Feeds:
Posts
Comments

Archive for September, 2013

If you don’t learn, you can’t change, and if you aren’t changing, what’s the point of being here?

Moaning is pointless. It is unproductive and achieves nothing.

Not many people chose consciously to be loser, but that’s where they end up.

There are times when all the hard work can be devastated, destroyed, by a careless word or unguarded moment.

– Richard Templar, The Rules of Work

১২৯.

লন্ডনে বেশি না গেলেও হিথ্রো দিয়ে যেতে হয়েছে অনেকবার। আটচল্লিশ ঘন্টার নিচের ট্রানজিট ভিসা নেবার হাজারটা ঝামেলা করতামই এই ওয়াটারস্টোনসের জন্য। প্রচুর বই পড়ি, ভালো লাগে বলেই তো কষ্টটা নেই। চারিদিকে হাজারো সমস্যা, বই পড়লেই সাময়িক মুক্তি। কতো জায়গায় যেতে ইচ্ছা করে, বই উড়িয়ে নিয়ে যায় সেখানে। আপনাদের হয় কিনা জানি না – বই পড়তে গেলে মাথায় একটা ‘ইলুমিনেশন’ তৈরী হয়। ‘এন্ডরফিন্সে’র সরবরাহ বেড়ে যায় বোধহয়। পড়তেই থাকি, নেশার মতো। ভালো লাগার একটা ভাবে থাকি। সকালের ঢাকার ট্রাফিক জ্যাম মাঝে মধ্যে আশির্বাদ হিসেবে কাজ করে।

Rules of life

পড়বেন নাকি বইটা?

১৩০.

এই ওয়াটারস্টোনস’ই পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো ব্রিটিশ লেখক রিচার্ড টেম্পলারের সাথে। বইয়ের চেইনটা ব্রিটিশ লেখকদের সব টাইটেল ‘ক্যারি’ করে বলে এর প্রেমে পড়া। বই বিক্রি করার সহকারী হিসেবে থাকেন যারা – এক কথায় ওয়ার্ল্ড ক্লাস! বইটা কেমন হবে বললেই হলো, গড়গড় করে বলে দেবে সবকিছু। ঈর্ষা হয়েছিলো বার কয়েক, ওখানে চাকরি করলে কেমন হয়? ফাঁকে ফাঁকে হাজারটা বই পড়া যাবে কাজে বসে। মজার কথা, ছদ্মনামেই লিখেছেন অনেকগুলো ইন্টারন্যাশনাল বেস্টসেলার এই ‘রিচার্ড টেম্পলার’| সবগুলোই ‘সেল্ফ ডেভেলপমেন্টে’র উপর। সবার থিওরি একটাই, দেশ দশের উন্নতির চাবিকাঠি কিন্তু নিজের উন্নতি করেই – প্রথমে। এটা ওই এয়ারলাইন্সে বিপদের সময়ে – নিজের অক্সিজেন মাস্কটা আগে পরার মতো। আবার, যারা নিজের উন্নতি করতে গিয়ে অন্যকে তার জ্ঞান দিতে চান না, সে আসলে নিজেকেই উন্নতি করতে পারেনি। প্রিয় বিষয়টা নিয়ে এসেছি আজ। পৃথিবীর চড়াই উতরাই পাড়ি দিতে টেম্পলারের বইগুলো রীতিমত ‘গডসেন্ড’! প্রথমটা কিনেছিলাম দুহাজার তিনে। দ্য রুলস অফ ওয়ার্ক। চমত্কার স্টাইল, প্রতিটা ধারণা দেয়া হয়েছে দু পাতায়। বইটা পড়া যায় যেকোনো জায়গা থেকে – আগা মাথা ছাড়াই।

১৩১.

টেম্পলার এতো জানলেন কিভাবে? সেটা ছিলো আমারও প্রশ্ন। খুঁজতে গিয়ে কিনে ফেললাম ওর প্রায় সব বই। পরিচিত যিনিই ব্রিটেনে যান তাকে ধরে নিয়ে আসি একেকটা বই। অসাধারণ। খুব ছোট থাকতেই টেম্পলারকে থাকতে হয়েছিলো ওর নানুর বাসায়। উনি সেই গল্পের ভেতরে না যেতে চাইলেও ধারণা করা যায়, তার মা ‘খুবই ছোট’ টেম্পলারকে নিজের সাথে রাখতে পারেননি। ফলে জায়গা হয় তার নানুর বাসায়। নানুরা ছিলেন সেই ‘খেঁটে খাওয়া’ প্রজন্ম যারা অল্পতেই ছিলেন খুশি। নানার কারখানায় একটা দুর্ঘটনার ফলে পঙ্গুত্ব বরণ করতে হয় চাকুরীর মাঝে। ট্রাকের সব ইট এসে পড়েছিলো তার পায়ে। নানু কাজ নিয়েছিলেন লন্ডনের একটা বড় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে। টেম্পলারকে হটাত্‍ করে নানুর কাছে দেবার কারণে কিছু সমস্যার তৈরী হলো বটে। টেম্পলারের স্কুলে যাবার মতো বয়স না হবার কারণে বাসায় রাখার কথা হলো কিছুদিন। আবার, নানা ঠিকমতো দেখে রাখতে পারবেন কিনা সেটার উপর ভরসা করতে পারেন নি এই অসাধারণ মহিলা। ফলে যা হবার তাই হলো। নানু ‘খুবই ছোট’ টেম্পলারকে পাখার নিচে বেঁধে নিয়ে ছুটলেন কাজে। সেটা বাস্তবিক আর রূপক যেভাবেই ব্যবহার করুন না কেন –উপায় ছিলো না মহিলার। নানুর ম্যানেজার আর সুপারভাইজারের চোখে ফাঁকি দিয়ে স্টোরের ভেতরে ছোট টেম্পলারকে কিভাবে চালান দিতেন সেটা খুলে না বললেও মোদ্দা কথা একটাই। কাজে যেতেন একসাথেই।

১৩২.

সেই ছোট বয়সেই তার উপলব্ধি এসেছিল দুটো – যা বাচ্চাদের আচরণবিধির অনেকটাই বিপরীতে। এক, কাজের সেই লম্বা সময়গুলোতে তাকে থাকতে হবে চুপচাপ। দুই, বসে থাকতে হবে এক জায়গায়। দৌড়াদৌড়ি নয়। ছোট টেম্পলার মনে করলেন এটাই হয়তোবা পৃথিবীর রীতিনীতি। বাচ্চাটা সারাদিন ধরে সেই স্টোরের ক্রেতা আর অন্যান্যদের দেখতো তার একটা বিশাল ডেস্কের নিচে ‘হাইডআউটে’ বসে। ওখানেই বসে থাকতে ভালোই লাগতো তার। তাকে দেখছে না কেউ, সে দেখছে সবাইকে। বিশাল মজা। ওভাবেই গড়ে উঠলো দূর থেকে মানুষ দেখার আজন্ম তৃষ্ণা। মানুষ কোন পর্যায়ে কি করবে সেটা আগাম বলে দিতে পারতো সে। একটু বড় হয়ে টেম্পলার তার মার সাথে থাকতে গিয়েছিলো। মা ওর এই ‘স্কিল-সেটে’র ব্যাপারে সন্দিহান ছিলেন। মানুষের আচার আচরণ দেখার এই অভ্যাসটা কি কাজে লাগবে জীবনে? টেম্পলার নিজেও আশাবাদী ছিলেন না এই ‘স্কিল-সেটে’র ওপর। তারপরের গল্প সবার জানা। সেই ‘স্কিল-সেটে’র কিছু ‘অসাধারণ’ নিয়ম ব্যবহার করে নিজের ক্যারিয়ারের ‘ফাস্ট ট্র্যাক’ রাস্তা তৈরী করলেন তিনি। চূড়ায় উঠলেন কম সময়েই। সেই কিছু ‘অসাধারণ’ নীতিমালা নিয়ে তৈরী হলো তার প্রথম বই, ‘দ্য রুলস অফ ওয়ার্ক’, টার্নড ইনটু বেস্টসেলার!

আপনারা চাইলে তার কিছু নিয়ম নিয়ে আসবো সামনে। সেরা বইটা? পড়ছি আবার!

Advertisements

Read Full Post »

When you leave this world, what will you be remembered for?

Sabirul Islam #Inspire1Million

১২৪.

পিঠের ব্যথায় কষ্ট পেলেও এমআরআইটা করা হয়নি আলসেমি করেই। আসলে, মাড়াইনি অনেক দিন সে পথ। নিজের ব্যাপারেই যতো আলসেমি – অন্য কাজে নয়। নতুন এমআরআইটার কেস ফাইলটা নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলতেই সেটা অন্যদিকে মোড় নিলো। কাল আসুন – মাথার একটা এমআরআই করলে বোঝা যাবে কিছুটা। আমতা আমতা করে অফিসের দুটো মিটিংয়ে দোহাই দিলাম। অন্যদিন হলে কেমন হয়? স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন ডাক্তার। হিমশীতল।

১২৫.

ভয় পেলাম কিনা বুঝলাম না। তবে ‘ডিস্ট্রাকশন’ খুঁজলাম মনে মনে। জ্বর নিয়ে বাসায় আছি পড়ে। ফোনের ক্যালেন্ডার উঁকি দিলো সাবিরুল ইসলামের বক্তৃতার পপ-আপ নিয়ে। বিকেল ছয়টায়। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে। গুগল করলাম ওর নাম। নামের পাশে এলো কয়েকটা কীওয়ার্ড – লেখক, উদ্যোগতা, গ্লোবাল মোটিভেশনাল স্পিকার। ইস্ট লন্ডনের অতি দরিদ্র এলাকা থেকে উঠে এসে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন আজ। এপিলেপ্সি রোগে আক্রান্ত এই সাবিরুল চৌদ্দ বছরেই গড়ে তোলেন নিজ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। চষে বেড়ান অনেক কোম্পানিতে – কাজের খোঁজে। ব্যর্থ হয়ে ধর্না দেন নতুন কোম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে। সৃষ্টিকর্তা সবার মতো তাকেও ব্রেক দিলেন একটা। তার লেগে থাকার কারণেই চোখে পড়ে যান মেরিললিঞ্চএর এক এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের। কাজ দিলেন উনি – কিছুটা কৌতুহলের বসেই। দেখি কি করে বাচ্চাটা। পাল্টে গেলো জীবন। এপিলেপ্সি রোগ নিয়ে উড়লেন নিউ ইয়র্কে। শিখলেন স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ – স্কুলে থাকতেই চমকিয়ে দিলেন পাড়া পড়শীদের। বাবা মার তার কাজে সন্দিহান হয়ে পড়লেন।

১২৬.

ব্যবস্যায়িক আর উদ্যোগতার যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করে ফেললেন এর মধ্যেই। সতেরো বছর বয়সে লিখে ফেললেন ‘বেস্টসেলার’ – ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট’| চল্লিশটা পাবলিশিং হাউস তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো তাকে। বই লেখার নাকি সময় হয়নি ওর। জ্ঞান কি হয়েছে ওর? ক্ষোভে দু:খে নিজেই পাবলিশ করার ব্যবস্থা করলেন সাবিরুল। নয় মাস ধরে স্কুলে স্কুলে তরুণ উদ্যোগতাদের জন্য বক্তৃতা দিলেন – তিনশো উনোআশিটা! বই বিক্রি হলো – পয়তাল্লিশ হাজারের বেশি! বেস্টসেলার, নিমিষেই! সেই চল্লিশটা পাবলিশিং হাউস পাগল হয়ে পিছনে লেগে গেলো তার ইনস্ট্যান্ট সাকসেসে।

১২৭.

ঘুম হারাম হয়ে গেলো তার। এর মধ্যে আমন্ত্রণ এলো খোদ নাইজেরিয়ার ফার্স্টলেডি থেকে। পাল্টে দাও আমাদের তরুণ উদ্যোগতাদের! বাবা মা পাড়লেন কথা – ইটস টু ডেঞ্জারাস! আফ্রিকাতে গিয়ে তার উপলব্ধি গেলো পাল্টে। পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ফুটছে টগবগ করে। লেখাতে আগেও বলেছি আমি। আফ্রিকা পাগল হয়ে আছে শেখার জন্য – নতুন নতুন জিনিস – প্রতিদিন! মজার কান্ড হয়েছে বতসোয়ানায় গিয়ে। হাজারটা বক্তৃতা দিতে হয়েছে তাকে। মানুষের আবেগ আপ্লুত চোখের দিকে তাকিয়ে না করতে পারেননি শেষ পর্যন্ত সাবিরুল। চোখ কান দিয়ে গিলেছে তাকে – সব বক্তৃতাতে। আসল কথাটা বলা হয়নি এখনো। পুরো দেশের দশ শতাংশের মানুষ শুনেছে তার বক্তৃতা – টেলিভিশনে নয়, খোদ সমাবেশে এসে। বক্তৃতার পর ড্রাগ অ্যাডিক্ত ছেলে নিজে থেকে ভালো হয়ে দেখা করতে এসেছে লন্ডনে, ওর সাথে। সুদুর আফ্রিকা থেকে। ভিসা আর প্লেনের টিকেটের টাকা তুলে।

১২৮.

বাংলাদেশে? এসেছেন কাল। বক্তৃতা শুনে চোখে পানি এসেছে বার কয়েক। কি আবোল তাবোল বকছে ছেলেটা? পাল্টাবে কি বাংলাদেশ? ভুল স্বপ্ন দেখানোর এই সাহস কে দেখিয়েছে তাকে? গিয়েছেন আটাশটা দেশে – দেশগুলোরই আমন্ত্রণে। সবার একটাই কথা, পাল্টে দাও আমাদের ছেলেমেয়েদের! বানাও গ্লোবাল প্লেয়ার! বের করে নিয়ে আস গর্ত থেকে। দুহাজার এগারোতে লঞ্চ করেন প্রোগ্রাম ‘ইন্সপায়ার ওয়ান মিলিয়ন’, শুরু হয়েছে মালদ্বীপ থেকে। আশা করছি আমাদেরও বের হয়ে আসবে কয়েক হাজার। আমাদের নবীও ছিলেন উদ্যোগতা।

আরো আছেন তিন দিন, শুনবেন নাকি? নিজে থেকে পাল্টে যাবেন আপনি। কয়েকজনকে তরুনকে পেলাম দৌড়াচ্ছে ওর সব বক্তৃতাতে। মন্ত্রমুগ্ধ হবার মতো বটে!

সৃষ্টিকর্তা আছেন কিন্তু সবারই সাথে। দেখি নতুন কি আছে কালকে? বোঝা যাবে সেটা মাথার এমআরআইএর পর। সব ভালো তারই জন্য।

Read Full Post »

Be the change that you wish to see in the world.

Mahatma Gandhi

Everyone thinks of changing the world, but no one thinks of changing himself.

Leo Tolstoy

১১৫.

জন্ম তারিখটা নিয়ে একটা অস্বস্তিতে থাকি সবসময়। না পারতে বলি না। কোন মাসে সেটা বললেও সমস্যার মাফ নেই। রাশিফল বিশ্বাস না করলে কি হবে – বন্ধুদের মুখস্ত সেটা আগাগোড়া। নিজের রাশি নিয়ে অতটা না পড়লেও অন্যের মুখে শুনে মুখস্ত হয়ে গেছে আমারও। নিজে বিশ্বাস না করলেও বন্ধুদের ধারনা ওই রাশির সব সিম্পটম নিয়ে নাকি ঘুরে বেড়াই আমি। ভীতিকর সব ক্যারেক্টার ট্রেইটস। স্বাতী আবার আরো এক কাঠি সরেস। রাশিটা নাকি লেখাই হয়েছিলো আমাকে লক্ষ্য করে। শি ডেফিনিটলি হ্যাড সাম সেকেন্ড থট। কি সাংঘাতিক! দেরিতে বিয়ে হবার জন্য কি কারণ ছিলো জানি না – ‘সোয়াট’ এনালাইসিসে রাশিটাও ‘উইকনেসে’র ঘরে ছিলো হয়তোবা।

‘জানিস, আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে তোর রাশির মানুষ বেশি ছিলো?’ এতক্ষণ খোঁচাখুচি করে মলম লাগাচ্ছে বন্ধু।

‘ওই বেটা’, আমার ঝাঁঝালো উত্তর ‘উনিশশো তেইশের পর মানুষ চিনে ফেলেছে আমাদের। দেখলি না মাইকেল ডুকাকিস আর হিলারি ক্লিনটন কি বাড়িটাই না খেলো?’

ওর পর বন্ধু কি বললো সেটা আর নাই বা বলি।

১১৬.

রাশিটার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কি মিলেছে আর কি মিলেনি সেটা নিয়ে মাথা না ঘামালেও ‘গবেষক’ ব্যাপারটা মিলেছে কানের কাছ দিয়ে। আবার এটাই ডুবিয়েছে আমাকে পদে পদে। ভাসা ভাসা করে করতে পারিনা কোনো কাজই। ধরুন, কাজ দেয়া হলো একটা। নামাতে হবে আটচল্লিশ ঘন্টায়। নামিয়ে দিলাম সময়মতো। খানিকটা গায়ের জোরে। রিঅ্যাসাইন হলাম অন্য কাজে – পরেরদিন। মন পড়ে থাকবে আগের কাজে। কাজ হয়েছে ঠিকই – মন মতো হয়নি। এমনও হয়েছে কাজ নামিয়ে দেবার ছয়মাস পরে সেটাকে নিজের মতো করে ঠিক করে দিয়েছি আবার। গবেষণা হয়েছে বিস্তর এই ফাঁকে। আর সেকারণে উর্ধতন কর্মকর্তার টাস্কলিস্টে আমার নামের কাজগুলো ‘কমপ্লিটেড’ দেখালেও নিজস্ব লিস্ট ‘স্ট্রাইকআউট’ করা হয়নি অনেকদিন পর্যন্ত। নামিয়েছি মনের মতো করে – অ্যান্ড্রয়েড ফোনটাও বেঁচেছে প্রতিদিনের টাস্ক ‘পোস্টপনের’ জ্বালা থেকে।

১১৭.

মাস্টার্স করতে গেলাম বুড়ো বয়সে। লাপ্লাস, ফোরিয়ার আর ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিকসের অংকে মাথা ঘুরতে থাকলো সারারাত। সাড়ে ছয়টার অফিস শেষে সাতটায় ক্লাস। শুক্র শনি বলে কিছু ছিলো না সেই আড়াই বছর। প্রজেক্ট আর থিসিসের গল্পে মনটা মিইয়ে গেলো। বলে কি সুপারভাইজার?

‘ওয়াইম্যাক্স এর ‘মাইমো’র বিমফর্মিংয়ের একটা সমস্যা আছে বোধকরি জানেন আপনি?’ ফ্যাকাল্টির প্রায় সবাই আমার থেকে বয়সে ছোট।

জি, সিক্সওনাইনে পড়িয়েছিলেন সেটা। আমার তটস্ত উত্তর।

দেখুন তো, সেটার ইমপ্রুভমেন্ট পাওয়া যায় কিনা?

১১৮.

খাটলাম দু মাস। কিন্তু মন পড়ে আছে অন্য জায়গায়। আমার অফিসেই পড়ে আছে দেশের অনেক সমস্যা। স্ক্রিপ্ট তৈরী করলাম একটা – মুগ্ধ করতে হবে উনাকে। ওয়ান পেজার স্ক্রিপ্ট। ইন্ডাস্ট্রিতে যেটার নাম – ‘এলিভেটর পিচ’!

শব্দটা শিখেছিলাম সিলিকন ভ্যালিতে। স্টার্টআপ থেকে বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি – সবাইকে এই ‘এলিভেটর পিচ’ দিয়েই জোগাড় করতে হয়েছে টাকা। লম্বা কথা শুনতে চায় না কেউই। ফিনান্সিয়াল আর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলোর বসদের ফরমাল মিটিংয়ের জন্য সময় চেয়ে পায় না কেউই। অখ্যাত দু-তিনটা বাচ্চা ছেলের কথা শুনতে তো বসে নেই তারা। উপায় কি? এলিভেটর। আটকে থাকতে হবে ও সময়ে। শুনতেই হবে তাকে। কি বুদ্ধি! ওই তিরিশ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট – গিভ ইয়োর বেস্ট শট! মিলিয়ন ডলারের আইডিয়া সেল করতে হবে ওই সময়ের মধ্যে – ওখানেই। প্রচুর রিহার্সাল লাগে ওর জন্য। নতুন উদ্যোগতাদের তাদের বিজনেস কেস বিক্রি করতেই এতো গল্প। আমাকেও করতে হয় প্রতিনিয়ত। দেশের নীতিনির্ধারকদের সময় কম। ভালো একটা নীতিমালা বের করতে প্রচুর রিহার্সাল দিতে হয়। ভালো স্ক্রিপ্ট আর রিহার্সাল। সমস্যা কি? দেশেরই জন্য তো!

১১৯.

‘মাইমো’র একটা ড্রাফট নিয়ে দেখা করলাম সুপারভাইজারের সাথে। সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। সুই হয়ে ঢুকলাম তখনি।

এটা করতে ভালো লাগছে না, স্যার। সমস্যা দেন একটা – দেশের ভেতরের। সমাধান করতে তো হবে আমাদেরকেই। আমাদের দেশ – আমাদের সমস্যা। বাইরে থেকে তো আর কেউ করে দিয়ে যাবে না।

মাথা তুলে তাকালেন সুপারভাইজার, কিছুটা বিস্মিত।

রাশির একটা বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করলাম ওই মুহুর্তে।

আমাদের চিপসেট ফ্যাব্রিকেশন ইন্ডাস্ট্রি তৈরী হতে সময় নেবে। অন্যের লেখা জার্নাল পড়ে তার ওপর ধারণা নিয়ে কাজ করা দুস্কর। আজ অ্যামেরিকায় আমি থাকলে কথা ছিলো অন্য। আরএন্ডডি ল্যাবে ভর্তি সেসব স্কুলগুলো।

তিন সেকেন্ড সময় নিলাম। স্ক্রিপ্ট আর রিহার্সালের অংশ।

বিশ্বে উদ্ভাবিত হাজারো জিনিসের কয়টা অ্যাডপ্ট করেছি আমরা, স্যার? ইনোভেশন তো মানুষের সুবিধার জন্য। ওদের একটা ডোমেইন নলেজ নিয়ে আমার অফিস বসে আছে অনেক দিন। সুযোগ দিন আমাকে সেটাকে ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য – আমাদের মতো করে।

ইনোভেশন কিওয়ার্ড কিন্তু ‘আমাদের মতো করে’| বাইরের দেশের অনেক নীতিমালাই আমাদের দেশে কাজ করে না। বাইরের হাজারো দেশের প্রেসক্রিপশনস এন্ড আপ বিয়িং ইন সেলফ! ‘লোকালাইজেশন’টাই হচ্ছে আমার ইনোভেশন!

‘বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন তো আপনি।’ সুপারভাইজারের প্রশ্রয়ের গলা। ‘কি করতে চান আপনি?’

অফিসের কাজ – দেশের জন্য। আমাকে দিয়ে করিয়ে নিন আপনি।

১২০.

এই মানুষগুলোর জন্য দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এখনো। ছয়মাসের ছোট্ট একটা সাদামাটা প্রজেক্ট পেপার থেকে একটা ‘কস্ট মডেলিং’ এক্সারসাইজে পরিনত হলো এটা ধীরে ধীরে। আড়াই বছরে। প্রজেক্ট পেপারে সবকিছু ভাসা ভাসা থাকলেও ওই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কনকন্সাল্টেশন শেষে সবার কলরেট কমলো দশ পয়সা। ‘এসএমএস’ হোলসেল ইন্টারকানেকশন রেটও আসলো কমে। ফলাফল দুপাতার চিঠি হলেও এর পেছনে রয়েছে হাজার পাতার এক্সেলশীটের কারুকাজ। আমার দুজন অফিসার আজই থাইল্যান্ড গেল সেটার উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে। আশায় বুক বেঁধেছি তাদের উপর। তারাই পাল্টাবে বাংলাদেশ – একদিন।

১২১.

অফিসে বসে টেলিকমিউনিকেশন ইন্ডাস্ট্রি আর একাডেমিয়ার বিশাল ফারাক চোখে পড়ে বলে এ লেখার অবতারণা। উন্নত দেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোর জ্ঞানের বড় যোগানদাতা ইউনিভার্সিটিগুলো। আমাদের মতো দেশগুলোতে এখনো পাশ্চাত্য প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল বলে এর উপর গবেষণা হয় কম। কারণ, এর সবকিছু উদ্ভাবন হয়ে গিয়েছে বলে। বাইরের উদ্ভাবনাকে দেশের মানুষের কাজে লাগানোর যে একটা বড় ‘লোকালাইজেশন’ গ্যাপ সেটা আমাকে পীড়া দেয় বেশি। বাংলাদেশের সমস্যা অনেক দেশের জন্য গবেষনার বিষয় বটে। বাইরের প্রচুর ডকটরাল প্রোগ্রাম চলছে এই সম্ভাবনাময় দেশটাকে নিয়ে। পৃথিবীর ‘মোস্ট লিভেবল সিটি’স’ নিয়ে গল্প হলে আমাদের ঢাকার নাম চলে আসে শেষের দিকে। এবছরে ঢাকার অবস্থান সর্বশেষের যুদ্ধবিধ্বস্ত দামাস্কাসের (সিরিয়া) ঠিক উপরে। দামাস্কাস যুদ্ধে না থাকলে ঢাকার অবস্থান সহজে অনুমেয়।

১২২.

আমাদের এতো সম্ভাবনাময়ী ছাত্রছাত্রীদের জন্য দেশের হাজারো সমস্যা নিয়ে ডকটরাল প্রোগ্রাম চালু হওয়া উচিত। আমার অফিসও বসে আছে এরকম অনেক সমস্যা নিয়ে। পাচ্ছি না মন দিয়ে কাজ করার মতো মানুষ। জ্ঞান দরকার অ্যাকাডেমিয়া থেকে। এতো মানুষের দেশ, এতো সম্ভাবনার দেশ, ঠিক করতে হবে আমাদেরকেই। কথা হচ্ছিলো মুনতাসির মামুনের সাথে। টগবগ করছে তারুন্যে! ঢাকার বাস ম্যাপ তৈরীর মতো ‘ভয়াবহ’ কাজে নেমেছিলো তারা। একটা শহরের পাবলিক ট্রানজিট সার্ভিস কাজ করে সেদেশের উন্নতির একটা ইনডিকেটর হিসেবে। সরকারের কাজ করে দিয়েছে তারাই। অন্যের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল না তুলে নিজেরাই করে দিয়েছে সেটা। টাকা দিয়েছে সবাই, কিকস্টার্টারে। পনেরো হাজার ডলার। ইন্টারনেটকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে দেশে। ফেইসবুকে সময় নষ্ট না করে এখানে হাজারো তরুণ তরুণী পাল্টে দিচ্ছে বাংলাদেশকে – সবার অগোচরে। ‘আমরাই–বাংলাদেশ’ পেজ খুলেছে তারা। ব্লাডলাইনে মতো ফেইসবুক অ্যাপ মানুষের জীবন বাচাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ধন্যবাদ, আরিফ আর হোসাইন, রাজীব হাসান চৌধুরী, জাভেদ কায়সার এবং আরো অনেককে। স্টার্টআপঢাকা.কম দেখেননি এখনো?

১২৩.

বাংলাদেশ হওয়া উচিত মুনতাসিরদের মতো আমাদের সবার ‘আলটিমেট টেস্ট ল্যাব’| নিজের দেশ বলে কথা। আর ঢাকায় রয়েছে আপনার গবেষনার প্রয়োজনীয় সব উপাদান – সমস্যা। বলুনতো, বাদ আছে কোনটা? সমস্যা দেখলে আবার ঠিক থাকে না মাথা। নেমে যাই গবেষণায়। রাশির দোহাই লাগে নাকি আবার? ঢাকা, আ ডেফিনিট টেস্ট বেড! আমার ডেস্কেই ডক্টরাল আর পোস্ট ডক্টরাল মানের সমস্যা আছে দশটির মতো। মানুষ ছুটছে পিএইচডির জন্য বিদেশে, ওদের সমস্যা সমাধানে। পড়িয়েছে কে আমাদের, বিদেশ না মাতৃভূমি? নিজের দেশের সমস্যার সমাধান করতে হবে – নিজেদেরকেই। এর ওর দোষ বলে হচ্ছে না কিছুই। পাল্টাতে হবে নিজেকে।

আছেন তো সাথে?

দেশের জন্য – উৎকর্ষতার সন্ধানে?

Read Full Post »

Dreamers are mocked as impractical. The truth is they are the most practical, as their innovations lead to progress and a better way of life for all of us.

― Robin S. Sharma

১১০.

ফিরে আসি ‘ক’ দেশের থ্রিজি প্যাকেজের দাম নিয়ে। আমার অভিজ্ঞতায় অনেক দেশকে দেখেছি স্পেকট্রামের উচ্চমূল্যের অংশবিশেষ থ্রিজির প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত করতে। কি আর হবে? ডিজাস্টার। গ্রাহক ভয় পেয়ে ফিরিয়ে নিয়েছিলো মুখ। থ্রিজি হচ্ছে অল এবাউট ‘এক্সপেরিয়েন্স’। ‘এক্সপেরিয়েন্স’ ভালো পেলে টাকা দিতে কসুর করবে না গ্রাহক। প্রতারিত হলে তাকে আবার এমুখো করা দুস্কর। মোবাইল ব্রডব্যান্ডের ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ একটা বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়াবে এখানে, এই ‘ক’ দেশে। কিন্তু এই ‘এক্সপেরিয়েন্স’ দেবার জন্য থ্রি প্যাকেজের প্রথম দিকের দামগুলো খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ। গ্রাহকের ‘পারচেজিং পাওয়ার প্যারিটি’ বুঝলে ভালো।

১১১.

এখানে একটা চ্যালেঞ্জ আছে রেগুলেটরর জন্য। বড় অপারেটর (যদি থাকে) যারা বাজার দখল করে রেখেছে অর্ধেকের বেশি, তাদের প্রিডেটরী প্রাইসিং অন্যদের বাজার শেষ করে দিতে পারে। প্রিডেটরী প্রাইসিং হচ্ছে আসল মূল্যের অনেক কমে বিক্রি করা – যেটা আইনগতভাবে অ্যান্টি-কম্পিটিটিভ। অনেক দেশে এটা প্রতিযোগিতা আইনে বেআইনি। বড় অপারেটর আর রেগুলেটরকে একটা সুক্ষ ভারসাম্য রাখতে হবে যাতে অপেক্ষাকৃত ছোট অপারেটরের ব্যবস্যা বিপদে না পড়ে। দাম আসল দামের কম হবে সেই গ্রাহকসংখ্যার ‘ক্রিটিক্যাল ম্যাস’ ধরতে গিয়ে, [পরে দেখুন] – বাজারের পতন বা মার্কেট ফেইল্যুর না হবার দিকেও নজর দিতে হবে।

১১২.

ইউনিলিভার এটা বোঝে খুব ভালোভাবেই। দু টাকার মিনিপ্যাক বা ‘শ্যাশে’ প্রাইসিংয়ের কোটি টাকার মার্কেট রিসার্চ ব্যর্থ যায়না কখনো। এই ‘ক’ দেশের ক্ষুদ্রঋণের উপর একটা বিদেশী ইভেন্টে এক বক্তার কথা মনে পড়ছে এখন। ‘বটম অফ দ্য পিরামিডের’ একজনের সাক্ষাৎকার নিয়ে কথা বলছিলেন তিনি।

আপনাকে বাসা থেকে টাকা জমা দেবার সুযোগ দেয়া হলে কতো টাকা জমা দিতে পারবেন আজ?

দশ টাকা, তার উত্তর।

প্রতি সপ্তাহে?

দশ টাকা।

প্রতি মাসে?

ভাবলেশহীন একই উত্তর, দশ টাকা।

১১৪.

দেশভেদে মোবাইল অপারেটররা ভালোমতোই জানেন যে থ্রিজি ডাটা প্যাকেজের ‘ব্রেকইভেনে’ পৌঁছাতেই দরকার একটা ‘ক্রিটিক্যাল ম্যাস’| সেই সোনারকাঠির গ্রাহকসংখ্যাও অপারেটর ভেদে ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। সাধারণ ভাষায়, বিজনেস কেসের বার চার্টের যেই গ্রাহকসংখ্যার পর একটা হকিস্টিক ফেনোমেনন দেখা যায় সেটাই হচ্ছে তাদের জন্য ‘ক্রিটিক্যাল ম্যাস’| ওই গ্রাহকসংখ্যা পাবার জন্য প্যাকেজের প্রথমদিকের প্রাইসিং গুরুত্বপূর্ণ বটে। সুবিধাজনক প্রাইসিং এর ঠিক পরে চলে আসে গ্রাহকদের ধরে রাখার মতো ভয়ংকর কষ্টকর কাজ। ভালো সার্ভিস না পেলেই ওমুখো হবে না মন ভাঙ্গা গ্রাহক। আবার গ্রাহক না পেলে ভালো সার্ভিস দেয়া দুস্কর। সাইকেল বলে কথা। আবার ওই গ্রাহকের সংখ্যা পাবার উপর নির্ভর করছে তাদের বিজনেস কেস। কারো জন্য সেটা হতে পারে দু লাখ।  আবার বিশ লাখও অনেকের ‘ভয়াবহ’ ইনভেস্টমেন্টকে সাহায্য করছে না। এজন্য লাগবে উদ্ভাবনী শক্তি!

ইনোভেশন নিয়ে থাকুন সবাই, আসছি সামনে!

Read Full Post »

Healey’s First Law Of Holes: When in one, stop digging.

Denis Healey

১০৫.

প্রযুক্তি এতোই এগিয়ে আসলো যে একসময় দেখা গেল এক স্পেকট্রাম ব্যবহার করে কয়েকজন মিলে দিতে পারছে সেবাটা। অনেক দেশের আয়ের একটা বড় অংশ হবার কারণে রেগুলেটর এই স্পেকট্রাম ভাগাভাগির ব্যাপারে নিয়ে এলো নতুন নিয়ম। যাই করো –ভাগাভাগি করা যাবে না স্পেকট্রাম। তবে ভাগাভাগি করা গেলে খরচ আসতো আরো কমে। সেটার মধ্যপন্থা হচ্ছে স্পেকট্রাম ট্রেডিং। সেকেন্ডারি মার্কেটে অন্যের বাড়তি স্পেকট্রাম কিনে যে কোনো অপারেটর তার সুবিধামতো সার্ভিস দিতে পারতো। কিছু দেশে সেটারও আইনগত ভিত্তি দেয়া হয়নি। বিজ্ঞান তো ওই অবস্থানে আটকে থাকবে না। অপারেটররাও বসে নেই। তাদের কথা ‘মানছি – ভাগাভাগি করা যাবে না স্পেকট্রাম। হাউ এবাউট নোড-বি?’ নোড-বি হচ্ছে থ্রিজির বেসস্টেশন। ‘রেডিও এক্সেস নেটওয়ার্ক? অথবা এন্টেনা? বা ফীডার ক্যাবল? কিংবা আমরা সবাই মিলে যদি কিনি বিলিং প্ল্যাটফর্ম?’ দেখা গেছে এই নেটওয়ার্কেই তাদের খরচের তিরিশ শতাংশের বেশি যায় চলে। বাকিটা লাইসেন্স, স্পেকট্রাম, মার্কেটিং, ইন্টারকানেকশন ইত্যাদির খরচে। যেখানে ব্যবস্যা নেই বা কম সেখানে সবার আলাদা যন্ত্রপাতি আর কাভারেজ থাকার বাধ্যবাধকতা খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে সবার। দরকার কাভারেজ, দিচ্ছি সেটা সবাই মিলে। রেগুলেটরের সন্দেহ দানা বেঁধে ওঠে।

১০৬.

যুক্ত হলো নতুন টার্মিনোলোজি। একটিভ শেয়ারিং। ট্রাফিককে পাঠানোর জন্য নেটওয়ার্কের যে অংশগুলো জন্য সরাসরি কল প্রসেসিংয়ের সাথে আছে সেটাকে একটিভ শেয়ারিং বলা যেতে পারে। এখানে নেটওয়ার্কের ইলেকট্রনিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারগুলো ভাগাভাগির কথা চলে আসে। যতো একটিভ শেয়ারিং ততো কম লাগবে ক্যাপেক্স মানে ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার। ততো কম বৈদেশিক মুদ্রা বের হবে দেশ থেকে। গ্রাহকদের হাতের থ্রিজি প্যাকেজের দামটাও সে অনুপাতে আসবে কমে। আমার ধারণায় স্পেকট্রাম বিক্রি হয়ে গেলে একটিভ শেয়ারিং সুবিধা দিলে সবারই লাভ। দেশে পাঁচ ছয়টা থ্রিজি অপারেটর থাকলে সবাইকে কিনতে হবে থ্রিজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার। মানে পাঁচ ছয়টা আলাদা আলাদা থ্রিজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার। আবার একটিভ শেয়ারিং সুবিধা দিলে সবাই মিলে কিনতে হবে মাত্র দু থেকে তিনটা থ্রিজি ইনফ্রাস্ট্রাকচার। প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে অপারেটরের যাবার কথা এক বছরে, শেয়ারিং হলে সবাই মিলে সেটায় যাবে চার মাসে। দ্রুততম রোলআউট আশা করলে এর বিকল্প নেই। টাওয়ার আর বিটিএসের জঙ্গল আসবে কমে।

১০৭.

আমার অভিজ্ঞতায় দুটো অপারেটর সাইট ভাগাভাগি করলেই চল্লিশ শতাংশ কমে আসে বিটিএস ইনস্টলেশন। কমে আসবে বিদ্যুত খরচ। ব্যবহারকারীদের প্যাকেজের দাম কমে আশার কথা। সেটা কমে আসবে প্রতিযোগিতায়। এছাড়া সব অপারেটরের ব্যালান্স শিট নিয়ে তাদের এবিটডা মার্জিন দেখলে ধারনাটা পরিস্কার হবে। এটা যেকোনো কোম্পানির লাভের ব্যাপারে চমত্কার একটা ধারণা দেয়। লাভ করতে চাইবে সবাই, সেটার সাথে দক্ষতা আর কস্ট ওরিয়েন্টেশনের ব্যালান্স থাকলে সবারই লাভ। গ্রাহক পয়সার বিনিময়ে সঠিক জিনিষটা পাচ্ছে কিনা সেটাই দেখবে রেগুলেটর। বাকি সময় থাকবে অদৃশ্য রোলে। ‘গ্রাহক স্বার্থ আর প্রতিযোগিতা’ মানে কনজিউমার এন্ড কম্পিটিশন ব্যুরো থাকবে ফোরফ্রন্টে।

১০৮.

সেদিন বেশি দুরে নেই যখন ‘ক’ দেশের সব কোম্পানি তার নেটওয়ার্ক আর্মটাকে আলাদা করে ফেলবে ওর অপারেশনাল আর্ম, যারা গ্রাহকসেবা আর প্যাকেজ দেখবেন তাদের থেকে। খরচ কমাতে এর জুড়ি নেই। আবার সব কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক আর্ম যুক্ত হয়ে তৈরী হবে নেটওয়ার্ক কোম্পানি সংক্ষেপে ‘নেটকো’| নতুন স্পেকট্রাম পাবার পর সবাই মিলে তৈরী করবে একটা ‘নেটকো’| পুরো দেশকে একটা সিঙ্গেল রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি নেটওয়ার্কের আওতায় এনে তৈরী করতে চাইবে একটা দক্ষ ‘ফেইলসেফ’ নেটওয়ার্ক। সেটা হয়তোবা চালাবে জয়েন্ট ভেঞ্চার বা ম্যানেজড সার্ভিস কোম্পানি, অপারেটর নয়। গ্রাহকেরা সব জায়গায় পাবেন সবার নেটওয়ার্ক। অপারেটরদের মধ্যে চালু থাকবে ন্যাশনাল রোমিং। কোনো জায়গায় কারো কাভারেজ না থাকলেও নেই সমস্যা। অন্যের মানে যার সেখানে কাভারেজ আছে তার বিটিএসের উপর দিয়ে ওর এয়ারটাইম কিনে নিজের সেল লেভেল প্যারামিটার বসিয়ে ফিজিক্যাল কাভারেজ না থাকা সত্বেও সে থাকবে উপস্থিত। কোম্পানিগুলো ভেতরে এধরনের এগ্রিমেন্ট নিয়ে বর্তমান রেগুলেটররাও খুব একটা মাথা ঘামায়না এখন। অপারেশনাল লেভেলে ‘অপকো’ কোম্পানিগুলো আলাদা থাকে তাদের নিজস্ব স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য। আমার প্যাকেজ আমার কাছে। সেটাকে সবাই মিলে বাজারে নিয়ে গেলে মনোপলি হয়ে যাবে। সেটা হতে দেবে না রেগুলেটর। সেটা অপারেটররাও চাইবে না কখনো। অ্যাপ্লিকেশন মানে অ্যাপ পাল্টাচ্ছে সবার ফোকাস। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসটা নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে ‘ক’ দেশটাকে।

১০৯.

দক্ষতা বাড়ানোর জন্য মালয়েশিয়ার টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর ‘এমসিএমসি’ অপারেটরদের মধ্যে নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের জন্য বৃহত্তর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ডাক দিতেই চলে এলো ম্যাক্সিস আর রেডটোন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি হলো ইনফ্রাস্ট্রাকচার আর স্পেকট্রাম ভাগাভাগির। দুহাজার বারোর শুরুতে মালয়েশিয়া ব্যাপী ফোরজি এলটিই নেটওয়ার্ক বসাতে দুই অপারেটরের খরচ কমে গেল অর্ধেক। সময়ও লাগবে অর্ধেক। বেসস্টেশন আর টাওয়ারের সংখ্যা আসলো কমে। তাদের ভাষ্যমতে দুটো মোবাইল অপারেটরের আলাদাভাবে সেই ‘ভয়াবহ’ ইনভেস্টমেন্ট থেকে বাঁচিয়েছে তাদের এই চুক্তি। সেটার প্রভাব পড়েছে গ্রাহকের ওপর। তক্কে তক্কে ছিলো ‘ইউ মোবাইল’ বলে আরেকটা কোম্পানি। সেই বছরেই চুক্তি হলো তেরোশো থ্রিজির রেডিও এক্সেস নেটওয়ার্ক ভাগাভাগি করার – ওই ম্যাক্সিসের সাথেই। ‘ইউ মোবাইল’কে প্রত্যক্ষভাবে বসাতে হলো না সেই তেরোশো থ্রিজির রেডিও এক্সেস নেটওয়ার্ক। কমে আসলো টাওয়ারের জঙ্গল। ‘ইউ মোবাইলের’ নেটওয়ার্ক কাভারেজ বেড়ে গেল চার থেকে পাঁচগুন – রাত শেষ না হতেই।

ভাবা যায়?

Read Full Post »

Mobile operators worldwide are looking for cost efficiencies across the industry,” said Maxis joint chief operating officer, Mark Dioguardi.

In a mature market such as Malaysia, infrastructure, spectrum and RAN sharing can considerably reduce capex and opex, increase the speed of network rollouts, enhance coverage and more importantly, meet the rapidly increasing demands for data and voice capacity while still allowing operators to differentiate on services.

“Sharing is about working smarter as an industry and focusing spend where it matters most. We’re not just talking about it, we have done it and on a huge scale,” he claimed.

১০০.

মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো কথাটা – কয়েকদিন ধরেই। থ্রিজি এলো ‘ক’ দেশে। দাম কেমন হতে পারে প্যাকেজগুলোর? নাকি ইউরোপের প্রথম থ্রিজির মতো হাইপ তৈরী করে যে ‘লাউ সে কদু’র ধারণায় পর্যবসিত হবে এটাও? তবে ইউরোপের ভুল থেকে শিখেছে বিশ্ব। শিখেছি আমরাও। রোমিং নিয়ে বহু ঝামেলা পোহানোর পর এই রোমিংই বাতিল হলো ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে। আর কাহাতক সহ্য করা যায় বলেন। প্রতিযোগিতা, ‘বাজার’ আর সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার মানে বড় কোম্পানির জন্য ইইউ কমিশনের প্রতিযোগিতার উপর ডিরেক্টিভের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। ফিরে আসি মোবাইল ব্রডব্যান্ডে। বিজনেস কেস কেমন হতে পারে এটার ‘ক’ দেশে? ক্লিক করার সম্ভাবনা কতো? ‘ক’ দেশের পার্শবর্তী ‘খ’ দেশ তার স্পেকট্রামের উচ্চমূল্যের ‘হিকাপ’ থেকে বের হবার চেষ্টা করছে মাত্র। ‘টাইম টু মার্কেট’ মানে বাজারে ঢুকতে তাদের সময় লেগেছে অনেক বেশি। ‘ক’ দেশের স্পেকট্রামের দাম তুলনামূলক কম হওয়াতে সেটার হবার সুযোগ কম এখানে।

১০১.

স্পেকট্রামের দাম বর্তমান ‘জিপিআরএস’ ইন্টারনেটের ওপরে চড়ানোটাই স্বাভাবিক বলে ধরে নেবেন অনেকে। কি হতে পারে? ব্যবস্যা তো আর লস দিয়ে চলবে না। আর সেটাও ঠিক নয়। বড় কোম্পানির সামান্য একটা ‘আরবিট্রেরি’ প্রাইসিং ছোট কোম্পানিগুলোর নাভিশ্বাস তুলে দেবে – সেটাও মেনে নেবে না রেগুলেটর। তবে মোবাইল অপারেটরের ব্যবস্যা একদিনের নয়। বছর পনেরো প্লাস আরো পনেরো ধরলে তার ইনভেস্টমেন্ট ‘ডিপ পকেট’ মানে অনেক অনেক বেশি। এই ‘ভয়াবহ’ ইনভেস্টমেন্ট করার পর তারা আরো সতর্ক হয়ে পড়ে বেশি। পরবর্তীতে টাকা আরো ঢালতে গিয়ে তার অপটিমাইজেশন কিভাবে করা যাবে সেটাই হয়ে যায় মুখ্য। এতে তাদের দক্ষতা যায় বেড়ে অনেকগুন। আবার সেই টাকাটা আসতে হবে গ্রাহকের থেকেই। আবার সেই অপারেটর দক্ষ না হলে সেটার সিস্টেম লস গ্রাহকেরা টানবেই বা কেন? সেকারণে মোবাইল অপারেটরদের কস্ট মডেলিং করে বের করা হয় একটা দক্ষ মডেল অপারেটর, পাইকারী রেটের ক্ষেত্রে।

১০২.

বিশ্বমন্দার এই সময়ে মোবাইল অপারেটররা ‘ভয়াবহ’ ইনভেস্টমেন্ট করে ‘কস্ট এফিসিয়েন্সি’ খুঁজছেন অনেকদিন ধরে। আর সেটা শুরু হয়েছে থ্রিজি নেটওয়ার্ক রোলআউট করার সময়। টুজি মানেই তো সনাতন ভয়েস নেটওয়ার্ক, থ্রিজি তো ওর উপর একটা ‘ওভারলে’! আর সেখানেই হয়েছে হাজার কোটি টাকার গবেষণা। খুঁজে বের করতে হয়েছে নেটওয়ার্কের সেই অংশগুলোকে – যার উপর দিয়ে চলবে দু-তিন নেটওয়ার্ক, টুজি-থ্রিজি-এলটিই। চলে এলো সফটওয়্যার ডিফাইনড রেডিও, এসডিআর। আসছে নতুন প্রযুক্তি, কিনতে হবে না সব যন্ত্রপাতি – নতুন করে। বিটিএসে করো সফটওয়্যার আপডেট – চলবে সব কিছু। স্পেকট্রামের দাম নিয়ে সবাই শঙ্কিত, আসছে কগনিটিভ রেডিও। অব্যবহৃত স্পেকট্রামের দিকে তাকিয়ে থাকে তক্কে তক্কে। ব্যবহার শুরু হলেই ব্যাক তো প্যাভিলিয়ান। আর ভেতরে গেলাম না আজ। প্রচুর কাজ হয়েছে গত এক দশকে। খরচ কমাতে অনেক খরচ হলেও সেটাকে অ্যামোটাইজ করে দশ পনেরো বছরে ছড়িয়ে দিলে লাভই বরং।

১০৩.

দশের লাঠি একের বোঝা – ছোটবেলার গল্প হলেও এর ব্যাপ্তি বহুদূর। সবাই মিলে বড় একটা কাজও নামিয়ে ফেলা যায় ওভারনাইট! নেটওয়ার্ক অপটিমাইজেশনের ধাঁধা খুঁজতে খুঁজতে অপারেটরদের চোখ পড়লো একে অপরের উপর। নিজেদের মধ্যে কি কি ভাগাভাগি করা যায় সেটা বের করতে গিয়ে খালি চোখে যেগুলো আলাদা করা যায় সেটার ভাগাভাগি শুরু হলো আগে। এগুলো হচ্ছে ‘প্যাসিভ ইনফ্রাস্ট্রাকচার’, মানে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক আর তার ডাক্ট, বিল্ডিংটা, বিটিএস টাওয়ার, এয়ার কন্ডিশনিং, সাইটটার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এমন কি ব্যাটারি ব্যাঙ্ক। বড় ব্যাটারি একটা, বিদ্যুত সরবরাহ করা হচ্ছে দু-তিন অপারেটরের বেসস্টেশনে। লাভ সবার। ভাগ হয়ে যাচ্ছে খরচ। দামও কমছে কলরেটের। আগে সব অপারেটর নিজেদের ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক বসিয়েছে একা একাই – দেশব্যাপী। এখন বসায় সবাই মিলে। খরচ ভগ্নাংশ মাত্র। দু কোরের ফাইবার ইনফ্রাস্ট্রাকচার বসাতে যে খরচ একশো কোরে একই অবস্থা। মাটি খুড়তেই তো সব খরচ, তার উপর ‘রাইট অফ ওয়ে’| অনেকদেশে এই ভাগাভাগিটা আবশ্যিক করার জন্য রেগুলেটর রীতিমত গাইডলাইন বানায়। ‘ক’ দেশেও আছে সেটা।

১০৪.

খরচ কমানোর আর দক্ষতা বাড়ানোর গবেষণা এতোই হয়েছে যে একটা ফিজিক্যাল মোবাইল নেটওয়ার্কের উপর চালানো যায় অনেকগুলো অপারেটর। গ্রাহকের বিলিং, সেল লেভেল প্যারামিটার, ভ্যালু এডেড সার্ভিসেস – সব পাওয়া যাবে আলাদাভাবে। সোর্স কিন্তু একটা। বোঝার উপায় নেই। কনসেপ্ট এলো ‘মোবাইল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক অপারেটর’ যেটাকে ‘এমভিএনও’ বলছে সবাই। বড় অপারেটরদের এতো ক্যাপাসিটি খালি পড়ে থাকে সেটার উপর দিয়ে আরো দু-তিনটে অপারেটর চললে ভাগাভাগি হয়ে যায় খরচ। একনমিজ অফ স্কেল। নেটওয়ার্কের সব অংশের কার্যকরী ব্যবহার সবারই লাভ। যে অংশগুলো ঠিকমতো ব্যবহার হয়না সেগুলো অন্যের কাছে ভাড়া দিলে ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ উঠে আসে তাড়াতাড়ি। ফলে টাকা খাটানো যায় অন্য যেখানে দরকার। অপটিমাইজেশনের নতুন ধারা নিয়ে এলো ‘কস্ট প্লাস’ আর ‘রিটেল মাইনাসের’ গল্প।

ওটা রেখে দেই আরেক দিনের জন্য।

Read Full Post »

Its hard to be a diamond in a rhinestone world.

Dolly Parton

৯২.

অবাক করার মতো ঘটনা বটে!

অনলাইনে বিএমডাব্লিউ গাড়ি কিনতে গেলে ‘‘বিল্ড-ইয়োর-ওন-বিএমডাব্লিউ’’ বলে নতুন ট্যাব দেখলাম একটা। গাড়িই যে কিনতে গিয়েছিলাম সেটা বলাটা ঠিক হবে না বোধহয়। বাংলাদেশে যে ওটা কোথায় ডেলিভারি করবে সেটা চাখতে গিয়েছিলাম ওর সাইটে। পয়সা না থাক গাড়িটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে মানা করছে না তো কেউ। উইন্ডো শপিং বলতে পারেন কিছুটা। আপনি আমি যে কেউ একটা বিএমডাব্লিউ অর্ডার দিতে পারবো যেটার কম্বিনেশন এক মিলিয়নের বেশি হতে পারে। গাড়ির হেড লাইট, লেদার সিট, কোন ধরনের হর্ন বা কোন ধরনের ডিজাইন পছন্দ আপনার – সেটার কাস্টোমাইজড গাড়ি ডেলিভারী দিয়ে দেবে আপনার বাসায়।

৯৩.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পর ডেল-এর কম্পিউটার কিনতে কম্পিউটার দোকানে যেয়ে ভিমড়ি খেলাম প্রথমেই। সেটা নাকি অনলাইনেই কিনতে পাওয়া যায়। অনলাইনে কিনতে গিয়ে হাজারো ফ্যাকড়া – মানে ভালো অর্থে অনেক বেশি চয়েস। তার প্রসেসর কি হবে, র‌্যাম, হার্ডডিক্স সব কিছু বলে দিতে হয় অনলাইনে। অ্যামাজন শুধুমাত্র দুই হাজার এগারো সালেই তিন বিলিয়ন ডলার থেকে আটচল্লিশ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছে সবকিছু – এই নতুন ধারায়। তার পাশে বর্ডাসের মতে বড় বড় বই বিক্রির মোগল [দোকান] বন্ধ হয়ে গেছে নতুন ধারাটা বুঝতে না পারায়।

৯৪.

আমার এক পুরনো সহকর্মী যিনি যুক্তরাজ্যে থাকেন তার কাছে শুনলাম আরেক ঘটনা। স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গিয়েছেন বাচ্চাদের। কোথায় কি? বরং স্কুলে দেখিয়ে দেয়া হলো কয়েকটা কম্পিউটারের কিয়স্ক, ভর্তির সবকিছুই ইন্টারনেটে। কিছু না করেই ফিরে এলেন বাসায়। কমফোর্ট জোনে বসে কফিতে চুমুক দিয়েই ভর্তি করে ফেললেন বাচ্চা দুটোকে। এ যুগের এ ঘটনাগুলো মিলিয়ে এর একটা নতুন নাম বানানো হয়েছে। নাম তার ‘ডিজিটাইজেশন’।

৯৫.

বেশ কয়েকটা স্ট্যাডি থেকে দেখা যায় যে দেশের দশ শতাংশ ডিজিটাইজেশন আসলে জিডিপির দশমিক শুন্য পচাঁত্তর শতাংশর মতো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসে। আবার দেখা গেছে এধরনের ডিজিটাইজেশনের অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি আসলেই ব্রডব্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট হওয়ার কারণে যে ধরনের প্রবৃদ্ধি [দশমিক ষোল শতাংশ] হয় – সেটা থেকে চার দশমিক সাত গুন বেশি ফলাফল নিয়ে আসে। ও হ্যা, ব্রডব্যান্ডের আর ডিজিটাইজেশনের প্রবৃদ্ধি কিন্তু একদম আলাদা। আজ বাংলাদেশ ইন্টারনেট রয়েছে ঠিকই কিন্তু তা ফেইসবুক আর স্ট্যাটিক তথ্য আদানপ্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেটা হচ্ছে ব্রডব্যান্ড বা সংযুক্ত থাকার প্রবৃদ্ধি।

৯৬.

মানুষ কানেক্টেড – পয়েন্ট এ টু পয়েন্ট বি, হয়েছে তো কি? কি কাজ হবে এতে? সেকারণে মানুষের ডিপেন্ডেন্সি নেই। সরকারের কোনো সুবিধা নিতে গেলে সেটাকে যদি একটা পোর্টালের মাধ্যমে যাবার বাধ্যবাধকতা থাকতো তাহলে ডিজিটাইজেশনের ধারনাটা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠতো। এদিকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশের বা যেকোনো কোম্পানির গভার্নেস বা তার প্রতিটা প্রসেস সবকাজকে দক্ষতার সাথে করতে পারলেই সেটাকে বলা যেতো ডিজিটাইজেশন। ই-কমার্স অথবা সব ই-XXX দিয়ে শুরু সবকিছুই কিন্তু ডিজিটাইজেশন দিয়ে শুরু। অনলাইনে সরকারী কোনো অ্যাপ্রুভাল পাওয়া গেলে সেটা থাকছে না পাইপে সীমাবদ্ধ।

৯৭.

দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি চাকুরী তৈরী করা যে কোন দেশের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ বটে। সেখানে ডিজিটাইজেশন মানে সরকার, এন্টারপ্রাইজ আর ভোক্তাকে নিয়ে একটা কান্টেকটেড ডিজিটাল সার্ভিস যা দেশকে নিতে পারে নতুন মাত্রায়। ডিজিটাইজেশনে মানুষের প্রত্যেক্ষ ইন্টারেকশন বিভিন্ন সরকারী সার্ভিস ডেলিভারী প্লাটফর্মে যুক্ত হতে পারার ধারনাটাই চলছে এই মুহুর্তে। অনেক দেশের অর্থনীতি নোজডাইভ দেবার কারণে বিভিন্ন নীতিনির্ধারনী অবস্থানে বসা মানুষগুলোর মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। আমারটা পড়ছে কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব আপনার। এই ডিজিটাইজেশনের সুফল ঘরে নেয়ার জন্য বুদ্ধিমান দেশগুলো এই স্লোডাউনের সময়েও বিশ্বের অর্থনীতিতে একশো তিরানব্বই বিলিয়ন ডলার যোগ করেছে এই দুই হাজার এগারোতেই। আবার এর পাশাপাশি ছয় মিলিয়ন চাকুরীও তৈরী করেছে সেই একই বছরে। বলা যায়, এই ডিজিটাইজেশনের প্রভাব দেশগুলোর মধ্যে অথবা এক সেক্টর থেকে আরেক সেক্টরে সমান না হলেও এর একটা বেঞ্চমার্ক কিন্তু তৈরী হয়ে গেছে অনেক আগেই। আই লাভ বেঞ্চমার্কস!

৯৮.

উন্নত বিশ্বগুলো ডিজিটাইশনে সুযোগ নিয়ে পঁচিশ শতাংশের একটা অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির ফ্যাক্টর যোগ করলেও ইর্মাজিং মার্কেটে নতুন করে চাকুরী তৈরী এবং তার পাশাপাশি এ সর্ম্পকীয় যে প্রবৃদ্ধি সেটা স্বভাবতই কম। এখানে দেখছি – ইমার্জিং ইকোনমিতে এই ডিজিটাইজেশন সরাসরি উন্নত বিশ্বের মত তত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না দেখাতে পারলেও জব তৈরী আর ছোট খাটো লো-এন্ড কাজ বাগিয়ে তাদের প্রবৃদ্ধি অন্যদিক দিয়ে বেশী। আবার উন্নত বিশ্বে এই ডিজিটাইজেশনের প্রবৃদ্ধি ডোমেস্টিক মার্কেটে হওয়ার ফলে তাদের দেশের ভিতরে এক ব্যবসা হতে অন্য ব্যবসায় ঘোরাঘুরি করে। টাকাও তাই। সেখানে এই ডিজিটাইজেশনের প্রত্যক্ষ ফলাফল তার বিজনেস প্রসেস উন্নত হওয়ার কারণে অনেক কম চাকুরী তৈরী করেও তাদের সরকারের সার্ভিস ডেলিভারীতে অনেক দক্ষতা এনে দিচ্ছে। এর সরাসরি ট্রান্সলেশন হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি – দেশেই।

৯৯.

এমনও হয়েছে যে, প্রচুর জব কাট হয়েছে ঠিকই – তবে প্রবৃদ্ধি আবার সেই পঁচিশ শতাংশের ফ্যাক্টরকেই ছুয়েছে। এদিকে আমাদের দেশের মত ইর্মাজিং মার্কেটে ঐসব দেশের লো-এন্ড আর লো-টেক জব মানে কল সেন্টার বা কন্ট্যাক্ট সেন্টারের মত কাজগুলো বাইরে পাঠিয়ে দেয়াতে ইন্টারনাল প্রসেসের প্রবৃদ্ধি সেভাবে না হলেও প্রচুর চাকুরী তৈরী হয়েছে। তার মানে বোঝা যাচ্ছে এক দেশের ডিজিটাইজেশনের প্রভাব অন্য দেশের চাকুরীর বাজার সম্প্রসারণ করতে সাহায্য করছে। আমরাও নিচ্ছি সেটার সুযোগ। ভারত আগে নিয়েছে, এখন ভারতও ছেড়ে দিচ্ছে সেই লো-এন্ড জবগুলো আমাদের কাছে। ওরা নিজেদের ভেতরের প্রসেস উন্নত করে প্রবৃদ্ধির সোনার কাঠি ছুইছে তারা।

বিএমডাব্লিউ এক মিলিয়ন কম্বিনেশন মিলিয়ে গাড়ি ডেলিভারি দিতে পারলে আমি পারবো না কেন? লাখের উপর ইংরেজি ব্রীফ, স্পীচ, চিঠি আর ইমেইল লিখেছি আমি – এ পর্যন্ত! তিনশো টাকা *, যেকোনো চিঠি লিখে দিবো বাসায় বসে। দাঁতভাঙ্গা ইংরেজি নয়, সাবলীল ভাষায়। টাইমলাইন – আটচল্লিশ ঘন্টা। উত্তর না দিলে পয়সা ফেরৎ!

কবে আমরা ছুইবো উৎকর্ষতার সোনার কাঠি? আমরা জানি কিভাবে ছুইতে হবে সেটা, খাকুন সাথে।

* একটা বিজনেস কেস – উদাহরণ হিসেবেই নিন। ভালোবাসার চিঠি লেখাতে দুর্বল এখনো। 

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: