Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘আফ্রিকা’

এটি একটি বই। আমরা এটি তোমার কাছে অবতীর্ণ করেছি আশীর্বাদ হিসেবে। এই আশীর্বাদ বই আমরা এজন্য পাঠিয়েছি যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা (গবেষণা) করে। আর, জ্ঞানবান লোকেরা যেনো এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

– সূরা ৩৮ সোয়াদ: আয়াত ২৯

০১.

নতুন বত্‍সরের ‘রেজ্যুলুশন’ নিয়ে অনেক কথা হলেও রমজান মাস নিয়ে ভেবেছেন কখনো? তিরিশ দিন, সময় কম নয়। কি করা যায় বলুনতো? আমার মাথায় খেলছে জিনিস একটা। বলবো?

নতুন ভাষা শিখলে হয় কেমন? নতুন একটা ভাষা। যেটা আমরা পড়তেও জানি কিছুটা।

হটাত্‍ কেন এই কথা?

পৃথিবী চষে বেড়ানোর পর এ উপলব্ধি কেন আপনার? এড়াতে পারলাম না প্রশ্নটা।

০২.

যুগটা গ্লোবালাইজেশনের। বন্ধুও জুটিয়েছি বিভিন্ন টাইমজোনে। তাদের মধ্যে পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছে তারাই – যারা ভাষা জানে নিদেনপক্ষে পাঁচটার মতো। ‘জিম রনে’র ভাষায় একেক ভাষা মানে এক মিলিয়ন ডলার। বাড়তি আয়। মিথ্যে বলেনি সে। ছোট বাচ্চাদের হাজারো গিফটের মধ্যে এটাই সব সেরা গিফট। সারা জীবনের জন্য। ঘুরে বেড়াবে পৃথিবী দাপিয়ে। ধন্যবাদ দেবে আপনাকে মনে মনে। দূরদৃষ্টির জন্য।

কতো গুলো ভাষা শিখতে পারে বাচ্চারা?

যতোগুলো চান আপনি। ভাষাতত্ববিদদের উত্তর। তবে সংখ্যা ছয় ব্যপারটা খারাপ নয়। রিসার্চ বলে বাচ্চারা একসাথে দুটো করে ভাষা শিখতে পারে ওই ‘দুই-তিন’ বছর বয়সে। কোন সময়ে কোন ভাষা ব্যবহার করতে হবে সেটাও ধরতে পারে ওই সময়ে।

০৩.

আচ্ছা, বাদ দিলাম বাচ্চাদের কথা। আমাদের কি হবে? চুল পেকে গেলেও আরেকটা ভাষা শেখা কঠিন নয়। নিজের কথাই বলি। জার্মান নিয়ে খোঁচাখুচি করেছিলাম একসময়ে। খবর পড়ুয়াদের বেশ বড় অংশ বুঝতেও পারতাম একসময়। টিভিতে সারাদিন জার্মান দেখলে না শিখে উপায় কি? কঙ্গোতে ছিলাম এক বছর। ফ্র্যাংকোফণিক দেশ হিসেবে ফরাসী ছাড়া ওদেশ অচল। কিছুটা শিখতে হয়েছিল অবস্থার চাপে পড়ে। দশ বছর পরে আবার এসে পড়লাম এই আইভরি কোস্টে। এখানেও সবাই কথা বলছেন ফ্রেঞ্চে। পুরোনো ফ্রেঞ্চকে ঝালাই করতে আবার ভর্তি হলাম ফ্রেঞ্চ ক্লাসে। এই আইভরি কোস্টে। মন টিকলো না মাসখানিক পরে। পুরানো জিনিস ভালো লাগে কার? নতুন কিছু শেখার জন্য আকুপাকু করতে থাকলো মন।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

Those who spend in prosperity and adversity, and those who suppress anger and pardon men; and Allah loves those who do good.

— Al Quran 3:135

৬১.

ঘুরেছি পৃথিবীর অনেক দেশেই। যারা ধর্ম পালন করছেন তারা সেটাকে এমন সহজ করে নিয়েছেন যাতে মনে না হয় এটা আলাদা একটা জিনিস। সকাল আর রাতে দাঁত ব্রাশ করার মতো ‘ম্যাণ্ডেটরি’ করে নিয়েছেন ব্যাপারগুলোকে। আজান পড়েছে, ওখানেই অজু করে দাড়িয়ে যাচ্ছেন নামাজে। অজু করার ব্যবস্থা না থাকলে সেটার জন্য সৃষ্টিকর্তা যা ছাড় দিয়েছেন সেটা করেই দাড়িয়ে যাচ্ছেন সবার সাথে। প্রথম প্রথম মনে হতো আমি ঠিকমতো পরিষ্কার আছি কিনা, সেটার জন্য মন বলতো – বাসায় বা পরের ক্যাম্পে যেয়ে ‘কাযা’ পড়ে নেব। অথচ, সৃষ্টিকর্তা সবকিছুর জন্য অসাধারণ ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’ তৈরি করে রেখেছেন। সৃষ্টিকর্তা তো জানেন আমরা কি অবস্থায় আছি। মনকে তো আর ফাঁকি দিতে পারি না।

৬২.

আফ্রিকার এই ‘পিস কীপিং মিশনে’ বিভিন্ন ন্যাশন্যালিটি’র সাথে কাজ করতে হয় অহরহ। এদের মধ্যে মুসলিম রয়েছেন অনেকে। অনেক দেশের। আজানের শব্দ শোনা গেলেই হলো, কোথায় টুপি, কোথায় জায়নামাজ, কোথায় ওজুর ব্যবস্থা – ওগুলো না খুঁজে ‘মিনিম্যালিস্ট রিকোয়ারমেন্ট’এ নামাজ পড়ে নেবে ওরা। জুতো খোলার সময় নেই, বরং জুতোর ওপর দিয়ে পানি ঢেলে অজু করে ফেললেন এক কলিগ। বরং, আমারই মনে হতো, পানি ভালো আছে কি না, কাপড়ের কি অবস্থা, পরিষ্কার আছি কিনা – এগুলোই মাথায় ঘুরতো বেশি। মন খুজতো হাজারো অজুহাত। আপনি কোন অবস্থায় আছেন সেটা তো সবচেয়ে ভালো জানেন সৃষ্টিকর্তা। আমি সৃষ্টিকর্তাকে অখুশি না করলেই তো হলো। তিনি জানেন আপনার মনের ভেতর কি চলছে। উনি তো আমাকে দেখছেন চব্বিশ ঘণ্টা। আর সেকারণে ‘সীমা’ ছাড়িয়ে যাবো না আমরা।

৬৩.

একটা জিনিস বুঝে গেলাম। আমরা নামাজ পড়ি কাজের ফাঁকে ফাঁকে, আর তারা নামাজের ফাঁকে ফাঁকে কাজ করেন। মানে, নামাজ হচ্ছে ‘কনস্ট্যান্ট’, সময় হলেই পড়তে হবে। আর পৃথিবীর কাজ হচ্ছে ওর ফাঁকে ফাঁকে। কাজকে প্রায়োরিটি দিতে গিয়ে নামাজকে ফেলেছি পেছনে। সেকারণে, আমরা জমিয়ে রাখি নামাজ – বাসায় ফেরার জন্য। অজুহাত খুঁজে বের করি, অজু নেই বলে। কাপড় ময়লা। কিছু হলেই বলি ‘কাযা’ পড়া যাবে, কিন্তু আসলে কি তাই? আসছি পরে।

৬৪.

একটা প্রশ্ন করি? আপনি জানেন যে এই রাস্তায় ক্যামেরা আছে। কি করেন ওখানে? নিয়ম মেনে চলি আমরা। ওই রাস্তায়। যেখানে নেই, সেখানে নিয়ম মানেন না অনেকে। আমার ফোন আর ল্যাপটপে চালু আছে একটা অ্যাপ্লিকেশন। ওটার কাজ হচ্ছে আমার পুরো ‘অনলাইন লাইফ’ মনিটর করা। আমি কি কি কাজে সময় নষ্ট করছি সেটার একটা ‘ভয়ংকর’ রিপোর্ট তৈরি করে জানায় সময়ে সময়ে। এর আউটকাম? এখন, আমি কম সময় কাটাই সোস্যাল মিডিয়াতে। ফেসবুক, লিঙ্কডইনে। গানের অ্যাপ্লিকেশনে। এর মানে হচ্ছে, মনিটরিংয়ে থাকলে সবাই সোজা। আমি জানি, এই রিপোর্ট শুধু আমার জন্য। তবুও। যখন আমি জানবো, সৃষ্টিকর্তা দেখছেন আমাদের চব্বিশ ঘণ্টা – আমাদের ভুল করার প্রবণতা আসবে কমে। আর, মানুষ তো ভুল করবেই। সেটা জানেন সৃষ্টিকর্তা, নিজেই। আর সেকারণে সৃষ্টিকর্তা সতর্ক করেছেন হাজারবার। মানুষ অকৃতজ্ঞ। সেটাও জানেন তিনি। সেজন্য বার বার ক্ষমার কথাও বলেছেন উনি।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

It [is] that courage that Africa most desperately needs.

― Barack Obama, Dreams from My Father: A Story of Race and Inheritance

০৭.

‘মাছের ঝোল লাগবে, কর্নেল?’

ভূত দেখার মতো চমকে উঠলাম ওই মুহূর্তটাতে। ‘পীস কীপার’ রোলের পাশাপাশি ‘এবোলা’ ভাইরাস ঘাড়ের ওপর চড়ে থাকলেও ভুল শোনার মতো মানসিক অবস্থা ছিলো না ওই দিনে দুপুরে। বেশি হয়ে গেলো নাকি? ক্লান্ত? তাও না। আঠারো উনিশ ঘন্টার ইউএন ফ্লাইট তো পানিভাত। আইভোরিয়ান মেয়েটা দাড়ানো আমার সামনে। কথা বলছে – স্পষ্ট বাংলায়। একদম কুষ্টিয়া’র শুদ্ধ অ্যাকসেন্টে। হাতে গ্লাভস, সাদা টুপি, ক্যাটেরিংয়ের ড্রেস পরা। গিলে ফেললাম নিজের কথা। আগের কঙ্গো মিশনে শেখা ভাঙ্গা ফ্রেঞ্চ খানিকটা বের হলো মুখ থেকে।

‘সিল ভ্যু প্লে’। মানে, অনুগ্রহ করে দিলে ভালো আরকি। পুরোটাই অস্ফুট থাকলো মুখের ভেতর। বুঝলো কিনা জানি না।

‘আমি বাংলা জানি, ভালো বাংলা। ধন্যবাদ আপনাকে।’ সপ্রতিভ উত্তর মেয়েটার।

সুপ্রীমের সবাই এদেশীয় স্টাফ। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে এধরনের ‘প্রফেশনাল’ আচরণ আশা করিনি আমি।

০৮.

বিটিআরসিতে থাকার সময়েই পেলাম পোস্টিং অর্ডারটা। নিউ অ্যাসাইনমেণ্ট। কোতে দে’ভোয়া। আইভোরিয়ানদের ভাষায় না বললে দেশটার নাম ‘আইভোরি কোস্ট’। নতুন দেশ – নতুন অভিজ্ঞতা। উড়াল দিলো মনটা আগেই। দেশটার নাম নিয়ে অনেক ভাষায় অনেক ধরনের অনুবাদ হবার ফলে তাদের সরকার ‘কোতে দে’ভোয়া’ ছাড়া মানেনি কোনটাই। আমাদের অপারেশনের ইংরেজি নামটাও ওটাই। ইউনাইটেড নেশনস অপারেশন ইন কোতে দে’ভোয়া। এসেছি স্টাফ হয়ে। মাল্টি-ন্যাশন্যাল সেক্টর হেডকোয়ার্টার। থাকা খাওয়ার দ্বায়িত্ব ‘ইউএন’এর ওপর। যোগাযোগের মানুষ আমি। নতুন এলাকা। মাথাটাকে ‘ডিফ্র্যাগমেন্ট’ করে নিলাম প্রথম কয়েকদিনে। খালি হলো কিছু যায়গা। মুখ বন্ধ, চলে গেলাম ‘অবজার্ভার’ রোলে। নতুন পরিবেশে এই টেকনিক কাজ করে ভালো। থাকতে হবে নয় দশটা দেশের লোকের সাথে। এজন্য এই সেক্টরের নাম শুরু হয়েছে ‘মাল্টি-ন্যাশন্যাল’ দিয়ে। আমার তো পোয়াবারো। জানবো নতুন কালচার। বন্ধুত্বটা শুরু হলো বেনিনের আরেক কর্নেলকে দিয়ে।

০৯.

পোস্টিং অর্ডার পাবার পরের ঘটনা। সবার কথা একটাই। সব ভালো। খালি – খেতে পারবে না ‘সুপ্রীমে’। কি যে রাঁধে – ওরাই জানে ভালো। দেশ থেকে মশলা, আচার, রাইস কূকার না নিলে বিপদ। দেশ থেকে কথা হতো আগের অফিসারদের সাথে। এই ‘কোতে দে’ভোয়া’তে। মিশন এরিয়াতে ওই একটা ‘অ্যাপ’ই আমাদের লাইফলাইন। মাঝে মধ্যে স্বাতীর কানে যেতো কিছু কিছু জিনিস। চাল ডাল নেবার জন্য জোড়াজুড়ি শুরু করলো সে। আমার ধারনা হলো ‘সুপ্রীম’ হলো ডাইনিং হলের মতো কিছু একটা। চালাচ্ছে এদেশীয় কোন কনট্রাক্টর।

১০.

শেষমেষ ‘কোতে দে’ভোয়া’তে চলে এলাম আবিদজান হয়ে। আফ্রিকার ‘প্যারিস’ খ্যাত এই আবিদজান অনেকখানি মলিন – গৃহযুদ্ধের ফলে। দেখলাম তো আফ্রিকার অনেকগুলো দেশ। দেশ ‘ডিভাইডেড’ থাকলে যে কি হয় সেটা দেখছি নিজের চোখে। আমার কাজের জায়গাটা হচ্ছে পশ্চিম সেক্টরে। এটার ‘এরিয়া অফ রেস্পন্সিবিলিটি’ আমাদের দেশ থেকেও বড়। পাশেই লাইবেরিয়া আর গিনি। মাল্টি-ন্যাশন্যাল সেক্টর বলে অনেকগুলো দেশ কাজ করছে এখানে। আর আমাদের খাওয়া দাওয়ার দ্বায়িত্ব হচ্ছে এই সুপ্রীমের ওপর। ছোট পরিপাটি ডাইনিং হল – নিরীহ মনে হলো প্রথম দেখায়। অলিভ অয়েলে আসক্তি চলে এলো কিছুদিনেই। খাওয়া দাওয়া, সেটা না হয় আরেকদিন? ওয়ান লাইনার? আই অ্যাম লাভিং ইট!

১১.

নতুন দেশ দেখা নেশা হলেও তাদের কাজের ধারা নিয়ে লেখার অভ্যাসটা ঢুকে গেছে রক্তে। পৃথিবীতে ছড়িয়ে থাকা জ্ঞানগুলোর ডটগুলোকে কানেক্ট করার মতো। পাঠকদের মধ্যে যে যেভাবে সেটা ব্যবহার করে! কাজে লাগলেই খুশি আমি। জানতে চাইলাম এই সুপ্রীমকে নিয়ে। যতোটা নিরীহ মনে করেছিলাম সেটা মনে হলো না আর। লোকাল স্টাফ দেখে বিভ্রান্ত হয়েছিলাম কিছু সময়ের জন্য। এটা রীতিমত একটা মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ক্যাটারিং কোম্পানী। দুর্গম জায়গায় খাবার, ফুয়েল আর যা দরকার সবকিছু পাঠাতে সিদ্ধহস্ত তারা। এক লাখ খাবারের প্লেট ‘ডেলিভারী’ দেয় প্রতিদিন! পাঁচ মহাদেশ মিলে ত্রিশটা দেশে কাজ করছে গত পঞ্চাশ বছর ধরে। কেমিক্যাল ওয়ারফেয়ার, গাড়ি বোমা, এক্সপ্লোসিভ আর বুলেট ফাঁকি দিয়ে খাবার পৌঁছে দিচ্ছে আফগানিস্তান, সুদান, ইরাক, লাইবেরিয়া, মালী সহ আরো অনেক দেশে। রুয়াণ্ডা, সোমালিয়া আর কোতে দে’ভোয়া বাদ দেই কেন? তুখোড় কাজের ডাউনসাইডটা অনেক কষ্টের। শুধু আফগানিস্তানে গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত হারিয়েছে তারা ৩১২ জন বেসামরিক কনট্রাক্টর। মন খারাপ করার মতো খবর বটে।

১২.

আজ আর নয়। এই তুখোড় কোম্পানীর গল্প নিয়ে আসবো আরেকদিন! সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্টের জাদুর চাবিকাঠি মনে হয় আছে তাদের কাছে! সমস্যাকে নিজের অনুকূলে নিয়ে এনে ব্যবসা – এটা নিয়েই কথা হবে সামনে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Progress and motion are not synonymous.

Tim Fargo

৪২৫.

জিবুতির ওপর দিয়ে যাবার সময় মনটা ভালো হয়ে গেলো। নিচে কোরাল রীফের মতো স্বচ্ছ পানিটা পাথুরে সাগরের নিচটাও দেখাচ্ছিল কেমন করে। পানি এতো স্বচ্ছ হয় কি করে? চোখ তুলে চাইলাম এয়ারশোর ভিডিওটার দিকে। এক ঘন্টার রি-ফুয়েলিং সহ আঠারো ঘন্টার ইউএন ফ্লাইটটা আর কিছুক্ষণ পর ‘টাচ-ডাউন’ করবে আদ্দিস আবাবাতে। আর সেকারণে ইয়েমেনের ওপর দিয়ে আসা। তাজুরা গালফ ধরে ঢুকতেই এই দৃশ্য। আফ্রিকার হর্ন বলে কথা। মন ভালো না হয়ে যাবে কোথায়? মন ভালো হবার আরো কারণ আছে বেশ কয়েকটা। প্রথম – এই আফ্রিকাতে আসা। ‘ল্যান্ড অফ অপুর্চুনীটি’ বলতে অন্য কোনো দেশ বোঝালেও আফ্রিকা হচ্ছে আমার টপ ফেভারিট! পৃথিবীর দশটা ‘ফাস্টেস্ট গ্রোয়িং ইকোনমি’র সাতটাই আফ্রিকাতে। এরা কিভাবে উঠছে সেটা শিখতে চাই তাদের দেখে। পড়ছিলাম বেস্টসেলার ‘ব্রেক আউট নেশনস’ বইটা – বিমানে। দুহাজার বিশের মধ্যে স্থানীয় গ্রাহকমাত্রায় চাহিদা তৈরি হবে চার চারশো বিলিয়ন ডলারে। ভাবা যায়?

৪২৬.

দুই নম্বর ফেবারিটের গল্পটা হচ্ছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সকে ঘিরে। ইউএন চার্টার ফ্লাইটে উঠে জানলাম ফ্লীটটা এসেছে আমার ফেভারিট আফ্রিকান এয়ারলাইন্স থেকে। আগেও লিখেছিলাম এই এয়ারলাইন্সটা নিয়ে। এক কথায় পুরো আফ্রিকা দাবিয়ে বেড়াচ্ছে এককালের এই গরীব দেশটা। আদ্দিস আবাবাকে ধরা হয় পুরো আফ্রিকার এয়ারলাইন হাব। দুবাইয়ের সাথে তুলনা না করা গেলেও এর সামনে এগিয়ে চলা ইর্ষনীয়। আফ্রিকাতে ঢুকতে হলে এদের ছাড়া নেই গতি। এয়ারলাইনটার এই উত্থানের পেছনে আছে একটা মানুষ। তাকে নিয়ে আসবো সামনে। একশোর বেশী উড়ুক্ক যন্ত্রের অনেকগুলোই বোয়িংয়ের ড্রিম লাইনার। চমত্কার ক্রু-লাইন! ব্যবহারও অসাধারণ! ওদেরকেই নিয়ে লেখা যাবে কয়েকটা বই।

৪২৭.

গত ছয় সাত দিনেই চষে বেড়িয়েছি কয়েক হাজারের বেশি কিলোমিটার। বম্বার্ডিয়ার এরোস্পেসের তুখোড় লিয়ারজেট, ইউক্রেনের আকাশের যন্ত্রদানব এমআই হেলিকপ্টার আর কার রেসিংয়ের মতো চকচকে রাস্তা মাথা খারাপ করেছে বরং। হাজারের পর হাজার মাইল পড়ে আছে মানুষের স্পর্শ ছাড়া। ডাকছে সবাইকে। এমন উর্বর মাটি আর আবহাওয়া দেখেননি কখনো। যাই ফেলবেন তাই হবে। একদম সার ছাড়াই। পুরো বসন্তের আমেজ বইছে আফ্রিকা ধরে। এই কঙ্গো আর উগান্ডায় ছিলাম বছরের মতো। সমুদ্রের পাশের জায়গাগুলো ছাড়া বাকি জায়গাগুলোতে বসন্ত – সারাবছর ধরে। আদ্রতা নেই বললেই চলে। পারফেক্ট রিটায়ারমেন্ট ডেস্টিনেশন। আমার ধারনায়। মেক্সিকোর চেয়ে ভালো রিটায়ারমেন্ট ডেস্টিনেশন। আসবেন নাকি? মানুষকে দেবার আছে অনেক কিছু – এখানে।

৪২৮.

এদিকে, ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবাতে চলে আসছে অনেক মার্কিন তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি। সেধরনের ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী হয়ে গিয়েছে অনেক দেশেই। তবে এনার্জি সেক্টরেই কাজ হয়েছে অনেক অনেক বেশি। দুহাজার দশের মার্কিন আর ইউরোপিয়ান বিনিয়োগের তিরিশ শতাংশ হয়েছে এই আফ্রিকাতে। আর তার পয়তাল্লিশ শতাংশই ছিলো দক্ষিন আফ্রিকাতে। সেটা পাল্টেছে অনেকাংশে। প্রায় ষাট শতাংশই এখন যাচ্ছে সাব-সাহারান আফ্রিকাতে। এগুলোর বেশিরভাগ হচ্ছে ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট। ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে ওধরনের বিনিয়োগ যা মানুষের জীবনধারার উন্নয়নে ব্যবহার হয়। এ কাজগুলো পিরামিডের নিচের মানুষগুলোর ভালো করার জন্য আসে বেশি। সামাজিক আর পরিবেশের উন্নয়ন নিয়ে আসছে এই বিনিয়োগগুলো। আজ কেউ মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নিয়ে আসলে সেটাও হবে ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট। যাতে মানুষের ভালো হবে আর তাদের ক্ষমতায়ন হবে। মেলিন্ডা আর গেটস ফাউন্ডেশনের হাজারো কোটি টাকা আসছে মানুষের কল্যানে – এই আফ্রিকাতে। কাজও হচ্ছে তৈরী।

৪২৯.

নতুন জায়গায় গেলে ওখানকার স্থানীয় টিভি চ্যানেল দেখার জন্য মুখিয়ে থাকি। ভাষা নিয়ে এখন আর কোনো সমস্যা হয় না আমার। প্রথম প্রথম না বুঝলেও আস্তে আস্তে ওই চ্যানেলের ওপর একটা পারসেপশন তৈরী হয়। ষাট শতাংশ বুঝলেই তো হলো। বিবিসি,সিএনএন আর আল-জাজিরার মতো মেন-স্ট্রিম চ্যানেল দেশের বাইরে গেলে দেখি না। গ্লোবাল নিউজ শোনার জন্য তো আর ওই দেশে যাইনি। মেন-স্ট্রিম চ্যানেলগুলো কিছুটা স্থানীয় নিউজ ‘ক্যারি’ করলেও স্থানীয় সংবাদের জন্য লোকাল চ্যানেলের বিকল্প নেই। বুরুন্ডির বৈদেশিক বিনিয়োগ নিয়ে স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়ার বেশ কয়েকটা অ্যাডভার্ট আমার মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে আজ সকালে। ওদের ‘ইনভেস্টমেন্ট কোড’গুলো যে কোনো কোম্পানির মাথা ঘোরাতে বাধ্য। ‘ইনসেনটিভ প্যাকেজ’গুলো বেশ আকর্ষনীয়। আমার ধারণা এর পেছনে রয়েছে বড় বড় ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং কোম্পানি। নিখুঁত ইনভেস্টমেন্ট কোড। কোন কোন সেক্টর বাইরের ইনভেস্টমেন্টের জন্য তৈরী সেটার বিশদ ধারণাও এসেছে ওই অ্যাডভার্টে। মনে আছে বিশ্বব্যাংকের ‘ডুইং বিজনেস’ ইনডেক্সটার কথা? গত তিন বছর ধরে ওরা বিশ্বের প্রথম দশটা দেশের মধ্যে ‘বেস্ট-রিফর্মার’ হিসেবে নাম করেছে। ইনভেস্টমেন্টবুরুন্ডি.কম সাইটে গিয়ে চোখ কপালে – আমার। বুরুন্ডিতে ব্যবস্যা করার বিভিন্ন খরচের কথাও এসেছে ওখানে। নিখুঁত কাজ। আমাদেরও শেখার আছে অনেককিছু। এই আফ্রিকা থেকে।

৪৩০.

কালকে খেতে গিয়েছিলাম একটা জায়গায়। এই আবিদজানে। অনেকগুলো রেস্টুরেন্ট চেইন আছে এখানে। মজার কথা, লেবানীজ ব্যবসায়ীরা সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি শেখাচ্ছে এদেশটাকে। কোথায় যেন পড়েছিলাম লেবাননে থাকা মানুষের অনেকগুণ বেশি মানুষ আছে অন্যদেশ গুলোতে। উদ্যোক্তা ব্যাপারটি মিশে আছে তাদের রক্তে। তার সাথে যোগ দিয়েছে চাইনিজ ব্যবসায়ীরা। বিলিয়ন ডলার নিয়ে আসছে এখানে – ইনফ্রাস্ট্রাকচারে বিনিয়োগ করতে। ভারতও নেই পেছনে পড়ে।

আসছি সামনে।

Read Full Post »

Great anger and violence can never build a nation. We are striving to proceed in a manner and towards a result, which will ensure that all our people, both black and white, emerge as victors.

– Nelson Mandela (Speech to European Parliament, 1990)

২০৩.

নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লঙ ওয়াক টু ফ্রিডম’টা পড়তে যেয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো বার বার। আমাদের দেশের সাথে অনেকগুলো ঘটনা মিলে যাচ্ছে বলে কষ্টটা বেড়েছে। অবাক কান্ড – অন্য জায়গায়! বইটার নতুন ভার্সনটার মুখবন্ধ লিখেছেন আমার প্রিয় একটা মানুষ। তাকে খুব কাছ থেকে পেয়েছিলাম দু দুবার। কথাও বলেন চমত্কার। নিশ্চিত আমি, ধরে ফেলেছেন আপনি। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। দেশকে কিভাবে তুলতে হয় সেটা দেখেছি তার ফরেন পলিসিতে। মুখবন্ধ পড়তে গিয়েই বইটা দুবার বন্ধ করে ভাবছিলাম। ক্লিনটন তার সাথে ম্যান্ডেলার কিছু কথাবার্তার স্ন্যাপশট নিয়ে এসেছেন মুখবন্ধেই। প্রথমটা পড়ে ধাতস্থ হতে না হতেই পরেরটা মনের অর্গল খুলে দিলো। পাশ কাঁটাতে পারলাম না বইটাকে।

২০৪.

‘সত্যি করে বলুনতো?’ ক্লিন্টনের প্রশ্ন, ‘দীর্ঘ সাতাশ বছর পর জেল থেকে মুক্তির পথে হাঁটার সময় কেমন মনে হয়েছিলো আপনার? ওদেরকে কি নতুন করে ঘৃনা করতে শুরু করছিলেন?’

‘অবশ্যই ঘৃনা করেছিলাম।’ ম্যান্ডেলার সহজ সরল উত্তর। ‘ওরা আমাকে আটকে রেখেছিলো অনেকটা বছর। অমানবিক ব্যবহার করেছে আমার সাথে। জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টা পার করেছি এই কুঠুরিতে। বিয়েটাও শেষ হয়ে গিয়েছে ওই কারণে। বাচ্চাদের বড় হওয়ার সময় পারিনি পাশে থাকতে। প্রচন্ড রকমের ক্রোধান্বিত ছিলাম ওদের ওপর। আতঙ্কগ্রস্ত সময় পার করতে হয়েছে ওই লম্বা – আটকে থাকার সময়টাতে।’

‘তবে মুক্তির সময়ে গাড়িটার কাছে হেঁটে যাচ্ছিলাম যখন – অনেক চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো মাথায়। গেটটা পার হবার সময় একটা উপলব্ধিতে পৌছালাম। ওদেরকে তখনো ঘৃনা করলে ওরাতো পেয়ে গেলো আমাকে। ওটাতো চাইনি আমি। মুক্তি চেয়েছি বরং ওই সংকীর্ণতা আর বিদ্বেষের শৃঙ্খল থেকে। ওই সর্বগ্রাসী ঘৃনা তুলে নিলাম ওদের ওপর থেকে। ওই মুহূর্ত থেকেই।’

___
* পুরো মুখবন্ধটা নিয়ে আসবো সামনে। আমাজনে বইটার লিঙ্কে গেলে প্রথম অধ্যায়টা পড়তে পারবেন বিনামূল্যে। জীবন পাল্টে দিয়েছে এই আমাজন। বইয়ের কাভারের ছবিটার উপর ক্লিক করুন। পুরো মুখবন্ধটা পড়তে ভুলে যাবেন না কিন্তু। বলে নিচ্ছি আগে, আমি বঙ্গানুবাদে বিশ্বাসী নই। আমার ধারনায়, মুখবন্ধের শেষ প্যারাটাই পুরো বইটার ওয়ান লাইনার!  ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন আশা করি।

Read Full Post »

“Excellence is not a skill. It is an attitude.”

– Ralph Marston

১.

কাডেট কলেজে পড়ার সময় বছর প্রতি ক্রস কান্ট্রি দৌড়ের কথা মনে পড়ে প্রায়ই। মধ্যম গ্রুপের যারা আমরা; প্রথম হবার বাসনা ছিলনা কখনোই যাদের, ক্রস কান্ট্রি রুট ব্রিফিং শুনতামও না ঠিক মতো। দাড়িয়ে থাকতাম পেছনে – দৌড় শুরু হবার অপেক্ষায়। ধারণা এমনটাই যে – প্রথম গ্রুপের যারা, তাদেরকে ফলো করলেই তো হলো ঠিক মতো। এ আর কি? যারা ‘ঘোড়া’ হিসেবে পরিচিত তাদেরকে নিয়েই এডজুটেন্টের যতো চিন্তা ভাবনা। রুট পরিচিতি বার বার হতো তাদেরই জন্য। তখন সমস্যা ছিলো না জীবন মরণের। আসতে পারলেই হলো। পেছনে আসার পর তিরস্কার – এতো আর নতুন কিছু নয়।

২.

মিলিটারি একাডেমীতে এসে এর আইডিয়া গেলো পাল্টে। দৌড় আর বন্ধুত্ব এগোলো সমান তালে। মানে সমান দূরত্বের জন্য প্রতিনিয়ত সময় কমতে থাকলো দ্রুত – বন্ধুত্ব পাল্লা দিলো তার সাথে। বিভিন্ন দুরত্বের মাইল টেস্ট দেবার সময় নতুন ঘোড়া বন্ধুরা অপেক্ষাকৃত দুর্বল বন্ধুদের সাহায্য করার পদ্ধতি বের করে ফেললো এর মধ্যে। প্রত্যক্ষ সাহায্য, যেমন পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে এগিয়ে নেয়া নিয়ম বহির্ভূত হবার কারণে ঘোড়া বন্ধুদের বিশেষ করে পরীক্ষাগুলোর [মাইল টেস্ট] সময় নিতে হতো অতিরিক্ত কষ্ট। কারণ পরীক্ষাগুলোতে উত্তীর্ণ না হতে পারলে বন্ধুগুলোকে হারিয়ে ফেলবো একাডেমী থেকে। দৌড় শুরু হবার পর থেকে ঘোড়া বন্ধুরা জীবনবাজি নিয়ে এমনভাবে টান দিতো, সেখানে আমরা মধ্যম গ্রুপ, ঘোড়া বন্ধুদের অনুশীলনের সময়ের কাছাকাছি গতি তুলে ফেলতাম। অবাক হয়ে যেতাম নিজেদেরই পারফরমেন্স দেখে। যারা থাকতো পেছনে, মধ্যম গ্রুপের সাথে তাদের দুরত্ব বাড়তে থাকলে পাগলের মতো দিশেহারা হয়ে গালিগালাজ করতে করতে সময় শেষের আগেই পার হয়ে যেত সাদা দাগ। বমি করতে করতে আমরা ঘোড়া বন্ধুদের মুন্ডুপাত করলেও তাদের প্রশ্রয়মাখা হাসিমুখ মনে পড়ে এখনো। ‘ঘোড়া’ বন্ধুদের কয়েকজন চলে গেছে না ফেরার দেশে।

২.

উন্নত বিশ্বের সাথে তুলনা করে আমাদের কাজ হয়না বলে আমরা আশেপাশের, আফ্রিকা মহাদেশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর সাথে আমাদের বেঞ্চমার্ক করে মানসিক তৃপ্তি নিয়ে থাকি। তবে বিশ বা তিরিশ বছর আগের গল্প দিয়ে যে কাজ হবে না সেটা টিভি আর খবরের কাগজ পড়লে কিছুটা আঁচ করা যায়। পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর থাইল্যান্ড আমাদের অনেক নিচে থাকলেও তারা করে নিয়েছে ভাগ্যের পরিবর্তন। সবাই পরিবর্তন চায়, চাই না আমরা। ভয় পাই অবস্থান পরিবর্তনের। কিছু হলেই শুরু হয় ব্লেমগেম, দোষ দেই নীতি নির্ধারনী কর্তাব্যক্তিদের। চেয়ে থাকি তাদের দিকে। মনে হয় তারা খাইয়ে দেবেন আমাদের সবকিছু। আমাদের করার নেই কিছুই। অথচ যে কোনো পরিবর্তনের শুরু হয় নিজেকে পাল্টিয়ে। নিজের অভ্যাস পাল্টাতেও কষ্ট, ব্লেম ইট অন দ্য ওয়েদার! আফগানিস্তানের স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটর দেখলেও খাবেন ভিমড়ি। হুড়হুড় করে উঠে যাচ্ছে দেশটা ওপরে। তবে সরকারী বা ব্যবসার কাজে অথবা ভ্রমনে দেশের বাহিরে গিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো অথবা আফ্রিকা গেলে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে বেশ ভালো আন্দাজ পাওয়া যায়। সৃষ্টিকর্তা সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরী করার জন্য দিয়েছেন জ্ঞান – যা হচ্ছে হালের ইন্টারনেট। উন্নতদেশগুলোর ঠেকে শেখার জ্ঞানগুলো [ওরা সময় নিয়েছে অনেক] রপ্ত করতে পারলে তার জন্য সময় বাঁচিয়ে বিভাজন কমিয়ে আনা সম্ভব। সেই ইন্টারনেটের গোড়া মানে সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে আফ্রিকার গল্প দেখলে উঠবে চোখ কপালে। আমরা আছি কোথায়? বেশি নয়, আমাদের সেই ঘোড়া বন্ধুদের মতো দশ বারোটা লোক পাল্টে দিচ্ছে আফ্রিকা। তাদের জীবন সঁপে দিয়েছেন উন্নত জীবনের সোপানে – বাকিদের জন্য। তারা ছিলেন না নীতিনির্ধারণীতে, কাজ করে দিচ্ছেন মানুষের তরে। নিচের ছবিটা তার প্রমান। আফ্রিকা এখন আলোকিত – অনেক অনেক বেশি!

কিছু ‘ঘোড়া বন্ধু’ প্রয়োজন – দেশের জন্য, হবেন নাকি একজন?

বন্ধু স্টিভ সংয়ের সাইট থেকে নেয়া। পুরোটা পাবেন http://manypossibilities.net/african-undersea-cables/ এখানে।

বন্ধু স্টিভ সংয়ের সাইট থেকে নেয়া। পুরোটা পাবেন http://manypossibilities.net/african-undersea-cables/ এখানে।

Read Full Post »

%d bloggers like this: