Feeds:
Posts
Comments

Archive for the ‘স্পেকট্রাম’ Category

We are lost, but we’re making good time.

― Star Trek V

৩৭৭.

বিজনেসের দিক থেকে সবসময়ই কম স্পেকট্রাম পাচ্ছে অপারেটররা। আমাদের দেশের কথা একটু আলাদা। এতো বেশি মানুষ আমাদের দেশে, বিজনেস কেসও চমত্কার, দিয়ে কুল পাচ্ছে না অপারেটররা। কম স্পেকট্রাম, এতো মানুষ! কি করবে তারা? আপনি কি করতেন? ধরুন, আপনি অপারেটর, আছে ‘ক’ পরিমান স্পেকট্রাম। নেটওয়ার্ক তৈরি আছে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জন্য। ওমা, নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বুঝি পয়সা লাগে না? কি করবেন? এমন ভাবে দাম বাড়াবেন যাতে অর্ধেক মানুষ ‘অ্যাফোর্ড’ করতে পারে। এতে নেটওয়ার্কে কমবে ‘কনজেশন’। লাগছে না নতুন ইনভেস্টমেন্ট ওই মূহুর্তে। পয়সাঅলা ব্যবহারকারীরা খুশি। কম মানুষ হওয়াতে স্পীড পাচ্ছে ভালো। পৃথিবীব্যাপী অপারেটররা দাম বাড়িয়েই চাপ কমায় নেটওয়ার্কের ওপর। প্রথম দিকে। ব্যালান্স করতে হবে না নেটওয়ার্ক? বুদ্ধি ভালো, না?

৩৭৮.

তবে একটা পরিমানের স্পেকট্রাম পেলে কষ্টটা কমে অপারেটরদের। কাভারেজ থেকে ক্যাপসিটি বাড়াতে সুবিধা তাদের। বাংলাদেশে সমস্যা যতটা কাভারেজে তার থেকে তাদের মাথার ঘাম ছুটে যায় ক্যাপসিটি বাড়াতে গিয়ে। আজ গ্রাহক ৫ গিগাবাইটের প্যাকেজ নিয়ে খুশি হলেও কালকে কি হবে সেটা বলা মুশকিল। তবে এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার – ভলিউম বাড়ছে দিনে দিনে। মনে আছে এটিএণ্ডটি’র কথা? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এটিএণ্ডটি’র কথা বলছি আমি। ২২৫টা মতো দেশে আছে – ইন্টারন্যাশনাল ভয়েস কাভারেজ। তার মধ্যে ২১০টাতে আছে ওয়ারলেস ডাটা। বিশাল কোম্পানী, তাই না? দশ লক্ষ মাইলের বেশি ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক। ওই দেশে। তার নিজের। আগের গল্প বাদ, ২০০৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত শুধুমাত্র ওয়ারলেস আর ওয়ারলাইন নেটওয়ার্কে ইনভেস্ট করেছে মাত্র ১২০ বিলিয়ন ডলার। শুধু গত বছরেই ইনভেস্ট করেছে ২১.৪ বিলিয়ন।

৩৭৯.

হটাত্‍ ‘এটিএণ্ডটি’কে নিয়ে লাগলাম কেন? আইফোন নিয়ে ভীষণ বিপদে পড়েছিলো এই অপারেটর। আনলিমিটেড ট্রাফিকের কনট্রাক্ট দিয়ে ছেড়েছিলো আইফোন, এই ‘এটিএণ্ডটি’। বিনি পয়সার ফোন, একটা সময়ের জন্য থাকতে হবে নেটওয়ার্কে। পাগলের মতো নিয়ে নিলো মানুষজন। জুন ২০০৭ থেকে শুরু হয়েছিল এই দুই কোম্পানীর এক্সক্লুসিভ ডীল। ‘এটিএণ্ডটি’ আর অ্যাপল বুঝতেই পারেনি শত শত কোর্ট কেসে পড়বে এই নেটওয়ার্ক সার্ভিস দিতে এসে। ভয়েস নেটওয়ার্ক ঠিক থাকলেও ডাটা নেটওয়ার্কের ‘আউটেজে’ পাগল হয়ে গিয়েছিলো এই দুই কোম্পানী। নেটওয়ার্ক বসে যাচ্ছিলো কিছুদিন পর পর। বসতে হলো নতুন ‘আর এণ্ড ডি’তে।

৩৮০.

নতুন বিটিএস এল আরো ‘স্পেকট্রাল এফিসিয়েণ্ট’ হয়ে। পাল্টে ফেললো ফোনের ফার্মওয়ার। ওই একই পরিমাণ স্পেকট্রাম নিয়ে নতুন গ্রাহকদের কিভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত করবে – সেটাই গবেষণা। সরে এলো আনলিমিটেড ডাটা প্ল্যান থেকে। চাপ কমে এলো নেটওয়ার্কের ওপর। নতুন নতুন স্পেকট্রাম ব্লকের জন্য পাগল হয়ে গেলো সব অপারেটর। ‘আর এণ্ড ডি’ থেকে নতুন নতুন ‘অ্যাডভান্সড রেডিও ইন্টারফেস’ নিয়ে এসেও কুলিয়ে পারছে না তারা। সত্যি তাই! তাদের ফোরকাস্ট বলছে ডাটার চাহিদা বেড়েছে এতোটাই যে নতুন নতুন প্রযুক্তিও পাল্লা দিতে পারছে না গ্রাহকের চাহিদার সাথে। তাহলে কি দরকার এখন? ঠিক বলেছেন। স্পেকট্রাম। ব্রডব্যান্ডের অন্যতম কাঁচামাল।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Don’t tell me about your effort. Show me your results.

― Tim Fargo

৩৭৩.

পুরোনো কাসুন্দি না ঘেঁটে সামনে আগাই বরং। ডাব্লিউআরসি-০৭তে যা আলাপ হয়েছে সেটার ধারণায় আমাদের কতো স্পেকট্রাম লাগবে ২০২০ সাল নাগাদ, সেটার প্ল্যানিং করতে হবে আমাদেরই। এখনই। স্যাটেলাইট কম্যুনিটি খেপে আছে মোবাইল ইনডাস্ট্রির ওপর। তারা নাকি নিয়ে নিচ্ছে সব ফ্রিকোয়েন্সি। এদিকে ডিজিটাল টিভি’র মাইগ্রেশনের কারণে বেঁচে যাচ্ছে অনেক ফ্রিকোয়েন্সি, সেটার জন্যও চাপাচপি করছে মোবাইল ইনডাস্ট্রি। তবে দেশগুলো নেই বসে। তাদের ম্যানুফ্যাক্চারিং ইনডাস্ট্রি চাপ তৈরি করছে নিজ নিজ দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। এ এক বিশাল যুদ্ধ। আইএমটি-২০০০তে সনাক্ত করা ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে মাত্র অর্ধেকটা ব্যবহারযোগ্য। বাকিটা দেশগুলো না বুঝে দিয়ে বসে আছে অন্য সার্ভিসে। এদিকে, স্পেকট্রাম না থাকায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে অপারেটররা। গ্রাহক বেশি, পাইপ (স্পেকট্রাম) কম। ব্যবসা করে খেতে হবে তো তাদের। দেশগুলোকে কাজ করতে হবে নতুন স্পেকট্রাম ব্যান্ড ছাড়ার ব্যপারে। অপারেটরদের দেবার ব্যপারে। ডাব্লিউআরসি-১৫এর আগে ২০২০ সালে কতো স্পেকট্রাম দরকার সেটার ‘এষ্টিমেশন’ নিয়ে কাজ করেছে আইটিইউ’র ‘ওয়ার্কিং পার্টি ৫ডি’। হিসেবে বের হলো দেশগুলোর দরকার ১৮০০ মেগাহার্টজ। নিদেনপক্ষে। তার আগের ‘এষ্টিমেশন’ বলছিলো ১১৭২ মেগাহার্টজের কথা। মোদ্দা কথা, খুঁজে পেতে বের করতে হবে আরো ৫০০ মেগাহার্টজের বেশি স্পেকট্রাম। কম নয়।

৩৭৪.

তবে, বলে নেই একটা কথা – এই মোবাইল ট্রাফিকের মোটা পাইপটা কিন্তু সনাতন নেটওয়ার্ক থেকে আসে না। বরং এটাকে যদি বলি এভাবে – মোট ট্রাফিকের ৮০ শতাংশই আসে মোবাইল হটস্পট অথবা ইনডোর কাভারেজ থেকে। হতে পারে সেটা ওয়াইফাই, ফেমটোসেল অথবা ওয়াইডব্যান্ডের ছোট ছোট সেল। অল্প যায়গায়। ‘ইনফরমা টেলিকমস এণ্ড মিডিয়া’ রিপোর্ট তাই বলে। মানুষ চায় বেশি ডাউনলোড স্পীড। সোজা কথায় – বেশি ‘থ্রুপুট’। বেশি ‘থ্রুপুট’ চাইলে মোবাইল বিটিএসগুলো থেকে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলগুলো কাজ করে ভালো। আর সেকারণে গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত চাহিদা আর ভালো সার্ভিসের জন্য অপারেটরদের সাহায্য নিতে হয় সব ধরনের প্রযুক্তির।

৩৭৫.

বাংলাদেশে ‘ইউনিফাইড’ লাইসেন্সিং রেজীম না থাকায় সমস্যা হচ্ছে কিছুটা। যেমন যারা ‘অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার’, গ্রাহকদের কাছে যেতে পারে যারা সরাসরি – যোগাযোগটা তারা স্পেকট্রাম দিয়ে দেবেন, না তার (ফাইবার) দিয়ে দেবেন সেটা ছেড়ে দেয়া হয় অপারেটরের কাছে। যাকে আমরা বলি ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং। আবার, অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার (মোবাইল বা আইএসপি কোম্পানী) ঢুকতে পারবেন না হোলসেল প্রোভাইডারের আয়ত্ত্বাধীন ‘জুরিসডিকশনে’। ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং থাকলে অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডাররা ফাইবার দিয়ে গেলেন না স্পেকট্রাম দিয়ে গেলেন সেটা নির্ভর করবে অপারেটরের ওপর। কারণ তারা লাইসেন্স নিয়েছেন গ্রাহকের কাছে পৌছানোর জন্য। কি দিয়ে যাবে সেটা বিবেচ্য নয় রেগুলেটরের। ফলে তারা তৈরি করবে একটা ‘মিশ্র’ নেটওয়ার্ক। বাসা অফিসে ফাইবার। বাকি যায়গার জন্য কিনে নেবে স্পেকট্রাম। আর তাই স্পেকট্রামকে ‘ডি-লিঙ্ক’ করতে হবে লাইসেন্সিং থেকে। এগিয়ে গিয়েছে সবাই। লাইসেন্সিংয়ে।

৩৭৬.

রাস্তায় কাভারেজ দেবে মোবাইল বিটিএস (এইচএসপিএ/এলটিই)। বড় বড় শপিং মল, স্টেডিয়াম, বহুতল ফ্ল্যাট, বিশাল কণফারেন্স এরিনা – পুরো ‘থ্রুপুট’টাই ছেড়ে দেবে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলের ওপর। অনেক সময় এই ছোট ছোট সেলগুলো সার্ভিস দেয় ওই ফাইবারের ফিক্সড নেটওয়ার্কের মতো। গ্রাহকদের জানতেও হয় না কখন কোথায় সংযোগ পাচ্ছে। ওটা ছেড়ে দেয়া থাকে অপারেটরের ওপর। ফাইবার দিয়ে যাবে বিভিন্ন টিভি সার্ভিস। ‘অন ডিমান্ড ব্রডকাস্টিং’ অথবা নেটফ্লিক্সের মতো ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ সার্ভিস। ওগুলো খানিকটা ‘হেভি ইউসেজ’ সেগমেণ্টের জন্য। আর স্পেকট্রাম দিয়ে যাবে মোবাইল ডিভাইসের সংযোগগুলো। ট্রাফিক হবে কিছুটা ‘অ্যাসিমেট্রিক’, মানে ডাউনলোড বেশি হবে আপলোডের চেয়ে। স্পেকট্রাম দিয়ে কাজ করতে গেলে অপারেটরদের প্রয়োজন প্রায় সব ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি। কিছু প্ল্যানিং নিয়ে আলাপ করি আপনাদের সুবিধার জন্য।

ক॰ ওপরের দিকের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো চমত্কার কাজ করে – বড় বড় ‘থ্রুপুট’এর জন্য। এগুলো দিয়ে বড় ক্যাপসিটি দেয়া যায় গ্রাহকদের। ওয়াইডব্যান্ড বলে ফিক্সড নেটওয়ার্কের কাছাকাছি স্পীড দিতে পারে গ্রাহকদের। এগুলো সাধারণত: ১ গিগাহার্টজ অথবা ৩ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে ভালো। তবে এদের ‘ইন-বিল্ডিং’ পেনিট্রেশন নিয়ে কিছু সমস্যা হয় শহরে। তবে, ঢাকার মতো শহরে – যেখানে ৪০০ – ৫০০ মিটার পর পর রেডিও প্ল্যানিং করা হয় মোবাইল বিটিএসের, সেখানে এই সমস্যা থাকার সম্ভাবনা কম।

খ॰ সুত্র অনুযায়ী, নিচের ফ্রিকোয়েন্সি সুন্দর কাজ করে দূর দুরান্তের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে। যেখানে মোবাইল কোম্পানীর ব্যবসা কম, যদিও বাংলাদেশে ও ধরনের যায়গা পাওয়া ভার – সেখানে এক বিটিএস দিয়ে অনেক বেশি যায়গা নিয়ে যুক্ত করতে পারে গ্রাহকদের। একারণে ৭০০ মেগাহার্টজ নিয়ে পুরো পৃথিবীতে হৈচৈ। ১ গিগাহার্টজের নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো এজন্যই ছেড়ে দেয়া জরুরী। বিটিআরসিতে থাকার সময় শুরু হয়েছিল কাজটা। ভয়েস চ্যানেলগুলো ৭০০ মেগাহার্টজে ‘অফলোড’ করে ৯০০, ১৮০০ আর ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যবহার করা যেতে পারে ডাটার জন্য। আর সামনে তো আসছেই ‘ভয়েস ওভার এলটিই’। ডাটা অল দ্য ওয়ে।

গ॰ ৪০০ মেগাহার্টজের নিচে গেলে ভালো – তবে, বড় হয়ে যাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট। এছাড়া ডিজাইন সমস্যা আছে ওর নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ান কম্যুনিকেশন্স এণ্ড মিডিয়া কমিশনের একটা হোয়াইট পেপার যদিও ব্যাপারটাকে নিয়েছে মেনে, তবে চ্যানেল ব্যান্ডউইডথ কমে এসে দাড়ায় ৬.২৫ কিলোহার্টজে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

People who enjoy waving flags don’t deserve to have one.

― Banksy, Wall and Piece

‘স্পেকট্রাম’ নিয়ে লিখেছিলাম সিরিজ একটা। চলেছিলো সেটা সিরিজ ‘পনেরো’ পর্যন্ত। হটাত্‍ ওটা বন্ধ করে অন্য কিছু শুরু করায় কয়েকজন হুমকি দিয়েছিলেন – ওই যাত্রায়। সামনে যাব ছুটিতে। দেশে। হুমকিদাতাদের সাথে সম্পর্ক ‘সহজ’ করতে স্পেকট্রাম সিরিজের যাত্রা শুরু করলাম নতুন করে। শুরু হলো পর্ব ‘ষোল’।

৩৬৯.

জীবন পাল্টে দিচ্ছে মোবাইল ইন্টারনেট। কারণ প্রায় সবার হাতেই পৌঁছে যাচ্ছে ‘মোবাইল’ নামের চমত্কার যন্ত্রটা। ভুল বললে ‘লাঞ্চ’ খাওয়াবো আপনাদের। নইলে আপনারা খাওয়াবেন আমাকে। সত্যি বলতে, মোবাইল ডাটা ট্রাফিক এতোটাই বেড়ে গেছে যে হিমশিম খেয়ে যাচ্ছে অপারেটররা। ডাটা সার্ভিসের ‘কোয়ালিটি’ ঠিক রাখতে গিয়ে যে পরিমাণ স্পেকট্রাম দরকার – সবার সেটা না থাকায় বাড়িয়ে দিতে হয়েছে দাম। বলতে হবে ডিমান্ড সাপ্লাইয়ের গল্প? নতুন করে? দাম কমালে বাড়বে গ্রাহক, কমবে ওই সার্ভিসটার ‘কোয়ালিটি’। উপায় কি? দিতে হবে আরো স্পেকট্রাম – অপারেটরদের। প্রচুর স্পেকট্রাম এখনো ‘আন-অ্যালোকেটেড’ মানে অব্যবহৃত অবস্থায় আছে পড়ে। আবার, যাদের কাছে ‘অ্যালোকেটেড’ আছে – যথেষ্ট দক্ষতার সাথে ব্যবহার করছেন না তারা। একটু পেছনে তাকাই, কি বলেন?

৩৭০.

আইটিইউ’র মোবাইলের ওপর গ্লোবাল ডাটা ট্রাফিক নিয়ে একটা রিপোর্ট নিয়ে আলাপ করেছিলাম আগেও। আইটিইউ-আর এম.২২৪৩(০০/২০১১)এর হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোবাইল ডাটা ব্যবহার বাড়বে আটগুণ! ওই প্রজেকশন দিয়ে ২০২০ সালে মোবাইল ডাটা ব্যবহার কতো বাড়তে পারে বলবেন কি? একটু সাহায্য করবো? বলেই ফেলি বরং। আমারো ধারণার বাইরে ছিলো ব্যাপারটা। বর্তমান ডাটার গ্রোথ পোটেনশিয়াল কার্ভ দেখে হিসেব করে দেখা গেছে – এটা বাড়বে এক হাজার গুণ! আর পাঁচ বছরে বাড়বে হাজার গুণ! অবিশ্বাস্য! চেয়ার থেকে পড়ে যাবার অবস্থা। আপনার নয়, আমার কথা বলছি আরকি। চিন্তা করছি, মোবাইল কোম্পানী খুলে ফেলবো নাকি? খুলে ফেলবো একটা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী – আমাদের আরজেএসসি থেকে। লিস্টিং করে ফেলবো স্টক এক্সচেঞ্জে পরের বছর। প্রতিটা ‘স্টক’ মানে শেয়ারের দাম হবে দশ টাকা। দরকার আমার ৮০০ কোটি টাকা।

৩৭১.

গুগল করুন ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ – পাগল হয়ে যাবেন আপনি। অথবা – ‘বিওওটি’। এধরনের মেগাপ্রজেক্টের জন্য চোখ রাখতে পারেন থাইল্যান্ডের ‘বিটিএস মাস ট্রানজিট সিস্টেম’এর দিকে। স্কাই ট্রেনগুলো সব তাদের। এই গত বছরই জনগনের কাছ থেকে তুলেছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি টাকা। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের প্রজেক্ট স্পন্সর হিসেবে বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তারা জনগণকেও সম্পৃক্ত করে ওই মেগা-ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিকানা নেবার জন্য। স্কাই ট্রেনে ময়লা ফেলবে না জনগণ। কারণ, এটার মালিক সবাই। শেয়ারের দাম দশ টাকা হলে ক্ষতি কি? থাইল্যান্ডের একদম নতুন টেলিফোন কোম্পানি ‘ট্রু কর্প’ তুলেছে ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ থেকে। নতুন মোবাইল কোম্পানির ভেঞ্চারটার জন্য। একেকটা শেয়ারের দাম ছিলো দশ বাথ করে। স্বপ্ন দেখতে দোষ কি? পৃথিবীর সব উন্নতদেশগুলোর ইতিহাস ঘাটলে মিল পাওয়া যায় একটা যায়গায়। ‘স্যাকরিফাইস’ করেছে একটা জেনারেশন। করলাম না হয় আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থে।

৩৭২.

এটা ঠিক যে আইটিইউতে বেশ কয়েক বছর লেগে যায় একেকটা স্পেকট্রাম ব্লককে প্রথমে ‘আইডেন্টিফাই’ মানে সনাক্ত করতেই। তারপর সেটাকে ‘অ্যালোকেট’ করা হয় আইটিইউ’র রিজিয়ন লেভেলে – সবার সম্মতি নিয়ে। আমরা পড়েছি ‘রিজিয়ন-৩’ এ। এরপর সেটাকে ‘অ্যাসাইন’ মানে ছেড়ে দেয়া হয় দেশের ওপর। এরপর ওই দেশ সেই ‘ব্লক’কে অপারেটরকে কবে দেয় সেটা পুরোপুরি নির্ভর করে ওই দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। ওয়ার্ল্ড অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ রেডিও কণফারেন্স (ডাব্লিউএআরসি-৯২) ১৭১০ থেকে ১৯৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত ছাড় দেয় ‘মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি’ হিসেবে। ওই ১৯৯২ সালে। স্পেনের মিটিংয়ে। ১৯৯৭ সালে ওয়ার্ল্ড রেডিও কণফারেন্স (ডাব্লিউআরসি-৯৭)তে নতুন আরো কিছু মোবাইল ফ্রিকোয়েন্সি যোগ হয় এস-৫.৩৮৮ ‘টেক্সট’ দিয়ে। ওই ১৮৮৫-২০২৫ আর ২১১০-২২০০ মেগাহার্টজকে ছেড়ে দিতে বলা হয় আইএমটি-২০০০ ব্যান্ডের জন্য। রেজল্যুশন ২১২ (ডাব্লিউআরসি-৯৭) দেখলেই ধারনাটা হবে পানির মতো পরিষ্কার। আমাদের উপমহাদেশের দেশগুলো অপারেটরকে ওই ফ্রিকোয়েন্সিটা দিতে লাগিয়েছে মোটে ‘বারোটা’ বছর। ওই বছরগুলো ফ্রিকোয়েন্সিগুলো খেয়েছে ‘বাতাস’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The European Commission has recommended that digital switchover should be completed by 1 January 2012.

– Commission Recommendation 2009/848/EC, of 28.10.2009

৬৪১.

মনে আছে বিটিভি’র যুগের কথা? নতুন জেনারেশনের কাছে ‘প্রস্তর’ যুগের গল্প মনে হতে পারে পুরো ব্যপারটাই। চ্যানেল ‘নয়ে’ সলিড গোল্ড আর সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান নিয়ে সময় কাটছিল ভালোই। ঢাকায় থাকার সুবাদে হাতে পেলাম বাড়তি আরেকটা চ্যানেল। চ্যানেল সিক্স। বিকাল ছয়টার কার্টুন না দেখলে ভাত হজম হতো না আমাদের। স্পাইডার ম্যান, ফ্যানটাস্টিক ফোর, রিচি রিচ, অ্যাকোয়া ম্যান – বলতে হবে আর? মনে আছে ‘গ্রীন হর্নেটে’র কথা? আর সবচেয়ে মজা হতো ভোটের সময় ম্যারাথন প্রোগ্রামে। গুড ওল্ড ডেজ!

৬৪২.

এই বিটিভি হচ্ছে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং। যাকে ব্যবহার করতে হয় মোবাইলের মতো কিছু ফ্রিকোয়েন্সী। ফলে, আপনার টিভি অনুষ্ঠান ধরতে পারে সাধারণ অ্যান্টেনা দিয়ে। রেডিও’র মতো অ্যান্টেনা। ওই হাড়ি পাতিল দরকার ছিলো অন্যদেশের চ্যানেল দেখার জন্য। ওইদিকে আর নাই বা গেলাম। অ্যানালগ ব্রডকাস্টিংয়ে স্পেকট্রাম লাগে প্রচুর। একেকটা চ্যানেল নিয়ে নেয় ৬ থেকে ৮ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ। আর একই ব্যান্ডউইডথে ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং পাঠাবে বিশটার মতো চ্যানেল – সমান মানের। চিন্তা করেছেন কতো লাভ এখানে? আবার, ডিজিটাল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করে ‘সিংগেল ফ্রিকোয়েন্সী নেটওয়ার্কস’, ফলে ওই এক ফ্রিকোয়েন্সী ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা যাবে পুরো দেশজুড়ে। অ্যানালগেও সম্ভব, চেষ্টা করলে।

৬৪৩.

পৃথিবী জুড়ে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং ব্যবহার করছে ‘ইউএইচএফ’ আর ‘ভিএইচএফ’ ব্যান্ড। আল্ট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে এর জন্য দেয়া আছে ৪৭০ থেকে ৮৭২ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। হাসছেন আপনি। তাইতো! ৭০০ মেগাহার্টজের গন্ধ পেয়ে গেছেন এর মধ্যে। সোনার খনি। সত্যিই তাই। আমাদের মতো জনবহুল দেশও ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ভাসিয়ে দেয়ার হিসেব নিয়ে আসবো সামনে। এজন্য এটার নাম হচ্ছে ডিজিটাল ডিভিডেন্ড। মানে ডিজিটাল ট্রান্সমিশনে গেলে কতো শত ফ্রিকোয়েন্সী খালি হয়, সেটা না দেখলে বিশ্বাস হবে না আপনার। গুগল করবেন নাকি একবার ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’ শব্দ জোড়া দিয়ে?

৬৪৪.

ভেরী হাই ফ্রিকোয়েন্সীতে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং চলছে ১৭৩ থেকে ২৩০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বাংলাদেশে পুরোটাই ব্যবহার করছে বিটিভি। চ্যানেল একটা, কিন্তু রীলেগুলোতে ব্যবহার হচ্ছে অন্য ফ্রিকোয়েন্সী। এখানে ‘অপটিমাইজ’ করা যেতো অনেক। নীতিমালায় বলা আছে এই পুরো ব্যান্ডটা ব্যবহার করবে বিটিভি। অথচ এই অ্যানালগ টেরেস্ট্রিয়ালের বাকি ব্যান্ডটা ভাড়া দিয়ে সরকার আয় করতে পারতো শত কোটি টাকা। আর বাঁচাতে পারতো একই পরিমাণ টাকা – স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ। আমাদের বেসরকারী টিভি চ্যানেল চলছে বাইরের দেশের ‘খরুচে’ স্যাটেলাইট দিয়ে। আর জনগণও দেখতো বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো – বিনামূল্যে। ওই অ্যান্টেনা দিয়েই। স্পেকট্রামটা খালি পড়ে আছে দেশের জন্মকাল থেকে।

৬৪৫.

তবে, আমাদের ‘ন্যাশন্যাল ফ্রিকোয়েন্সী অ্যালোকেশন প্ল্যান’ টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিংয়ে বরাদ্দ দিয়েছে ৫২২ থেকে ৬৯৮ মেগাহার্টজ পর্যন্ত। বিশ্বব্যাপী অ্যানালগ ট্রান্সমিশন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ২০১৫তে। ১১৯টা দেশ মেনে নিয়েছে ১৭ জুন ২০১৫ তারিখটা। তবে উন্নত দেশগুলো ‘অ্যানালগ টু ডিজিটাল সুইচওভার’ করে নিয়েছে ওই ‘কাট-অফ’ তারিখের আগেই। সবাই নিজের ভালো বোঝে! আর সুবিধাও হাজার খানেক! আপনার বাড়ির পাশের পানের দোকানও ‘অ্যাড’ দিতে পারবে ওখানে।

৬৪৬.

আমার বইয়ের কাহিনী অন্যখানে। এই ‘ডিজিটাল ট্রানজিশনে’ সবচেয়ে লাভ দেশের মোবাইল ব্রডব্যান্ডের। অ্যানালগ থেকে বেঁচে যাওয়া ফ্রিকোয়েন্সী দিয়ে দেয়া যাবে দেশের ব্রডব্যান্ড গল্পে। এইজন্যই এটার নাম ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’। পাঁচ মেগাহার্টজ ব্যান্ডউইডথ দিয়ে ‘থ্রীজি’ সার্ভিস? হয় নাকি কখনো। আমাদের মতো শত কোটি মানুষের দেশে? আর ডিজিটাল টেলিভিশন মানুষের জীবন কি সহজ করে দেবে সেটা নিয়ে অপেক্ষা রাখে না বলার। এর ভ্যালু চেইন উচ্চমার্গের।

৬৪৭.

ফিরে আসি আমার গল্পে। স্পেকট্রাম। ইউরোপিয়ান কমিশন তাদের স্পেকট্রামের ওপর দিয়ে দেয়া সার্ভিসগুলোর দাম যোগ করতে গিয়ে পেল ২৫০ বিলিয়ন ইউরোর ওপরে। এটা পুরো ইউরোপের বাত্‍সরিক জিডিপির ২.২ শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে পেল ১৯.১ বিলিয়ন ডলার। সেই দুহাজার আটে। বিক্রি করেছিলো মাত্র ৫৬ মেগাহার্টজ। জার্মানী বিক্রি করলো ৬০ মেগাহার্টজ ওই দুহাজার দশে। ৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড থেকে। পেয়েছিলো ৩.৫৭ বিলিয়ন ইউরো। ফ্রান্স ওই ৬০ মেগাহার্টজ বিক্রি করে আয় করেছিলো ২.৬ বিলিয়ন ইউরো।

৬৪৮.

দাম নিয়ে সবার বক্তব্য কি হবে সেটা না জানলেও একটা জিনিস বুঝি ভালোভাবে। এর দাম হওয়া উচিত্‍ ‘অপুরচুনিটি কস্ট’এর ভিত্তিতে। গ্রাহকদের ‘নাভিশ্বাস’ তুলে নয়। আমার দেশের ‘পারচেজিং প্যারিটি’ মানে কেনার ক্ষমতা আর জিডিপিকে তুলনা করা যাবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে। লিখেছি আগে এব্যাপারটা নিয়ে। ভালো কথা, স্পেকট্রাম তুমি কার?

মজা জানেন কোথায়? কেন দাম উঠছে এতো? ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে (আমাদের ওয়াইম্যাক্স ব্যান্ড) দশ গুণ বেশি বেজস্টেশন লাগবে যদি একই জায়গা ‘কাভার’ করতে হয় ওই ৮০০ মেগাহার্টজ দিয়ে। মজা আছে আরো।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Outstanding leaders go out of their way to boost the self-esteem of their personnel. If people believe in themselves, it’s amazing what they can accomplish.

— Sam Walton

৬০৮.

ইন্টারনেটের সফল দেশগুলোর নাম তো জানেন সবাই। ওদের ইতিহাস পড়ছিলাম এক এক করে। এদের প্রায় প্রত্যেকেই ইন্টারনেটের শুরুর দিকে জোর দেয় ডিমান্ড ‘ফ্যাসিলিটেশন’ – ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ানো গল্প নিয়ে। সে কারণে তাদের আগের নীতিমালাগুলো ‘সাপ্লাই সাইড’ থেকে ‘ডিমান্ড তৈরি’ নিয়ে ব্যস্ত ছিলো বেশি। বাজার তৈরি করা থেকে শুরু করে ইন্টারনেট মানুষের কি কি সুবিধা দিচ্ছে সেটা নিয়ে জোর প্রচারনা ছিলো সবসময়ে। সরকারী প্রতিটা অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গিয়েছিলো ইন্টারনেটে। ইন্টারনেট মানে স্বচ্ছতা – নয় কোন দালালী – মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের নিশ্চিহ্ন করার যা যা ব্যবস্থা নিতে হয় সব করেছিলো দেশগুলো। ইন্টারনেটকে সহজলভ্য করার হাজারো পন্থা বের করেছিলো গনশুনানী করে। পার্টনার করে নিয়েছিলো ইনডাস্ট্রি স্টেকহোল্ডারদের। বলেছে – কমিয়ে দাও ইন্টারনেটের দাম – কি লাগবে তোমাদের? কোথায় কোথায় পাল্টাতে হবে নীতিমালাগুলোকে? দেখিয়ে দাও, ঠিক করে দিচ্ছি এক এক করে। যা যা পেরেছে ঠিক করে দিয়েছে রেগুলেটর।

৬০৯.

নিয়ে আসো আরো গ্রাহক বান্ধব সেবা, নিয়ে যাও ওই ‘বটম অফ দ্য পিরামিডে’র লোকটার কাছে। ওর কাছে পৌছানো মানে হচ্ছে সবার কাছে পৌছানো’র কাজটা হয়েছে ভালোভাবেই। পিরামিডের সবচেয়ে নিচের স্তরে যে মানুষগুলো আছে তাদের দেখভাল করবে কে? ওই দেখভাল করার জন্য ছাড় দাও অপারেটরদের, উইন উইন সিচ্যুয়েশন। আমরা দেখবো অপারেটরের কিছু দিক, তখন সেও দেখবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষটকে। কত ছাড়ে কতো সুবিধা – সেটা আবার দেখবে রেগুলেটর। রেগুলেটরের রোল পাল্টে গেছে অনেক আগেই – বুদ্ধিমান দেশগুলোতে। টেলিকম রেগুলেটর ইদানিং দেখছে শুধুমাত্র স্পেকট্রাম আর নাম্বারিং। বাকি সব চলে গেছে ‘কনজ্যুমার প্রোটেকশন’ আর ‘কম্পিটিশন’ এজেন্সির কাছে। গ্রাহকস্বার্থ ব্যাপারটা কতো বড় জিনিস সেটা বুঝেছি অনেকগুলো রেগুলেটরের ‘অ্যানুয়াল রিপোর্ট’ দেখে। সাইটে আছে দেয়া। ‘বুদ্ধিমান’ দেশগুলোতে গেলে ওটা ছিলো একটা ‘মাস্ট’ আইটেম – নিয়ে আসার।

৬১০.

আরেকটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি ভালো করেই – ইন্টারনেটে সফল দেশগুলোর অনেকেই মুখাপেক্ষী হয়ে ছিলো না অপারেটরদের ওপর। সরকারী টাকা খরচ হয়েছে ‘এসপিভি’র ওপর। তৈরি করেছে ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাক্চার। যুক্ত করেছে গ্রামগুলোকে শহরের সাথে, বিছিয়েছে হাজারো কিলোমিটারের ফাইবার অপটিক কেবল। এসপিভি, স্পেশাল পারপাজ ভেহিকেল। সবার অংশগ্রহণে একটা কোম্পানী। সরকারের একটা ‘স্টেক’ থাকলেও ম্যানেজমেন্টে হাত দেয় না। ওটা ছেড়ে দেয়া থাকে দক্ষ ম্যানেজমেন্টের ওপর। এটা নিয়ে লিখেছি অনেকবার। মনে আছে বিটি, ব্রিটিশ টেলিকমের কথা? ইনফ্রাস্ট্রাক্চার কোম্পানীর সংখ্যা দুটোই যথেষ্ট। পুরো দেশকে যুক্ত করবে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ – সব ব্যাকবোনে। অ্যাক্সেস কোম্পানীগুলো, হতে পারে মোবাইল, পিএসটিএন অথবা আইএসপি – তাদের ‘লাস্ট মাইলের’ আগের ‘মিডল মাইল’ নেবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার কোম্পানী থেকে। লাস্ট মাইলে এখনো দারুন কাজ করছে স্পেকট্রাম।

৬১১.

আসল কথাটা বলিনি এখনো। সরকারী ফান্ডের একটা বড় অংশ যায় ‘আর এণ্ড ডি’তে। মানে, ইউনিভার্সিটিতে। রিসার্চ ছাড়া দুনিয়া অচল। ইন্টারনেটকে কিভাবে ছড়িয়ে দিতে হবে পুরো দেশে – এটা নিয়েই তৈরি হয় বিশাল বিশাল প্রজেক্ট। নীতিমালা বানানোর প্রজেক্ট। কোন নীতিমালায় পয়সা নষ্ট হবে কম। ওর মধ্যে থাকবে দেশীয় কনটেন্ট তৈরির জন্য বিশাল প্রণোদনা, কারণ তাহলে সবই ‘হোস্ট’ হবে দেশের ভেতর। এছাড়া ওই কনটেন্টগুলো পড়তে পারবে সবাই। মনে আছে জিপিটি’র কথা? ‘জেনারেল পার্পাজ টেকনোলজি’। বললে হবে না যে – “বুঝি না ইন্টারনেট”। দরকার পড়লে হাসপাতালের উচ্চপ্রযুক্তির জিনিসপত্র বুঝতে পারছি কিন্তু আমরা – তাহলে সাধারণ মোবাইল ব্যবহার করে পরীক্ষার ফী দিতে পারবো না কেন?

দরকার প্রযুক্তি ব্যবহার করার প্রায়োগিক বিদ্যা। এই প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওই দেশগুলো – তাদের বয়স্কদের। চালিয়েছে ‘ডিজিটাল লিটারেসী প্রোগ্রাম’। ওর কিছু ‘স্যাম্পল’ও ছিলো আমার কাছে। দূরে নয়, সিঙ্গাপুরে গেলে পাবেন ভুরি ভুরি।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Effective leadership is not about making speeches or being liked; leadership is defined by results not attributes.

— Peter Drucker

৬০৩.

একটা কথা বলে রাখি চুপি চুপি, ‘ওয়ারলেস অ্যাক্সেস’ রাজত্ব করবে আরো অনেক বছর। বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে। ফিক্সড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার যেখানে তৈরি হয়নি শুরুর প্ল্যানিংয়ের অভাবে। আমার মতে, ‘ওয়ারলেস অ্যাক্সেস’ হচ্ছে একটা ‘স্টপ গ্যাপ’ সলিউশন। মানে পুরো সলিউশন না আসা পর্যন্ত একটা ‘মেকানিজম’। বসে তো থাকবে না কেউ। তবে, এটা চলবে না শত বছর ধরে। ওয়ারলেস সারাজীবন রাজত্ব করবে ‘গ্যাপে’ – বাসা থেকে যাচ্ছেন অফিস, অফিস থেকে বাসা, ট্রিপে যাচ্ছেন শহরের বাইরে। অথবা বিদেশে। আর, বাসায় থাকবে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড। অফিসে কথা আর নাই বা বলি। স্পেকট্রামের কিছু ‘ইনহেরেন্ট’ সমস্যার কারণে এটা ফিক্সড এর মতো অতো ‘রেজিলিয়েণ্ট’ পারে না হতে। মাল্টিপল বিমফর্মিং ছাড়াও আরো অনেক প্রযুক্তি আসলেও ‘ফিক্সড’ হচ্ছে ‘গ্যারানটিড’ ধরনের জিনিস। স্ট্রীমিং ভিডিও দেখছেন ওয়ারলেস ইন্টারফেসে। চলছে ভালই, আবহাওয়া খারাপের কারণে হোক আর সিগন্যাল দুর্বলের জন্য হোক – দরকারী ‘থ্রু-পুট’ না পেলে সবই মাটি। ভিডিও কণফারেন্সে সমস্যা করলে তো ব্যবসাই শেষ।

৬০৪.

‘ওইয়ার্ড’ মানে তারের ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে তার না কাটা পর্যন্ত চলতে থাকবে আজীবন। অফিসে, বাসায় মূল লাইনটা আসছে ওই তারের ইনফ্রাস্ট্রাক্চার দিয়ে, বাকিটা হয়তোবা শর্ট রেঞ্জ অ্যাক্সেস পয়েন্ট নিচ্ছেন কেউ কেউ। ‘ওয়াই-ফাই’কে আমরা তারের ইনফ্রাস্ট্রাক্চারেই ধরে নেই। তবে বাসার আর অফিসের ডেস্কটপ তারেই যুক্ত। ভিডিও কণফারেন্স চলে তারের ওপর। বিদেশে গেলেও অফিসে পাচ্ছেন কেবল। হোটেলেও পাচ্ছেন ওয়াই-ফাই, যার পেছনে রয়েছে শক্ত ‘কেবল’ ইনফ্রাস্ট্রাক্চার। মানে হচ্ছে – রাস্তায়, বাসে, বিমানে, গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজন পড়ছে এই ওয়ারলেস অ্যাক্সেস। ভবিষ্যতের কথা বলছি কিন্তু। বাসে, বিমানেও পাওয়া যাচ্ছে ওয়াই-ফাই, বড় বড় শহরেও আসছে মেট্রো-ওয়াই-ফাই। মোবাইল অপারেটরের স্পেকট্রামের বহুল ব্যবহার হবে আরো দশ বছর, এই বাংলাদেশে। সংখ্যায় বলবো সামনে।

৬০৫.

বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট আসবে এই ফিক্সড ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে। আমাদের এই বাংলাদেশে। আসতেই হবে। টাকা উড়ে বেড়াচ্ছে পুরো পৃথিবীতে, আফ্রিকাতে, আসতে চাইছে বাংলাদেশে। অনেকে জানে না নীতিমালা। বিশ্ব ব্যাংকের একটা স্টাডি পড়ছিলাম কাল রাতে। বুদ্ধিমান দেশগুলো খুঁজে বের করছে ‘নেক্সট জেনারেশন নেটওয়ার্ক গ্যাপ’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এটাকে বলছে ‘নেটওয়ার্ক অ্যাভেইলিবিলিটি গ্যাপ’। ওই অংশটার দাম কয়েক বিলিয়ন ডলার। মানে এখানে উদ্যোক্তারা বের করে নিতে পারেন তাদের বিজনেস কেস। ‘পয়সাঅলা’ দেশের গল্প আলাদা। এনবিএন, ন্যাশন্যাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বের করছেন ‘স্টিমুলাস’ মানে প্রণোদনা প্যাকেজ। অস্ট্রেলিয়ার গল্প বলতে বলতে হয়রান করে ফেলেছি আপনাদের। সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডের একই অবস্থা। ভুললে চলবে না, ব্রডব্যান্ড কিন্তু একটা ইনফ্রাস্ট্রাক্চার।

৬০৬.

ভুল বুঝবেন না, ব্রডব্যান্ড বোঝাতে ‘কেবল’কেই বোঝায় উন্নত দেশগুলোতে। তবে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে হলেও লাগবে স্পেকট্রাম, আমাদের মতো দেশে। দশ মেগাহার্টজের নিচে একেকটা চ্যানেল প্ল্যান? উহু, ওটাকে বলা যায় না ব্রডব্যান্ড। এজন্য দরকার আরো স্পেকট্রাম – দিতে হবে অপারেটরদের। হিসেব কিন্তু দিয়েছিলাম আগে। প্রথম ‘থ্রীজি’ লাইসেন্সটা ড্রাফট করার সময় নূন্যতম ব্যান্ডউইডথ দেবার কথা বলেছিলাম দশ। চার দশে চল্লিশ। চারটা অপারেটর। একজন নিতে পারে পনেরো। আমার দেশকে চিনি ভালোভাবে। এখানে ‘কাভারেজ’ ইস্যু নয়, বরং অপারেটরদের ঘুম হারাম করে দিচ্ছে ক্যাপাসিটি’র সমস্যা। ইন-বিল্ডিং সলিউশন নিয়ে আসছেন ফেমটোসেল দিয়ে। বিল্ডিং কোডে রাজউককে বলে দিতে হবে এগুলোর ‘প্রোভিশনিং’য়ের কথা। দশের নিচে চ্যানেল প্ল্যানে বিটিএস কিনতে কিনতে পাগল হয়ে যাবে অপারেটর। মাঝখান দিয়ে গ্রাহক পাবে না দরকারী গতি। এমন নয় যে আমাদের ঘাটতি আছে স্পেকট্রামের। পড়ে আছে এখনো বেশ কিছু। ওটা ব্যবহার না হলে ক্ষতি সবার। ওটার এনপিভি মানে ‘নেট প্রেজেন্ট ভ্যালু’ যাচ্ছে কমে দিন দিন। আবার অপারেটরদের ‘স্পেকট্রাল এফিশিয়েণ্ট’ করতে লাগবে ‘বুদ্ধিমান’ রেগুলেটর। দরকার ভারসাম্যতা। প্রতিটা নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট কিনতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। উপায়?

৬০৭.

বুদ্ধিমান দেশগুলো ফাইবার নেটওয়ার্ক দিয়ে ভরে ফেলছে মেট্রো এরিয়াগুলোকে। সরিয়ে ফেলছে পুরোনো ‘পয়েন্ট টু পয়েন্ট’ স্পেকট্রাম ব্যাক-হল। দেয়া লাগছে না আগের মতো স্পেকট্রাম চার্জ। ওই স্পেকট্রাম বরং দেয়া যেতে পারে নতুন অপারেটরদের। এই স্পেকট্রাম ‘রিভোকেশন প্ল্যান’ করতে হবে রেগুলেটরকে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে হবে না বাজারে? লাস্ট মাইলে থাকবে স্পেকট্রাম – আরো অনেক বছর। বিশেষ করে আমাদের মতো দেশে। তাই মোবাইল অপারেটররাও তারের স্বাদ দিতে চাচ্ছেন তাদের গ্রাহকদের। যুক্ত করছেন তাদের থ্রীজি/এইচএসপিএ+/এলটিই বিটিএসগুলোকে একেবারে ফাইবার দিয়ে। গিগাবিট ইথারনেট। মালয়েশিয়াতে তো এটা একটা লাইসেন্সিং শর্ত। থ্রীজি’র ব্যপারে। এলো থ্রীজি এতদিন পর, মন ভরাতে হবে গ্রাহকদের। অনেক গ্রাহক হলেই না দাম কমবে ইন্টারনেটের। দুই শার্টে একটা ফ্রী, একহাজার শার্টে দাম অর্ধেক। প্রত্যেকটার। জানতে হবে ওই ‘ক্রিটিক্যাল মাস’টার কথা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

ক॰

সমস্যাটার শুরু প্রায় এক দশক আগে। ছুটাছুটির চাকরি। আজ এখানে তো কাল ওখানে। শেষমেষ ‘পীস কীপার’ হিসেবে পোস্টিং হলো কঙ্গোতে। ঘুরাঘুরিই বেশি। ঘুমের সময় ছাড়া বাকিটা হিসেব করলে – পুরোটাই রাস্তায়। নিজ দ্বায়িত্বের এলাকা, যাকে বলে ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ – ইঞ্চি ইঞ্চি করে না জানলে বিপদ। মানুষের জীবন বলে কথা। পুরো এলাকা থাকতে হবে নিজের নখদর্পণে। কন্সট্যান্ট ভিজিল্যান্স। পায়ে হাটা অথবা গাড়ি – পায়ের মাইলোমিটারে লাখ মাইল পার হয়েছে নিশ্চিত।

খ॰

রাস্তায় নামলেই হাজার চিন্তা কিলবিল করে মাথায়। একটা এদিকে হলে আরেকটা ওদিকে। মাথা মুন্ডু ছাড়া চিন্তাভাবনা। দিন কয়েক পর বেস ক্যাম্পে ফিরলে বসতাম ইউএন এর কচ্ছপ গতির ইন্টারনেট নিয়ে। সভ্যতার সাথে একমাত্র ‘ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ’ – ওই স্যাটেলাইট লিংক। একসময়, প্লট করতে শুরু করলাম চিন্তাগুলোকে। ‘চ্যানেলাইজ’ করতে তো হবে কোথাও। একেকটা চিন্তা একেকটা ডট। কানেক্টিং দ্য ডট’স ব্যাপারটা বুঝলাম অনেক পরে। চল্লিশের আগে নাকি ব্যাপারটা আসে না মাথায়?

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

জ্ঞান তো হলো অনেক, অভিজ্ঞতা কাজে লাগালে আসবে প্রজ্ঞা। সেটাকে প্রয়োগ করলেই উন্নতি। দেশের।

গ॰

আগের ঘটনা আরো চমত্‍প্রদ। কঙ্গোতে যাবার ঠিক আগ মূহুর্তে ফিরেছিলাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিগন্যাল স্কুল থেকে। থাকতে হয়েছিল লম্বা সময়ের জন্য। প্রায় নব্বই বর্গ মাইলের পৃথিবীর সবচেয়ে বড় টেলিকম্যুনিকেশন ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি। যায়গাটাও জর্জিয়ার একটা অজ পাঁড়া গাঁয়ে। সন্ধার পর কুপি জ্বলার মতো অবস্থা। স্কূল থেকে ফিরে কাজ না পেয়ে হাত দিলাম রান্নায়। কাঁহাতক আর খাওয়া যায় ফাস্ট ফুড! পিএক্স থেকে এটা কিনি, ওটা কিনি। বাসায় এসে ভয়াবহ ধরনের ‘টেস্ট এণ্ড ট্রায়াল’। অসুবিধা কি? গিনীপিগ তো নিজে। ক্ষান্ত দিলাম স্মোক ডিটেক্টরের পানির ঝাপটা খেয়ে। বার কয়েক। তবে, একেবারে ক্ষান্ত নয়, কমিয়ে দিলাম গতি। মনোযোগ সরালাম নতুন দিকে।

ঘ॰

বিশাল লাইব্রেরী। এটা ওটা ইস্যু করি, টাইম লিমিটও অসহনীয় লম্বা। পুরনো পত্রিকা, দুস্প্রাপ্য বই সব মাইক্রোফিশেএকদম নতুন বই লাইব্রেরীতে না থাকলেও সেটা কিনে এনে চেকআউট করিয়ে রাখতেন লাইব্রেরিয়ান। আমাজনের বেস্টসেলার লিস্ট দেখা অভ্যাসে পরিনত হয়ে গেলো ওই সময়ে। অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম ‘বেস্টসেলার’গুলো লিখছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মানে, পেশাদার লেখক নন তারা। সাহস পেলাম। যাই লিখি, পাঠক পেতেই হবে বলেছে কে? মনের খোরাক মেটানোর জন্য লেখা। ওই বিরানব্বই থেকে। সেথ গোডিংয়ের গলা শুনি প্রায়ই। শিপ, বাডি! শিপ!

ঙ॰

দেখা গেলো ওই ‘বেস্টসেলার’দের কেউ ছিলেন স্টক এক্সচেঞ্জের হর্তাকর্তা, কেউ সিআইয়ের চীফ। ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার। সরকারী কর্মকর্তা। নেভী সীল। ফুটবল কোচ। জিমন্যাষ্ট। তারা লিখছেন পেছনের অনেকগুলো বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে। ব্যর্থতা থেকে সফলতার গল্প। যা আসলে সাহায্য করছে ওই পড়ুয়া মানুষদের। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে। বিতর্কিত জিনিস নিয়ে যে লেখা হয়নি তা নয়। লিখেছেন রেচেল মোরানের মতো পেশাজীবীরা। মানে – লেখা হয়েছে প্রায় সব বিষয় নিয়ে। বের হয়ে এসেছে অনেক সমস্যার কথা। সেই ভুল থেকেও শিখছে দেশ। সমালোচনা নিতে পারার মানসিকতার দেশগুলো ওপরে উঠছে দ্রুত। আবার লিখছেন জাতির পিতারা। আজকের ‘আধুনিক’ সিঙ্গাপুরের পেছনে যিনি ছিলেন তারো বই আছে কয়েকটা। নেলসন ম্যানডেলা’র বইটা পড়েছেন নিশ্চয়। সাতাশ বছরের অবিচারের ঘৃণাটা মূহুর্তে গিলে ফেলার ঘটনাটা অজানাই থাকতো বইটা না পড়লে। পড়ছি সবই, বুঝতে পারছি ভালো মন্দ। মন্দটা ফেলে ভালো নিয়ে এগুচ্ছি সবাই আমরা, সময়ের বিবর্তনে। অন্যের কাছ থেকে শিখে। পেছনে লেগে নয়।

চ॰

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের লেগেছে দুশো বছর প্রায়। শুধু শিখতেই। শিল্পবিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো তাদের অভিজ্ঞতার কথা। জাহাজে করে। সেটা কাজে লাগিয়ে ওই ব্রিটেনের সাথে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। ‘লীড টাইম’ কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওই শেখার চর্চাটা ধরে রেখেছে বলে তারা এখনো শীর্ষে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন শত বিপত্তির মধ্যে উদ্ভাবনা দিয়ে আছে টিকে। নিজেদের দেশে মানুষ কম বলে বাইরের বাজার দখলে ব্যস্ত তারা। এখন বোকারাই বলে যুদ্ধের কথা, বাজার দখলে কে কাকে বাজার বানাতে পারে সেটাই হচ্ছে বড় যুদ্ধ। রক্তপাত ছাড়াই ‘আউটবাউন্ড’ ক্যাশফ্লো!

ছ॰

এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের ‘ঠেকে শেখা’র অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! তার সাথে মেশাও ‘লোকাল কন্ডিশন’। আমি এটাকে বলি, ‘ঘুটা’, মানে জ্ঞানের ডিফিউশন। মেলাও হাজারো জ্ঞানের অভিজ্ঞতা। গরীব দেশ হলেও কোন সরকারী কর্মকর্তাকে তো মানা করা হয়না বৈদেশিক ভ্রমনে না যেতে। অথচ কর্পোরেট হাউসে কৃচ্ছতা সাধনে প্রায় সবই চলছে ভিডিও কনফেরেন্সে। দেশের একটাই চাওয়া, শিখে আসা জ্ঞানটা কাজে লাগবে দেশের উন্নতিতে। প্রাথমিক জ্ঞানটা পাবার পর বাকিটা শেখার বাহন হচ্ছে ইন্টারনেট। আর সেকারণে ইন্টারনেট নিয়ে লাগা। জ্ঞান ছড়িয়ে আছে সব যায়গায়, দরকার তার প্রয়োগ।

ঝ॰

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পেলেন জ্ঞান ‘ক’। এদিকে সিংগাপুর দিলো ‘খ’ জ্ঞান, ভিয়েতনাম থেকে নিয়ে এলেন ‘গ’। এখন – আমাদের স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্ডিকেটরের সাথে মিলিয়ে যেটা যখন কাজে লাগে সেটাই ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অনেকে এটাকে বলে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। মানে, যেটা কাজ করেছে অনেক যায়গায়। ‘ওয়েল টেস্টেড’। টেস্ট পেপার সলিউশনের মতো কিছুটা। দেখা গেছে – ওভাবে কাজটা করলে জিনিসটা মার যাবার সম্ভাবনা কম। টেস্ট এণ্ড ট্রায়ালের পর ফুলপ্রুফ হয়েই নাম হয়েছে ‘বেস্ট প্র্যাক্টিসেস’। দেশের ‘লোকাল কন্ডিশন’কে বেস্ট প্র্যাকটিসে ঘুঁটানোতেই রয়েছে মুন্সিয়ানা। ইন্টারনেটকে ছড়িয়ে দেবার ওই ধরনের ‘টেম্পলেট’ নিয়ে কাজ করেছি গত সাত সাতটা বছর।

ঞ॰

মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? ‘আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে’। উন্নতবিশ্বের আজকের যা উন্নতি তার সবটাই এসেছে ওই ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস’ কথাটার ওপর ভিত্তি করে। আজ জানি আমরা ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। নতুন করে ওই ট্রাংজিস্টর উদ্ভাবন না করে বরং কোটি ট্রাংজিস্টরের চিপসেট দিয়ে আর কি কি করা যায় সেটাই ভাববার বিষয়। আর তাই আগের জ্ঞানের ‘ডিফিউশন’ দিয়ে নতুন উদ্ভাবনা কাজে লাগিয়ে ওপরে উঠছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

য॰

সামরিক বাহিনীর স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমার বিটিআরসিতে আসা। টেকনোলজি নিয়ে একসময় লিখতাম কিছু পত্রপত্রিকায়। শুরুতেই ঝামেলা। ব্রডব্যান্ড, ইন্টারনেট – নতুন যাই লিখি সেটা নিয়ে মাথা নাড়াচ্ছিলেন অনেকেই।

“ভালো, তবে সমস্যা অন্যখানে। এটা সম্ভব নয় এদেশে।”

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

সময় কিন্তু যাচ্ছে চলে। জ্ঞানকে অভিজ্ঞতায পরিণত করতে লাগবে সময়োচিত দর্শন, যুক্ত হবার অদম্য স্পৃহা। লাগবে রেগুলেটরী রেফর্ম। দরকার নেই প্রযুক্তি জানার, নীতিনির্ধারণীদের।

বলেন কি? অবাক হয়ে তাকাই উনাদের দিকে। নীতিমালায় আটকানো আছে জিনিসগুলো। মানে আমরা আটকে আছি আমাদের জালে। জিনিসপত্র না জানার ফলে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। যুক্ত থাকার হাজার সুবিধার মূলে হচ্ছে মানুষের মুক্তি। সেটা প্রথমে আসবে অর্থনৈতিক মুক্তি থেকে, জ্ঞান দেবে আমাদের প্রাপ্যতার নিশ্চয়তা। সোশ্যাল মিডিয়ার বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করেছিলাম একটা এজেন্সিতে বসে। যুক্ত থাকার ফলে আজ যা দেখছেন, এটা আইসবার্গের ছোট্ট একটা টিপ। আরব বসন্ত, একটা উপসর্গ মাত্র। পালটাচ্ছে পৃথিবী, পাল্টাবো আমরাও। ভালোর দিকে। দরকার ইন্টারনেটের মতো কিছু টুলস।


The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

― Mark Twain

র॰

বইগুলো লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। ‘এভারনোট’ আর ‘কীপের’ ভয়েস মেমোতে। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইগুলোর ব্যবস্থা।

ল॰

আরেকটা সমস্যা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমাকে – ওই ছোটবেলা থেকে। কোন জিনিস ধরলে সেটার শেষ না দেখলে ঘুম আসে না আমার। বিশাল বিপদ। আগে ভাবতাম সমস্যাটা আমার একার। ভুল ভাঙ্গলো দুনিয়া দেখতে দেখতে। ইনডাস্ট্রিতে একই অবস্থা। একেকটা রিসার্চ, সফল না হওয়া পর্যন্ত পড়ে আছে মাটি কামড়ে। মনে আছে, হেনরী ফোর্ডের ভি-৮ সিলিন্ডার তৈরির কথা? এই কৌশল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি, এরোস্পেস, নাসা, ঔষধ গবেষণা সহ প্রচুর স্পেসালাইজড প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার হচ্ছে। আজকের এয়ারবাস এ-৩৮০, দোতলা উড়োজাহাজ এতো সহজে আসেনি। উনিশশো অষ্টাশির গবেষনার ফল পাওয়া গেছে এপ্রিল দুহাজার পাঁচে, উড়োজাহাজটাকে উড়িয়ে। এরপরও আরো দুবছরের বেশি হাজার হাজার ‘সেফটি টেস্ট’ আর অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পর প্রথম বানিজ্যিক ফ্লাইট চালায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স। অন্য কিছু নয়, ওড়াতেই হবে – তাই উড়েছে উর্রুক্কুটা। কেউ জেদ ধরেছিলো, আট দশ ফ্লাইটের তেল দিতে পারবো না। এক ফ্লাইট এর তেল নাও, নইলে অন্য ব্যবসা দেখো। বোয়িংয়ের ড্রিমলাইনারটাও তৈরি হয়েছে কয়েকটা জেদি মানুষের জন্য। সৃষ্টিকর্তা মানুষকে উজাড় করে দিয়েছেন তার জ্ঞানকে। বাকিটা আমাদের পালা।

শ॰

আজকের ‘ইন্টারনেট’ (যা পৃথিবীকে পাল্টে দিচ্ছে) এর আবিস্কারের পেছনে একই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। দেশ চেয়েছে ব্যয়বহুল সার্কিট সুইচিং থেকে বের হতে, ডিফেন্স অ্যাডভান্সড রিসার্চ প্রজেক্টস এজেন্সী, সংক্ষেপে ‘ডারপা’ বিভিন্ন উনিভার্সিটিতে ঢেলেছে অঢেল পয়সা, দিয়েছে অনেক সময়। প্রজেক্ট ‘ফেইল’ করেছে হাজারো বার, হাল ছাড়েনি তারা। ফলে তৈরী হয়েছিল আরপানেট, বর্তমান ইন্টারনেট এর পূর্বসুরী। আজকের বিদ্যুত্‍ বাল্ব তৈরি করতে থমাস এডিসনকে চেষ্টা করতে হয়েছিল হাজার বারের বেশি। রিপোর্টার জানতে চেয়েছিলেন তার ‘হাজারবারের ব্যর্থতার অনুভুতির কথা’। এডিসনের জবাব, ফেইল করিনি তো হাজার বার। বরং, লাইট বাল্বটা তৈরি করতে লেগেছিলো হাজারটা স্টেপ।

ষ॰

টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় ভাসা ভাসা কাজের উপযোগিতা কম। রেগুলেশনেও একই অবস্থা। দরকার স্পেশালাইজেশন – বাজার বুঝতে। ঢুকতে হবে ভেতরে, অনেক ভেতরে। পুরোটাই অর্থনীতিবিদদের কাজ। ভবিষ্যত না দেখতে পারলে এ ব্যবস্যায় টিকে থাকা কঠিন। টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোর জাহাবাজ লোকেরাও মাঝে মধ্যে অত ভেতরে ঢুকতে পারেন না। স্পেশালাইজেশন বলে কথা। সেখানেই আসে টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং কোম্পানিগুলো। ওদের কাজ একটাই, আর এন্ড ডি, সারাবছর ধরে। আবার সেই কনসাল্টিং ফার্ম একই ধরনের কাজ করে বেড়াচ্ছে সব টেলিযোগাযোগ কোম্পানির জন্য। স্পেশালাইজড না হয়ে যাবেই বা কোথায় তারা? আর সেই সল্যুশনের জন্য মিলিয়ন ডলারের নিচে কথা বলেন না কেউই। আর বলবেন নাই বা কেন? এধরনের আর এন্ড ডির জন্য কম কষ্ট করতে হয়না তাদেরকে। প্রচুর রিপোর্ট পড়েছি এই কনসাল্টিং ফার্মগুলোর। রিপোর্টতো নয় যেনো হাতের রেখা পড়ছেন। ভবিষ্যত দেখা যায় রীতিমত। মিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং বলে কথা। টার্গেট দিন এক কোটি কর্মসংস্থানের। তৈরি করে দেবো প্রায়োগিক ফর্মুলা। হতে বাধ্য। জানতে হয় ভবিষ্যত দেখতে। বিগ ডাটা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে বুঝতে পারি খানিকটা।

ট॰

তাই বলে সব কনসাল্টিং ফার্ম এক নয়। আমাকে জিজ্ঞাসা করলে, কনসাল্টিং ফার্মের দোষ না দেখে যিনি কাজ দিয়ে বুঝে নেবার কথা – তার কম্পিটেন্সিতে ঘাটতি থাকলে রিপোর্ট খারাপ হতেই পারে। আমি কিনছি রিপোর্ট, না বুঝে কিনলে কনসাল্টিং ফার্মের দোষ দিয়ে লাভ কি? গরীবদেশগুলোতে প্রচুর কনসালটেন্সি হয় বটে, তবে সে দেশগুলো সেগুলো ঠিক মতো বুঝে নেবার সামর্থ বা জ্ঞান থাকে না বলেই ঝামেলা হয়। ডোনারদের টাকায় কনসাল্টেন্সি হলে সেটার অবস্থা হয় অন্য রকম। রিপোর্ট নিজের মনে করে বুঝে নিতে পারলে সেটার দাম মিলিয়ন ডলারের বেশি। সে ধরনের রিপোর্ট বুঝে নিয়েছিলাম বেশ কয়েকটা। পোস্ট-ডক করা যাবে কয়েকটা।

ঠ॰

কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হলো বিশ্বখ্যাত অনেকগুলো টেলিযোগাযোগ কনসাল্টিং ফার্মের সাথে। এর সাথে যোগ হলো ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) আর কমনওয়েলথ টেলিকম্যুনিকেশন অর্গানাইজেশনের (সিটিও) আরো অনেক ইন্ডিপেন্ডেন্ট কনসালটেন্ট। ধারণা পেলাম তাদের কাজের। পড়তে থাকলাম আরো হাজারো রিপোর্ট। দামী সব রিপোর্ট, তবে তার দাম কোনো কোনো দেশ বা এজেন্সি দিয়ে দিয়েছে আগেই। পরিচয় হলো ওভাম, অ্যাকসেন্চার, কেপিএমজি, পিডাব্লিউসি, নেরা আর এনালাইসিস ম্যাসনের মতো তুখোড় তুখোড় ফার্মের সাথে। আবার নিজের প্রতিষ্ঠানেরই কাজ করতে পরিচয় হলো মার্কিন ফার্ম টেলিকমিউনিকেশনস ম্যানেজমেন্ট গ্রূপ, ইনকর্পোরেশন (টিএমজি)র সাথে। তাদের ধরনটাই বুঝতে সময় লেগেছিলো বেশ। তলই পাচ্ছিলাম না প্রথমে। বিলিয়ন ডলারের কনসাল্টিং কোম্পানি বলে কথা। পরিচয় হলো অনেকের সাথে। বন্ধুত্ব হলো অনেকের সাথে। হাতে ধরে দেখিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ‘ফল্ট-লাইন’গুলো।

ড॰

একসময় তল পেলাম এই ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্মগুলোর কাজের ধারার। পৃথিবী জুড়ে কাজ করার ফলে কোথায় কি সমস্যা সেটা তারা জানে ভালো। আর সেটা থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দেয়া ওদের একমাত্র কাজ বলে ওটাও সে জানে ‘অসম্ভব’ ভালো। গরীব দেশগুলোতে হাজার কোটি টাকার ম্যানেজমেন্ট কন্সাল্টেনসি করে টাকা বানালেও সেটার ব্যর্থতার দায় দেয়া যাবে না তাদের ওপর। ওই দেশের – যাদের ‘কন্সাল্টেনসি’টা বুঝে নেবার কথা তারা ‘ছাড়’ দিলে কাজ হবে কিভাবে? উন্নয়নশীল দেশগুলোকে তাড়াতাড়ি ওপরে উঠতে হলে লাগবে কন্সাল্টেনসি, তবে সেটা ‘পাই’ ‘পাই’ করে বুঝে নেবার মতো থাকতে হবে মানুষ। দু চারটা বৈদেশিক ভ্রমণে ব্যাপারটা উপেক্ষিত হলে জ্ঞান আর প্রজ্ঞাটা হারায় দেশ।

ঢ॰

ব্যাপারটা অনেকটা বিজনেস প্ল্যান কেনার মতো। ও আমাকে বানিয়ে দিলো একটা। না বুঝে দিয়ে দেবো পয়সা? সমস্যা হয় যখন সেটা হয় ‘সরকারী’ মানে জনগণের পয়সা। একারণে উন্নতদেশগুলো ছোট করে নিয়ে আসছে সরকারগুলোকে। যাই হয় সব পার্টনারশীপে। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। ‘উইন’ ‘উইন’ ব্যাপার। পয়সা লাগলো না সরকারের। কর্মসংস্থানও হলো। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।


There is no ‘poor’ country, they are ‘poorly’ managed.

― Slightly modified

ণ॰

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

স॰

সফটওয়্যারের মানুষ হিসেবে শূন্য ভার্সন থেকে শুরুতে বিশ্বাসী আমি। শুরু করতে হবে কোথাও। নিউটনের কথায় ফিরে আসবো আবার। ষ্টান্ডিং অন দ্য সোল্ডার অফ জায়ান্টস। আমাদেরও এগুতে হবে পূর্বসূরীর অভিজ্ঞতার ওপর ভর করে। গাছ রোপণ করার কথা ছিল বিশ বছর আগে। সেটা না হলে কি থাকবো বসে? বরং – লাগাবো আজই। বাংলাদেশের ‘যুক্ত’ হবার এজেন্সিতে চাকরি করার সুবাদে গরীব দেশ আমার ওপর যা ইনভেস্ট করেছে সেটা ফিরিয়ে দেবার জন্য নিয়েছি নগণ্য একটা প্রয়াস। নাম দিয়েছি প্রজেক্ট ‘গিভিং ব্যাক’। ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন ব্যাপারটাকে। ব্রডব্যান্ডে সফল দেশগুলোর ধারণা নিয়ে ‘আমাদের আঙ্গিকে’ কোডটাকে ‘ক্র্যাক’ করতে চেষ্টা করেছি মাত্র। আর, পয়সার জন্য ওর সাথে থাকবে ইনফ্রাস্ট্রাক্চার ফান্ড। আর এসপিভিলাগবে এটাও

দরকার আপনার সুচিন্তিত মতামত। ওই মতামতের ওপর ভিত্তি করে কাঠামোগত পরিবর্তন আনবো বইগুলোতে।

প্রি-প্রোডাকশন স্টেজ: কাজ চলছে এখনো

প্রথম বই: ইন্টারনেটের মুল্যঃ যে কারনে এখনো ধরাছোয়ার বাইরে

দ্বিতীয় বই: বাতাস ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি: দক্ষ স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা পাল্টে দিতে পারে বাংলাদেশকে

তৃতীয় বই: রেগুলেট অর নট টু রেগুলেট? চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেটর ও বাংলাদেশ

* লিংকগুলো যুক্ত করা হয়েছে কয়েকটা ব্লগপোস্টের সাথে। পুরো বইগুলো আসবে আস্তে আস্তে – প্রিন্টে।


০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৪
সাশান্দ্রা, আইভরি কোস্ট

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: