Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ইন্টারনেটের দাম’

When I give a minister an order, I leave it to him to find the means to carry it out.

— Napoleon Bonaparte

৬২৫.

দরকার কি এইসব ইন্টারনেট ‘ইকোসিষ্টেমে’র? একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন এগুলো একটা আরেকটার ওপর – পুরোপুরি ‘ইন্টার-ডিপেণডেণ্ট’। একটা ছাড়া আরেকটা অচল। অথচ, এই ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা জিনিষ নিয়ে কাজ করে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। সত্যিই তাই। কার সাথে কোনটার কি সম্পর্ক সেটা না জানলেই বিপদ। ইন্টারনেটের ট্রান্সমিশন মানে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সার্ভিসগুলো কার? সেটা তো আসলে সবার। অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাথাব্যথা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’ হিসেবে সবকিছুই দরকার সব মন্ত্রণালয়ের। ‘হেল্থকেয়ার’ নিয়ে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছে পাশের দেশ ভারত। হাজার মানুষ প্লেন ভরে আসছে ওই দেশে ‘হেল্থকেয়ার’ ট্রিপে। প্রাথমিক ‘ডায়াগনস্টিকস’ হচ্ছে ইন্টারনেটের ওপর দিয়ে। থাইল্যান্ড আর সিংগাপুর তো শুরু করেছে অনেক আগেই।

৬২৬.

স্বাস্থ্য আর চিকিত্‍সা নিয়ে কাজ করবে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়। ‘অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয় অনেক আগে থেকে। তবে কেউ জানে না কার করতে হবে – কতোটুকু অংশ। নাকি আবার ‘ডুপ্লিকেশন অফ ইফোর্ট’ হচ্ছে বার বার? বিটিআরসিতে থাকার সময় দেখেছি এধরনের কাজ – করছে সবাই। সবার দরকার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, পয়সা ঢালছে কিন্তু সবাই। গরীব দেশে এটা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। এমনিতেই ফান্ডিংয়ের সমস্যা, সেখানে পয়সা যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গায় – না জানার কারণে। ডোনার এজেন্সিরা সরকারের এই ‘সমন্বয়হীনতা’ ব্যাপারটা জেনেও দেনার ধার বাড়াচ্ছেন দিনে দিনে।

৬২৭.

ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড যাই বলেন সেটা যে শুধু হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নয় – সেটা থেকে বের হতে এই ‘ইকোসিষ্টেম’ ব্যবস্থা। সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার আগে কথা বলে নিতে হবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে – জিনিসগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিতে পারবে কি না? টিএণ্ডটি’র যুগে ‘টেলিফোন মডেল’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে আগে। একটা ফোনের জন্য একটা লাইন। আরেকটা ফোন লাগাতে চাইলে আরেকটা লাইন – আর ফ্যাক্স চাইলে আরেকটা। ওইটা ছিলো পুরনো টেলিযোগাযোগের ‘ওয়ালড গার্ডেন’ সমস্যা, সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা রিসোর্স। এখনকার যুগে লাইন আসবে একটা, ওইটার ওপর যা চাইবেন তাই করবেন। আবার সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু শুধুমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি নয়, এটা সবার। শিক্ষা আর হেল্থকেয়ার অ্যাপ্লিকেশন কেন তৈরি করবেন তারা? ব্যবহারকারী মন্ত্রণালয় জানেন না – কিন্তু তার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছেন আরেকজন। ‘ইন-কম্পাটিবিলিটি’র শুরু ওখানেই। সনাতন ‘পুশ’ মানে ‘খাইয়ে দেয়া’র মডেল থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। পয়সা ঢালো ‘সাপ্লাই সাইডে’, মানে দাম কমাও ইন্টারনেটের – ওতেই হবে সব – সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে আমাদের।

৬২৮.

মানি, পুরনো শেখাটাকে ‘আন-লার্ন’ করা কষ্টের। সেটাকে মেনেই চিন্তা করতে হবে নতুন ‘কনসেপ্চুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক’, বড় আকারে – সবাইকে নিয়ে। ব্যবহারকারীদের নিয়ে। টাকা দেয় তো তারাই। তাদের জন্যই তো সবকিছু। চারটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে মাইলস্টোনে ভাগ করলেই ‘ফোকাস’ এরিয়াগুলো বোঝা যাবে সরকারের দিক থেকে। ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে সেটার জন্য সরকারের কোন কোন এজেন্সি কাজ করবে সেটা বের করতে হবে আগে। সেটার ‘ফীডব্যাক’ লুপ যাবে সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোতে। সেটাকে ঘিরে ঘোরাতে হবে সরকারের সম্পর্কিত পলিসিগুলোকে। শুধুমাত্র ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে গেলে পয়সা, সময় আর ‘ফোকাস’ নষ্ট হবে আরো বেশি। আমাদের মতো গরীব দেশের জন্য সেটা হয়ে যাবে বড় ধরনের বিলাসিতা। এখনকার ‘ব্রডব্যান্ড প্লান’ আগের মতো নেই আর। এটা শুরু হয় দেশের ‘দর্শন’ নিয়ে। দেশ কি চায়, সেটা বের করতে হয় আগে। টেকনোলজি বাদ, দেশের ‘প্রায়োরিটি’ বের করতে হয় খুটে খুটে। উদাহরণ দেখবেন নাকি একটা? ‘কানেক্টিং আমেরিকা’ বলে ওদের ন্যাশন্যাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যানটা দেখলে পরিষ্কার হবে সবার। দেখুন তাদের দর্শনগুলো – প্রথম কয়েক লাইনে। সবকিছু আছে ওতে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ব্যবস্থা, সরকারের কাজের জবাবদিহিতা, এনার্জি খাত, মানুষের নিরাপত্তা, আরো অনেক কিছু – কোন কিছু বাদ রাখে নি তারা। এক্সিকিউটিভ সামারিটা না পড়লে ব্যাপারটা না ধরতে পারার সম্ভাবনা বেশি। একটা দেশ কি চায়, সেটাই এনেছে এই প্ল্যানে। বিশাল ক্যানভাস।

৬২৯.

‘বিল্ডিং ব্রডব্যান্ড’ বইটাতে আমাদের মতো দেশগুলো কি ধরনের ভুল করতে পারে সেগুলোর বেশ কিছু ধারনা দিয়েছেন আগেভাগেই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেটের মতো প্রোডাক্টের ডিমান্ড তৈরি করার মতো ‘ব্যাপারটা’র ধারনা না থাকাতে পুরো ইনভেস্টমেন্ট চলে যায় ‘সাপ্লাই’ সাইডে। মানে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি হলেই খুশি। কিভাবে বাড়াতে হবে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা, তৈরি করতে হবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন গ্রাহকবান্ধব অ্যাপ্লিকেশন – সেটা পলিসিতে না থাকাতে পুরো কাজটাই যায় ভেস্তে। ‘ইকোনোমি অফ স্কেল’ – ব্যবহারকারী বাড়লে কমবে দাম, আর দাম কমলে আসবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন ইনভেস্টমেন্ট। ইকোসিষ্টেমের তুখোড় সাইকেল হচ্ছে জিনিসটা। কম্পোনেণ্টগুলোর মধ্যে ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ থাকাতে পুরো জিনিসটাকে ফেলতে হবে বড় ক্যানভাসে। ইংরেজিতে যাকে আমরা বলি ‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’, তাহলেই কাজ করবে পুরো ইকোসিষ্টেম। কম্পোনেণ্টগুলোর একটার ওপর আরেকটার নির্ভরশীলতা কাজ করে অনেকদিক থেকে। হাই-স্পীড ট্রান্সমিশনে ইনভেস্টমেন্ট আসা মানে ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ বাড়বে আমাদের দরকারী সব সার্ভিসগুলোতে। আর সেটা বাড়িয়ে দেবে ‘ব্যান্ডউইডধ ইন্টেসিভ’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির মাত্রা। যতো বেশি অ্যাপ্লিকেশন, ততো বেশি টানবে নতুন নতুন গ্রাহকদের। নতুন গ্রাহকেরা চাপ তৈরি করবে নেটওয়ার্ক এক্সপ্যানশনের কাজে। ফলে বাড়বে ইন্টারনেট আর ব্রডব্যান্ডের ওপর নতুন ইনভেস্টমেন্ট। পুরো পৃথিবী বসে আছে পয়সা নিয়ে। ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য বসে আছে কোম্পানীগুলো।

৬৩০.

নতুন সার্ভিস আসা মানে নতুন কনটেন্ট তৈরির হিড়িক। কনটেন্ট তৈরি করছেন ব্যবহারকারীরা নিজেই। ইন্টারনেটের শুরুতে ডাউনলোডই ছিলো বেশি। আজ – পাল্টে গেছে দাবার গুটি। অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে গুগল আর ফেসবুকের মতো কোম্পানীগুলো। হাজার হাজার গিগাবাইটের ‘ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট’ আসছে আপনার আমার দিক থেকে। আমার আপনার ভিডিও, ছবি, ব্লগ পোস্ট দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট। ষাট হাজার ছবি আছে আমারই, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। আগে কনটেন্ট তৈরি করতো মিডিয়া কোম্পানীগুলো। এখন সেটা চলে এসেছে গ্রাহকদের হাতে। ফলে, দরকার হচ্ছে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক – ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায়।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

In a bold move, the Pakistan Telecom Authority, the telecom Regulator has made it mandatory that all bases stations being set up with support from the USF should be ‘Green Sites’ or renewable energy powered, especially solar and wind as the case may be. The reason being that there is currently, a huge shortage of electricity in rural Pakistan.

– The Hindu, Business Line print edition, May 7, 2010

৫৭৩.

টেলিযোগাযোগের জন্য ওই সার্বজনীন সেবা মানে ‘ইউনিভার্সাল সার্ভিস’ নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তা করেছে এই দুহাজার নয়ে। নাম দেয়া হয়েছিলো আমাদের মতো করে। ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল’। শহরে ভালো ব্যবসা করলেও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার জন্য এই ছাড়। মানে সবার জন্য ফোন বা কিছু একটা। সুলভ বা বিনামূল্যে সংযোগ। ধরুন, প্রথম কয়েক বছরের জন্য। আমার রিসার্চ বলে, সংযোগের কারণে এর মধ্যেই বের হয়ে আসবে মানুষটি তার বর্তমান ‘সুবিধাবঞ্চিত’ অবস্থান থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারটা নিয়ে লিখেছিলাম এখানে। পাশের দেশ ভারত আর পাকিস্তানে ব্যাপারটা নিয়ে রয়েছে আলাদা আলাদা অফিস।

৫৭৪.

ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে ছিলাম আমিও। সেটাকে টেলিযোগাযোগ নীতিমালাতে ঢোকাতে কিছুটা সময় লেগেছে হয়তোবা। সুবিধাবঞ্চিতদের যেকোনো ধরনের সংযোগ বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে দেবার জন্য তৈরী করা হয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল। শুরু হয়েছে মোবাইল অপারেটরদের দিয়ে। তাদের রেভিনিউয়ের এক শতাংশ জমা হচ্ছে ওই ইউনিভার্সাল অবলিগেশন ফান্ডে। শর্তটা ঢোকানো হয়েছে লাইসেন্স নবায়নের সময়। এই দুহাজার দশে। ওই টাকা খরচ হবে সুবিধাবঞ্চিতদের সংযোগ দেবার জন্য।

৫৭৫.

পর্যায়ক্রমে নীতিমালাটা ঢোকানোর কথা সব লাইসেন্সে। ডাব্লিউটিও চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোকে নিজেদের মতো করে চালানোর পরামর্শ দিয়েছে এই ইউনিভার্সাল অবলিগেশন ফান্ড। তবে সেটার ‘এন্টি কম্পিটিটিভ’ ব্যবহার ব্যহত করতে পারে বাজারকে। ফান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা না থাকলে অধিকার হারাবে গ্রাহকেরা। অপারেটররাও প্রতারিত মনে করতে পারে নিজেদেরকে। চাঁদা দেবে যারা – তাদের কাছে এটা বোঝা হিসেবে না দাড়ায় – সেটা দেখতে হবে দেশগুলোকে। অনেক দেশে এই চাঁদার পরিমাণ পাঁচ শতাংশের অধিক হলেও বাংলাদেশে সেটা করা হয়েছে মাত্র এক শতাংশ।

৫৭৬॰

অনেক দেশ চাঁদা তোলা আর ফান্ড ডিজবার্সমেন্ট মানে টাকা খরচ করার আলাদা এজেন্সী করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বচ্ছতা আনার জন্য। যে টাকা তোলে আর সেই যদি টাকা বরাদ্দ করে, সেখানে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। দেখা গেছে এই সমস্যার কারণে অনেক দেশে টাকাগুলো ব্যবহার করা যায়নি বহু বছর। এতে শহরের মানুষের কিছু এসে না গেলেও বঞ্চিত হবে স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর অধিকার। এই ইউনিভার্সাল সার্ভিস ফান্ড নিয়ে অনেকগুলো কোর্স করেছিলাম নিজে নিজে। আলাদা বই লিখলে কেমন হয়?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The most common way people give up their power is by thinking they don’t have any.

– Alice Walker

৫৭০.

ইন্টারকানেকশন না হলে কি হয় সেটা দেখেছেন বছর কয়েক আগে। এই বাংলাদেশেই। ফোন আপনার। টেলিযোগাযোগের নীতি অনুযায়ী আপনার ফোন থেকে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় হ্যালো বলতে পারার কথা। টাকা একটু বেশি লাগবে – এই যা। তাই বলে কলই যাবে না – এটা হয় কখনো? এধরনের আধাআধি সার্ভিস দেবার কথা নয় আপনার সার্ভিস প্রোভাইডারের। তো রেগুলেটর আছে কি কারণে? ‘জিপি টু জিপি’ বা ‘একটেল টু একটেল’ প্যাকেজ? গ্রাহকের অধিকার খর্ব হয় এখানে। দরকারের সময় মাথা কুটে হাজার টাকা ভরলেও ফোন যেতো না আরেকজনের কাছে। তবে, রেগুলেটর কিছু করার আগেই ব্যাপারটা ঠিক করে ফেলে বাজার। তবে, পিছিয়ে পড়ে গ্রাহকস্বার্থ।

৫৭১॰

একারণে অপারেটর থেকে অপারেটরের মধ্যে ইন্টারকানেকশনকে বিশেষ প্রায়োরিটি দিয়েছে ডাব্লিউটিও। বাজারে নতুন অপারেটর আসলে তার সুবিধামতো জায়গায় কতো দিনের মধ্যে ওই সংযোগটা দিতে হবে সেটার একটা ভালো আলাপ আছে ওর মধ্যে। বড় অপারেটর আন্তসংযোগ না দিয়ে যাবে কোথায়? আবার, ইন্টারকানেকশনের চুক্তি জানবে সবাই। সংযোগ পাবার রেট হবে কস্ট বেসড, প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। সেটার দাম নির্ধারণ করতে কস্ট মডেলিং করতে মানা করছে না কেউ। অতিরিক্ত মুনাফা নয়। দুবছরের এই এক্সারসাইজ কাকে বলে আমাকে জিজ্ঞাসা করুন। লিখেছি আগেও। আবার, অপারেটরদের অদক্ষতার কারণে কলের দাম বাড়লে সেটাও দেখবে রেগুলেটর। ওই দেশে আন্ত:সংযোগ রেট কতো হবে সেটা দেখে দেবে তারাই। পাশাপাশি সংযোগের টাকা পয়সার ক্যাচাল মানে ‘ডিসপিউট রেজল্যুশন’ মেটানোর গল্প দেয়া না থাকলে গ্রাহকের ক্ষতি।

৫৭২.

‘ইউনিভার্সাল সার্ভিস’টা বড় জিনিস হিসেবে এসেছে ডাব্লিউটিও’র এই রেফারেন্স পেপারে। রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকে তাদের জনগনের প্রতি। যেমন – সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা অথবা বিদ্যুৎ – সবার জন্য। প্রতিটা মানুষের জন্য হতে হবে এক সেবা। ইউনিভার্সাল। প্রতিটা মানুষের জন্য বাসা দেয়া হতে পারে একটা ইউনিভার্সাল সার্ভিস। ধারণাটা শুরু হয় আঠারো সাইত্রিশ সালে। ব্রিটেনে। আপনার বাসা যতো দুরে বা জঙ্গলে হোক না কেন ওই এক রেটে চিঠি পাঠাবার সুবিধা নিয়ে আসলো এই ইউনিভার্সাল পোস্টাল সার্ভিস। ব্যাপারটা কাজ করে লিগাল ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে। প্রতিটা জনগনের জন্য ফোন সংযোগ কিন্তু একটা ইউনিভার্সাল সার্ভিস। আছে নীতিমালায়। নেই প্রয়োগ। জানেও না জনগণ। জানলেও, চাইতে পারছে না কেন জানি।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I attribute my success to this: I never gave or took any excuse.

– Florence Nightingale

৫৬৬.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

৫৬৭.

ওই উনিশশো ছিয়ানব্বইতে ‘বেসিক টেলিকমিউনিকেশনস’ নিয়ে একটা ‘রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে’ কি কি থাকা উচিত – সেটা লেখা হলো নেগোশিয়েশন টেবিলে। মাথা নাড়লো মানে ‘নড’ দিল ওই বিরাশিটা দেশ। কিছু সঙ্গা আর তার জন্য দরকারী ধারা ছিলো ওখানে। সঙ্গায়িত না করলে কি হয় সেটা আমার থেকে ভালো জানবে কে আর? সঙ্গায়িত না করলে পরে যে যার মতো নেয় ভেবে। এটার পরিনতি হয় ভয়াবহ। ওই সময়ে যে বিষয়গুলো দেশগুলো মেনে নিয়েছিলো সেটা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম প্রথমে। কারণ, এখনো মানেনি অনেক দেশ।

৫৬৮.

তবে, যারা মেনেছিল – তারা আজ দাড়িয়েছে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে একেকটা নক্ষত্র হিসেবে। ওই দেশগুলোর কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে পৃথিবীকে। ওই ‘রেফারেন্স পেপারে’ টেলিযোগাযোগের ব্যবহারকারী হিসেবে আমার আপনার মতো গ্রাহকদের নেয়নি শুধু, সার্ভিস দিচ্ছে যারা তাদেরকেও শামিল করেছে সঙ্গার মধ্যে। কোন সার্ভিস যদি একটা বা গুটিকয়েক কোম্পানি দেয় আর – সেই সার্ভিসটার বিকল্প তৈরী করার প্রয়োজন না পড়ে – সেটাকে তারা বলতে চাচ্ছে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’। যেটা ছাড়া দেশ অচল। দেশের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে ওই সার্ভিসগুলো।

৫৬৯.

উদাহরণ নিয়ে আসি, কী বলেন? যেমন, বিটিসিএলের কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথ আনার জন্য দুই একটা সার্কিটের বেশি প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের। এখানে বেশি সার্কিট তৈরী করলেই বরং খরচ পড়বে বেশি। আর সেটা পড়বে গিয়ে গ্রাহকদের ঘাড়ে। এদিক দিয়ে না হলে অন্যদিক দিয়ে। মানে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’ আনা নেয়া করতে গিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে একে ‘রেপ্লিকেট’ করা গেলেও টাকাতে নাও কুলাতে পারে দেশগুলোর জন্য। তবে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’টাকে কে নিয়ন্ত্রণ করছে আর তার ওই সম্পর্কিত বাজারে পজিশন কেমন সেটা দেখবে রেগুলেটর। ওই সার্ভিসটার দাম হবে কস্ট বেসড – মানে লাভ করে নয়। মোদ্দা কথা, ব্যবসা করবে না এখানে সরকারী কোম্পানী। 

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Education costs money. But then so does ignorance.

– Sir Claus Moser

৫৬২.

নীতিমালার একটা ‘প্রেডিক্টাবিলিটি’র কথা বলে ইনভেস্টররা। যেকোনো ব্যাপারে একটা চালু নীতিমালা থাকার কথা। লেখা থাকলে ভালো। আর লেখা না থাকলে রেগুলেটরে ওই মানুষটা পাল্টালে বিপদ। যেকোন ঝামেলা মেটানোর জন্য একটা ‘ওয়েল ডিফাইন্ড’ প্রোসিডিং না থাকলে একেক সময়ে একেক রেজল্যুশন হলে ভয়ে থাকে ইনভেস্টররা। এধরনের অনিশ্চয়তা চায় না বিলিয়ন ডলারের এই ইনভেস্টররা। আর তারা ‘হিট এন্ড রান’ ব্যবসা করতে আসেনি নতুন দেশে। ‘লাভ করলাম আর চলে গেলাম’ কিসিমের ব্যবসা হয় না এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টরে। আর যদি পাল্টাতেই হয় – সেটার একটা ‘প্ল্যানড’ রোডম্যাপ থাকতে হবে আগে থেকে। সবাই জানবে পরিবর্তনটা। কবে হবে, কিভাবে হবে, কে করবে, কাদের মাধ্যমে করবে, ইন্টার-ডিপেন্ডেন্সি কোথায় – সব বলা থাকবে ওই পাবলিক ডকুমেন্টে।

৫৬৩.

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘বোঝার সমস্যা’র কারণে বড় বড় বাণিজ্যিক লেনদেন ব্যহত হচ্ছিলো অনেকদিন ধরে। আবার টেলিযোগাযোগ সেবাটাও দাড়িয়ে গেল দেশেগুলোর জনগনের একটা মৌলিক অধিকার হিসেবে। ব্যবসাতে সমস্যা হওয়াতে সেটা নিয়ে এগিয়ে এলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন, ডাব্লিউটিও। বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে প্রথম চুক্তিটা হয় উরুগুয়ে রাউন্ডে (১৯৮৬-৯৪)। ততোদিনে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস জেনারেট করছে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এটা নিয়ে সব দেশ না ভাবলেও ভাবছিল অনেকেই। প্রথম কথা শুরু হয় ভ্যালু এডেড সার্ভিস নিয়ে। মোবাইলটাও ছিলো ওই সার্ভিসের মধ্যে। ১০৮টা দেশ টেলিযোগাযোগের ভেতরে বাণিজ্যিক গল্পে সন্মতি দেয়। উরুগুয়ে রাউন্ডের পর (১৯৯৪-৯৭) নতুন দেন-দরবারে বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই সেক্টরের রিফর্মের আলাপটা চলে আসে। এতো বড় বাজার – দরকার রেগুলেটরি রিফর্ম।

৫৬৪.

পুরনো মান্ধাতা আইন দিয়ে না চালিয়ে নতুন ‘ইনোভেটিভ’ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের প্রয়োজন মনে করলো সব দেশ। রেগুলেটরের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দরকার চমত্কার একটা আইন। সময়োপযোগী। সরকারী কোম্পানি ভালো না ব্যবসায়। বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এগুলো দিয়ে দেয়া যায় বরং। রেগুলেটর না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো পারবে না সরকারী কোম্পানির সাথে। দরকার শক্ত রেগুলেটর। কথা বলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ওই ১০৮টা দেশ যে চুক্তিতে মত দেয় সেটাতে নতুন টেলিযোগাযোগ কোম্পানি খোলা থেকে শুরু করে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের নীতিমালা আর দেশগুলোর ভেতর যোগাযোগের নতুন মাত্রা আনলো বলে। ওটা না হলে আজকের সাবমেরিন ক্যাবলের দেখা পেতেন বলুন?

৫৬৫.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

You can never cross the ocean until you have the courage to lose sight of the shore.

– Christopher Columbus

৫৫৮.

আফ্রিকার সতেরোটা দেশে অপারেট করতো কুয়েতি অপারেটর জৈন। সেই জৈনকে কিনেছে পরে ভারতী এয়ারটেল। অতগুলো আফ্রিকার দেশে অপারেট করার কারণে জৈনের একজন গ্রাহক অন্যদেশে গেলেও কথা বলতো লোকাল রেটে। কোথায় রোমিং কোথায় কি? বাজারে পলিসি না থাকলে ইন্ডাস্ট্রি তৈরী করে নেবে তার রাস্তা। এটাই ইনোভেশন! সত্যিকার অর্থে, বহু বাজারে ব্যবসা থাকার অনেকগুলো সুবিধার এটা একটা। আমাদের অপারেটরগুলো চাইলে পারে এটা। ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স নীতিমালায় আটকে আছে এধরনের ব্যাপারগুলো। লিখে নিন একটা কথা। ঐদিন বেশি দুরে নয় যখন ইন্টারন্যাশনাল কলের দাম কমে আসবে লোকাল কলের নিচে। মিনিট ভিত্তিক কলের হিসেব উঠে যাচ্ছে অনেক দেশে। পয়সা দেবেন মাস ভিত্তিক। আনলিমিটেড কল। রেগুলেটরকে বুঝতে হবে জিনিসগুলো। ভয়েস কলের ওপর রেভিনিউয়ের আশা নিয়ে বসে থাকলে ভুল করবে সবাই।

৫৫৯.

ফিরে আসি স্বচ্ছতায়। যতো যাই হোক না কেন, কিছু কিছু নীতিমালায় স্বচ্ছতা না থাকলে ভয় পায় টেলিযোগাযোগ ইনভেস্টররা। অনিশ্চয়তা ভর করে তাদের ওপর। বানানো কথা নয় আমার। হাজারো মিটিং থেকে উঠে এসেছে এ কথাগুলো। পুরনো অপারেটরের সাথে ইন্টারকানেকশন মানে আন্তসংযোগ নীতিমালা হতে হবে ব্যবসাবান্ধব। নতুন অপারেটর এলো – কল পাঠাতে পারলো না অন্য অপারেটরে। আসবে টাকা নিয়ে কেউ? ফরওয়ার্ড লুকিং কস্ট এনালাইসিস থাকতে হবে রেগুলেটরের কাছে। ‘কস্ট প্লাস’ আর ‘রিটেল মাইনাস’ প্রাইসিংয়ে দক্ষতা দিয়ে আশ্বস্ত করতে হবে রেগুলেটরকে। নতুন ইনভেস্টমেন্টকে। দেশের টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের মূল্য নির্ধারণের নীতিমালা কেমন আর সেটা থাকলে সেটা কতোটা ব্যবসাবান্ধব সেটা দেখতে চায় নতুন টাকাওয়ালা। ভবিষ্যতের বাজার উন্মুক্ত করতে রেগুলেটরের রোডম্যাপ না থাকলে অনেক পয়েন্ট হারায় দেশ।

৫৬০.

আমাদের দেশ ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন’ মানে ডাব্লিউটিওতে কি কি ব্যাপারে সাক্ষর করেছে সেটা কিন্তু জানে সে। রিসার্চ ছাড়া আসবে না নতুন ইনভেস্টমেন্ট। বিশেষ করে নতুন দেশে। রিসার্চ অর্গানাইজেশনগুলো যোগাযোগ করতো আমার সাথে। কিভাবে যেন যোগাড় করতো নাম ঠিকানা আমার। তবে, বলতো না কোন কোম্পানির হয়ে রিসার্চ করতো তারা। এটাই নিয়ম। নিয়ম করে উত্তর পাঠাতাম ইমেইলে। দেরী করলে ক্ষতি আমাদের। বেঁচতে হবে না দেশকে? দরকার নেই রোডশো’র। দেখিয়ে দাও আমাদের নীতিমালাগুলোকে। সিদ্ধান্ত নেবে তারাই। দেশকে বেঁচতে পারাটা অনেক কষ্টের কাজ। দেশ বিদেশের হাজারো নীতিমালা রাখতে হয় মুখস্ত! কখন কি লাগে সেটা আগে থেকে বলা দুস্কর। গ্লোবালাইজেশনের যুগে গ্লোবাল ফুটিং না থাকলে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবে প্রতিযোগী দেশগুলো। ফেলেও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। মিডিয়াতে আসে না ওগুলো। সুক্ষ মারপ্যাচের কাজ। আমরা আটকে আছি বেসিক জিনিস নিয়ে এখনো। খালি কথায় ভিঁজে না চিড়ে। ওটা আসবে কমিটমেন্ট থেকে। পাঁচ বছর পর পর ‘কমিটমেন্ট’ পাল্টালে ঘেঁসবে না কেউ।

৫৬১.

আরেকটা বড় ব্যাপার হচ্ছে ‘ডিসপিউট রিজোল্যুশন’, মানে রেগুলেটর কোন ‘অন্যায়’ সিদ্ধান্ত তার ওপর চাপিয়ে দিলে যাবে কার কাছে? এ ব্যাপারগুলো ঠিকমতো না বলা থাকলে টাকা আনতে কষ্ট হয় দেশগুলোর। আবার – নতুন ইনভেস্টমেন্ট না আসলে বাজার প্রতিযোগিতা আসে না ভালো ভাবে। কমে না দাম। এদিকে, ইনভেস্টমেন্ট করার পর পরিবেশের অভাবে কোনরকমে টাকা তুলে চলে যেতে চাইলে ন্যায্য দামের অধিকার হারায় গ্রাহকেরা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Everything that is possible to be believed is an image of the truth.

— William Blake

৫৫৩.

ইনভেস্টরদের উইশলিস্টের প্রথমেই আছে স্বাধীন, রাজনৈতিক অথবা ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবমুক্ত – শক্তিশালী রেগুলেটরি সংস্থা। ন্যায়বিচার আর অবৈষম্যমূলক আচরণ করবে সবার সাথে। স্বাধীন ব্যাপারটা আসছে রেগুলেটরের রোল নিয়ে। যা চলবে – সার্বজনীনভাবে প্রকাশিত কিছু ‘ওয়েল ডিফাইনড’ নীতিমালা নিয়ে। ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার দিয়ে নয়। মাঠে নামার আগেই জানবে সবাই কোনটা ফাউল আর কোনটা নয়। নামার পর ইচ্ছেমতো ‘ফাউল’ দিলে খেলার আগ্রহ হারাবে এই পয়সাঅলা কোম্পানিগুলো। যাই করুন কথা বলে নিন গ্রাহক আর ইন্ডাস্ট্রির সাথে। গ্রাহক হচ্ছে যিনি সরাসরি কিনছেন জিনিসটা। আর ইন্ডাস্ট্রি তৈরী করছেন সেটা।আপনি হচ্ছেন গিয়ে রেফারি। নিয়মবিরুদ্ধ জিনিস ছেড়ে দিলে ইন্ডাস্ট্রি সেটাকে ‘প্র্যাকটিস’ ধরে করতে থাকে বার বার। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ গ্রাহক। আমার ধারণা, ইনভেস্টরদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে নিলে নিলে দেশের লাভ বেশি। ওই বিচক্ষণতার জন্য জানতে হবে রেগুলেটরকে বেশি। শিখতে হবে অনেক। না জানলে যে সমস্যাটা হয় সেটার নাম হচ্ছে গিয়ে ‘রেগুলেটরি ক্যাপচার’। গুগল করবেন নাকি একবার?

৫৫৪.

সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক কথা বার্তা বলে থাকে ইনভেস্টররা। মানে, যা সিদ্ধান্ত নেবেন তা যাতে সমান হয় সবার জন্য। ‘ক’এর জন্য সিদ্ধান্ত এক আর ‘খ’ বিদেশ থেকে এসেছে বলে ওর জন্য অন্যরকম তাহলে সেটা ইনভেস্টর কনসোর্টিয়ামে ভুল সিগন্যাল পাঠায়। আবার যাদের টাকা পয়সা বেশি – তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয় অনেক দেশেই। রাজনৈতিক ‘লবিস্ট’রা এব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। আপনার পক্ষে সিদ্ধান্ত এনে দেবে – নো ম্যাটার হোয়াট! একটা ফী’র বিনিময়ে। এ ব্যাপারগুলো ‘ব্যাকফায়ার’ করে নতুন ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন বড়রা। রেগুলেটরকে বুঝতে হবে বড়রাই রেগুলেটরকে ‘এনগেজ’ করবে বেশি। এটাই নিয়ম। তাই বলে যে ছোটরা কিছু বলতে পারছে না সেটা জানতে হবে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে। এরপর বসিয়ে দিন সামনাসামনি। রেগুলেটর আগে থেকে সবকিছু লিখে রাখলে সবার জন্য সুবিধা। উন্নতদেশে রেগুলেটরকে নিয়ে মিডিয়াতে আলাপ হয় কালেভদ্রে। কারণ, সবাই সবকিছু জানে। কোনটা ফাউল আর কোনটা নয় – সেটা বলে রেখেছে রেগুলেটর আগে থেকেই। মিডিয়াতে কথাবার্তা না হবার মানে হচ্ছে সবকিছু চলছে ঠিকমতো!

৫৫৫.

এখন সবাই খুব কানেক্টেড, কোন দেশে কি হচ্ছে সবাই জানে আগেভাগে। এমনকি, ওই দেশের মানুষের আগে। মনে রাখতে হবে – পৃথিবী চালায় কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। টেলিযোগাযোগ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলোর অপারেশন আছে অনেকগুলো দেশে। এমন বড় যে ওই কোম্পানিগুলোর পেছনে আছে বড় বড় দেশগুলো। এই কোম্পানিগুলোই ঘুরে ফিরে টাকা ঢালছে একেক দেশে। তারা দেশগুলোকে চেনে ওই দেশের মানুষগুলো থেকে বেশি। একেকটা ‘ইনোভেশন’ আর পেটেণ্টের পেছনে কতো টাকা ঢালছে সেটার হিসেব নাই বা দিলাম আর।

৫৫৬.

না জানলে হবে কিভাবে? বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট তো না জেনেশুনে করবেন না কেউ? আপনি করবেন? আমরাই তো দশ টাকার ইনভেস্টমেন্টের আগে চিন্তা করি দশ বার। বোর্ডমিটিংয়ে শেয়ারহোল্ডারদের কি বোঝাবেন? আমাদের দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ তাদের নখদর্পনে। দেশগুলোর নীতিমালা মুখস্ত তাদের। কোথায় ইনভেস্টমেন্ট পরিবেশ ভালো আর কোথায় অপেক্ষা করতে হবে আরেকটা সরকারের জন্য – সেটা তাদের জানা। ইনভেস্টমেন্ট কতো প্রকার আর কি কি প্রকারের – সেটা দেখতে তাকাতে হবে ভারত আর মায়ানমারের দিকে। সামনের বছরগুলোতে।

৫৫৭.

সবার কিছু না কিছু অপারেশন আছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। একেক বাজারের জন্য আলাদা রিসার্চ টীম আছে তাদের। আমাদের দেশে কোন ধরনের প্রোডাক্ট চলবে ভালো – আর কোনটা নয়, সব জানা তাদের। সব জ্ঞান গিয়ে জমা হয় তাদের গ্রুপ হেডকোয়ার্টারে। এই জ্ঞানগুলো বাঁচায় কোম্পানিগুলোকে। কোটি টাকা খরচ করে নামালেন একটা প্রোডাক্ট – আর তা না চললে সেটার গচ্চা দিতে হয় আমাদের মতো গ্রাহকদের। সবকিছু মিলিয়ে বিশাল কার্যক্ষেত্র আর বাজার তৈরিতে সিদ্ধহস্ত তারা। তাদের সম্মিলিত জ্ঞান একেকটা দেশ থেকে অনেক বেশি। ফলে – দেশগুলোও থাকতে চায় তাদের গুডবুকে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: