Feeds:
Posts
Comments

Archive for May, 2014

It is sometimes implied that the aim of regulation in the radio industry should be to minimize interference. But this would be wrong. The aim should be to maximize output. All property rights interfere with the ability of people to use resources. What has to be insured is that the gain from interference more than offsets the harm it produces. There is no reason to suppose that the optimum situation is one in which there is no interference.

– Ronald Coase, “The Federal Communications Commission,” Journal of Law and Economics, Vol. 2 (1959)

৪৯৩.

ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে আর গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা করতে সরকার তৈরী করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ এজেন্সী। বাজারে প্রতিযোগিতাকে চাঙ্গা করার জন্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন নিয়ে আসে অনেকগুলো বিধিমালা। প্রথম ধাক্কায় প্রাইভেটাইজেশনের প্রসিডিউরে ফেলে দেয় সরকারী টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে। ব্যবস্যাবান্ধব পরিবেশ আনার জন্য বুদ্ধিমান ‘এনলাইটেনড’ দেশগুলো তাদের ওই বড় বড় কোম্পানীগুলোকে এমন ভাবে টুকরা টুকরা করে দিল যাতে ছোট ছোট নতুন প্রাইভেট কোম্পানীগুলো প্রতিযোগিতায় তাদের সাথে পেরে উঠতে পারে। পরে কিছু পয়সাপাতি হলে সরকারী কোম্পানিকে কিনতে পারে তারা। ‘মার্জার আর একুইজিশন’ নামের গল্পগুলো শিখলাম ওদের কাছ থেকে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের এটিএন্ডটির কথাই ধরুন না। আমাদের বিটিটিবির মতো একটা সরকারী কোম্পানি ছিলো ওটা। ও এত বড় যে ছোট ছোট প্রাইভেট কোম্পানি পাত্তাই পাচ্ছিলো না ওর কাছে। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করে দিলো ওদের বিরুদ্ধে।

৪৯৪.

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, লোকাল আর লঙ-ডিসটেন্স কলের মধ্যে কিছুটা দক্ষতা আনার জন্যই এ ব্যবস্থা। কলের দাম কেমন হবে সেটা নিয়েও চলছিলো সমস্যা। দক্ষতার সাথে কোম্পানিটা চলছে কিনা সেটাও ছিলো ভাববার বিষয়। আর যার হোক টাকাতো যাচ্ছে সরকারের। জনগনের টাকায় চলছে কোম্পানিগুলো। যতই কোম্পানি হোক সরকারের, মাফ নেই অদক্ষতার। বিশালকার এটিএন্ডটিকেও ভেঙ্গে ফেলা হলো আট ভাগে। উনিশশো বিরাশির ঘটনা। একটা লঙ-ডিসটেন্স কোম্পানি, আমাদের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ)র মতো – আর তার সাথে সাত সাতটা লোকাল ফোন কোম্পানি। ছোট হওয়াতে খরচপাতি স্বচ্ছ হয়ে এলো অনেকখানি। বন্ধ হয়ে গেলো ক্রস-সাবসিডাইজেশন। ব্যবস্যা কর, ভালো কথা। আলাদা আলাদা লাইসেন্স নাও অন্যদের মতো। অন্যায় আবদার করো না সরকারের কাছে। অন্য একটা বেসরকারী কোম্পানি আর তোমার মধ্যে পার্থক্য নেই কোন।

৪৯৫.

গুগল করে দেখতে পারেন ‘মা বেল’ আর ‘বেবি বেল’গুলো নিয়ে। হাজারো গল্প। এর পরেও সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে নতুন কোম্পানীগুলোর আন্তঃসংযোগ পাওয়া খুবই দূরহ ছিল। মানে, একজন আরেকজনের কল নিতে চাইতো না। ওই সময়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বড় কাজ ছিল বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করা। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে যেয়ে সবচেয়ে প্রথমে রাশ টানলো সরকারী ‘লোকাল বেবি বেল’ কোম্পানীগুলোর। প্রতিযোগীতামূলক ব্যবস্থার বিভিন্ন ইনডিকেটর থেকে তারা অনেকগুলো ‘এন্টি-ট্রাস্ট’ নীতিমালা তৈরি করলো যা ছোট ছোট কোম্পানীকে তাদের প্রয়োজন মত সার্ভিস দেবার ব্যাপারে অনেক সুবিধা করে দিলো। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বেল সিস্টেম্সকে ছোট ছোট টুকরো করার ফলে অন্যান্য ছোট ছোট কোম্পানীগুলো কাজ করার সুযোগ পেলো। পাশাপাশি। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নতুন কোম্পানীগুলো বেল্ সিস্টেমসের ইনফ্রাকটাকচার ব্যবহার করার সুযোগ নিলো সুলভমূল্যে। আন্ত:সংযোগ না দিয়ে যাবে কোথায় সরকারী কোম্পানি? গুগল করুন ‘ন্যাচারাল মনোপলি’ আর ‘আনবান্ডলিং।’

৪৯৬.

আচ্ছা, দেশটা কার? জনগনের। গ্রাহকস্বার্থ দেখবে কে? ‘জনগনের মনোনীত রেগুলেটরি এজেন্সি।’ আপনার জবাব। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাইটে যাই মাঝে মধ্যে। ধারণা নিতে। ‘প্রটেক্টিং আমেরিকা’স কনজিউমারস’ ট্যাগলাইন নিয়ে চলছে শত বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটা। অস্ট্রেলিয়ার কম্পিটিশন আর কনজিউমার কমিশনের সাইটের গেলে মাথা খারাপ হবে আপনার। কি নেই ওখানে? প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে – তুমি কি জানো তোমার কনজিউমার রাইট?

জনগনের ক্ষমতায়ন করে কিন্তু সরকারই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Vigilant and effective antitrust enforcement today is preferable to the heavy hand of government regulation of the Internet tomorrow.

– Orrin Hatch

৪৯০.

মনে আছে মাইক্রোসফট আর অন্য ব্রাউজার কোম্পানিগুলোর আইনি যুদ্ধের কথা? অপারেটিং সিস্টেম বানায় মাইক্রোসফট। সাথে দিচ্ছিলো তাদের নিজস্ব ব্রাউজার। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। সমস্যা কি? দিচ্ছিলো তো ফ্রি! লাভ তো জনগনের। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করলো মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে। স্বত:প্রণোদিত হয়েই। মনোপলিস্টিক অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে সে। গ্রাহকদের বাধ্য করছে নিজের জিনিসে আটকে রাখতে। কোম্পানিগুলো যারা শুধু ব্রাউজার বানায় – কি হবে তাদের? বিশাল আইনি যুদ্ধ চললো বছর খানিক ধরে। জাজমেন্ট এলো – ভেঙ্গে ফেল মাইক্রোসফটকে। অপারেটিং সিস্টেম বানাবে এক কোম্পানি। ব্রাউজারের মতো অন্য সফটওয়্যার বানাবে আরেকটা। কোর্টে ফেরৎ গেলো মাইক্রোসফট। বিশাল আন্ডারটেকিং দিতে হলো তাকে। যতোই বড় হোক না কেন, অন্যের ব্যবস্যা নষ্ট করতে পারে না সে। এটা তো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নেই আর!

৪৯১.

ব্যাপারটা কিছুটা এমন। জুতার কোম্পানি আমার। আবার মোজাও বানাই। বললাম – জুতা কিনলে আমার মোজা ফ্রি। হরহামেশাই হচ্ছে তো। কি সমস্যা, বলুন তো? সমস্যা অন্য জায়গায়। ভেবেছেন কি অন্যান্য জুতা বা মোজার কোম্পানিগুলোর সমস্যার কথা? সব জুতার দোকান তো বানায় না মোজা। বা মোজার কোম্পানি জুতা? পয়সা আছে বলে পেটে লাথি মারতে পারেন না আরেকটা কোম্পানির। ব্যবস্যা করতে মানা করছে না কেউ। খুলুন নতুন কোম্পানি। মেনে চলুন ‘একাউন্টিং সেপারেশন’ নীতিমালা। একটার লাভ নিয়ে ঢোকানো যাবে না আরেকটাতে। তারপর বানান মোজা। কিচ্ছু বলবে না কেউ।

৪৯২.

সরকারের কোম্পানীগুলো এধরনের কিছু বাড়তি সুবিধা নেয় তাদের সেবার ওপরে। বিশেষ করে তাদের প্রতিযোগীদের থেকে। বড় কোম্পানী হওয়াতে একাই অনেক সেবা দেবার কারণে প্রতিটা জিনিসের সন্মিলিত খরচ পড়ে অন্যের চেয়ে অনেক কম। এটাকে বলা হয় ক্রস-সাবসিডাইজেশন। যে কোম্পানি ব্যবস্যা করে চালের, সেতো পারবে না ওই কোম্পানির সাথে যে একাধারে ব্যবস্যা করছে চাল, ডাল, আটা আর চিনির। এখানে রেগুলেটরকে দেখতে হয় কোম্পানিটা তার উত্পাদন খরচ থেকে কমে বিক্রি করছে কিনা। এখানে সরকারী কোম্পানীগুলোই যে মনোপলিস্টিক পরিবেশ তৈরি করে সেটাও সত্য বলা যাবে না। অনেক সময় এক কোম্পানীর মার্কেট শেয়ার বাকী সব কোম্পানীর সম্মিলিত মার্কেট শেয়ার যোগফলের বেশি হলে সেই বেসরকারী কোম্পানীটাও তৈরি করে একটি মনোপলিস্টিক পরিবেশ। ফলে আগের মতো ওই বড় কোম্পানীর প্রোডাকশন কস্ট ছোট কোম্পানীগুলোর থেকে অনেক কম হওয়ায় ওই প্রোডাক্ট বাজারে একটি অসম প্রতিযোগীতা তৈরী করে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

But let me tell you what happens when regulations go too far, when they seem to exist only for the purpose of justifying the existence of a regulator. It kills the people trying to start a business.

– Marco Rubio

৪৮৭.

‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ জিনিসটা কি? যে ইনফ্রাস্ট্রাকচারটার কোনো বিকল্প নেই। সেটা প্রাইভেট সেক্টরেও নেই। অনেক দেশের রেগুলেটরি ভাষায় এটার নাম ‘বটলনেক’ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। মানে ‘গলাচিপা’ টেলিযোগাযোগ কাঠামো। আপনি সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে ওটার বিকল্প পাচ্ছেন না সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে। যেমন, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। অথবা, বিটিসিএলের ঢাকা থেকে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক। ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন সরকারীভাবে আছে ওই একটাই। নেই বেসরকারী ল্যান্ডিং স্টেশন। একারণে এটা ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার। আর সেকারণে এগুলোর দাম ধরা হয় কস্ট বেসড। লাভ বা ক্ষতির বিষয় নয়, ওই প্রোডাক্টটা তৈরী করতে যা খরচ পড়েছে সেটাই নিতে হবে ওর থেকে সার্ভিস নেয়া কোম্পানিগুলো থেকে। মুনাফা নয়। কারণ এটার বিকল্প নেই কোন। এখানের উদাহরণে আসবে আইএসপিগুলো।

৪৮৮.

অনেক দেশে সরকার ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার খুলে করে দেয় প্রথমে। বিকল্প তৈরির স্বার্থে। প্রতিযোগিতাই নামিয়ে আনবে দাম। সরকারী কোম্পানিগুলো লাভ ক্ষতির হিসেব অতটা দক্ষতার সাথে করতে পারে না বলে ওখানে চালানো হয় ‘ডিউ-ডিলিজেন্স’ টুল। মানে আক্ষরিক অর্থে ওর ব্যালান্স শিট আর কি কি আছে তা সরেজমিনে দেখে নির্ধারণ করা হয় কোম্পানিগুলোর মূল্যমান। ব্যবসার ইনভেস্টমেন্টের দিকে না তাকিয়ে একটা ‘ইনক্রিমেন্টাল ফরওয়ার্ড লুকিং কস্ট’ ধরে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করে রেগুলেটর। আমাদের মতো দেশগুলোতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম এখনো কমানো হয় রাজনৈতিকভাবে। তার মানে এই নয় যে ‘কস্ট মডেলিং’ সম্ভব হচ্ছে না বলে এই পথ।

৪৮৯.

অনেক চেস্টা চরিত্র করে সাবমেরিন ক্যাবলের বিকল্প হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল লাইসেন্সটা ড্রাফট শুরু করেছিলাম। নীতিগতভাবে আলাদা সাবমেরিন ক্যাবল আর টেরেস্ট্রিয়াল লাইসেন্সের পক্ষপাতী নই আমি। পানি না ডাঙ্গা দিয়ে যাবে ক্যাবল – সেটা নির্ধারণ করবে না লাইসেন্সের প্রকৃতি। তবে প্রাইভেট সেক্টরে সাবমেরিন না আসায় বিকল্প তৈরীর একটা চেষ্টা। ফলাফল, ভয়াবহ! এক বছরেই দাম কমিয়ে নিয়ে এসেছে অর্ধেকে। সাবমেরিন ক্যাবল যা দেয়, তারা দেয় অর্ধেক রেটে। বেসরকারী কোম্পানিগুলো কস্ট মডেলিংয়ের ডাটা দিলেও সরকারী কোম্পানি থেকে পাওয়া দুস্কর। একতরফা দোষ দেয়া যাবে না তাদের। এটা আমাদের কালচারাল ইস্যু। দক্ষতার দাম দিতে শুরু করিনি আমরা। এখনো।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The problem is that agencies sometimes lose sight of common sense as they create regulations.

– Fred Thompson

৪৮৩.

ফিরে আসি গ্লোবাল সেটিংয়ে। ওই পঞ্চাশ ষাট সালের টাইমলাইনে। সরকারী টেলিযোগাযোগ কোম্পানীগুলোর পেছনে ইনভেস্টমেন্ট আকারে কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে দেশ। অনেক আগে থেকেই। সেখানে প্রাইভেট কোম্পানীগুলো শুরু করলো মাত্র। না পেরে হাত পা ছেড়ে দিলো ছোট ছোট কোম্পানিগুলো। আগে থেকে বিভিন্ন জায়গায় সরকারী কোম্পানীগুলোর নেটওয়ার্ক বিছানো ছিলো বলে ওখানে এক্সেস পাচ্ছিলো না নতুন কোম্পানীগুলো। আবার এদিকে আগে থেকে তৈরী করা সরকারী কোম্পানীগুলোর বড় বড় ইনফ্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো নতুন কোম্পানীগুলোর জন্য। ওই বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট যেটা আজ ওই কোম্পানির জন্য সাংক-কস্ট (খরচের খাতায় চলে গেলে যা হয় আর কি) সেটাই ওই বাজারে দাঁড়িয়ে গেল একেকটা মার্কেট পাওয়ার (মাতবর ধরনের) হিসেবে। ‘মার্কেট পাওয়ার’ হচ্ছে গিয়ে ওই কোম্পানি যার সামান্য খামখেয়ালীপনা পাততাড়ি গুটিয়ে দিতে পারে অন্য কোম্পানিগুলোর।

৪৮৪.

ধরা যাক, পঞ্চাশ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে একটা কোম্পানি। স্বভাবতই তার প্রতি মিনিট কলের দাম কম হবে ইকোনমি অফ স্কেলের কারণে। আর যার বাজার নিয়ন্ত্রণ দশ শতাংশে, তার প্রোডাকশন কস্ট তো বেশি হবে আগের কোম্পানি থেকে। এখন আগের কোম্পানি যদি চালাকি করে তার খরচের থেকে নিচে দাম নামালে ছোট কোম্পানিগুলো চিতপটাং। আবার বড় কোম্পানিটা যদি ছোট কোম্পানিটার কল নিতে গড়িমসি বা আন্তসংযোগের দাম ইচ্ছেমত বাড়িয়ে দেয় তাহলেও ওই কোম্পানি শেষ। পাশাপাশি সেই বিশাল সরকারী কোম্পানীগুলোর সাথে নতুন কোম্পানীগুলোর না পারার পেছনে কাজ করে অনেকগুলো জিনিস।

৪৮৫.

সরকারী কোম্পানীগুলো এতদিন একটা মনোপলিস্টিক পরিবেশে কাজ করার ফলে অন্যকে স্পেস দেবার ব্যাপারটা চিন্তাই করতো না। টেলিযোগাযোগ উন্মুক্তকরণ ধারনাটা নিয়ে এসেছে দেশের অর্থনীতিবিদরা। তাদের ধারণাগুলো ঠিক মতো আসেনি নিচের দিকে। ছোট বা নতুন কোম্পানীদের কোন টার্মস অফ রেফারেন্সে আন্ত:সংযোগ (কল আনা নেয়া) আর ফ্যাসিলিটি শেয়ার করতে হবে সেটার ব্যাপারে ছিল অজ্ঞ। আর জানবেই বা কিভাবে? ওর সময়ে তো ছিলো না অন্য কোন কোম্পানি। রেগুলেটরের অভাবে নিজেই প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতো সরকারকে। একটা ‘সুডো’ রেগুলেটর হিসেবে কাজ করতে চাইতো মাঝে মধ্যে। তবে উন্নত দেশগুলোর বিচার বিভাগ এন্টি-ট্রাস্ট মামলায় আটকে দিতো ওদেরকে। যাই করুক, বাজার নষ্ট করতে পারে না সে।

৪৮৬.

তবে কথা একটাই। মনোপলিস্টিক পরিবেশে ওই সরকারী টেলিকম অপারেটর একাই মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করতো। তাদের প্রোডাক্টের কাছাকাছি ছিল না কোন বিকল্প। এই মনোপলিস্টিক পরিবেশে যে ঝামেলাটা হয় তার একটা আইনগত সংঙ্গা রয়েছে। আগেও আলাপ করেছি এটা নিয়ে। ‘ব্যারিয়ার্স টু এন্ট্রি’র বেশ কয়েকটা গল্প চালু আছে। আগের গল্পটা থেকে এটার পার্সপেক্টিভ কিছুটা ভিন্ন। এখানে দেখা যায় যে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করতে যেয়ে যেসব ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিসোর্স প্রয়োজন তার সবগুলোই থাকে ওই সরকারী কোম্পানিগুলোর হাতে। মনে আছে সত্তুরের দিকের স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশনের কথা?

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The trouble with government regulation of the market is that it prohibits capitalistic acts between consenting adults.

– Robert Nozick

৪৮০.

আমাদের দেশেও হয়েছে একই কাজ। বেসরকারী আর বেশকিছু বাইরের কোম্পানি প্রবেশাধিকার পেল নব্বইয়ের দিকে। আজকের মোবাইলের যে জয় জয়কার সেটা হয়েছে ওই উন্মুক্তকরণের নীতিমালার কারণে। প্রাইভেটাইজেশন নিয়ে এসেছে দক্ষতা আর কম টাকায় কথা বলার নিশ্চয়তা। এটা ঠিক যে খরচ কমানোর জন্য যথেষ্ট পরিমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরী আর সরকারের রেগুলেটরি জ্ঞান না থাকার কারণে দাম চড়া ছিলো প্রথম দিকে। রেগুলেটরও কাজ করতে পারেনি ঠিকমতো – শুরুর দিকে। বাজার ঠিক মতো চলছে কি না আর তার সাথে নতুন অপারেটরের জন্য ‘ব্যারিয়ার্স টু এন্ট্রি’র মতো বিষয়গুলো আমাদের বাজারে তাদেরকে নিরুত্সাহিত করছে কিনা সেটা দেখার দ্বায়িত্ব সরকারের। ‘ব্যারিয়ার্স টু এন্ট্রি’ মানে নতুন কোন কোম্পানির জন্য দেশের বাজারে ঢুকতে প্রতিযোগীদের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতার দরকার সেটা না পেলে সে নতুন করে ইনভেস্টমেন্টে এগোয় না।

৪৮১.

আমাদের মোবাইল অপারেটরগুলো এ ঝামেলায় পড়েছিলো বটে। ল্যান্ড লাইনে সংযোগ না পাবার কারণে আন্তসংযোগ ছাড়াই চালু করে মোবাইল সার্ভিস। অথচ, নীতিমালা বলেছে সার্ভিসে যাবার তিন মাসের মধ্যে কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে কল আদান প্রদান করার চুক্তি করার কথা। মানে, প্রয়োগ ছিলো না নীতিমালার। সরকারী কোম্পানিকেও বাধ্য করা হয়নি ওসময়ে। ক্ষতি হলো কার? গ্রাহকদের। কিনতে হলো জোড়ায় জোড়ায় ফোন। মাথা কুটলেও কল যেতো না ল্যান্ড নেটওয়ার্কে। হারালো মানুষ তার একটা নাগরিক অধিকার। যেকোন ফোনে কথা বলার অধিকার। লিখেছিলাম এটা নিয়ে প্রথম-আলোতে। সেই দুহাজার পাঁচে। বিটিআরসিতে যাবার দুবছর আগে। কে জানতো আমাকেই যেতে হবে ওখানে? এই আন্ত:সংযোগ নিয়ে কাজ করতে।

৪৮২.

সবচেয়ে বড় এক্সারসাইজটা করতে হয়েছিল এই আন্তসংযোগ রেট নির্ধারণ করতে গিয়ে। সময় লেগেছিলো দুবছর। এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটর কতো পয়সাতে আপনার কলটা পাঠাতে পারবে সেটার একটা কস্ট মডেলিং। ‘ডিউ-ডিলিজেন্সে’র মতো টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের সবচেয়ে কমপ্লেক্স আন্ডারটেকিং। কোম্পানিগুলোর অদক্ষতার কারণে আপনার ফোন বিল বাড়লো কি না সেটাও দেখে এই এক্সারসাইজ। অপারেটরদের লক্ষাধিক ইনপুটের ওপর বের করা হয় একটা কল্পিত অপারেটর। তার কল রেট কতো হওয়া উচিত সেটা আসে এখান থেকে। গ্রাহকস্বার্থের সাথে যায় বলে অনেক দেশের টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এটা না করলেও গ্রাহকস্বার্থ বা প্রতিযোগিতা এজেন্সী করে নিয়মিত। আর তিন বছরের মতো সময় লেগেছিলো এটাকে বের করে আনতে। ফাইনালি!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

I do have a political agenda. It’s to have as few regulations as possible.

– Dan Quayle

৪৭৭.

উনিশশো পঞ্চাশ বা ষাট সালের কথা বলছি। বাজার খুলে দেয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাস্ট্র মাইক্রোওয়েভ লাইসেন্স দিলো কয়েকটা। এমসিআইকে। পরে লঙ ডিসটেন্স ক্যরিয়ার লাইসেন্সও পেল তারা। দিয়েছিলো এফসিসি। টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট মানে বাসার ফোন এডাপটার উন্মুক্ত করা হলো অনেক পরে, উনিশশো সাতাত্তুরের দিকে। মানে যে কেউ সংযোগ নিতে পারবে ওখান থেকে। টেলিফোন লাইন এক, তবে সার্ভিস প্রোভাইডার হতে পারবে আলাদা। গুগল করুন এলএলইউ, মাথা খারাপ করা আইডিয়া। এফসিসি মানেনি। তো হয়েছে কি? কোর্টের রায় গিয়েছিলো বেসরকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষে। টিএন্ডটির লাইন – দাও ল্যান্ড ফোন, কর ফোনের ব্যবস্যা। তবে লাইন লীজ দিতে হবে ন্যায্য দামে। অন্য কোম্পানিগুলোকে।

৪৭৮.

টেলিফোন লাইন দিয়ে নিচের দিকের ফ্রিকোয়েন্সি মানে ৩০০ হার্টজ থেকে ৩.৪ কিলোহার্টজ ব্যবহার হয় ভয়েসের কাজে। ওপরের ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে যতো ধরনের ডিএসএল মানে ডাটা সার্ভিস আছে তা ছেড়ে দাও প্রতিযোগীদের কাছে। ওতে ভয়েসের ব্যবস্যার সমস্যা হয় না কখনো। লাইন একটা হলেও ডাটা সার্ভিস ব্যবহার করছে ওপরের ফ্রিকোয়েন্সি। ফোন আর ডাটা চলে একসাথে। এক ফোন লাইন লীজ নিতে পারে কয়েকটা কোম্পানি। সরকারী অব্যবহৃত রিসোর্সের সর্বোত্তম ব্যবহার। আনবান্ডল কর লোকাল লুপ। মানে ছেড়ে দাও এমডিএফ, আইএসপিদের হাতে। ন্যায্য দামে। পরের দিকে প্রায় সব রেগুলেটর বাধ্য করেছে তার সরকারী কোম্পানিকে। আমাদের হয়নি এখনো। এই এমসিআই কিন্তু এখন বিশাল গ্লোবাল প্লেয়ার। কি নেই তাদের? পৃথিবী জুড়ে সাবমেরিন ক্যাবল? নাম কিন্তু মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনস ইনকর্পোরেটেড!

৪৭৯.

আজকের মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের এই চরম উৎকর্ষের পেছনে কাজ করেছে ওদের সুদূরপ্রসারী টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ১৯৯৬। এটা একটা মাইলফলক বটে। আমার তৈরী বেশ কিছু নীতিমালাগুলোর মধ্যে এর প্রভাব অনস্বীকার্য। জ্ঞান, ইন্টারনেট, প্রাইভেটাইজেশন আর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছড়িয়ে দেবার জন্য এই নীতিমালাটা সব দেশের রেগুলেটরদের পড়া উচিত একবার। টেলিযোগাযোগ, মিডিয়া, ইন্টারনেট আর ব্রডকাস্টিং – সব কিছুই আছে এখানে। স্থানীয় এক্সচেঞ্জগুলোতে ভিডিও ডিস্ট্রিবিউশন মানে ক্যাবল টিভি ব্যবস্যার সুবিধা করে দেয়ায় লাভ হলো সবারই। এক রিসোর্সের ওপর দিয়ে ভাগাভাগি করে ব্যবস্যা শুরু করলো কোম্পানিগুলো। এই নীতিমালা প্রাইভেটাইজেশনের স্বার্থে রেগুলেটরের অনেক ক্ষমতা কেড়ে নিলেও তৈরী করলো প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশ। ডি-রেগুলেট করে দিলো অনেক কিছুই। আর সেকারণে গুগল, ইউটিউব, ফেইসবুক আর হোয়াট’স-অ্যাপের মতো কোম্পানি বাসা বাঁধে এই মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে। বলুনতো – কাদের আমলে তৈরী হয়েছিল এই নীতিমালাটা? ঠিক বলেছেন – ক্লিনটন আর আল গোরের সময়ে। মাথাঅলা লোক ছিলেন দুজনই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Virtue is more to be feared than vice, because its excesses are not subject to the regulation of conscience.

– Adam Smith

৪৭৩.

টাকা কই? বাইরের টাকা আনতেও উন্মুক্ত করতে হবে টেলিযোগাযোগ খাত। পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে টেলিযোগাযোগ নীতিমালাতে। অনেক টাকা আয় ব্যয় হবে এই খাতে। ডাব্লিউটিও’র রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস নিয়ে ‘টেলিকমিউনিকেশন রেফারেন্স পেপার’টা পড়লে পরিস্কার হবে আরো বেশি। দেশগুলোর প্রাইভেট ক্যাপিটাল যাতে অন্যদেশে ঢুকতে পারে সেজন্য এই চুক্তি। শুধুমাত্র দেশীয় কোম্পানি নয় – টেকনোলজি ট্রান্সফার হবে দেশগুলোর ভেতর। অভাবনীয় সার্ভিস নিয়ে একে ঢুকবে অন্যদেশে। কোন দেশ কবে কোন সেক্টরে বাইরের ইনভেস্টমেন্ট ঢুকতে দেবে সেটারও একটা টাইমলাইন দেয়া আছে ওখানে।

৪৭৪.

ফলে টেলিনর বা গুগলের মতো কোম্পানি বিভিন্ন দেশে তাদের ইনোভেশনগুলো নিয়ে আসছে অন্য মার্কেটে। ইনোভেশন হয়েছে হয়তোবা এক মার্কেটে, প্রয়োগ করছে অন্য জায়গায়। ভলিউমে খেলছে তারা। খরচ পড়ছে কম। এই কোম্পানিগুলোর স্ট্রাটেজি আর অপারেশন্স একদম আলাদা থাকার কারণে উঠছে ওপরে। দেখেছেন কি ‘সলভ ফর এক্স’ সাইটটা? ফিরে আসি ডাব্লিউটিও’র পেপারে। আরো অনেক সুন্দর গল্প আছে ওই চুক্তিনামায়। এর সাথে গ্যাটস মানে জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্রেডস ইন সার্ভিসেসএর ক্রস-বর্ডার সার্ভিস সেটেলমেন্ট বড় করে থাকবে সামনে। করুন গুগল ‘ডাব্লিউটিও টেলিকম রেফারেন্স পেপার’, খারাপ হয়ে যাবে মাথা!

৪৭৫.

আর আছে ইন্টারনেট! কোনো দেশ এটাকে আনতে পারেনি বাগে। মানে এই প্ল্যাটফর্মকে। ইনোভেশনের চূড়ান্ত মাত্রা বলা যায় এটাকে। মানুষের যা ক্ষমতায়ন হয়েছে তার বড় একটা কৃতিত্ব পাবে এই ইন্টারনেট। সেটা হয়েছে অনেক কিছুর ডি-রেগুলেশন মানে উন্মুক্তকরনের ফলে। সরকারগুলো ইন্টারনেটের নীতিমালা নিয়ে অনেক গবেষণা করলেও এর টুঁটি চেপে ধরেনি অতটা। কোটি উদ্যোক্তা আজ বেঁচে আছেন এই ইন্টারনেটের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে। ডাটা ট্রাফিক যখন ছাড়িয়ে গেলো ভয়েসকে, প্রাইভেটাইজেশনই ছিলো এর এক্সিট রুট। দেশের অর্থনীতি চালায় কোম্পানিগুলো, আর নীতিমালাহীন ইন্টারনেট এর বিশাল পৃষ্টপোষক। ইন্টারনেটের বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর দেখভাল ছেড়ে দিয়েছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর।

৪৭৬.

তবে শুরুটা ছিলো অনেক ঝামেলার। নাহলে তো প্রয়োজন হতো না এই রেগুলেশনের। দরকার হতো না টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে ঢুকতে গিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল সরকারের নিয়ন্ত্রিত টেলিযোগোযোগ খাত থেকে। এই প্রাইভেট সেক্টর। গ্রাহক তো সব সরকারের কাছে। শুরুতে টেলিযোগাযোগ সার্ভিস মানে ছিলো ল্যান্ডলাইন। আর বিটিটিবির লাইনই ছিলো মানুষের কাছে। প্রাইভেট সেক্টর যতোই আসুক না কেন আবার নতুন লাইন বসাবে কে? আর বসালেই কি নেবে মানুষ? দেখা গেলো প্রাইভেট সেক্টর পেরে উঠছে না সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে। আর পারবেই বা কেন? স্বল্প পুজি নিয়ে সরকারী কোম্পানির সাথে পারছিলো না প্রথম দিকে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

If you have ten thousand regulations, you destroy all respect for the law.

– Winston Churchill

৪৭০.

পঞ্চাশ দিকে বিভিন্ন দেশগুলোতে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস দিতো সরকার নিজেই। সার্ভিস মানে খালি ল্যান্ড টেলিফোন। মানে টিএন্ডটি’র ফোন। মনে নেই আপনাদের? তাও চেয়ে পেতো না মানুষ। ডিমান্ড নোট লালচে হয়ে যেতো লাইন লাগার আগেই। ফ্যাক্সতো আসলো অনেক পরে। সেটা পেতেও আরেক গল্প। মানে ফ্যাক্স লাগাতে দিতে হবে দশ হাজার টাকা বেশি। আপনার ল্যান্ডলাইন কাজ করে তিনশো হার্টজ থেকে ৩.৪ কিলোহার্টজ ভয়েস ফ্রিকোয়েন্সিতে। এখন এই লাইন দিয়ে কথা পাঠাবেন না ডাটা বা ফ্যাক্স পাঠাবেন সেটাতে হাত দেয়া ঠিক নয় প্রোভাইডারের। আপনার ডিভাইসের ক্যাপাবিলিটি অনুযায়ী ওই তিনশো হার্টজ থেকে ৩.৪ কিলোহার্টজ ভয়েস ফ্রিকোয়েন্সিতে কি পাঠাবেন সেই স্বাধীনতাটা থাকা উচিত গ্রাহক পর্যায়ে। কারণ, ওটার পয়সা দিয়েছেন আপনি। ধরুন, নিলেন ইন্টারনেট লাইন, এখন সেটা দিয়ে ফেইসবুক ব্রাউজ করলে এক পয়সা আর টুইটারের জন্য চার্জ আলাদা। ভালো লাগবে আপনার?

৪৭১.

শুরুতে অত টাকাও ছিলো না প্রাইভেট সেক্টরে। সত্তর সালের দিকে সরকারগুলো বুঝে গেল টেলিযোগাযোগ বিষয়টা বেশ কমপ্লেক্স। উদ্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র হবে এটা। পাল্টে দিবে দুনিয়া। আঁচ না করতে পারলেও এটা বুঝতে পারছিলো যে দুনিয়া চালাবে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। দক্ষতা ওখানে। নিজেদের দক্ষতা আনতে ছোট করে নিয়ে আসবে সরকারের আয়তন। আর সরকার নিজে থেকে ব্যবস্যা পারে না ভালো। যাই করে – গচ্চা দেয় টাকা। নিজের টাকা নয়, জনগনের টাকা। সরকারকে হতে হবে ভালো দেশ চালানোয়, ব্যবস্যা নয়। পরিবেশ করে দেবে সরকার, উদ্ভাবনা আসবে এমনিতেই। তাই ব্যবস্যাগুলো ছেড়ে দেয়া শুরু করলো ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর কাছে। সেখানেই আসল দক্ষতা। কাস্টমার কেয়ার ধারনাটা যাবে অন্য মার্গে। গ্রাহক কাল কি চাইবে সেটা আজ না ধরতে পারলে টিকবে না কোম্পানি। সত্যি কথা বলতে গ্রাহকের মন পড়তে শুরু করেছে অনেক কোম্পানি। না হলে আমি কি পছন্দ করি আর না করি সেটা বলতে পারছে কি করে – গুগল? মনে আছে টিয়ে পাখির গল্পটা?

৪৭২.

অনেককিছু করার আন্দাজ নিয়ে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে জড়ো হওয়া শুরু করলো প্রাইভেট কোম্পানীগুলো। উদ্ভাবনা এখানে অনেক বেশি। এতদিন টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস সরকারের পক্ষ থেকে দেয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে এই সার্ভিস কোয়ালিটির ব্যাপারে জবাবদিহিতা ছিলো না অতটা। আর কাস্টমার কেয়ার? সে আর বলতে! টেলিযোগাযোগ খাতটাকে উন্মুক্ত না করলে নতুন সার্ভিস আসবে কোথা থেকে? বলুনতো কোন সরকার কি নিজে থেকে করতো ইউটিউব? বা এই ফেইসবুক? টাকায় টাকা আনে। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি জানে কোথায় টাকা ফেলতে হয়। কারণ এটা ওর টাকা, তুলতে হবে তাকেই। উদ্ভাবন না করলে মরবে সে। হাজারো কোম্পানি, প্রোডাক্টও এক। ডিফারেন্সিয়েশন হবে আফটার সেলস সার্ভিস আর কাস্টমার কেয়ারে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Regulation needs to catch up with innovation.

– Henry Paulson

৪৬৫.

ফিরে যাই পুরনো গল্পে। রেগুলেটর এলো কবে থেকে? তার আগে একটু ইতিহাস ঘাঁটি, কি বলেন? আর রেগুলেশনের গল্পটাই বা কি? আদৌ এর দরকার ছিলো কি?

টেলিকম রেগুলেটর হিসেবে সিঙ্গাপুরের নাম বিশ্বজোড়া। আসলে গভার্নেসেই সেরা। আর না হয়ে যাবে কোথায়? ছোট্ট দেশ, মানুষ কম নয়। পানিটাও কিনে খেতে হয় পাশের দেশ থেকে। বুঝে গেছে তারা, জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ না বানালে বাঁচবে না তারা। চলতে হবে জ্ঞান মানে মাথা বেচেঁ। দক্ষ রেগুলেটর না হলে নতুন নতুন সার্ভিস আর ইন্টারনেট ভিত্তিক সমাজ বানাবে কিভাবে? ব্যবস্যায়ীরা বলতে পারবেন ভালো – ছোট্ট দেশে বিজনেস কেস বানানো কষ্টকর বটে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরী করা বেশ সমস্যা ছোট্ট দেশ হবার কারণে। কয়টা অপারেটর বাঁচবে ওই ছোট্ট বাজারে?

৪৬৬.

তো রেগুলেটর এমন নীতিমালা বানালেন যে মানুষের প্রয়োজন পড়লো হাজারো গিগাবাইটের ব্যান্ডউইডথের।‘ডিমান্ড সাইডের রেগুলেশন’ খুলে দিলো অবারিত ‘সাপ্লাই সাইডের’ নীতিমালা। খুলে দাও সবকিছু। হুমড়ি খেয়ে পড়বে সাবমেরিন আর টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল কোম্পানিগুলো। হলোও তাই। দুহাজার দশেই পনেরোটা ক্যাবল সিস্টেমস যুক্ত হলো সিঙ্গাপুরে। হ্যা, সংখ্যা ঠিক আছে কিন্তু! রেগুলেটরের ভাষায় ‘আরআইও’ মানে ‘রেফারেন্স ইন্টার-কানেকশন অফার’ নীতিমালা ব্যান্ডউইডথের দাম আনলো পানির কাছাকাছি। ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনে কনসোর্টিয়ামের সবাই বেচবে প্রতিযোগিতামূলক দামে।

৪৬৭.

দাও প্রবেশাধিকার সবাইকে, ওরাই মারামারি করে নামিয়ে আনবে পানির দামে। ফলে সরকারী সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি দাম না কমিয়ে যাবে কোথায়? সরকারী কোম্পানিকে বাঁচাতে গিয়ে গ্রাহকস্বার্থ যাবে না বলি দেয়া। সরকারী কোম্পানি গচ্চা দেয় টাকা – অদক্ষতার কারণে। ভালো ম্যানেজমেন্ট আবার টেক্কা দিতে পারে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে। সাবমেরিন ক্যাবলের মতো ক্রিটিকাল বা ‘বটলনেক’ রিসোর্সকে চালাতে হবে দক্ষতার সাথে। নীতিমালা ঠিক তো সব ঠিক। ছয়টা ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল কোম্পানি নামিয়ে নিয়ে এসেছে ব্যান্ডউইডথের দাম। খরচের নিচে নিচ্ছে দাম? কস্ট মডেলিং করে দেখুন অদক্ষতাটা কোথায়। অপারেটরের অদক্ষতার ভার যাতে গ্রাহকদের ঘাড়ে না চাপে মানে কস্টিংয়ের থেকে বেশি দাম না দিতে হয় সেটা দেখবে রেগুলেটর। দেখেছি আমিও – ওই অফিসে বসে।

৪৬৮.

ওই দেশের রেগুলেটর এক্সিকিউটিভ লেভেলের একটা ট্রেনিং দিয়েছিলো আমাকে। পাঁচ হাজার ডলারের কোর্স। মাথা ঘুরিয়ে দিলো কোর্সটা। যাই শিখেছি – ভুল শিখেছি এতদিন। করাতে হবে আরো অনেককে। আইটিইউ’র সাথে দেন দরবার করে নিয়ে আসা হলো আরো কোর্স – পরের বছরগুলোতে। বিনামূল্যে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইটিইউ’র ফোকাল পয়েন্ট হওয়ায় সম্পর্ক তৈরী করে আনতে হয়েছে অনেক কিছুই। দেশগুলো সাহায্য করেছে অনেক। ফান্ডিং আর জ্ঞান দিয়ে। ফলে শিখেছি বাড়তি জিনিস। সে এক লাইফ চেঞ্জিং এক্সপেরিয়েন্স!

৪৬৯.

প্রথম ক্লাসেই খেলাম ভিমড়ি। ‘হাউ’য়ের গল্পের ধারে কাছে না গিয়ে শুরু করলো ‘হোয়াই’ দিয়ে। হোয়াই রেগুলেশন? বলে কি বেটা? শিখতে এসেছি ‘হাউ’ রেগুলেশন, কিভাবে রেগুলেট করতে হয়। এখন দেখি অন্য জিনিস। যাই বলি – মিচকি হাসে ওরা।কিভাবে করবে সেটা পরে, আগে বল কেন এটা দরকার? আসলেই দরকার আছে কি না? এভাবে তো ভাবিনি কখনো। দেশগুলো যেখানে ছোট করছে সরকার, সেখানে গাঁটের পয়সা খরচ করে আবার রেগুলেটর কেন? তারপর শুধু টেলিকম রেগুলেটর। ‘কনভার্জ’ নয়।কনভার্জ মানে হচ্ছে টেলিযোগাযোগ, মিডিয়া (প্রিন্ট/ইলেকট্রনিক), আইসিটি, ব্রডকাস্টিং সবকিছুর রেগুলেটর। না হলে হবে না কাজ। এগুলো ইন্টার-ডিপেন্ডেন্ট। চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেশন নিয়ে আছে অনেক গল্প। দেশগুলো এগুচ্ছে ওদিকেই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Any time people create a “black market” to avoid government regulation, they are engaged in, and promoting, free market economics.

Dave Champion

৪৬১.

অনেক দেশে এই ব্যাকবোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার খরচ বিভিন্ন ভাগে দেখানো হলেও এর খরচ নেহায়েত কম নয়। আমার ধারনায় দেশব্যাপী এর ইনভেস্টমেন্ট কখনই আটশো কোটি টাকার নিচে নয়। অথচ, এই টাকা কিছুই নয় যখন এটা ব্যবস্যা বাড়াবে কয়েক হাজার কোটি টাকার। মাল্টিপ্লায়ারের গল্পটা পড়েন নি এখনো? আমার কস্ট মডেলিংয়ের ধারনায় নিয়ে এলাম এই অংক। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে এই টাকা আসবে কোথা থেকে? অন্য দেশগুলো কি করছে এখানে? অস্ট্রেলিয়া তো মরণ কামড় দিয়েছে তাদের এনবিএন নিয়ে। ‘ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক’ মানে এনবিএন করেই ছাড়ছে তারা। নিজের টাকায়। সেটার জন্য তাদের সরকারী কোম্পানি টেলস্ট্রাকে জবাই করে চলছে প্রতিনিয়ত। রেগুলেটরি ভাষায় ‘স্ট্রাকচারাল সেপারেশন’ হয়ে যাচ্ছে এর মধ্যে। মানে সরকারী কোম্পানি টেলস্ট্রা’র হোলসেল আর রিটেল বিজনেস হয়ে যাবে আলাদা। ব্যাকহল কোম্পানি হবে নতুন করে। খুচরা মানে মোবাইলের মতো গ্রাহক লেভেলের ব্যবস্যাও হয়ে যাচ্ছে আলাদা।

৪৬২.

মনে আছে ব্রিটিশ টেলিকমের ওপেনরীচ প্রজেক্টের কথা? ওদের রেগুলেটর ব্রিটিশ টেলিকমের ঘাড়ে ধরে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে বাতলে দিয়েছে বিটি’র ওপর দিয়ে যাবার সহজ রাস্তা। দুহাজার দুয়ের এন্টারপ্রাইজ অ্যাক্টের আওতায় অফকম মানে ব্রিটিশ রেগুলেটর আন্ডারটেকিং নিয়েছিল এই বিটি’র কাছ থেকে। জনস্বার্থেই তো কাজ করবে রেগুলেটর। পাশের দেশ ভারতের মডেলটা একটু ভিন্ন। ধারণাটা পেয়েছিলাম এনালাইসিস ম্যাসন বলে এক কনসাল্টিং ফার্ম থেকে। গল্পটা ‘এসপিভি’ নিয়ে। অনেক ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানিতে ‘স্পেশাল পারপাস ভেহিকল’ বলে একটা গল্প সহজ করে দেয় অনেক বড় বড় আন্ডারটেকিং। দরকার দেশব্যাপী একটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার, যা বানাতেই যাবে বিলিয়ন টাকা – পয়সাটা দেবে কে? অনেক দেশ পয়সাটা দিচ্ছে নিজে। কারণ দরকার সেটা তার জনগনের।

৪৬৩.

গরীব দেশগুলোর জন্য গডসেন্ড হচ্ছে এই ‘এসপিভি’ মডেল। স্টেপ ওয়ান, ব্যাকহলের ওপর ইনফ্রাস্ট্রাকচার কোম্পানি তৈরী করবে সরকার একটা। সরকারের বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে কতো শতাংশ তার স্টেক থাকবে ওই কোম্পানিতে। আলগা মাতবরি নয়। বাকি পয়সাটা ইনজেক্ট করবে অন্য এক্সেস নেটওয়ার্ক কোম্পানিগুলো। দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক দরকার কার কার? আইএসপি, পিএসটিএন, ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস এক্সেস আর মোবাইল কোম্পানিগুলোর। বোর্ডে বসবে সবাই, সরকারসহ। নেটওয়ার্ক হবে একটা। সুবিধা নেবে সবাই। কোটি টাকা বেচে যাবে সবার। তৈরী করতে হচ্ছে না আলাদা আলাদা নেটওয়ার্ক সবার। নিজ নিজ নেটওয়ার্ক তৈরী করার পয়সার সিকি অংশ দিয়ে তৈরী হচ্ছে দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক।

৪৬৪.

এই ‘এসপিভি’তে ম্যানেজমেন্ট একটাই। বোর্ডে বেসরকারী স্টেকহোল্ডার থাকাতে দক্ষ ম্যানেজমেন্ট না এসে যাবে কোথায়? এখন ক্যাপাসিটি অনুযায়ী ভাগ করে নাও কার কতো লাগবে। দুরদুরান্তের স্কুল আর সরকারী অফিসে যুক্ত হবার জন্য সরকারকে আর বসে থাকতে হবে না বিটিসিএল আর বেসরকারী অপারেটরদের ব্যাকহলের ওপর। ভাগাভাগিতে নিজের ক্যাপাসিটিও পেয়ে যাবে সে। সরকারকে করতে হবে ‘ডিমান্ড এগ্রিগেশন’। এটা একটা রেগুলেটরি ভাষা। সরকারের কোথায় কতো ব্যান্ডউইডথ দরকার সেটা আগে থেকে না জানলে কমানো সম্ভব নয় ওর খরচ। পুরোটাই খেলা ভলিউমের। আর সেটা বেসরকারী অপারেটর অথবা বিটিসিএল আগে থেকে না জানলে বিজনেস কেস করবে কে? আর সেকারণে এগুচ্ছে না কিছুই। ডিমান্ড না জেনে সাপ্লাই মডেল তৈরী অসম্ভব বটে। আগে জড়ো করেন সব ডিমান্ড, তারপর দেখেন কাজ হয় কিনা? সব কোম্পানি লাইন দেবে আপনার কাছে – কে দেবে কতো কমে। রেগুলেটরি ভাষায় ‘রিভার্স অকশন’ বলে এ গল্পটাকে।

তো সাত বছর করলেন কি আপনি? সে গল্প আরেকদিন।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: