Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘এসএমপি’

Tagline: There’s so much to do in Bangladesh!

০১.

সেদিন দেখলাম নতুন একটা ব্যবসায়িক ফোরাম। নাম হচ্ছে “বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন”। ভালো উদ্যোগ। আরো আগে আসতে পারতো ব্যাপারটা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “ফেয়ার ট্রেড কমিশন” (এফটিসি) ঠিক এই কাজটাই করে সুস্থ প্রতিযোগিতার স্বার্থে। এফটিসিতে কমপ্লেইন মানে খবর আছে ওই কোম্পানি অথবা কোম্পানিগুলোর “সিন্ডিকেটের”। কোন কোম্পানির জিনিস কিনে প্রতারিত হয়েছেন? সেটাও আদায় করে দেবে কমপ্লেইন করলেই। তারপর তো জরিমানা আছেই। গ্রাহক স্বার্থ থেকে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সবকিছুর খবর রাখে এই এফটিসি। ঘুরে আসতে পারেন ওদের সাইট থেকে। এইমাত্র দেখলাম ফোনে “ডু নট ডিস্টার্ব” নামে একটা বড় ট্যাবই রেখেছে গ্রাহকদের অচেনা কল থেকে রক্ষা করতে।

০২.

অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন (এ ট্রিপল সি) তো আরেক জিনিস। যেকোন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন সাথে সাথে। গ্রাহক পর্যায়ে ফোনের প্রতি মিনিট বিল আসলে কতো হওয়া উচিৎ সেটার “কস্ট মডেলিং” করে থাকে এই কমিশন। নিয়মিত ভাবে। টেলিকম রেগুলেটর না হয়েও। তাদের কথা একটাই। কোন একটা কোম্পানির ভেতরের অদক্ষতা অথবা কিছু কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে গ্রাহক কেন গুনবে বেশি পয়সা? তাহলে ট্যাক্স দেয়াই বা কেন? একটা দক্ষ কোম্পানি হলে ফোনের ‘আন্তসংযোগ’ বিল কতো হতো সেটাই বের করে ওই এক্সারসাইজ।

০৩.

অস্ট্রেলিয়া বিশাল দেশ। সেখানের বেশিরভাগ জায়গা খালি। মানে, মানুষ থাকে দুরে দুরে। এমন দেশে মোবাইল ব্যবসা ভয়ংকর কষ্টসাধ্য। যে হাইওয়ে দিয়ে দিনে একটা দুটো মানুষ চলে – সেখানে মোবাইল কাভারেজ দেয়া ব্যবসাবান্ধব নয়। দিতে হয় তবুও। সেখানে ‘ফ্লাগফল’ নিয়ে কম ঝামেলা হয়নি প্রথমে। মোবাইলে ‘ফ্লাগফল’ হচ্ছে প্রথম মিনিটের চার্জ বাকি মিনিট থেকে বেশি। বাংলাদেশেও ছিলো জিনিসটা। সমাধান করা হয়েছে মিনিট ‘পালস’ সহ। মানে, কথা বলেছেন এক মিনিট ১ সেকেন্ড, দাম নিয়ে নিলো ২ মিনিটের। এছাড়া, বাংলাদেশে কোথায় মানুষ নেই? বরং একেকটা বেসস্টেশন ইনভেস্টমেন্টে ক্যাপাসিটির সমস্যা। সংযোগ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না যন্ত্র। এতোই মানুষ আমাদের এখানে! ওটা আরেকদিন!

০৪.

ওঁদের ধারণাটা নিয়ে ২০১১তে প্রায় দেড় বছর ধরে করা হয়েছিলো এই “কস্ট মডেলিং এক্সারসাইজ”। বাড়ি টাড়ি খেয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম কয়েকবার। তবে, সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন সংস্থার প্রয়াত চেয়ারম্যান। সবার সহায়তা নিয়েই ওই এক্সারসাইজে ফোনের বিল কমেছিল প্রায় ৩০%। আমার হিসেবে ওই প্রজেকশনে প্রতি মিনিটের দাম কমতে পারে আরো ২০%। নিজস্ব অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে ১৮ পয়সা + আইসিএক্স ৪ পয়সা = “২২+নিজের লাভ” পয়সা থেকেই শুরু হতে পারে একটা কল। নিজের নেটওয়ার্কে কল শুরু হতে পারে ০ পয়সা দিয়ে। বান্ডল অফারে। (পরে দেখুন হিসেবটা) পাশের দেশে ভয়েস কল হয়ে যাচ্ছে বিনামূল্য আইটেমে। মানেন না মানেন, এটাই ভবিষ্যত মডেল। ‘রিলায়েন্স জিও’ নিয়ে গুগল করলেই বুঝতে পারবেন কি ঘটনা হচ্ছে ওখানে।

০৫.

বাজারে ঠিক প্রতিযোগিতা আছে কিনা সেটার জন্য টেলিকম রেগুলেটরকে কাজ করতে হয় একটা ইনডেক্সের ওপর। এটাকে বলে “হারফিন্ডেল ইনডেক্স” (এইচএইচআই)। জিনিসটার একটা নাম আছে বিশ্বব্যাপী। সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি)। সাংবাদিক বন্ধুরা বলতে পারবেন ভালো। এই নীতিমালাটাও করা হয়েছে বাংলাদেশে। আমার সাত বছর রেগুলেটরে থাকার সময়ে। তবে প্রয়োগে প্রয়োজন প্রজ্ঞা। তা না হলে বাজারে বড়রা বড়ই হবেন আরো ছোটরা ছোটতর। গুগল করে দেখুন। এটা আছে অনেক অনেক দেশে। নাইজেরিয়াতে গিয়েছিলাম অনেক আগে – দেখলাম ওরাও জানে সবই।

০৬.

এইচএইচআই ছাড়াও ‘ওই স্পেসিফিক বাজারের স্ট্রাকচার’ আর ‘ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ ইনডেক্স দেখলে পরিস্কার হবে অনেক কিছু। নতুনকে যদি অন্য কোন অপারেটরের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, সেটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ মানে ব্যবসার শুরুতে কানেকশন চেয়ে না পাওয়া। তাহলে তো মোবাইল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (এমভিএনও) অপারেটর চলবে না এদেশে। সব দেশেই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রোভাইডারদের নির্ভর করতে হয় মোবাইল অপারেটরদের ইন্টার-কানেকশনের ওপর। সেটার জন্য ওই ক্রিটিকাল ইন্টার-কানেকশন হতে হবে ‘কস্ট বেসড’। মুনাফা নয় ওই জায়গায়। দাম ঠিক করে দেবে রেগুলেটর। যেভাবে ঠিক করে দেয়া হয় সাবমেরিন কেবলের ইন্টারনেটের দাম। কারণ, ওই সাবমেরিন কেবলের বিকল্প নেই আর। এগুলো ‘বটলনেক’ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। যে সেবার বিকল্প নেই, সেগুলোর রেগুলেশনে এগিয়ে আসতে হবে ওই মার্কেটের রেগুলেটর অথবা কম্পিটিশন এজেন্সীকে। হিসেব সোজা।

০৭.

ঠিক সেভাবেই নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় ভয়েস কলের ইন্টার-কানেকশনের দাম। যেটা ঠিক করা হয়েছিল ১৮ পয়সায়। শেষটা করা হয়েছিল ২০১৩তে। এটার অর্থ হচ্ছে মোবাইল, ল্যান্ডলাইন অপারেটররা একে অপরকে কল পাঠাতে হলে অন্যজনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে গতি নেই কারো। সেজন্য এটাও একটা ‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’। সেটার দাম বেঁধে দেবে রেগুলেটর। হিসেব করে। ০১৭ থেকে ০১৮য়ে কল পাঠাতে গ্রামীন রবিকে দেবে ১৮ পয়সা। ৪ পয়সা দেবে মাঝের ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স)কে। ২২ পয়সা দিয়ে বাকিটা নিজের লাভ।

০৮.

কোন একটা স্পেসিফিক বাজারে (মোবাইল বাজার, ইন্টারনেট বাজার, হোলসেল, রিটেল বাজার) যার মার্কেট শেয়ার অনেক অনেক বেশি, সেটা ক্ষতি করে প্রতিযোগিতাকে। অন্যরা বাজারে পরে আসলে তারা পায়না পানি। উদাহরণ দেই বরং। আমাকে একটা রেগুলেটরি প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছিল থাইল্যান্ডে। প্রশিক্ষণ শেষে হাতে কলমে দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হলো ওদের টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে তাদের নিয়ম পরিষ্কার। আসলেই তাই।

০৯.

ওদের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেটরের (হোক সে মোবাইল অথবা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার), মার্কেট শেয়ার ২৫% ওপরে গেলেই তাকে বলা হবে “সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার” (এসএমপি)। তখন তার ওপর বর্তাবে আলাদা নিয়ম। ‘অ্যাকাউন্টিং সেপারেশন’ করে দেবে সার্ভিসগুলোর। মানে, একটার লাভ দিয়ে অন্যটাকে ক্রস-সাবসিডি দিয়ে চালাতে পারবে না ওই অপারেটর। নতুন কোন অফার নামাতে জানাতে হবে রেগুলেটরকে। নেটওয়ার্ককে খুলে দিতে হবে ‘ওপেন অ্যাক্সেস’ মডেলে। যাতে সবাই একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে ‘রাইড’ নিতে পারে ওই নেটওয়ার্কে। বান্ডলিং, মানে এটা নিলে ওইটা ফ্রি – দিতে পারবে না সে। তার ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং’ মানে ব্যবহার করতে দিতে হবে অন্য প্রতিযোগী অপারেটরদের। একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে। ওটা জানবে রেগুলেটর। সেটা শিখেছিলাম আরেকটা গুরূ দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর। ওদের টেলিকম রেগুলেটর থেকে। পাগল করা কোর্স ছিলো ওটা। এমনই রেগুলেটর যে নিজেদের নাম পাল্টে রেখেছে “ইনফোকম ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি” নামে।

১০.

এসএমপি অপারেটরদের ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’ একেবারে না না। অর্থাৎ মনে হলো যে দাম অফার করলে বাজার থেকে নাই হয়ে যাবে প্রতিযোগীরা, সেটা করলে রেগুলেটরের খড়গ নেমে আসবে তার ওপর। ২০১২ সাল থেকে থাইল্যান্ডের ‘এআইএস’ আর ‘ডিট্যাক’ রেগুলেটর ঘোষিত ‘এসএমপি’ অপারেটর। অন্য অনেক অবলিগেশনের মধ্যে তাদেরকে ফেলা হয়েছে ‘মোবাইল ভয়েস প্রাইস রেগুলেশনে’। ফলে তাদের প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে দেয়া আছে ০.৯৯ বাথে। আবার যারা যারা থ্রিজি লাইসেন্স পেয়েছে (মানে যারা ২.১ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পেয়েছে) তাদেরকে বাজারের গড় দাম থেকে ১৫% কমিয়ে রাখতে বলেছে রেগুলেটর। ওখানে আরেকটা জিনিস কাজ করে ভালো। ইনসেনটিভ রেগুলেশন। অপারেটর মুনাফা বাড়াতে পারে দক্ষতা দেখিয়ে। দক্ষতা মানে দেখাতে হবে নিজেদের ‘এফিসিয়েন্সি’। মানে কম ইনভেস্টমেন্টে বেশি সুবিধা। ফলে, গ্রাহককে গুনতে হবে কম পয়সা।

১১.

বাজারে প্রতিযোগিতার সুস্থ পরিবেশ না থাকলে অনেকগুলো জিনিস হয়। নষ্ট হয় অপারেটরদের ইনভেস্টমেন্ট। মারা যায় অনেকে। মার্জার অ্যাকুইজেশন হয় তখন। এতে অনেকে বলবেন, ‘সারভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট’। ব্যাপারটা তা না। এটাতো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নয়। নীতিমালা আছে এখানে। তবে প্রতিযোগিতা সুস্থ না হলে বাজারে বার বার টাকা হারিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে ইনভেস্টররা। চলে যাবে বাইরে। যেমনটি দেখেছি ওই চেয়ারে বসে। টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। যে যাই বলুক, উদ্যোক্তারাই কিন্তু চালায় দেশের অর্থনীতি। হোক সেটা দেশীয় অথবা বৈদেশিক বিনিয়োগ। দশটা পরিবারের চল্লিশটা মুখের খাবারের যোগান দেয় এই উদ্যোক্তা।

১২.

উদাহরন দেই বরং। আমাদের উপমহাদেশের একটা দেশ ‘ক’। কাকতালীয়ভাবে মিল হলে সেটা হবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে। পুরো মোবাইল বাজার নিয়ে আছে ওখানের ছয়টা অপারেটর। পুরো রেভিনিউ মার্কেটের ৫০% এর কিছুটা বেশি মার্কেট শেয়ার দখল করে আছে প্রথম অপারেটর। মানে হচ্ছে – পুরো মোবাইল মার্কেট থেকে ১০০ টাকা আসলে সেটার ৫২ টাকা পায় ওই অপারেটর। বাকি ৪৮ টাকা মিলে মিশে পায় পাঁচ অপারেটর। বুঝতেই পারছেন প্রতিযোগিতার অবস্থা। ওই সময় একটা হিসেব করলো রেগুলেটর। বিদেশী কনসালটেন্ট নিয়ে। দেখা গেলো এই মোবাইল বাজারে ৩৫-৪০% হতে পারে নিচের ‘থ্রেসহোল্ড’ – মার্কেট শেয়ারে। মানে, ৩৫ থেকে ৪০% মার্কেট শেয়ার (যেটা রেগুলেটর মনে করে ভালো) হলেই সে হবে ‘এসএমপি’। এরকম ভাবে হোলসেল বাজারে ট্রান্সমিশন লাইসেন্সেও আসতে পারে এধরনের শতাংশের বেস লাইন।

১৩.

আমাদের প্রতিযোগিতা কমিশন নেই – সেটা নয় কিন্তু। আছে। আবার দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্ট দুটোকে পরস্পর সাংঘর্ষিক করে দেখার সুযোগ কম। সেটার জন্য আমাদের দেখতে হবে বিশ্বখ্যাত “ডুইং বিজনেস” ইনডেক্সে কোথায় আমরা? কতোটা ব্যবসাবান্ধব আমরা? একটা ট্রেড লাইসেন্স অথবা একটা টেলিকম ব্যবসা খুলতে সময় লাগে কতো দিন? সরকার থেকে একটা ‘পারমিট’ বের করতে কতোটা অসহায় হতে হয় একেকজন উদ্যোক্তাকে? ‘গোল পোস্ট’ পাল্টায় কতো তাড়াতাড়ি? মানে, একটা নিয়ম মেনে ইনভেস্টমেন্ট করার পর কখন পাল্টায় আগের নিয়ম?

১৪.

খালি চোখে দেখা যায় না প্রতিযোগিতা’র অসুস্থতা। সেটা দেখতে লাগবে অনেকগুলো স্ট্যাটিসটিকাল ইন্ডিকেটর। আর প্রতিযোগিতাকে ব্যবসাবান্ধব করতে লাগবে ‘প্রজ্ঞা’। একটু ওলটপালট হলেই ক্ষতি হবে ব্যবসায়িক পরিবেশের। তিন বছর লেগেছে আমারই বুঝতে। আমার এই ব্যাপারটা কিছুটা ধীর, পুরনো প্রসেসর বলে হয়তোবা। যেমন, ‘প্রাইস’ অথবা ‘মার্জিন স্কুইজ’ দেখা যাবে না খালি চোখে। আপনি আরেকজনের কাঁচামাল নিয়ে যদি রিটেল মার্কেটে ব্যবসা করেন যেখানে ওই কাঁচামাল তৈরীর কোম্পানিও ব্যবসা করে পাশাপাশি। পারবেন তার সাথে? ধরা যাক, মোবাইল অপারেটর থেকে ‘ক’ টাকায় “ইন্টারনেট” কিনে ‘ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস’ দেন আপনি। ওই বাজারে মোবাইল অপারেটর ওই একই ব্যবসা করলে টিকবে কি সেই উদ্যোক্তা? যতোই লাভ সে দিক সরকারকে। এরকম জিনিস আছে হাজারো।

১৫.

এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে ফারাক নেই বললেই চলে। বর্তমানে অনেক সফল দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চারে বিনিয়োগ আসছে বিদেশ থেকে। আমার কথা একটাই। তৈরী হোক সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। দেশে। বাড়ুক সবাই। একসাথে। হাজার হোক, আমাদের দেশ এটা। হোক এটা আরেকটা ‘ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি’। বসে আছি ওই দিনের জন্য, যখন আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে থেকে পড়ে ফিরে আসবে বাংলাদেশে।

কেন?

১. ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি ২. দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ! আসলেই তাই! এখানে করার আছে এতো কিছু, যে মাঝে মধ্যে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বসে থাকি ওই উত্তেজনায়!

ধন্যবাদ সবাইকে।

ট্যাগলাইন: দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ!


ডুইং বিজনেস http://www.doingbusiness.org
অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন http://accc.gov.au
ফেয়ার ট্রেড কমিশন https://www.ftc.gov
বাংলাদেশের রিপোর্ট: সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার https://goo.gl/IVbJSG

Advertisements

Read Full Post »

Public servants say, always with the best of intentions, “What greater service we could render if only we had a little more money and a little more power.” But the truth is that outside of its legitimate function, government does nothing as well or as economically as the private sector.

– Ronald Reagan

৫৩৯.

ফিরে আসি মূল প্রশ্নে, বাইরের কোম্পানি বা মানুষটা পয়সা ফেলবে কেন এই দেশে? মনে আছে ওই তিনটা রিপোর্টের কথা? যেই কোম্পানিটা পয়সা ফেলবে সেটাতো চালায় আপনার আমার মতোই মানুষ। পয়সা আমার হলে কি করতাম – এই আমি নিজে? ভালো জায়গা বের করতাম খুঁজে। ইনভেস্টমেন্টের জন্য। ঝামেলা ছাড়া লাভ চাইতাম আমি। মূল টাকার ওপরে। খুঁজতাম এমন একটা দেশ যার – ক. অর্থনীতিটা তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী, খ. জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ট্রেন্ড সুবিধার দিকে, গ. ইনফ্রাস্ট্রাকচার মানে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে ভালোভাবে, ঘ. মুদ্রাস্ফীতি কম, ঙ. ওই দেশের টাকার রিস্ক ফ্যাক্টর আছে কিনা, চ. বাইরের মুদ্রার এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল আছে কিনা?

৫৪০.

লিস্ট মনে হচ্ছে ছোট – তাই না? আসলে লিস্টি কিন্তু অনেক বড়। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিশালভাবে প্রভাবিত করে এই টাকাওয়ালাদের। ক. দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমার ব্যবসায়ের সাথে যায় কিনা, খ. সরকারের ‘বিজনেস ফিলোসফি’ মানে ব্যবসায়িক দর্শন আছে কিনা , গ. থাকলে তার ট্র্যাক রেকর্ড কেমন? শেষ গল্প হচ্ছে প্রনোদনা নিয়ে। ইনসেনটিভ কে না চায়? ক. করারোপনের মাত্রা কেমন? খ. ট্যাক্স ইনসেনটিভ আছে কিনা? গ. ওই দেশে সম্পত্তি কিনলে তার অধিকারের মাত্রাটা জানতে চাইতে পারি আমি। সবশেষে, মানুষের শিক্ষার হার, জনবলের দক্ষতা, অন্যান্য ব্যবসার সুযোগ আছে কিনা, আবার – ওই ব্যবসায় লোকাল কম্পিটিশন কেমন ইত্যাদি না জানলে বিপদে পড়বে টাকাওয়ালা।

৫৪১.

ভালো কথা – এ ব্যাপারগুলো খাটবে সব ব্যবসায়। টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় গল্প কিন্তু আরো ভেতরে। ধরে নিন আপনি এসেছেন বাইরের কোন একটা দেশ থেকে। করতে চান টেলিযোগাযোগ ব্যবসা। বাংলাদেশে। পয়সা ঢালার আগে আপনার চেকলিস্টে কি কি থাকতে পারে – বলবেন কি আমাদের? একটা মোবাইল কোম্পানি খুললে তার লাইসেন্সের সময়সীমা হচ্ছে পনেরো বছর। আপনি যদি জানেন সময়সীমাটা, তাহলে বিজনেস প্ল্যান করতে সুবিধা হবে আপনার। আর তার সাথে ‘রেগুলেটরি সার্টেনিটি’ মানে লাইসেন্সের ‘ক্লজ’ মানে ধারাগুলো যদি পাল্টে যায় মাঝে মধ্যে – তাহলে ভয় পাবেন আপনি।

৫৪২.

বড় বড় কোম্পানিগুলো মোবাইল লাইসেন্স পনেরো বছরের জন্য নিলেও তারা জানে ভালো করে – তাদের চুক্তিনামা বাড়বে তিরিশ, পয়তাল্লিশ বছর করে। একটা কোম্পানি খুব বড় অপরাধ না করলে বাতিল হয়না তার লাইসেন্স। অনেককিছু জড়িত থাকে এর মধ্যে। ইনভেস্টমেন্ট, কার্যক্ষেত্র তৈরী হয়ে গেছে এর মধ্যে। ধরে নিলাম আপনার মোবাইল কোম্পানির বিজনেস প্ল্যান করলেন তিরিশ বছর ধরে। প্রথম দিকে ইনফ্রাস্ট্রাকচারে প্রচুর ইনভেস্টমেন্ট দরকার পড়ে বলে আপনার কোম্পানির ব্রেক-ইভেনে পৌছাতে লাগলো না হয় লাগলো সাত বছর। মানে, আসল লাভ করা শুরু করলেন ওই সময়ের পর থেকে। আপনি লাইসেন্সের সময়সীমা নিয়ে নিশ্চিত থাকলে আপনার প্রোডাক্টের দামও হবে ওই সময়সীমার সাথে মিল রেখে। পনেরো হলে এক দাম – পয়তাল্লিশ হলে আরেক দাম! হিসেব সোজা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

When I give food to the poor, they call me a saint. When I ask why the poor have no food, they call me a communist.

– Dom Helda Camara

৫৩৪.

আজকাল সবকিছু ডিজিটাল হওয়াতে ভয়েস ভিত্তিক সার্ভিসের পাশাপাশি সবধরনের সার্ভিস দিতে পারছে বড় বড় কোম্পানিগুলো। সেক্টর স্পেসিফিক রেগুলেটর পড়ে তখন বেকায়দায়। এক মোবাইল কোম্পানি যদি মোবাইল টিভি, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, লটারি আর ওটিটি (ওভার দ্য টপ) সার্ভিস দেয় – তাহলে সে একাই বাংলাদেশ ব্যাংক, তথ্য মন্ত্রনালয়, বিটিআরসি আর এনবিআরের আওতায় যাচ্ছে পড়ে। ‘একাউন্টিং সেপারেশন’ না থাকলে বুঝবেন কিভাবে ও অপব্যবহার করছে না ওর ক্ষমতা? চার রেগুলেটরের মধ্যে সমন্বয় না থাকলে এটা বোঝা সম্ভব নয়। আবার, সমন্বয়হীনতা সবচেয়ে কষ্ট দেয় কোম্পানিগুলোকে।

৫৩৫.

‘একাউন্টিং সেপারেশন’ নিয়ে কাজ হয়েছে হাজারো রেগুলেটরি এজেন্সীতে। টেলিকম হচ্ছে একটা ছোট অংশ। ধরা যাক মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস নিয়ে খুব ভালো করছে একটা কোম্পানি। সেটার লাভ দিয়ে যদি মোবাইল টিভি সার্ভিসটাতে দাম কমিয়ে দিলে বিপদে পড়বে অন্যরা। সেটার ‘প্রটেকশন’ দেবে রেগুলেটর। কীওয়ার্ড, একাউন্টিং সেপারেশন। আবার, মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের কাঁচামাল হচ্ছে ‘ইউএসএসডি’। নিজের কোম্পানির জন্য ওই সার্ভিসটা নিতে গেলে যে দাম নেয়া হবে – একই দাম (টার্মস এন্ড কন্ডিশন) দিতে হবে প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোকে। সিঙ্গাপুরের রেগুলেটরের এই গাইডলাইনটা ধরে শুরু করেছিলাম আমার কাজ। ‘হোয়াই রিইনভেন্টিং দ্য হুইল?’ দুহাজার চারের রিভিশন হলেও চমকে দেবে আপনাকে। সার্ভিস দেবার ক্ষেত্রে নিজের ডাউনস্ট্রিম অপারেশন মানে নিজস্ব সার্ভিস প্রোভাইডার আর তার প্রতিযোগী কোম্পানির টার্মস/কন্ডিশন এক না হলে খবর আছে ওই অপারেটরের।

৫৩৬.

বাজার ভাগ করা হয়েছে কি আগে? ক্রস-ফান্কশোনাল ব্যাপারগুলোতে এজন্যই চলে আসছে ‘বিশেষায়িত’ কম্পিটিশন এজেন্সীর কাজ। না থাকলে দেখবে সেটা রেগুলেটর। দাম না কমে যাবে কোথায়? একারণে রেগুলেটরে অর্থনীতিবিদ রাখার কথা বলেছিলেন আমার পরিচিত কনসালটেন্ট। আগে ভাবতাম বড় কোম্পানি – পয়সা বেশি, সেতো বাজার দখল করবেই। সাত বছরে ধারণাটা পাল্টেছে অনেক। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে যেটা ‘এন্টি-ট্রাস্ট’ সেটা অন্য সব জায়গায় ‘এন্টি-কম্পিটিটিভ’ ব্যবহার। বড়জন ছোটদের বাজারে প্রবেশাধিকারে বাধা বা বাজার এক্সপ্যানশনে সমস্যা তৈরী না করে সেটা দেখবে রেগুলেটর। আমরা ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্টে’ তো নেই আর!

৫৩৭.

ইন্টারনেটের দাম কমাবে কে? ঠিক বলেছেন। ইন্টারনেট সার্ভিস দিচ্ছেন যারা। আমাদের দেশে ফিক্সড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ওই পরিমান তৈরী না হওয়াতে বিশাল ভাবে তাকিয়ে থাকতে হয় মোবাইল আর ব্রডব্যান্ড ওয়্যারলেস অপারেটরদের ওপর। সেক্টরটা মানুষের জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকার কারণে এর ইনভেস্টমেন্ট সাইকেল অস্বাভাবিক ভাবে বেশী। মানুষের হাতে আলাদিনের চেরাগের মতো মোবাইল থাকায় সব সার্ভিস দেয়া যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। হাজারো সার্ভিস এক পোর্টালে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী, স্পেকট্রাম কিনতে প্রয়োজন অনেক টাকার।

৫৩৮.

অনেক সময় এতো টাকা তোলা যায় না দেশের ভেতর থেকে। আমাদের মতো দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরাতে যে ক্যাপিটাল দরকার সেটার জন্য অনেক সময় তাকাতে হয় বাইরের ইনভেস্টরদের দিকে। টাকাটা আসে দু ভাবে। মোবাইল সেক্টরটা ধরি উদাহরণ হিসেবে। বাইরের কেউ যদি টাকা দিয়ে মোবাইল কোম্পানিটাকে কেনে তাহলে সেটা আসবে ‘ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট’ মানে এফডিআই হিসেবে। তবে কেউ কোম্পানিটাকে না কিনে তার ফিনান্সিয়াল অ্যাসেট মানে শেয়ার কেনে – সেটা ফরেন পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টে পড়ে। এর নাম হচ্ছে এফপিআই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

A conspiracy is nothing but a secret agreement of a number of men for the pursuance of policies which they dare not admit in public.

– Mark Twain

৫৩০.

ধরা যাক আপনি আইএসপি, চালাতে চান ডিএসএল। টিএন্ডটির লোকাল লুপ (কপার ইনফ্রাস্ট্রাকচার) আন-বান্ডল মানে খুলে দিতে হবে প্রতিযোগীদের কাছে। মুনাফার দামে নয়। জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে তার সব রেফারেন্স ইন্টারকানেকশন অফার। ‘আরআইও’, রেফারেন্স ইন্টারকানেকশন অফার হচ্ছে গিয়ে আপনার নেটওয়ার্কের এলিমেন্টগুলোতে প্রতিযোগীদের এক্সেস দিতে গিয়ে তার দাম জানাতে হবে সবাইকে। অনেক দেশে রেগুলেটর সেটাকে দেখে দেয় আগে থেকে। বড় অপারেটর আবার দাম কমিয়ে বাকিদের মার্কেট থেকে উধাও করে না দিতে পারে সেজন্যও আছে ব্যবস্থা। ধরে দেয়া হবে তার দাম। নামতে পারবে না ওখান থেকে।

৫৩১.

থাইল্যান্ডে একটা রেগুলেটরি কোর্সে গিয়েছিলাম এবছর। ওদের ‘আনফেয়ার কম্পিটিশন নীতিমালা ২০০৬’ বলছে একই কথা। পঁচিশ শতাংশের ওপরে গেলেই ওই অপারেটরের ওপর নির্দেশনা আর নজরদারি আলাদা। হোলসেল এক্সেসে একেকজনকে একেক দাম আর শর্ত দিলেই বিপদে পড়বে সে। ‘বটলনেক রিসোর্স’গুলোতে (হতে পারে ব্যাকহল) এক্সেস কমিয়ে দিলে ধরবে রেগুলেটর। দরকারী তথ্য গোপন করলে জবাবদিহিতার মধ্যে পড়তে হবে ডোমিন্যান্ট অপারেটরকে। অন্যকে দিলাম না এক্সেস, টেকনিক্যালি সমস্যা করে রাখলাম – সেটা প্রমাণিত হলে আরো বিপদ। খুচরা ব্যবস্যায় এমন দাম দিলাম – বাকিরা বিপদে। সেটা পারবে না ডোমিন্যান্ট অপারেটর। একটা সার্ভিসের সাথে আরেকটা বান্ডলিং অথবা এটা না কিনলে ওটা পাবেনা বললেই ‘মার্কেট অ্যাবিউজে’ পড়ে যাবে সে। ভালো চলছে প্রোডাক্টটা, কমিয়ে দিলাম সরবরাহ – ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে ধরা হবে সেটাকে। কয়েকটা কোম্পানি মিলে যদি দাম এক রাখে, তাহলেও একই অবস্থা।

৫৩২.

মোদ্দা কথা – সুস্থ্য প্রতিযোগিতা নীতিমালা আর বড়দের ক্ষমতার অপব্যবহারগুলোকে নজরদারিতে নিয়ে এলে অপারেটররা নিজেরাই দাম কমিয়ে আসল দামের কাছে নিয়ে আসবে। আসল মানে প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। সুস্থ প্রতিযোগিতার নীতিমালা জানে কিন্তু রেগুলেটর। ওই নীতিমালা মানলে খরচ কমে আসবে অপারেটরদের। নিট রেজাল্ট – দাম কম। সুস্থ্য প্রতিযোগিতার মাপার অংক আছে একটা। নাম হার্সম্যান হারফিণ্ডল ইনডেক্স। সংক্ষেপে এইচএইচআই। এর মান শূন্য হলে বোঝা যায় বাজারে ছোট কোম্পানি আছে অনেকগুলো। দশ হাজার হলে বাজারটা চলছে পুরো মনোপলিতে।

৫৩৩.

ধরে নেই – আমাদের সম্পর্কিত বাজার হচ্ছে মোবাইল সার্ভিস। বাজারে আছেও চার চারটা কোম্পানি। মার্কেট শেয়ার হিসেবে বড় অপারেটরের আছে পঞ্চাশ ভাগ। বাকিদের বাজার দখল আছে ৩০, ১০ আর ১০ শতাংশে। বাজারের এইচএইচআই ইনডেক্স হচ্ছে গিয়ে ২,৫০০ %২০ ৯০০ %২০ ১০০ %২০ ১০০ = ৩৬,০০। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে যদি দুটো কোম্পানি একত্রীভূত (মার্জার) হতে গেলে এধরনের একটা হিসেব করে সেটার বিপদসীমা পার না হলে ভালো সবার জন্য। সবুজ বাতি পায় কোম্পানিগুলো। এক হাজারের নিচে হলে ধরা হয় প্রতিযোগিতা কম। হাজার থেকে আঠারোশো – মধ্যম আর তার ওপরে গেলেই প্রতিযোগিতা আছে বাজারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে একই ধরনের তবে সেটার গল্প কিছুটা বড়। নিয়ে আসবো আরেকদিন। ‘এসএমপি’ অপারেটরের মার্কেট অ্যাবিউজ বা তার ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে আসছি সামনে। নাহলে রেগুলেটর জানবে কিভাবে? মানে, কোথায় সমস্যাটা?

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

No policy that does not rest upon some philosophical public opinion can be permanently maintained.

Abraham Lincoln

৫২৬.

আরেকটা দাম কমানোর টুলে আসি আজ। এটা আরেকটা রেগুলেটরি টুল, নাম এসএমপি। মানে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার। বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিকমতো আছে কিনা সেটা দেখার দ্বায়িত্ব রেগুলেটরের। একাজে ‘কম্পিটিশন এজেন্সী’ একটা বিশেষায়িত সংস্থা। ওটা যতদিন না আসছে – ততোদিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের কাজ এটা। ডাব্লিউটিও, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন এটা নিয়ে কাজ করছে অনেকদিন ধরে। কোন দেশে ঠিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা না থাকলে ক্ষতি সবারই। ক্ষতি ছোট কোম্পানিগুলোর। সবচেয়ে ক্ষতি গ্রাহকের। গ্রাহক কখনো জানতে পারেনা প্রোডাক্টটার আসল দাম কতো। বাজার হারায় তার দক্ষতা। তৈরী হয়না বিকল্প পণ্য। ফলে দাম কমে না ইন্টারনেটের মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিসের।

৫২৭.

সাপ্লাই সাইডের সমস্যা নিরসনে ডাব্লিউটিও’র চুক্তিতে আমরা আছি কিন্তু। তবে নীতিমালার প্রযোজ্যতা নেই খুব একটা। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে এটা দেখে কোর্ট, তবে বাকি প্রায় সব দেশে সুস্থ্য প্রতিযোগিতার মানদন্ড নির্ধারণ করে থাকে কোম্পানিগুলোর মার্কেট শেয়ারের ওপর। অনেক কোম্পানি থাকার অর্থ এই নয় যে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বহাল আছে। এটা বের করারও অংক আছে কয়েকটা। দু-একটা কোম্পানি যদি বাজারের বেশি অংশ ধরে রাখে তাহলে দামটাও কিছুটা ‘ডিস্টর্টেড’ হয়ে পড়ে। এখানে জিনিষটার আসল দামটা কতো হওয়া উচিত সেটা বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়টা জিনিষের ‘কস্ট-মডেলিং’ করবেন আপনি? দু-একটা কোম্পানির পণ্য বাজারের অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করলে তৈরী হয় সমস্যাটা। বাজারে অন্য কোম্পানিগুলো থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাপারটা নিয়ে কেউ দেখভাল না করলে ‘মার্কেট ফেইলুর’ হবার সম্ভাবনা বেশি। ফলে – দাম আর কমে না। অথচ, উত্পাদন খরচ এর অর্ধেক। উদাহরন দেই বরং।

৫২৮.

ব্যবস্যা আমার মুড়ির। বাংলাদেশের ষাটভাগ বাজার আমার হাতে। কারণ, আমি ঢুকেছি বাজারে আগে। আমার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বড় অনেক। সরকারের সব লোককে চেনা আমার। প্রতিযোগীরা ধারে কাছে নেই আমার। পনেরো দশ শতাংশ নিয়ে আছে বাকিরা। আমার মুড়ি একদম প্রান্তিক পর্যায়ে যায় বলে ওটার বিকল্প হিসেবে ধারে কাছে যেতে পারেনি অন্যরা। পয়সা বেশি থাকায় প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর কয়েকটাকে কিনে নিলাম আমি। সাদা চোখে এখানে সমস্যা না থাকলেও প্রতিযোগিতা না থাকায় দাম বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। কম্পিটিশন এজেন্সি থাকলে কোন কোম্পানি বাজারের একটা নির্দিষ্ট শতাংশের ওপরে গেলেই তার মুনাফা বের করে সেটার আসল দামের কাছাকাছি একটা দাম বেঁধে দিতো। টেলিকমে কম্পিটিশন রেগুলেশন আরো ভয়াবহ। ডোমিন্যান্ট মানে বড় অপারেটরের হাজারো আন্ডারটেকিং। আর তার বড় হবার ক্ষমতাকে অপব্যবহার করলে হয় কোর্ট কাচারী।

৫২৯.

সেই উনিশশো সাতানব্বইতে ইউরোপিয়ান কমিশন চারটা বাজার নির্ধারণ করে এই টেলিকমেই। মোবাইল, ফিক্সড লাইন মানে টিএন্ডটি, লীজড লাইন আর ইন্টারকানেকশন মার্কেট যার মাধ্যমে যুক্ত থাকে অপারেটররা দেশে বিদেশে। কারো বাজার কোন ভাবে ২৫% বা ওর ওপরে গেলেই তাকে এসএমপি মানে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার হিসেবে ধরা হয়। এসএমপি হলে তার নেটওয়ার্কে অন্য প্রতিযোগীরা যারা ঢুকবে – তাদেরকে দিতে হবে আসল দামে। প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। মুনাফার দামে নয়। তার নেটওয়ার্ক এলিমেন্টগুলোতে আলাদাভাবে এক্সেস চাইলে সেটা দিতে বাধ্য।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: