷ “মানুষ যা কল্পনা বা বিশ্বাস করতে পারে, তা মানুষ করতে বা পেতে পারে” এই মূলমন্ত্রের উপরে বইটা এগিয়েছে৷ উনিশশো-সাইত্রিশ সালে লেখা৷

বিশ্বাস বা কল্পনাশক্তি সেই জিনিসটাকে আগে থেকে দেখাতে পারে যা বাস্তবে এখনো অনুপস্থিত৷ যে জিনিসটা আজকে নেই সেটাই আগে থেকে দেখা সম্ভব৷ মানুষ চাদে যাবার কল্পনা করেছিলো বলেই চাদে যেতে পেরেছে৷ আজকে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স এখানে দাড়িয়ে আছে কারণ দশ বছর আগে কেউ সেই মাটিতে দাড়িয়ে পুরো কমপ্লেক্সটি কল্পনা করেছিলেন৷ সৃষ্টিকর্তা শুধুমাত্র মানুষকেই কোনো জিনিসকে আগে থেকে দেখার ক্ষমতা দিয়েছেন৷ একমাত্র মানুষই পারে সেটা তৈরী করতে বা পেতে, যা তার কল্পনায় নিয়ে এসেছে৷ আজকে আপনি যদি নতুন একটা ফ্লাটের সামনে দাড়িয়ে চিন্তা করেন যে, পাচ বছর পর এটা আপনার হবে, তাহলে সেটা আপনারই হবে৷ সেটার সমীকরণ নিয়ে আরেকদিন আসবো৷

মানুষ যেটা করতে পারছে না, সেটার সীমাবদ্ধতাটা তার নিজের মনের মধ্যে তৈরী করে রেখেছে সে৷ সে সেটা পারছে না কারণ সে নিজেই না করতে পারার ধারণা নিয়ে বসে আছে৷ আমার জীবনেও আমি যা করতে চেয়েছি, তার প্রায় সবটাই করতে পেরেছি৷ সেটার জন্য এই বইটা পড়তে হয়নি, তবে, বইটা পড়ে ধারনাটা আরো স্ট্রাকচারড হয়েছে৷ একটা জিনিস পরীক্ষা হয়ে যাক৷ আপনার কয়েক বন্ধু নিয়ে নতুন কেনা জমিতে আপনার বাসাটা কিভাবে বানাবেন তা দেখাতে নিয়ে গেলেন৷ আমি নিশ্চিত যে, আপনার দেখানোর এক পর্যায়ে আপনার বন্ধু দরজায় হোচট খেয়ে সরি বলবেন৷ মানুষই পারে কল্পনার জিনিসকে আসলের মতো করে দেখতে৷ আর, মানুষের পক্ষেই কোনো একটা জিনিস শুরু করার আগেই শেষ করা সম্ভব৷

৪.

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বই সরবরাহকারীর বেস্টসেলিং ক্যাটালগ দেখলে নিত্য নতুন সব বইয়ের খবর পাওয়া যায়৷ কিন্ডল স্যাম্পল দিয়ে বেশ কয়েক চ্যাপ্টার বই না কিনেই পড়া যায়৷ যুক্তরাষ্ট্র থেকে যতবারই এসেছি ততবারই ব্যাগের সবকিছু ফেলে বই ভর্তি করে নিয়ে এসেছি৷ এখন কিন্ডলের যুগে ওই দেশে যাবারও দরকার পরছে না৷ বোনের দেয়া কিন্ডলে ভাই কানাডা খেকে পয়সা ভরে দিলে বাসায় বসে যেকোনো বই পড়া যায়৷ কিন্ডলের সুবাদে আজকে এই লেখার অবতারণা৷ আমি খুব একটা অবাক হইনি, তবে পচাত্তর বছর আগের বই কোনভাবেই বেস্ট সেলারের এক নম্বর জায়গাটা ধরে রাখার কথা নয়৷

এই বইটার সাথে আমার একটা সিরিজ লেখার আশা করছি৷

amazon স্ক্রীন শট

আমাজনের বেস্ট সেলিং লিস্টে আজকের টপ চার্টার, আর এই বইটা পাশ কাটিয়েছে আপনার? পচাত্তর বছরে আগে লেখা এই বই৷

Read Full Post »

“Read a thousand books, and your words will flow like a river.”
― Lisa See, Snow Flower and the Secret Fan

১.
লাইব্রেরীর এই শেষ দিকের ফাকা জায়গাটা আমার অনেক দিনের পছন্দ৷ মাইক্রোফিশ কম্পার্টমেন্টগুলো পার হয়ে আসতে হয় এজায়গাটায়৷ খুব একটা লোকজনও আসে না বলে এজাগাটায় শান্তি শান্তি ভাব৷ সবার চোখ এড়িয়ে এদিকের কার্পেট মোড়া মেঝেতে বসেই ভালো সময় কাটানো যায়৷ দরকারের সময় অনেক বই বালিশের কাজ করে বটে৷

ঘুমাই আমি? আচ্ছা, শুয়ে শুয়ে পড়তে কার না ভালো লাগে?

সেদিন দুটো বই হাতে করে আমার পরিচিত সেই জায়গায় যেতেই চখ্খুচড়কগাছ৷ স্কুলের পরিচিত আরেকজন বসে আছে আমার পরিচিত জায়গার কয়েক ফুট দুরে৷ চোখাচোখি হতে সেই পরিচিত স্মিত, প্রশ্রয়ের হাসি৷ বই খুলে বসতেই সে উঠে পড়ল৷ হেটে এসে আমার সামনে হাটু গেড়ে বসতেই একটু অস্বস্তিতে পড়ে গেলাম৷ সে আমার অস্বস্তিটা নিয়ে মজা পাচ্ছে কিনা সেটাও বুঝতেও পারছি না৷

তোমার ব্লগ পড়ে মনে হয়েছে তুমি এটা পছন্দ করবে৷ এত মুভি দেখলে কবে?

রিডিং গ্লাসের উপর দিয়ে আমার চোখের দিকে তাকালো৷ চোখের এতটা ভেতর পর্যন্ত দেখা যেতে পারে আমার জানা ছিলনা মোটেই৷ আইরিসগুলোকে বিশ্বব্রহ্মান্ডের ছবির মতো মনে হচ্ছে৷

বইটার দিকে তাকাতেই নামটা আমার পছন্দ হয়ে গেলো৷ নামের দ্বিতীয় অংশে চোখ পড়তেই ভালোলাগাটা ফিকে হতে শুরু হলো৷

স্ক্রীনরাইটিং এর উপর?

চোখ নাচালো সে৷ রহস্যেই থাকতে চাইছে সে৷

ছেড়ে দিলাম তাকে৷ আফসোস হলো পরে, স্টারবাকস ছিলো পাশেই৷

এটা হচ্ছে মোটামুটি সেই দু হাজার সালের দিকের কথা৷ শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই উনিশতম রিপ্রিন্ট চলছে রবার্ট মাকির এই বইটার৷ হার্ভার্ড, ইয়েল আর ইউসিএলএ এর মতো ইউনিভার্সিটিতে পাঠ্যবইয়ের রেফারেন্স বই হিসেবে একে বিবেচনা করা হয়৷ তার এই বইটার সেমিনারে যাবার সৌভাগ্য এখনো হয়ে ওঠেনি৷ তার হাতে তৈরী হলিউডের সেলুলয়েডের নির্মাতারা আজকে উনপঞ্চাশটা অস্কার আর একশোসত্তুরটা এমি নিয়ে এসেছে৷

২.
পুরনো বইয়ের বাক্সগুলো ঘাটতে যেয়ে বইটা পেলাম আজকে৷ প্রথম এডিশন, উনিশশোসাতানব্বইয়ের প্রিন্ট৷ এর মুখবন্ধের প্রায় প্রতিটি লাইন আমার মুখস্ত৷ মাফ করবেন, বইয়ের আগাগোড়া পড়া আমার অনেকদিনের পুরনো বদঅভ্যাস৷ তার ছায়া থেকে নিচের গল্প৷

৩.
ছোটবেলায় যখন পড়তে শেখা শুরু করলাম, ইশপের গল্পগুলোর সাথে পরিচয় করে দিতে শুরু করলেন বাবা৷ উনি আশা করছিলেন যে এই পৌরাণিক উপকথাগুলো আমার ছোটবেলার দুষ্টমি যদি কিছুটা কমায়৷ প্রায় প্রতি সন্ধায় বসতেন আমার পছন্দের গল্পগুলো শুনতে৷ “আঙ্গুর ফল টক”, গল্পটা আমার প্রিয় জেনে মাথা নাড়াতেন৷

গল্পটার মানে বলতে পারবে, রবার্ট?

আমি সেই গল্পের গোটা গোটা লেখা আর চমত্কার রঙের আকা দেখতে দেখতে মুগ্ধ হয়ে তার মর্মোদ্ধার করার চেষ্টা করতাম৷ তবে, ধীরে ধীরে সেই গোটা গোটা লেখা আর ছবির ভেতরের গল্পগুলো বুঝতে শুরু করলাম৷ সেই ভেতরের গল্পই আসল গল্প৷

ইউনিভার্সিটিতে ঢোকার আগে আমার ধারণা হলো ডেন্টিস্টরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ৷ সুতরাং ডেন্টিস্ট হচ্ছি আমি৷

ডেন্টিস্ট? মা হাসলেন৷

সত্যি? অবিশ্বাসের চোখে তাকালেন, হাসিমুখ তার৷

আচ্ছা, ধরো ওরা যদি পৃথিবীর সব দাতের সমস্যা সারিয়ে দেয়? কি হবে তখন এই ডেন্টিস্টদের?

বাবা, মানুষের আনন্দের দরকার – সবসময়ই৷ আমি দিব্যদৃষ্টিতে তোমার ভবিষ্যতের দেখতে পারছি৷

একটু থামলেন মা৷

তুমি কিন্ত যাচ্ছ শো বিজনেসে!

[বইটার অনেকগুলো চ্যাপ্টার আমাজনেই পড়তে পারবেন৷]

Story

Story

Read Full Post »

%d bloggers like this: