Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2013

It’s none of their business that you have to learn to write. Let them think you were born that way.

– Ernest Hemingway

৬৭.

বই লেখার খরচ আছে কিছুটা। ধরে নিচ্ছি আপনি একদম নিখরচায় লিখছেন। তবে এই লিখালিখির সময় লেখকদেরও তো খেতে পরতে হয়। উঠতি লেখকদের দিনের কাজের পাশাপাশি লিখালিখির জন্য অপেক্ষা করতে হয় গভীর রাতের জন্য। স্বপ্ন দেখার বদলে স্বপ্ন সফল করার জন্যই হয়তোবা পরিবারের সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে বসতে হয় এই কাজে। বছরের পর বছর এটা কষ্টকর বৈকি। ছেড়ে দিতে হয় বড় কাজ, ছোট কাজ জুটিয়ে জেগে থাকেন লেখকরা স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিষ্ঠিত হবার আগে সাহায্য নিতে পারেন সাধারণ মানুষের, যারা আপনাকেই তুলে নিয়ে আসবে অনেক মমতা দিয়ে – সাধারণের মাঝ থেকে। যেমনটা আমরা শুনে থাকি, জনগনই সকল ক্ষমতার উত্স! সত্যি কথা। এযুগে হাজার হাজার বই লেখা হচ্ছে এই ক্রাউডসোর্সিং এর মাধ্যমে।

৬৮.

ফিরে আসি আমার কথায়। ধরে নেই (ধরে নিচ্ছি কিন্তু!) আমি একটা বই লিখছি ‘মাইন্ডম্যাপিং’ নিয়ে। প্রাথমিক খরচপাতি যা লাগে দাড়া করালাম তার হিসাব। আপনার যেকোনো জটিল কাজকে চাক্ষুষভাবে ‘স্ট্রাকচার্ড’ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বের করে দেবার জন্য এই বইটা কিভাবে সাহায্য করতে পারে তার একটা সারসংক্ষেপ তৈরী করে ফেললাম এর মধ্যে। তারপর গেলাম সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটগুলোতে। লিখলাম আমার পরিচয়, কেন দরকার হলো বইটা লেখার। বইটার ডেলিভারেবল – মানে বইটা কিভাবে সাহায্য করবে আপনাকে, তার বিত্তান্ত লিখে বা ভিডিও আপলোড করে জানিয়ে দিলাম সবাইকে। বোনাস হিসেবে আবার তুলে দিলাম প্রথম দু অধ্যায়। আমার এই কাল্পনিক ক্যাম্পেইনের কিছু উদাহরণ টেনে আনতে পারি আপনার সুবিধার জন্য।

৬৯.

২০ টাকা: ধন্যবাদ দেবো আপনাকে – ফেইসবুক বা টুইটারে।
৫০ টাকা: ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের ফাইনাল ই-বুকের কপি পাবেন আপনি।
৬০ টাকা: পাচ্ছেন আমার অটোগ্রাফ করা ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের ই-বুকের কপি ।
১০০ টাকা: ‘মাইন্ডম্যাপ’ বইয়ের প্রিন্ট কপি, মানে আসল বই।
১৫০ টাকা: আসল বই, আমার অটোগ্রাফসহ।
৩০০ টাকা: স্কাইপে দশ মিনিটের একটা কল – আমার সাথে। (১৫০ টাকার সুবিধাসহ +)
১,০০০ টাকা: + ধন্যবাদ দেবো বইয়ের “কৃতজ্ঞতা” সেকশনে।
৫,০০০ টাকা: + বসতে পারি একটা কফিশপে, আপনার সাথে।
১০,০০০ টাকা: + বইটার একটা চরিত্রই হতে পারে আপনার নামে।

৭০.

বুঝতে পারছি মন খুব খারাপ হয়ে গেছে আপনার। মানতেই পারছেন না মন থেকে। এগুলো করতেই হবে – বই লেখার জন্য? আচ্ছা, মন থেকে ফেলে দিন উপরের উদাহরণ – একেবারই। ফিরে আসি ‘ক্রাউডফান্ডিং’য়ে। ‘কেইলী’ গানটার কথা মনে কি আছে আপনার? পাগলকরা (এখনো পাগল আমি) এই গানটা এসেছিলো ব্রিটিশ ব্যান্ড ম্যারিলীয়ন থেকে। অথচঃ এই ব্যান্ডের পুরো ইউএস টুরের টাকা তুলে দিয়েছিলো তার ভক্তরাই। সাতানব্বই সালের দিকে এই ভক্তকুল ইন্টারনেটের মাধ্যমে তুলে দিয়েছিলো ষাট ষাট হাজার ডলার! আর এতে ছিলো না ব্যান্ডের কোনো যোগসূত্র। ক্রাউডফান্ডিং। হ্যাঁ। উনিশশো নিরানব্বই সাল থেকে আমার পিসির প্রসেসরের ক্রান্চিং পাওয়ার ভাগাভাগি করে নিচ্ছি ‘সেটি@হোম’ প্রজেক্টের সাথে। সবার প্রসেসরের মিলিত কাজের ফল পাচ্ছে ‘সেটি’, বার্কলির ‘সার্চ ফর এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ প্রজেক্ট। আরো জানতে দেখুন ‘কন্টাক্ট’ মুভিটা।

৭১.

আঠারশো চুরাশি সালে মার্কিন জনগণ এক ডলার করে চাঁদা দিয়ে তৈরী করে দিয়েছিলো স্ট্যাচু অফ লিবার্টির বেদীটা। অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে ষাট লক্ষ্ ইউসেজ আর তার বাক্যের উদাহরণ যোগান দিয়েছেন কিন্ত সাধারণ মানুষ, প্রায় সত্তুর বছর ধরে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে সবার মতামত চাওয়া হয়েছিল তখন। আমাদের দেশেও অনেক উদাহরণ আছে এরকম। মানুষের জন্য মানুষ করে বলেই মানুষ বড় কোনো অসুখে পড়লে তার বন্ধুরাই পত্রিকার মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করেন। ‘টু কিল আ মকিং বার্ড’এর বই বা মুভিটা আজকে পেতাম না যদি না তার বন্ধুরা চাঁদা তুলে তার এক বছরের খরচ তুলে দিতেন। নেলী হার্পার লী ছিলেন ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের সামান্য কেরানী – যিনি লিখতেন কাজের ফাঁকে। লেখার জন্য চাকরি ছেড়ে যেতে হয় সস্তা এপার্টমেন্টে। এই বইটা আজ অবিশ্বরনীয় হয়ে আছে। এটিকাসকে মনে রাখবে যারাই পড়েছে বইটা।

৭২.

ইন্টারনেটের যুগে এই ‘ক্রাউডফান্ডিং’ পাল্টে গেছে ‘ক্রাউডসোর্সিং’ নামে। যা করতে চান, বলুন মানুষকে। মানুষ মানে আমরা তুলে দেবো টাকা, লিখুন গান, চিত্রনাট্য অথবা তৈরী করুন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচিত্র। সবই সম্ভব। বিনা পয়সায় বিশ্বভ্রমন, তাও সম্ভব। বইয়ে আসি ফিরে। আমার অনেক বন্ধুকে লেখক বানিয়ে ছেড়েছে ব্রিটিশ সাইট আনবাউন্ড। একটু ঘুরে আসুন সাইট কিকস্টার্টারে। আগেই বলে দিচ্ছি, মাথা কিন্তু দেবে ঘুরিয়ে। একাধারে চলছে চল্লিশ হাজারের মতো প্রজেক্ট (বই বা অ্যালবাম বের করা হচ্ছে এক একটা প্রজেক্ট)| দুহাজার নয় থেকে চল্লিশ লক্ষ মানুষ তুলেছে পাঁচ হাজার কোটি টাকার মতো। জি। বাংলাদেশে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিটা কিভাবে আমাদের জীবনযাত্রা পাল্টে দিচ্ছে তা আমাদের বাসার গৃহকর্মীকে দেখলে বোঝা যায়। ‘বিকাশ’ গুগলের মতো ক্রিয়াপদে পরিনত হচ্ছে। প্লাস্টিক মানুষের হাতে হাতে আসছে চলে। মানুষ দেবে টাকা – লেখার জন্য। সত্যি বলছি। লিখুন নিজের জন্য। অন্যের জন্য নয়। আপনাকে আপনি পরিতৃপ্ত করতে পারলে অন্যকেও পারবেন।

৭৩.

অনুরোধ রাখবেন কি একটা? জ্ঞান চালাচালি করতে পারাটা এই ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তবে, অন্যের বই পয়সা না দিয়ে পড়াটা অন্যায়। আমি বই কিনে পড়লে অন্যেরাও পড়বেন আমারটা।

লিখছেন? মাঝরাতে না তো?

Advertisements

Read Full Post »

“Writing is like pros*itu*ion. First you do it for love, and then for a few close friends, and then for money.” – Moliere

৬৪.

লেখা নিয়ে লিখতে যেয়ে কয়েকজন এর খরচপাতির কথা বলেছেন। মানে, বই লিখতে গেলে কাজ ছেড়ে দিতে হতে পারে। আর কাজ ছেড়ে দিলে খাব কি? অল্প বয়সে বাবা মার হোটেলে থাকলে কিছুদিন চেষ্টা করা যেতে পারে লেখালিখির, তবে বেশিদিনের জন্য গ্যারান্টি থাকার কথা নয় তার। সবাই প্রায় পাশাপাশি একটা ছোটখাটো চাকুরী জুটিয়ে রাখেন, পেটে ভাতেও হলে চলে। যখন তার লেখা মানুষের নজরে আসে, তখন কিছু আয় আসতে পারে বলে ধারণা করা যায়। তবে, লিখে জীবনধারণ করার ব্যাপারটা কিছুটা কষ্টকর। বছরে একটা দুইটা বই বিক্রি করে তা প্রায় অসম্ভব বটে। এর বেশি লেখতে গেলে কাজ ছেড়ে দিতে হতে পারে। কাজ ছেড়ে দিয়ে পুরো সময় লিখলে সংসার চালানোর আনুষঙ্গিক খরচ আসবে কোথা থেকে?

৬৫.

তবে, বই লেখতে চাইলে ঠেকাবে কে আপনাকে? আপনার বই লিখবেন আপনি, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকলে টাকাও কোনো সমস্যা নয়। একসময় ছোটগল্প পড়তাম বেশ। নতুন বা পুরোনো লেখকদের ছোটগল্প বিক্রি করতো আমাজনে উনপঞ্চাশ সেন্টে। মানে, পুরো টাকাও নয়, পয়সায়। সেটা পড়তে পারতাম মুহুর্তে, পোর্টেবল ফরম্যাটে। মানে ফেলো কড়ি, পড় গল্প। আমাজন শর্ট নেই আর। এখন এসেছে কিন্ডল ডাইরেক্ট পাবলিশিং (কেডিপি), মানুষকে লেখক বানানোর ব্রত নিয়ে নেমেছে, আমাজন। মানুষ যতো পড়বে আর লিখবে, ততো বড় হবে মানুষ। মানুষ পাবে অমরত্ব। অমরত্ব মানে লাইফ এক্সপেক্টেনসি বাড়ছে মানুষের। ‘টেডটকস’ দেখে বোঝা যায় জ্বীনতত্ত্ব মানুষকে পাল্টে দিচ্ছে কিভাবে – আর দশবছর কোনো রকমে পার করতে পারলে রোগকে জয় করবে কে তা নিয়ে আসব আবার। আবার বেশি বাঁচলে মানুষ তার বাড়তি সময়ে কি করতে চাইবে? অমরত্ব পাবার জন্য মানুষ মানুষের জন্য ভালো না করে যাবে কোথায়? মনুষত্ব আসতে থাকবে ফিরে ফিরে। ফিরে আসি কিন্ডলে। কম্পিউটারে পড়তে লাগে না ভালো – আবার কাগজের বই অর্ডার (আমাদের দেশে অনেকগুলো বইয়ের অনলাইন সাইট আছে) দিয়ে ধৈর্য ধরে বসে থাকা কষ্টকর, গুনতে হয় দিনের পর দিন।

৬৬.

ই-বুক রিডার পাল্টে দিয়েছে মানুষকে। পাল্টে দিয়েছে আমাকে। আমি কাগজের বই ছাড়া কোনো কিছুই পড়তে পারতাম না, চোখে সমস্যা থাকার কারণে। ট্যাবলেট তো নয়ই। প্রযুক্তিগত ভাবে ই-ইন্ক কাগজের মতো পলিমারের নিচে প্রয়োজন মাফিক কালো সাদা করে ইলেকট্রনিক ফ্লো দিয়ে। সাধারণ ডিসপ্লের মতো এটা থেকে বিচ্ছুরিত হয় না কোনো আলো। অন্য বইয়ের মতো, যতো বেশি আলো ততোই পড়তে আরাম। আর নেই কোনো গ্লেয়ার। বন্ধ অবস্থায় কাগজে শেষের পাতাটা ভেসেই থাকে সবসময়ের জন্য। এক চার্জে যায় নিদেনপক্ষে – দু মাস। আমাজনের মতো বড় বড় বইয়ের দোকানগুলো এই যন্ত্র এতই সস্তায় দিচ্ছে যে না কিনে যাবেন কোথায়? কারণ এ-রিডার যতো মানুষের কাছে থাকবে ততো বিক্রি হবে ই-বুক। ধারনাটা কিছুটা রেজরের মতোই, দাম অনেক কম – ভর্তুকি দিয়ে, যাতে ব্লেড বিক্রি হয় বেশি। ভালো ই-রিডারের দাম ষাট ডলারেরও কম। ঢাকাতেও যায় পাওয়া।

৬৫.

আমার কিন্ডলটা ধার পেয়েছি বোনের কাছ থেকে। ক্যানাডায় থাকা ভাই গিফট কার্ড (মোবাইলের টপ-আপের মতো) পাঠালে আমার আমাজনের একাউন্টে ‘রিডিম’ করলে পায় কে আমাকে। কোটি কোটি নতুন বইয়ের মধ্যে হাবুডুবু না খেলে ভালই লাগে না ইদানিং। আগে বইয়ের জন্য হা-হুতাশ করতে হতো মাসের পর মাস, কে আসবে কবে। বই কেনা যাচ্ছে সেকেন্ডে। বই পড়ে ভালো না লাগলে পয়সা ফেরৎ। যদিও এপথে হাটি নি কখনো। বই কেনার আগে দুই তিন অধ্যায় পড়া যায় বিনামূল্যে। কাজেই প্রশ্ন আসে নি ফেরৎ দেবার। বই পড়ার সময় আঁকাবুকি করা আমার চিরকালের অভ্যাস, ইলেকট্রনিক হাইলাইটিংটা আমার জন্য গডসেন্ড! কোনো বই পড়তে গেলে ভালো ভালো লাইনে হাইলাইটিংগুলো আসতে থাকে স্বয়ংক্রীয়ভাবে। ওই লাইনটা কত হাজার বার হাইলাইটিং করা হয়েছে তা সহ, কারণ ওই বইটা আমার সাথে পড়ছে বা পড়েছে কোটি লোক। এর ভেতরে রাখা যায় হাজার বই, প্রতিটার আলাদা বুকমার্কসহ। এই যন্ত্রের বন্ধ বা চালুর কিছু নেই, থেকে যায় শেষ পাতা।

৬৬.

সব মানুষকে সব কিছু পছন্দ করতে হবে – এটাই বা লেখা আছে কোথায়? আমি নিজেও কাগজের বই পেলে বর্তে যাই। নতুন বইয়ের গন্ধ – আর কিছু বলতে হবে? তবে পুরোনো বই পছন্দ আমার – সংগত কারণে। সাইডলাইনে অজ্ঞাতনামা আঁকিবুকি মনকে কেনো জানি করে দেয় এলোমেলো। কাগজের বইয়ের চাহিদার থাকার কারণে অন-ডিমান্ড পাবলিশিংয়ের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। অর্ডার করবেন বই, দশ মিনিটে প্রিন্ট করে পাঠিয়ে দেবে আপনাকে। পাশাপাশি টাকা পয়সা ছাড়া বই লেখার “ক্রাউডফান্ডিং’ পদ্ধতি নিয়ে আসছি সামনে। না লিখে যাবেন কোথায়?

লিখছেন তো? দিনে তিনশো পঞ্চাশ শব্দ?

Read Full Post »

“I’m sorry Mr. Kipling, but you just don’t know how to use the English language.”

One rejection letter to Nobel laureate Rudyard Kipling who wrote ‘The Jungle Book’.

৬১.

‘দ্য গ্রীন মাইল’ মুভিটা দেখে থাকলে স্টিফেন কিং নামটা ভোলার কথা নয়। সত্যি বলতে, ‘ড্রিমক্যাচার’ বই আর মুভিটা কম খ্যাতি দেয় নি তাকে। আমেরিকাতে এই ‘কিং’ এক কথায় ফ্যান্টাসির কিং বটে। লেখতে চাই বললেই যে বইটা পৃথিবীর সবাই দেখিয়ে দেবে সেই ‘অন রাইটিং’ বইটা কিন্তু এই কিং সাহেবেরই লেখা। নিউ ইয়র্কের সেই রাইটিং ওয়ার্কশপে মনের ভুলে বইটা কোথায় পাওয়া যায় জিগ্যেস না করতেই পরের দিন বইটার ছয় ছয় কপি পেয়েছিলাম! তার প্রথম বই “ক্যারি’ লেখার পর ডজন খানেক রিজেকশন স্লিপ পেলেও তা পরম যত্নে ঝুলিয়ে রেখেছেন তার শোবার ঘরে। তার মধ্যে একজন বলেছিলেন,

“নেতিবাচক আকাশকুসুম সাইন্স ফিকশনে আমাদের কোনো আগ্রহ নেই। বিক্রি হয় না সেগুলো।”

৬২.

বিখ্যাত ব্রিটিশ এসপিওনাজ লেখক ‘জন ল্যা ক্যারে’ ছদ্দনামে লেখা শুরু করার পেছনে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থায় এমআই ফাইভ আর এমআই সিক্স ক্যারিয়ার জিওপারডি করতে চান নি। তার প্রথম বা মতভেদে তৃতীয় পান্ডুলিপি ‘দ্য স্পাই হু কেম ইন ফর্ম দ্য কোল্ড’ জমা দেবার পর এক পাবলিশার আরেকজনের কাছে পাঠানোর সময় লেখেন,

“স্বাগতম জন ল্যা ক্যারেতে (মনে হচ্ছে নামেই শো!) – তার তো কোনো ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছিনা!”

জন গ্রিশামের বই আর তার মুভিগুলো গিলেছি একসময়। অসাধারণ শৈলী, গল্পের খাঁজে গল্প। ভালো ব্যাকস্টোরি। ফাস্ট পেসড, মানে গল্প কিভাবে আগে বাড়ে তা দেখতে হলে পড়তে হবে ‘আ টাইম তো কিল’| হারপার লী’র ‘টু কিল আ মকিংবার্ডের’ প্রচ্ছন্ন একটা প্রভাব এই বইটার উপর থাকলেও এর আবেদন আমার চোখ ভিজিয়ে দিয়েছিলো বটে। সাদা দুজন বর্ণবাদী লোক দশ বছরের কালো আফ্রিকান-আমেরিকান হেইলিকে নির্মমভাবে ধর্ষণের পর গাছে লটকিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। গল্পটা এতটাই মানুষকে মুগ্ধ করেছিলো যে এর মুভিটা দেখেছে কোটি লোকে। আর, এই বইটা ফিরিয়ে দিয়েছিলো বারো বারোটা পাবলিশিং হাউস, সঙ্গে ষোলোজন এজেন্ট।

৬৩.

ক্যাচ টোয়েন্টি-টু পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছি কিন্তু দিন রাত! মানে, আপনি এক সমস্যা থেকে বের হবার জন্য যে কাজটা করলেন তা আরেকটা সমস্যা তৈরী করলো। আবার সেটা সমাধান করতে যেয়ে ফিরে আসলেন আগের জায়গায়। বোমারু বিমান চালক ‘জন ইওসারিয়ান’ অনেকদিন ধরে গ্রাউন্ডেড হতে চাচ্ছিলেন। বিপদজনক কমব্যাট ফ্লাইট চালাতে গিয়ে কম পাইলটই আসেন ফিরে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পাবার একমাত্র উপায় যদি ফ্লাইট সার্জন তাকে ‘পাগল’ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। আবার, ‘পাগল’ ছাড়া নিশ্চিত মৃত্যু জেনে কোনো মানুষই এই বিপদজনক কমব্যাট ফ্লাইট চালাতে চাইবে না। ‘পাগল’ হিসেবে মূল্যায়িত হবার জন্য মেন্টাল ফিটনেস সার্টিফিকেট চাওয়াটা আবার তার সুস্থতা প্রমান করে। মানে, মুক্তি নেই যুদ্ধে যাওয়া ছাড়া। এই ‘ক্যাচ টোয়েন্টি-টু’ কথাটার জন্মদাতা মার্কিন লেখক জোসেফ হেলারকেও পাগল ঠাউরেছিলো তার এডিটর। তার ভাষায়,

“কোনো ধারণাই পাচ্ছি না কি বলতে চাইছে সে [হেলার]| লেখক মনে হয় মজা করতে চাইছে, নাকি স্যাটায়ার – কোনো বুদ্ধিবৃত্তিক লেভেলের জন্য এই ‘কৌতুক’ মার্কা লেখা প্রযোজ্য নয়।”

Read Full Post »

“Good God, I can’t publish this!”
Rejection letter for William Faulkner’s book, Sanctuary

৫৭.

ভেবেছেন প্রথম রাতেই দাও মেরে দেবেন। মাফ করবেন, ভুল হয়েছে – ইয়ে, রাত মানে প্রথম বইয়ে। লিখবেন বই একটা, আর তাই হবে বেস্টসেলার! ধারণাটা সবাই করে বটে, তবে সেটা কাজে আসে না বললেই চলে। বড় বড় লেখকদের শুরুটা কখনোই সুগম ছিলো না। নামকরা সেই লেখক বই লিখে ঘুরেছেন প্রকাশকের দ্বারে দ্বারে, মন ভেজেনি তাদের। বড় বড় পাবলিশিং হাউজগুলো শালীনতা বজায় রেখে চিঠি লিখে জানিয়ে দেন তাদের অপারগতার কথা। মৌনতা অসম্মতির লক্ষণ জেনেও বুক বেঁধে অপেক্ষা করেন লেখকরা। যারা যত বেশি ‘প্রতাখ্যান’ মানে রিজেকশন লেটার পেতে থাকেন, ততো নতুন করে বুক বাঁধেন লেখকরা। এবার ওই গল্পে না দিয়ে কিছু নামকরা লেখকদের রিজেকশন লেটারের অংশবিশেষ তুলে ধরতে চাচ্ছিলাম, বাকিটার বিচারের ভার ছেড়ে দিলাম আপনার উপর।

৫৮.

‘এনিম্যাল ফার্ম’ নিয়ে কম কথা হয়নি। টাইম ম্যাগাজিনে উনিশশো তেইশ সাল থেকে দুহাজার পাঁচ পর্যন্ত একশো সেরা ইংরেজি সাহিত্যের মধ্যে ‘খোয়াড়’এর গল্প ছিলো অন্যতম। প্রচুর পুরস্কারের মাঝে এই উনিশশো ছিয়ানব্বই সালে হিউগো অ্যাওয়ার্ড একে অমর প্রকাশনার কাছাকাছি নিয়ে যায়। ‘স্যাটায়ার’ কাকে বলে তা বোধহয় ‘গালিভার্স ট্রাভেলসে’র পরে এটা পেলাম। তেতাল্লিশ সালে লেখা জর্জ অরঅয়েলের এই পান্ডুলিপি চার প্রকাশকের কাছ থেকে ফিরে আসে। একজন লেখেন,

“পশুপাখির গল্প চলে না আমেরিকাতে”।

বলে কি ব্যাটা? পশুপাখি ছাড়া কোনো মুভি দেখছি না এখন!

৫৯.

অ্যান ফ্রাঙ্কের ডায়েরিটা পড়েননি এমন আছেন নাকি কেউ – এখনো? অ্যানের বইটা আসলে তিনটা ডায়েরির সমন্বিত রূপ। মাঝের ডায়েরিটা তার এরেস্ট হবার পর হারিয়ে যায়। পরবতীতে আবার লেখে সে। অ্যান তো ভাবেনি যে তাকে বই লিখতে হবে। তার যা মনে হয়েছে তাই লিখেছে সে। সে কারণে বইটার বেশ কয়েকটা এডিশন বের করতে হয়েছে। পরের দিকে অবশ্য সেটাকে বইয়ের মতো করে নিয়ে আসে সে। ডায়েরি লেখার পদ্ধতিটা ওই বয়সের মেয়ের জন্য অনেকটা আউট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড, আর সে জন্য ওই বয়সে তার লেখনির ধার ভুলতে পারেনি পুরো বিশ্ব। ‘ডিয়ার কিটি’, কিন্তু তার ডায়েরিকে লক্ষ্য করে লেখা হয়নি, বরং ‘কিটি’ চরিত্রটা দাড়িয়েছে নিজের মতো করে, স্বকীয়তা নিয়ে, অ্যানের একজন খুব কাছের বন্ধু হয়ে। নাত্সি কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের সেই আটজনের গ্রুপ – দু পরিবার মিলে, ওর ভেতরে বেচে যান শুধুমাত্র অ্যানের বাবা। উনিশশো পয়তাল্লিশের এপ্রিলে ব্রিটিশ সৈন্যদল সেই ক্যাম্প আক্রমন করে সবাইকে মুক্ত করার দু সপ্তাহ আগেই মারা যায় অ্যান। অ্যানের লেখা নিয়ে তার বাবা পাবলিশিং হাউজে দৌড়াদৌড়ি করার সময় একজন লেখেন,

মেয়েটার (মানে অ্যান), আমার ধারণা; লেখার ভেতরের উপলব্ধিগুলো পাঠকদের অনুভূতিকে কৌতূহলী পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে মনে হয় না।

জি, মানে আপনাকে নিয়ে আমাদের কৌতুহল কিন্ত আকাশচুম্বী, সত্যি বলছি!

৬০.

‘লর্ড অফ দ্য ফ্লাইস’ যারা পড়েননি, তারা সিনেমাটা দেখেছেন নিশ্চয়ই। বইটা শুধুমাত্র হিটই ছিলো না, এটাকে নিয়ে সিনেমা করা হয়েছে দু দুবার! মজার কথা হচ্ছে বইটা সাহিত্যে নোবেলজয়ী উইলিয়াম গোল্ডিংএর প্রথম বই হলেও এখানে সিম্বলিজম ব্যবহার করা হয়েছে অতিমাত্রায়। মানুষের আসল চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করা হলেও পাশবিক ব্যাপারগুলো এসেছে এখানে। পরবর্তিতে প্রচুর লেখক তাদের বইয়ের প্লট হিসেবে ধার নিয়েছেন এখান থেকে। ‘ইউটু’র ‘শ্যাডোজ এন্ড টল ট্রিস’ গানটি এসেছে এর সাত নম্বর অধ্যায় থেকে। স্টিফেন কিং, ফ্যান্টাসি আর হরর লেখক তার অনেকগুলো বইয়ে এটার প্রভাবের কথা বলেছেন। তবে, শুরুতে বিশ বিশটা পাবলিশিং হাউস এই বইটাকে প্রকাশের অযোগ্য বলে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। একজন বললেন,

অযৌক্তিক সারশূন্য ফ্যান্টাসি, নিস্প্রভ আর বাজে (রাবিশ এর বাংলা যা হয় তাই)।

ভাগ্যিস, আপনার ছাপাখানার কালি নষ্ট করতে হয়নি!

নিয়ে আসছি আরো সামনে, কয়টা চান, বলুনতো? আসল কথায় আসি, লিখছেন তো আপনি?

Read Full Post »

“If you are not the hero of your own story, then you’re missing the whole point of your humanity.” ― Steve Maraboli

৫৪.

ছোটবেলার বইগুলোর কথা মনে আছে কি? কি ধরনের বই পড়তেন, বলুন তো? ছবিঅলা বইগুলো টানতো বেশি আমাকে। মানে এখনকার কমিকস যেগুলো। আপনাদেরকেও হয়তোবা। মামা একবার কোথা থেকে ফ্ল্যাশ গর্ডনের অনেকগুলো কমিকসের বই নিয়ে হাজির। বাক্য পড়তে শুরু করেছি মাত্র। ভেঙ্গে ভেঙ্গে পড়ি। তবে সবচেয়ে বেশি টানতো ইন্টার-গ্যালাক্টিক ভয়েজগুলো। কালো মহাকাশ, তারা করছে জ্বল জ্বল। মঙ্গো গ্রহে যুদ্ধ আর ‘ডেল আর্ডেন’কে সাহায্য করার আমাদের বীরপুরুষ ‘ফ্ল্যাশ গর্ডন’ যাই করতো ভালো লাগতো সবই। এর পাশাপাশি হাক্কানী পাবলিশার্স নিয়ে আসা শুরু করলো কমিকস ‘বেতাল’, মানে বাংলাভাষার ‘ফ্যান্টম’| বাক রজার্স আর জন কার্টারের একটা দুটা কমিকস পেলেও আগের বীরপুরুষে আটকে ছিলাম পুরো হৃদয় দিয়ে। তখন হৃদয় না বুঝলেও যা চোখের পলক আটকে দিতো – তাই পাগলের মতো পড়তাম। নাহলে মৃত্যুবুড়োকে (কুশল আর মৃত্যুবুড়ো) ভালোবাসে কেউ?

৫৫.

বড় হলাম। বড় হয়েছি কিনা বলতে পারবো না, তবে সময় পার হয়েছে অনেক। বুঝতে পারলাম, বীরপুরুষ প্রয়োজন সবারই। আমাদের পারিপার্শিক একঘেয়েমি কাটাতে ভালবাসায় পড়ে যাই এমন একজনের যে নিয়ে যায় অসম্ভব অসম্ভব জায়গায়। সাধারণ মানুষ অনেক কিছুই করতে পারে না – তা নিমিষেই করে ফেলতে পারে আমাদের এই বীরপুরুষেরা। পৃথিবী নিজেই হাজার সমস্যা নিয়ে ভারাক্রান্ত, এক দুটা বীরপুরুষ থাকলে মন্দ কি? পৃথিবীর সব পুরনো গল্পের দিকে তাকালে দেখবেন বীরপুরুষের ছড়াছড়ি। হার্কিউলেস, প্রমিথিউস, গিলগামেশ আর একিলিস বরাবরই পৃথিবীকে বাঁচিয়ে যাচ্ছিলেন। এখন না হয় বাচাচ্ছেন আয়রনম্যান, সিনেপ্লেক্স কাপাচ্ছেন উনি। কেন মানুষ যাচ্ছে দলে দলে? সবার মনের মধ্যে একটা আশা, কেউ একজন সব সমাজের অনাচার, অত্যাচার বা পৃথিবীর সব সমস্যার সমাধান দেবেন। গল্পের শুরুতে প্রতিবারই এই বীরপুরুষরা এমন নাকানি চুবানি খান যে আমরা তাদের পেছনে লাইন দিয়ে দাড়াই জীবন হাতের মুঠোয় নিয়ে – যদি সাহায্য করা যায় কোনো? আমাদের বীরপুরুষকে ফেলে দেয়া হয় পাহাড়ের চূড়া থেকে, শেকল বেঁধে ফেলে দেয়া হয় সাত সমুদ্রে, গুলি লাগে বুকের পাঁজরে। মিস করতে থাকি বিট, নিশ্বাস আটকে থাকি বসে। ভুলে যাই ঢোক গিলতে।

৫৬.

ছোটবেলার বীরপুরুষেরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর মতো কাজ করলেও বড়দের গল্পের বীরপুরুষেরা পাল্টে যান সময়ের সাথে। এখন বুঝি ছোটবেলার স্পাইডারম্যান সমাজের অনাচার বন্ধ করার জন্য যা করতো তা এখনকার রূপক মাত্র। যুববয়সের মাসুদ রানা, কুয়াশা বা জন গ্রিশামের বইয়ের আইনজীবী নায়কেরা একই কাজ করছেন, ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। বাকের ভাই বা বাদ কেন? একটা ভালো গল্পের মাঝে এমন বীরপুরুষ দরকার যিনি শুধুমাত্র বিপদ কাটাবেন না, আমাদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাবেন কোনটা সমাজের জন্য গ্রহণযোগ্য। পৃথিবীর সমস্যা কমছে না বরং বাড়ছে বৈকি। দরকার নতুন বীরপুরুষদের। আর সে বীরপুরুষ তৈরী করতে প্রয়োজন আপনাকে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে। আপনারা তৈরী করবেন তাদের, আশার আলো দেখাবেন আমাদের।

লিখছেন তো?

Read Full Post »

“Nations that learn faster will prosper. But it will take something else—wisdom—to endure.”
Fareed Zakaria, The Earth’s Learning Curve, Newsweek 2005

৫০.

আমরা এগুচ্ছি – তবে পাশের দেশগুলোর সাথে তাল মেলালে আমরা পিছিয়ে আছি। জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আমাদের পরবর্তী কার্যপরিধি সম্মন্ধে পুরো ‘ভিজিবিলিটি’ দিচ্ছে না। যেকোনো কিছুর জন্য সামনের বা ভবিষ্যত না দেখতে পেলে কোনো কাজ ঠিকমতো শুরু করা যায় না। আর ভবিষ্যত দেখার জন্য যে প্রগ্জ্ঞা দরকার তা আসবে পূর্ব প্রজন্মের অর্জিত জ্ঞান থেকে। আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই পূর্ব প্রজন্মের জ্ঞানকে ধরে রাখার কোনো বিশেষ ‘আধার’ তৈরী করে রাখে বলে মনে হয়না।

৫১.

যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে তার প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান। আবার তার সেই জ্ঞান বা প্রগ্জ্ঞা আসে তার কর্মীবাহিনীর মধ্যে থেকে। ফলে, সেই প্রতিষ্ঠানের মূল্যমান নির্ধারণ হয় তাদের মানবসম্পদকে ঘিরে। তার মানবসম্পদকে ঠিকমতো তৈরী বা তার জন্য সেই সময় বা বিনিয়োগ না করলে সে নিজেকে উন্নত করতে চলে যায় অন্য জায়গায়। সঙ্গে নিয়ে যায় সেই প্রতিষ্ঠানের অনেক জ্ঞান যা নতুন একজন এসে সেই ‘নলেজ গ্যাপের’ মধ্যে পড়ে যায়। তাকে তৈরী করতে প্রতিষ্ঠানটি আবার দু বছর লাগালেও তার উপর ঠিকমতো বিনিয়োগ না করলে তাকেও হারায় সেই প্রতিষ্ঠান। এটা যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য ভীতিকর বটে।

৫২.

এই ‘জ্ঞান পরিবহন’কে ঠেকানো যাবে না তবে এর জন্য ‘নলেজ ম্যানেজমেন্ট’ বা ‘কেএম’ চলছে কয়েক যুগ ধরে। মানে হচ্ছে প্রতিদিনকার কাজের অপারেশনাল জ্ঞানগুলোকে ধরে রাখার জন্য তাদের অনেক পদ্ধতি তৈরী করে রাখে যাতে সেই মানুষ চলে গেলেও প্রতিষ্ঠান তার জ্ঞান আর তার বছরগুলোর প্রগ্জ্ঞা রেখে দেয় ‘কেএম’ এর সাথে। সেই ব্যক্তির সাথে নিচের অন্য সবাইকে প্রতিটা কাজের সম্পৃক্ততা আর সেই কাজের প্রতি পদে পদে ডকুমেন্টেশন এটার একটা বড় ধাপ। একে এখন বলা হচ্ছে ‘নলেজ কন্টিনিউটি ম্যানেজমেন্ট’| এর অর্থ হচ্ছে ‘জ্ঞান’ বা সারা বছরের ‘প্রগ্জ্ঞা’ হটাত করে হাওয়া হয়ে যাবে না। সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাধ্যবাধকতা না থাকার ফলে অনেকে (যাদেরকে সেই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে) সেই জ্ঞানকে সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে জ্ঞানটা মানুষ ভিত্তিক হয়ে পড়ে। একারণে, বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর মানবসম্পদকে লেখালিখির জন্য প্রনোদনা দেয়া হয়। প্রতিদিনের বা প্রতিসপ্তাহের কাজের অপারেশনাল খুঁটিনাটি লিপিবদ্ধ করার জন্য ব্যক্তিপর্যায়ে উত্সাহ সেই প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত জ্ঞানের জন্য কতো কাজে আসে তা সহজেই অনুমেয়।

৫৩.

অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের যথেষ্ট প্রনোদনা দেন লেখালিখির জন্য। বই বের করার জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সাহায্য করেও থাকে তারা। জ্ঞান ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো এব্যাপারে মুখিয়ে থাকে। প্রতিটা লেখা তার পরবর্তী প্রজন্মের জীবন সহজই করে না, সেই গবেষণালব্ধ ফলাফল নিয়ে পরবর্তী প্রজন্ম এগিয়ে যেয়ে নতুন একটা কাজ করতে পারে সহজে। বর্তমানের শিক্ষার্থীদের ট্রানজিস্টর সম্পর্কে হাজার হাজার পৃষ্ঠা জানার দরকার আছে কি? কিছু মূল ধারণার উপর ভিত্তি করে তাকে এগুতে হবে প্রসেসর তৈরির পদ্ধতিতে, যা তৈরী হচ্ছে হয়তোবা বিলিয়ন ট্রানজিস্টর দিয়ে। এই শিক্ষার্থীদের আগের প্রতিপাদ্য সঠিক ধরেই এগোতে হবে, না হলে পিছিয়ে পড়তে হবে প্রতিটা পদে পদে। একারণে লেখার গুরত্ব অনেক। যারা মানে যে দেশ তাদের সমস্ত জ্ঞানকে ঠিকমতো ধরে অর্থাৎ লিপিবদ্ধ করে রাখতে পারে, তাদেরকে আর ছোয় কে? একারণে সেই দেশ বা প্রতিষ্ঠানগুলোর লার্নিং কার্ভ ইর্ষনীয়! পূর্ববর্তী ‘প্রগ্জ্ঞার’ কারণে তারা শিখছে তাড়াতাড়ি। সবার জন্য সময় কিন্ত একই, যে শিখবে আগে – শীর্ষে যাবে সে!

লিখছেন তো? মানে, আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের লেখালিখির জন্য উত্সাহ দিচ্ছেন তো ঠিকমতো?

Read Full Post »

“There is nothing to writing. All you do is sit down at a typewriter and bleed.” – Ernest Hemingway

৪৬.

বই পড়ার পাশাপাশি সংখ্যা নিয়ে খেলতাম অবসরে। সংখ্যা যে কিভাবে ভবিষ্যত দেখায় তার ধারণা বর্তমান প্রতিষ্ঠানে এসে আরো পোক্ত হলো। হাতের রেখার জ্যোতিষী থেকে সংখ্যা কত সুন্দর ভবিষ্যত দেখাতে পারে তা ‘ফোরকাস্টিং’ বা ‘প্রেডিকশন’ চার্ট না দেখলে বোঝানো যাবে না। এটা আরেকটা বিজ্ঞান। এটা দেখেছিলাম আমেরিকাতে তাদের সেনাবাহিনীতে প্রশিক্ষণ নেবার সময়। যুদ্ধক্ষেত্রে বেশ দুরে যোগাযোগের জন্য এক ধরনের তরঙ্গ ব্যবহার করা হয় যা মহাকাশের আয়নোস্ফেয়ার ছাড়া চলে না। তরঙ্গটা সেই নব্বই কিলোমিটার দুরের আয়নোস্ফেয়ারে বাড়ি খেয়ে ফিরে আসে বলেই পৃথিবীর এক মাথা থেকে আরেক মাথা পর্যন্ত যোগাযোগ করা সম্ভব হয় পিঠে বহনযোগ্য যন্ত্র থেকে। বিভিন্ন শর্টওয়েভ রেডিও স্টেশন (বিবিসি, ভিওএ … আর আমার প্রিয় ‘হ্যাপি স্টেশন’ – রেডিও নেদারল্যান্ডস), এমেচার রেডিও, সমুদ্রগামী জাহাজ, দুতাবাসগুলো ছাড়াও আরো অনেককিছুতেই এটার ব্যবহার রয়েছে।

৪৭.

আয়নোস্ফেয়ারে আয়ন পার্টিকলের ঘনত্ব কমানোর জন্য সৌর ঝড়ের জুড়ি নেই। কবে সৌর ঝড় হবে আর তা কোন কোন তরঙ্গকে সমস্যায় ফেলবে তার জন্য ভাগ্যের উপর মানুষ বসে নেই আর। শত বছর ধরে সূর্যিমামার ভাবভঙ্গি বুঝে তৈরী করা হয়েছে ‘ফ্রিকোয়েন্সি প্রেডিকশন চার্ট’| সংখ্যার খেলা। বছরের কোন সময়ে কোন ঘন্টায় কোন ধরনের তরঙ্গগুলো সুর্য খেয়ে ফেলবে তা বুঝে ফেলেছে মানুষ। তাই সৌর ঝড়কে পাশ কাটিয়ে কোন তরঙ্গ কতদূর যেতে পারবে তার হিসেব আজ মানুষের হাতের মুঠায়। মানুষের মতো জটিল জিনিসকে যেখানে প্যাটার্নে ফেলে কাজ করছে লেখকরা, সুর্য তো সেখানে কোন ছার্!

৪৮.

লেখার সাথে এর সম্পর্ক কি? সংখ্যায় ফিরে আসি আবার। পৃথিবীর মানুষের সংখ্যার হিসেবে গেলে মাথায় শর্টসার্কিট হবার সম্ভাবনা বেশি, অন্ততঃ আমার। বেশি সংখ্যা ধাতে সয় না। আর আমি তো ‘পাই’ নই। সেকারণে সেটাকে কমিয়ে আনছি একশতে। মানে, ধরা নেই পৃথিবীতে আছেই মানুষ একশ। বর্তমান হিসেবে তার ষাটজনই থাকে এশিয়াতে! ইউরোপে মাত্র এগারজন! আমেরিকাতে চৌদ্দ। বুঝতে পারছেন কোথায় যাচ্ছি আমরা? পৃথিবীর সব উন্নতি হবে এই এশিয়াতে। এর মধ্যে ইংরেজিতে কথা বলে কয়জন? যে ভাষায় পৃথিবীর প্রায় সব অর্থনৈতিক কাজ চলে? আন্দাজ করুনতো। এই একশজনেই।

৪৯.

পাঁচ, মাত্র পাঁচজন। জি। আর বাংলা? তিনজন। ঠিকই ধরেছেন, দুজন কম ইংরেজি থেকে। তাহলে কেন লিখবেন না বাংলাতে? ঘুমাতে হয় কিভাবে, আর চা বানানো থেকে শুরু করে কি বই নেই ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ বা স্পানিশ ভাষায়। সোয়েটারের বুননের মধ্যে কম বেশি ফাকা করার পদ্ধতিরও বই আছে ওই ভাষাগুলোতে। আমার মতো যাদের মাথার ঘিলু বলতে কিছু নেই সেই ‘ডামি’দের জন্যও আছে হাজার হাজার বই। সে তুলনায় বইই নেই বাংলাতে। শিক্ষিতদের হার নিয়ে কথা বলবেন তো? এটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। জাতিগুলো তার আগের প্রজন্মের জ্ঞান মানে তাদের ঘাড়ের উপরে পা দিয়ে এগোয়, তার জন্য বই/জ্ঞান ছাড়া গতি নেই। সেটা নিয়ে আসছি সামনে।

লিখছেন তো?

Read Full Post »

« Newer Posts

%d bloggers like this: