Feeds:
Posts
Comments

Archive for the ‘Life – জীবন দর্শন’ Category

Most good programmers do programming not because they expect to get paid or get adulation by the public, but because it is fun to program.

– Linus Torvalds

ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায়।

বিশাল একটা দিন আজ। ১২ই সেপ্টেম্বর। প্রোগ্রামারস’ ডে।

আমাদের প্রতিটা মুহূর্তকে এগিয়ে নিতে এই প্রোগ্রামারদের অবদান আমরা জানি সবাই। সামান্য লিফটের বাটন থেকে শুরু করে প্রতিটা রিমোট কনট্রোল, হাতের মুঠোফোন থেকে টিভি, জীবনরক্ষাকারী সব মেডিকেল ইকুইপমেণ্টের পেছনে রয়েছে শত থেকে হাজার লাইনের কোড। আমাদের এই মুঠোফোনের অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিষ্টেমেই আছে দেড় কোটি লাইনের কোড। আর সেকারণে যন্ত্রটা যেকোন মানুষ থেকে ভালো চেনে আমাদের। আমাদের ভালোমন্দ – পছন্দ অপছন্দ জানে অনেকটাই। জানবে আরো বেশি। সামনে। কারণ একটাই। জিনিসটা আমাদের সাহায্যকারী একটা অংশ।

সৃষ্টিকর্তা তার গুণগুলোকে অল্প অল্প করে দিয়েছেন মানুষকে। এর মধ্যে ‘জিনিস তৈরি’ করার ক্ষমতাটা অতুলনীয়। উদ্ভাবন করার ক্ষমতা। সেইগুণ দিয়ে অনেকটাই অজেয় হয়ে উঠছে মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ে কিছুটা এক্সপোজড থাকার কারণে ভবিষ্যত দেখার ‘ছোটখাট একটা উইনডো’ তৈরি হয় আমাদের সামনে। তাও সবসময় নয়, মাঝে মধ্যে। খেয়াল করলে দেখবেন, মানুষ নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবার অনেক ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছে যন্ত্রের হাতে। আমিও চাই তাই। কয়েকটা লিফটের মধ্যে কোনটা ‘কতো তলায় থাকার সময়’ কোন কলে আপনার কাছে আসবে সেটাতো ছাড়িনি লিফটম্যানের হাতে। ‘লিফটম্যান’ বলে অপমান করা হয়েছে মানুষকে। আমাদের অনেক ‘অনেক’ কাজ রয়েছে সামনে।

চেয়ে দেখুন, সামান্য ড্রাইভিং থেকে শুরু করে বড় বড় উড়ুক্কযান চলে গেছে অটো-পাইলটে। সামনে আরো যাবে। সোজা হিসেব। মানুষ দেখেছে, একটা সীমার মধ্যে বেশ কয়েকটা সিদ্ধান্তের ভেতরে “কী প্রেক্ষিতে কে কী করবে” সেটা আগে থেকে ঠিক করে দিলে যন্ত্র কাজটা করে নির্ভুলভাবে। মানুষের মধ্যে অনেক ‘বায়াসিং’ বিভ্রান্ত করলেও যন্ত্র সেটা করে ঠিক করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় কিছু নয় কিন্তু। মানুষের ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’কে ওয়ার্কফ্লোতে ফেলে যন্ত্রকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়তি কিছু জিনিস। তেমনি এই মানুষেরই তৈরি ‘সুপারভাইজড লার্নিং’ দিয়ে নিজের কাজের ফীডব্যাক নিয়ে শিখছে নতুন নতুন জিনিস। মানুষকে চিনতে। আরো ভালোভাবে।

মানুষ এখনো অসহায় – অনেক কিছুর কাছে। জলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, আর হাজারো রোগ আসবে সামনে। এগুলো ঠেলেই এগুতে হবে – আরো অনেক। সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন ‘এক্সপ্লোর’ করতে। জানতে। যেতে হবে লাইট ইয়ার্স দূরের নতুন নতুন গ্রহাণুপুঞ্জে। যদি জানতাম আমরা, সৃষ্টিকর্তা কী অভূতপূর্ব জিনিস ছড়িয়ে রেখেছেন নক্ষত্রপুঞ্জে। আর সেকারণেই অফলোড করতে হবে আরো অনেক সময়ক্ষেপণকারী ‘সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা’। আমাদের সহায়তাকারী যন্ত্রের কাছে। দরকার কোটি কোটি … কোটি লাইন লেখার ‘উদ্ভাবনাশক্তি’ সম্পন্ন প্রোগ্রামার। সামনের দিনগুলোতে। যন্ত্রকে শিখিয়ে দেবার জন্য। ওর পর, শিখিয়ে দেয়া হবে মানুষের ভেতরের ‘সুপারভাইজড লার্নিং’ সিকোয়েন্স। যন্ত্রকে। যাতে, ও নিজে থেকেই লিখতে পারে কোড।

মানুষের কাজ অন্যকিছু। সেটা বের করবে এই মানুষই।

মোদ্দা কথা, যন্ত্রকে ভয় নেই। মানুষই মাত্রই ‘চিন্তা’ করতে পারে। যন্ত্র নয়। সৃষ্টিকর্তাই মানুষকে তৈরি করেছেন ওই সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারা দিয়ে। তাকে খুঁজতে। জানতে তাকে। আরো ভালোভাবে।

যেতে হবে বহুদূর।

ঈদ মুবারক।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Learn to get in touch with the silence within yourself, and know that everything in life has purpose. There are no mistakes, no coincidences, all events are blessings given to us to learn from.

– Elisabeth Kubler-Ross, the author “On Death and Dying”

বইটার নাম দেখেই নাক সিটকেছিলাম বোধহয়। না হলে কিনলাম না কেন? আটানব্বইয়ের কথা। ‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল।’ ‘ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড’ অর্থে গেলে হয় ‘আত্মার জন্য মুরগীর ঝোল’। বলে কী? এই বই কিনে পয়সা নষ্ট করার মানুষ না আমি।

দশ বছর পরের কথা। বুদ্ধিশুদ্ধি হয়েছে আরো। এবার যেতে হলো ওয়েস্ট কোস্টে। ‘সানি’ সান-ফ্রান্সিসকোতে। উঠলাম একটা পারিবারিক ধরনের হোটেলে। মানে, নিজের বড় বাসাকে পাল্টে নিয়েছে একেকটা গেস্টরুম ধরে। বুড়ো-বুড়ি মাথার ওপর থেকে চালালেও ব্যবসাটার খুঁটিনাটি সবকিছু বড় মেয়ের হাতে। আমার থেকে কিছুটা ছোট হবে। হোটেল ব্যবসায় যতোটুকু আন্তরিক হওয়া উচিত তার থেকেও বেশি আন্তরিক ছিলো মেয়েটা। বিশেষ করে এশিয়ানদের প্রতি। সে গল্প আরেকদিন।

সকালের বিনিপয়সার ব্রেকফাস্ট করতে যেতে হতো একটা বড় হলওয়ে দিয়ে। মজার কথা হচ্ছে পুরো হলওয়ের দুপাশটা অনেকগুলো বইয়ের ‘শেলফ’ দিয়ে ভর্তি। হাজারো বই। তার চেয়ে ভালো লাগতো ওই বইগুলোর গন্ধ। সকালের কফি, মাফিন আর বেকনের গন্ধ ছাপিয়ে বইয়ের গন্ধ খারাপ লাগতো না মোটেই।

আচ্ছা, ড্যাফনি – কিছু বই নিতে পারি রুমে? সন্ধার পর বেশ কিছু সময় নষ্ট হয় এমনিতেই। তোমাদের টিভি’র চ্যানেল মাত্র কয়েকটা।

ভাঙ্গাচোরা হলেও দুটো পয়েন্ট দাড়া করিয়েছি বলে শান্তি শান্তি লাগছিল মনে।

চোখ মটকালো মেয়েটা। মনে হচ্ছে হলিউড ফেল। ফেল তো হবেই। আমরা তো হলিউড স্টেটে। ব্লণ্ডদের নামে যে দুর্ণাম সেটাও উতরে যাচ্ছে সে।

ওমা! টিভি দেখবে কোন দুঃখে? আমাদের নাইটলাইফ পৃথিবী সেরা! তুমি চাইলেই পরিচয় করিয়ে দিতে পারি আমার কিছু বন্ধুবান্ধবীদের সাথে। ফোন দেবো ওদের?

এ আবার কী বিপদ ডেকে আনছি এই সকালে! মিনমিন করে কয়েকটা বই চাইতে যেয়ে এ বিপদে পড়বো জানলে ওমুখো হয় কী কেউ? শেষমেষ হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পেলাম ওর বন্ধুদের হাত থেকে। নাইটক্লাবে গেলে ডেজিগনেটেড ড্রাইভার হিসেবে ফ্রী সোডাটাই যা লাভ।

এই ড্যাফনি’র হাত ধরে আবার এলো ‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল’ সিরিজের দুটো বই। আমার নেয়া কয়েকটা বইয়ের মধ্যে কিছুটা জোর করেই ঢুকিয়ে দিলো বই দুটো। কথা না বাড়িয়ে বইগুলো নিলাম ওর হাত থেকে। দিন কয়েক পর এক উইকেন্ডে বন্ধুর বাসায় দাওয়াতে যেতে হলো আমাকে। ট্রেনে যেতে যেতে কী পড়বো বলে মনে হতে নিয়ে নিলাম ওই দুটো বই।

প্রথম গল্পেই ঝাপসা হয়ে গেল চোখ। জীবনের ‘ডার্কেষ্ট আওয়ার’গুলোতে সাধারণ মানুষগুলোর অসাধারণ গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনটা ভিজে রইলো পুরো সময়টা ধরে। ছোট্ট ছোট্ট সত্যিকারের গল্প। আসলেই, খুব সুন্দর করে লেখা। চিকেন স্যুপ যেমন করে পেটের জন্য সহনীয়, গল্পগুলোও তাই। মনের জন্য।

ট্রেন স্টেশনে এসেছিল বন্ধু আমাকে নেবার জন্য। ও ঠিক ধরে ফেললো ব্যাপারটা। ক্যাডেট কলেজ থেকে দেখছে না আমাকে? হাতের বইটা হিন্ট দিয়েছে হয়তোবা। মজার কথা, ওই সিরিজের বেশ কয়েকটা বই বের হলো ওর বাসা থেকেও। সেই থেকে জ্যাক ক্যানফিল্ডের বিশাল ভক্ত আমি।

‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল’ সিরিজের প্রথম দিকের একটা গল্প হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে। ঠিক ধরেছেন, উনি হচ্ছেন আব্রাহাম লিন্কন। অধ্যবসায় মানে ‘নাছোড়বান্দাভাবে জিনিস চালিয়ে’ নেবার ব্যাপারটা মনে হয় এসেছে উনার কাছ থেকে। আরেক রবার্ট ব্রূস। চরম দারিদ্র থেকে উঠে আসা এই মানুষটা সারা জীবন বিফলতা ছাড়া কিছু দেখেননি বলে আমার ধারনা। তার জীবনের টাইমলাইন কিন্তু তাই বলে।

আট আটটা ইলেকশনে হারলে ওই পথ আর মাড়ায় কেউ? দুবার ব্যবসা করতে গিয়ে খুইয়েছিলেন সব। বিয়ের পর হারান তার প্রিয়তমাকে। আরো কয়েকটা বিপদে পড়ে বড় ধরনের নার্ভাস ব্রেকডাউন হয় তার। বিছানায় পড়ে ছিলেন ছয়মাস। চাকরি হারান কয়েকবার। কিন্তু হাল ছাড়েননি কখনো। আর সেই লেগে থাকাই তাকে নিয়ে গেছে সর্বোচ্চ জায়গায়। আর ওই বিফলতা তাকে শিখিয়েছে নম্র আর বিশাল হতে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The reader does not start by knowing what we mean. If our words are ambiguous, our meaning will escape him. I sometimes think that writing is like driving sheep down a road. If there is any gate opens to the left or the right the readers will most certainly go into it.

– C. S. Lewis

০১.

টেকনোলজি ভিত্তিক লেখালিখির চাহিদা বরাবরই কম। আবার, ব্যাপারটা এমন যে এটাকে ফেলে দিতে পারছে মানুষ একেবারে, সেটাও না। প্রতিদিন এটাকে কাজে লাগিয়ে সময় না বাঁচালে মানুষ সেটা ব্যবহার করবেই বা কেন? এদিকে ম্যানুয়ালের মতো রসকষহীন জিনিসটাকে একদম না পছন্দ মানুষের।

উপায় কী?

০২.

অনেক দেশ জিনিসটাকে ফেলে দিয়েছে মাঝামাঝি একটা জায়গায়। ডামিজের কথাই ধরুন। ‘এটা ফর ডামিজ’, ‘ওটা ফর ডামিজ’ – কোন বিষয়ের ওপর বই নেই ওদের? সেদিন একটা টাইটেল পেলাম, ‘সেলাই ফর ডামিজ’। যাব কোথায়? ওদেরই আছে প্রায় তিন হাজারের মতো টাইটেল। ‘কমপ্লিট ইডিয়ট গাইড’ সিরিজটা হচ্ছে আরেক পাগলের কারখানা। ‘টিচ ইওরসেল্ফ’ সিরিজটাও কিন্তু অনেক নামকরা। বইগুলো আপনাকে ডক্টরাল জিনিসপত্র না শেখালেও প্রাণহীন জিনিসকে কিভাবে উপস্থাপন করতে হয় – সেটা চেয়ে দেখাও একটা আর্ট। ওই মুগ্ধতায় বইয়ের পর বই কিনি ওই আর্ট শিখতে। বিষয় কঠিন, কিন্তু উপস্থাপন দেখে মনে হবে লেখা হয়েছে বারো বছরের বালকের জন্য।

০৩.

বছরখানিক ধরে একটা বড় সুযোগ হয়েছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে পড়ার। জন বিবর্জিত আফ্রিকার সময়টা পড়ার পাশাপাশি ভাবিয়েছে আমাকে বরং। প্রোগ্রামিং শিখলে সমস্যা সমাধানে যে বিশাল ‘আই-ওপেনিং’ হয় সেটা যারা জানেন তারাই বলতে পারবেন কতোটা এগিয়েছেন অন্যদের থেকে। পাওয়া জ্ঞান, মানে যেটা আছে এমুহুর্তে আর লজিক নিয়ে মানুষ কিভাবে ‘রিজনিং সিস্টেম’ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সেটা জানতে গিয়ে বোকা বনে গেলাম নিজে। আমাদের সরকারী-বেসরকারী হাজারো সংস্থায় অনেক কাজ ঝুলে থাকে সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার আমাদের ‘কগনিটিভ বায়াস’ মানে ‘জ্ঞানীয় পক্ষপাত’ অনেক সিদ্ধান্তকে ফেলে দেয় পানিতে। প্রয়োজনীয় সব উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও। মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতা কিছুটা ধরতে পারছি বলে মনে হচ্ছে আমার। বিশেষ করে ইদানিং। একটা ভালো ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’ একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে সেটা দেখা যায় ‘রেড ডট’কে দেখলে। অথচ, ওই দেশটা দুর্নীতিতে ছিল সেরা।

০৪.

নিউইয়র্কের একটা রাইটিং ওয়ার্কশপে গল্প শুনেছিলাম একটা। ওই ইনিয়ে বিনিয়ে বলা গল্পটার অর্থ হচ্ছে ‘যদি বেশি শিখতে চাও, তাহলে লেখা শুরু করো ব্যাপারটা নিয়ে।’ তবে এটা ঠিক যে যখনই শুরু করবেন লেখা, আপনার ‘মাইন্ডসেট’ আপনা আপনি ‘অ্যালাইন’ হওয়া শুরু করবে বিষয়টার সাথে। জিনিসটা বোঝার বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে লিখতে লিখতেই। ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে প্রথমে শুরু হবে ব্লগপোস্ট। পরে সেটা বই হবে কিনা সেটা বলবেন আপনারা।
সমস্যা একটাই।

০৫.

সিরিজটার নাম নিয়ে। যেটার ‘রিফ্লেকশন’ গিয়ে পড়বে বইয়ের নামেও। ডামিজের মতো ‘বেকুবদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বললে চটানো হবে আমাদের। মানে পাঠকদের। ‘আমজনতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা ‘বোকাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বললে একটাও বাড়ি পড়বে না মাটিতে সেটা আর না বলি।

এখন বলুন, কী নাম দেব সিরিজটার? একান্ত সহযোগিতা চাইছি আপনাদের।

[ক্রমশ:]

[আপডেট]

অনেকগুলো নাম পেয়েছি ফেসবুক থেকে। বিশেষ কিছু নিয়ে এলাম এখানে। এখনো আঁকুপাকু করছে মন। ধারনা করছি আরো ভালো কিছু নাম দেবেন আপনারা।

Mahbub Farid: আমাদের সময় ছিল, ‘মেইড ইজি’ – বাই এন এক্সপার্ট হেডমাস্টার..

Mahbub Farid: naveed used to do a show ‘ busy der easy’ show. so you can think in that line. instead of straight away insulting the intelligence of the readers, you can blame their ‘busy’ schedules, and then provide a solution they can grasp despite their preoccupation.

Humaid Ashraf: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজ/সরল পাঠ” – কেমন হয়?

Ragib Hasan: সিরিজের নাম দেয়াটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন হলো আপনি এই সিরিজে কয়টি বই লিখবেন? আমার নিজের লেখাগুলা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নানা কাজ করার প্রকৌশল বলে আমার বইগুলার নামে “কৌশল” আছে, যেমন বিদ্যাকৌশল, মন প্রকৌশল এরকম। আপনি এই ক্ষেত্রে বিদেশী সিরিজের নামের আক্ষরিক অনুবাদ না করে বরং আপনার উদ্দেশ্য কী তার উপরে ভিত্তি করে নাম ঠিক করতে পারেন। যেমন ধরেন হতে পারে “সহজ সরল অমুক”। আমার পরিচিত ছোটভাই এবং শিক্ষক.কম এর একজন নামকরা শিক্ষক Jhankar Mahbub তার প্রোগ্রামিং এর বইয়ের নাম যেমন রেখেছে “হাবলুদের জন্য প্রোগ্রামিং”। এভাবে ভাবতে পারেন।

Don Michel: আগ্রহীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

Iftekhar Hossain: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অতিপ্রাকৃত চিন্তা”

Abu Abdulla Sabit: স্মার্টফোন পরবর্তী জীবনঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ট্রিলিয়ন ডলার আইডিয়া সমূহ।

আমার মন বলছে আরো ভালো কিছু নাম অপেক্ষা করছে সামনে। বিস্মিত করুন আমাকে!

Read Full Post »

The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

– Mark Twain

০৪.

আমার নিজের একটা তত্ত্ব আছে এই ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ নিয়ে। হয়তোবা এতো বছরের উপলব্ধি থেকে তৈরি হয়েছে জিনিসটা। অনেক কিছু পড়তে গিয়েও আসতে পারে ধারনাটা। ব্যাপারটার নাম দিয়েছি ‘ক্যানভাস’ তত্ত্ব। প্রতিটা মানুষ পৃথিবীতে আসে একটা সময়ের জন্য। ধরে নিন – ওই সময়টাতে সমমাপের একেকটা ‘সাদা ক্যানভাস’ নিয়ে আসি আমরা। জন্মের পর ওই একেকটা জ্ঞান একেকটা বিন্দু হয়ে আঁকা হতে থাকে ওই ক্যানভাসে। সবার ক্যানভাসের জায়গা সমান হলেও যে শিখবে যতো বেশি, তার বিন্দু হবেও বেশি। এক যায়গায় কারো বিন্দু বেশি হলে সেগুলো চলে আসবে কাছাকাছি।

০৫.

হাটতে শেখার জ্ঞানটাকে প্লট করুন একটা বিন্দু দিয়ে। সেভাবে দৌড়ানোটাও আরেকটা বিন্দু হয়ে যোগ হবে আগের হাঁটতে শেখার বিন্দুর কাছাকাছি। সাঁতার শেখাটাও কিন্তু আরেকটা বিন্দু। এগুলো সব কাছাকাছি বিন্দু। তেমন করে ক্লাস ওয়ান পড়াটা একটা বিন্দু, ক্লাস টু আরেকটা। এক ধরনের জ্ঞানগুলোর বিন্দুগুলোই আঁকা হতে থাকে কাছাকাছি।

০৬.

আর এভাবেই তৈরি হতে থাকে একেকটা ‘ফ্লো অফ আইডিয়া’। কয়েকটা বিন্দু মিলে হয় একেকটা ‘ওয়ার্কফ্লো’। যুক্ত হতে থাকে ওই ‘ডটেড’ ইভেন্টগুলো। পাশাপাশি। তৈরি হয় ‘বিগ পিকচার’। মনে আছে ওই প্রথম ভিডিও’র বিন্দু থেকে আঁকা পাখিটার মতো? আর সেসময়ে তৈরি হয় ওই ‘আহা’ মুহূর্তটা!

০৭.

সময় আর অভিজ্ঞতা থেকেই চলে আসে আরো অনেক ‘ডট’। দুটো ‘ডটে’র মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে নতুন নতুন জ্ঞান মানে ওই ‘ডট’ প্রতিদিন। মানে নতুন নতুন প্রসেস করা তথ্য। একেকটা বিন্দুর ‘ইনফ্লুয়েন্স’ চলে আসে পরের বিন্দুগুলোর ওপর। আর সেকারণে পেছনের ওই গায়ে গায়ে লাগানো ডটগুলো প্রজ্ঞা দেয় তৈরি করতে – আমাদের সামনের ডটগুলো। ভবিষ্যত দেখার প্রজ্ঞা। কিছুটা বুঝতে পারি এখন – কি করতে চাই জীবনে।

০৮.

যে যতো শেখে তার ক্যানভাসে বিন্দুর সংখ্যা বেশি। আবার, বেশি বেশি বিন্দুতে কাছাকাছি বিন্দুগুলো ‘ইনফ্লুয়েন্স’ করে যে জায়গাগুলোতে – যেখানে বিন্দু পড়েনি এখনো। সেকারণে ওই বিশেষ জ্ঞানটা তার না থাকলেও কাছের বিন্দুগুলো থেকে ‘কনটেক্সচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নিয়ে নেয় ওই মানুষটা। এর সোজা মানে হচ্ছে সেই মানুষটা ‘কানেক্ট করতে পারে ওই ডটগুলোকে। আমার ধারনা, সেটার আউটকাম হচ্ছে ড্যানিয়েল গোল্ডম্যানের ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’। কিছুটা উপলব্ধির ‘বিগ পিকচার’।

কেন দরকার?

নিজেকে চিনতে। আরো ভালো করে বললে, জানতে – কেন এসেছি দুনিয়াতে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I think most clearly when I’m driving. Sometimes I’ll just take a break and drive around—this helps a lot.

― Barbara Oakley, A Mind for Numbers: How to Excel at Math and Science

২৪.

যারা “মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেস”য়ে যান তাদের ব্যাগের কয়েক আউন্স চেয়ে মাঝে মধ্যে আব্দার করি পরিচিতজনদের কাছে। তবে সে আব্দার সবাই যে মনে রেখেছেন সেটাও ঠিক নয়। আর সেটাই বা আশা করি কিভাবে? যেখানে ৮০-৯০ হাজার মানুষের মিলনসভা সেখানে মনে রাখাই তো বিপদ। আমিও মনে রাখতে পারতাম না ওভাবে। তবে সাঈদ ভাই মনে করে এনেছেন একটা বই, “একেবারে” আমার জন্য। “ইন্টারনেট অফ থিংস” নিয়ে একটা এগজিকিউটিভ হ্যান্ডবূক। ছোট্ট বই, তবে মরিচ বেশি। একেবারে মিলিয়ে একশো পাতার বই। বাইরে থেকে কিনতে গেলে বইটার দাম পড়তো প্রায় ৫০ ইউরো। দামের সাথে মিলবে না ‘কী লেখা’ আছে ওখানে। “আইওটি” ইনডাস্ট্রির বাঘা বাঘা মানুষ লিখেছেন তাদের অভিজ্ঞতার কথা। মজার কথা বেশীরভাগই এসেছেন জার্মানী থেকে।

২৫.

যারা বার্সেলোনার ‘মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেসে’ যাননি তাদের জন্য কিছু পয়েন্টার। মোবাইল ইনডাস্ট্রির অ্যাসোসিয়েশন জিএসএমএ’র তত্ত্বাবধানে এই মোবাইল ওয়ার্ল্ড কনগ্রেস হচ্ছে একটা বিশাল নেটওয়ার্কিং স্পেস। মোবাইল ইনডাস্ট্রির সাথে থাকা হেন মানুষ বা কোম্পানী নেই যাদের পাওয়া যায় না ওখানে। লাস ভেগাসের “সিইএস” মিলনমেলার মতো কিছুটা। আর সেকারণে সবার লক্ষ্য থাকে তারা (কোম্পানী) কে কে কী কী করছেন সেটা সবাইকে জানানো। আর আমরা যারা যাই ‘আম জনতা’ হিসেবে তাদের একটা বড় লক্ষ্য থাকে ওদের কাজ থেকে জ্ঞান ধার নেয়া। ওদের কাজ আমাদের দরকার থেকে দশগুণ এগিয়ে থাকলেও সেটার ধারাবাহিকতা ধরতে পারলে কাজটা হয়ে যায় সহজ। ইমার্জিং ইকোনমিগুলোতে মোবাইল অপারেটরদের অপূর্চুনিটি আছে যেমন, সেভাবে চ্যালেন্জও কম নয়। আর সেকারণে ওই মহামিলনমেলায় চলে জ্ঞানের আদান প্রদান। মিটিং, হাজারো প্রেজেণ্টেশনের পাশাপাশি ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে অনেক কাগুজে জ্ঞান। প্রফেশনালি ক্যাজুয়াল।

২৬.

আর সেদিক থেকে এগিয়ে আছে “জিএসএমএ” নিজেই। প্রতিবছর প্রচুর মেধা – শ্রম – অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বের করে অনেক অনেক পাবলিকেশন্স। ভাবতেই পারবেন না কতো কতো রিপোর্ট। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ, বার কয়েক যাবার সুযোগ হয়েছিলো আমার ওখানে। দ্বিতীয়বার যাবার সময় দেখি হুলুস্থুল কান্ড। এমিরেটসের কানেক্টিং ফ্লাইটও পাল্টে গেলো ওভার নাইট। আগের এয়ারক্রাফ্ট টাইপ ভোজবাজির মতো মুছে সেখানে এসে হাজির হলো “এয়ারবাস এ৩৮০”। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এয়ারক্রাফট, এখনো। তবে সেটাও অনেকদিন আগের কথা। ওই ডেস্টিনেশনে ওই উড়ুক্কু যন্ত্রটা আগে যায়নি বলে আমরাও সবাই পেলাম বেশ কয়েকটা শুভেন্যির। ল্যাপেল পিনটাও যত্নে রেখেছিলাম অনেকদিন। বার্সেলোনা এয়ারপোর্টে টাচডাউন করতেই আমাদের চক্ষুস্থির। এলাহী কান্ড। বড় বড় পানির হোসপাইপ দিয়ে বিমানটাকে স্নান করালো কয়েকদফা। আমরা ভেতরে। জানলা, এয়ারশো ক্যামেরা দিয়ে দেখা গেল পুরো ব্যাপারটা। এয়ারপোর্ট ছেড়ে আসার সময় পানিতে ভেজা ল্যান্ডিং স্ট্রিপে চকচকে এয়ারক্রাফ্টটা মনে ছিলো অনেকক্ষণ ধরেই।

২৭.

ফিরে আসি পাবলিকেশন্সে। নামিদামী কন্সাল্ট্যান্ট গ্রুপ, অ্যানালিটিক্স কোম্পানীকে দিয়ে তৈরি করে নেয়া ওই রিপোর্টগুলোতে তাদের কিছু সাবলাইম ইনফর্মেশন থাকলেও তার প্রায় প্রতিটিই থাকে দেশগুলোতে ব্যবহারযোগ্য তথ্য। ‘আউটকাম’ থেকে ওখানে যে পদ্ধতিটা ব্যবহার করা হয়েছে সেটাই দেখার বিষয়। ওখানকার বই পড়েই আমার মাথায় প্রথম আসে দেশের ফোন কলের দাম ধার্য করার “ইন্টারকানেকশন কস্ট মডেলিং” এক্সারসাইজ। সেটার ফলে দাম কমেছে দু দফা। আরো সম্ভব। আর বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিকমতো আছে কিনা সেটার জন্য দরকার ছিল “প্রতিযোগিতা নীতিমালা”। সেই “সিগনিফিক্যাণ্ট মার্কেট পাওয়ার” আইডিয়াটা পেয়েছিলাম তাদের বই পড়েই। আমার কথা একটাই। পড়তে হবে সবকিছুই। মুড়ির ঠোঙ্গা, ওষুধের লিফলেট – অপারেটিং ম্যান্যুয়াল। সব ধরনের জ্ঞান থেকে আসে প্রজ্ঞা। পড়তে হবে ভালো খারাপ সবকিছু। খারাপটা না জানলে সেটা ফিল্টার করবো কী করে? হাজারো জ্ঞানের ফোটা থেকে একটা প্রজ্ঞাই দেয় বা কে? নিজের অভিজ্ঞতা থেকে প্রজ্ঞাটা আসাটা আরো জরুরী। ইট’স অল অ্যাবাউট কানেক্টিং দ্য ডটস।

২৮.

মনে আছে প্রথম দিকের কম্পিউটার মেলাগুলোর কথা? মেলাতে যেতামই কাগজ টোকাতে। ওকে, অনেকে অফেণ্ডেড হতে পারেন বলে খুলেই বলছি এখানে। মেলাতে বসে তো আর জিনিসপত্র বুঝতে পারতাম না অনেক কিছুই। এটা কী ওটা কী কাঁহাতক আর জিজ্ঞেস করা যায় কতোজনকে। বরং জিজ্ঞেস করতাম ‘কাগজ’ মানে ‘ব্রোশিওর’ আছে কিনা পড়ার জন্য? বাসায় এসে ওগুলো পড়তাম রসিয়ে রসিয়ে। সপ্তাহ লাগিয়ে। অল্প অল্প করে। ‘চাংকিং’ মোডে। একসময় দেখা গেলো ওই ফীল্ডে যারা কাজ করছেন তাদের থেকে অনেক কিছুই বেশি জেনে গেছি সব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার কারণে। ‘ডিফিউজড’ মোডে থাকার জন্য হয়তোবা। প্রতিটা যন্ত্র কেনার পর সেটার ম্যানুয়ালসহ পুরো প্যাকেট প্রায় মুখস্ত হয়ে যেতো প্রথম ওই কয়েকদিনের মধ্যে। কে জানে কোথায় কী লেখা আছে যেটা জানি না আমি। সবই পড়ি, তবে অনেক অনেক সময় নিয়ে। এখন চীনেবাদাম কিনলেও সেটার ঠোঙ্গাও বাদ পড়ে না আমার খুঁটিয়ে পড়ার হাত থেকে। সেটার আউটকাম? অনেক কিছুকে কানেক্ট করতে পারি ‘এক্সপ্লিসিট’ভাবে না বলে দিলেও। অনেকে আমার কাছে এসে মুখ না খুললেও ধারনা করতে পারি কী বলতে চাচ্ছেন উনি। পুরোটা না হলেও অনেকটাই কাছাকাছি হয় বেশীরভাগ সময়ে। এখন বুঝি বারবারা ওকলে’র কথা। বিশেষ করে ‘লার্নিং হাউ টু লার্ন’ কোর্সটা নিয়ে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Again, you can’t connect the dots looking forward; you can only connect them looking backward. So you have to trust that the dots will somehow connect in your future. You have to trust in something — your gut, destiny, life, karma, whatever. This approach has never let me down, and it has made all the difference in my life.

– Steve Jobs

২০.

এই ব্যাপারটাই হচ্ছে ‘কানেক্ট দ্য ডট’। আর সেটা বুঝেছি চল্লিশের পর এসে। অথচ, সেটা বিশ বছর আগে বুঝলে হয়তোবা যেতাম অন্যদিকে। তার মানে এই নয় যে আমি যেখানে আছি সেখানে সাফল্য পাইনি। তবে, এখন বুঝি, মনের টান থেকে যা যা করেছি সেগুলোর শুরুটা অথবা মাঝপথে হাজারটা বিপদে পড়লেও উতরে গিয়েছি মনের টানে। আসলে সেটা মনের টান নয় বরং ওই জ্ঞানগুলো ‘কানেক্ট’ করে আমাকে নিয়ে গেছে নিয়ে গেছে সাফল্যের কাছে।

২১.

এটা ঠিক যে বিশ বছর আগে গিয়ে কিন্তু যুক্ত করা যেতো না কাজগুলোকে। কোন কাজগুলো আপনাকে সাফল্য দিয়েছে সেটা বোঝা যাবে পরে এসে – পেছনে ফিরে। আর সেকারণে আজ আমার বয়স বিশ হলে আমার মন যেটা টানতো সেটা নিয়েই পড়ে থাকতাম বছরের পর বছর। আজ বুঝি, যেটা ভালোবেসে ছিলাম সেটাই পেরেছি করতে। অনেক ঝামেলার পরও। হয়তোবা বিপদে পড়েছিলাম – কিন্তু সেটা একটা সময়ের জন্য। সাফল্য পাওয়া মানুষগুলোকে ‘অ্যানালাইসিস’ করেও দেখা গেছে একই গল্প। আমার সাফল্য তাদের তুলনায় নগণ্য হলেও ট্রেন্ড বুঝতে অসুবিধা হয়নি কিন্তু।

২২.

আমার একটা নিজস্ব থিওরি আছে এ ব্যপারে। জীবনটাকে ধরে নিয়েছি একটা ক্যানভাস হিসেবে। জন্মেই ক্লীন স্লেট। কথা বলা, হাটতে শেখা হচ্ছে এক একটা বিন্দু। যতো নতুন নতুন জিনিস শিখবো ততো নতুন বিন্দু যোগ হবে ওই ক্যানভাসে। যতো বেশি জিনিস শিখবো ততো বিন্দুগুলো চলে আসবে একে অপরের কাছাকাছি। নিজে থেকে ‘কানেক্ট দ্য ডট’ করার প্রয়োজন হবে না তখন। আবার, একেকটা বিন্দু অন্য বিন্দুর যতো কাছাকাছি হবে ততো সেগুলোর কনটেক্সচুয়াল ইনফ্লুয়েন্স বাড়বে। আর সেকারণে আশেপাশের কয়েকটা বিন্দুর জ্ঞান থেকে তৈরি প্রজ্ঞা সমাধান দেবে বাকি ‘আন-রিজল্ভড’ সমস্যার। মনে আছে ওই রিসার্চটার কথা?

২৩.

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর কৌশল শুরু হয়েছে এই বিন্দু থেকে। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে।

আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই। বিশ্বাস করলেই করা যাবে সবকিছু। ‘কানেক্ট দ্য ডট’ থেকে এটা না শিখলে পরে পস্তাবেন অনেকেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

১৫.

মনে আছে পত্রিকাগুলোর কথা? মানে, আমাদের ছোটবেলার ওই শিশুতোষ পত্রিকাগুলো? যেগুলো পাল্টে দিয়েছিল আমাদের এখনকার চিন্তা ভাবনা। শিশু? নবারুণ? কৈশোরে এসে পেলাম কিশোর পত্রিকা! যারা লিখতেন তারা জানতেনও কিভাবে জানি – কি চাই আমরা। ‘সুমন আর মিঠুর গল্প’, ‘কুশল আর মৃত্যু বুড়ো’? পরের দিকে – ‘দীপু নাম্বার টু’? মনে নেই তবে কোন যেন একটা পত্রিকার শেষ পাতায় থাকতো কিছু বিন্দু আঁকা। পেন্সিল দিয়ে টানতে হবে এক থেকে দুই, এর পর তিন – চার। নিরানব্বই পর্যন্ত! ধরতেই পারতাম না প্রথমে – কি দাড়াবে জিনিসটা? ওমা, কি সুন্দর পাখি! রং করবো নাকি একটু?

পয়তাল্লিশে এসে ফিরে তাকালাম একবার। পেছনে। জিরাবো কিছুক্ষণ। হিসেবপাতিও করবো কিছু। কি করতে পেরেছি আর কি আছে বাকি?

১৬.

এখন বুঝি, মনের অনেক টান অগ্রাহ্য করেছি সারাজীবন। ভয় পেয়েছি, আশেপাশের মানুষ কি বলে। এটা ওটা করতে চেয়েছি – পিছিয়ে এসেছি পরমূহুর্তে। যেতে চেয়েছি এখানে ওখানে। ‘পয়সা না থাকা’র খোঁড়া যুক্তিতে আটকে ছিলাম ওই সময়গুলোতে। দুহাজার সাতে এসে শুনলাম নামকরা ইউনিভার্সিটির একটা কমেন্সমেন্ট অ্যাড্রেস। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে বের হবার দিন এক একজন বিখ্যাত মানুষকে ডাকা হয় তার অভিজ্ঞতা বলতে। দুহাজার পাঁচে দেয়া ওই বক্তৃতার সময় মানুষটাকে পছন্দ করতাম না তেমন একটা। ছোট্ট ছোট্ট তিনটা গল্প বলেছিল মানুষটা। গল্পগুলো দাগ কাটলো তার প্রায় ছয় বছর পর। বলতে পারেন চল্লিশে এসে বুঝতে পারলাম প্রতিটা লাইনের অর্থ।

১৭.

মানুষটা কেন জানি ‘সনাতন’ জিনিস মানেনি। আমরা কি পারতাম কলেজে না পড়ে ইচ্ছামতো জিনিস নিয়ে কাজ করতে? মন যা চায় সেটা করার মতো সাহস এখনো আসেনি আমার। অথচ, মনের টানে কলেজ ছেড়ে ইচ্ছেমতো জিনিস শিখে পৃথিবী পাল্টে দিয়েছে ওই মানুষটা। সে যখন ওই কাজগুলো শিখেছে তখন সে নিজেও জানতো না যে জিনিসগুলো তার কাজে লাগবে পৃথিবী পাল্টাতে। মানে ‘ডেলিবারেটলি’ জেনে কোন কিছু করেন নি উনি।

১৯.

মন চেয়েছে তাই করেছেন। বিশ্বাস ছিল যে জিনিসটা পাল্টে দেবে মানুষের অভিজ্ঞতার ব্যাপারগুলোকে। সেটা করতে গিয়ে অনেক সমস্যাতেও পড়েছিলেন উনি। সেটার ভয়ে কাজগুলো ফেলে পালায়নি মানুষটা। তখনও বোঝেননি কি করতে চলেছেন উনি। পৃথিবী জয় করলেন একসময়। অনেক কাজ করেলেন নিজের মতো করে। আর সেগুলোকে বিন্দু হিসেবে কানেক্ট করতে গিয়ে শেষ বয়সে এসে বুঝতে পারলেন আসল জিনিসটা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

War is ninety percent information.

– Napoleon Bonaparte

The famous French General didn’t even live into this information age, but he clearly understood what is it that required to have military success. When you’re battling for a competitive advantage in business, data visualization can be equally critical to your success. In fact, you have to see what is it that you’re doing – in advance.

11.

What that Data visualization is? What can it do? Can you skip this process? sure! There’s a distinct disconnect between what it is we mean to deliver and what actually end up being delivered. If a picture is worth a thousand words, the data visualization is worth at least a million. Does that ring a bell?

12.

What do they say about Data Visualization? Yes, they say it’s your secret weapon in storytelling and persuasion to get the job done. My life started being a communications professional. Getting your message across effectively, storytelling the only way to get the job done. I know, I heard you saying that. No, no, you gotta be kidding me!

13.

What does it take to see the future? This is it! The world is over supplied with data and information, visualizations are the only way to break through what is not needed, tell your story, and persuade people to action. Raw statistics can’t give you insights. If you’re showing in context, whether with a simple chart or more creatively in an interactive form, is the future of sharing information.

14.

Visualizations help people see things that were not obvious to them before. Visualizations are the universal message to share ideas with others. It lets people ask others, “Do you see what I see?” And does provide answers to “What would happen if we made an adjustment to that area?”

15.

Knowledge is power, but to make your knowledge of data actually powerful, you have to be able to display your findings in a coherent, compelling way. That’s where data visualization comes into play. With more data available than ever before, opportunities are getting even bigger.

Did you like it? Good bye.

[Cont.]

Read Full Post »

The most important thing in communication is hearing what isn’t being said. The art of reading between the lines is a life long quest of the wise.

― Shannon L. Alder

১০.

পড়াচ্ছি আবার। বাচ্চাদের স্কুল নয়, তবে সেটা হলেই ভালো হতো বরং। ‘স্বপ্ন’ দেখাবার একটা সুযোগ কেই বা ছাড়তে চায় বলুন? ঢেকি স্বর্গে গেলেও ভানে ধান। আমারো হয়েছে তাই। যেটাই দেখি সেখান থেকে ‘প্যাটার্ন’ বের করার বদঅভ্যাসটা যায়নি এখনো। কমিউনিকেশন প্রফেশনালদের এটা একটা সমস্যা বটে। আশেপাশের ‘এনভায়রনমেন্ট’ কি মেসেজ দিচ্ছে সেটা পাবার জন্য আলাদা প্রসেস চলতে থাকে মাথায়। বেশিরভাগ সময়ে ‘অন্যজন’ কিছু না করলেও সেটার মেসেজ কিন্তু অনেক অনেক বড়। মানুষের ‘হ্যান্ড জেসচার’ আর দাড়ানোর ‘পোসচার’ বলে দেয় অনেক কিছুই। অনেক সময়ে দেখেছি, মানুষ মুখে যা বলছে – তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বলছে অন্যকিছু। অনেক ‘প্যাটার্ন’ মানে বিভিন্ন ডাটাসেটের ভেতরে লুকানো মেসেজ বের করতে না পারলে মাটি হয়ে যায় রাতের ঘুম। কি যেন বলছিলাম? ও, হ্যাঁ – ক্লাসে ফেরার কথা।

১১.

ছাত্ররা ক্লাসে ঠিকমতো বুঝছে কিনা সেটা বোঝার জন্য একটা সময় পর পর পরীক্ষা নেই আমি। ‘স্পট’ টেস্ট। বলা নেই কওয়া নেই, হটাত করে। জায়গায় পরীক্ষা আর কি। তবে, সর্বোচ্চ দশ মিনিটের গল্প। প্রশ্ন তৈরী করি প্রায় প্রতিটা বিষয়কে স্পর্শ করে। যা যা পড়িয়েছি ওই সময়ের মধ্যে। ছাত্রদের এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে ওরকম মাথাব্যথা থাকে না ‘ওয়েটেজ’ কম থাকে বলে। তবে, পরীক্ষার সময়ে কিন্তু ঠিকই মাথা ঘামাতে হয় তাদের। যেটা পরীক্ষায় না পারে সেটা কিন্তু জানতে পারে পরীক্ষার শেষে। আমার ‘মিশন’ সফল। মাঝে মধ্যেই ওই অনেক ‘স্পট’ আর ‘প্রগ্রেস’ টেস্টগুলোর রেজাল্ট ইনপুট দেই এক্সেলশীটে। ‘সাধারণ’, ‘নিরীহ’ ডাটা হিসেবে পড়ে থাকে আমার ক্লাউড ড্রাইভে।

১২.

একদিন কি মনে করে ডাটাসেটগুলো ফেলে দিলাম একটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে। প্লট করার পর মাথা খারাপ হবার যোগাড় আমার। দেখা গেল কয়েকটা বিষয়ে ছাত্ররা খারাপ করেছে বার বার। অথচ, আমি ভাবতাম তারা ব্যাপারগুলো বুঝেছে ভালো। অথচ, ওগুলো ঠিক সময়মতো না জানলে পরের চ্যাপ্টারগুলো ধরতে কষ্ট হতো ওদের। মানে হচ্ছে, আমিই ঠিকমতো বোঝাতে পারিনি ওদেরকে। ব্যাপারটা কিন্তু পরিস্কার হলো ওই ‘নিরীহ’ ডাটাগুলোকে ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে প্লটিংয়ে ফেলে দেবার পর! সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে পরীক্ষা ভালো করছে সেটাও চলে এলো দিনের আলোর মতো। সকালে না দুপুরের পরীক্ষা – মনোসংযোগের ব্যাপারটাও চলে এলো ওর সাথে। ছাত্রদেরকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করলাম ওর পর থেকে। কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও। ‘কানেক্ট’ করতে সুবিধাই হলো বরং।

১৩.

বিটিআরসিতে থাকতে বেশ কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে ‘মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’ নিয়ে লম্বা লম্বা কাজ করতে হয়েছে একসময়। মোবাইল কোম্পানির গ্রূপগুলোর সাথে অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে সার্ভিসটা চালু করার ব্যাপারে। বুঝেছিলাম, বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে এই মোবাইলে টাকা পাঠানোর গল্পটা। ‘প্লাস্টিক’ মানে কার্ড নিয়ে ব্যাংকগুলো খুব একটা এগোতে পারবে না বলেই বলছি একথা। একটা নিরব বিপ্লব চলছে আমাদের চোখের আড়ালে। এদিকে ইন্ডাস্ট্রির সবার সাথে আমার টার্মস খারাপ নয়। মাঝেমধ্যেই যাওয়া পড়ে উনাদের অফিসগুলোতে। নাহলে, কফি খাই একসাথে।

১৪.

বর্তমান কালের এই ‘এমএফএস’ সার্ভিসের কিছু ভিজ্যুয়ালাইজেশন দেখে আমিই বেকুব। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকা থেকে সব টাকা ক্যাশ-ইন হয়ে চলে যাচ্ছে কয়েকটা জেলায়, চিন্তায় আসেনি কখনো। ঢাকাতে কোন এলাকার লোক বেশি ব্যবসায়ী, বুঝে গেলাম মুহুর্তেই। দিনের কোন সময়টাতে মানুষ বেশি টাকা পাঠাচ্ছে – সেটাই বলে দিচ্ছে তাদের কাজের ধরন আর ডেমোগ্রাফিক ইনফরমেশন। আবার, কোন জায়গাগুলো দিয়ে এক জেলার টাকা বের হয়ে যাচ্ছে আরেক জেলায়। টাকা ওঠানো নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভ্যাস ইঙ্গিত দিচ্ছে অনেক নতুন কিছুর। ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনে’ কাদেরকে আনতে আমাদের কাজ করতে হবে সেটাও এড়ালো না চোখ। নোটপ্যাডে এন্ট্রি পড়ল কয়েকটা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

As we will show, poor countries are poor because those who have power make choices that create poverty. They get it wrong not by mistake or ignorance but on purpose.

― Daron Acemoğlu, Why Nations Fail: The Origins of Power, Prosperity, and Poverty

০১.

বয়স পয়তাল্লিশ হলো গত মাসে। লুকিং ব্যাক, সময় খারাপ কাটে নি কিন্তু। তবে, এর মধ্যে পাল্টেছে দেখার আর বোঝার ‘পার্সপেক্টিভ’। বলতে গেলে অনেক অনেক বেশিই। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেতেই হয়তোবা। দেখা হয়েছে অনেক বেশি। যাই দেখি এখন, ‘ডট কানেক্ট’ হয়ে যায় মুহুর্তে। আগের জ্ঞানের ছিটেফোঁটা থেকে চলে আসে ‘বিগ পিকচার’। ‘বিগিন এন্ড ইন মাইন্ড’ ব্যাপারটাও কাজ করছে সমান তালে। আর সেটার ‘এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন’ চলে ব্যাকগ্রাউন্ডে। চব্বিশ বছর ছুতে চললো চাকরির বয়স। কম তো ভুল করিনি এ পর্যন্ত! একেক ভুল থেকে তিনটা করে লেসন! আর সেটা নিয়েই আরেকটা সিরিজ। “পয়তাল্লিশ – ফিরে দেখা”। কিছুটা ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য শোল্ডার অফ জায়ান্টস’ মোডে। আগের গুনীজনদের প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে।

০২.

বই পড়ছিলাম একটা। গতকাল। অর্থনীতিবিদ টাইলার কোয়েনের লেখা। ‘অ্যাভারেজ ইজ ওভার’। ফারাক বাড়ছে ধনী আর দরিদ্রের। কমছে আমাদের মতো ‘ষ্টিডি’ মধ্য আয়ের রিজিওন। আর বেশি আয়ের মানুষগুলো কিন্তু বসে নেই। আয় করেই যাচ্ছে তারা। চমকটা কোথায়? পিরামিডের ওপরে থাকা মানুষগুলোর সাথে বাকিদের পার্থক্য একটা জায়গায়। পার্সপেক্টিভে। দুদলের মানুষের কাজের মধ্যে বিরাট ফারাক। পিরামিডের নিচের মানুষগুলো বসে আছেন পুরোনো প্রজ্ঞা নিয়েই। ডট যুক্ত করছেন কম। বেশি আয় করা মানুষ আর কোম্পানিগুলো শিখছে প্রতিনিয়ত। সঠিক সিধান্ত নেবার মেট্রিক্স, ডাটা এনালাইসিস, মেশিন ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সময় কমিয়ে নিয়ে আসছেন প্রথাগত কাজের লিডটাইম। আমাদের মাথার পাশাপাশি অনেক ছোট ছোট কাজ ছেড়ে দেয়া হয়েছে ‘স্ট্রাকচারড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’। আর না হলে সেটাকেও আউটসোর্স করে দেয়া হয়েছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। সেই সময় বাঁচিয়ে সেটাকে ইনভেস্ট করছে পরের লার্নিংয়ে। ‘লো-টেক’ রুটিনমাফিক কাজে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা সাজে না পিরামিডের ওপরের মানুষগুলোর।

০৩.

চব্বিশ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বলে কয়েকটা জিনিস। আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে আছে প্রথাগত রুটিনমাফিক কাজ নিয়ে। ৮০ শতাংশ সময় নষ্ট হয় রুটিন আর ‘রিপিটেটিভ’ কাজগুলোর পেছনে। যে কাজটা আগেও হয়েছে আর সেটার কি ধরনের সিধান্ত হয়েছে সেটা জানা সত্ত্বেও সেটাকে প্রসেস করছি প্রতিদিন। নতুন করে। রুটিনমাফিক কাজগুলোর সিদ্ধান্তের পেছনে আগের মতো সময় দিচ্ছে আমাদের ম্যানেজাররা। ম্যানেজারদের সময় নষ্টের টাকা গুনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রুটিন কাজগুলো সাধারণত: চলে কিছু ‘প্রিডিফাইনড’ রুলসেটের ওপর। আর সেগুলো আসে প্রতিষ্ঠানের ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রোসিডিউর’ (এসওপি) থেকে। আর সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমের ‘ডিসিশন ট্রি’তে ফেলে বিভিন্ন ইনপুটের দরকারী সিদ্ধান্তের সিকোয়েন্স আর তার কাজের আউটকাম নিয়ে আগে এনালাইসিস না করাতে এক কাজে আটকে থাকছি বছরের পর বছর।

০৪.

প্রতিদিনের ডে-টু-ডে অপারেশন্সে ব্যবহার করছি না আগের শেখা ‘প্রজ্ঞা’। কার্বন কপি সিস্টেমে ‘আগে কিভাবে হয়েছে?’ জিজ্ঞাসা করলেও সেই জ্ঞানটাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক মেমরি’তে না রাখার জন্য নিতে হচ্ছে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত। ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট ব্যস্ত থাকছে একই কাজে। মজার কথা হচ্ছে একই কাজে, এক ধরনের উপাত্তের ওপর সিধান্ত হচ্ছে একেক রকম। রুটিন কাজেই। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। সিদ্ধান্ত নেবার সময়ক্ষেপনের খরচ না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু কি হবে ভুল সিদ্ধান্তের? কে দায়ভার নেবে ওই বাড়তি খরচের? ‘রুল ভিত্তিক সিধান্ত’ মানে ‘এই’ ‘এই’ জিনিস হলে এই কাজ করতে হবে জেনেও সেটার পেছনে সময় নস্ট করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থা হলে নতুন নতুন উদ্ভাবনাতে সময় বের করবে কে? উদ্ভাবনা ছাড়া উপায় নেই বাঁচার।

মনে এলো আরেকটা বইয়ের কথা। ‘হোয়াই নেশনস ফেইল?’

উপায় কি এখন?

০৫.

উপায় বের করার আগে একটু ভেতরে ঢুকি কি বলেন? বিমান চালাতে পাইলটকে কত ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটা নিয়েই আলাপ করি বরং। বিমান টেকঅফ থেকে শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত হাজারো ইনপুট প্যারামিটার থেকে ‘মানুষ পাইলট’রা যদি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে যান, তাহলে বিমানের ওড়া হবে না আর। তাই বলে কি উড়ছে না বিমান? মানুষের জীবনের হাজারো ঝুঁকি ছেড়ে দেয়া হয়েছে এই ‘অটোমেটেড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’র ওপর। সম্ভাব্য কি কি ইনপুটে কি কি সিদ্ধান্ত হতে পারে, আর তার মধ্যে তার ফাইনাল ‘অবজেক্টিভ’ বিচার করে ওই সময়ের জন্য কোনটা ‘অপটিমাল’ হবে সেটার প্রসেস ফ্লো কিন্তু তৈরী করে দিয়েছে এই মানুষই। মানুষ তৈরী করে দিয়েছে পুরো রাস্তা, তবে সেটাকে চালানোর দ্বায়িত্ব দিয়েছে একটা সিস্টেমকে। যন্ত্রকে তো আর বলা হয়নি আমাদেরকে চালাতে, কি বলেন? আর যন্ত্রকে যদি আমার ‘লো-টেক’ কাজ আউটসোর্স না করি তাহলে ওটাকে তৈরী করলাম কেন?

০৬.

এদিকে দুবাই বা লন্ডন এয়ারপোর্টের ম্যানেজমেন্টকে ‘ম্যানুয়ালি’ প্রতিটা বিমান ওঠা নামার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলে কি যে হবে সেটা ‘ভিজ্যুয়ালাইজ’ আর নাই বা করি। অনেক দেশে মেট্রো আর সাবওয়ে সিস্টেমে দেয়া হচ্ছে না ড্রাইভার। কারণ, মানুষই ভুল করবে বরং। সামনে যতই চেষ্টা করুন, ‘ড্রাইভারলেস’ গাড়ি তো ঠেকাতে পারবো না আমি আপনি। আর সেটা কথা নয়, এই লো-টেক ‘শারীরিক’ জিনিস আর কতো দিন করবে মানুষ? অনেক জিনিসেরই বাজারে কি দাম কতো হবে সেটা কিন্তু তৈরী করে দেয় না মানুষ। বর্তমান সময়ে। বিমানের টিকেটের দাম কে ঠিক করে সেটাই দেখুন না চেখে? ব্যাংক তো বসে থাকে না আমার জন্য সারা রাত – তার অফিস খুলে? টাকা দেবার দ্বায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু এটিএমএর ওপর। আমাকে যারা চেনেন, তারা বলবেন, ‘আপনি তো কম্পিউটারের লোক, এ কথা তো বলবেনই আপনি। সব সিদ্ধান্ত তো আর ছাড়া যাবে না মেশিনের ওপর।’

০৭.

মানছি আপনার কথা। তবে, আমাদের প্রতিষ্টানগুলো প্রতিদিন হাজারো ঘন্টা নষ্ট করছে এমন কিছু ‘অপারেশনাল’ সিদ্ধান্ত নিতে যেটা সহজেই ছেড়ে দেয়া যায় কিছু ‘রুল বেসড’ সিস্টেমের ওপর। ভুল বুঝবেন না, কম্পিউটারের কথা বলছি না এখানে। বরং, কম্পিউটার ধরতেও হবে না ওটা তৈরী করতে। যেগুলো আমাদের ম্যানেজারদের মাথায় আছে অথবা ‘আগে কিভাবে করা হয়েছে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে’ সেটাকে কাগজে সিকোয়েন্স আকারে বিভিন্ন ‘সিদ্ধান্তের শাখা’ ধরে লিখে পাঠিয়ে দিন নিচের দিকে। তারা ঠিকই পারবে ওই সব সিদ্ধান্তগুলো দিয়ে কাজ করতে যেগুলো এতোদিন নিচ্ছিলেন বড় বড় ম্যানেজাররা। সত্যি বলছি! ‘ডিসিশন ট্রি’র অ্যাকশন পয়েন্টের সত্যিকারের গ্রাফিকাল রিপ্রেজেন্টেশন একবার করেই দেখুন না কাগজে, অবাক হয়ে যাবেন নিজেই। নিজের হাত কামড়াবেন – এতোদিন কতো সময় নষ্ট করেছেন ফালতু কাজে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: