Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘অ্যাডপশন রেট’

If you were born without wings, do nothing to prevent them from growing.

― Coco Chanel

৬৫২.

বাংলাদেশে কি চলবে আর চলবে না, সেটা দেখার আগে দেখে আসি অন্য দেশগুলোতে কি কি চলেছে। ব্রডব্যান্ডের সুফল পাবার আগে ওই দেশগুলো কি করেছে? যার ফলাফল পেয়েছে হাতেনাতে। মজার কথা – পঞ্চাশটার বেশি দেশের ব্রডব্যান্ড নীতিমালা দেখে একটা প্যাটার্ন পাওয়া যাচ্ছে যার অনেকটাই মিলে যাচ্ছে ব্রডব্যান্ড হ্যান্ডবূকের সাথে।

ক॰ ব্রডব্যান্ড নয়, দেশের উন্নতির নীতিমালা তৈরি করেছে উন্নতির শিখরে পৌছে যাওয়া দেশগুলো – সবার আগে। দেশের সমস্যা আর তার সমাধান চলে আসবে সেই ‘স্ট্র্যাটেজিক’ ক্যানভাসে। টার্গেট আর সেটাকে সময়মতো মেটানোর টাইমলাইন চলে আসবে ওই কাগজে। ওই কাগজ দেখবে সবাই। প্রাইভেট সেক্টর, ইনভেস্টর, ইনডাস্ট্রি। আর সেটা দেখে পরিমার্জন করবে তাদের ‘ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’। এই সবকিছুর টূল হচ্ছে এই ব্রডব্যান্ড নীতিমালা।

খ॰ দেশের উন্নতির নীতিমালা অথবা ওই দেশের ‘দর্শন’ তৈরি করার প্রক্রিয়ার সময় আলোচনা করতে হবে সবার সাথে। সরকার হয়তোবা তৈরি করতে পারে নীতিমালা, কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন করবে প্রাইভেট সেক্টর আর ইনডাস্ট্রি। সেটার পয়সা ঢালবে ইনভেস্টর। তাদের সাথে কথা না বলে অথবা তাদের মতামত – তাদের সুবিধা অসুবিধা না জেনে নীতিমালা তৈরি করলে কাজ এগোবে না দরকার মতো। গ্রাহক কি চান সেটা তো আসবে সবার আগে। ভুল বলেছি?

গ॰ তৈরি হলো নীতিমালা, তবে সেটা কাজ করছে কিনা বা তার ধারাবাহিকতা দেখার জন্য দ্বায়িত্ব নিতে হবে রেগুলেটর অথবা মন্ত্রণালয়কে। যেকোন কাজের ‘প্রগ্রেস ট্র্যাক’ করার অনেকগুলো ঝামেলা রয়েছে বলে উন্নতদেশগুলো একটা ‘রিসার্চ মেকানিজম’ বের করে নেয় আগে থেকে। নীতিমালার কাজ শুরু হয়ে গেলে পাল্টে যেতে থাকবে অনেকগুলো ‘ভ্যারিয়াবল’। যেমন, মানুষের ডিজিটাল লিটারেসি অনেকখানি বেড়ে যেতে পারে নীতিমালার ‘প্রজেক্টেড’ সংখ্যা থেকে। মানুষের ইন্টারনেট ব্যাবহারের ‘অ্যাডপশন রেট’ বেড়ে যেতে পারে সময়ের আগেই। আবার অনেকগুলো এজেন্সি ট্র্যাক করতে থাকবে তাদের অংশগুলো। ফলে, এই ‘মাল্টিলেয়ারড’ ফাংশনালিটিতে কার কার কাজ কতটুকু এগোলো সেটা বের করতে দরকার হবে ওই ‘রিসার্চ মেকানিজম’ প্রোগ্রাম। কি ধরনের ‘প্রগ্রেস ট্র্যাক’ হতে পারে এই প্রোগ্রামে? মানুষ কতটুকু সুবিধা নিচ্ছে এই ইন্টারনেটের, কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা আটকে দিচ্ছে কাজগুলোকে, ডিজিটাল লিটারেসী বেড়েছে কতটুকু, সাপ্লাই সাইডের প্যারামিটারগুলোর কি অবস্থা, নেটওয়ার্ক তৈরির গতি কেমন, ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে জিনিসগুলোর মাপার একক ‘ইউনিভার্সাল’ না হলে বিপদে পড়বে অন্যান্য এজেন্সিগুলো। কারণ, সব এজেন্সির জবাবদিহিতার প্যারামিটার এক নয়।

ঘ॰ ব্রডব্যান্ড নীতিমালাকে অনেক লম্বা সময় নিয়ে কাজ করতে হয় বলে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। একেকটা নীতিমালার পনেরো থেকে বিশ বছরের টাইমলাইন থাকে বলে সেটাকে ঠেলে নেয়ার মতো ‘প্রজ্ঞা’ সরকারগুলোতে থাকে কম। পাঁচ বছর পর পর নতুন সরকার এলেও আগের কাজগুলোকে ধরে রাখলে দেশ অর্জন করতে পারে তার সেই লক্ষ্যমাত্রা। উন্নতদেশগুলোতে এই লম্বা সময় ধরে ‘লেগে থাকা’ ব্যাপারটাই দিয়েছে তাদের সফলতা। সাধারণ মানের ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়েও শুধুমাত্র ‘লেগে থাকা’র কারণে উঠে গেছে ওই উন্নয়নশীল দেশগুলো। এদিকে, দুহাজার সালের ‘আইটি বিল’ নিয়ে শুধুমাত্র লেগে থাকার কারণে সাফল্যের চূড়ায় পৌছেছে সুইডেন।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: