Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘এন্টি-ট্রাস্ট’

Public servants say, always with the best of intentions, “What greater service we could render if only we had a little more money and a little more power.” But the truth is that outside of its legitimate function, government does nothing as well or as economically as the private sector.

– Ronald Reagan

৫৩৯.

ফিরে আসি মূল প্রশ্নে, বাইরের কোম্পানি বা মানুষটা পয়সা ফেলবে কেন এই দেশে? মনে আছে ওই তিনটা রিপোর্টের কথা? যেই কোম্পানিটা পয়সা ফেলবে সেটাতো চালায় আপনার আমার মতোই মানুষ। পয়সা আমার হলে কি করতাম – এই আমি নিজে? ভালো জায়গা বের করতাম খুঁজে। ইনভেস্টমেন্টের জন্য। ঝামেলা ছাড়া লাভ চাইতাম আমি। মূল টাকার ওপরে। খুঁজতাম এমন একটা দেশ যার – ক. অর্থনীতিটা তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী, খ. জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ট্রেন্ড সুবিধার দিকে, গ. ইনফ্রাস্ট্রাকচার মানে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে ভালোভাবে, ঘ. মুদ্রাস্ফীতি কম, ঙ. ওই দেশের টাকার রিস্ক ফ্যাক্টর আছে কিনা, চ. বাইরের মুদ্রার এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল আছে কিনা?

৫৪০.

লিস্ট মনে হচ্ছে ছোট – তাই না? আসলে লিস্টি কিন্তু অনেক বড়। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিশালভাবে প্রভাবিত করে এই টাকাওয়ালাদের। ক. দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমার ব্যবসায়ের সাথে যায় কিনা, খ. সরকারের ‘বিজনেস ফিলোসফি’ মানে ব্যবসায়িক দর্শন আছে কিনা , গ. থাকলে তার ট্র্যাক রেকর্ড কেমন? শেষ গল্প হচ্ছে প্রনোদনা নিয়ে। ইনসেনটিভ কে না চায়? ক. করারোপনের মাত্রা কেমন? খ. ট্যাক্স ইনসেনটিভ আছে কিনা? গ. ওই দেশে সম্পত্তি কিনলে তার অধিকারের মাত্রাটা জানতে চাইতে পারি আমি। সবশেষে, মানুষের শিক্ষার হার, জনবলের দক্ষতা, অন্যান্য ব্যবসার সুযোগ আছে কিনা, আবার – ওই ব্যবসায় লোকাল কম্পিটিশন কেমন ইত্যাদি না জানলে বিপদে পড়বে টাকাওয়ালা।

৫৪১.

ভালো কথা – এ ব্যাপারগুলো খাটবে সব ব্যবসায়। টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় গল্প কিন্তু আরো ভেতরে। ধরে নিন আপনি এসেছেন বাইরের কোন একটা দেশ থেকে। করতে চান টেলিযোগাযোগ ব্যবসা। বাংলাদেশে। পয়সা ঢালার আগে আপনার চেকলিস্টে কি কি থাকতে পারে – বলবেন কি আমাদের? একটা মোবাইল কোম্পানি খুললে তার লাইসেন্সের সময়সীমা হচ্ছে পনেরো বছর। আপনি যদি জানেন সময়সীমাটা, তাহলে বিজনেস প্ল্যান করতে সুবিধা হবে আপনার। আর তার সাথে ‘রেগুলেটরি সার্টেনিটি’ মানে লাইসেন্সের ‘ক্লজ’ মানে ধারাগুলো যদি পাল্টে যায় মাঝে মধ্যে – তাহলে ভয় পাবেন আপনি।

৫৪২.

বড় বড় কোম্পানিগুলো মোবাইল লাইসেন্স পনেরো বছরের জন্য নিলেও তারা জানে ভালো করে – তাদের চুক্তিনামা বাড়বে তিরিশ, পয়তাল্লিশ বছর করে। একটা কোম্পানি খুব বড় অপরাধ না করলে বাতিল হয়না তার লাইসেন্স। অনেককিছু জড়িত থাকে এর মধ্যে। ইনভেস্টমেন্ট, কার্যক্ষেত্র তৈরী হয়ে গেছে এর মধ্যে। ধরে নিলাম আপনার মোবাইল কোম্পানির বিজনেস প্ল্যান করলেন তিরিশ বছর ধরে। প্রথম দিকে ইনফ্রাস্ট্রাকচারে প্রচুর ইনভেস্টমেন্ট দরকার পড়ে বলে আপনার কোম্পানির ব্রেক-ইভেনে পৌছাতে লাগলো না হয় লাগলো সাত বছর। মানে, আসল লাভ করা শুরু করলেন ওই সময়ের পর থেকে। আপনি লাইসেন্সের সময়সীমা নিয়ে নিশ্চিত থাকলে আপনার প্রোডাক্টের দামও হবে ওই সময়সীমার সাথে মিল রেখে। পনেরো হলে এক দাম – পয়তাল্লিশ হলে আরেক দাম! হিসেব সোজা।

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

When I give food to the poor, they call me a saint. When I ask why the poor have no food, they call me a communist.

– Dom Helda Camara

৫৩৪.

আজকাল সবকিছু ডিজিটাল হওয়াতে ভয়েস ভিত্তিক সার্ভিসের পাশাপাশি সবধরনের সার্ভিস দিতে পারছে বড় বড় কোম্পানিগুলো। সেক্টর স্পেসিফিক রেগুলেটর পড়ে তখন বেকায়দায়। এক মোবাইল কোম্পানি যদি মোবাইল টিভি, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, লটারি আর ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সার্ভিস দেয় – তাহলে সে একাই বাংলাদেশ ব্যাংক, তথ্য মন্ত্রনালয়, বিটিআরসি আর এনবিআরের আওতায় যাচ্ছে পড়ে। ‘একাউন্টিং সেপারেশন’ না থাকলে বুঝবেন কিভাবে ও অপব্যবহার করছে না ওর ক্ষমতা? চার রেগুলেটরের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এটা বোঝা সম্ভব নয়। আবার, সমন্বয়হীনতা সবচেয়ে কষ্ট দেয় কোম্পানিগুলোকে।

৫৩৫.

‘একাউন্টিং সেপারেশন’ নিয়ে কাজ হয়েছে হাজারো রেগুলেটরি এজেন্সীতে। টেলিকম হচ্ছে একটা ছোট অংশ। ধরা যাক মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নিয়ে খুব ভালো করছে একটা কোম্পানি। সেটার লাভ দিয়ে যদি মোবাইল টিভি সার্ভিসটাতে দাম কমিয়ে দিলে বিপদে পড়বে অন্যরা। সেটার ‘প্রটেকশন’ দেবে রেগুলেটর। কীওয়ার্ড, একাউন্টিং সেপারেশন। আবার, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের কাঁচামাল হচ্ছে ‘ইউএসএসডি’। নিজের কোম্পানির জন্য ওই সার্ভিসটা নিতে গেলে যে দাম নেয়া হবে – একই দাম (টার্মস এন্ড কন্ডিশন) দিতে হবে প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোকে। সিঙ্গাপুরের রেগুলেটরের এই গাইডলাইনটা ধরে শুরু করেছিলাম আমার কাজ। ‘হোয়াই রিইনভেন্টিং দ্য হুইল?’ দুহাজার চারের রিভিশন হলেও চমকে দেবে আপনাকে। সার্ভিস দেবার ক্ষেত্রে নিজের ডাউনস্ট্রিম অপারেশন মানে নিজস্ব সার্ভিস প্রোভাইডার আর তার প্রতিযোগী কোম্পানির টার্মস/কন্ডিশন এক না হলে খবর আছে ওই অপারেটরের।

৫৩৬.

বাজার ভাগ করা হয়েছে কি আগে? ক্রস-ফান্কশোনাল ব্যাপারগুলোতে এজন্যই চলে আসছে ‘বিশেষায়িত’ কম্পিটিশন এজেন্সীর কাজ। না থাকলে দেখবে সেটা রেগুলেটর। দাম না কমে যাবে কোথায়? একারণে রেগুলেটরে অর্থনীতিবিদ রাখার কথা বলেছিলেন আমার পরিচিত কনসালটেন্ট। আগে ভাবতাম বড় কোম্পানি – পয়সা বেশি, সেতো বাজার দখল করবেই। সাত বছরে ধারণাটা পাল্টেছে অনেক। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে যেটা ‘এন্টি-ট্রাস্ট’ সেটা অন্য সব জায়গায় ‘এন্টি-কম্পিটিটিভ’ ব্যবহার। বড়জন ছোটদের বাজারে প্রবেশাধিকারে বাধা বা বাজার এক্সপ্যানশনে সমস্যা তৈরী না করে সেটা দেখবে রেগুলেটর। আমরা ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্টে’ তো নেই আর!

৫৩৭.

ইন্টারনেটের দাম কমাবে কে? ঠিক বলেছেন। ইন্টারনেট সার্ভিস দিচ্ছেন যারা। আমাদের দেশে ফিক্সড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওই পরিমান তৈরী না হওয়াতে বিশাল ভাবে তাকিয়ে থাকতে হয় মোবাইল আর ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অপারেটরদের ওপর। সেক্টরটা মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার কারণে এর ইনভেস্টমেন্ট সাইকেল অস্বাভাবিক ভাবে বেশী। মানুষের হাতে আলাদিনের চেরাগের মতো মোবাইল থাকায় সব সার্ভিস দেয়া যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। হাজারো সার্ভিস এক পোর্টালে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী, স্পেকট্রাম কিনতে প্রয়োজন অনেক টাকার।

৫৩৮.

অনেক সময় এতো টাকা তোলা যায় না দেশের ভেতর থেকে। আমাদের মতো দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে যে ক্যাপিটাল দরকার সেটার জন্য অনেক সময় তাকাতে হয় বাইরের ইনভেস্টরদের দিকে। টাকাটা আসে দু ভাবে। মোবাইল সেক্টরটা ধরি উদাহরণ হিসেবে। বাইরের কেউ যদি টাকা দিয়ে মোবাইল কোম্পানিটাকে কেনে তাহলে সেটা আসবে ‘ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’ মানে এফডিআই হিসেবে। তবে কেউ কোম্পানিটাকে না কিনে তার ফিনান্সিয়াল অ্যাসেট মানে শেয়ার কেনে – সেটা ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টে পড়ে। এর নাম হচ্ছে এফপিআই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

It is sometimes implied that the aim of regulation in the radio industry should be to minimize interference. But this would be wrong. The aim should be to maximize output. All property rights interfere with the ability of people to use resources. What has to be insured is that the gain from interference more than offsets the harm it produces. There is no reason to suppose that the optimum situation is one in which there is no interference.

– Ronald Coase, “The Federal Communications Commission,” Journal of Law and Economics, Vol. 2 (1959)

৪৯৩.

ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে আর গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা করতে সরকার তৈরী করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ এজেন্সী। বাজারে প্রতিযোগিতাকে চাঙ্গা করার জন্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন নিয়ে আসে অনেকগুলো বিধিমালা। প্রথম ধাক্কায় প্রাইভেটাইজেশনের প্রসিডিউরে ফেলে দেয় সরকারী টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে। ব্যবস্যাবান্ধব পরিবেশ আনার জন্য বুদ্ধিমান ‘এনলাইটেনড’ দেশগুলো তাদের ওই বড় বড় কোম্পানীগুলোকে এমন ভাবে টুকরা টুকরা করে দিল যাতে ছোট ছোট নতুন প্রাইভেট কোম্পানীগুলো প্রতিযোগিতায় তাদের সাথে পেরে উঠতে পারে। পরে কিছু পয়সাপাতি হলে সরকারী কোম্পানিকে কিনতে পারে তারা। ‘মার্জার আর একুইজিশন’ নামের গল্পগুলো শিখলাম ওদের কাছ থেকে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের এটিএন্ডটির কথাই ধরুন না। আমাদের বিটিটিবির মতো একটা সরকারী কোম্পানি ছিলো ওটা। ও এত বড় যে ছোট ছোট প্রাইভেট কোম্পানি পাত্তাই পাচ্ছিলো না ওর কাছে। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করে দিলো ওদের বিরুদ্ধে।

৪৯৪.

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, লোকাল আর লঙ-ডিসটেন্স কলের মধ্যে কিছুটা দক্ষতা আনার জন্যই এ ব্যবস্থা। কলের দাম কেমন হবে সেটা নিয়েও চলছিলো সমস্যা। দক্ষতার সাথে কোম্পানিটা চলছে কিনা সেটাও ছিলো ভাববার বিষয়। আর যার হোক টাকাতো যাচ্ছে সরকারের। জনগনের টাকায় চলছে কোম্পানিগুলো। যতই কোম্পানি হোক সরকারের, মাফ নেই অদক্ষতার। বিশালকার এটিএন্ডটিকেও ভেঙ্গে ফেলা হলো আট ভাগে। উনিশশো বিরাশির ঘটনা। একটা লঙ-ডিসটেন্স কোম্পানি, আমাদের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ)র মতো – আর তার সাথে সাত সাতটা লোকাল ফোন কোম্পানি। ছোট হওয়াতে খরচপাতি স্বচ্ছ হয়ে এলো অনেকখানি। বন্ধ হয়ে গেলো ক্রস-সাবসিডাইজেশন। ব্যবস্যা কর, ভালো কথা। আলাদা আলাদা লাইসেন্স নাও অন্যদের মতো। অন্যায় আবদার করো না সরকারের কাছে। অন্য একটা বেসরকারী কোম্পানি আর তোমার মধ্যে পার্থক্য নেই কোন।

৪৯৫.

গুগল করে দেখতে পারেন ‘মা বেল’ আর ‘বেবি বেল’গুলো নিয়ে। হাজারো গল্প। এর পরেও সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে নতুন কোম্পানীগুলোর আন্তঃসংযোগ পাওয়া খুবই দূরহ ছিল। মানে, একজন আরেকজনের কল নিতে চাইতো না। ওই সময়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বড় কাজ ছিল বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করা। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে যেয়ে সবচেয়ে প্রথমে রাশ টানলো সরকারী ‘লোকাল বেবি বেল’ কোম্পানীগুলোর। প্রতিযোগীতামূলক ব্যবস্থার বিভিন্ন ইনডিকেটর থেকে তারা অনেকগুলো ‘এন্টি-ট্রাস্ট’ নীতিমালা তৈরি করলো যা ছোট ছোট কোম্পানীকে তাদের প্রয়োজন মত সার্ভিস দেবার ব্যাপারে অনেক সুবিধা করে দিলো। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বেল সিস্টেম্সকে ছোট ছোট টুকরো করার ফলে অন্যান্য ছোট ছোট কোম্পানীগুলো কাজ করার সুযোগ পেলো। পাশাপাশি। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নতুন কোম্পানীগুলো বেল্ সিস্টেমসের ইনফ্রাকটাকচার ব্যবহার করার সুযোগ নিলো সুলভমূল্যে। আন্ত:সংযোগ না দিয়ে যাবে কোথায় সরকারী কোম্পানি? গুগল করুন ‘ন্যাচারাল মনোপলি’ আর ‘আনবান্ডলিং।’

৪৯৬.

আচ্ছা, দেশটা কার? জনগনের। গ্রাহকস্বার্থ দেখবে কে? ‘জনগনের মনোনীত রেগুলেটরি এজেন্সি।’ আপনার জবাব। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাইটে যাই মাঝে মধ্যে। ধারণা নিতে। ‘প্রটেক্টিং আমেরিকা’স কনজিউমারস’ ট্যাগলাইন নিয়ে চলছে শত বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটা। অস্ট্রেলিয়ার কম্পিটিশন আর কনজিউমার কমিশনের সাইটের গেলে মাথা খারাপ হবে আপনার। কি নেই ওখানে? প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে – তুমি কি জানো তোমার কনজিউমার রাইট?

জনগনের ক্ষমতায়ন করে কিন্তু সরকারই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Vigilant and effective antitrust enforcement today is preferable to the heavy hand of government regulation of the Internet tomorrow.

– Orrin Hatch

৪৯০.

মনে আছে মাইক্রোসফট আর অন্য ব্রাউজার কোম্পানিগুলোর আইনি যুদ্ধের কথা? অপারেটিং সিস্টেম বানায় মাইক্রোসফট। সাথে দিচ্ছিলো তাদের নিজস্ব ব্রাউজার। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। সমস্যা কি? দিচ্ছিলো তো ফ্রি! লাভ তো জনগনের। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করলো মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে। স্বত:প্রণোদিত হয়েই। মনোপলিস্টিক অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে সে। গ্রাহকদের বাধ্য করছে নিজের জিনিসে আটকে রাখতে। কোম্পানিগুলো যারা শুধু ব্রাউজার বানায় – কি হবে তাদের? বিশাল আইনি যুদ্ধ চললো বছর খানিক ধরে। জাজমেন্ট এলো – ভেঙ্গে ফেল মাইক্রোসফটকে। অপারেটিং সিস্টেম বানাবে এক কোম্পানি। ব্রাউজারের মতো অন্য সফটওয়্যার বানাবে আরেকটা। কোর্টে ফেরৎ গেলো মাইক্রোসফট। বিশাল আন্ডারটেকিং দিতে হলো তাকে। যতোই বড় হোক না কেন, অন্যের ব্যবস্যা নষ্ট করতে পারে না সে। এটা তো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নেই আর!

৪৯১.

ব্যাপারটা কিছুটা এমন। জুতার কোম্পানি আমার। আবার মোজাও বানাই। বললাম – জুতা কিনলে আমার মোজা ফ্রি। হরহামেশাই হচ্ছে তো। কি সমস্যা, বলুন তো? সমস্যা অন্য জায়গায়। ভেবেছেন কি অন্যান্য জুতা বা মোজার কোম্পানিগুলোর সমস্যার কথা? সব জুতার দোকান তো বানায় না মোজা। বা মোজার কোম্পানি জুতা? পয়সা আছে বলে পেটে লাথি মারতে পারেন না আরেকটা কোম্পানির। ব্যবস্যা করতে মানা করছে না কেউ। খুলুন নতুন কোম্পানি। মেনে চলুন ‘একাউন্টিং সেপারেশন’ নীতিমালা। একটার লাভ নিয়ে ঢোকানো যাবে না আরেকটাতে। তারপর বানান মোজা। কিচ্ছু বলবে না কেউ।

৪৯২.

সরকারের কোম্পানীগুলো এধরনের কিছু বাড়তি সুবিধা নেয় তাদের সেবার ওপরে। বিশেষ করে তাদের প্রতিযোগীদের থেকে। বড় কোম্পানী হওয়াতে একাই অনেক সেবা দেবার কারণে প্রতিটা জিনিসের সন্মিলিত খরচ পড়ে অন্যের চেয়ে অনেক কম। এটাকে বলা হয় ক্রস-সাবসিডাইজেশন। যে কোম্পানি ব্যবস্যা করে চালের, সেতো পারবে না ওই কোম্পানির সাথে যে একাধারে ব্যবস্যা করছে চাল, ডাল, আটা আর চিনির। এখানে রেগুলেটরকে দেখতে হয় কোম্পানিটা তার উত্পাদন খরচ থেকে কমে বিক্রি করছে কিনা। এখানে সরকারী কোম্পানীগুলোই যে মনোপলিস্টিক পরিবেশ তৈরি করে সেটাও সত্য বলা যাবে না। অনেক সময় এক কোম্পানীর মার্কেট শেয়ার বাকী সব কোম্পানীর সম্মিলিত মার্কেট শেয়ার যোগফলের বেশি হলে সেই বেসরকারী কোম্পানীটাও তৈরি করে একটি মনোপলিস্টিক পরিবেশ। ফলে আগের মতো ওই বড় কোম্পানীর প্রোডাকশন কস্ট ছোট কোম্পানীগুলোর থেকে অনেক কম হওয়ায় ওই প্রোডাক্ট বাজারে একটি অসম প্রতিযোগীতা তৈরী করে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: