Feeds:
Posts
Comments

Archive for the ‘ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং’ Category

Tagline: There’s so much to do in Bangladesh!

০১.

সেদিন দেখলাম নতুন একটা ব্যবসায়িক ফোরাম। নাম হচ্ছে “বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন”। ভালো উদ্যোগ। আরো আগে আসতে পারতো ব্যাপারটা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “ফেয়ার ট্রেড কমিশন” (এফটিসি) ঠিক এই কাজটাই করে সুস্থ প্রতিযোগিতার স্বার্থে। এফটিসিতে কমপ্লেইন মানে খবর আছে ওই কোম্পানি অথবা কোম্পানিগুলোর “সিন্ডিকেটের”। কোন কোম্পানির জিনিস কিনে প্রতারিত হয়েছেন? সেটাও আদায় করে দেবে কমপ্লেইন করলেই। তারপর তো জরিমানা আছেই। গ্রাহক স্বার্থ থেকে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সবকিছুর খবর রাখে এই এফটিসি। ঘুরে আসতে পারেন ওদের সাইট থেকে। এইমাত্র দেখলাম ফোনে “ডু নট ডিস্টার্ব” নামে একটা বড় ট্যাবই রেখেছে গ্রাহকদের অচেনা কল থেকে রক্ষা করতে।

০২.

অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন (এ ট্রিপল সি) তো আরেক জিনিস। যেকোন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন সাথে সাথে। গ্রাহক পর্যায়ে ফোনের প্রতি মিনিট বিল আসলে কতো হওয়া উচিৎ সেটার “কস্ট মডেলিং” করে থাকে এই কমিশন। নিয়মিত ভাবে। টেলিকম রেগুলেটর না হয়েও। তাদের কথা একটাই। কোন একটা কোম্পানির ভেতরের অদক্ষতা অথবা কিছু কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে গ্রাহক কেন গুনবে বেশি পয়সা? তাহলে ট্যাক্স দেয়াই বা কেন? একটা দক্ষ কোম্পানি হলে ফোনের ‘আন্তসংযোগ’ বিল কতো হতো সেটাই বের করে ওই এক্সারসাইজ।

০৩.

অস্ট্রেলিয়া বিশাল দেশ। সেখানের বেশিরভাগ জায়গা খালি। মানে, মানুষ থাকে দুরে দুরে। এমন দেশে মোবাইল ব্যবসা ভয়ংকর কষ্টসাধ্য। যে হাইওয়ে দিয়ে দিনে একটা দুটো মানুষ চলে – সেখানে মোবাইল কাভারেজ দেয়া ব্যবসাবান্ধব নয়। দিতে হয় তবুও। সেখানে ‘ফ্লাগফল’ নিয়ে কম ঝামেলা হয়নি প্রথমে। মোবাইলে ‘ফ্লাগফল’ হচ্ছে প্রথম মিনিটের চার্জ বাকি মিনিট থেকে বেশি। বাংলাদেশেও ছিলো জিনিসটা। সমাধান করা হয়েছে মিনিট ‘পালস’ সহ। মানে, কথা বলেছেন এক মিনিট ১ সেকেন্ড, দাম নিয়ে নিলো ২ মিনিটের। এছাড়া, বাংলাদেশে কোথায় মানুষ নেই? বরং একেকটা বেসস্টেশন ইনভেস্টমেন্টে ক্যাপাসিটির সমস্যা। সংযোগ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না যন্ত্র। এতোই মানুষ আমাদের এখানে! ওটা আরেকদিন!

০৪.

ওঁদের ধারণাটা নিয়ে ২০১১তে প্রায় দেড় বছর ধরে করা হয়েছিলো এই “কস্ট মডেলিং এক্সারসাইজ”। বাড়ি টাড়ি খেয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম কয়েকবার। তবে, সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন সংস্থার প্রয়াত চেয়ারম্যান। সবার সহায়তা নিয়েই ওই এক্সারসাইজে ফোনের বিল কমেছিল প্রায় ৩০%। আমার হিসেবে ওই প্রজেকশনে প্রতি মিনিটের দাম কমতে পারে আরো ২০%। নিজস্ব অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে ১৮ পয়সা + আইসিএক্স ৪ পয়সা = “২২+নিজের লাভ” পয়সা থেকেই শুরু হতে পারে একটা কল। নিজের নেটওয়ার্কে কল শুরু হতে পারে ০ পয়সা দিয়ে। বান্ডল অফারে। (পরে দেখুন হিসেবটা) পাশের দেশে ভয়েস কল হয়ে যাচ্ছে বিনামূল্য আইটেমে। মানেন না মানেন, এটাই ভবিষ্যত মডেল। ‘রিলায়েন্স জিও’ নিয়ে গুগল করলেই বুঝতে পারবেন কি ঘটনা হচ্ছে ওখানে।

০৫.

বাজারে ঠিক প্রতিযোগিতা আছে কিনা সেটার জন্য টেলিকম রেগুলেটরকে কাজ করতে হয় একটা ইনডেক্সের ওপর। এটাকে বলে “হারফিন্ডেল ইনডেক্স” (এইচএইচআই)। জিনিসটার একটা নাম আছে বিশ্বব্যাপী। সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি)। সাংবাদিক বন্ধুরা বলতে পারবেন ভালো। এই নীতিমালাটাও করা হয়েছে বাংলাদেশে। আমার সাত বছর রেগুলেটরে থাকার সময়ে। তবে প্রয়োগে প্রয়োজন প্রজ্ঞা। তা না হলে বাজারে বড়রা বড়ই হবেন আরো ছোটরা ছোটতর। গুগল করে দেখুন। এটা আছে অনেক অনেক দেশে। নাইজেরিয়াতে গিয়েছিলাম অনেক আগে – দেখলাম ওরাও জানে সবই।

০৬.

এইচএইচআই ছাড়াও ‘ওই স্পেসিফিক বাজারের স্ট্রাকচার’ আর ‘ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ ইনডেক্স দেখলে পরিস্কার হবে অনেক কিছু। নতুনকে যদি অন্য কোন অপারেটরের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, সেটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ মানে ব্যবসার শুরুতে কানেকশন চেয়ে না পাওয়া। তাহলে তো মোবাইল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (এমভিএনও) অপারেটর চলবে না এদেশে। সব দেশেই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রোভাইডারদের নির্ভর করতে হয় মোবাইল অপারেটরদের ইন্টার-কানেকশনের ওপর। সেটার জন্য ওই ক্রিটিকাল ইন্টার-কানেকশন হতে হবে ‘কস্ট বেসড’। মুনাফা নয় ওই জায়গায়। দাম ঠিক করে দেবে রেগুলেটর। যেভাবে ঠিক করে দেয়া হয় সাবমেরিন কেবলের ইন্টারনেটের দাম। কারণ, ওই সাবমেরিন কেবলের বিকল্প নেই আর। এগুলো ‘বটলনেক’ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। যে সেবার বিকল্প নেই, সেগুলোর রেগুলেশনে এগিয়ে আসতে হবে ওই মার্কেটের রেগুলেটর অথবা কম্পিটিশন এজেন্সীকে। হিসেব সোজা।

০৭.

ঠিক সেভাবেই নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় ভয়েস কলের ইন্টার-কানেকশনের দাম। যেটা ঠিক করা হয়েছিল ১৮ পয়সায়। শেষটা করা হয়েছিল ২০১৩তে। এটার অর্থ হচ্ছে মোবাইল, ল্যান্ডলাইন অপারেটররা একে অপরকে কল পাঠাতে হলে অন্যজনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে গতি নেই কারো। সেজন্য এটাও একটা ‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’। সেটার দাম বেঁধে দেবে রেগুলেটর। হিসেব করে। ০১৭ থেকে ০১৮য়ে কল পাঠাতে গ্রামীন রবিকে দেবে ১৮ পয়সা। ৪ পয়সা দেবে মাঝের ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স)কে। ২২ পয়সা দিয়ে বাকিটা নিজের লাভ।

০৮.

কোন একটা স্পেসিফিক বাজারে (মোবাইল বাজার, ইন্টারনেট বাজার, হোলসেল, রিটেল বাজার) যার মার্কেট শেয়ার অনেক অনেক বেশি, সেটা ক্ষতি করে প্রতিযোগিতাকে। অন্যরা বাজারে পরে আসলে তারা পায়না পানি। উদাহরণ দেই বরং। আমাকে একটা রেগুলেটরি প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছিল থাইল্যান্ডে। প্রশিক্ষণ শেষে হাতে কলমে দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হলো ওদের টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে তাদের নিয়ম পরিষ্কার। আসলেই তাই।

০৯.

ওদের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেটরের (হোক সে মোবাইল অথবা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার), মার্কেট শেয়ার ২৫% ওপরে গেলেই তাকে বলা হবে “সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার” (এসএমপি)। তখন তার ওপর বর্তাবে আলাদা নিয়ম। ‘অ্যাকাউন্টিং সেপারেশন’ করে দেবে সার্ভিসগুলোর। মানে, একটার লাভ দিয়ে অন্যটাকে ক্রস-সাবসিডি দিয়ে চালাতে পারবে না ওই অপারেটর। নতুন কোন অফার নামাতে জানাতে হবে রেগুলেটরকে। নেটওয়ার্ককে খুলে দিতে হবে ‘ওপেন অ্যাক্সেস’ মডেলে। যাতে সবাই একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে ‘রাইড’ নিতে পারে ওই নেটওয়ার্কে। বান্ডলিং, মানে এটা নিলে ওইটা ফ্রি – দিতে পারবে না সে। তার ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং’ মানে ব্যবহার করতে দিতে হবে অন্য প্রতিযোগী অপারেটরদের। একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে। ওটা জানবে রেগুলেটর। সেটা শিখেছিলাম আরেকটা গুরূ দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর। ওদের টেলিকম রেগুলেটর থেকে। পাগল করা কোর্স ছিলো ওটা। এমনই রেগুলেটর যে নিজেদের নাম পাল্টে রেখেছে “ইনফোকম ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি” নামে।

১০.

এসএমপি অপারেটরদের ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’ একেবারে না না। অর্থাৎ মনে হলো যে দাম অফার করলে বাজার থেকে নাই হয়ে যাবে প্রতিযোগীরা, সেটা করলে রেগুলেটরের খড়গ নেমে আসবে তার ওপর। ২০১২ সাল থেকে থাইল্যান্ডের ‘এআইএস’ আর ‘ডিট্যাক’ রেগুলেটর ঘোষিত ‘এসএমপি’ অপারেটর। অন্য অনেক অবলিগেশনের মধ্যে তাদেরকে ফেলা হয়েছে ‘মোবাইল ভয়েস প্রাইস রেগুলেশনে’। ফলে তাদের প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে দেয়া আছে ০.৯৯ বাথে। আবার যারা যারা থ্রিজি লাইসেন্স পেয়েছে (মানে যারা ২.১ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পেয়েছে) তাদেরকে বাজারের গড় দাম থেকে ১৫% কমিয়ে রাখতে বলেছে রেগুলেটর। ওখানে আরেকটা জিনিস কাজ করে ভালো। ইনসেনটিভ রেগুলেশন। অপারেটর মুনাফা বাড়াতে পারে দক্ষতা দেখিয়ে। দক্ষতা মানে দেখাতে হবে নিজেদের ‘এফিসিয়েন্সি’। মানে কম ইনভেস্টমেন্টে বেশি সুবিধা। ফলে, গ্রাহককে গুনতে হবে কম পয়সা।

১১.

বাজারে প্রতিযোগিতার সুস্থ পরিবেশ না থাকলে অনেকগুলো জিনিস হয়। নষ্ট হয় অপারেটরদের ইনভেস্টমেন্ট। মারা যায় অনেকে। মার্জার অ্যাকুইজেশন হয় তখন। এতে অনেকে বলবেন, ‘সারভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট’। ব্যাপারটা তা না। এটাতো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নয়। নীতিমালা আছে এখানে। তবে প্রতিযোগিতা সুস্থ না হলে বাজারে বার বার টাকা হারিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে ইনভেস্টররা। চলে যাবে বাইরে। যেমনটি দেখেছি ওই চেয়ারে বসে। টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। যে যাই বলুক, উদ্যোক্তারাই কিন্তু চালায় দেশের অর্থনীতি। হোক সেটা দেশীয় অথবা বৈদেশিক বিনিয়োগ। দশটা পরিবারের চল্লিশটা মুখের খাবারের যোগান দেয় এই উদ্যোক্তা।

১২.

উদাহরন দেই বরং। আমাদের উপমহাদেশের একটা দেশ ‘ক’। কাকতালীয়ভাবে মিল হলে সেটা হবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে। পুরো মোবাইল বাজার নিয়ে আছে ওখানের ছয়টা অপারেটর। পুরো রেভিনিউ মার্কেটের ৫০% এর কিছুটা বেশি মার্কেট শেয়ার দখল করে আছে প্রথম অপারেটর। মানে হচ্ছে – পুরো মোবাইল মার্কেট থেকে ১০০ টাকা আসলে সেটার ৫২ টাকা পায় ওই অপারেটর। বাকি ৪৮ টাকা মিলে মিশে পায় পাঁচ অপারেটর। বুঝতেই পারছেন প্রতিযোগিতার অবস্থা। ওই সময় একটা হিসেব করলো রেগুলেটর। বিদেশী কনসালটেন্ট নিয়ে। দেখা গেলো এই মোবাইল বাজারে ৩৫-৪০% হতে পারে নিচের ‘থ্রেসহোল্ড’ – মার্কেট শেয়ারে। মানে, ৩৫ থেকে ৪০% মার্কেট শেয়ার (যেটা রেগুলেটর মনে করে ভালো) হলেই সে হবে ‘এসএমপি’। এরকম ভাবে হোলসেল বাজারে ট্রান্সমিশন লাইসেন্সেও আসতে পারে এধরনের শতাংশের বেস লাইন।

১৩.

আমাদের প্রতিযোগিতা কমিশন নেই – সেটা নয় কিন্তু। আছে। আবার দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্ট দুটোকে পরস্পর সাংঘর্ষিক করে দেখার সুযোগ কম। সেটার জন্য আমাদের দেখতে হবে বিশ্বখ্যাত “ডুইং বিজনেস” ইনডেক্সে কোথায় আমরা? কতোটা ব্যবসাবান্ধব আমরা? একটা ট্রেড লাইসেন্স অথবা একটা টেলিকম ব্যবসা খুলতে সময় লাগে কতো দিন? সরকার থেকে একটা ‘পারমিট’ বের করতে কতোটা অসহায় হতে হয় একেকজন উদ্যোক্তাকে? ‘গোল পোস্ট’ পাল্টায় কতো তাড়াতাড়ি? মানে, একটা নিয়ম মেনে ইনভেস্টমেন্ট করার পর কখন পাল্টায় আগের নিয়ম?

১৪.

খালি চোখে দেখা যায় না প্রতিযোগিতা’র অসুস্থতা। সেটা দেখতে লাগবে অনেকগুলো স্ট্যাটিসটিকাল ইন্ডিকেটর। আর প্রতিযোগিতাকে ব্যবসাবান্ধব করতে লাগবে ‘প্রজ্ঞা’। একটু ওলটপালট হলেই ক্ষতি হবে ব্যবসায়িক পরিবেশের। তিন বছর লেগেছে আমারই বুঝতে। আমার এই ব্যাপারটা কিছুটা ধীর, পুরনো প্রসেসর বলে হয়তোবা। যেমন, ‘প্রাইস’ অথবা ‘মার্জিন স্কুইজ’ দেখা যাবে না খালি চোখে। আপনি আরেকজনের কাঁচামাল নিয়ে যদি রিটেল মার্কেটে ব্যবসা করেন যেখানে ওই কাঁচামাল তৈরীর কোম্পানিও ব্যবসা করে পাশাপাশি। পারবেন তার সাথে? ধরা যাক, মোবাইল অপারেটর থেকে ‘ক’ টাকায় “ইন্টারনেট” কিনে ‘ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস’ দেন আপনি। ওই বাজারে মোবাইল অপারেটর ওই একই ব্যবসা করলে টিকবে কি সেই উদ্যোক্তা? যতোই লাভ সে দিক সরকারকে। এরকম জিনিস আছে হাজারো।

১৫.

এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে ফারাক নেই বললেই চলে। বর্তমানে অনেক সফল দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চারে বিনিয়োগ আসছে বিদেশ থেকে। আমার কথা একটাই। তৈরী হোক সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। দেশে। বাড়ুক সবাই। একসাথে। হাজার হোক, আমাদের দেশ এটা। হোক এটা আরেকটা ‘ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি’। বসে আছি ওই দিনের জন্য, যখন আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে থেকে পড়ে ফিরে আসবে বাংলাদেশে।

কেন?

১. ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি ২. দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ! আসলেই তাই! এখানে করার আছে এতো কিছু, যে মাঝে মধ্যে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বসে থাকি ওই উত্তেজনায়!

ধন্যবাদ সবাইকে।

ট্যাগলাইন: দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ!


ডুইং বিজনেস http://www.doingbusiness.org
অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন http://accc.gov.au
ফেয়ার ট্রেড কমিশন https://www.ftc.gov
বাংলাদেশের রিপোর্ট: সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার https://goo.gl/IVbJSG

Advertisements

Read Full Post »

From creating powerful assessment models for identifying high-risk illegal housing conversions, to using the latest data and technology to combat property fraud and prescription drug abuse, the Policy and Strategic Planning Analytics Team has been at the forefront of our innovative problem-solving strategies.

– Michael Bloomberg, Mayor, City of New York

১০.

পৃথিবীর আদিমতম পেশা নিয়ে অনেকের ভিন্নমত থাকলেও আমার উত্তর একটাই। ‘কনসাল্টিং’। ওই সময়ে সেটাকে পেশা হিসেবে ‘আইডেন্টিফাই’ না করতে পারলে আমারই বা দোষ কোথায়? ফিরে যাই ওই আদিম যুগে। পেটে ক্ষুধা, একে অপরকে ‘কনসাল্ট’ করছে – কি ধরা যায় এ মূহুর্তে? কি দিয়ে ধরলে ভালো? তারপরেই না শিকার ধরেছে তারা। বিশ্বাস হচ্ছে না এখনো? পরীক্ষা হয়ে যাক এমুহুর্তে। কাউকে ডেকে বলুন ‘আপনার মাথা ব্যথার কথা’। অথবা, কিছু একটা পারছেন না – জানতে চান কিভাবে করবেন জিনিসটা। আমার ধারণা, প্রশ্নটা করার জন্য নিজের হাত কামড়াবেন পরমূহুর্তে।

১১.

আমরা উপদেশ দিতে ভালোবাসি। সাহায্য করার প্রবণতা থেকে হয়তোবা। হাসছেন আপনি। কথা বলতে তো ট্যাক্স লাগে না – কি বলেন? তবে ‘কনসাল্টিং’য়ে লাগে সেটা। আর সেটাকে পুঁজি করে দাড়িয়েছে পৃথিবীর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ‘এই’ ইনডাস্ট্রি। আর সেপথে হাঁটছি আমিও। নামতে গিয়েও বিপদ। হাজার ঘণ্টা পড়তে হচ্ছে জিনিসপত্র। মনে আছে ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের ‘দশ হাজার ঘন্টা’র গল্পটা? না নামার চেষ্টা করলে জানতামই না কতো ‘স্ট্রাকচারড’ এই ইনডাস্ট্রি। তুখোড় আর ‘স্ট্রীমলাইনড’। সবকিছুর কীওয়ার্ড – ‘সুপার অপ্টিমাইজেশন’। পৃথিবীর সরকারগুলো ওদের মতো ‘দক্ষ’ হলে বছরে বছরে বাঁচাতে পারতো হাজার কোটি ট্যাক্সপেয়ারদের টাকা। নতুন নতুন নাগরিক সেবায় ভেসে যেতাম আমরা। বিপদে পড়ার আগেই ছুটে আসতো সরকারী এজেন্সি। সুইট! শিখছি অনেক কিছুই। তবে, কি নিয়ে ‘কনসাল্টেসি’ করবো সেটা বলছি পরে।

১২.

‘অ্যাক্সেনচার কনসাল্টিং’ বিশাল একটা কাজ করেছে নিউ ইয়র্কের মেয়রের অফিসে। ‘ভবিষ্যত’ দেখে কাজ করার এই অফিসটাকে তুখোড় মনে হয়েছে আমার কাছে। কাজে নেমে ‘অপচয়’ করার আগেই ওই কাজের ‘আগের জ্ঞান’ আর ‘প্রজ্ঞা’ ব্যবহার করে সময় আর টাকা বাচানোর এই পদ্ধতি অভিনব। মেয়র অফিসের ভেতরের বিভিন্ন এজেন্সির মধ্যে অবাধ ‘তথ্য’ নেয়া দেয়া নিশ্চিত করতেই এই অ্যানালিটিক্সের আমদানি। সরকারী অফিসে কাজ করতে গিয়ে একটা কথা মনে হয়েছে বার বার। আহা, আমরা যদি নিজেদের মধ্যে ‘তথ্য প্রবাহ’ নিশ্চিত করতে পারতাম? তাহলে বাঁচাতে পারতাম অনেক টাকা, সময় আর জ্ঞানের ‘অপচয়’। বছরের পর বছরের পুরোনো কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তৈরি হতো ‘ভবিষ্যত’ কাজের ধরণ। লোকাল নলেজবেজ। এটাই তো অ্যানালিটিক্সের কাজ। ফাইলনোট দিয়ে ইন্টার্নাল এজেন্সিদের মধ্যে তথ্য চাইতে হলে তো বিপদ। ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’ (ডিএসএস) তো চলে না এভাবে। মানুষ তো ঠেকে শেখেনা, শেখে দেখে। ‘উন্মাদে’ পড়েছিলাম অনেক আগে – ‘হ্যা, আমারো হবে গাড়ি একটা, যখন আমার প্রতিবেশীরা ইন্টার গ্যালাক্টিক ট্রাভেলে ব্যস্ত’।

১৩.

ধরুন, রাস্তা খুড়ছেন প্রতিটা সরকারী প্রতিষ্ঠান – নিজের মতো করে। গ্যাসের লাইন, বিদ্যুত্‍, পানি, ফাইবার অপটিক, সুয়ারেজ – পাঁচ বার গর্ত করছেন একই যায়গা। পাঁচগুণ টাকা খরচ করে। ওই এলাকার মানুষের ‘ম্যান আওয়ার’ নষ্টের হিসেব না হয় বাইরেই রাখলাম। গরীব দেশের টাকা বলে এর দামও কম। অথচ, ভেতরের এই এজেন্সিদের ইন্টার্নাল ‘তথ্য প্রবাহ’ চালু থাকলে ‘ইনফর্মড’ অপারেশনাল সিদ্ধান্ত নেয়া যেতো দক্ষতার সাথে। আগের বছরগুলোর ভুল থেকে শিক্ষা নিতো সবাই। বেঁচে যেতো অনেক অনেক টাকা। ‘ইনফর্মড’ অপারেশনাল সিদ্ধান্ত যে কি জিনিস সেটা ‘প্রাইভেট সেক্টরে’র প্রতিটা মানুষ জানেন ভালো করে। কারণ, তাদের চাকরি নির্ভর করে কে কতো দক্ষতা ‘ডেলিভার’ করলো সেটার ওপর। ভুলের মাশুল দিতে হয় চাকরি হারিয়ে।

১৪.

আমার বাসার সামনে দিয়ে পানির লাইন বিছিয়ে যাচ্ছে একটা এজেন্সি। পনেরো দিন ধরে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখলাম ওদের কাজ। কিছু তো করতে হবে ছুটিতে! কথা বললাম ফাঁকে ফাঁকে। যে ইঞ্জিনিয়াররা তদারকি করছেন কাজগুলো। সচেতন নাগরিক হিসেবে জানতে চাইলাম তাদের কাজের পরিধির ভেতরের ‘বিগ পিকচার’। মনে হলো ‘দিন আনি – দিন খাই’ অবস্থা। তাদের দোষ দিচ্ছি না, এটা আমাদের জাতীয় সমস্যা। একবার বিছালেন চিকন পাইপ। আবার সেটা পাল্টে বিছালেন নতুন মোটা পাইপ। ‘হরাইজন্টাল ডিরেকশনাল ড্রিলিং’ করার জন্য এখানে ওখানে গর্ত করে ওই নতুন পদ্ধতি থেকে যে ‘দক্ষতা’ পাবার কথা, সেটাই হয়তো বুঝতে পারছেন না তারা। প্রচুর গর্ত খুড়ে ফেলেছেন এর মধ্যে। হোমওয়ার্ক না করে মাঠে ‘এক্সপেরিমেন্টে’ নেমে সবার বেহাল অবস্থা। পাইপ আগে থেকে কেটে ফেলে আবার জোড়া দেবার ঘটনাও কম নয়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If you think it’s expensive to hire a professional to do the job, wait until you hire an amateur.

– Red Adair

০৭.

উনিশশো আটানব্বই নিরানব্বইয়ের কথা। মাইক্রোসফট ফুলফিলমেন্ট সাবসক্রিপশনের আওতায় ‘ডেভেলপারস নেটওয়ার্কে’র অনেক সিডি আসতো আমার নামে। বিনামূল্যে। বেশ কয়েকটা পরীক্ষায় পাশ করার পুরস্কার হিসেবে আসতো ওগুলো। অনেক অনেক সিডি। এতো সিডি যে তা নিয়ে অস্থির থাকতো কাস্টম’স। এর মধ্যে ‘ওয়াইটুকে’ নিয়েই থাকতো হাজার ‘প্যাচ’ আর নতুন নতুন লাইব্রেরী। দুহাজার সাল এলে কি হবে সেটা নিয়েই অস্থির ছিল পৃথিবী। এয়ারলাইন্স থেকে হাসপাতাল, ব্যাংক, পানি, গ্যাস, বিদ্যুত্‍ নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যাবে না তো? নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যাণ্ট নিতে পারবে তো ওই দুই ডিজিটের ঘাপলা? শেষমেষ ওরকম কিছুই হয়নি। প্রস্তুতি ভালো ছিলো হয়তোবা। আসলে কি হয়েছিল সেটা বিবেচ্য নয়। মোদ্দা কথা, ভীষণ বিপদে ছিলাম ওই দু বছর। ঝামেলা কিন্তু কমেনি, বরং বেড়েছে বছর কে বছর। আর বিপদে পড়ছে সরকারগুলো। প্র্জ্ঞার অভাবে। প্রতিনিয়ত।

০৮॰

সময় যাচ্ছে যতো, পাল্টে যাচ্ছে পৃথিবী। বাড়ছে জটিল জিনিস, ‘কনফিউশন’ তো পদে পদে। বাড়ছে মানুষ – সেহারে কমছে রিসোর্স। অনিশ্চয়তা যোগ হয়েছে এর সাথে। আগে যে জিনিসের ওপর আমাদের ডিরেক্ট কনট্রোল ছিলো সেটাও নির্ভর করছে হাজারো এক্সটার্নাল ফ্যাক্টরের ওপর। চাষী হিসেবে যা চাষ করতাম সেটাই ছিল সবকিছু। আমার ওপর নির্ভর করতো আমার সবকিছু। ভালোই ছিল দিনকাল। ছোটবেলায় পয়লা ক্লাস থেকে হেঁটে যেতাম স্কুলে। বাবা মাও ছিলেন নিশ্চিন্তে। ছুটি শেষে ক্যাডেট কলেজে পৌছে একটা চিঠি দিতাম ছেড়ে। সেটাও আসতো সপ্তাহ পরে।

০৯.

আর এখন? ক্লাস টেনের ছাত্রদের পাঠাতে হয় গাড়ি দিয়ে। মা’রা বসে থাকেন স্কুলে। না হলে নিদেনপক্ষে ড্রাইভারের সাহায্য নিতে হচ্ছে ও’কাজে। মোবাইলে প্রতি মূহুর্তে যোগাযোগ থাকলেও সবাই থাকে দু:চিন্তায়। গাড়ি’র নিরাপত্তার ব্যাপারটা ছেড়ে দেয়া হয়েছে যন্ত্রের ওপর। এর অর্থ হচ্ছে আমাদের হাতে মানে ‘কনট্রোলে’ থাকা জিনিসগুলো চলে যাচ্ছে বাইরে। আগের মতো ‘লেইড ব্যাক’ মোডে থাকলে চলবে না আমাদের। বাসার প্রতিটা কাজে সাহায্য দরকার পড়ছে অনেকের। অন্যের সাহায্য আর ‘পরামর্শ’ ছাড়া বাসার কাজ, বাসার ‘হেলপিং হ্যাণ্ড’ সরবরাহ, নিজের ট্যাক্সটা দেয়া, ব্যবসা, অফিস, দরকারী কাগজ/পারমিট বের করে দেয়াতে সাহায্য করা – সবকিছু অচল! আর সেখানেই ঢুকছে দরকারী মানুষগুলো। মানে, যে জানে ওই কাজগুলো। তবে বিস্তর ফাঁক রয়েছে ‘লবিষ্ট’ আর পরামর্শকদের কাজে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Never give people unsolicited advice. If they want your opinion, they’ll ask for it. And only those who ask for it and pay for it will value it.

– Bob Bly

০০॰

বোকারা শেখে দেখে। আর বাকিরা নাকি শেখে ‘ঠেকে’। আর – আমার মতো নিম্ন-বুদ্ধিবৃত্তির মানুষ শেখে না কিছুতেই। সেটাও কিন্তু ‘উপলব্ধি’ নয় আমার নিজের। আশেপাশের মানুষদের। মানুষ সামাজিক জীব বলে কথা।

দুহাজারের ঘটনা। মিউনিখের এক ডাক্তারের সাথে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে দিলো আমার ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। চোখের ওপর অনেক পড়াশোনা ওই ডাক্তারের।

চেম্বারে ঢুকতেই চোখ ছানাবড়া!

দরজায় কি যেন লেখা। তাও আবার বড় বড় করে। চশমা ঠিক করে নিলাম।

০১.

জিনিসটা জার্মান ভাষায়। ‘বিনা পয়সার উপদেশ নিতে নেই।’ বঙ্গানুবাদ করলে এটাই দাড়ায় মোটামুটি। হক কথা। আমি তো পয়সা না দিয়ে উপদেশ নিচ্ছি না ওর। কিন্তু, এই ‘গালগল্প’ পড়ার জন্য তো পয়সা দিতে হয়নি আমাকে। ইন দ্য ফার্স্ট প্লেস – এটা তো ‘সাব্সক্রাইব’ই করার কথা না আমার। ‘বিনা পয়সা’র উপদেশ বলে কথা। কাটাকাটি। তবে মনে রাখলাম জিনিসটা। বলা তো যায় না কখন লাগে কি কাজে। মাথা মানে ‘পরামর্শ’ বেচে যে পয়সা পাওয়া যায় সেটার একটা ‘প্রিমিটিভ’ ধারনা পেলাম ওখানে। আবার, কথা বলে মন ভালো করার জন্য পয়সা নিচ্ছে ডাক্তাররা। ‘কন্সাল্টেশন ফী’ নাকি সেটার নাম।

কি ‘কন্সাল্ট’ করে তারাই জানে ভালো।

০২.

দুহাজার আটের ঘটনা। হংকংয়ে একটা থ্রীজি-এলটিই’র কণফারেন্সে একটা সিগন্যাল পেলাম ‘বিগ এইটে’র দুটো ফার্ম থেকে। এখন সেগুলো ‘মার্জার অ্যাকুইজেশনে’র পর দাড়িয়েছে ‘বিগ ফোর’য়ে। কফি ব্রেকের সময় লাঞ্চের ‘ইনভাইটেশন’ দিয়ে বসলো একজন। রাতে আরেকজন। ও ধরনের ‘সিগন্যাল’ ইন্টারপ্রেট করার মতো ‘ম্যাচ্যুরিটি’ মানে পরিপক্বতা ছিলো না তখন। জাপানের সিগন্যালটা আরো বড় ধরনের। আইটিইউ’র মিটিংয়ে স্পেকট্রামের ওপর একটা প্রেজেন্টেশন দেবার পর বাংলাদেশের থ্রীজি স্পেকট্রামের ‘মার্কেট সাইজিং’ নিয়ে কথা বললো কয়েকজন। পৃথিবী চলে ‘সংখ্যা’র ওপর। ‘গেসিং’ মানে অনুমানের ওপর নির্ভর না করে ‘এষ্টিমেশন’, প্রোজেকশন, ফাইনান্সিয়াল ক্যাপিটাল তোলার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিংয়ের রিস্ক মিটিগেশন নিয়ে যা গল্প হয় তার বেশিরভাগ আসে এই সংখ্যার ভেতরের ‘ইনসাইট’ থেকে।

০৩.

ধরুন, একজন বললেন বাংলাদেশের মতো বাজারে কতোগুলো মোবাইল অপারেটর ‘অপটিমাল’? নট টু মাচ, নট টু লিটল। মানে, একটা সংখ্যা চাওয়া হচ্ছে মার্কেট সাইজিংয়ের ওপর। ‘কান টানলে মাথা আসে’ হিসেবে ‘মার্কেট শেয়ার’ আর ‘গ্রোথ ক্যালকুলেশন’ চলে আসবে এর সাথে। বাজারের ‘প্রতিযোগিতা’র ইনডেক্স কেমন সেটা জানতেই তো দরকার অনেক হিসেব। অনেকেই বলবেন – মুক্তবাজার অর্থনীতি, যার ইচ্ছা আসবে – না পোষালে চলে যাবে, সংখ্যার আবার দরকার কি? তাহলে তো শিখলাম ঠেকে। অন্ধভাবে একটা বাজারে এসে ‘বাড়ি’ (বাসা না কিন্তু) খাবার জন্য তো আর হাজার মিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট করবে না একটা কোম্পানী। দেশের নীতিনির্ধারকরাও বসে থাকবেন না ‘দেখা যাক কি হয়’ মোডে। মুখে বলবেন না হয়তোবা, তবে সবারই একটা ‘ইন্টার্নাল ক্যালকুলেশন’ থাকবে এই সংখ্যাটার ব্যপারে। ব্যবসায় এসে ‘ভুল’ সংখ্যার ‘প্রফিট মার্জিন’ আর ‘রিটার্ন অন ক্যাপিটাল’এর ওপর বসে থাকলে সবারই ক্ষতি। কোম্পানীর হাজার মিলিয়ন ডলারের গচ্চা, আর দেশের গ্রাহকের ভোগান্তি। সরকারও বিব্রত। শেষ মেষ বিপদে সবাই। আসল কথা, ভুল উপাত্ত থেকে আসে ভুল সিদ্ধান্ত।

০৪.

আর উপাত্ত না থাকলে?

বলেন কি? কোটি কোটি ‘পাবলিক ডোমেন’ ডাটা উড়ছে আকাশে বাতাসে। আর সরকারের কাছে কোন উপাত্তটা নেই বলবেন কি? কোন উপাত্ত থেকে কি ধরনের ‘ইন্টেলিজেন্স’ নিংড়ে নেবেন সেটা নির্ভর করে সদিচ্ছার ওপর। ‘দক্ষতা’ কিনতে পাওয়া যায় মার্কেটপ্লেসে। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের পেছনের ইতিহাসটা ঘাটলেই পরিষ্কার হবে সবকিছু। দুর্ভিক্ষের ইমেজ থেকে বের হয়ে গেছে অনেক আগেই। অভিজ্ঞ ‘পরামর্শ’ নিয়ে।

০৫.

বড় বড় কার্পোরেশন নয় শুধু, অনেক দেশের সরকারযন্ত্রের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পৃথিবী হারাচ্ছে কোটি কোটি ডলার। প্রজেক্টের শুরুর ‘প্রজেক্টেড কস্ট স্ট্রাকচার’ কখনই মেলে না শেষের খরচের সাথে। শেষ মেষ, ‘কস্ট ওভাররান’। অথচ, এতো উপাত্ত থাকার পরও ভুল করছে সরকারগুলো। ভুল হবে মানুষের সিদ্ধান্ত – তাই বলে এতো? মানুষের নিজস্ব আবেগ আর ভাবাদর্শ ভাসিয়ে নিয়ে যায় সবকিছু। ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’ থিওরি তো আজকের নয়, তবুও ভুল করছে অর্গানাইজেশনগুলো। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনেকটাই শুধরে নিয়েছে এখন তাদের হাজারো টেস্টেড প্রসেসের মধ্য দিয়ে গিয়ে। ‘স্ট্রীমলাইন’ হয়ে গেছে অনেক প্রসেস। তা না হলে শেয়ারহোল্ডাররা বসে আছেন কি করতে? ইনভেস্টমেণ্টের প্রতিটা পাই পাই পয়সার হিসেব দিতে হয় তাদের।

০৬.

সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অদক্ষতা কমানোর জন্য ‘এনলাইটেনড’ দেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে তাদের কাজের পরিধি। ‘অপারেশনস’য়ে নয় আর, শুধুমাত্র ‘রেগুলেটরী ওভারসাইট’ কাজকর্মে ফোকাস করছে সরকারগুলো। প্রাইভেট সেক্টরকে ওঠানোর জন্য তৈরি করছে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা। আটকাতে নয়। সময়ের সাথে সাথে জটিল হয়ে দাড়াচ্ছে সরকার আর অর্গানাইজেশনের কাজের আউটকামগুলো। এদিকে দক্ষতার সাথে তার পারিশ্রমিক না মেলার কারণে মেধাবী কর্মীবাহিনী হারাচ্ছে সবাই। ‘স্পেশ্যালিস্ট’ কাজগুলো করবে কে তাহলে? সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের নির্ভুল সিদ্ধান্তের পেছনে মানে ‘ব্যাকঅফিস’এর কাজটা আসবে কোথা থেকে?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: