Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ইন্টারনেট’

A dream is a seed.
Vision plants it.
Imagination nurtures growth.
Opportunities create blooms.
Thoughts become things!

― Donna McGoff

৬৪৯.

দেশকে ওপরে ওঠাতে হলে কাজ করতে হবে সব সেক্টর মিলে। ব্রডব্যান্ড হচ্ছে সেটার একটা ‘টুলস’ মাত্র। অথবা, বলতে পারেন নাট বল্টু! দেশের মানুষকে চাইতে হবে বিশ – পঞ্চাশ বছরে কোথায় যেতে চায় সে। বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরনের একটা রোডম্যাপ। ভুলে যান টেকনিক্যাল কথা বার্তা। শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানী, চাকরির বাজার তৈরি অথবা ‘সরকারী সার্ভিস ডেলিভারী’ খাত যাই বলুন না কেন, সেটা একটা একটা ধরে ঠিক করতে হবে আগে। তৈরি করতে হবে সেই টার্গেটগুলো। টাইমলাইন সহ। সেই টার্গেটগুলো পূরণ করতে ব্রডব্যান্ডের যে ধরনের নীতিমালা দরকার সেটাই নিয়ে এসেছি এখানে। তবে, সরকারকে নিয়ে আসতে হবে সবাইকে, এক টেবিলে। ইনভেস্টর, প্রাইভেট সেক্টর, টেলিকম ইনডাস্ট্রি সবার মতামত নিয়ে তৈরি হবে ‘হলিস্টিক’ নীতিমালা। তারাই তৈরি করবে ওই ব্রডব্যান্ডের পাইপটা। শুনতে হবে তাদের কথা। তার সাথে বুঝতে হবে ‘সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডে’র হিসেব। সেটার জন্য থাকতে হবে জ্ঞান – প্রজ্ঞা, সরকারের ভেতর। প্রয়োজনে, অবিভাবক হিসেবে সরকারকে নামতে হতে পারে ‘ক্যারট এণ্ড স্টিক’ খেলায়। উন্নতদেশগুলোতে প্রথম দিকে দরকার হয়েছে সেগুলো। খালি বকবেন, হবে না সেটা। সমস্যার সমাধান তৈরি করে দিতে হবে তাদেরকে। শাসন করা তাকেই সাজে, সোহাগ করে যে।

৬৫০.

সামরিক বাহিনীতে চাকরির সুবাদে সব যায়গায় ‘চেকলিস্ট’ ধারনাটা ঢুকে গেছে রক্তে। প্রায় কাজে তৈরি করতাম একেকটা চেকলিস্ট। সেটার একটা চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। লিস্টটার পরিবর্ধন, পরিমার্জন হবে সময়ের সাথে। যেহেতু সরকারী ‘রোলে’ ছিলাম সাত সাতটা বছর, সেকারণে ‘সরকারী’ কার্যপরিধি নিয়েই বইটা। বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ নয়, বরং বাংলাদেশে কি কি জিনিস কাজ করবে সেটাই তুলে আনা হয়েছে বাস্তব ‘অভিজ্ঞতা’ থেকে। তবে, কোন কোন দেশে কি কাজ করেছে আর কি কাজ করেনি সেটা জানা জরুরী। আগেই বলেছি, প্রাইভেট সেক্টরের গতির ওপর লাগাম না ধরে সেটা দেশের প্রবৃদ্ধিতে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাই ‘বিজ্ঞান’ এখানে। আমরা ‘রকেট সায়েন্স’ নিয়ে আলোচনা না করে ইন্টারনেটকে সারা দেশে কিভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায়, কীওয়ার্ড ‘সস্তায়’, সেখানে সরকার কিভাবে এগোবে সেটাকে ভাগ করে ফেলবো মাত্র চার চারটা ভাগে। পৃথিবীব্যাপী যখন সরকারী কোম্পানীগুলোর অবস্থা তথৈবচ, তখন সরকার সরে যাচ্ছে ব্যবসা থেকে – নিজে নিজেই। বরং, স্বীকার করতে বাঁধা নেই প্রাইভেট সেক্টর এখানে তুখোড়। ফলে, সরকার ফিরে গেল নীতিমালা তৈরিতে, ‘কিভাবে ব্যবসা চালাবে এই প্রাইভেট সেক্টর?’ কিভাবে দেখবে গ্রাহকস্বার্থ। নীতিমালাগুলো হবে কিছুটা ‘লাইট হ্যান্ডেড রেগুলেশন’এর ধারণায়। বেশি চাপচাপি করলে দেশ হারাবে ‘উদ্ভাবনা’। দ্বিতীয় কীওয়ার্ড হচ্ছে এটা।

৬৫১.

চারটা ভাগ কি হতে পারে সরকারী কাজে? ক॰ প্রাসঙ্গিক নীতিমালা প্রণয়ন আর পরিমার্জন খ॰ ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যে’র মতো ‘সবার জন্য ইন্টারনেট মানে যোগাযোগ’ নীতিমালা প্রণয়ন। উন্নত বিশ্বে এটাকে বলে ‘ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস’। সরকার যা করবে, করবে সবার জন্য। গ্রামের মানুষদের কি দোষ? গ॰ প্রাইভেট সেক্টরকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক তৈরি করার যা যা ‘প্রণোদনা’ দরকার সেটা দেয়া ঘ॰ ইন্টারনেটের চাহিদা এবং এর ‘অ্যাডপশন রেট’ বাড়ানোর জন্য ডিমান্ড সাইডের নীতিমালা প্রণয়ন করা।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

It is truly rare for people to outmaneuver Big Telecom’s army of lobbyists, but together Canadians did it. Now that we’ve prevented big phone and cable companies from taking full control, it’s time to fix our broken telecom market for good. A first step is for Canadians to move to independent providers, then we need to shift policy so everyone has affordable choices for Internet access. Our future depends on it.

Steve Anderson, Executive Director, OpenMedia.ca

৬৩৬.

দেশগুলোর রেগুলেটরী এজেন্সি তৈরির পেছনে ‘গ্রাহকস্বার্থ’ দেখার ব্যাপারটা কাজ করে বেশি। গ্রাহক ঠিকমতো তার সার্ভিসটা পাচ্ছে কিনা বা যে টাকা দিয়ে কিনছে সেটা যথোপযুক্ত কিনা, এধরনের ‘নজরদারি’ করে থাকে রেগুলেটরী এজেন্সি। দেশের মানুষের ভালো দেখবে তারা, সেটাই থাকে মুখ্য। আর রেগুলেটরী এজেন্সি বাইরের সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে সেটাও আশা করে জনগণ। তবে বড় বড় ইনডাস্ট্রির জন্য রেগুলেশন সরকারের মাথা ব্যাথা হয়ে দাড়ায় অনেক সময়। অর্থনৈতিকভাবে এ ব্যাপারটা আরো প্রকট হয় যখন বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোর কাছে প্রচুর পয়সা থাকে। ফলে, তাদের কাছে চলে যায় সেরা মেধাগুলো, সেরা আইনজীবী, হাজারে হাজারে। সরকারও ধরে রাখতে পারে না তাদের ‘সেরা মেধাগুলো’ – তাদের বেতন স্ট্রাকচারের কারণে। ফলে রেগুলেটর জনগণের না হয়ে – হয়ে যায় ইনডাস্ট্রি’র ‘হস্তগত’। ‘রেগুলেটরী ক্যাপচার’ হচ্ছে এর আইনগত সংজ্ঞা। দাম বেড়ে যায় পণ্যের।

৬৩৭.

দেখা গেছে কোম্পানীগুলোর স্যাটেলাইট অফিস থাকে সরকারী অফিসের কাছাকাছি। লবিষ্টদের কথা আর নাই বা বললাম। ছোট কোম্পানী আর সাধারণ জনগণের দিকটা দেখা অনিবার্য হয়ে পড়ে ওই রেগুলেটরী এজেন্সি’র ওপর। তবে সেটা হয়ে ওঠে না সবসময়। দেখা যায় সরকারের নীতিনির্ধারণীতে থাকা মানুষগুলো পরিবেষ্টিত থাকে ওই বড় বড় কোম্পানীর ‘মেধাবী’ মানুষদের দিয়ে। ছোট কোম্পানীগুলো বা সাধারণ জনগণ তো তাদের নিজেদের ‘দিনকে দিনের’ সমস্যা মেটাতেই ব্যস্ত, তার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা সেটার পেছনে দৌড়ানো হয় কমই। আপনি করবেন? আপনার পেটের দায় আগে – না আপনার ‘গ্রাহকস্বার্থ’? আর সেকারণে দেশগুলো তৈরি করে থাকে আলাদা ‘গ্রাহকস্বার্থ’ কমিশন।

৬৩৮.

প্রতিটা ইনডাস্ট্রির কিছু স্বার্থ থাকে যেটার জন্য সেই কোম্পানীটা যে কোন দৌড়ে যেতে আগ্রহী। এভিয়েশন ইনডাস্ট্রির দিকে তাকাই একবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই সেক্টরের রেগুলেটর হচ্ছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন, যাকে আমরা বলি ‘এফএএ’। তাদের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন’ মানে মন্ত্রণালয়ের একটা ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে দেখা গেলো একটা নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের ৪৬টা প্লেন আকাশে উড়ছিলো ‘সেফটি ইন্সপেকশন’ ছাড়াই। সাধারণ গাড়ির মতো প্রতিটা প্লেনের ‘ফিটনেস’ সার্টিফিকেট নিতে হয় একটা সময় পর পর। ওই এয়ারলাইন্সটাকে দুবছর ধরে এই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো তাদের রেগুলেটর। যাত্রীদের জানের ওপর বাজী রেখে ওই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো এফএএ’র অফিসাররা। এদিয়ে বাকি এয়ারলাইন্সগুলোর অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো যাবার ফলে ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে গেল শত শত প্লেন। শুরু হয়ে গেল ফ্লাইট ক্যান্সেলেশন। তাও আবার হাজার খানেক ফ্লাইট। ঘটনা প্রকাশ পেল যখন ওই এয়ারলাইন্সের একটা প্লেনকে ‘গ্রাউন্ডেড’ করতে যেয়ে। প্লেনের ‘ফিউজলাজে’ কয়েকটা ফাটল পাওয়াতে ইন্সপেকটর ‘ক’কে বলা হলো ‘রেগুলেটরের ভালো সম্পর্ক’ আছে ওই এয়ারলাইন্সের সাথে।

৬৩৯.

মার্কিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এফসিসি’কে কম কথা হয়নি। ‘এফসিসি’ বিশাল মিডিয়া ইনডাস্ট্রির ‘হস্তগত’ হয়ে আছে এধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিলো অনেকদিন থেকে। যাই রেগুলেশন করা হয় সেগুলো সাপোর্ট করছিলো ওই বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোকে। কর্পোরেট ‘কার্টেলাইজেশন’ আর কি। বড় বড় মিডিয়া ইনডাস্ট্রির যোগসাজসে ক্রমশ: খরচ বাড়ছিলো গ্রাহকদের। ছোট ফার্মগুলো টিকতে না পেরে গুটিয়ে ফেলছিলো তাদের ব্যবসা। নতুন কোম্পানীও আসতে পারছিলো না বাজারে। ফলে উদ্ভাবনা যাচ্ছিলো কমে। দিনের শেষে গ্রাহকের পছন্দের ‘বিকল্প পন্য’ আসছিলো কমে। মানে সোজা। ধরুন, আগে ছয়টা কোম্পানী দিতো মোবাইল সেবা, ‘মার্জার অ্যাকুইজিশন’ হয়ে কোম্পানী হয়ে গেলো তিনটা। পছন্দের সংখ্যা গেলো কমে। এদিকে রেডিও টেলিভিশন লাইসেন্স পাবার ক্ষেত্রে পাত্তাই পেল না ছোট কোম্পানীগুলো।

৬৪০.

ঘুরে আসবো নাকি কানাডা একবার? কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এণ্ড টেলিকম্যুনিকেশনস কমিশন হচ্ছে ‘কনভার্জড’ রেগুলেটর। ব্রডকাস্টিং, মিডিয়া, টেলিযোগাযোগ – সবই তার আওতায়। এক কথায় আধুনিক রেগুলেটর। বেল কানাডা, সবচেয়ে বড় অপারেটর – একবার কিভাবে যেন হোলসেল ইন্টারনেট বিক্রির ওপর ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ সিষ্টেমটা নিয়েছিল পাস করে। খোদ রেগুলেটর থেকে। মানে বেল কানাডা থেকে হোলসেল ইন্টারনেট কিনতে গেলে পয়সা গুনতে হবে ব্যবহারের ওপর। কিনতে হবে গিগাবাইট ধরে। আইএসপিদের যদি এভাবে কিনতে হয়, তাহলে গ্রাহকদের অবস্থা বারোটা। মোবাইলের ব্যপারটা কিছুটা আলাদা। তাদের সীমিত রিসোর্স হচ্ছে স্পেকট্রাম। ফলে ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ দিয়ে গ্রাহকদের চাপটা কমিয়ে নিয়ে আসে নেটওয়ার্কের ওপর থেকে। রাগান্বিত গ্রাহক আর আইএসপিরা শুরু করলো অনলাইন পিটিশন। পাঁচ লাখ লোকের পিটিশন। রেগুলেটর আর ‘বেল কানাডা’র মিল-মিলাপের গল্প শুরু হলো মিডিয়াতে। চাপ তৈরি হলো পার্লামেন্টারী স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর। ডাক পড়লো কমিশনের চেয়ারম্যানের। পিছু হটলো রেগুলেটর

এতে দাম বাড়ে বৈকি। এখন উপায় কি? আবার, মেধাগুলোকেও রাখা যাচ্ছে না সরকারে। উপায় না থাকলে শুরুই বা কেন করলাম গল্পটা?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I do have a political agenda. It’s to have as few regulations as possible.

– Dan Quayle

৪৭৭.

উনিশশো পঞ্চাশ বা ষাট সালের কথা বলছি। বাজার খুলে দেয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্তরাস্ট্র মাইক্রোওয়েভ লাইসেন্স দিলো কয়েকটা। এমসিআইকে। পরে লঙ ডিসটেন্স ক্যরিয়ার লাইসেন্সও পেল তারা। দিয়েছিলো এফসিসি। টার্মিনাল ইকুইপমেন্ট মানে বাসার ফোন এডাপটার উন্মুক্ত করা হলো অনেক পরে, উনিশশো সাতাত্তুরের দিকে। মানে যে কেউ সংযোগ নিতে পারবে ওখান থেকে। টেলিফোন লাইন এক, তবে সার্ভিস প্রোভাইডার হতে পারবে আলাদা। গুগল করুন এলএলইউ, মাথা খারাপ করা আইডিয়া। এফসিসি মানেনি। তো হয়েছে কি? কোর্টের রায় গিয়েছিলো বেসরকারী কোম্পানিগুলোর পক্ষে। টিএন্ডটির লাইন – দাও ল্যান্ড ফোন, কর ফোনের ব্যবস্যা। তবে লাইন লীজ দিতে হবে ন্যায্য দামে। অন্য কোম্পানিগুলোকে।

৪৭৮.

টেলিফোন লাইন দিয়ে নিচের দিকের ফ্রিকোয়েন্সি মানে ৩০০ হার্টজ থেকে ৩.৪ কিলোহার্টজ ব্যবহার হয় ভয়েসের কাজে। ওপরের ফ্রিকোয়েন্সি দিয়ে যতো ধরনের ডিএসএল মানে ডাটা সার্ভিস আছে তা ছেড়ে দাও প্রতিযোগীদের কাছে। ওতে ভয়েসের ব্যবস্যার সমস্যা হয় না কখনো। লাইন একটা হলেও ডাটা সার্ভিস ব্যবহার করছে ওপরের ফ্রিকোয়েন্সি। ফোন আর ডাটা চলে একসাথে। এক ফোন লাইন লীজ নিতে পারে কয়েকটা কোম্পানি। সরকারী অব্যবহৃত রিসোর্সের সর্বোত্তম ব্যবহার। আনবান্ডল কর লোকাল লুপ। মানে ছেড়ে দাও এমডিএফ, আইএসপিদের হাতে। ন্যায্য দামে। পরের দিকে প্রায় সব রেগুলেটর বাধ্য করেছে তার সরকারী কোম্পানিকে। আমাদের হয়নি এখনো। এই এমসিআই কিন্তু এখন বিশাল গ্লোবাল প্লেয়ার। কি নেই তাদের? পৃথিবী জুড়ে সাবমেরিন ক্যাবল? নাম কিন্তু মাইক্রোওয়েভ কমিউনিকেশনস ইনকর্পোরেটেড!

৪৭৯.

আজকের মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের এই চরম উৎকর্ষের পেছনে কাজ করেছে ওদের সুদূরপ্রসারী টেলিযোগাযোগ নীতিমালা ১৯৯৬। এটা একটা মাইলফলক বটে। আমার তৈরী বেশ কিছু নীতিমালাগুলোর মধ্যে এর প্রভাব অনস্বীকার্য। জ্ঞান, ইন্টারনেট, প্রাইভেটাইজেশন আর প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ছড়িয়ে দেবার জন্য এই নীতিমালাটা সব দেশের রেগুলেটরদের পড়া উচিত একবার। টেলিযোগাযোগ, মিডিয়া, ইন্টারনেট আর ব্রডকাস্টিং – সব কিছুই আছে এখানে। স্থানীয় এক্সচেঞ্জগুলোতে ভিডিও ডিস্ট্রিবিউশন মানে ক্যাবল টিভি ব্যবস্যার সুবিধা করে দেয়ায় লাভ হলো সবারই। এক রিসোর্সের ওপর দিয়ে ভাগাভাগি করে ব্যবস্যা শুরু করলো কোম্পানিগুলো। এই নীতিমালা প্রাইভেটাইজেশনের স্বার্থে রেগুলেটরের অনেক ক্ষমতা কেড়ে নিলেও তৈরী করলো প্রতিযোগীতামূলক পরিবেশ। ডি-রেগুলেট করে দিলো অনেক কিছুই। আর সেকারণে গুগল, ইউটিউব, ফেইসবুক আর হোয়াট’স-অ্যাপের মতো কোম্পানি বাসা বাঁধে এই মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে। বলুনতো – কাদের আমলে তৈরী হয়েছিল এই নীতিমালাটা? ঠিক বলেছেন – ক্লিনটন আর আল গোরের সময়ে। মাথাঅলা লোক ছিলেন দুজনই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Virtue is more to be feared than vice, because its excesses are not subject to the regulation of conscience.

– Adam Smith

৪৭৩.

টাকা কই? বাইরের টাকা আনতেও উন্মুক্ত করতে হবে টেলিযোগাযোগ খাত। পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে টেলিযোগাযোগ নীতিমালাতে। অনেক টাকা আয় ব্যয় হবে এই খাতে। ডাব্লিউটিও’র রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস নিয়ে ‘টেলিকমিউনিকেশন রেফারেন্স পেপার’টা পড়লে পরিস্কার হবে আরো বেশি। দেশগুলোর প্রাইভেট ক্যাপিটাল যাতে অন্যদেশে ঢুকতে পারে সেজন্য এই চুক্তি। শুধুমাত্র দেশীয় কোম্পানি নয় – টেকনোলজি ট্রান্সফার হবে দেশগুলোর ভেতর। অভাবনীয় সার্ভিস নিয়ে একে ঢুকবে অন্যদেশে। কোন দেশ কবে কোন সেক্টরে বাইরের ইনভেস্টমেন্ট ঢুকতে দেবে সেটারও একটা টাইমলাইন দেয়া আছে ওখানে।

৪৭৪.

ফলে টেলিনর বা গুগলের মতো কোম্পানি বিভিন্ন দেশে তাদের ইনোভেশনগুলো নিয়ে আসছে অন্য মার্কেটে। ইনোভেশন হয়েছে হয়তোবা এক মার্কেটে, প্রয়োগ করছে অন্য জায়গায়। ভলিউমে খেলছে তারা। খরচ পড়ছে কম। এই কোম্পানিগুলোর স্ট্রাটেজি আর অপারেশন্স একদম আলাদা থাকার কারণে উঠছে ওপরে। দেখেছেন কি ‘সলভ ফর এক্স’ সাইটটা? ফিরে আসি ডাব্লিউটিও’র পেপারে। আরো অনেক সুন্দর গল্প আছে ওই চুক্তিনামায়। এর সাথে গ্যাটস মানে জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্রেডস ইন সার্ভিসেসএর ক্রস-বর্ডার সার্ভিস সেটেলমেন্ট বড় করে থাকবে সামনে। করুন গুগল ‘ডাব্লিউটিও টেলিকম রেফারেন্স পেপার’, খারাপ হয়ে যাবে মাথা!

৪৭৫.

আর আছে ইন্টারনেট! কোনো দেশ এটাকে আনতে পারেনি বাগে। মানে এই প্ল্যাটফর্মকে। ইনোভেশনের চূড়ান্ত মাত্রা বলা যায় এটাকে। মানুষের যা ক্ষমতায়ন হয়েছে তার বড় একটা কৃতিত্ব পাবে এই ইন্টারনেট। সেটা হয়েছে অনেক কিছুর ডি-রেগুলেশন মানে উন্মুক্তকরনের ফলে। সরকারগুলো ইন্টারনেটের নীতিমালা নিয়ে অনেক গবেষণা করলেও এর টুঁটি চেপে ধরেনি অতটা। কোটি উদ্যোক্তা আজ বেঁচে আছেন এই ইন্টারনেটের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে। ডাটা ট্রাফিক যখন ছাড়িয়ে গেলো ভয়েসকে, প্রাইভেটাইজেশনই ছিলো এর এক্সিট রুট। দেশের অর্থনীতি চালায় কোম্পানিগুলো, আর নীতিমালাহীন ইন্টারনেট এর বিশাল পৃষ্টপোষক। ইন্টারনেটের বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর দেখভাল ছেড়ে দিয়েছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর।

৪৭৬.

তবে শুরুটা ছিলো অনেক ঝামেলার। নাহলে তো প্রয়োজন হতো না এই রেগুলেশনের। দরকার হতো না টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে ঢুকতে গিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল সরকারের নিয়ন্ত্রিত টেলিযোগোযোগ খাত থেকে। এই প্রাইভেট সেক্টর। গ্রাহক তো সব সরকারের কাছে। শুরুতে টেলিযোগাযোগ সার্ভিস মানে ছিলো ল্যান্ডলাইন। আর বিটিটিবির লাইনই ছিলো মানুষের কাছে। প্রাইভেট সেক্টর যতোই আসুক না কেন আবার নতুন লাইন বসাবে কে? আর বসালেই কি নেবে মানুষ? দেখা গেলো প্রাইভেট সেক্টর পেরে উঠছে না সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে। আর পারবেই বা কেন? স্বল্প পুজি নিয়ে সরকারী কোম্পানির সাথে পারছিলো না প্রথম দিকে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

« Newer Posts

%d bloggers like this: