Feeds:
Posts
Comments

Archive for April, 2015

There’s a tremendous gap between public opinion and public policy.

– Noam Chomsky

৬৬৭.

আচ্ছা, টাকা নিয়ে আসবে কেন আমাদের দেশে? কেন নয় নিজের দেশে? চাকরিক্ষেত্র বাড়তো বরং ওই দেশে। তাহলে তো আইফোন তৈরি হতো খোদ মার্কিন ভূখণ্ডে। কোম্পানীগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা বাড়ানো। তারা তো আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। আর মুনাফা করা তো দোষের নয়। আজ মাইক্রোসফট মুনাফা করতে পেরেছিলো বলেই তৈরি হয়েছে মেলিণ্ডা এণ্ড গেটস ফাউন্ডেশন। ফলে বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে মানুষের ভালো কাজের জন্য। কম টাকা নয়, নভেম্বর দুহাজার চৌদ্দ পর্যন্ত তার টাকা বিলি হয়েছে বিয়াল্লিশ বিলিয়নের বেশি। ফিরে আসি সরকারের কাজে। ওই কোম্পানীগুলোকে দেশে আনতে দৌড়াতে হবে অনেকদুর। একটা দেশকে নিজেকে ‘ইভাল্যুয়েট’ করতে হবে কেন দেশ বা কোম্পানীগুলো আসবে টাকা নিয়ে? তারা কি চায়? আপনি হলে কি চাইতেন? বেশি লাভ, কম সময়ে। ‘ক’ দেশে ইনভেস্ট করলে আপনি কি চাইতেন? সরকারী অফিসে কম ঘুরাঘুরি, লাইসেন্সের নীতিমালাগুলো কতটুকু আপনার দিকে? লাভটা দেশে নিতে পারবেন কিনা? ওই দেশের মানুষগুলো ওই কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা? শ্রমবাজার কেমন সস্তা?

৬৬৮.

আপনি নিজেই করবেন হাজারো প্রশ্ন। কারণ, টাকাটা আপনার। খাটাবেন আপনি। করলেন ইনভেস্ট, এরপর পাল্টে গেল নীতিমালা। আর ইনভেস্ট করবেন আপনি? নীতিমালার ‘প্রেডিক্টিবিলিটি’ নিয়েও কথা হয়েছে আগে। প্রাইভেট সেক্টর ‘ভর্তুকি’ চায়নি কখনো। তারা জানে ব্যবসা করতে হয় কিভাবে। রেগুলেটর আর সরকারকে চায় ‘ফ্যাসিলেটর’ রোলে। বাকিটা করে নেবে তারা। যেখানে ব্যবসা নেই সেখানে সরকারের ‘রেগুলেটরী ব্যবস্থা’ – ধরুন ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস ফান্ড নিয়ে কাজ করতে চায় তারা। দেখা গেছে বাজারে প্রতিযোগিতার বেঞ্চমার্ক ঠিক থাকলে ‘এফিসিয়েণ্ট’ নেটওয়ার্ক তৈরি হয় সবাইকে নিয়ে। ‘প্রতিযোগিতা’ ব্রডব্যান্ড সাপ্লাই সাইডে কমিয়ে নিয়ে আসে দাম, বাড়ায় সার্ভিসের কোয়ালিটি, বৃদ্ধি পায় গ্রাহকসেবা। আর সেকারণে সম্প্রসারণ করে ব্রডব্যান্ড বাজার, অ্যাক্সেস পায় আরো বেশি মানুষ। বেশি গ্রাহক মানে কমে আসে দাম, তৈরি হয় নতুন নতুন ‘ভ্যালু প্রপোজিশন’। এই সাইকেল নিয়ে কথা বলা হয়েছে আগেও।

৬৬৯.

আবার ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে অ্যাক্সেস না পেলে প্রোভাইডাররা বাড়িয়ে দেবে দাম। আর দাম বাড়লে বারোটা বাজবে ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশনে’র। ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে গ্রাহকেরা সার্ভিস পাবে কোথা থেকে? আর নেটওয়ার্ক থাকলেও দাম না কমলে সেটার প্রতি আগ্রহ হারাবে গ্রাহকেরা। আবার সার্ভিস মানুষকে না টানলে নেটওয়ার্ক তৈরিতে আসবে মন্থরগতি। আর সেকারণে সরকারকে আসতে হবে এগিয়ে। ‘সাপ্লাই চেইনে’ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির সাথে সাথে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা, নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রণোদনা আর গ্রাহকসেবার মানদন্ডটা ঠিক রাখলে বাড়বে ব্রডব্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা। পুরো দেশে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার থাকলে ভালো, আর না থাকলে? মানে, আমাদের দেশে যে জনবসতির ঘনত্ব, সব বিজনেস কেস কাজ করবে এখানে। তবে, ব্রডব্যান্ডের দাম হাতের নাগালে না এলে গ্রাহকদের আনা কষ্ট হবে। আর তখন, প্রোভাইডাররাও পিছিয়ে যাবে ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট থেকে। রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে যোগবিয়োগ করতে বসবে তারা। ওখানেই কাজ করতে হবে সরকারকে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

আমি (অবশ্যই) উপদেশ গ্রহণ করার জন্য এ কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি, কে আছে (তোমাদের মাঝে এর থেকে) শিক্ষা গ্রহণ করার?

— আল কোরআন ৫৪:১৭

৭১.

কোরআন থেকে সরে গেছি আমরা। আর সেকারণে আমাদের এই দূরবস্থা। উসমান (রা:) সময়ে আমরা ছিলাম ওপরে। তখন কোরআন ছিলো আমাদের কাছে। আমাদের মধ্যে। ইতিহাস পড়লে বোঝা যায় কোথায় ছিলাম আমরা। আগেও আলাপ করেছি ব্যাপারটা নিয়ে। মনে আছে তো, আপনাদের? যখন পুরো ইউরোপ ছিলো অন্ধকারে, তখন মুসলমানরা ছিলো সব কিছুর শীর্ষে। জ্যোতির্বিদ্যা, অ্যালজেবরা, মেডিসিন – বাকি থাকে কি? আজকের সংখ্যা এসেছে মুসলমানদের হাত হয়ে। যখন কেউ ছুঁতে পারতো না মুসলমানদের, জ্ঞানে – বিজ্ঞানে – সেই মুসলমানদের আজ বেহাল অবস্থা কেন? আজ বড় বড় মুসলিম স্কলাররা আসছেন উন্নত বিশ্ব থেকে। কেন? কোরআন নিয়ে রিসার্চ করছেন তারা। সেটার জন্য ধরতে হবে কোরআনকে। পড়তে হবে নিজের ভাষায়। বুঝতে হবে কি বলতে চেয়েছেন সৃষ্টিকর্তা। আলমারীর ওপর তুলে রাখলে হবে কি?

কোরআনের একজন অনুবাদকের ব্যাখা

কোরআনের একজন অনুবাদকের ব্যাখা

৭২.

কোরআন অজু ছাড়া পড়া যাবে কিনা সে নিয়ে মুসলিম স্কলারদের মধ্যে দুধরনের চিন্তা ভাবনা রয়েছে। তবে, বেশীরভাগ স্কলাররা ওজুকে উত্সাহিত করেছেন। আর আমি বলছি না কোরআনের ব্যপারে। বরং, আলাপ হচ্ছে তার অনুবাদ নিয়ে। কোরআনের আরবী এতোটাই সমৃদ্ধ যে সত্যিকার অনুবাদ সম্ভব নয়। ফলে, অনুবাদ কিন্তু ‘কোরআন’ নয়। কোরআনের ‘অনুবাদ’কে ধরার ব্যপারে ওই সমস্যাটা থাকছে না। পড়ুন এখানে, এখানে আর এখানে। মূল কোরআনকে নিয়েই। আল্লাহ অবশ্যই ভালো জানেন। আর এখন, প্রচুর অ্যাপ এসেছে যেখানে পুরো কোরআন এবং তার অনুবাদ রয়েছে। মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট, ল্যাপটপে পড়ার ব্যপারে কোন সমস্যা নেই। আমার কথা হচ্ছে, হাজারটা বই পড়ছি, কোরআনটা পড়ছি না কেন নিজের ভাষায়? সৃষ্টিকর্তার সাথে আলাপ শুরু হবে তখন থেকে। সময় দিন – অল্প অল্প করে। মরিস বুকাইলি’র মতো ৫০ বত্সর বয়সে আরবী শিখতে বলছি না এ মুহুর্তে। মুসলিম না হয়েও কোরআনকে শুধুমাত্র বোঝার জন্য উনি শিখেছিলেন আরবী।

৭৩.

কি করা যায় এখন? যে ভাষা আপনাকে টানে, সেটাতেই পাবেন কোরআনের অনুবাদ। কয়েকটা অনুবাদ পড়লে আরো ভালো। এখন পকেটবূক হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে এই অনুবাদগুলো। ফলে, পকেটে নিয়ে কোথাও যেতে যেতেও পড়তে পারেন এই বিশ্বসেরা বইটা। মোবাইল ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে পুরো অনুবাদ। ই-বূক রিডার? নেই কোথায়? ওজুর সমস্যা নেই। টাইমলাইন ঠিক করে নিন মনে মনে। তিন মাস থেকে ছয় মাস। তবে, শুরু করতে পারেন সূরা ‘আল-বাক্বারা’ দিয়ে। এক সপ্তাহ, পারবেন না? পকেট বই অথবা মোবাইল ফোনে? পড়লেই বুঝবেন কি ‘মিস’ করেছেন এতোগুলো বছর। সত্যি!

[শেষ]

Read Full Post »

আল্লাহর জমিনে (কখনোই) দম্ভভরে চলো না, কেননা (যতোই অহংকার করো না কেন), তুমি কখনো এ জমিন বিদীর্ণ করতে পারবে না, আর উচ্চতায় কখনো পর্বত সমান হতে পারবে না।

— আল কোরআন ১৭:৩৭

৬৮.

মনে আছে, প্রথমদিকে মদ্যপান হারাম ছিলো না। তবে আল্লাহ বলেছিলেন, যাদের ইমান আছে, তারা মদ্যপ অবস্থায় নামাজ না পড়ে। ততক্ষণ না – যতক্ষণ সে না বোঝে সে কি বলছে নামাজে। মদের সমস্যা একটাই। মদ্যপ অবস্থায় মানুষ জানে না কি বলছে সে। সুখবর, যে মদের ওই সমস্যাটা নেই এখন। মদ্যপানকে বর্জন করার কথা এসেছে পরের দিকে। তবে, রয়ে গেছে বাকি সমস্যাটা। আমরা নামাজে কি বলছি জানি না সেটাই। তাহলে না বুঝেই পড়ছি এতোকাল? আর – অর্থ জেনে পড়লে নামাজে যে ‘কনসেন্ট্রেশন’ আসতো, সৃষ্টিকর্তার সাথে মানসিক যোগসূত্রটা পেতাম আরো ভালো করে। নামাজের বিভিন্ন অংশে আমরা কি বলছি সেটা ঠিকমতো জানলে মনটা উড়ে বেড়াতো না এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টাতে।

৬৯.

মুসলিম কনভার্টদের নিয়ে হাজার গল্প আছে ইন্টারনেটে। ইউটিউবে গিয়ে ‘জার্নি টু ইসলাম’ লিখে সার্চ করলেই বুঝবেন আমি কি বলেছি। ধারনা করুন, একজনকে কতো বড় যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয় যখন সে তার বাবা দাদার ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্মে আসে। বিশাল যুদ্ধ, যতটা মানসিক তার থেকে বেশি যুদ্ধ করতে হয় সমাজ নিয়ে। তার ওপর চলছে ‘ইসলামোফোবিয়া’, পৃথিবী জুড়ে। সবার একটাই কথা, কখনো মনে করেনি সে মুসলমান হবে একদিন। তবে, কোরআন টেনে নিয়েছে তাদেরকে। এই বইটা এতোটাই শক্তিশালী যে অন্য ধর্মের মানুষদের ‘মুগ্ধ’ করে নিয়ে আসছে ইসলামে। উন্নত বিশ্বে যারা আসছেন ইসলামে, তাদের শতভাগ এসেছেন এই কোরআনকে নিজের ভাষায় পড়ে। পুরোপুরি বুঝে। আমরা বুঝেছি কতজন? এতো শক্তিশালী বই টানছে না আমাদের। সমস্যাটা কোথায়?

৭০.

আমরা, মুসলমানের ঘরে জন্মানোর পরও বুঝে পড়িনি কি বলেছেন সৃষ্টিকর্তা। কতো বড় একটা সুবিধার মধ্যে থেকেও আমরা বুঝতে চাইনি কিছুই। যারা মুসলিম কনভার্ট, তাদের জ্ঞানের গভীরতা দেখলে লজ্জা পাই মনে মনে। যেই মানুষটা মাসখানেক আগে মুসলিম হয়েছে তার আল্লাহ’র সম্পর্কে জ্ঞান অনেক অনেক – ‘অনেক’ বেশি। কারণ, ইসলাম ধর্মে আসার আগে নিজের সাথে ‘বিশাল’ যুদ্ধ করে আসে সে। নিজেকে পুরো ‘কনভিন্স’ করে আসতে হয় তাকে। এই কোরআনকে সে ব্যবহার করে আল্লাহকে চেনার জন্য। আমরা এই চল্লিশ বছরে যা শিখেছি সে হয়তোবা ওই পুরো জিনিসটা শিখেছে কয়েক মাসে। অনেককে কোরআনকে মানার ওই ‘টেনাসিটি’ দেখে অবাক হয়েছি আমি। সৃষ্টিকর্তা যাকে পথ দেখান – তার পরিবর্তিত রূপ ‘ইন্সপায়ার’ করে আমাদের। ও পারলে পারবো না কেন আমরা?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

(একটুখানি) সুন্দর কথা বলা আর (উদারতা দেখিয়ে) ক্ষমা করে দেয়া সেই দানের চাইতে অনেক ভালো, যে দানের পরিণামে কষ্টই আসে।

— আল কোরআন ২:২৬২

৬৫.

প্রচুর ‘সেলফ হেল্প’ ক্যাটেগরীর বই পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম কয়েকটা জিনিস। মূল কতগুলো ‘গাইডেন্স’কে নিয়ে তৈরি হয়েছে হাজারো ‘ভ্যারিয়েন্ট’। আর ওই ‘ভ্যারিয়েশন’গুলো নিয়েই লেখা হচ্ছে হাজারো ‘বেস্টসেলার’। আমি অবাক হয়ে দেখলাম মানুষকে চালানোর জন্য সুন্দর সুন্দর নীতি যা পড়েছি এতোদিন – বিভিন্ন বইয়ে, তার সবকিছুই রয়েছে কোরআনে। ছয়মাস ধরে পড়েছি অনুবাদ বইগুলো। আফ্রিকাতে পড়ে থাকার ফলে ‘পন্ডারিং’ করতে পেরেছি অনেক অনেক বেশি। ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তাকে। এধরণের সুযোগ করে দেবার জন্য। প্রচুর বই পড়েছি এর মধ্যে। জন্ম থেকে। হাজার দুইয়ের বেশি হবে হয়তোবা। তবে, আমার মতে পৃথিবীর সেরা বইটা বুঝে পড়া হয়নি কখনো। এই আট মাস আগ পর্যন্ত।

৬৬.

বই পড়লে ভালো লাগে, তবে কোরআন এতোটা ‘কমফোর্টিং’ সেটা জানা ছিলো না আগে। কোরআন শুধুমাত্র পজিটিভ একটা বই নয়, এটাতে ‘চুড়ান্ত ক্ষমাশীলতা’, ‘ভালো কাজের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি’ আর বিপদের সময় সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হিসেবে কাজ করে মানুষের ওপর। নিরাশাবাদীদের কাছে শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করছে বইটা। কোরআনের আরেক নাম ফুরকান। মানে, পৃথিবীর ভালো আর খারাপের পার্থক্য বুঝতে জানতে হবে কোরআনকে। আর কোরআনটাই যদি না পড়া থাকে? তাহলে, কোরআনকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা যাবে কি? কোরআন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ‘পঠিত’ বই হলেও এর আশি শতাংশের বেশি মানুষ না বুঝেই পড়ে। ফলে, সৃষ্টিকর্তার আসল ‘মেসেজ’ না পাবার ফলে আজ মুসলমানদের বেহাল অবস্থা। কোরআন না পড়েই দাবি করছি আমরা মুসলমান।

৬৭.

আমরা যখন কোরআনের অর্থ পড়তে যাই, প্রতিবারই নতুন নতুন জিনিস এসে দাড়ায় মনের সামনে। আপনি আর আমি যখন পড়বো, আমাদের দুজনের বোঝার ব্যাপারটা আলাদা হবে। এটা এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। যতবারই পড়ি – নতুন ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’, নতুন অর্থ মুগ্ধ করে আমাদের। কোরআন এমন ভাবে লেখা, মনে হবে সৃষ্টিকর্তা নিজেই কথা বলছেন আপনার আমার সাথে। একদম ‘পার্সোনাল’ মোডে। কোরআন পড়লেই বুঝতে পারবেন। পুরোটাই ‘কনভার্সেশনাল’ মোডে তৈরি করেছেন সৃষ্টিকর্তা। অনেক ‘গাইডেন্স’ রয়েছে মানুষের জন্য। অনেক ঘটনা বলা হয়েছে – চিন্তা মানে ‘পন্ডার আপন’ করে বোঝার জন্য। সীমারেখা টেনে দেয়া আছে অনেক অংশে। সতর্কীকরণ এসেছে বারে বারে, মানুষের স্বভাবের কথা চিন্তা করেই। কোরআন পড়ছেন কিন্তু সেটা নিজের জীবনে ‘রিফলেক্টেড’ হয়েছে কিনা সেটা জানবেন কিভাবে? কোরআনকে বুঝতে হবে নিজের মতো করে। বাকিটা করে দেবেন সৃষ্টিকর্তা। প্রতিটা ঘটনা গল্প কিন্তু আমাদের জন্য ‘থেরাপি’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Those who spend in prosperity and adversity, and those who suppress anger and pardon men; and Allah loves those who do good.

— Al Quran 3:135

৬১.

ঘুরেছি পৃথিবীর অনেক দেশেই। যারা ধর্ম পালন করছেন তারা সেটাকে এমন সহজ করে নিয়েছেন যাতে মনে না হয় এটা আলাদা একটা জিনিস। সকাল আর রাতে দাঁত ব্রাশ করার মতো ‘ম্যাণ্ডেটরি’ করে নিয়েছেন ব্যাপারগুলোকে। আজান পড়েছে, ওখানেই অজু করে দাড়িয়ে যাচ্ছেন নামাজে। অজু করার ব্যবস্থা না থাকলে সেটার জন্য সৃষ্টিকর্তা যা ছাড় দিয়েছেন সেটা করেই দাড়িয়ে যাচ্ছেন সবার সাথে। প্রথম প্রথম মনে হতো আমি ঠিকমতো পরিষ্কার আছি কিনা, সেটার জন্য মন বলতো – বাসায় বা পরের ক্যাম্পে যেয়ে ‘কাযা’ পড়ে নেব। অথচ, সৃষ্টিকর্তা সবকিছুর জন্য অসাধারণ ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’ তৈরি করে রেখেছেন। সৃষ্টিকর্তা তো জানেন আমরা কি অবস্থায় আছি। মনকে তো আর ফাঁকি দিতে পারি না।

৬২.

আফ্রিকার এই ‘পিস কীপিং মিশনে’ বিভিন্ন ন্যাশন্যালিটি’র সাথে কাজ করতে হয় অহরহ। এদের মধ্যে মুসলিম রয়েছেন অনেকে। অনেক দেশের। আজানের শব্দ শোনা গেলেই হলো, কোথায় টুপি, কোথায় জায়নামাজ, কোথায় ওজুর ব্যবস্থা – ওগুলো না খুঁজে ‘মিনিম্যালিস্ট রিকোয়ারমেন্ট’এ নামাজ পড়ে নেবে ওরা। জুতো খোলার সময় নেই, বরং জুতোর ওপর দিয়ে পানি ঢেলে অজু করে ফেললেন এক কলিগ। বরং, আমারই মনে হতো, পানি ভালো আছে কি না, কাপড়ের কি অবস্থা, পরিষ্কার আছি কিনা – এগুলোই মাথায় ঘুরতো বেশি। মন খুজতো হাজারো অজুহাত। আপনি কোন অবস্থায় আছেন সেটা তো সবচেয়ে ভালো জানেন সৃষ্টিকর্তা। আমি সৃষ্টিকর্তাকে অখুশি না করলেই তো হলো। তিনি জানেন আপনার মনের ভেতর কি চলছে। উনি তো আমাকে দেখছেন চব্বিশ ঘণ্টা। আর সেকারণে ‘সীমা’ ছাড়িয়ে যাবো না আমরা।

৬৩.

একটা জিনিস বুঝে গেলাম। আমরা নামাজ পড়ি কাজের ফাঁকে ফাঁকে, আর তারা নামাজের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করেন। মানে, নামাজ হচ্ছে ‘কনস্ট্যান্ট’, সময় হলেই পড়তে হবে। আর পৃথিবীর কাজ হচ্ছে ওর ফাঁকে ফাঁকে। কাজকে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে নামাজকে ফেলেছি পেছনে। সেকারণে, আমরা জমিয়ে রাখি নামাজ – বাসায় ফেরার জন্য। অজুহাত খুঁজে বের করি, অজু নেই বলে। কাপড় ময়লা। কিছু হলেই বলি ‘কাযা’ পড়া যাবে, কিন্তু আসলে কি তাই? আসছি পরে।

৬৪.

একটা প্রশ্ন করি? আপনি জানেন যে এই রাস্তায় ক্যামেরা আছে। কি করেন ওখানে? নিয়ম মেনে চলি আমরা। ওই রাস্তায়। যেখানে নেই, সেখানে নিয়ম মানেন না অনেকে। আমার ফোন আর ল্যাপটপে চালু আছে একটা অ্যাপ্লিকেশন। ওটার কাজ হচ্ছে আমার পুরো ‘অনলাইন লাইফ’ মনিটর করা। আমি কি কি কাজে সময় নষ্ট করছি সেটার একটা ‘ভয়ংকর’ রিপোর্ট তৈরি করে জানায় সময়ে সময়ে। এর আউটকাম? এখন, আমি কম সময় কাটাই সোস্যাল মিডিয়াতে। ফেসবুক, লিঙ্কডইনে। গানের অ্যাপ্লিকেশনে। এর মানে হচ্ছে, মনিটরিংয়ে থাকলে সবাই সোজা। আমি জানি, এই রিপোর্ট শুধু আমার জন্য। তবুও। যখন আমি জানবো, সৃষ্টিকর্তা দেখছেন আমাদের চব্বিশ ঘণ্টা – আমাদের ভুল করার প্রবণতা আসবে কমে। আর, মানুষ তো ভুল করবেই। সেটা জানেন সৃষ্টিকর্তা, নিজেই। আর সেকারণে সৃষ্টিকর্তা সতর্ক করেছেন হাজারবার। মানুষ অকৃতজ্ঞ। সেটাও জানেন তিনি। সেজন্য বার বার ক্ষমার কথাও বলেছেন উনি।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Kind words and forgiveness are better than charity followed by injury.

— The Quran 02:263

৫৬.

আমাদের সামরিক বাহিনীতে একটা বই লাগে প্রায় অনেক কোর্সে। বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের সাথে কিভাবে যোগাযোগ করবো সেটা নিয়ে লেখা বইটা। যেকোন লেখালিখিতে জিনিসটা ‘কনসাল্ট’ করলে উন্নত হয় আউটপুট। সত্যি! সহজ সরল ভাবে লেখালিখির জন্য বইটা আসলেই চমত্কার। কিছুটা বিজনেস কম্যুনিকেশনের মতো। তবে সেটার ব্যাপ্তি আরো বড়। আমার লেখালিখির অনেক স্কিলসেট এসেছে ওই বই থেকে। একেক কোর্সে গেলে একেক দিককে গুরুত্ব দেয়া হয় বলে বাদ পড়লো না কোন চ্যাপ্টার। শেষ মেষ দেখা গেলো – দাগিয়ে ফেলেছি পুরো বইটাই। লাল, নীল, ফ্লুরোসেন্ট, সবুজ, হলুদ – বাকি থাকে আর কোন রঙয়ের হাই-লাইটার?

৫৭.

আরবী পড়াও প্রায় ভুলে গিয়েছিলাম এর মধ্যে। আর, আগে আরবী পড়তে জানলেও অর্থ জানতাম না – অন্য অনেকের মতো। ফলে বইটা ছিলো মূল কোরআনের অনুবাদ। ছয়মাস লাগিয়েছি শুধু ওই অনুবাদটা পড়ার জন্য। প্রতিদিন একটু একটু করে। আবারো টেক্সট মার্কার শেষ করে ফেললাম কয়েকটা। বিভিন্ন রঙয়ের। শেষমেষ বাদ পড়লো খুব কম অংশ। প্রায় অনেক লাইনই হাই-লাইটেড। এরকম হবার কথা ছিলো না প্রথমে। যতই ভেতরে ঢুকছিলাম ততোই বাড়ছিলো মনের সম্পৃক্ততা। দ্য কম্যুনিকেশন সীমড ভেরি পার্সোনাল। প্রভাব পড়ছিল মনের ওপর। ওই হাজারটা ‘সেল্ফ হেল্প’ বইগুলো থেকে অনেকগুন ‘ইল্যুমিনেশন’ টের পাচ্ছিলাম মনের ভেতর। ‘ট্রানকুইল’, ‘পিসফুল’, মনে শান্তি, যাই বলেন সেটা আসতে শুরু করলো তিন মাসের মধ্যে। সৃষ্টিকর্তার সাথে একটা ইন্টার-পার্সোনাল কম্যুনিকেশনের ধারনা পাওয়া যায় কোরআন পড়লে। সরাসরি কথা বলছেন আমাদের সাথে।

৫৮.

সোর্সিং করলাম আরো কয়েকটা অনুবাদ। টের পেলাম কয়েকটা জিনিস। কোরআনের বিভিন্ন উদ্ধৃতি দিয়ে বহু কাদা ছোড়াছুড়ি দেখেছি, তার প্রায় সব কয়টাই ‘আউট অফ কনটেক্সট’। আগে পেছনের জিনিস বাদ দিয়ে হটাত্‍ করে একটা ‘উদ্ধৃতি’ নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে অনেকে। কোরআন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার ফলে এ ব্যাপারগুলো হয় বেশি। আগে, আমার বন্ধুরা যেটার রেফারেন্স দিতেন, বিশেষ করে কোরআন থেকে, বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিতাম। কারণ, আমি তো নিজেই তো পড়িনি। পড়িনি বললে ভুল হবে, বুঝে তো পড়িনি। আর যারা রেফারেন্স দিচ্ছেন তাদের অনেকেই শুনেছেন অন্য কারো কাছ থেকে। সবাই ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে কথা বলছেন। আর সেটাই আমাদের ডোবার বড় কারণ। ইসলামের নামে হাজার অনৈতিক কাজ ম্লান করে দিচ্ছে আমাদের ইমেজ।

৫৯.

কোরআন ঠিকমতো মানলে আজ পুরো পৃথিবী তাকিয়ে থাকতো আমাদের দিকে। মনে মনে ঈর্ষা করতো – ‘আহা হতে পারতাম ওদের মতো!’ ধৈর্য্য, সহনশীলতা হচ্ছে ইসলামের বড় একটা অংশ। ঢাকার রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামলে দেখা যায় উল্টো চিত্র। ‘সবর’ মানছি না আমরা নিজেই। কোরআনের ভেতর কি আছে সেটা না জানার ফলে আমরাও সরে গেছি অনেক দূরে। তবে, এখন আস্তে আস্তে পরিষ্কার হচ্ছে ব্যাপারগুলো। যতো বেশি ঢুকছি, ততোই অবাক হচ্ছি। ‘ওপেননেস’, মুক্তমনা, সহনশীলতা – যাই বলেন তার সবকিছুই এসেছে এই কোরআন থেকে। স্পেনের কর্ডোবাতে গেলে অবাক হবেন আপনি। ৭১১ সাল থেকে ১৫০০ পর্যন্ত পৃথিবীর সেরা ইউনিভার্সিটি আর মেডিক্যাল স্কূলগুলো চলছিলো মুসলিম শাসনের আওতায়। ধর্মীয় সহনশীলতা বলতে যা বোঝায় সেটা এসেছে ওই ওখান থেকে। ইউরোপের মডার্ন সিভিলাইজেশনের অনেককিছুর গোড়াপত্তন ওখানেই। পরে মুসলমানদের ভেতরে সমস্যা হবার কারণেই হারিয়ে যায় ওই স্বর্ণযুগ।

৬০.

ম্যানুয়াল পড়েছি হাজারো। প্রতিটা যন্ত্রের জন্য ইন্সট্রাক্শন ম্যানুয়াল থাকলেও যতো জটিল যন্ত্র, ততো ম্যানুয়ালের প্রয়োজন বেশি। মানুষকে যদি যন্ত্রের সাথে তুলনা করি, মানুষ হচ্ছে সবচেয়ে ‘কমপ্লেক্স’ যন্ত্র, তাহলে তাকে চালাতে ম্যানুয়াল লাগবে না? আর – মানুষকে তৈরি করেছেন যিনি, তার সৃষ্টিকে উনি ছাড়া আর ভালো চিনবে কে বলুনতো? ভাবতেই অবাক লাগছে, সেরা ম্যানুয়ালটাই পড়া হয়নি আগে। মানুষ কিভাবে চললে তার ভালো হবে তার সবকিছুই লেখা আছে এই ‘অবিকৃত’ ম্যানুয়ালটাতে। আমরা কোরআনকে সন্মান দিতে গিয়ে সেটাকে উঠিয়ে রেখেছি সবচেয়ে ওপরের তাকে। অথবা, আলমারীর ওপরে। আমাদের স্পর্শের বাইরে। বেঁধে রেখেছি সবচেয়ে দামী কাপড়ে। কাপড়ের কাভারটা খুলে আবার ঢুকিয়ে রাখতে যে সময় নষ্ট হয়, সেখানে পড়ার জন্য মানসিকতা তৈরি হলেও পিছিয়ে যায় অনেকে। পড়তে থাকে ধুলা। অথচ, সেটা হওয়া উচিত ছিলো সবচেয়ে কাছের জিনিস। প্রতিদিন পড়ার মতো একটা বই। মুসলিমদের কাছে এটা একটা ন্যাভিগেশন টূল বটে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

We are lost, but we’re making good time.

― Star Trek V

৩৭৭.

বিজনেসের দিক থেকে সবসময়ই কম স্পেকট্রাম পাচ্ছে অপারেটররা। আমাদের দেশের কথা একটু আলাদা। এতো বেশি মানুষ আমাদের দেশে, বিজনেস কেসও চমত্কার, দিয়ে কুল পাচ্ছে না অপারেটররা। কম স্পেকট্রাম, এতো মানুষ! কি করবে তারা? আপনি কি করতেন? ধরুন, আপনি অপারেটর, আছে ‘ক’ পরিমান স্পেকট্রাম। নেটওয়ার্ক তৈরি আছে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জন্য। ওমা, নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বুঝি পয়সা লাগে না? কি করবেন? এমন ভাবে দাম বাড়াবেন যাতে অর্ধেক মানুষ ‘অ্যাফোর্ড’ করতে পারে। এতে নেটওয়ার্কে কমবে ‘কনজেশন’। লাগছে না নতুন ইনভেস্টমেন্ট ওই মূহুর্তে। পয়সাঅলা ব্যবহারকারীরা খুশি। কম মানুষ হওয়াতে স্পীড পাচ্ছে ভালো। পৃথিবীব্যাপী অপারেটররা দাম বাড়িয়েই চাপ কমায় নেটওয়ার্কের ওপর। প্রথম দিকে। ব্যালান্স করতে হবে না নেটওয়ার্ক? বুদ্ধি ভালো, না?

৩৭৮.

তবে একটা পরিমানের স্পেকট্রাম পেলে কষ্টটা কমে অপারেটরদের। কাভারেজ থেকে ক্যাপসিটি বাড়াতে সুবিধা তাদের। বাংলাদেশে সমস্যা যতটা কাভারেজে তার থেকে তাদের মাথার ঘাম ছুটে যায় ক্যাপসিটি বাড়াতে গিয়ে। আজ গ্রাহক ৫ গিগাবাইটের প্যাকেজ নিয়ে খুশি হলেও কালকে কি হবে সেটা বলা মুশকিল। তবে এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার – ভলিউম বাড়ছে দিনে দিনে। মনে আছে এটিএণ্ডটি’র কথা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এটিএণ্ডটি’র কথা বলছি আমি। ২২৫টা মতো দেশে আছে – ইন্টারন্যাশনাল ভয়েস কাভারেজ। তার মধ্যে ২১০টাতে আছে ওয়ারলেস ডাটা। বিশাল কোম্পানী, তাই না? দশ লক্ষ মাইলের বেশি ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক। ওই দেশে। তার নিজের। আগের গল্প বাদ, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত শুধুমাত্র ওয়ারলেস আর ওয়ারলাইন নেটওয়ার্কে ইনভেস্ট করেছে মাত্র ১২০ বিলিয়ন ডলার। শুধু গত বছরেই ইনভেস্ট করেছে ২১.৪ বিলিয়ন।

৩৭৯.

হটাত্‍ ‘এটিএণ্ডটি’কে নিয়ে লাগলাম কেন? আইফোন নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছিলো এই অপারেটর। আনলিমিটেড ট্রাফিকের কনট্রাক্ট দিয়ে ছেড়েছিলো আইফোন, এই ‘এটিএণ্ডটি’। বিনি পয়সার ফোন, একটা সময়ের জন্য থাকতে হবে নেটওয়ার্কে। পাগলের মতো নিয়ে নিলো মানুষজন। জুন ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছিল এই দুই কোম্পানীর এক্সক্লুসিভ ডীল। ‘এটিএণ্ডটি’ আর অ্যাপল বুঝতেই পারেনি শত শত কোর্ট কেসে পড়বে এই নেটওয়ার্ক সার্ভিস দিতে এসে। ভয়েস নেটওয়ার্ক ঠিক থাকলেও ডাটা নেটওয়ার্কের ‘আউটেজে’ পাগল হয়ে গিয়েছিলো এই দুই কোম্পানী। নেটওয়ার্ক বসে যাচ্ছিলো কিছুদিন পর পর। বসতে হলো নতুন ‘আর এণ্ড ডি’তে।

৩৮০.

নতুন বিটিএস এল আরো ‘স্পেকট্রাল এফিসিয়েণ্ট’ হয়ে। পাল্টে ফেললো ফোনের ফার্মওয়ার। ওই একই পরিমাণ স্পেকট্রাম নিয়ে নতুন গ্রাহকদের কিভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে – সেটাই গবেষণা। সরে এলো আনলিমিটেড ডাটা প্ল্যান থেকে। চাপ কমে এলো নেটওয়ার্কের ওপর। নতুন নতুন স্পেকট্রাম ব্লকের জন্য পাগল হয়ে গেলো সব অপারেটর। ‘আর এণ্ড ডি’ থেকে নতুন নতুন ‘অ্যাডভান্সড রেডিও ইন্টারফেস’ নিয়ে এসেও কুলিয়ে পারছে না তারা। সত্যি তাই! তাদের ফোরকাস্ট বলছে ডাটার চাহিদা বেড়েছে এতোটাই যে নতুন নতুন প্রযুক্তিও পাল্লা দিতে পারছে না গ্রাহকের চাহিদার সাথে। তাহলে কি দরকার এখন? ঠিক বলেছেন। স্পেকট্রাম। ব্রডব্যান্ডের অন্যতম কাঁচামাল।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

It is said that no one truly knows a Nation until one has been inside its jails. A Nation should not be judged by how it treats its highest citizens, but its lowest ones.

― Nelson Mandela

৫১.

‘স্টিলনেস’ দিলো অনেক কিছু। রিফ্লেকশন। নিজের ‘রিফ্লেক্ট’ করার সময়। নিজেকে চিনতে চেয়েছিলাম। ইঁদুর দৌড়ে দেখেছি পৃথিবীটাকে। এসে পড়লাম আফ্রিকাতে। আইভরি কোস্টে এসে একটা বিপদে পড়েছিলাম আমি। ইট ওয়াজ কাইন্ড অফ নাইটমেয়ার! সত্যি! যেই মানুষটা কথা বলে আনতো ‘কমফোর্ট জোন’য়ে – অন্যদেরকে; সেই খুঁজছিল শান্তি সবকিছুর মধ্যে। হাজার বই পড়েছি ‘সেল্ফ হেল্প’ আর ‘স্পিরিচুয়ালিটি’র ওপর। ‘পার্সোনাল ট্রান্সফর্মেশন’ আর ‘মোটিভেশনাল’ বইগুলো বাদ পড়ে কিভাবে? না, বাদ পড়েনি। যোগাযোগের মানুষ হয়ে ‘ইন্টার-পার্সোনাল কম্যুনিকেশন আর সোস্যাল স্কিল’ শিখতে হয়েছে কাজের দরকারে। সব জ্ঞান কিভাবে যেন ‘ফেইল’ করছিলো আমার সেই বিপদে। ঘটনাটা ঘটেছিলো প্রায় আট মাস আগে। মাস খানেক পর, ফিরে এলাম একটা বইয়ে। বুঝে পড়িনি কখনো।

৫২.

আত্মসমালোচলা করি। আমার বয়স চুয়াল্লিশ। বাবা মা ছোটবেলায় শিখিয়েছিলেন ওই বইটা পড়তে। ক্যাডেট কলেজে ঢোকার পর থেকে ধর্মীয় কাজের ফ্রিকোয়েন্সিটাও আসে কমে। মাঝে মাঝে ধরেও ছেড়ে দিতাম ওই বয়সটার কারণে। আফ্রিকাতে আইভরি কোস্ট একটা ‘ফ্র্যান্কোফোন’ দেশ। মানে, সবাই কথা বলে ফ্রেঞ্চে। আমার পিস কীপিং অপারেশনের আগের দেশটাও ছিলো ফ্রেঞ্চ কলোনী। তাই শিখেছিলাম এক আধটু, কাজ চালানোর জন্য। এবার শেখার পালা। আবার। ঝালাই করতে হবে না? ভর্তি হলাম নতুন ক্লাসে। ফ্রেঞ্চ। মন টিকলো না মাসখানিক পর। সহকর্মী বলেছিলেন একটা কথা। শুনিনি আগে। এখন মনে হচ্ছে ঠিক বলেছিলো সে। কি বলেছিলো সে? আপনি যতো গতিতে ওই ক্লাসে যাচ্ছেন, তার থেকে দ্বিগুণ গতিতে ফিরবেন মাসখানেক পরে। পুরোনো ফ্রেঞ্চ নিয়ে বিরক্ত হয়ে গেলাম একসময়। সময় হচ্ছে নতুন ভাষা শেখার। ‘আরবী’ হলে কেমন হয়? প্রশ্ন করলাম নিজেকে। কেন আরবী?

৫৩.

মানুষকে যদি কোন কারণে জেলে যেতে হয়, বিশেষ করে যাদেরকে একেবারে আলাদা করে রাখা হয়, তারা এক ধরনের ‘ট্রান্সফর্মেশন’এর ভেতর দিয়ে যায়। নিজের মুখোমুখি দাড়াতে বাধ্য হয় সে। তখন তাদেরকে অনেক ধরনের ভেতরের ‘কনফ্লিক্টিং’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়। মৃত্যুর কাছাকাছি অথবা লম্বা সময়ের জন্য শুধুমাত্র নিজেকে কাছে পেলে ‘অর্থপূর্ণ জীবন’ হাতড়ে বেড়ায় মানুষ। সাধারণত: কখনোই ওই প্রশ্নগুলো আসে না মনে। মনে আসবেই বা কিভাবে? পৃথিবীর বিশাল ‘ইনফ্লুয়েন্স’ আমাদের আটকে রাখে নিজেকে জানতে। অনেক সময় দেখা যায়, উন্নত বিশ্বে যারা জেলে গিয়েছেন – তাদের অনেকেই প্রশ্নের খোঁজে ইসলাম ধর্মে চলে আসেন। মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে। নিজের বিবেকের সামনাসামনি দাড়িয়ে যান তারা। বিবেকের কাছে মিথ্যা ব্যাপারগুলো দাড়াতে পারেনা বেশি দিন। পৃথিবীর বিলিয়ন মানুষের ‘মনের শান্তি’ দিচ্ছে বইটা।

৫৪.

বাইরের জীবনে হাজারো কাজের চাপে নিজেকে যেই প্রশ্নগুলো কখনোই করেননি, সেই প্রশ্নগুলো এসে দাড়ায় সামনে। তারা মুক্তি, ঠিক ধরেছেন – ওই জেলেই ‘মুক্তি’ খুঁজে পান সৃষ্টিকর্তার কাছে সমর্পণ করে। জেল হচ্ছে গিয়ে একটা ‘এক্সটেন্ডেড রিট্রিট’ মানে পেছনে ফিরে তাকানোর মতো একটা ব্যাপার। নিজেকে আয়নায় দেখা মানে ‘সেলফ রিফ্লেক্ট’ আর নিজের সাথে কথা বলার একটা চমত্কার পরিবেশ তৈরি হয় জেলের মতো পরিবেশগুলোতে। আউট অফ ডার্কনেস, কামস লাইট। ওই আলোর কাছে পরিষ্কার হয় অনেক কিছুই – নিজের কাছে। আর জেলখানা হচ্ছে ‘দুনিয়া’ মানে পৃথিবীর একটা ছোট্ট সংস্করণ।

৫৫.

আর এই জেলখানা একটা রূপক হিসেবে কাজ করে আমাদের আসল মুক্তির পথে। ইসলামের একটা বড় ব্যাপার হচ্ছে দুনিয়ার হাজারো ‘আকর্ষণ’ থেকে মুক্তি নিতে পারা। টেস্টিং গ্রাউন্ড, আমাদের জন্য। জেল মানুষকে অনেকটাই তৈরি করে দিচ্ছে সেটার জন্য। আর সেটাই নিয়ে যাবে আসল বেহেশতের আগে মনকে – আলোকিত পথে। হটাত্‍ জেলের কথা আসলো কেন? পিস কীপিং মিশনে ওধরনের একটা অনুভুতি তৈরি হয়েছিল আমার মধ্যে। ‘এভরিথিং হ্যাপেন ফর আ রিজন।’ বদ্ধ যায়গা, পরিবার থেকে দূরে। যাবার যায়গা নেই আশেপাশে। অফুরন্ত সময় – সন্ধার পরে। নিজের সাথে একা থাকার সময়টা বেশি বলে নিজেকে প্রশ্ন করা যায় অনেক কিছু নিয়ে। নিজেকে পাওয়া যায় অনেক সময় ধরে। এটা পাইনি গত চব্বিশ বছর ধরে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

There is nothing either good or bad but thinking makes it so.

— William Shakespeare, Hamlet

৪৮.

আমার ধারনা, মানুষ ভয় পায় নিজের মুখোমুখি হতে। একারণেই সে ব্যস্ত থাকে পৃথিবীর হাজারো কাজ নিয়ে। যাতে তাকে দাড়াতে না হয় নিজের সামনে। ব্যাপারটাই একটা ‘কন্সট্যান্ট ব্যাটেল’। নিজের সাথে। মানুষের নিজের প্রবৃত্তিকে চেনা মানে নিজের মুখোশ খুলে দাড়ানো আয়নার সামনে। সেটা যে কতো ভয়ংকর হতে পারে সেটা ভেবেই হয়তোবা এগোয় না মানুষ। আর যারা ওই রাস্তা একবার মাড়ায়, তাদের জন্য জীবনটা হয়ে যায় সহজ। মনে আছে ‘স্টোইসিজমে’র কথা? মানুষের নিজের কোন সত্তা নেই – যাকে আমরা বলছি ‘ফ্রী উইল’। অর্থাত্‍ অধিক শোকেও পাথর হবার সমস্যা নেই তাদের। যাই ঘটুক এই দুনিয়াতে, এটা কখনো না কখনো ঘটে গেছে আগে। আমরা আছি হয়তোবা ‘রিওয়াইন্ড’ মোডে। মন শান্ত হয়ে যাবে পরমুহুর্তে। সবকিছু তো লেখা আছে আগে থেকে।

৪৯.

অভিজ্ঞতা নিয়েই জীবন আমাদের,’স্টোইসিজমে’ শুধু বলে না এটা, বরং কি করেছি আমরা। ওই সময়টাতে। ধরুন, একটা ভীষণ ঝড় এসে উড়িয়ে নিয়ে গেল আমাদের শহরটাকে। আমাদের যা কিছু আছে সব মিশিয়ে দিলো ধুলায়। একজন তার সব হারিয়ে পাগল। আরেকজন হয়তোবা স্বস্তির নিশ্বাস ফেললো এই ভেবে যে জীবনটা শুরু করা যাবে নতুন করে। কিন্তু ‘ইভেন্ট’ এক, পার্সপেক্টিভ ভিন্ন। মানুষ ভেদে। শেক্সপিয়ের কি যেন বলেছিলেন ‘হ্যামলেট’এ? ‘পৃথিবীতে ভালো খারাপ বলে কিছু নেই, যে যেভাবে চিন্তা করে।’ প্রতিটা জিনিসের ‘ওপর – নিচ’ আছে, কে কিভাবে নিচ্ছে নির্ভর করছে সেটার ওপর। আর কোন জিনিসই লম্বা সময়ের জন্য একটা ‘স্টেট’এ থাকে না। এখন হয়তোবা আপাত দৃষ্টিতে কষ্টকর মনে হতে পারে, তবে এটা আপনার জীবনে কি পরিবর্তন নিয়ে আসছে সেটাই বড় ব্যাপার। একটা কষ্টকর ব্যাপার আপনাকে পাল্টে দিতে পারে ভালোর জন্য।

৫০.

যতোই সমস্যা হোক, সেটাকে পাড়ি দিতে গেলে এই ‘স্টোইসিজমে’র গল্প নিয়ে আসি প্রায়ই আমরা। নিজেকে চিনতে পারে এরা সবার আগে। সৃষ্টিকর্তার হাতে সবকিছুই ছেড়ে দেবার মতো ব্যাপারটা। ৪০০ বছর আগে প্রচলন হয় এই মতবাদ। আসে ওই গ্রীস থেকেই। চরম বিপদকে কাটানোর জন্য এই মতবাদটার প্রচলন হয় তখন থেকে। ধারনা করা হয় – হতাশা, দুশ্চিন্তা, রাগ, নিষ্পেষণ অথবা ‘পার্সপেক্টিভ’ মানে ‘প্রেক্ষিত’ হারিয়ে গেলে নিয়তি বের করে নিয়ে যাবে মানুষকে। মনে আছে নিয়তির গ্রীক দেবী ‘ফরচুনা’র কথা? সেনেকা’র ভাষায়, ভাগ্যদেবী ‘ফরচুনা’র হাতেই ছেড়ে দিতে হবে মানুষের অদৃষ্ট। এটা নিয়ে করার কিছু নেই মানুষের। অতর্কিতে বিস্মিত হলে কষ্ট পায় মানুষ। মার্কাস অরেলিয়াসের ভাষায়, সুখী হতে খুব কমই প্রয়োজন মানুষের। মনে আছে ছোটবেলার ওই কাঠুরে ‘সুখী মানুষ’এর গল্পটার কথা?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Let’s clear one thing up: Introverts do not hate small talk because we dislike people. We hate small talk because we hate the barrier it creates between people.

— Laurie Helgoe

You do not need to leave your room. Remain sitting at your table and listen. Do not even listen, simply wait, be quiet, still and solitary. The world will freely offer itself to you to be unmasked, it has no choice, it will roll in ecstasy at your feet.

— Franz Kafka

৪৫.

ওয়ার্টন স্কুলে একটা রিসার্চ হয়েছিল এই ইনট্রোভার্টদের নিয়ে। করেছিলেন অ্যাডাম গ্র্যান্ট নামে এক ভদ্রলোক। পরে সেটা নিয়ে লিখেছিলেন হারভার্ড বিজনেস রিভিউয়ে। কয়েকজন মিলে। ওই লিডারশীপের ওপর। লিডারশীপ স্কিলে এক্সট্রোভার্টদের টেক্কা দিয়েছে ইনট্রোভার্টদের আউটপুট। ইনট্রোভার্টরা তাদের বুদ্ধিমান অধস্তন কর্মকর্তাদের চালানোর সময় সবার আইডিয়া নিয়ে শুরু করেন কাজ। ফলে, তার কর্মকর্তারা উত্সাহিত হয়ে তৈরি হয় আরো বেশি ইনপুট দেবার জন্য। ইনট্রোভার্ট লিডাররা অন্যদের ক্রেডিট দিতে মুখিয়ে থাকেন। এদিকে এক্সট্রোভার্টরা নিজের(!) আইডিয়াকে বাস্তবায়ন করতে চাপ তৈরি করেন অধস্তনদের ওপর। সবকিছুর ওপর নিজের কাজের একটা ‘সিগনেচার’ ফেলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। বাকিদের আইডিয়া থাকলেও সেটা আর আলোর মুখ দেখে না খুব একটা। বিগ পিকচারে – সফলতা নিয়ে আসে এই ইনট্রোভার্টরা।

৪৬.

ইতিহাসে ‘মানুষের জীবন পাল্টে দেয়া’র মতো অনেক জননেতা ছিলেন ‘ইনট্রোভার্ট’। সত্যি! মনে আছে ওয়ারেন বাফেট, বিল গেটসের কথা? বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ঢালছেন মানুষের কল্যাণে। এলেনর রুজভেল্ট, রোজা পার্কস, গান্ধী? ইয়াহু’র সিইও মারিস্যা মায়ার? মার্ক জুকারবার্গ? মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা? ‘অ্যালুফ’, নিজের ভেতরে ঢুকে থাকা নিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি উনাকে। গাই কাওয়াসাকি আর হিলারি ক্লিনটন? হাজার সমালোচনা মেনে নিয়েও কোন কথা বলেননি এই ফার্স্ট লেডী। তারা স্পটলাইট নিয়েছেন নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে। নিতে হয়েছে তাকে, পরে – পরিস্থিতির কারণে। তারা মানুষকে দিকনির্দেশনা দিতে পছন্দ করেননি কখনো। বরং কোন একটা ‘নীতি’ তাদেরকে বাধ্য করেছে সেন্টার স্টেজ নিতে। তারা ভেবেছেন ওই নীতির জয় হবে একদিন। কাজ করেছেন মুখ বুঁজে। নিজেদের কাজ দিয়ে ঝলসে উঠেছেন। একেবারে দরকারী মূহুর্তে।

৪৭.

ঝলসে ওঠার কারণ কি? এক॰ তারা শোনেন বেশি। ফলে তাদের চোখ এড়ায় না মিনিট ডিটেলস। দুই॰ অবজারভেশনের কারণে সেলফ রিফ্লেকশন হয় ভালো। নিজের ভেতরেই প্রসেস করতে পারেন ওই ‘লব্ধ’ জ্ঞানটাকে। একের কথা অন্যকে না লাগানোর ফলে তার কাছেই সবাই সবকিছু খুলে বলেন। এতে অনেক বেশি ‘ফরওয়ার্ড লুকিং’ হন এই ইনট্রোভার্টরা। আমি নিজেই দেখেছি। অনেক যায়গায় কাজ করতে গিয়ে। তিন॰ তাদের ‘ইমোশন’ দেখা যায় কম। আমার ‘ইনট্রোভার্ট’ কমান্ডিং অফিসারকে দেখেছি অনেক দু:সময়ে মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে। ‘ইনফিউজ’ করেছেন সাহস – অন্যদের ভেতর। ওই বিপদের সময়ে। তাঁর নেয়া সিদ্ধান্তগুলো পরে বাঁচিয়েছে বাকিদেরকে। চার॰ তারা আগে চিন্তা করেন অন্যেরা কি ভাবছেন। আর সেভাবেই উত্তর তৈরি করেন। সমস্যার ‘ক্ল্যারিটি’ পাবার জন্য নিজেকে ‘গায়েব’ করে ফেলতে পারেন হাজারো মানুষের ভেতর। এগুবো আর?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: