Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘কমপ্লায়েন্স’

Two roads diverged in a wood, and I—I took the one less traveled by, And that has made all the difference.

Robert Frost

৫৪৬.

নীতিমালার রোডম্যাপ না থাকলে হটাৎ করে নতুন একটা নীতিমালা ভয় পাইয়ে দিতে পারে ইনভেস্টরদের। ওই নতুন নীতিমালা ছাড়া তিরিশ বা পয়তাল্লিশ বছরের বিজনেস প্ল্যানে যেই প্রোডাক্টের দাম হওয়া উচিত ছিলো ‘ক’ টাকা, সেটা হয়তোবা হয়ে যাবে ৩’ক’ টাকায়। নতুন নীতিমালা যা রেগুলেটরি রোডম্যাপে নেই – সেটা তাদের খরচ বাড়াবে ব্যবসাতে। প্রতিটা নতুন নীতিমালার ‘কমপ্লায়েন্স’ খরচ আগে থেকে তাদের হিসেবে না থাকলে সেটার বাড়তি টাকাটা চলে যাবে গ্রাহকের ওপর। মোদ্দাকথা, রেগুলেটরি সার্টেনিটি না থাকলে যত তাড়াতাড়ি তাদের লগ্নি’র টাকাটা ওঠাতে পারে সেদিকে নজর থাকে বেশি। সুযোগ পেলে টাকাটা তুলে কোম্পানিটা বিক্রি করে অন্য বাজারে যাবার চেষ্টায় থাকবে কোম্পানিগুলো।

৫৪৭.

মানে নীতিমালা করতে হলে রোডম্যাপটা তৈরী করে দিতে হবে সরকারকে। অনেক আগেই। আলোচনা করে নিতে হবে ইনভেস্টরদের সাথে। কাঁচামাল হিসেবে ধরুন স্পেকট্রামের কথা। কবে কি কি বিক্রি করবেন সেটা আগে থেকে না বললে ইনভেস্টররা টাকা যোগাড় করবে কোথা থেকে? এগুলো হচ্ছে লঙ টার্ম প্ল্যানিং। আগে থেকে না বললে হঠাৎ করে বেঁচা হয়না স্পেকট্রাম। ইনভেস্টমেন্টের জন্য তাদেরও যোগাড় করতে হয় টাকা। ফলে মোবাইল ব্রডব্যান্ড পেতে বসে থাকতে হয় বছরের পর বছর। আর স্পেকট্রাম অব্যবহৃত হিসেবে পড়ে থাকে ওই রোডম্যাপের অভাবে। এনপিভি, নেট প্রেজেন্ট ভ্যালুর ঘটে বিপর্যয়। যখন দেয়া হয় তখন দামও চলে যায় গ্রাহকের কাঁধে। নগদ নগদ।

৫৪৮.

সাত বছর বিটিআরসিতে বসে কথা বলতে হয়েছে অনেক দেশী বিদেশী ইনভেস্টরদের সাথে। বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্টের অনেকগুলো মিটিংয়ে ডাক পড়েছে টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে। ফরেন ইনভেস্টরদের যারা টেলিযোগাযোগ খাতে বিনিয়োগ করতে চায় – তারা শুনতে চায় ‘হর্সেস মাউথ’ থেকে। ‘বিশেষজ্ঞ’ নাকি বুঝি না – তবে দেশকে বেঁচার ভালো সেলসম্যান হিসেবে কিছু নাম ছিলো আমার। পত্রপত্রিকায় আমাদের দেশকে নিয়ে বেচাকেনার আলাপ পড়ি অনেক। মনে হয়, আহা! দেশটাকেও যদি ঠিকমতো বেঁচতে পারতো আমাদের নীতিনির্ধারকরা?

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: