Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘আইডিয়া’

The goal is to turn data into information, and information into insight.

– Carly Fiorina, former executive, president, and chair of Hewlett-Packard

অনেকেই বলেছেন মেশিন লার্নিং শিখতে চান তারা। কি দরকার, বলুন। আমার উত্তর – কিছুই দরকার নেই জানার, দরকার খালি ‘রাইট অ্যাটিচ্যুড’। লম্বা সময় ধরে লেগে থাকার ইচ্ছে। দরকার – শিখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা। ইট’স আ ‘লঙ হল’ ফ্লাইট। মানুষ পারে না এমন কিছু নেই। আমার অভিজ্ঞতা বলে, ছেড়ে দেয় বেশির ভাগ মানুষ। একেবারে শেষে গিয়ে। পড়েছেন তো ওই গল্পটা? গুগল কীওয়ার্ড ‘থ্রী ফিট অ্যাওয়ে ফ্রম দ্য গোল্ড’। তবে, কি করতে চান ‘মেশিন লার্নিং’ দিয়ে সেটা না জানলে শেখাটা কষ্ট। শিখছেন না জেনে, সেটাই তো বড় কষ্ট। যেটা করি আমরা ইউনিভার্সিটিতে। কি করতে চান সেটাই বের করুন আগে। তারপর শিখুন। মন লাগবে কাজে।

ধার দেবো একটা আইডিয়া? জিনিসটা মাথায় ঘুরছে বেশ কয়েক মাস ধরে। ঢাকার ভাড়া বাসার মাসিক ভাড়ার প্রেডিকশন মডেল। আগেই বলে দেবো আপনার বাজেটে কোন এলাকার কোথায় যাবেন আপনি। কোন এলাকার কতো স্কয়ার ফিটে কতো ভাড়া হবে সেটাও চলে আসবে মেশিন লার্নিংয়ে। এছাড়াও হাজারো ভেক্টর আসবে এখানে। মেইন রাস্তা থেকে কতো দুরে, বাজার কতো কাছে, কাছের স্কুলের রেজাল্ট আর টাইমিং, কোচিংয়ের এক্সেসিবিলিটি, গৃহশিক্ষক থাকেন কোথায়, গ্যাস পানির সংযোগ, পার্ক কতো দুরে, এলাকাভিত্তিক বাসা পাল্টানোর প্যাকেজের দাম, ওই এলাকার রিকসা ভাড়া, রিকসা গ্যারেজ কতো দুরে – এ ব্যাপারগুলো আসবে আমাদের মডেলে। তাই বলে, এলাকাভিত্তিক হাইজ্যাকের ধরণ, লোডশেডিং কিছুই বাদ যাবে না কিন্তু ওখান থেকে।

[…]

Advertisements

Read Full Post »

Everyone shines, given the right lighting.

I worry that there are people who are put in positions of authority because they’re good talkers, but they don’t have good ideas. It’s so easy to confuse schmoozing ability with talent. Someone seems like a good presenter, easy to get along with, and those traits are rewarded. Well, why is that? They’re valuable traits, but we put too much of a premium on presenting and not enough on substance and critical thinking.

― Susan Cain, Quiet: The Power of Introverts in a World That Can’t Stop Talking

৪২.

ধীর স্থিরের সাথে সম্পর্ক আছে ইনট্রোভার্টদের। হটাত্‍ ইনট্রোভার্টদের নিয়ে পড়লাম কেন? আমার ধারনা ‘সিষ্টেম দুই’ নিয়ে বেশিরভাগ কাজ আসে এদের কাছ থেকে। এখনকার ‘অ্যাটেনশন সিকিং’ এই পৃথিবীতে, নিজের প্রোমোশনে ব্যস্ত সবাই। চিন্তা করছেন কম। ফেসবুক অথবা সোস্যাল মিডিয়াতে মানুষদের স্ট্যাটাস আর কমেন্ট পড়লেই বুঝতে পারবেন ‘মানুষ চিন্তা না করে’ই পোস্ট দিচ্ছেন বড় বড় করে। পরে, ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে জিহবা কেটেছেন অনেকেই। আর সেকারণে পুরোনো পোস্টে এডিট করার ফিচারটা নিয়ে আসতে হয়েছে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে। নিতান্ত বাধ্য হয়েই। অথচ ‘বড় বড়’ পৃথিবীকে পাল্টে দেয়ার আইডিয়াগুলো এসেছে কিন্তু এই ইনট্রোভার্টদের ভেতর থেকে। রিসার্চ বলে প্রতি দুই বা তিন জনের মধ্যে একজন ইনট্রোভার্ট। মানে, আপনার আশেপাশের মানুষের মধ্যেই আছেন উনারা। হয়তোবা, আপনার ছেলে অথবা তার মা। সমাজের একটা ‘নেগেটিভ’ ধারনার কাছে মুখ লুকিয়ে আছেন তারা।

৪৩.

এখন জীবনটাই হয়ে গেছে এক্সট্রোভার্টদের অনুকূলে। এক্সট্রোভার্টদের আমরা পছন্দ করি বলেই তারা চালাচ্ছে সবকিছু। যে সুন্দর করে কথা বলতে পারে, তাকে অপছন্দ করবেই বা কে? অন্যকে সন্মোহিত করার ক্ষমতা আছে বলেই তো তাদেরই জয় জয়কার। কাজ হলো কিনা তার থেকে উপস্থিত ‘চাপাবাজি’ দিয়েই চলছে বর্তমান ট্রেন্ড। আপনার অফিসের কথাই ধরুন। যারা নিজেদের ঠিকমতো ফুটিয়ে তুলতে পারছেন তারাই হয়তোবা ‘ইভাল্যুয়েটেড’ হচ্ছেন ভালো ভালো সুবিধা দিয়ে। প্রোমোশন, ভালো পোস্টিং, ভালো অফিসটা তার দখলে। অথচ, অফিসটার লাইফলাইন হচ্ছেন ওই কিছু চুপচাপ মানুষগুলোর জন্য। যারা তাদের সময়কে উত্‍সর্গ করেছেন নিজেকে না ফুটিয়ে তুলে, অফিসের কষ্টকর কাজটা তুলে দিয়ে। নীরবে।

৪৪.

বছর কয়েক আগে বের হলেও এখনো দাপিয়ে চলছে বেস্ট সেলার লিস্ট। অ্যামাজনের লিস্ট বলে কথা। ‘কোয়াইট: দ্য পাওয়ার অফ ইনট্রোভার্টস ইন আ ওয়ার্ল্ড দ্যাট ক্যাণ্ট স্টপ টকিং’ হচ্ছে বইটার নাম। লিখেছেন সুসান কেইন। তার কথায়, ‘ক্রিয়েটিভিটি’ আর ‘লীডারশিপে’ তুখোড় এই ইনট্রোভার্টরা। কারণ এদের চিন্তাভাবনা, কাজ অনেক গভীরের। অথচ, সমাজের কাছে তাদেরকে একটা সীল দেয়া হয়েছে ‘নীরব’ বলে। তবে, এখানে একটা ভুল ‘পার্সেপশন’ কাজ করছে এই ‘অন্তর্মূখীতা’ নিয়ে। ‘অন্তর্মূখীতা’ আর ‘লাজুক’ মানে ‘কিছুটা কুণ্ঠিত’ এক নয়। লাজুকতা হচ্ছে যারা ভয় পায় সমাজের অভিমতকে। কে কি বলবে সেটা নিয়ে ভেবেই আর এগোন না লাজুক প্রকৃতির মানুষজন। ভয় পান মানুষের মতামতকে। এদিকে ‘অন্তর্মূখীতা’ হচ্ছে আপনি কিসে মানে কোন পরিস্থিতিতে রেসপণ্ড করেন? ‘স্টিমুলেশন’ পান কোন জিনিসে? এক্সট্রোভার্টরা পেতে চান ‘স্টিমুলেশন’ – সবকিছু থেকে। ফলে তাদের গভীরতা যায় কমে। আর এদিকে ইনট্রোভার্টদের ‘স্টিমুলেশন’ আসে হয়তোবা কোন একটা কিছু ক্লিক করলে। আর, তখন তাদের আউটপুট হয় অবিশ্বাস্য!

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If your actions inspire others to dream more, learn more, do more and become more, you are a leader.

— John Quincy Adams

২২.

গুগল হেডকোয়ার্টারের মানুষগুলোর ওয়ার্কিং সিডিউল এতটাই ‘ফ্লেক্সিবল’ যেখানে তারা সময় পায় চিন্তা করতে। চিন্তা করার অনেক সুন্দর সুন্দর যায়গাও তৈরি করা আছে অফিসের বাইরে। পা বাড়ালেই গাছের ওপর ছোট্ট ছোট্ট বাসা। কোন চিন্তাই ‘ফালতু’ না বলে তাদেরকে প্রচুর সময় দেয়া হয় – নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে আসতে। মোদ্দা কথা – ‘যা ইচ্ছা চিন্তা’ করার জন্য ‘পয়সা’ দেয়া হয় তাদের। মানুষের ভেতরের জিনিসটা বের করে আনতে পারে বলেই আজ তারা এতো বড় কোম্পানী। চিন্তার খোরাকের জন্য পুরো পৃথিবীর ‘মাথাওলা’ লোকদের ধরে নিয়ে যায় তাদের গল্প শোনার জন্য। মেডিটেশনের প্রোগ্রাম চলছে এর মধ্যেই। তারা জানে ভালো করে, মন ভালো থাকলে হয় সবই। বাড়ে সুন্দর চিন্তা করার ক্ষমতা, ভালো মানসিক স্বাস্থ্য আর ‘ইমোশনাল ইণ্টেলিজেন্স’। মনে আছে ড্যানিয়েল গোল্ডম্যানের কালজয়ী বইটার কথা? এটা ঠিক, চোখ বন্ধ করলে সবকিছু দেখা যায় পরিষ্কার ভাবে। আমার নিজস্ব মতামত, তবে চেষ্টা করে দেখতে পারেন নিজে। ঝামেলায় পড়লে মাথা ঠান্ডা করে বসে থাকি পার্কে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে আপনা আপনি। বুঝতে পারি, ‘আলোর ছটা’র রেশ পাই মাথায়। ‘ইল্যুমিনেশন’ বলে নাকি ওটাকে। কে জানে?

২৩.

মনে আছে ‘ওয়াইয়ার্ড ম্যাগাজিন’এর কথা? প্রযুক্তির উত্কর্ষতা নিয়ে নিয়ে সেই উনিশশো তিরানব্বই থেকে পৃথিবী কাপাচ্ছে ম্যাগাজিনটা। কম্পিউটার, কম্যুনিকেশনস, বিজনেস, টেকনোলজি লীডারশিপ – কি নিয়ে লেখেনি তারা? অনেক টেকনোলজি ‘টার্ম’ ‘লিটারেলি’ উদ্ভাবন করেছে তারা। প্রতিবার এয়ারপোর্ট পার হলেই চোখে পড়ে ওটার রঙচঙা কাভারটা। ম্যাগাজিনটার একজন ফাউন্ডার হচ্ছে কেভিন কেলী। বই লিখেছেন কয়েকটা। সিলিকন ভ্যালীর নামকরা লোক। এক নামে চেনে তাকে সবাই। উনার শেষ বইটা লিখেছেন নতুন টেকনোলজি নিয়ে। তবে উনি সেটা লিখেছেন ল্যাপটপ, টিভি আর স্মার্টফোন ছাড়াই। সিলিকন ভ্যালীর অনেকের মতো তিনি চলে যান অফলাইনে। বাকিরা যান চব্বিশ অথবা আটচল্লিশ ঘন্টার জন্য। পুরোপুরি। এক এক সপ্তাহে। মাথাকে কাজ করতে দেন নিজের মতো। সিলিকন ভ্যালী ওই দিনটার নাম দিয়েছে ‘ইন্টারনেট স্যাবাথ’। আমি নাম দিয়েছি ‘ইন্টারনেট রোজা’। ছুটি হিসেব করলে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট আর ফোনের কাছে না গেলে হয় না? গল্প বেশি দিয়ে ফেললাম মনে হচ্ছে! তবে, আমি যাই অফলাইনে – আট ঘন্টার মতো। প্রতিদিন।

২৪.

উন্নত দেশগুলোতে ‘আন-প্লাগিং ডে’ উদযাপন শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। ‘লুক আপ’ মানে ‘তাকাও ওপরে’ দিয়ে সার্চ করলেই বুঝবেন কি হচ্ছে পৃথিবীতে। সুন্দর সুন্দর গানও বেরিয়েছে ইউটিউবে। যেখানেই যাই সবাই তাকিয়ে আছে তার মোবাইল ডিভাইসটার দিকে। ‘সেল্ফ অ্যাবজর্ভড’। ‘সেল্ফ প্রোমোশনে’ মগ্ন সবাই। বাদ দেই কেন আমাকে? আমিও করতাম একই জিনিস। ধীরে ধীরে শিখলাম কিভাবে ‘দাস’ বানাতে হবে প্রযুক্তিকে। সীমারেখা টানলাম নিজ থেকে। নয়তো দাসখত লেখাতে হবে আমাকেই। ওই যন্ত্রগুলোর কাছে। শিখলাম ‘রি-ক্লেইম’ করতে একসময়। সিংগাপুরের মতো। পুরো ইস্ট কোস্ট পার্কটাই তৈরি করেছে সমুদ্র থেকে মাটি তুলে এনে। ওটার সি-বীচটাও মানুষের তৈরি। সত্যি তো, কেই বা চায় না ফিরে পেতে নিজেকে? গত চুয়াল্লিশ বছরে কম ইনপুট নেয়নি মাথাটা আমার। হাজারো বই, গোয়িং প্লেসেস, হাজারো মানুষের সাথে সখ্যতা – কি দিয়েছে আমাকে? আমি কি দিয়েছি পৃথিবীকে? নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে অন্যকে মাড়িয়ে দিলাম নাকি আবার? অন্যদের স্বপ্নের কি হবে? কেমন হয় অন্যদের স্বপ্ন পূরণে পাশে থাকতে? স্বপ্ন পূরণের স্কূল?

২৫.

ইণ্টেল একটা পরীক্ষা চালিয়েছিলো ‘কোয়াইট আওয়ার্স’ নামে। প্রতি বৃহস্পতিবার, চার ঘন্টার জন্য – তাদের তিনশো ইঞ্জিনিয়ার আর ম্যানেজারদেরকে বলা হয়েছিল বন্ধ রাখতে সবকিছু। ফোন আর ইমেইল বন্ধের সাথে সাথে অফিসের দরজায় ঝোলানো হয়েছিল ‘ডু নট ডিসটার্ব’ সাইন। কারণ, ওটা হচ্ছে তাদের ‘চিন্তা’ করার সময়। ওই পাইলট টেস্টটার আউটপুট এতো ভালো হয়েছিল যে পরে তারা আট সপ্তাহের একটা প্রোগ্রাম তৈরি করে ‘সোজাসাপটা চিন্তাভাবনা’ নিয়ে। কতো সহজে একটা কাজ বের করে নিয়ে আসবেন সেটার জন্য ওই প্রোগ্রামটা চমত্কার কাজ করেছিল ম্যানেজারদের মধ্যে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: