Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জার’

There are no secrets better kept than the secrets that everybody guesses.

— George Bernard Shaw

০৭.

পড়ে আছি আফ্রিকাতে। আগেও ছিলাম এখানে। আরেকটা দেশে। বউ বাচ্চা ছেড়ে। পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ছাপ পড়েছে এখানেও। অফিসের কাজ শেষে ‘স্কাইপিং’ করি বাসায়। বিনামূল্যে। বাচ্চারা মায়ের ফোন নিয়ে ওপরতলা নিচতলা করতে থাকে প্রতিনিয়ত। পুরো বাসার ‘ট্যুর’ হয়ে যায় ওদের অজান্তে। কোন রুমের আসবাবপত্র কোন রুমে যাচ্ছে কোন কিছুই এড়াচ্ছে না আমার চোখ। আর্শিয়ার ‘ফ্রোজেন’ আর নাবিলের ‘বিগ হিরো ৬’য়ের পোস্টার কোথায় লাগবে সেটার শালিসিতেও বসতে হলো এখানে বসে। দরকার লাগলে ঢুকে যাই নিজের বাসার নেটওয়ার্কে। চালু করি বাসার কম্পিউটার বা ওয়াইফাই রাউটারটা। টেনে আনি দরকারী ফাইল। বাসার গাড়িটাকে নিয়ে এসেছি হাতের নাগালে। ‘ভার্চুয়াল ফেন্সে’র বাইরে গেলেই মাথা গরম হয়ে যায় ফোনের। সঙ্গে আমারো। এই আফ্রিকায় বসে। ফ্রীজটা বাকি। হয়ে যাবে সেটাও।

০৮.

ফিরে তাকাই পেছনের দিনগুলোতে। অথচ, দশ পনেরো বছর আগে পকেট ফাঁকা করে ফেলতাম কথা বলতে। এই আফ্রিকা থেকে দেশে। তাও শুধু দরকারী কথা। তখন বউ অবশ্য বলতো মিষ্টি মিষ্টি কথা। পাল্টেছে সময়। এখনো বলে। কম। ভাগ্য ভালো, আমার শহরে আছে থ্রীজি সার্ভিস। হাজার টাকায় পাওয়া যায় দুর্দান্ত গতির ইন্টারনেট। হিসেব করে দেখলাম – ইন্টারনেট হচ্ছে আমাদের লাইফলাইনের মতো। ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ করার সাহস করি না আমি। মনের ভুলেও। আমার ধারনা, বাকিদের একই অবস্থা। ধন্যবাদ ‘সিম্ফনী’ আর ‘ওয়ালটন’কে। তাদের সুবাদে – সবার হাতে স্মার্টফোন। ভুল বললাম। একেকটা মিনি কম্পিউটার। আবারো ভুল বললাম। একেকটা শক্তিশালী কম্পিউটার। আমার নিজের ফোনটাই ল্যাপটপ থেকে তিনগুণ শক্তিশালী। স্ক্যান করছে আমার ভাউচার, পোস্ট-ইট পেপার, হাতে লেখা নোট, দরকারী কাগজ, দোকানের বিলের মতো আরো কতো কি! মেডিক্যাল রেকর্ড? ব্যাংক স্টেটমেন্ট? ব্যক্তিগত ছবি তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাজারো কথা বলছি স্কাইপে। বন্ধুদের সাথে। যারা ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন টাইমজোনে। ইমেইলের পাশাপাশি ‘ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জারে’ রয়েছে হাজারো কথা। সবকিছুই যাচ্ছে পছন্দের ‘ক্লাউড’ সার্ভিসে। ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে অনেককিছুর পাসওয়ার্ড ইদানিং থাকে ‘ক্লাউডে’।

০৯.

আপনি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনার ইমেইল অন্য কেউ পড়ছে কি না? আপনার ফোন দিয়ে ‘থ্রেট’ কল গিয়েছে কখনো? ‘ভয়েস সিন্থেসিস’ করে দেখা গেলো গলা আপনার! আপনার কম্পিউটারের দরকারী ফাইলটা আরেকজন পড়ে চুপটি করে রেখে দিয়েছে কি না? আপনার উইনডোজের ‘ক্রিটিক্যাল’ সিষ্টেম ফাইল পাল্টে যায়নি যে তার গ্যারান্টি কি? বছর খানেক ধরে আপনার কম্পিউটারে যা কিছু টাইপ করেছেন সেটার ‘কী-লগার’ ফাইল যাচ্ছে কোথায় – জানেন আপনি? আপনার ল্যাপটপের ‘মাইক্রোফোন’ আর ‘ওয়েবক্যাম’ আপনার অজান্তে চালু থাকে কি না? আপনার ফোনের ক্যামেরা দুটো আর মাইক্রোফোন? ইন্টারনেট হচ্ছে ওধরনের একটা ‘গ্লোবাল দেশ’ যেখানে ‘কেউ’ চাইলে নজরদারী করতে পারে আপনার প্রতিটা মুহূর্ত। যাচ্ছেন কোথায়, কি বলছেন, কি করছেন। সব।

হতাশ?

১০.

‘এভরি ক্লাউড হ্যাজ আ সিলভার লাইনিং’! আছে সুখবর। এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ যেভাবে অন্যের পড়ার অযোগ্য করে দিতে পারে আপনার ফাইলকে, সেভাবে ‘নিশ্চিত’ করতে পারে আপনার ‘অনলাইন’ পরিচয়। মানে ‘থ্রেট’ ইমেইলটা করেননি আপনি। ভয়েস সিন্থেসিসে ‘সিগনেচার’ মিলেনি আপনার। কম্পিউটারের হাজারো ফাইলের (সিষ্টেম ফাইলসহ) যেকোন একটা পাল্টালে আগে জানবেন আপনি। আপনার প্রতিটা ডকুমেন্টকে রাখবে যথেষ্ট নিরাপত্তার সাথে। হাতের শক্তিশালী কম্পিউটার মানে স্মার্টফোনটা হাতছাড়া হওয়া মাত্র ‘মুছে’ যাবে সমস্ত ডাটা। অবশ্যই, আপনি চাইলে। ‘এনক্রিপ্ট’ করা থাকলে খুলতেও পারবে না – কি আছে ফোনে। খুশি তো? আপনি না জানলেও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার খাতিরে অপারেটিং সিষ্টেম কোম্পানীগুলো নিজে থেকে উইনডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, ‘আইওএস’এর সাথে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করছে আগে থেকেই। তবে সেটার অনেকাংশ নির্ভর করে ব্যবহারকারীদের ওপর। আপনি কম্বিনেশন লক কিনলেন ঠিকই, তবে সেটা রাখলেন ‘ফ্যাক্টরি ডিফল্ট’ ০০০০। হবে কি কাজ? তালা দিয়ে দিয়েছে কোম্পানী, আপনি না লাগালে ওদের দোষ দিয়ে লাভ হবে কি? আর তারা তো দেবে বেসিক টূল, সেটা তো করবে না সব কাজ।

১১.

আমরা মানে ‘মর্টাল’রা ‘এনক্রিপশন’ আর ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ শব্দগুলোকে যে যেভাবে পারি – ব্যবহার করি। হাজার হোক, ফ্রী কানট্রি! কার ঘাড়ে দুটো মাথা আছে আপনার সাথে তর্ক করার? দুটোর ব্যাপারটা আলাদা হলেও এটাকে সঙ্গায়িত করা যেতে পারে ব্যকরণ দিয়ে। আবার জুলিয়াস সিজার যেটা ব্যবহার করতেন সেটাকে আমরা বলতাম জুলিয়াস ‘সাইফার’। তাহলে শব্দ এসে দাড়ালো তিনটাতে। ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ হচ্ছে ওই বিজ্ঞান যেটা আলোচনা করে ‘গোপন’ যোগাযোগ নিয়ে। এটা বিশেষ্য পদ। মানে নাম পদ। আমরা যদি ‘রুট’ওয়ার্ডে যাই, এটা হবে দুটো শব্দ। ‘ক্রিপ্টো’ আর ‘গ্রাফী’। ‘ক্রিপ্টো’ হচ্ছে গুপ্তকথা অথবা লুকানো কথা। আর ‘গ্রাফী’টা হচ্ছে ওই যোগাযোগটাকে লুকানোর একটা পদ্ধতি। মানে যেভাবে ওই গুপ্তকথাকে লুকিয়ে আরেকজনের কাছে পাঠানো হয় সেই বিজ্ঞানটাই আমাদের গল্প। আর ‘ক্রিপ্ট’ করাকে বলা হচ্ছে ‘এনক্রিপশন’। ‘এন’ মানে হচ্ছে ‘টু মেক’। তৈরি করা। তথ্যকে অন্যের জন্য ‘হিব্রু’ বানিয়ে ফেলা। নতুন গল্প দিচ্ছি না তো আবার? এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড?

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: