Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘অডিওফাইল’

People haven’t always been there for me but music always has.

― Taylor Swift

০৩.

কেন এই লেখা? জীবনে প্রচুর পয়সা খরচ করে এই ‘একটা ব্যাপার’ ধরতে পেরেছি বলে মনে হচ্ছে এখন। বর্তমান প্রযুক্তির মারপ্যাচে স্টুডিও কোয়ালিটি সাউন্ড তৈরি আর শোনার খরচ নেমে এসেছে হাতের নাগালে। প্রি-অ্যাম্প্লিফায়ার, অ্যাম্প্লিফায়ার মানে অ্যাম্প, ইকুয়ালাইজার, ড্যাক – সব চলে আসছে বাসায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিতে। সহজ ভাষায়, সব চলে আসছে সিঙ্গেল বোর্ড কম্পিউটারে। হাতের নাগালের মধ্যে। চলছে অ্যান্ড্রয়েডে, লিনাক্সে। ইন্টারনেট অফ থিংস মানে ‘আইওটি’ এখন চালাচ্ছে দুনিয়া। এমবেডেড বোর্ড আর নেটওয়ার্কের ক্ষমতা জড়ো করলে যা হয় আরকি। ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসিং করার ডেডিকেটেড প্রসেসর চলে এসেছে আঙ্গুলের টিপে।

০৪.

‘ড্যাক’ মানে ডিজিটাল টু অ্যানালগ কনভার্টার তৈরি করতে পারছি বাসায়। তবে মূল খরচটা এখনো পড়ে আছে ফাইনাল আউটপুট অংশে। স্পীকার অথবা হেডফোনে। ওখানে এখনো কিছু করতে পারছি না আমরা। একটা ‘অডিওফাইল’ গ্রেডের হেডফোনের দাম আপনার ‘এলইডি’ টিভি থেকেও বেশি। দামের ওপরের রেঞ্জ জানতে চাইলে পাগল ঠাউরাবেন আমাকেই। তিরিশ হাজার ডলার? হেডফোন অ্যাম্প ছাড়াই! পড়ে গেলেন নাকি? তবে হাতের নাগালের মধ্যে থাকা একটা হেডফোন দেখতে পারেন চেখে। স্যানহেইজারের এইচডি ৮০০ মডেলের হেডফোনটা বের হয়েছিল সেই ২০০৯য়ে। অবাক করা ‘সাউন্ডস্টেজ’ তৈরি করে জিনিসটা। ওপেন ব্যাক এই হেডফোনটার এখনকার দাম মাত্র পনেরোশো ডলার। বেশি মনে হচ্ছে তাও?

০৫.

সবকিছুর মূলে হচ্ছে সাউন্ড সোর্স। আর গানটা শেষমেষ ডেলিভারি হচ্ছে কি ভাবে। আর – আমাদের কান নিয়েও আছে বড় গল্প। ‘কানমামা’ কতটুকু শুনতে পারবে না পারবে সেটাও তো একটা বড় গবেষনার বিষয়। মানুষ শুনতে পায় ২০ কিলোহার্টজ পর্যন্ত। ওর বেশি পারে অনেক প্রাণী, যেমন বাদুড়। এদিকে, বেশি শুনলেও খারাপ। এজন্য মানুষ অনেক কিছু শুনেও চুপ থাকে। না হলে তো শান্তি নষ্ট। বাসায় তো আরো বেশি। আমাকে বিয়ে দেবার সময় বলা হয়েছিল হয়তোবা – ছেলে সাত চড়েও রা করে না। এগজ্যাক্টলি এটা না বলা হলেও এধরনের কিছু বলা হয়েছিল বলে আমি নিশ্চিত। না হলে আমাকে পার করা কঠিন ছিলো বলে সবার ধারনা। তার মানে এই নয় যে আমি শুনতে পাই না। শুনি, তবে কম ‘রিঅ্যাক্ট’ করি। সংসারের ‘শান্তি’র সাথে ‘নাইকুয়িস্ট থিওরি’র সম্পর্ক কম।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

Where words fail, music speaks.

– Hans Christian Andersen

০১.

গান না শুনে বড় হয়েছেন কে? আমার মনে হয় খুব কম মানুষই। যতোদূর মনে পড়ে – বিয়ের আগে আমার বেতনের একটা বড় অংশ চলে যেতো এই গানের পেছনে। আগে দৌড়াতাম রেইনবো, রিদম আর সুর-বিচিত্রাতে। ছয়মাস বসে থাকতাম একেকটা ক্যাসেটের পেছনে। ক্যাডেট কলেজের এক ছুটিতে অর্ডার দিয়ে আরেক ছুটিতে পাওয়া আর কি! তাও ভালো। নিজে আয় দিয়ে ‘ভাইনল’ (যাকে আমরা সচরাচর বলে থাকি ভিনাইল) – পরের দিকে নতুন নতুন সিডি কেনা, আর নতুন পুরানো অডিও হার্ডওয়্যারের সংগ্রহ বাড়ানোই ছিলো আমার লিস্টের ওপরের দিকে। ওই সময়ে হাজার ‘পাঁচ’ ডলারের নিচে পাওয়াও যেতো না কোন ভালো অডিও হার্ডওয়্যার। এই হাই-ফিডেলিটি (হাই-ফাই) সাউন্ড নিয়ে যারা অতিমাত্রায় সচেতন, তাদের নামও আছে একটা। জানেন নিশ্চয়ই।

০২.

অডিওফাইল। হ্যাঁ। স্টুডিও কোয়ালিটি সাউন্ডকে নিজের বাসায় আনার প্রানান্তকর চেষ্টা করতে গিয়ে যা যা করা দরকার সেটা করে তারা। স্বাতী বিয়ের পর আমার রুমে এসে অবাক। না আছে টিভি, না আছে একটা ভালো পর্দা, না মটর সাইকেল। না একটা কার্পেট। পুরো রুম ধরে একটা কম্পোনেণ্ট সিষ্টেম। আর হাজার খানেক অরিজিনাল সিডি, ভাইনল। বই তো আছেই। আমি ওই ‘অডিওফাইল’ ব্যান্ডে না পড়লেও অডিওফাইল স্পেকট্রামের ওপরের দিকেই থাকবো বলে ধারনা করি। ছুটিতে আসার সময় মেয়ের জন্য একটা হেডফোন নিয়ে আসাতে ও অবাক হয়ে তাকিয়েছিলো আমার দিকে। কি ভেবেছিল সে? পাগল বাবা? মেয়েদের কাছে সব বাবাই ‘পাগল’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: