Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’

There is no security on this earth. There is only opportunity.

– General Douglas MacArthur

২০.

‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র অ্যালগরিদম নিয়ে কথা বলি বরং। ডাটাকে লুকানোর জন্য যা যা করা দরকার সেটা লেখা থাকবে এই অ্যালগরিদমে। এটা এক ধরনের ‘স্টেপ বাই স্টেপ ইন্সট্রাকশন সেট’ যা ঘুরালে হারিয়ে যাবে ডাটা। আবার ওটাকে উল্টাভাবে ব্যবহার করলে ‘চিচিংফাক’। মানে ডাটা হাজির। তবে সেটাকে জানতে হবে যারা লুকাবে আর খুলবে ওই দরকারী ডাটাটাকে। উদাহরণ নিয়ে আসি বরং। একটা লেখা পাঠাতে হবে দূরে। বাহক সেটা মানুষ অথবা ইন্টারনেট যাই হোক না কেন – আপত্তি থাকার কথা নয় কারো। লেখাটা ‘এনক্রিপ্ট’ করে পাঠানোর সময় অন্যের হাতে পড়লেও সমস্যা হচ্ছে না এমূহুর্তে। যার লেখাটা পাবার কথা নয়, সে সেটা পেলেও অ্যালগরিদম তো আর জানে না ওই লোক। ইমেইলে পাঠানোর সময় অন্যের হাতে পড়তে পারে ওই গুপ্ত লেখাটা। চাবি তো নেই আর তার কাছে। ছোট্ট একটা ‘অ্যালগরিদম’ তৈরি করি এখানে।

ধাপ – ১। লেখার সব ‘ক’ অক্ষরগুলো পাল্টে দিতে হবে সংখ্যা ‘৪’ দিয়ে। ধাপ – ২। লেখার ভেতরে সব ‘ব’ অক্ষর মুছে দিতে হবে ঢালাও ভাবে। ধাপ – ৩। লেখার শেষ দিক থেকে শুরু করে পুরো লেখাটা নতুন করে ‘রি-রাইট’ করতে হবে শুরু থেকে। (মানে, শেষ থেকে একটা একটা করে অক্ষর নিয়ে সেটাকে নতুন করে বসাতে হবে প্রথম দিক থেকে)

২১.

অনেক আগের একটা ধারনা দিয়ে শুরু করলাম আজ। তবে বর্তমান ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ এর থেকে হাজার কোটিগুণ শক্ত ‘অ্যালগরিদম’ দিয়ে বানানো। আপনার সামান্য জিমেইলই ব্যবহার করছে ওপেনএসএসএল, সিকিউরড সকেট লেয়ার, যা ভাঙা অসম্ভবের পর্যায়ে পড়ে। ট্রান্সপোর্ট লেয়ার তো আরো শক্ত! তবে ওয়েব সার্ভিসগুলোর মধ্যে যারা ‘ডিফি-হেলম্যান’ অ্যালগরিদম ব্যবহার করছেন না, তাদের ছাড়া বাকীদের বেশীরভাগ ট্রাফিকই হাজারটা কম্পিউটিং রিসোর্স দিয়ে ‘ডিক্রিপ্ট’ করা সম্ভব যদি সার্ভারের ‘মাস্টার প্রাইভেট কী’ হাতে পায় কেউ। তবে সেটা পাওয়াও অসম্ভব ওই সার্ভার থেকে। তাহলে মানুষ পায় কিভাবে? ধরুন, এমন ঘটনা ঘটলো যেখানে মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে, তখন একটা কোর্ট অর্ডারই ওই কোম্পানীকে বাধ্য করে সার্ভারের ‘মাস্টার প্রাইভেট কী’ আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাদের হাতে দিতে। তবে সেটাও এখন বিপদের মুখে।

২২.

মনে আছে এডওয়ার্ড স্নোডেনের ডকুমেন্টের কথা? ২০১৩ সালে পুরো পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাওয়া ওই ডকুমেন্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘এনএসএ’র কাজ নিয়ে কথা ওঠায়। ‘ন্যাশন্যাল সিকিউরিটি এজেন্সি’ ওই তিরিশ দিনে প্রসেস করেছিল ১৮১,২৮০,৪৬৬টা ইমেইল রেকর্ড। এতে বিপদে পড়ে জিমেইল আর ইয়াহু কর্তৃপক্ষ। সবাই একে অপরের দোষারোপ করে স্টেটমেন্ট দেয় কাগজে। এর পরেই ‘এনক্রিপশন’ প্রযুক্তি পাল্টায় গুগল। এখন প্রতিটা ইমেইল ‘এনক্রিপ্ট’ হয়ে যাওয়া আসা করে জিমেইল সার্ভার থেকে। ‘সিকিউরড এইচটিটিপি’ ব্যবহার করছে প্রথম থেকেই। তবে সেটা ‘কমপ্লিমেণ্টেড’ হলো আরো উন্নতর প্রযুক্তি দিয়ে। ফলে প্রতিটা সেশনের জন্য সে তৈরি করবে নতুন নতুন চাবি। আগে ‘এনক্রিপ্ট’ হতো গ্রাহক আর সার্ভারের মধ্যে যোগাযোগগুলো। নিজেদের ডাটাসেন্টারগুলোর মধ্যে যোগাযোগগুলোও ‘এনক্রিপ্ট’ করা শুরু করেছে সার্ভিস প্রোভাইডাররা। বিপদে পড়েছে এখন দেশগুলো।

তবে যে যাই করুক, সবকিছুর শুরু হচ্ছে ওই পুরানো সংখ্যা আর সম্ভাব্যতা মানে ‘প্রোবাবিলিটি’ তত্ত্বের ওপর।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

If you think cryptography is the answer to your problem, then you don’t know what your problem is.

– Peter G. Neumann, New York Times, February 20 2001.

১৫.

গল্প দিয়েই শুরু করি কি বলেন? শাফায়েত কিছু একটা জানাতে চাচ্ছে সালমাকে। দুজন আবার থাকে শহরের দুপ্রান্তে। যোগাযোগ করতে পাঠাতে হবে কিছু একটা – কাগজে লিখে। শাফায়েত ম্যাসেজটা লিখলো গোপন একটা কোড দিয়ে। গোপন কোডটা জানে মাত্র ওই দুজন। আগে থেকেই। পরে, ওর বন্ধুকে দিয়ে কাগজটা পাঠিয়ে দিলো সালমার বাসায়। সময়মতো সালমার জানালা দিয়ে জিনিসটা ফেলেও দিলো বন্ধুটা। কপাল ভালো হলে সেটা পাবে সালমা। কিন্তু গল্পে দরকার ‘টুইস্ট’। কপাল খারাপ, ওটা গিয়ে পড়লো সালমার ‘বদরাগী’ বড় ভাইয়ের হাতে। সব বড়ভাই বদরাগী হয় কিনা জানিনা, তবে সালমার ভাই ‘ওই সিনেমা’র মতোই বদরাগী। কাগজটা পেলেন ঠিকই তবে সেটার মাথামুন্ডু কিছু না বুঝে ফেলে দিলেন ওয়েস্ট পেপার বীনে। সালমা সবার চোখের আড়ালে তুলে নিয়ে এলো জিনিসটা – ওই বীন থেকে। আগে থেকে ‘শেয়ার’ করা কোড দিয়ে ম্যাসেজ উদ্ধার করলো মেয়েটা। আমার জীবনের গল্প দিলাম কিনা?

১৬.

এখানে যে পদ্ধতিতে শাফায়েত ম্যাসেজটা গোপন করলো সেটাকে বলে ‘এনক্রিপশন’। আর যেভাবে ম্যাসেজটা পাঠোদ্ধার করলো সালমা, সেটা ‘ডিক্রিপশন’। ধরুন, ওই কোড ছাড়া পাঠাতে গেলে কি করতে হতো শাফায়েতকে? একটা বাক্স কিনে লাগাতে হতো তালা। ওই চাবিটার দুই কপি থাকতো দুজনের কাছে। অথবা ‘কম্বিনেশন লক’ হলে সেটার তিন ডিজিটের সংখ্যাটা জানতো দুজনই। ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’তে ওই তালার চাবিকে প্রতিস্থাপন করছে একটা কোড। যাকে আমরা বলছি ‘সাইফার’। আবার যেই পদ্ধতিতে ‘এনক্রিপ্ট’ করা হচ্ছে সেটা হতে পারে কিছু গাণিতিক অ্যালগরিদম, তাই না? আর যে অ্যালগরিদম দিয়ে ওই তথ্যটা লুকানো হচ্ছে সেটাকেও বলা হচ্ছে ‘সাইফার’। ওই ‘সাইফার’ মানে যে অ্যালগরিদম দিয়ে ওই তথ্যকে লুকানো হয়েছে তার ‘ভার্চুয়াল তালা’টার চাবি কোথায়? ওই চাবিটাই হচ্ছে লুকানোর ‘কোড’। ওটা দিয়ে খোলা যাবে গুপ্ত তথ্যটা। তালার মতো ওই ‘চাবি’টাই (কোড) আসল।

১৭.

‘সাইফার’ ওই ম্যাসেজটাকে এমনভাবে ‘স্ক্র্যাম্বল’ আর ‘ডি-স্ক্র্যাম্বল’ মানে ‘ঘুটা’ দেয় যে সালমার ভাই আর শাফায়েতের বন্ধুর কাছে পুরো জিনিসটাই ঘোলাটে মনে হবে। এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ চলে আসছে হাজার বছর ধরে। এটা নিয়ে হয়েছে অনেক অনেক যুদ্ধ – বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত। যুদ্ধের জয় পরাজয়ও নির্ভর করেছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র ওপর। এক দেশ পাঠিয়েছে ম্যাসেজ, সেটা হাতে পেয়ে প্রযুক্তির সাহায্যে ‘ডিক্রিপ্ট’ করে আগে ভাগে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে ‘অ্যালাইড ফোর্স’। ওই গল্প জানেন সবাই।

১৮.

আমি যেখানে কাজ করছি, ওই টেলিযোগাযোগ সেক্টরের পুরোটাই চলছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র ওপর। ফোন, ইন্টারনেট, ইমেইল, স্কাইপ, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্যাংকগুলোর মধ্যে ফাইনান্সিয়াল ট্রান্জাকশন, এটিএম নেটওয়ার্ক, অনলাইনে কেনাকাটা – যাই চিন্তা করেন সেটার কোর জিনিস হচ্ছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’। এটা না থাকলে আপনার আমার ইমেইল পড়ে ফেলার কথা সবার। স্কাইপ নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে অনেক। উদাহরণ দিলে পরিষ্কার হবে ব্যাপারটা। এক ব্যাংক থেকে টাকা পাঠানো হবে আরেক ব্যাংকে। ভাড়া করলেন ‘স্টেট অফ দ্য আর্ট’ এসকর্ট সার্ভিস। পথে টাকা হাইজ্যাক হবার প্রশ্নই আসে না। এসকর্ট সার্ভিসের হাতে টাকা দেবার আগেই লূট হয়ে গেল টাকাগুলো ব্যাংক থেকে। দোষ দেবেন কাকে? এসকর্ট সার্ভিসকে? ভেবে দেখুন।

১৯.

পৃথিবীটাই চোর পুলিশের খেলা। ‘ক্লোজ’ ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করছেন যারা, মানে কোম্পানীগুলো – তাদের হাত পা বাধা। তবে, ধরুন – আপনি তৈরি করলেন একটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেম। কমপ্লায়েন্সের কারণে ওই সরকারকে দিতে হলো এর ‘কী’ মানে চাবিটা। অর্থাত্‍ দেশ মনিটর করতে পারবে এটা দিয়ে ‘এনক্রিপ্ট’ করা পাঠানো ফাইল অথবা ভয়েস কল। কিন্তু ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেমটা ওপেন সোর্স হবার কারণে যে কেউ নিজের মতো তৈরি করে নিতে পারবে আরেকটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেম। কি হবে তখন? অথবা, কয়েকটা ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ সিষ্টেমের কম্বিনেশন? জার্মান পত্রিকা ‘দার স্পাইজেল’ কিছু ডকুমেন্ট পেয়েছিলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এনএসএ’র। ডিফেন্স কনট্রাক্টর এডওয়ার্ড স্নোডেনের হাত দিয়ে। পরে মার্কিন পত্রিকাগুলোতেও কিছু ঘটনা আসে এ সুত্রে। অনেক ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ এখনো মাথা খারাপ করে দিচ্ছে তাদের এনএসএ’র। প্রযুক্তির উত্কর্ষতার সাথে সাথে সমস্যা আসবেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If you reveal your secrets to the wind, you should not blame the wind for revealing them to the trees.

— Kahlil Gibran

১২.

গুপ্তচররাই তথ্য লুকিয়ে ঘুরে বেড়ায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে। মাঝে মধ্যে ওই ‘কাগজ’ অন্যের হাতে পড়লেও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় না বলে দেখি আমরা মুভিতে। অথবা স্পাই-থ্রিলার বইগুলো পড়তে গেলে। সচরাচর ধারনা করা হয়, স্নায়ু যুদ্ধের পর ব্যবহার শেষ হয়ে গেছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র। ‘কেজিবি’র ‘শ্লীপার এজেন্ট’দের নিয়ে পড়তে পড়তে আমরাও হয়ে যেতাম একেকজন গুপ্তচর। ওই ছোটবেলায়। ছিলো না খালি নায়িকা। কেউ ‘নায়িকা’ হলেও সে আবার মিলাতে পারতো না গুপ্তচরদের ‘খল’ নায়িকার চরিত্রে। গুপ্তচর হবার খায়েশ ওখানেই শেষ! ‘অ্যানা’কে কেন মরতে হলো ‘গানস অফ নাভারোণ’য়ে – সেটা নিয়েই জল্পনা কল্পনা। বছরখানেক। ‘গ্রেগরি পেক’ আবার হতেও দিলো ব্যপারটা? আর যাই হই – গুপ্তচর নয়। সৃষ্টিকর্তা বোধহয় হেসেছিলেন আড়ালে।

১৩.

সত্যিকার অর্থে, স্নায়ু যুদ্ধের পর ব্যবহার বেড়েছে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র। বরং হু হু করে। কোম্পানীগুলো একটার পর একটা সাইবার আক্রমনের শিকার হয়ে হারাচ্ছিলো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। গ্রাহকের ‘পরিচয়’ চুরি করে এমন সব কাজ হতে শুরু করলো সেটাতে শুধু টাকা হারানো নয়, হাজারো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে থাকলো সাধারণ মানুষেরা। কে কবে কাকে কি ইমেইল লিখেছিলো সেটাও চলে গেল ওয়েব সাইটে। মানুষের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও চুরি করে বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’ মানে মানুষের ‘প্রাইভেসী’ নিয়ে চরম টানাটানি। বিটিআরসিতে ‘সাইবার সিকিউরিটি টীম’ চালানোর সময় মানুষের হয়রানি দেখে শিউরে উঠতাম নিজেই। সাত বছর – লম্বা সময়। মানসিকভাবে কষ্ট পেতাম মানুষের ‘অসহায়ত্ব’ দেখে। মানুষের চোখের পানির সামনে নিজেকে অসহায় মনে হতো আরো। ওই কষ্ট থেকে বইটা ধরা। মিলিয়ন ডলারের ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ নিয়ে আলাপ করবো না আমি। ‘ওপেনসোর্স’ হাজারো ‘নিরাপত্তা প্রজেক্ট’ তৈরি হয়েছে মানুষকে সাহায্য করতে। এটা নয় আর রকেট সায়েন্স। অন্তত: আমাদের জন্য। তবে, সবার আগে – কেন দরকার এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’? আর, কিছুটা ব্যাবচ্ছেদ করবো – মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে।

১৪.

আমার অভিজ্ঞতা বলে – মানুষ সবচেয়ে বেশি ‘ওপেন’ মানে খোলামেলা হয় অনলাইনে গেলে। অনেকেই নিজের ভালো মানুষের খোলসটা ফেলে দিয়ে নেমে পড়েন দু:সাহসী কাজে। ‘কেউ দেখছে না’ মনে করে ইচ্ছেমতো সাইটে গিয়ে রেজিস্টার করছেন নিজের লুকানো নাম দিয়ে। ওই ইচ্ছেমতো সাইটগুলো শুরুতেই ঢুকিয়ে দেয় ‘ট্র্যাকিং কুকি’। আপনার কম্পিউটারে। আপনার দুর্দান্ত ‘প্রোফাইল’ তৈরি করে ফেলবে ‘ব্রাউজিং হিসট্রি’ ঘেঁটে। ইনিয়ে বিনিয়ে আপনাকে দিয়েই ডাউনলোড করিয়ে নেবে তাদের পছন্দের সফটওয়্যার। বাকি গল্প থাকছে সামনে। তবে, ওই ‘সাইবার সিকিউরিটি টীম’ চালানোর সময় কিছু শিক্ষিত(!), ভালো অবয়বের মানুষের ‘মানসিক বিকৃতি’ দেখে অবাক হয়েছি বেশি। সাধারণ মানুষের ‘কম্পিউটার নিরাপত্তার’ অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে হেয় করছে তাদের। সামাজিক ও মানসিক ভাবে। দেশছাড়া হয়েও মুক্তি পায়নি মানুষ।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

There are no secrets better kept than the secrets that everybody guesses.

— George Bernard Shaw

০৭.

পড়ে আছি আফ্রিকাতে। আগেও ছিলাম এখানে। আরেকটা দেশে। বউ বাচ্চা ছেড়ে। পৃথিবীব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ছাপ পড়েছে এখানেও। অফিসের কাজ শেষে ‘স্কাইপিং’ করি বাসায়। বিনামূল্যে। বাচ্চারা মায়ের ফোন নিয়ে ওপরতলা নিচতলা করতে থাকে প্রতিনিয়ত। পুরো বাসার ‘ট্যুর’ হয়ে যায় ওদের অজান্তে। কোন রুমের আসবাবপত্র কোন রুমে যাচ্ছে কোন কিছুই এড়াচ্ছে না আমার চোখ। আর্শিয়ার ‘ফ্রোজেন’ আর নাবিলের ‘বিগ হিরো ৬’য়ের পোস্টার কোথায় লাগবে সেটার শালিসিতেও বসতে হলো এখানে বসে। দরকার লাগলে ঢুকে যাই নিজের বাসার নেটওয়ার্কে। চালু করি বাসার কম্পিউটার বা ওয়াইফাই রাউটারটা। টেনে আনি দরকারী ফাইল। বাসার গাড়িটাকে নিয়ে এসেছি হাতের নাগালে। ‘ভার্চুয়াল ফেন্সে’র বাইরে গেলেই মাথা গরম হয়ে যায় ফোনের। সঙ্গে আমারো। এই আফ্রিকায় বসে। ফ্রীজটা বাকি। হয়ে যাবে সেটাও।

০৮.

ফিরে তাকাই পেছনের দিনগুলোতে। অথচ, দশ পনেরো বছর আগে পকেট ফাঁকা করে ফেলতাম কথা বলতে। এই আফ্রিকা থেকে দেশে। তাও শুধু দরকারী কথা। তখন বউ অবশ্য বলতো মিষ্টি মিষ্টি কথা। পাল্টেছে সময়। এখনো বলে। কম। ভাগ্য ভালো, আমার শহরে আছে থ্রীজি সার্ভিস। হাজার টাকায় পাওয়া যায় দুর্দান্ত গতির ইন্টারনেট। হিসেব করে দেখলাম – ইন্টারনেট হচ্ছে আমাদের লাইফলাইনের মতো। ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ করার সাহস করি না আমি। মনের ভুলেও। আমার ধারনা, বাকিদের একই অবস্থা। ধন্যবাদ ‘সিম্ফনী’ আর ‘ওয়ালটন’কে। তাদের সুবাদে – সবার হাতে স্মার্টফোন। ভুল বললাম। একেকটা মিনি কম্পিউটার। আবারো ভুল বললাম। একেকটা শক্তিশালী কম্পিউটার। আমার নিজের ফোনটাই ল্যাপটপ থেকে তিনগুণ শক্তিশালী। স্ক্যান করছে আমার ভাউচার, পোস্ট-ইট পেপার, হাতে লেখা নোট, দরকারী কাগজ, দোকানের বিলের মতো আরো কতো কি! মেডিক্যাল রেকর্ড? ব্যাংক স্টেটমেন্ট? ব্যক্তিগত ছবি তোলা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। হাজারো কথা বলছি স্কাইপে। বন্ধুদের সাথে। যারা ছড়িয়ে রয়েছে বিভিন্ন টাইমজোনে। ইমেইলের পাশাপাশি ‘ইন্সট্যান্ট ম্যাসেঞ্জারে’ রয়েছে হাজারো কথা। সবকিছুই যাচ্ছে পছন্দের ‘ক্লাউড’ সার্ভিসে। ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড থেকে শুরু করে অনেককিছুর পাসওয়ার্ড ইদানিং থাকে ‘ক্লাউডে’।

০৯.

আপনি কি বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবেন আপনার ইমেইল অন্য কেউ পড়ছে কি না? আপনার ফোন দিয়ে ‘থ্রেট’ কল গিয়েছে কখনো? ‘ভয়েস সিন্থেসিস’ করে দেখা গেলো গলা আপনার! আপনার কম্পিউটারের দরকারী ফাইলটা আরেকজন পড়ে চুপটি করে রেখে দিয়েছে কি না? আপনার উইনডোজের ‘ক্রিটিক্যাল’ সিষ্টেম ফাইল পাল্টে যায়নি যে তার গ্যারান্টি কি? বছর খানেক ধরে আপনার কম্পিউটারে যা কিছু টাইপ করেছেন সেটার ‘কী-লগার’ ফাইল যাচ্ছে কোথায় – জানেন আপনি? আপনার ল্যাপটপের ‘মাইক্রোফোন’ আর ‘ওয়েবক্যাম’ আপনার অজান্তে চালু থাকে কি না? আপনার ফোনের ক্যামেরা দুটো আর মাইক্রোফোন? ইন্টারনেট হচ্ছে ওধরনের একটা ‘গ্লোবাল দেশ’ যেখানে ‘কেউ’ চাইলে নজরদারী করতে পারে আপনার প্রতিটা মুহূর্ত। যাচ্ছেন কোথায়, কি বলছেন, কি করছেন। সব।

হতাশ?

১০.

‘এভরি ক্লাউড হ্যাজ আ সিলভার লাইনিং’! আছে সুখবর। এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ যেভাবে অন্যের পড়ার অযোগ্য করে দিতে পারে আপনার ফাইলকে, সেভাবে ‘নিশ্চিত’ করতে পারে আপনার ‘অনলাইন’ পরিচয়। মানে ‘থ্রেট’ ইমেইলটা করেননি আপনি। ভয়েস সিন্থেসিসে ‘সিগনেচার’ মিলেনি আপনার। কম্পিউটারের হাজারো ফাইলের (সিষ্টেম ফাইলসহ) যেকোন একটা পাল্টালে আগে জানবেন আপনি। আপনার প্রতিটা ডকুমেন্টকে রাখবে যথেষ্ট নিরাপত্তার সাথে। হাতের শক্তিশালী কম্পিউটার মানে স্মার্টফোনটা হাতছাড়া হওয়া মাত্র ‘মুছে’ যাবে সমস্ত ডাটা। অবশ্যই, আপনি চাইলে। ‘এনক্রিপ্ট’ করা থাকলে খুলতেও পারবে না – কি আছে ফোনে। খুশি তো? আপনি না জানলেও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার খাতিরে অপারেটিং সিষ্টেম কোম্পানীগুলো নিজে থেকে উইনডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, ‘আইওএস’এর সাথে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করছে আগে থেকেই। তবে সেটার অনেকাংশ নির্ভর করে ব্যবহারকারীদের ওপর। আপনি কম্বিনেশন লক কিনলেন ঠিকই, তবে সেটা রাখলেন ‘ফ্যাক্টরি ডিফল্ট’ ০০০০। হবে কি কাজ? তালা দিয়ে দিয়েছে কোম্পানী, আপনি না লাগালে ওদের দোষ দিয়ে লাভ হবে কি? আর তারা তো দেবে বেসিক টূল, সেটা তো করবে না সব কাজ।

১১.

আমরা মানে ‘মর্টাল’রা ‘এনক্রিপশন’ আর ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ শব্দগুলোকে যে যেভাবে পারি – ব্যবহার করি। হাজার হোক, ফ্রী কানট্রি! কার ঘাড়ে দুটো মাথা আছে আপনার সাথে তর্ক করার? দুটোর ব্যাপারটা আলাদা হলেও এটাকে সঙ্গায়িত করা যেতে পারে ব্যকরণ দিয়ে। আবার জুলিয়াস সিজার যেটা ব্যবহার করতেন সেটাকে আমরা বলতাম জুলিয়াস ‘সাইফার’। তাহলে শব্দ এসে দাড়ালো তিনটাতে। ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ হচ্ছে ওই বিজ্ঞান যেটা আলোচনা করে ‘গোপন’ যোগাযোগ নিয়ে। এটা বিশেষ্য পদ। মানে নাম পদ। আমরা যদি ‘রুট’ওয়ার্ডে যাই, এটা হবে দুটো শব্দ। ‘ক্রিপ্টো’ আর ‘গ্রাফী’। ‘ক্রিপ্টো’ হচ্ছে গুপ্তকথা অথবা লুকানো কথা। আর ‘গ্রাফী’টা হচ্ছে ওই যোগাযোগটাকে লুকানোর একটা পদ্ধতি। মানে যেভাবে ওই গুপ্তকথাকে লুকিয়ে আরেকজনের কাছে পাঠানো হয় সেই বিজ্ঞানটাই আমাদের গল্প। আর ‘ক্রিপ্ট’ করাকে বলা হচ্ছে ‘এনক্রিপশন’। ‘এন’ মানে হচ্ছে ‘টু মেক’। তৈরি করা। তথ্যকে অন্যের জন্য ‘হিব্রু’ বানিয়ে ফেলা। নতুন গল্প দিচ্ছি না তো আবার? এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Cryptography is the ultimate form of non-violent direct action.

― Julian Assange

০১.

আমরা এগুচ্ছি কিন্তু। দুনিয়ার সাথে তাল না মিলিয়ে যাবেন কোথায়? সমস্যা থাকবে সাথে। আর সমস্যা নেই কোথায়? তবে বাসায় বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারাটা যে কতো ‘লিবারেটিং’ সেটা আমার থেকে আপনি জানেন ভালো। শুক্রবার সকালের ঘুম বাদ দিয়ে বাজারে দৌড়ানো? অন্য কারণে না হলেও বউয়ের ঝামটা খেয়ে নিজের গজগজটাও গিলে খেয়ে ‘বাজারে যাওয়া’ বন্ধ করার ‘সিষ্টেম’ মনে হয় দাড়িয়ে গেছে, কি বলেন? অনেকেই বাজার পাচ্ছেন বাসায় বসে। ঢাকায়। বাসার ‘কমফোর্ট জোনে’ বসে মানে বউ বাচ্চার শান্তি’র ‘কিচির মিচির’এর মধ্যে অর্ডার দেয়া অনলাইনে। ভুল বলেছি? গলায় ঝুলছে দুজন, দুপাশ থেকে। ওই টানাটানিতে মনের ভুলে ‘ধুন্দল’ অর্ডার দিলেন দু কেজি। ‘পই পই করে বললাম এক কেজি। বাকিটা খাবে কে?’ ‘ঝাপটা’ একটাও মাটিতে পড়লো না কর্তীর কাছ থেকে! হেভেনলী!

০২.

বাসার কাজের সাহায্যকারী মেয়েটার বেতন পাঠাতে হবে তার পরিবারকে। কি হতো আগে? খুঁজে বের করো তার আত্মীয় স্বজনকে। কে থাকে ঢাকায়? কবে যাবে দেশে? বসে থাকো তার দেশে যাবার সময়ের জন্য। বাস ভাড়া দাও যাওয়া আসার। আর এখন, “খালু, ‘বিকাশ’ করে দিয়েন আজ।” সময় পাল্টেছে, সহজ হয়ে যাচ্ছে কাজ। ঘরে বসে অনেক কাজ সেরে ফেলতে পারছি আমরা। ই-কমার্সের যুগে সবাই কেনাবেচা করতে পারেন বলে অনেকেই হতে পারছেন ‘উদ্যোক্তা’। ধরা যাক ‘বিজনেস রাইটিং’য়ে দক্ষতা আছে কিছুটা। আমার। একটা সাইট খুলে বাসায় বসে শুরু করা যায় ব্যবসাটা। বাইরের ক্লায়েন্টের জন্য লিখে দেবো চমত্কার চমত্কার চিঠি, এক দিনে ডেলিভারী, একশো টাকা। আর্জেন্ট মানে দু ঘণ্টায় হলে – দুশো টাকা। দুর্দান্ত, তাই না? গেম চেঞ্জার হচ্ছে এই ইন্টারনেট। আর তার ইকোনমি।

০৩.

আগে চুরি হতো সিঁধ কেটে। ওখানেও পাল্টেছে যুগ। ইন্টারনেট ভরে যাচ্ছে বুদ্ধিমান ‘চোর’ দিয়ে। কেনাকাটা করছেন আপনার প্রিয় সাইটে। টাকা পয়সার বিত্তান্ত দিলেন জিনিসটা পাবার জন্য। সপ্তাহ খানেক পর ব্যাংক থেকে জানলেন আরো অনেক কিছু কেনাকাটা করেছেন আপনি। ভাষা হারিয়ে ফেললেন কয়েক মুহূর্তের জন্য। অর্ডারের জিনিসই পাননি এখনো। এদিকে বলে কি ব্যাংক? মানে, টাকা হওয়া। টাকা পাঠালেন মোবাইল করে, বন্ধুকে। টাকা গিয়েছে ঠিকই। তবে তুলে নিয়েছে আরেকজন। আগে ইমেইলে কি পাঠাতেন – সেটা জেনে যেতো অন্যরা। আবার, হটাত্‍ করে ইমেইল পেলেন প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে, আটকে পড়েছেন আফ্রিকার একটা দেশে। পকেটমার হয়ে গেছে সব কিছু, ফিরতে পারছেন না টাকার অভাবে। বন্ধুর সাথে কি কথা বললেন ফোনে, সেটাও চলে এলো ইউটিউবে। ল্যাপটপ বসে আছে কিন্তু আপনার বাসায় বা অফিসে। কোম্পানীর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল কিভাবে যেন চলে গেছে আরেকজনের হাতে।

০৪.

আগে এক ব্যাংক থেকে আরেক ব্যাংকে টাকা পাঠাতে ‘হুলুস্তুল’ ঝামেলা করতো ব্যাংক কতৃপক্ষ। ভল্টের মতো গাড়ি, গুলিভরা বন্দুক সমেত গার্ড। সামনে পেছনে পুলিশ। ওটাতো ‘ফিজিক্যাল’ টাকা। এদিকে প্রতিমূহুর্তে বিলিয়ন ‘ভার্চুয়াল’ টাকা পাড়ি দিচ্ছে হাজারো নেটওয়ার্ক। যাচ্ছে এই ‘ইন্টারনেট’ নামের রাস্তা দিয়ে। সেটার কি হবে? কে দেবে সেটার নিরাপত্তা? তার ওপর ইন্টারনেটে নেই কোন ভৌগলিক সীমারেখা। অন্য দেশ থেকে আমাদের দেশ হয়ে যদি চুরি হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কারো টাকা? কি হবে তখন? কোম্পানীগুলো বিলিয়ন ডলার ঢালছে তাদের ই-কমার্স ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে। তার থেকেও বেশি ঢালছে সেটার নিরাপত্তার খাতিরে। ‘ব্যক্তিগত ফাইল’ বলে হেলাফেলা করে মানুষ হচ্ছে বিব্রত – প্রতিনিয়ত।

০৫.

জেমস বন্ডের ছবিতে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র গল্প দেখে ধারনা হতেই পারে অন্য কথা। গুপ্তচরদের টেকনোলজি নিয়ে কি করছি আমি? বিপদে ফেলার ফন্দি করছি নাকি আবার? ওগুলো তো ব্যবহার করে সামরিক বাহিনী। ঠিক ধরেছেন! জুলিয়াস সিজার এই কাজ শুরু করেন খ্রীষ্টজন্মের ৫৮ বছর আগে। দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য তো ব্যবহার করবেই এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’। ইন্টারনেট ইকোনমি’র জন্য অনেক হিসেবই পাল্টে গেছে এই দশকে। অ্যাপল, হ্যা, কোম্পানী অ্যাপলের কথা বলছি। তার ‘ভ্যালুয়েশন’ মানে দাম হচ্ছে মাত্র ৭০০ বিলিয়ন ডলার। আবার ‘ক্যাশ’ হিসেবে তার হাতেই আছে মাত্র ১৭৮ বিলিয়ন ডলার। এই ফেব্রুয়ারীর শুরুর কথা। এই টাকা কিন্তু নিউজিল্যান্ডের জিডিপি’র সমান। ঝেড়ে কাশি। ‘অ্যাপল’ যদি কোন দেশ হতো আজ, ৫৫তম ধনী দেশ হিসেবে নাম হতো তার। বাকি কোম্পানীগুলোর কথা বাদ দিলাম আজ। দেশ যেখানে তার নিরাপত্তায় যে ধরনের ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ ব্যবহার করবে, তার থেকে কোন অংশ কম করবে এই কোম্পানীগুলো – শুনি?

০৬.

ভড়কে দিলাম নাকি? গল্প বাদ, পরিচিত হওয়া যাক আমাদের ‘ফাইনাল ফ্রন্টিয়ার’ এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র সাথে। অনেকে বলবেন ব্যাপারটা সহজ নয় অতো। আমি আছি কি করতে? পানি বানিয়ে ফেলবো – এই আপনাদের জন্য। শুরু করেছি কিন্তু ওই নব্বইয়ের দশকে। আপনারা চাইলে বই হয়ে যাবে এটা! রেডি?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: