Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ইউটিউব’

In effect, they can become gatekeepers — able to handpick winners and the losers in the market and to favour their own sites, services and platforms over those of others. This would crowd out competition and snuff out innovative new services before they even see the light of day.

– Tim Berners Lee

save7১১.

ফ্রীডম অফ স্পীচ? কি হবে সেটার? বলেন ‘জিনিসপত্র’ যা ইচ্ছা, উত্তর দেবো কথায়। হাতাহাতি নয়। সমস্যা একটা যায়গায়। আমরা কেন জানি গুলিয়ে ফেলি ‘হেট স্পীচ’, ‘ফ্রীডম অফ স্পীচ’এর সাথে। খোঁচাখুচি করেন ভালো কথা, বিদ্বেষ নয়। ‘বিষেদগার’ অন্য জিনিস। আর সবার স্বাধীনতা আছে তার নিজ জিনিস নিয়ে। একটা ঘটনা বলি বরং। কয়েক দিন আগের কথা। পুরো ইন্টারনেট গরম এটা নিয়ে। উন্নত বিশ্বে মহিলারা যে কতো বেশি নিগৃহীত হন সেটার ঘটনা একটা। মহিলা টেলিভিশন রিপোর্টারদের নিয়ে অনেকদিন ধরেই চলছে জিনিসটা। গুগল করুন, ‘এফএইচআরআইটিপি’ দিয়ে। সঙ্গে ‘সিবিসি’ কীওয়ার্ড ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন তাহলে। শেষ ঘটনা ‘সিবিসি নিউজ’এর রিপোর্টার শ্যনা হান্টকে নিয়ে।

১২.

লাইভ রিপোর্টারদের চলন্ত ঘটনায় আর যাই হোক না কেন সেটাকে সপ্রতিভভাবে চালিয়ে নেয়ার প্রশিক্ষণ তাদেরকে কাবু না করলেও ব্যাপারটা রীতিমতো কষ্টের। ভিডিও দেখে মনে হলো সেটা। বিশেষ করে মহিলা রিপোর্টারদের। একটা খেলার পর দর্শকদের মতামত নিতে গিয়ে বিপদে পড়েন হান্ট। তবে তার সাহসের তারিফ করি। দর্শক তার ‘বাক স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে যা ইচ্ছা তাই বললেও সেটা তার নেটওয়ার্ক ‘নিজস্ব স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে ছেড়ে দেয় ইউটিউবে। বিতর্কের ঝড় ওঠে ওই ইউটিউব চ্যানেলে। সেটা ছড়িয়ে পড়ে ‘মেইন স্ট্রিম’ মিডিয়াতে।

১৩.

তারপরের ঘটনাটা আরো মজার। দর্শকদের চাকরিদাতা কোম্পানীও ‘নিজস্ব স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে চাকরি খেয়েছে তাদের। একারণে আমার পছন্দ এই ইউটিউব। মানে, ইন্টারনেট। আপনার তথাকথিত ‘স্বাধীনতা’ ব্যবহার করলেই তো আর হবে না। আমারো তো রয়েছে ‘স্বাধীনতা’। আমার স্বাধীনতা এই ইন্টারনেট। আর তাই এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ নিয়ে দিচ্ছি এতো গল্প। ইন্টারনেট হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ‘ইকুয়ালাইজার’। দেয় ‘লেভেল প্লেয়িং ফীল্ড’। ভাঙতে দেয়া যায় না একে। তাও আবার এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ দিয়ে বৈষম্য তৈরি করে?

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

You can fool some of the people all of the time, and all of the people some of the time, but you can not fool all of the people all of the time.

– Abraham Lincoln

save6০৯.

বুকে হাত দিয়ে বলুনতো আজ ‘ইউটিউব’ বা ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশী ইনকরপোরেটেড কোম্পানী হলে বছরে বন্ধ হতো কতো বার? কতো কনটেন্ট মুছে যেতো প্রতিদিন? আমার কথা একটাই। আপনার ভালো না লাগলে ওই সাইটে যাওয়া কেন বার বার? আর, ও মিথ্যে বললে কি উড়ে যাচ্ছে আপনার ‘ঠুনকো’ ইমেজ? ‘রেড লাইট এরিয়া’র মতো প্রতিটা ‘পর্নোসাইট’ বন্ধ করতে উঠে পড়ে লাগেনি পৃথিবী। সময়ের দাম আছে মানুষের। ‘নিষিদ্ধ’ কনটেন্টের সাইটে না যাবার জন্য নিজের ওপর ভরসা নেই কেন আমাদের? কেন সরকারকে বলা – ‘এটা ওইটা বন্ধ করেন’? রাস্তায় নামলেই দুর্ঘটনা হয় বলে ঘরে বসে থাকেন আপনি? আর, ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষ থাকবেই। সবার মত তো আর এক হবে না। তাহলে, অন্যের মুখ বন্ধ করতে যাওয়া কেন? ওতো আপনার বাড়া ভাতে ছাই ফেলেনি। আপনার মতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে হয়তোবা। এই যা! আর – উত্তরে দাড়া করান আপনার মতামত। এমনও তো হতে পারে সে ঠিক। গ্যালিলিওকেও তো মিথ্যেবাদী বলেছিল মানুষ।

১০.

আর সেকারণে আমার ভয় এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ নিয়ে। আজ যা জিরো, সামান্য গুটিকয়েকের জন্য, কাল আপনাকে তারাই ফেলে দিতে পারে ‘স্লো’ জোনে। পরশুদিন ‘নো জোন’। মানে, পাওয়া যাচ্ছে না আপনার সাইট – দেশ থেকে। ‘ইন্টারনেট’ বৈষম্য করেনি কখনো। বৈষম্য তৈরি করে না প্রযুক্তি, তৈরি করি আমরা। মানুষেরা। একে ওকে ‘শূন্য ট্যারিফ’ – আর বাকিদের নয়, সেটাই মূলনীতির বাইরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি নিয়ে হাজারো গল্প থাকলেও দেশের ভেতরে এই ‘সহিষ্ণুতা’ তাদেরকে ‘মাতবরী’ করতে দেবে অনেক কটা বছর। সহিষ্ণুতা মানে ‘অন্যের মতামতকে নেবার ক্ষমতা’। কারণ – তারা জানে ভিন্ন মতের মাহত্ব। আর সেকারণে ওই দেশের ফাউন্ডিং ফাদাররা তৈরি করেছিলেন ‘বিল অফ রাইটস’ বলে একটা কাগজ। সাদামাটা কথা। দেখবেন নাকি পড়ে একবার? ওই ১৭৮৭ সালে থমাস জেফারসন কি বলেছিলেন মনে আছে কি? “[A] bill of rights is what the people are entitled to against every government on earth, general or particular, and what no just government should refuse.”

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

There is one Internet. It must be fast, it must be robust, and it must be open. The prospect of a gatekeeper choosing winners and losers on the Internet is unacceptable.

– Tom Wheeler, Chairman – FCC

save5০৭.

ইন্টারনেটে সবকিছু আছে বলেই এখানে সহিষ্ণুতাটা লাগেও বেশি। নব্বইয়ের দিকে ‘ইউজনেট’ ব্যবহার করতে হতো আমাদের। যেকোন সমস্যার জন্য। বিশেষ করে ‘ইউনিক্স’ অপারেটিং সিষ্টেমটা নিয়ে কাজ করার সময়। আমরা জানি ‘সহিষ্ণুতা’র দাম কেমন। আর সেকারণে হাতে কলমে কাজ শিখিয়েছে ওই অপরিচিত ‘বন্ধুসুলভ’ মানুষগুলো। পৃথিবী চষে বেড়ানোর সময় দেখা হয়েছে তাদের অনেকের সাথে। তারা জানেন ইন্টারনেট তৈরি হয়েছে ওই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে। যারা ইন্টারনেট বোঝেন না তারাই সারাদিন আমাকে (বিটিআরসিতে থাকাকালীন) বলতেন এটা বন্ধ করেন, ওইটা বন্ধ করেন। অথবা, ‘ইউটিউব’ বন্ধ করতে এতো সময় নিচ্ছেন কেন? সত্যি বলতে, আমাদের নীতিনির্ধারণীতে বসে থাকা মানুষগুলোও বন্ধ করতে চাননা সবকিছু। জনপ্রতিনিধিরা থাকেন বিপদে। ‘অসম্ভব’ চাপ তৈরি করেন ‘ইন্টারনেট’ না বোঝা আশেপাশের মানুষজন। এই আমরাই। ‘সূর্যের চেয়ে বালি গরম’এর মতো ব্যাপারটা। ফেসবুকে আমাদের কমেন্ট দেখলে মনে হয় ‘শিষ্ঠাচার’ ১০১ কোর্স দরকার অনেকের। কেন জানি সমালোচনা নিতে পারিনা আমরা। তবে, আশাবাদী আমি। ‘সত্যিকারের শিক্ষা’র সাথে সাথে পাল্টাবে এই ট্রেন্ড।

০৮.

ধরুন, সুন্দরবনে ঘুরতে গিয়েছেন আপনি। একা পেয়ে ‘বাঘমামা’ আঁচড় দিয়ে বসলো আপনাকে। ঢাকায় ফেরত্‍ এসে গরম হয়ে বললেন, আচড় দিলো কেন সে? প্রথম কথা হচ্ছে, আপনার ‘স্বাধীনতা’ নিয়ে ঢুকে গিয়েছিলেন গহীন বনে। বাঘমামা তার ‘স্বাধীনতা’ ব্যবহার করে আঁচড় দিয়ে দিয়েছে – এই যা! আগুন তো সবকিছু পুড়িয়ে দিতে পারলেও সেটাকে তো আর ‘ব্যান’ করেননি আপনার সুবিধার জন্য। হাজারো হ্যাকিংয়ের ঘটনা চলছে বিশ্ব জুড়ে, কই কেউ তো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নেই বসে। সেটাতো – চোরের ওপর রাগ করে মাটিতে বসে ভাত খাওয়ার মতো। ইন্টারনেটে কে কি বললো, সেটাকে আটকাতে যাওয়া কেন? রাস্তায় তো পাগলও অনেক কিছু বলে, সেটাকে ছাড় দিলে ইন্টারনেটকে নয় কেন? রেগুলেটর হিসেবে অনেক ব্যাপার নিয়ে ‘আলাপ’ করে মধ্যপন্থী অবস্থান নিয়েছিলাম আমার ওই সাত সাতটা বছরে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Cryptography is the ultimate form of non-violent direct action.

― Julian Assange

০১.

আমরা এগুচ্ছি কিন্তু। দুনিয়ার সাথে তাল না মিলিয়ে যাবেন কোথায়? সমস্যা থাকবে সাথে। আর সমস্যা নেই কোথায়? তবে বাসায় বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারাটা যে কতো ‘লিবারেটিং’ সেটা আমার থেকে আপনি জানেন ভালো। শুক্রবার সকালের ঘুম বাদ দিয়ে বাজারে দৌড়ানো? অন্য কারণে না হলেও বউয়ের ঝামটা খেয়ে নিজের গজগজটাও গিলে খেয়ে ‘বাজারে যাওয়া’ বন্ধ করার ‘সিষ্টেম’ মনে হয় দাড়িয়ে গেছে, কি বলেন? অনেকেই বাজার পাচ্ছেন বাসায় বসে। ঢাকায়। বাসার ‘কমফোর্ট জোনে’ বসে মানে বউ বাচ্চার শান্তি’র ‘কিচির মিচির’এর মধ্যে অর্ডার দেয়া অনলাইনে। ভুল বলেছি? গলায় ঝুলছে দুজন, দুপাশ থেকে। ওই টানাটানিতে মনের ভুলে ‘ধুন্দল’ অর্ডার দিলেন দু কেজি। ‘পই পই করে বললাম এক কেজি। বাকিটা খাবে কে?’ ‘ঝাপটা’ একটাও মাটিতে পড়লো না কর্তীর কাছ থেকে! হেভেনলী!

০২.

বাসার কাজের সাহায্যকারী মেয়েটার বেতন পাঠাতে হবে তার পরিবারকে। কি হতো আগে? খুঁজে বের করো তার আত্মীয় স্বজনকে। কে থাকে ঢাকায়? কবে যাবে দেশে? বসে থাকো তার দেশে যাবার সময়ের জন্য। বাস ভাড়া দাও যাওয়া আসার। আর এখন, “খালু, ‘বিকাশ’ করে দিয়েন আজ।” সময় পাল্টেছে, সহজ হয়ে যাচ্ছে কাজ। ঘরে বসে অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারছি আমরা। ই-কমার্সের যুগে সবাই কেনাবেচা করতে পারেন বলে অনেকেই হতে পারছেন ‘উদ্যোক্তা’। ধরা যাক ‘বিজনেস রাইটিং’য়ে দক্ষতা আছে কিছুটা। আমার। একটা সাইট খুলে বাসায় বসে শুরু করা যায় ব্যবসাটা। বাইরের ক্লায়েন্টের জন্য লিখে দেবো চমত্কার চমত্কার চিঠি, এক দিনে ডেলিভারী, একশো টাকা। আর্জেন্ট মানে দু ঘণ্টায় হলে – দুশো টাকা। দুর্দান্ত, তাই না? গেম চেঞ্জার হচ্ছে এই ইন্টারনেট। আর তার ইকোনমি।

০৩.

আগে চুরি হতো সিঁধ কেটে। ওখানেও পাল্টেছে যুগ। ইন্টারনেট ভরে যাচ্ছে বুদ্ধিমান ‘চোর’ দিয়ে। কেনাকাটা করছেন আপনার প্রিয় সাইটে। টাকা পয়সার বিত্তান্ত দিলেন জিনিসটা পাবার জন্য। সপ্তাহ খানেক পর ব্যাংক থেকে জানলেন আরো অনেক কিছু কেনাকাটা করেছেন আপনি। ভাষা হারিয়ে ফেললেন কয়েক মুহূর্তের জন্য। অর্ডারের জিনিসই পাননি এখনো। এদিকে বলে কি ব্যাংক? মানে, টাকা হওয়া। টাকা পাঠালেন মোবাইল করে, বন্ধুকে। টাকা গিয়েছে ঠিকই। তবে তুলে নিয়েছে আরেকজন। আগে ইমেইলে কি পাঠাতেন – সেটা জেনে যেতো অন্যরা। আবার, হটাত্‍ করে ইমেইল পেলেন প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে, আটকে পড়েছেন আফ্রিকার একটা দেশে। পকেটমার হয়ে গেছে সব কিছু, ফিরতে পারছেন না টাকার অভাবে। বন্ধুর সাথে কি কথা বললেন ফোনে, সেটাও চলে এলো ইউটিউবে। ল্যাপটপ বসে আছে কিন্তু আপনার বাসায় বা অফিসে। কোম্পানীর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কিভাবে যেন চলে গেছে আরেকজনের হাতে।

০৪.

আগে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠাতে ‘হুলুস্তুল’ ঝামেলা করতো ব্যাংক কতৃপক্ষ। ভল্টের মতো গাড়ি, গুলিভরা বন্দুক সমেত গার্ড। সামনে পেছনে পুলিশ। ওটাতো ‘ফিজিক্যাল’ টাকা। এদিকে প্রতিমূহুর্তে বিলিয়ন ‘ভার্চুয়াল’ টাকা পাড়ি দিচ্ছে হাজারো নেটওয়ার্ক। যাচ্ছে এই ‘ইন্টারনেট’ নামের রাস্তা দিয়ে। সেটার কি হবে? কে দেবে সেটার নিরাপত্তা? তার ওপর ইন্টারনেটে নেই কোন ভৌগলিক সীমারেখা। অন্য দেশ থেকে আমাদের দেশ হয়ে যদি চুরি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারো টাকা? কি হবে তখন? কোম্পানীগুলো বিলিয়ন ডলার ঢালছে তাদের ই-কমার্স ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে। তার থেকেও বেশি ঢালছে সেটার নিরাপত্তার খাতিরে। ‘ব্যক্তিগত ফাইল’ বলে হেলাফেলা করে মানুষ হচ্ছে বিব্রত – প্রতিনিয়ত।

০৫.

জেমস বন্ডের ছবিতে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র গল্প দেখে ধারনা হতেই পারে অন্য কথা। গুপ্তচরদের টেকনোলজি নিয়ে কি করছি আমি? বিপদে ফেলার ফন্দি করছি নাকি আবার? ওগুলো তো ব্যবহার করে সামরিক বাহিনী। ঠিক ধরেছেন! জুলিয়াস সিজার এই কাজ শুরু করেন খ্রীষ্টজন্মের ৫৮ বছর আগে। দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য তো ব্যবহার করবেই এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’। ইন্টারনেট ইকোনমি’র জন্য অনেক হিসেবই পাল্টে গেছে এই দশকে। অ্যাপল, হ্যা, কোম্পানী অ্যাপলের কথা বলছি। তার ‘ভ্যালুয়েশন’ মানে দাম হচ্ছে মাত্র ৭০০ বিলিয়ন ডলার। আবার ‘ক্যাশ’ হিসেবে তার হাতেই আছে মাত্র ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। এই ফেব্রুয়ারীর শুরুর কথা। এই টাকা কিন্তু নিউজিল্যান্ডের জিডিপি’র সমান। ঝেড়ে কাশি। ‘অ্যাপল’ যদি কোন দেশ হতো আজ, ৫৫তম ধনী দেশ হিসেবে নাম হতো তার। বাকি কোম্পানীগুলোর কথা বাদ দিলাম আজ। দেশ যেখানে তার নিরাপত্তায় যে ধরনের ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করবে, তার থেকে কোন অংশ কম করবে এই কোম্পানীগুলো – শুনি?

০৬.

ভড়কে দিলাম নাকি? গল্প বাদ, পরিচিত হওয়া যাক আমাদের ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’ এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র সাথে। অনেকে বলবেন ব্যাপারটা সহজ নয় অতো। আমি আছি কি করতে? পানি বানিয়ে ফেলবো – এই আপনাদের জন্য। শুরু করেছি কিন্তু ওই নব্বইয়ের দশকে। আপনারা চাইলে বই হয়ে যাবে এটা! রেডি?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Sane is boring.

― R.A. Salvatore

২৮৩.

গানটার নাম শুনে এগোইনি আর। পাগলের কান্ডকারখানা নিয়ে হবে হয়তোবা। নামেই ওটার প্রমান পাওয়া যায়। ভুল ভাঙ্গলো কয়েকদিন আগে। বিলি কারিংটনের গান যে শুনিনি সেটা নয়। চমত্কার গলা – ভরাট বলে কথা। সিডিটা পড়েই ছিলো অনেকদিন ধরে। অনেকগুলো সিডি একসাথে কেনাতে এটা শোনা হয়নি আর। ধন্যবাদ ইউটিউব। কেনি চেজনির একটা মিক্স শুনতে গিয়ে পড়লাম আসল বিপদে। মনটাই ভালো হয়ে গেল ভিডিওটা দেখে। গানটাও অসাধারণ। মানিয়ে গেছে কারিংটনের সাথে। ও না গাইলে ভালো লাগতো না এতো। অন্যরাও ভুল করেনি গানটা নিয়ে। কান্ট্রি বিলবোর্ড টপ চার্টে এক নম্বর ছিলো ওই সময়ে। গ্র্যামি নমিনেশনে ‘বেস্ট মেল কান্ট্রি ভোকাল পারফরমেন্স’ আর ‘বেস্ট কান্ট্রি সং’ হিসেবে ছিলো দুহাজার নয়ের ডিসেম্বরে। ‘সং অফ দ্য ইয়ার’ নমিনেশন পেয়েছিলো পরে।

২৮৪.

গানটা লিখেছিলেন দুজন। ববি ব্র্যাডক আর ট্রয় জোন্স মিলে এমন তিনটা ধারণা খুঁজছিলেন যার কোনো আর্গুমেন্ট থাকবে না। খুঁজতে খুঁজতে পেলেনও সেই তিনটে – সর্বসত্য ধারণা। ১. সৃষ্টিকর্তা মহান, ২. পানীয়টা ভালো আর ৩. মানুষ মাত্রই পাগল। ওটা নিয়েই ঘুরেছে গানটা। আমাদের কৃষ্টির সাথে বিয়ারের মতো পানীয়টা যায়না বলে ওখানে চা’র মতো পানীয়কে ধারণা করে চালাতে পারেন আপনার মতো করে। মডারেট টেম্পো নিয়ে এগিয়েছে গানটা, কী ছিলো ‘এফ মেজর’, ভয়েস সেন্ট্রিক। ভালো না লেগে উপায় নেই আপনার। ন্যারাটরই হচ্ছে গায়ক, তার ওপর দিয়ে চালিয়ে দিলাম আমি। গানটার শেষে টুইস্টটাই টেনেছে বেশি আমাকে।

This old man and me, were at the bar and we…
Were having us some beers and swappin’ I-don’t-cares
Talking politics, blonde and redhead chicks
Old dogs and new tricks, and habits we ain’t kicked
We talked about God’s grace, and all the hell we raised
Then I heard the ol’ man say
God is great, beer is good, and people are crazy

২৮৫.

বারে বসেছিল বুড়ো লোকটা। পাশের জায়গাটা ফাঁকা থাকাতে বসলাম ওর পাশে। বুড়োর বন্ধুসুলভ আচরণ মুগ্ধ করলো আমাকে। বিয়ারের অর্ডার দিতে থাকলাম দুজনে মিলে। আলাপের কুল কিনারা ছিলনা বলেই বোধহয় কোনো কিছু মিস করতে চাইনি! পলিটিক্স, নিজ নিজ ট্রেড সিক্রেট, বারের সোনালী আর লালচুলো মেয়েগুলোও বাদ যায়নি ওই আলাপ থেকে। কি কি এখনো চেষ্টা করা হয়নি জীবনে, আমাদের বাজে অভ্যাস থেকে শুরু করে নিজের পালা কুকুরগুলো নিয়েও আলাপ হয়েছে ওই বুড়োর সাথে। মিশে গেলাম তার সাথে – পুরনো বন্ধুর মতো। অবাক করার মতো!

২৮৬.

কতো জায়গায় সৃষ্টিকর্তা সাহায্য করেছে এই ছোট জীবনে – সেটাও বাদ যায়নি ওখানে। সৃষ্টিকর্তা যে কতো মহান সেটার কথাই ঘুরেফিরে আসছিলো আমাদের কথায়। কতো খারাপ কাজ করেছি সেটা নিয়েও আলাপ হয়েছে ওই বুড়োর সাথে। তখনি দীর্ঘনিশ্বাস ছেড়ে বুড়ো বললো – সৃষ্টিকর্তা মহান/পানীয়টা ভালো/আর মানুষও পাগল বটে! মানুষের পাগলামির কথা এসেছে বুড়োর কথায়। পরে বুঝেছি সেটার মর্মার্থ।

He said I fought two wars, been married and divorced
What brings you to Ohio, he said damned if I know
We talked an hour or two, ’bout every girl we knew
What all we put them through, like two old boys will do
We pondered life and death, he lit a cigarette
Said these damn things will kill me yet
But God is great, beer is good, and people are crazy

২৮৭.

বুড়ো দু দুটো যুদ্ধ করেছে দেশের জন্য। বিবাহিত তবে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে অনেক আগে। ওহাইওতে আসার ঘটনা জিজ্ঞাসা করতেই চোখ মটকে জানালো – সেটা জানে না নিজেও! বোঝা যাচ্ছিলো জীবন নিয়ে সে তৃপ্ত, মানুষের পাগলামিটা বরং উপভোগ করছে সে। আমাদের জীবনে আসা সব মেয়েদেরকেই নিয়ে আলাপ করলাম দু এক ঘন্টা ধরে – ওই বুড়োর সাথেই। পুরনো দুই বন্ধুর মতো খোঁচাখুচি করলাম নিজেদের মধ্যে। জীবন আর মৃত্যু নিয়ে আলাপের এক পর্যায়ে সিগারেট জ্বালালো বুড়ো। সিগারেট তাকে মেরে ফেললেও সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিলো সবকিছুর জন্য। নির্মল আনন্দ পায় মানুষের পাগলামিতে। পানীয়টাও চমত্কার!

Last call was 2 a.m., I said goodbye to him
I never talked to him again

২৮৮.

রাত দুটো পর্যন্ত কাটালাম ওই বারেই। দুজনে মিলে। বারের মেয়েগুলোও আমাদের সাথে নাচলো অনেকক্ষণ। অবাক করেই দুটো মেয়ে আমাদেরকে আপন করে নিলো। বুড়োর সাথে মিশে গেলো সবাই। নীল টপস পরা মেয়েটাকে ভালো লেগে গেল আমার। মার্থা নামের মেয়েটা বুড়ো মানুষটাকে একদম আপন করে নিলো। একসময় বিদায় নিলাম বুড়োর কাছ থেকে। আর দেখা হয়নি ওই বুড়োর সাথে। হাওয়ায় মিলিয়ে গেল মনে হচ্ছে।

Then one sunny day, I saw the old man’s face
Front page obituary, he was a millionairee
He left his fortune to some guy he barely knew
His kids were mad as hell, but me…I’m doing well
And I dropped by today, to just say thanks and pray
And I left a six-pack right there on his grave
And I said, God is great, beer is good, and people are crazy

২৮৯.

বুড়োর দেখা পেলাম শেষে। এক চমত্কার রৌদ্দজ্বল দিনে। খবরের কাগজের প্রথম পাতায়। শোকসংবাদ সেকশনে। লোকটা নাকি কোটিপতি ছিলো। তার সব সহায় সম্পত্তি নাকি লিখে গেছে এক লোককে। আসল খবর হচ্ছে – বুড়ো নাকি ওই লোকটাকে চিনতো না ভালো ভাবে। বুড়োর ছেলেমেয়েরা মন খারাপ করেছে এব্যাপারে। এতদিন পর মানুষের পাগলামির ব্যাপারটা ধরা পরলো আমার কাছে। করেছে কি বুড়ো! আমার সময় কাটছে ভালো। মার্থাকে নিয়ে বুড়োর কবরে গিয়েছিলাম আজ। সাগরের পারে বুড়োর কবরটা। সামান্য কিছু পাথর দিয়ে ঢেকে দেয়া আছে ওটা। একটা ক্রস দেয়া, কিছু ফুল উড়ছে ওটার সাথে। পানি ছলকে পড়ছে মাঝে মাঝে।

২৯০.

মার্থা ঘাড়ে হাত দিয়ে আস্বস্ত করতে চাইল আমাকে। বুড়ো আর আমাকে কিছুটা একা সময় দিতে চাইলো ও। বুড়োর কবরের পাশে বসে মনে পড়ল ওই দিনটার কথা। মনটা ভালো হয়ে গেল ওমুহুর্তে। নিজের অজান্তে মুখে হাসি এলো আমার। সূর্যাস্তের আবহাওয়াটাও বুড়োর মতো বন্ধুসুলভ। মনে করে বিয়ারের ছয়টা প্যাক নিয়ে গিয়েছিলাম বুড়োর জন্য। রেখে দিলাম কবরের পাশে। প্রার্থনা করলাম সৃষ্টিকর্তা কাছে, বুড়োর জন্য। সৃষ্টিকর্তা মহান। মানুষ মাত্রই পাগল! আর পাগল মানুষই পারে ভালবাসতে।

আর পাগলামির জন্যই ভালবাসি মানুষকে! অন্য কেউ না ভালোবাসলেও একমুখী ভালবাসাও তৈরী করেছি আমরা!

পুনশ্চ: গানটা না দেখলে গল্পটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে কিন্তু!

Read Full Post »

%d bloggers like this: