Feeds:
Posts
Comments

Archive for the ‘সময়’ Category

It is not that we have so little time but that we lose so much. … The life we receive is not short but we make it so; we are not ill provided but use what we have wastefully.

― Seneca the Younger, On the Shortness of Life

১০.

ভবিষ্যতের ‘ডট’ দেখতে চাইলে বসতে হবে ঠান্ডা মাথায়। ভুল বললাম, শুধু ঠান্ডা মাথায় নয়, সবকিছু ফেলে বসতে হবে স্থির হয়ে। নো মোবাইল ফোন, নো ইন্টারনেট, নো বূক – একদম খালি হাতে। মনে আছে ফরাসী গণিতবিদ ব্লেইজ প্যাসকালের কথা? তার একটা কথা এখন ঘুরছে সবার মুখে মুখে। ইদানিং। এই মহাব্যস্ত ইঁদুর দৌড়ের সময়ে। “মানুষের অসুখী হবার পেছনে কারণ একটাই। ঠান্ডা মাথায় বসতে পারে না নিজের যায়গায়।” বলে কি ব্যাটা? চাকরির গত তেইশ বছর কি করলাম আমি?

১১.

চষে বেড়িয়েছি অনেক শহর। এই পৃথিবীতে। ‘ডট’এর খোঁজে। এখন বুঝতে পারি শান্তির ‘টাচবেজ’ হচ্ছে স্থির হয়ে বসা, বাসায়। একা। ফিরে আসি অ্যাডমিরাল রিচার্ড বার্ডের কথায়। উনাকে একটা মিশনে থাকতে হয়েছিল অ্যান্টার্কটিকায়। বলতে গেলে একাই। শূন্যর সত্তুর ডিগ্রী নিচের তাপমাত্রায়। পাঁচ মাসের মতো। শুনবেন উনার উপলব্ধি? পৃথিবীর অর্ধেক ‘কনফিউশন’ মানে এলোমেলো অবস্থার সৃষ্টি শুধুমাত্র না জানার কারণে, আসলে আমরা চলতে পারি কতো কমে! সাধারণ জীবনযাত্রায় আমাদের তেমন কিছু লাগে না বললেই চলে। তাহলে এতো ইঁদুর দৌড় কেন? সেটাতো প্রশ্ন আমারও।

১২.

মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগলে ‘টেড’এর বক্তৃতাগুলো শুনি মাঝে মধ্যে। সত্যিকারের ইন্সপায়ারিং! বিখ্যাত মানুষগুলোর সারাজীবনের জ্ঞান উগড়ে দেন মাত্র আঠারো মিনিটে। কে নেই ওখানে? পৃথিবীর “হু’জ হু”দের প্ল্যাটফর্ম ওটা। কে জানে আমিও দেবো কোন একদিন। হাসছেন? ‘গোল’ সেটিংয়ে ওটা রাখতে অসুবিধা কোথায়? দিলাম নাকি দিলাম না – সেটা হয়তোবা বলে দেবে সময়। আর কিছু না থাকলে আমাদের জন্য রয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টিভি স্টেশন। ইউটিউব।

১৩.

শুনছিলাম পিকো আয়ারের কথা। এই ‘টেড’এ। ‘দ্য আর্ট অফ স্টিলনেস।’ অসাধারণ। পড়ছিলাম তার বইটাও। বক্তৃতার নামে নাম। সাবটাইটেল ‘অ্যাডভেঞ্চারস ইন গোয়িং নোহোয়ার’। নিজেকে খুঁজতে পাড়ি দিতে হবে না পাহাড় পর্বত, বসতে হবে স্থির হয়ে কোথাও, থাকতে হবে ‘অ্যাপ্রেসিয়েটিভ’ মানে ‘সপ্রশংস উপলব্ধিপূর্ণ’ চোখ। বাংলায় কঠিন করে ফেললাম নাকি আবার? সোজা কথা – দুনিয়ার ইঁদুর দৌড় থেকে নিতে হবে ‘ব্রেক’! এরপর চালু করতে হবে মনের গভীরের ‘অভিজ্ঞতাপূর্ণ’ স্লাইডশো। খুঁজে পেতে বের করতে হবে আপনার মন ভালো ছিলো কোন কোন মূহুর্তে। ডটগুলো যোগ হতে শুরু করবে ওই ‘স্থির’ হবার পর থেকে। একটু সময় নিয়ে।

১৪.

আচ্ছা, কেমন হয় প্রতিদিন থেকে বের করে নিলেন মিনিট দশেক সময়? অথবা প্রতি মাসে দিন কয়েক? আমার জানা মতে বেশ কিছু মানুষ চিনি যারা আসলেই ‘হাওয়া’ হয়ে যান কয়েক বছরের জন্য। তিন বছর পর ফোন। ছিলেন কোথায়? আফ্রিকার একটা গ্রামে। পুরোপুরি অফলাইন। নিজেকে খুঁজতে। জানতে, কি লাগে ভালো? মন আসলে চায় কি? শান্তি কোথায়? কি করলে ভালো হয়ে যায় মন? সুখী মনে হয় নিজেকে। পুরানো ‘ডট’গুলো দেখিয়েছে নতুন পথের সন্ধান। মনের গহীনে ‘ডাইভ’ দিয়েছিলেন ওই কটা বছর। এসেই ছেড়ে দিলেন ইউনিভার্সিটি’র চাকরি। আবার ডুব। দিন কয়েক আগে এলো একটা ইমেইল। থাইল্যান্ডের একটা গ্রামে স্কুলে পড়াচ্ছেন উনি। হয়তোবা ওটাই শান্তি দিয়েছে তাঁকে। কে জানে।

১৫.

তবে, আমাদের কষ্টটা অন্য যায়গায়। এতো বেশি ইনফর্মেশন আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ‘ফীড’ করছে বর্তমান প্রযুক্তি, আমাদের মাথা আর পারছে না প্রসেস করতে। না পারছে ফেলে দিতে। এই বিলিয়ন বিলিয়ন ওয়েবসাইট, হাজার হাজার টিভি চ্যানেল, ইউটিউবের বিলিয়ন ভিডিও, ফোন, এসএমএস, হাজারো ফোনের কনট্যাক্টস (আমার ফোনের ‘কনট্যাক্টস’ই দেখলাম পনেরো হাজারের মতো – থ্যাংকস টু ক্যামকার্ড), ফেসবুক, লিঙ্কডইন সময় নিয়ে যাচ্ছে আমাদের। ভুল বললাম নাকি? সেকেন্ডে বিলিয়ন কনটেন্ট আপলোড হচ্ছে ইন্টারনেটে। মানুষ তো বাড়ছে না ওই হারে। একটা বই পড়তে যেই সময় লাগে, ওর মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পুরো লাইব্রেরী অফ কংগ্রেসের পাঁচগুণ কনটেন্ট এসে হাজির হয় আপনার আমার সামনে। এই পোস্টটা পড়ার সময় আপনি যতো তথ্য দিয়ে ‘বম্বার্ড’ হচ্ছেন, শেক্সপিয়েরের পুরো জীবনের ইনপুট অতখানি হবে নাকি সন্দেহ। কারণ, ওনার সময়ে ইমেইল আসতো না মিনিটে মিনিটে। ফোনে হতো না ‘কল ওয়েটিং’। ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার? হাসছেন আপনি।

১৬.

‘ইণ্টারাপশন সায়েন্স’ নিয়ে অনেক গল্প হচ্ছে ইদানিং। আপনারা বসেছেন কাজে, ওখানে ব্যাঘাত হচ্ছে কয়বার, সেটা নিয়ে শুরু হয়েছে গবেষণা। বড় বড় গবেষণা। আবার কাজে ফিরতে পারছেন কিনা – আর ফিরতে পারলেও কতো সময় নিচ্ছে আবার মনো:সংযোগ করতে, সেখানে কেমন ক্ষতি হচ্ছে কোম্পানীগুলোর অথবা আপনার নিজের – এটার হিসেব নিয়েই তাদের গল্প। ফোন, ইমেইল, স্মার্টফোন, স্ট্যাটাস আপডেট অথবা আপনার অফিস সহকর্মী অযথাই আপনার অফিসে আসলে শুরু হয় এই সমস্যার। যারা পাইলট, সার্জন অথবা নার্সদের মতো প্রফেশনাল, তাদের কাজে ব্যাঘাত মানে মানুষের জীবন নিয়ে খেলা। আপনি যদি একটা হাসপাতাল চালান, তবে আপনার অপারেশন থিয়েটারে কি ফোন নিয়ে যেতে দেবেন আপনি? আমি হলে দিতাম না। ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনের বাইরে কাজ করছেন একজন ‘ক্রু’, তার জন্য একটা ম্যাসেজ আছে জরুরী, ক্যান দ্যাট ওয়েট? তার কাজ শেষ হবার পর্যন্ত? মনো:সংযোগ বিচ্যুতি’র জন্য আধাঘণ্টার খরচ সামলাবে কে শুনি?

১৭.

ওই গবেষনার আউটপুট দেখে তো আমি থ! ‘নলেজ ওয়ার্কার’ মানে যারা আমরা মাথা বেঁচে খাই তারা প্রতি তিন মিনিটে পাল্টায় তাদের কাজ। টাস্ক সুইচিং। আর একবার ওই কাজ ব্যাহত হলে আগের যায়গায় ফিরতে গড় সময় লাগে আধা ঘন্টার মতো – এই আমাদের। অফিসে বসা লোকদের নিয়ে গবেষনার রেজাল্ট আরো মজার। গড়ে আমদের প্রতি এগারো মিনিট পর পর মনো:সংযোগের ব্যাঘাত ঘটায় এই ‘অলওয়েজ অন’ প্রযুক্তি। আর ওই এক বিচ্যুতির পর ‘পুরোনো’ মানে আসল কাজে ফিরতে গড় সময় নেয় মানুষ – মিনিট পঁচিশ। সাচ আ ওয়েস্ট অফ টাইম! আপনার ব্যবস্যায়িক প্রতিষ্ঠান চালাবেন কিভাবে? বেশিরভাগ কোম্পানীতে সোস্যাল মিডিয়া বন্ধ অফিস সময়ে, কিন্তু তার স্মার্টফোনের জন্য কি নীতিমালা? ফোন বা ইমেইলের নোটিফিকেশন অ্যালার্টের ‘ফ্রিকোয়েন্সি’ কেমন? আর সেটা কি শব্দ করে?

১৮.

আর যতো বেশি ইনপুট আসবে আমাদের দিকে, ততো কম সময় পাবো আসল কাজটা করতে। এই যে আমি লিখছি, তিন চার লাইন পর পর উঠতে হচ্ছে দরকারী কাজে। হয়তোবা বাজছে ফোন, কেউ বা ম্যাসেজ দিচ্ছে বিভিন্ন ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জারে। ওয়াশিং মেশিনের ‘বীপ’ অথবা কিচেন টাইমারের রিং উপেক্ষা করতে পারছি না এই লেখার সময়ও। পিকো’র কথা একটাই – প্রযুক্তি আমাদেরকে দিয়েছে অনেককিছুই তবে ওগুলোর ‘অপটিমাইজড’ ব্যবহার মানে কতটুকু করলেই আমাদের কাজ চলে সেই বোধশক্তিটা দেয়নি খুব একটা। আগে তথ্য সংগ্রহটা ছিলো কষ্টের। আর এখন হাজারো তথ্যের মধ্যে আমাদের কোনটা ‘আসলেই’ দরকার সেটা বেছে নেবার প্রজ্ঞাটা অনেক জরুরী।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

The mystery of human existence lies not in just staying alive, but in finding something to live for.

― Fyodor Dostoyevsky, The Brothers Karamazov

০১.

কর্মজীবন পড়লো তেইশে। তেইশ বছর লম্বা সময় বটে। বয়সও পয়তাল্লিশ হলো বলে। অন্যদের ব্যপারে পুরোপুরি না জানলেও মাঝে মধ্যে ‘ভাসমান’ মনে হতো নিজেকেই। কাজ করছি ঠিকই, মন লাগিয়ে – পাগলের মতো। তবে উঁকি দিতো প্রশ্নটা। মাঝে মধ্যে।

‘আমি কেন এখানে?’

অথবা,

কি চেয়েছি জীবনে? আসলেই কি এটা চেয়েছি জীবনে? যা করছি এখন – সেটাই কি চেয়েছিলো আমার ভেতরের সত্তা?

অথবা,

পৃথিবীতে আসার পেছনে কারণ কি আমার? হোয়াট ইজ দ্য পারপাজ অফ বীইং হিয়ার?

০২.

শিক্ষাজীবন শেষ হবে বলে বলে শেষ হচ্ছে না এখনো। শেষ হবে কি কোনদিন? এদিকে, চালাতে হবে সংসার। আর সে জন্যই কি কর্মজীবন? কর্মজীবনে যাই করেছি বা করছি সেটাতে দিয়েছি মন প্রাণ ঢেলে। নিজেকে প্রশ্নগুলো করা হয়নি কখনো। করবো কিভাবে প্রশ্ন? ‘ইট’স লাইক ডে ইন – ডে আউট’। ক্লান্ত, কিন্তু ডানা মেলে রাখা। ফ্লোটিং মোডে। প্রতিদিন আছড়ে পড়ি একেক যায়গায়। ওখান থেকে ওড়ার আবার আপ্রান্ত চেষ্টা। ‘স্টেইং অ্যাফ্লোট’ হচ্ছে জীবনের লক্ষ্য। আপনারটা না জানলেও আমারটা জানছি ধীরে ধীরে। তবে, যাই করি না কেন, নিজের ভেতরের সাথে নিরন্তর ‘যুদ্ধ’ চলছে বেশ আগে থেকেই। ‘কি চেয়েছি আমি’, অথবা ‘এটাই কি চেয়েছিলাম জীবনে’ এধরনের প্রশ্ন বের করে দিতাম মাথা থেকে। আছি তো ভালোই। বউ বাচ্চা নিয়ে। কিন্তু, দুত্তরি ছাই – এটাই কি চেয়েছিলাম এই আমি?

০৩.

দুহাজার আটে একটা খোঁচা খেয়েছিলাম রান্ডি পাউশের ‘দ্য লাস্ট লেকচার’ থেকে। ভিডিওটা দেখে গিয়েছিলামও ভুলে। পরে একটা ট্রানজিটে এয়ারপোর্ট থেকে কিনে ফেললাম বইটা। আগেও লিখেছিলাম ব্যাপারটা নিয়ে। বাইরের ইউনিভার্সিটিগুলোতে ‘শেষ বক্তৃতা’ নামে একটা ‘চল’ প্রচলিত আছে। ছাত্ররা তাদের প্রিয় ফ্যাকাল্টির ‘শেষ একটা বক্তৃতা’ শোনার জন্য ভার্সিটিকে অনুরোধ করে। বক্তৃতা দেবার আগে প্রফেসরদের ধরে নিতে বলা হয় জীবনের শেষ বক্তৃতা হিসেবে। ধরুন, কাল যদি আর না আসে, তাহলে কি উপদেশ রেখে যেতে চাইবেন তার ছাত্রদের জন্য?

০৪.

কার্নেগী মেলন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর রান্ডি পাউশের গল্পটা জানেন সবাই। তার হাতে সময় ছিল না বললেই চলে। টার্মিনাল ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। প্রথম ক্যান্সারের আক্রমন থেকে পালাতে পারলেও পরেরটা আর ক্ষমা করেনি তাঁকে। এই কয়েক মাসের সীমিত টাইমলাইনে আগের দেয়া ‘শেষ বক্তৃতা’র সিডিউলটা রাখবেন, না পরিবারের সাথে শেষ কয়েকদিন কাটাবেন – দ্বিধায় পড়লেন রান্ডি পাউশ। তার অবর্তমানে স্ত্রী ‘জে’ আর তিন অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যতের ব্যবস্থাও তো করতে হবে এর মধ্যে। ছোট মেয়ে ‘ক্লয়ী’র বয়স মাত্র তখন বারো মাস। মৃত্যুর আগের কিছুটা ‘পার্সপেক্টিভ’ পেলাম বইটা থেকে।

০৫.

ওপরাহ উইনফ্রে’র ‘সুপার সৌল সানডে’ ব্যাপারটা মন্দ লাগে না আমার কাছে। এটা একটা ‘ডে টাইম সিরিজ’ হলেও নামকরা মানুষজন আসেন আলাপ করতে। একবার ডাকা হলো ‘ক্যারোলাইন মেইস’কে। মেইস অনেকগুলো বই লিখেছেন ‘স্পিরিচুয়ালিটি’র ওপর। একেকটা বই লেখেন, সব চলে যায় নিউ ইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার লিস্টে। তার উত্তর হচ্ছে – যখন মনে হবে আমি নিজের সত্তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছি, প্রতিনিয়ত:। মানে আমরা সরে গেছি আমাদের ‘ট্রু কলিং’ থেকে। যখনই নিজেকে আপস করতে হবে ‘ইন্টার্নাল কোর ভ্যালু’র সাথে, হেরে যাওয়া শুরু করলেন তখন থেকে। তবে তার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতে হবে একেবারে ভেতর থেকে। অ্যাম আই ডুইং জাস্টিস টু মাইসেল্ফ? টু মাই জব? আমার আশেপাশের মানুষের জন্য?

০৬.

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন জিনিসটা কি? প্রশ্ন করা হয়েছিল গ্রীক দার্শনিক ‘থেলস’কে। ‘টু নো দাইসেল্ফ।’ নিজেকে জানা। আর সবচেয়ে সহজ? অন্যকে উপদেশ দেয়া। দুহাজার পাঁচে স্টিভ জবসের ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ ব্যাপারটা শুনলেও মাথায় ঢোকাইনি গভীর ভাবে। পরে বুঝেছি ধীরে ধীরে। ওই ‘ডট’গুলো হচ্ছে আপনার আমার জীবনের অভিজ্ঞতা আর ‘দ্য চয়েসেস উই হ্যাভ মেড’। ইতিমধ্যে। আমরা যখন পেছনে তাকাবো জীবন নিয়ে, একটা প্যাটার্ন ফুটে উঠবে আমাদের কাজে। কি কি করেছি আমরা। এটা আমাদেরকে জীবনকে দেখতে শেখায় নতুন একটা ‘পার্সপেক্টিভ’ থেকে। জীবনের হাজারো ‘ইভেন্টে’র পেছনের একটা ট্রেন্ড, আমাদেরকে তৈরি করে দেয় – সামনে দেখতে।

০৭.

ধরে নিন, আমার বয়স চুয়াল্লিশ। আচ্ছা, ধরে নিতে হবে না, এটাই আসল। হলো তো! এই চুয়াল্লিশটা বছর ধরে আমার মাথাকে প্রসেস করতে হয়েছে কোটি কোটি ‘ইভেন্ট’। অনেক অনেক ঘটনা দেখেছি, জিনিস পড়েছি, শুনেছি অনেক কিছু, অনেক কিছু ধরেছি হাতে। পার করেছি অনেক আবেগঘন মুহূর্ত। গিয়েছি নতুন যায়গায়। মিশেছি হাজারো মানুষের সাথে। ‘ইন্টার্নাল ট্রান্সফর্মেশনে’র ভেতর দিয়েও যেতে হয়েছে কয়েকবার। ‘কোটি ইভেন্ট’ মাথায় ধারণ করলেও সেগুলোকে প্রসেস করার সময় কোথায়? ফুরিয়ে আসছেও সময়। ভুল জিনিস শিখে আবার সেটাকে ‘আনলার্ন’ করে নতুন করে শেখার সময় বের করতে হবে এরই মধ্যে।

০৮.

ওই ‘কোটি’ ইভেন্টে’র কতোগুলো নিয়ে চিন্তা করেছি গভীর ভাবে? বেশি নয়। বাদবাকি ‘ইভেন্ট’ পড়ে আছে মাথার স্মৃতিকোঠায়। এই চরম ব্যস্ততার যুগে প্রসেসের সময়ের অভাবে মুছে যাচ্ছে মাথা থেকে ওগুলো। একটা একটা করে। তবে যারা ব্যাপারগুলো নিয়ে চিন্তা করেন অথবা তাদের বিশ্রামের সময় প্রসেস হয় জিনিসগুলো। বিকালে একা বসে থাকলে, ‘ফোন আর বই ছাড়া’ হাজারো জিনিস যোগ হতে থাকে ওই ডটগুলোতে। ঘুমালে, হাটলে, জগিং করলে আমাদের অবচেতন মন এই কোটি তথ্যকে ছোট করতে থাকে ভেঙে ভেঙে।

০৯.

এভাবেই তৈরি হতে থাকে একেকটা ‘ফ্লো অফ আইডিয়া’। কয়েকটা ডট মিলে হয় একেকটা ওয়ার্কফ্লো। যুক্ত হতে থাকে ওই ‘ডটেড’ ইভেন্টগুলো। পাশাপাশি। তৈরি হয় ‘বিগ পিকচার’। ওই সময়ে মনে আসে ‘আহা’ মুহূর্তটা! সময় আর অভিজ্ঞতা থেকেই চলে আসে আরো অনেক ‘ডট’। দুটো ‘ডটে’র মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে নতুন নতুন ‘ডট’ প্রতিদিন। মানে নতুন নতুন প্রসেস করা তথ্য। পেছনের ওই গায়ে গায়ে লাগানো ডটগুলো প্রজ্ঞা দেয় আমাদের তৈরি করতে – সামনের ডট। ভবিষ্যত দেখার প্রজ্ঞা। কিছুটা বুঝতে পারি এখন – কি করতে চাই জীবনে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Time is an illusion. Lunchtime doubly so.

– Douglas Adams, Humorist & sci-fi novelist (1952 – 2001)

০.

পৃথিবী জয় করতে চাই আমরা সবাই। হিসেব করে দেখা গেছে আমরা যারা পারছি না, তাদের বিশাল একটা ‘ছুতা’ হচ্ছে – সময়ের বড় অভাব। ভাবখানা এমন যে, সময় পেলেই করতে পারতাম সবই। হয়তোবা, তাই। তবে, সত্যি কথা হচ্ছে – হাতে সময় আছে ওই চব্বিশ ঘণ্টাই। আমাদের পূর্বপুরুষদেরও ছিলো ওই ‘একই সময়’। কিন্তু সময়ের বড় অভাব আমাদের। হালের সময়ে।

ইদানিং আরেকটা ভিমরতি ধরেছে আমাদের। সবসময় ‘ব্যস্ত ব্যস্ত’ ভাব।

আচ্ছা বলুনতো – নিজেকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ দেখাতে হলে কি করবো আমি?

এর উত্তর হতে পারে কয়েক দিক দিয়ে।

আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন – ‘কেমন আছেন আপনি?’

উত্তরে আমি বলবো হয়তোবা, ‘পাগল অবস্থা ভাই! দম ফেলার ফুসরতই পাচ্ছি না।’ অথচ আপনি জিজ্ঞাসা করেছেন আমি আছি কেমন।

প্রশ্নটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যাই করেন না কেন উত্তর আসবে ওইটাই।

‘দেখাই যায় না আপনাকে, থাকেন কোথায় আপনি?’

অথবা,

‘ইদানিং ফোন টোন ধরেন না, ঘটনা কি?’

১.

গল্পের শুরু ২০০১য়ের দিকে। প্রথম বারের মতো গিয়েছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। কিছুটা লম্বা সময়ের জন্য। থাকতাম ওখানকার এক অজ পাড়া গাঁয়ে। শহর থেকে দূরের একটা অ্যাপার্টমেন্টে। ক্লাসের পর অফুরন্ত সময়। শুরু করলাম রান্না। সময় কাটাতে। কিনেও ফেললাম কিছু কূকিং ইউটেনসিলস। রেসিপি নামাই, মানে নামাই ইন্টারনেট থেকে – আর রান্না করি মনের সুখে। এদিকে, স্বাতী পাঠিয়ে দিলো সিদ্দিকা কবীরের বইটা, স্ক্যান করে। স্বীকার করতে বাধা নেই, রান্নার একটা দরকারী টূল হচ্ছে ‘এগ টাইমার’। কিচেন টাইমার বলেনও অনেকে। যাই বলেন – জিনিসটা হচ্ছে ডিম সিদ্ধ করার একটা টাইমার, তবে ওটা দিয়ে কাজ করতাম অনেক কিছুই। গ্রিল, বেকিং থেকে শুরু করে পাস্তা তৈরি – বাদ পড়তো না কিছুই। ডিমের মতো দেখতে – এক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় রাখতো ওই জিনিসটা। ডিম নয় শুধু, টমেটোর আকৃতির টাইমারও দেখতাম মাঝে মধ্যে। ওই কাছের ওয়ালমার্টে।

২.

পাশের অ্যাপার্টমেন্টের সহপাঠী মাঝে মধ্যে আসতো সময় কাটাতে। উইকডে’র সন্ধাগুলোতে বিশেষ করে। সন্ধায় অন্যান্যরা বারে সময় কাটাতে গেলেও তাকে খুব একটা যেতে দেখিনি বাইরে। কথায় কথায় একদিন চোখে পড়লো ওই এগ টাইমারটা। ওর। ওটা থাকার কথা কিচেনে, সেদিন কেন জানি ওটা ছিলো রীডিং টেবিলে। প্রায় লাফ দিয়েই হাতে নিল ওটাকে। ‘পমোডোরো টেকনিক’ নিয়ে কাজ করছি কিনা জানতে চাইলো সে। এরপর আরো অনেক কিছু বললো – অনেকটাই হিব্রু মনে হলো আমার কাছে। টাইম ম্যানেজমেন্টের প্রথম টূলটা, মানে আমার কাছে প্রথম – শিখিয়ে দিলো হাতে কলমে। ওই সন্ধায়। খুলে গেলো মাথা।

৩.

পৃথিবীর ইঁদুর দৌড়ে পড়ে গেছি আমরা। যতো দিন যাচ্ছে ততোই যান্ত্রিক হয়ে পড়ছি নিজেরা। মাল্টি-টাস্কিং এখন একটা বাজওয়ার্ড। মানুষ একবারেই কাজ করতে চাচ্ছে অনেকগুলো – একসাথে। ফলে, শুরু হয়েছে ‘প্রায়োরিটি’র খেলা। গত এক দশক ধরে ‘হারভার্ড বিজনেস রিভিউ’ পড়ে মনে হয়েছে দুটো কথা। অর্গানাইজেশনগুলো পিছিয়ে পড়ছে তাদের কাজে। হাজারো মাইলস্টোন, ডেডলাইন পড়ছে প্রতিদিন। অটোমেশন মানুষকে স্বস্তি দিলেও এর মাত্রাতিরিক্ত ‘অ্যাবিউসিভ’ ব্যবহার ‘সময়’কে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের কাছ থেকে। মানুষের ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে সমাজে। অর্গানাইজেশনগুলোর ভেতরের ‘ইন্ডিভিজুয়াল’ মানুষগুলোর সময়ের ঠিক ব্যবহার না জানার ফলাফল পড়ছে ওই অর্গানাইজেশনের ‘ওভারঅল’ পারফর্মেন্সের ওপর। আজ ‘টাইম ম্যানেজমেন্ট’ নিয়ে শুরু হয়েছে হাজারো রিসার্চ।

৪.

ঠিক ধরেছেন! টাইম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে লিখতে বসিনি এই বইটাতে। বরং সময়কে কিভাবে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসবেন সেটা নিয়ে গল্প করবো আপনাদের সাথে। অনেকটা বছরই ফাঁকি দিয়েছে ‘সময়’ – এই আমাকে। এখনো দেয় কখনো কখনো। সুযোগ পেলেই। তবে, ফাঁক ফোকরগুলো চিনতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে আমার। ‘সময়’কে হাতের নাগালে আনার শত শত টূলের মধ্যে সেরাগুলো নিয়ে হাজির হবো আপনাদের সামনে। তবে, টূল হাতে নেবার আগে আপনার চাওয়া পাওয়া নিয়ে আলাপ হবে শুরুতে। সব টূল কিন্তু সবার জন্য নয়। ‘আমাদের জন্য টূল’ না ‘টূলের জন্য আমরা’ সেটার গল্প থাকবে কিছুটা। ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়বো না – এটা নিশ্চিত। তার আগে ব্যবচ্ছেদ করবো আমাদের সোনার হরিণ ‘সময়’কে।

রেডি তো আপনি?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: