Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ইনভেস্টমেন্ট’

The single most powerful element of youth is that you don’t have the life experiences to know what can’t be done.

Your life should be a story you are excited to tell.

― Adam Braun, The Promise of a Pencil: How an Ordinary Person Can Create Extraordinary Change

০১.

সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আফ্রিকাতে বছরখানেকের বেশি নিরবিচ্ছিন্ন সময় দেবার জন্য। দেশ থেকে অনেক অনেক দূরে। দিনের কাজের শেষে অফুরন্ত সময়। ইউএন স্টাফ হিসেবে অন্যদেরকেও পাওয়া যায় না সহজে। উই হ্যাড টু ট্রাভেল আ লট! হেলিকপ্টার, বীচক্রাফ্ট, আর তুখোড় তুখোড় গাড়ি। মনে করবেন না এয়ার ট্রাভেল হেভি মজার। ট্রান্সপোর্ট হেলিকপ্টার আর বীচক্রাফ্টের রোলিং সহ্য করে নিয়েছিলাম নতুন নতুন যায়গা দেখার লোভে। কি করা যায়? বাকি সময়? প্রজেক্ট ‘কোরআন’এর পাশাপাশি নামিয়ে ফেললাম অনেকগুলো বই – এই বেকুব মাথায়। না, পাইরেসি নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপ ফেরত বন্ধুদের বই না নিয়ে দেখা করতে আসা বারণ। বইয়ের দাম দেয়া নিয়েও ঝামেলা হয় প্রচুর। টাকা নিয়ে তো আর ঘোরা হয় না সবসময়। পরে দেখলাম চেক দিলে সেটা জমা দেয় না অনেকে। ভীষণ বিপদ। বই পড়তে গিয়েও যে বিপদ সেটা জানা ছিলো না আগে। কিণ্ডলেও জমা হতে থাকলো অনেক বই।

০২.

ওয়ারেন বাফেট দাড়িয়ে আছেন ১৬৫টা উত্‍সুক ছাত্রদের সামনে। বোধহয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। বক্তৃতা শেষ। ইনভেস্টমেন্ট ক্যারিয়ার নিয়ে। হাত তুললো একজন। ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ‘চিটকোড’ কি? বাফেট তার সাথে আনা ট্রেড পেপারের অনেকগুলো রিপোর্ট বের করে নিলেন হাতে। তিনি কি বললেন সেটা অনুবাদ করলে ভুল বুঝতে পারেন আমাকে। আর, ‘টাইপো’ হিসেবে বকার সুযোগ দিতে চাইনা আপনাকে। তিনি যা বললেন সেটাকেই তুলে দিলাম দাড়ি কমা সহ। “Read 500 pages like this every day. That’s how knowledge works. It builds up, like compound interest. All of you can do it, but I guarantee not many of you will do it.” ব্যাংকের ইন্টারেস্ট খুব একটা না বুঝলেও একটা জিনিস বুঝি ভালো ভাবে। ‘কম্পাউণ্ড’ ইন্টারেস্ট। ইট বিল্ডস আপ। আগে বুঝতাম না অনেক কিছুই। ‘কানেক্টিং দ্য ডটে’র গল্প দিয়ে দিব্যদৃষ্টির মতো জিনিস পরিষ্কার হচ্ছে প্রতিদিন। পড়তে পড়তেই। ওমা, পড়লেই হবে? সংসার চালাবে কে?

০৩.

শেষ হলো আফ্রিকা অধ্যায়। শুরু হলে শেষ হবে জানা কথা, তবে শুরুটাই ছিল আসল। ‘স্টার্টিং ইজ হাফ দ্য ব্যাটেল’ নিয়ে সমস্যা হলেও সেটাও শেষ হলো একসময়। ফিরে এলাম দেশে। কষ্টের অ্যাসাইনমেন্ট শেষে এক মাসের ছুটি। এক মাস!?! অবিশ্বাস্য, তাই না? হেভি মজার। তবে, কয়েকদিন যেতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লো আমার ব্যাংকার বউ ‘স্বাতী’ আর বাচ্চারা। স্কুল বলে কথা। কি করি, কি করি! ইউনিক্স প্রোগ্রামিং নিয়ে লিখেছিলাম অনেক অনেক আগে। ঘষা মাজা করে সেটাও দাড়া হলো সপ্তাহের মাথায়।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

There’s a tremendous gap between public opinion and public policy.

– Noam Chomsky

৬৬৭.

আচ্ছা, টাকা নিয়ে আসবে কেন আমাদের দেশে? কেন নয় নিজের দেশে? চাকরিক্ষেত্র বাড়তো বরং ওই দেশে। তাহলে তো আইফোন তৈরি হতো খোদ মার্কিন ভূখণ্ডে। কোম্পানীগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা বাড়ানো। তারা তো আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। আর মুনাফা করা তো দোষের নয়। আজ মাইক্রোসফট মুনাফা করতে পেরেছিলো বলেই তৈরি হয়েছে মেলিণ্ডা এণ্ড গেটস ফাউন্ডেশন। ফলে বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে মানুষের ভালো কাজের জন্য। কম টাকা নয়, নভেম্বর দুহাজার চৌদ্দ পর্যন্ত তার টাকা বিলি হয়েছে বিয়াল্লিশ বিলিয়নের বেশি। ফিরে আসি সরকারের কাজে। ওই কোম্পানীগুলোকে দেশে আনতে দৌড়াতে হবে অনেকদুর। একটা দেশকে নিজেকে ‘ইভাল্যুয়েট’ করতে হবে কেন দেশ বা কোম্পানীগুলো আসবে টাকা নিয়ে? তারা কি চায়? আপনি হলে কি চাইতেন? বেশি লাভ, কম সময়ে। ‘ক’ দেশে ইনভেস্ট করলে আপনি কি চাইতেন? সরকারী অফিসে কম ঘুরাঘুরি, লাইসেন্সের নীতিমালাগুলো কতটুকু আপনার দিকে? লাভটা দেশে নিতে পারবেন কিনা? ওই দেশের মানুষগুলো ওই কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা? শ্রমবাজার কেমন সস্তা?

৬৬৮.

আপনি নিজেই করবেন হাজারো প্রশ্ন। কারণ, টাকাটা আপনার। খাটাবেন আপনি। করলেন ইনভেস্ট, এরপর পাল্টে গেল নীতিমালা। আর ইনভেস্ট করবেন আপনি? নীতিমালার ‘প্রেডিক্টিবিলিটি’ নিয়েও কথা হয়েছে আগে। প্রাইভেট সেক্টর ‘ভর্তুকি’ চায়নি কখনো। তারা জানে ব্যবসা করতে হয় কিভাবে। রেগুলেটর আর সরকারকে চায় ‘ফ্যাসিলেটর’ রোলে। বাকিটা করে নেবে তারা। যেখানে ব্যবসা নেই সেখানে সরকারের ‘রেগুলেটরী ব্যবস্থা’ – ধরুন ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস ফান্ড নিয়ে কাজ করতে চায় তারা। দেখা গেছে বাজারে প্রতিযোগিতার বেঞ্চমার্ক ঠিক থাকলে ‘এফিসিয়েণ্ট’ নেটওয়ার্ক তৈরি হয় সবাইকে নিয়ে। ‘প্রতিযোগিতা’ ব্রডব্যান্ড সাপ্লাই সাইডে কমিয়ে নিয়ে আসে দাম, বাড়ায় সার্ভিসের কোয়ালিটি, বৃদ্ধি পায় গ্রাহকসেবা। আর সেকারণে সম্প্রসারণ করে ব্রডব্যান্ড বাজার, অ্যাক্সেস পায় আরো বেশি মানুষ। বেশি গ্রাহক মানে কমে আসে দাম, তৈরি হয় নতুন নতুন ‘ভ্যালু প্রপোজিশন’। এই সাইকেল নিয়ে কথা বলা হয়েছে আগেও।

৬৬৯.

আবার ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে অ্যাক্সেস না পেলে প্রোভাইডাররা বাড়িয়ে দেবে দাম। আর দাম বাড়লে বারোটা বাজবে ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশনে’র। ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে গ্রাহকেরা সার্ভিস পাবে কোথা থেকে? আর নেটওয়ার্ক থাকলেও দাম না কমলে সেটার প্রতি আগ্রহ হারাবে গ্রাহকেরা। আবার সার্ভিস মানুষকে না টানলে নেটওয়ার্ক তৈরিতে আসবে মন্থরগতি। আর সেকারণে সরকারকে আসতে হবে এগিয়ে। ‘সাপ্লাই চেইনে’ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির সাথে সাথে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা, নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রণোদনা আর গ্রাহকসেবার মানদন্ডটা ঠিক রাখলে বাড়বে ব্রডব্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা। পুরো দেশে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার থাকলে ভালো, আর না থাকলে? মানে, আমাদের দেশে যে জনবসতির ঘনত্ব, সব বিজনেস কেস কাজ করবে এখানে। তবে, ব্রডব্যান্ডের দাম হাতের নাগালে না এলে গ্রাহকদের আনা কষ্ট হবে। আর তখন, প্রোভাইডাররাও পিছিয়ে যাবে ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট থেকে। রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে যোগবিয়োগ করতে বসবে তারা। ওখানেই কাজ করতে হবে সরকারকে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

When I give a minister an order, I leave it to him to find the means to carry it out.

— Napoleon Bonaparte

৬২৫.

দরকার কি এইসব ইন্টারনেট ‘ইকোসিষ্টেমে’র? একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন এগুলো একটা আরেকটার ওপর – পুরোপুরি ‘ইন্টার-ডিপেণডেণ্ট’। একটা ছাড়া আরেকটা অচল। অথচ, এই ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা জিনিষ নিয়ে কাজ করে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। সত্যিই তাই। কার সাথে কোনটার কি সম্পর্ক সেটা না জানলেই বিপদ। ইন্টারনেটের ট্রান্সমিশন মানে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সার্ভিসগুলো কার? সেটা তো আসলে সবার। অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাথাব্যথা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’ হিসেবে সবকিছুই দরকার সব মন্ত্রণালয়ের। ‘হেল্থকেয়ার’ নিয়ে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছে পাশের দেশ ভারত। হাজার মানুষ প্লেন ভরে আসছে ওই দেশে ‘হেল্থকেয়ার’ ট্রিপে। প্রাথমিক ‘ডায়াগনস্টিকস’ হচ্ছে ইন্টারনেটের ওপর দিয়ে। থাইল্যান্ড আর সিংগাপুর তো শুরু করেছে অনেক আগেই।

৬২৬.

স্বাস্থ্য আর চিকিত্‍সা নিয়ে কাজ করবে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়। ‘অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয় অনেক আগে থেকে। তবে কেউ জানে না কার করতে হবে – কতোটুকু অংশ। নাকি আবার ‘ডুপ্লিকেশন অফ ইফোর্ট’ হচ্ছে বার বার? বিটিআরসিতে থাকার সময় দেখেছি এধরনের কাজ – করছে সবাই। সবার দরকার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, পয়সা ঢালছে কিন্তু সবাই। গরীব দেশে এটা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। এমনিতেই ফান্ডিংয়ের সমস্যা, সেখানে পয়সা যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গায় – না জানার কারণে। ডোনার এজেন্সিরা সরকারের এই ‘সমন্বয়হীনতা’ ব্যাপারটা জেনেও দেনার ধার বাড়াচ্ছেন দিনে দিনে।

৬২৭.

ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড যাই বলেন সেটা যে শুধু হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নয় – সেটা থেকে বের হতে এই ‘ইকোসিষ্টেম’ ব্যবস্থা। সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার আগে কথা বলে নিতে হবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে – জিনিসগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিতে পারবে কি না? টিএণ্ডটি’র যুগে ‘টেলিফোন মডেল’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে আগে। একটা ফোনের জন্য একটা লাইন। আরেকটা ফোন লাগাতে চাইলে আরেকটা লাইন – আর ফ্যাক্স চাইলে আরেকটা। ওইটা ছিলো পুরনো টেলিযোগাযোগের ‘ওয়ালড গার্ডেন’ সমস্যা, সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা রিসোর্স। এখনকার যুগে লাইন আসবে একটা, ওইটার ওপর যা চাইবেন তাই করবেন। আবার সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু শুধুমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি নয়, এটা সবার। শিক্ষা আর হেল্থকেয়ার অ্যাপ্লিকেশন কেন তৈরি করবেন তারা? ব্যবহারকারী মন্ত্রণালয় জানেন না – কিন্তু তার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছেন আরেকজন। ‘ইন-কম্পাটিবিলিটি’র শুরু ওখানেই। সনাতন ‘পুশ’ মানে ‘খাইয়ে দেয়া’র মডেল থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। পয়সা ঢালো ‘সাপ্লাই সাইডে’, মানে দাম কমাও ইন্টারনেটের – ওতেই হবে সব – সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে আমাদের।

৬২৮.

মানি, পুরনো শেখাটাকে ‘আন-লার্ন’ করা কষ্টের। সেটাকে মেনেই চিন্তা করতে হবে নতুন ‘কনসেপ্চুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক’, বড় আকারে – সবাইকে নিয়ে। ব্যবহারকারীদের নিয়ে। টাকা দেয় তো তারাই। তাদের জন্যই তো সবকিছু। চারটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে মাইলস্টোনে ভাগ করলেই ‘ফোকাস’ এরিয়াগুলো বোঝা যাবে সরকারের দিক থেকে। ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে সেটার জন্য সরকারের কোন কোন এজেন্সি কাজ করবে সেটা বের করতে হবে আগে। সেটার ‘ফীডব্যাক’ লুপ যাবে সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোতে। সেটাকে ঘিরে ঘোরাতে হবে সরকারের সম্পর্কিত পলিসিগুলোকে। শুধুমাত্র ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে গেলে পয়সা, সময় আর ‘ফোকাস’ নষ্ট হবে আরো বেশি। আমাদের মতো গরীব দেশের জন্য সেটা হয়ে যাবে বড় ধরনের বিলাসিতা। এখনকার ‘ব্রডব্যান্ড প্লান’ আগের মতো নেই আর। এটা শুরু হয় দেশের ‘দর্শন’ নিয়ে। দেশ কি চায়, সেটা বের করতে হয় আগে। টেকনোলজি বাদ, দেশের ‘প্রায়োরিটি’ বের করতে হয় খুটে খুটে। উদাহরণ দেখবেন নাকি একটা? ‘কানেক্টিং আমেরিকা’ বলে ওদের ন্যাশন্যাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যানটা দেখলে পরিষ্কার হবে সবার। দেখুন তাদের দর্শনগুলো – প্রথম কয়েক লাইনে। সবকিছু আছে ওতে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ব্যবস্থা, সরকারের কাজের জবাবদিহিতা, এনার্জি খাত, মানুষের নিরাপত্তা, আরো অনেক কিছু – কোন কিছু বাদ রাখে নি তারা। এক্সিকিউটিভ সামারিটা না পড়লে ব্যাপারটা না ধরতে পারার সম্ভাবনা বেশি। একটা দেশ কি চায়, সেটাই এনেছে এই প্ল্যানে। বিশাল ক্যানভাস।

৬২৯.

‘বিল্ডিং ব্রডব্যান্ড’ বইটাতে আমাদের মতো দেশগুলো কি ধরনের ভুল করতে পারে সেগুলোর বেশ কিছু ধারনা দিয়েছেন আগেভাগেই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেটের মতো প্রোডাক্টের ডিমান্ড তৈরি করার মতো ‘ব্যাপারটা’র ধারনা না থাকাতে পুরো ইনভেস্টমেন্ট চলে যায় ‘সাপ্লাই’ সাইডে। মানে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি হলেই খুশি। কিভাবে বাড়াতে হবে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা, তৈরি করতে হবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন গ্রাহকবান্ধব অ্যাপ্লিকেশন – সেটা পলিসিতে না থাকাতে পুরো কাজটাই যায় ভেস্তে। ‘ইকোনোমি অফ স্কেল’ – ব্যবহারকারী বাড়লে কমবে দাম, আর দাম কমলে আসবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন ইনভেস্টমেন্ট। ইকোসিষ্টেমের তুখোড় সাইকেল হচ্ছে জিনিসটা। কম্পোনেণ্টগুলোর মধ্যে ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ থাকাতে পুরো জিনিসটাকে ফেলতে হবে বড় ক্যানভাসে। ইংরেজিতে যাকে আমরা বলি ‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’, তাহলেই কাজ করবে পুরো ইকোসিষ্টেম। কম্পোনেণ্টগুলোর একটার ওপর আরেকটার নির্ভরশীলতা কাজ করে অনেকদিক থেকে। হাই-স্পীড ট্রান্সমিশনে ইনভেস্টমেন্ট আসা মানে ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ বাড়বে আমাদের দরকারী সব সার্ভিসগুলোতে। আর সেটা বাড়িয়ে দেবে ‘ব্যান্ডউইডধ ইন্টেসিভ’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির মাত্রা। যতো বেশি অ্যাপ্লিকেশন, ততো বেশি টানবে নতুন নতুন গ্রাহকদের। নতুন গ্রাহকেরা চাপ তৈরি করবে নেটওয়ার্ক এক্সপ্যানশনের কাজে। ফলে বাড়বে ইন্টারনেট আর ব্রডব্যান্ডের ওপর নতুন ইনভেস্টমেন্ট। পুরো পৃথিবী বসে আছে পয়সা নিয়ে। ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য বসে আছে কোম্পানীগুলো।

৬৩০.

নতুন সার্ভিস আসা মানে নতুন কনটেন্ট তৈরির হিড়িক। কনটেন্ট তৈরি করছেন ব্যবহারকারীরা নিজেই। ইন্টারনেটের শুরুতে ডাউনলোডই ছিলো বেশি। আজ – পাল্টে গেছে দাবার গুটি। অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে গুগল আর ফেসবুকের মতো কোম্পানীগুলো। হাজার হাজার গিগাবাইটের ‘ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট’ আসছে আপনার আমার দিক থেকে। আমার আপনার ভিডিও, ছবি, ব্লগ পোস্ট দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট। ষাট হাজার ছবি আছে আমারই, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। আগে কনটেন্ট তৈরি করতো মিডিয়া কোম্পানীগুলো। এখন সেটা চলে এসেছে গ্রাহকদের হাতে। ফলে, দরকার হচ্ছে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক – ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Do you know what my favorite renewable fuel is? An ecosystem for innovation.

– Thomas Friedman

৬১৩.

ছোটবেলায় ইকোসিষ্টেম নিয়ে ভাবলেই মনে আসতো মানুষ, গরু, ছাগল, ঘাসপাতা, গাছের ছবি। ওগুলো ছিলো ডাঙার অংশে। বাতাস সূর্য আর পানি ছিলো ‘জীবনহীন’ কম্পোনেণ্ট। পানির অংশে তাকাতেই ভয় লাগতো আমার। কুমির, তিমি – ছবির আকারে বেশ বড়ই ছিলো আঁকাগুলো। আসল কথা হচ্ছে সবাই মিলে একটা ইকোসিষ্টেম। লাগবে সবাইকে। মানে ওই ব্যাকটেরিয়াটাকেও। কোন একটা কম্পোনেট বাদ পড়লেই বিপদ। ‘ফীডব্যাক লূপে’ হবে সমস্যা। খাদ্য চেইনেও একই সমস্যা। কেউ উত্পাদক – কেউ ভোক্তা। ঘাস ছাড়া চলে না গরুর। আবার গরু ছাড়া চলে না মানুষের। এই ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ চিরকালের। ব্রডব্যান্ডের ইকোসিষ্টেম তো আরো ভয়াবহ। প্রতিটা কম্পোনেণ্ট শুধু একটা আরেকটার ওপর শুধু ‘ডিপেনডেন্ট’ না, একটা আরেকটার প্রবৃদ্ধির সহায়ক। বইয়ের ভাষায় বলে ফেললাম মনে হচ্ছে।

৬১৪.

ব্রডব্যান্ড ইকোসিষ্টেমে আছে কি? শুরুতেই নিয়ে আসি হাই-স্পীড নেটওয়ার্ককে। আমাদের নীতিনির্ধারকরা এটা বোঝেন ভালো। ইন্টারনেট ছড়াতে এটার পেছনেই খরচ করছেন কোটি কোটি টাকা। তাও আবার দিচ্ছেন বিটিসিএলকে। এই ইকোসিষ্টেমের ‘ইনভেস্টমেন্ট’ আসবে কিভাবে? ওই ‘পাজল’টা মেলাতে লেখা হয়েছে আরেকটা চ্যাপ্টার। পাইপ তো হলো, ভেতর দিয়ে আসা যাওয়ার জিনিস কোথায়? সেটা হচ্ছে সার্ভিস, যা তৈরি করতে আমরা আসলেই দুর্বল। কোটি টাকা দিয়ে বানালাম স্কুল, বই ছাড়া। অথচ এই ‘সেবা’র জন্যই সবকিছু। এই সার্ভিস হচ্ছে আমাদের ব্রডব্যান্ড ইকোসিষ্টেমের দ্বিতীয় কম্পোনেণ্ট। আবার সার্ভিসগুলো কিন্তু অ্যাপ্লিকেশন ভিত্তিক। অ্যাপ্লিকেশন প্রোভাইডাররা বসবেন কোথায়? ভুল বুঝবেন না, এই কম্পোনেণ্টটাই বাঁচিয়ে রেখেছে নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারকে। অ্যাপ্লিকেশন ছাড়া ইন্টারনেট কেন, আপনার স্মার্টফোনই তো অচল। এই বিলিয়ন ডলারের অ্যাপ্লিকেশন (নাকি অ্যাপ) হচ্ছে তিন নম্বর কম্পোনেণ্ট। টেলকো’রা প্রায় অভিযোগ করেন – কমছে তাদের আয়। টেলকো’র ব্যবসা আগে ছিলো ‘ওয়ালড গার্ডেন’ ধাঁচের। নিজ নিজ অ্যাপ্লিকেশন শুধুমাত্র নিজ গ্রাহকের জন্য। ইন্টারনেট ভেঙে ফেলেছে ওই ‘ওয়ালড গার্ডেন’য়ের ব্যবসা, থমাস ফ্রীডম্যানের ভাষায়, ওয়ার্ল্ড হ্যাজ বিকাম ফ্ল্যাট! একেবারে ফ্ল্যাট! ভিসা লাগে না আয় করতে। পাশাপাশি আয় বাড়ছে টেলকো’র হু হু করে। আর যতো বাড়ছে অ্যাপ্লিকেশন, ততো মোটা হচ্ছে পাইপ। মানে ব্যবসা হচ্ছে পাইপেরও। আর যাই করেন – মিটার লাগানো আছে তো পাইপে। তবে ‘নেট নিউট্রালিটি’র একটা ধকল যাবে সামনে। ওটা আরেকদিন!

কোনটা ফেলনা নয়। একটা ছাড়া চলবে না আরেকটা। নেটওয়ার্কে পয়সা ফেললেই হবে না - বাকিগুলোকে দেখভাল করতে হবে।

কোনটা ফেলনা নয়। একটা ছাড়া চলবে না আরেকটা। নেটওয়ার্কে পয়সা ফেললেই হবে না – বাকিগুলোকে দেখভাল করতে হবে।

৬১৫.

চার নম্বর কম্পোনেণ্টের কথা ভুলে যায় সবাই। আমরা মানে ‘ব্যবহারকারীরা’। গ্রাহক। ফেসবুকের ভাষায় ‘আম জনতা’। যে যাই বলুক – ভোক্তা ছাড়া ব্রডব্যান্ড ইকোসিষ্টেমের পুরোটাই অচল। দিচ্ছে কে পয়সাটা – দিনের শেষে? ভোক্তা। আমার ভাষায় ‘প্রাইস সেনসেটিভ’ ভোক্তা। ব্রডব্যান্ড ইকোসিস্টেমের সবচেয়ে নামী দামী কম্পোনেণ্টকে নিয়ে ভাবেন কম – নীতিনির্ধারণীতে বসা মানুষেরা। আমি নিজেই ওখানে ছিলাম বলেই বলছি ব্যাপারটা। বিশ্বাস করুন, সার্ভিসের দাম আর তার সহজলভ্যতাকে ঠিকমতো ‘টুইকিং’ করতে পারলে এটাই মোড় ঘুড়িয়ে দেবে পুরো ইকোসিস্টেমের। গ্রাহকের সাথে অ্যাপ্লিকেশনের সম্পর্ককে বাদ দিলে চলবে না কিন্তু। ইন্দোনেশিয়ায় যে ধরনের অ্যাপ্লিকেশন চলে বেশি সেটা আমাদের দেশে যে চলবে সেটার গ্যারান্টি দেবে কে? বাড়বে গ্রাহক একসময়। বাড়বে গ্রাহকের চাহিদা, বাড়বে ‘সফিস্টিকেশন’, আর সেটাই বাড়াবে ডিমান্ড। ডিমান্ড বাড়লে আসবে ‘ইনভেস্টমেন্ট’ নেটওয়ার্কে। তখন, পয়সা আসবে উড়ে উড়ে। মানে ঘুরতে থাকবে ইকোসিস্টেমের বৃত্তটা। একেকটা ‘কম্পোনেণ্ট’ ঠেলে ওপরে ওঠাবে তার পরের কম্পোনেণ্টটাকে। প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে ঠিকমতো দেখভাল করলে আর তাকাতে হবে না পেছনে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

“That’s what education should be,” I said, “the art of orientation. Educators should devise the simplest and most effective methods of turning minds around. It shouldn’t be the art of implanting sight in the organ, but should proceed on the understanding that the organ already has the capacity, but is improperly aligned and isn’t facing the right way.”

― Plato, The Republic

৫৯৭.

আসলো তো ইনভেস্টমেন্ট। পয়সা কার? ইনভেস্টরদের। বললেন আপনি। ব্যবসা যেখানে আছে সেখানেই তৈরী হবে কাভারেজ। ব্রডব্যান্ডের। মানে ঢাকা, চট্টগ্রাম আর বিভাগীয় শহরগুলোতে। বাকি জায়গা কি থাকবে খালি? তারা মানুষ নয় দেশের? মনে রাখতে হবে ইনভেস্টররা আসেননি ‘চ্যারিটি’ করতে। করবে না কেউ। করবো না আমি আপনিও। এটাই নীতি ব্যবসার। যেখানে টাকা আসবে সেখানে নিয়ে যাবেন ব্যবসা। এর বাইরে নয়। সেখানে কাজ করতে হয় রাষ্ট্রকে। এই ‘ব্যালান্সড’ কাজের জন্য দরকার ‘মেধাভিত্তিক’ পার্টনারশীপ। বলতে দ্বিধা নেই – আমাদের মেধার একটা বড় অংশ আছে ইন্ডাস্ট্রিতে। মেলাতে হবে হাত। চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেশনে এই পার্টনারশীপটার কথাটা এসেছে বার বার। যেখানে ব্যবসা নেই সেখানে কেন যাবেন তারা? ওখানেই দরকার ইনোভেশন!

৫৯৮.

রাষ্ট্রের কাজেই ইনভেস্টরকে ওই ব্যবসাহীন জায়গায় নেবার মেধাভিত্তিক ‘কারুকাজ’ করতে হবে সরকারকে। যেখানে ভালো ব্যবসা নেই সেখানে নেবার একটা ভালো টুল হচ্ছে ‘ডিমান্ড এগ্রিগেশন’। গল্পটা শুনেছিলাম এফসিসি’র আন্তর্জাতিক ব্যুরোর চীফের কাছ থেকে। দুহাজার নয়ে। ফেডারাল কমিউনিকেশন কমিশনের চেয়ারম্যানের সাথে প্রথম পরিচয় ওই লেবাননেই। লিংকডইনে এক ডিগ্রীতেই আছেন উনি। ব্যুরোর চীফ মহিলা ভীষণ মিশুক। গ্লোবাল ‘সিম্পোজিয়াম ফর রেগুলেটর’ মিটিংয়ে চেয়ারম্যানের সাথে এসেছিলেন উনি। লাঞ্চ ব্রেকে কথা হলো মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ব্রডব্যান্ড প্ল্যান নিয়ে।

৫৯৯.

ওই দুহাজার দশে বের হলো ওদের ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যান, ‘কানেক্টিং আমেরিকা’। যেই পড়বে – অবাক হবে এর বিশালতা নিয়ে। কি নেই এতে? সোশ্যাল সার্ভিস থেকে হেলথকেয়ার, কর্মক্ষেত্র তৈরী, শিক্ষাব্যবস্থা, এনার্জি ম্যানেজমেন্ট আর রাজনীতি – কি নেই এতে? পাবলিক সেফটি নেটওয়ার্ক? বিপদে মানুষ। ডাকবে কাকে? রাষ্ট্রকে। সবকিছুর একটা প্যাকেজ – এই প্ল্যান। ওর ছয়টা ‘গোল’ পড়লে পরিস্কার হবে সবকিছু। উনিই ধরিয়ে দিলেন কয়েকটা টুল। আমাকে। তার একটা – ডিমান্ড এগ্রিগেশন। ইনভেস্টরদের দেখিয়ে দিতে হবে বিজনেস কেস। তাহলে সরকার যা চায় হবে তাই। সরকারের দরকার সংযোগ আর ওদের দরকার বিজনেস কেস। উইন উইন সিচুয়েশন!

৬০০.

মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে ব্রডব্যান্ডের চ্যালেঞ্জ ভয়াবহ। বিশাল দেশ, মানুষ আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। হাজারো রাস্তা আছে যেখানে মানুষ যায় কালেভদ্রে। কবে মানুষ আসবে একটা, আর তার জন্য বিটিএসগুলো হাওয়া খেতে থাকবে বছরের পর বছর। এর ইনভেস্টমেন্ট ওঠা তো দুরের কথা, হয় না কোন বিজনেস কেসই। সে তুলনায় এশিয়া প্যাসিসিক হচ্ছে মোবাইলের আড্ডাখানা! জিএসএমএ’র রিপোর্ট অনুযায়ী পৃথিবীর অর্ধেক মোবাইল সংযোগ আছে এই এশিয়া প্যাসিসিকে! চোখ সরু করে দেখছে পুরো দুনিয়া। এই ছোট জায়গাটাকে।

৬০১.

বুদ্ধিমান ‘গুগল’ সবার ট্রাফিক এনালাইসিস করে পয়সা ঢেলেছে ‘ইউনিটি’ সাবমেরিন ক্যাবলে। ভারতী এয়ারটেল, সিংটেল, কেডিডিআই, প্যাকনেট আর গুগল মিলে তৈরী করেছিলো ওই ক্যাবল। বছর পাঁচেক আগে। আরেকটা সাবমেরিন ক্যাবল নিয়ে আসছে গুগল। পয়সা তো সব এখানে। এশিয়া প্যাসিফিক হচ্ছে ‘হ্যাপেনিং প্লেস’। সেকারণে বাংলাদেশে বিজনেস কেস অনেক সোজা। নীতিনির্ধারকদের ঠিক করতে হবে কি চান তারা। আমাদের এখানে একটা বিটিএসের সিগন্যাল অনেকদুরে গেলেও স্বল্প জায়গায় হাজারো মোবাইল থাকায় সাপ্লাইয়ের থেকে ডিমান্ড বেশি! মানে ছাড়তে হবে আরো ফ্রিকোয়েন্সি! আমাদের লিডিং মোবাইল অপারেটর দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্টিকে সংযোগ করছে মাত্র বিশ শতাংশ ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে। এটার টুল হচ্ছে ‘স্পেকট্রাম ক্যাপ’। আলাপ করবো সামনে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I attribute my success to this: I never gave or took any excuse.

– Florence Nightingale

৫৬৬.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

৫৬৭.

ওই উনিশশো ছিয়ানব্বইতে ‘বেসিক টেলিকমিউনিকেশনস’ নিয়ে একটা ‘রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে’ কি কি থাকা উচিত – সেটা লেখা হলো নেগোশিয়েশন টেবিলে। মাথা নাড়লো মানে ‘নড’ দিল ওই বিরাশিটা দেশ। কিছু সঙ্গা আর তার জন্য দরকারী ধারা ছিলো ওখানে। সঙ্গায়িত না করলে কি হয় সেটা আমার থেকে ভালো জানবে কে আর? সঙ্গায়িত না করলে পরে যে যার মতো নেয় ভেবে। এটার পরিনতি হয় ভয়াবহ। ওই সময়ে যে বিষয়গুলো দেশগুলো মেনে নিয়েছিলো সেটা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম প্রথমে। কারণ, এখনো মানেনি অনেক দেশ।

৫৬৮.

তবে, যারা মেনেছিল – তারা আজ দাড়িয়েছে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে একেকটা নক্ষত্র হিসেবে। ওই দেশগুলোর কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে পৃথিবীকে। ওই ‘রেফারেন্স পেপারে’ টেলিযোগাযোগের ব্যবহারকারী হিসেবে আমার আপনার মতো গ্রাহকদের নেয়নি শুধু, সার্ভিস দিচ্ছে যারা তাদেরকেও শামিল করেছে সঙ্গার মধ্যে। কোন সার্ভিস যদি একটা বা গুটিকয়েক কোম্পানি দেয় আর – সেই সার্ভিসটার বিকল্প তৈরী করার প্রয়োজন না পড়ে – সেটাকে তারা বলতে চাচ্ছে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’। যেটা ছাড়া দেশ অচল। দেশের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে ওই সার্ভিসগুলো।

৫৬৯.

উদাহরণ নিয়ে আসি, কী বলেন? যেমন, বিটিসিএলের কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথ আনার জন্য দুই একটা সার্কিটের বেশি প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের। এখানে বেশি সার্কিট তৈরী করলেই বরং খরচ পড়বে বেশি। আর সেটা পড়বে গিয়ে গ্রাহকদের ঘাড়ে। এদিক দিয়ে না হলে অন্যদিক দিয়ে। মানে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’ আনা নেয়া করতে গিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে একে ‘রেপ্লিকেট’ করা গেলেও টাকাতে নাও কুলাতে পারে দেশগুলোর জন্য। তবে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’টাকে কে নিয়ন্ত্রণ করছে আর তার ওই সম্পর্কিত বাজারে পজিশন কেমন সেটা দেখবে রেগুলেটর। ওই সার্ভিসটার দাম হবে কস্ট বেসড – মানে লাভ করে নয়। মোদ্দা কথা, ব্যবসা করবে না এখানে সরকারী কোম্পানী। 

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Education costs money. But then so does ignorance.

– Sir Claus Moser

৫৬২.

নীতিমালার একটা ‘প্রেডিক্টাবিলিটি’র কথা বলে ইনভেস্টররা। যেকোনো ব্যাপারে একটা চালু নীতিমালা থাকার কথা। লেখা থাকলে ভালো। আর লেখা না থাকলে রেগুলেটরে ওই মানুষটা পাল্টালে বিপদ। যেকোন ঝামেলা মেটানোর জন্য একটা ‘ওয়েল ডিফাইন্ড’ প্রোসিডিং না থাকলে একেক সময়ে একেক রেজল্যুশন হলে ভয়ে থাকে ইনভেস্টররা। এধরনের অনিশ্চয়তা চায় না বিলিয়ন ডলারের এই ইনভেস্টররা। আর তারা ‘হিট এন্ড রান’ ব্যবসা করতে আসেনি নতুন দেশে। ‘লাভ করলাম আর চলে গেলাম’ কিসিমের ব্যবসা হয় না এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টরে। আর যদি পাল্টাতেই হয় – সেটার একটা ‘প্ল্যানড’ রোডম্যাপ থাকতে হবে আগে থেকে। সবাই জানবে পরিবর্তনটা। কবে হবে, কিভাবে হবে, কে করবে, কাদের মাধ্যমে করবে, ইন্টার-ডিপেন্ডেন্সি কোথায় – সব বলা থাকবে ওই পাবলিক ডকুমেন্টে।

৫৬৩.

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘বোঝার সমস্যা’র কারণে বড় বড় বাণিজ্যিক লেনদেন ব্যহত হচ্ছিলো অনেকদিন ধরে। আবার টেলিযোগাযোগ সেবাটাও দাড়িয়ে গেল দেশেগুলোর জনগনের একটা মৌলিক অধিকার হিসেবে। ব্যবসাতে সমস্যা হওয়াতে সেটা নিয়ে এগিয়ে এলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন, ডাব্লিউটিও। বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে প্রথম চুক্তিটা হয় উরুগুয়ে রাউন্ডে (১৯৮৬-৯৪)। ততোদিনে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস জেনারেট করছে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এটা নিয়ে সব দেশ না ভাবলেও ভাবছিল অনেকেই। প্রথম কথা শুরু হয় ভ্যালু এডেড সার্ভিস নিয়ে। মোবাইলটাও ছিলো ওই সার্ভিসের মধ্যে। ১০৮টা দেশ টেলিযোগাযোগের ভেতরে বাণিজ্যিক গল্পে সন্মতি দেয়। উরুগুয়ে রাউন্ডের পর (১৯৯৪-৯৭) নতুন দেন-দরবারে বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই সেক্টরের রিফর্মের আলাপটা চলে আসে। এতো বড় বাজার – দরকার রেগুলেটরি রিফর্ম।

৫৬৪.

পুরনো মান্ধাতা আইন দিয়ে না চালিয়ে নতুন ‘ইনোভেটিভ’ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের প্রয়োজন মনে করলো সব দেশ। রেগুলেটরের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দরকার চমত্কার একটা আইন। সময়োপযোগী। সরকারী কোম্পানি ভালো না ব্যবসায়। বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এগুলো দিয়ে দেয়া যায় বরং। রেগুলেটর না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো পারবে না সরকারী কোম্পানির সাথে। দরকার শক্ত রেগুলেটর। কথা বলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ওই ১০৮টা দেশ যে চুক্তিতে মত দেয় সেটাতে নতুন টেলিযোগাযোগ কোম্পানি খোলা থেকে শুরু করে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের নীতিমালা আর দেশগুলোর ভেতর যোগাযোগের নতুন মাত্রা আনলো বলে। ওটা না হলে আজকের সাবমেরিন ক্যাবলের দেখা পেতেন বলুন?

৫৬৫.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: