Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘গান’

Where words leave off, music begins.

― Heinrich Heine

০৬.

পেট চলে যোগাযোগ দিয়ে। যুদ্ধের মাঠে সবাই যাতে ঠিকমতো তার দরকারী তথ্য পায় সেটা দেখার দ্বায়িত্ব আমার। তথ্য পাঠানোর একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মানুষের কথাবার্তা। এই কথাকে এক যায়গা থেকে আরেক যায়গায় পাঠাতে দরকার ‘ফ্রীকোয়েন্সি ক্যারিয়ার’। আকাশ, ফাইবার আর তার যেখান দিয়ে পাঠাইনা কেন – সবখানেই ওই গলার শব্দকে চড়াতে হয় দরকার মতো ক্যারিয়ারে। এদিকে ডিজিটালের যুগ এখন। অবিকৃত শব্দ ওপারে পাঠাতে ‘স্যাম্পলিং’য়ের জুড়ি নেই। ক্যারিয়ারে ওঠানোর আগ পর্যন্ত এর চলাফেরা। আর তার রিফাইনড ভার্সন হচ্ছে এই ‘অ্যাকুস্টিক’ মানে সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং। নিজে গান শুনি অনেক। অনেক মানে অনেক! জীবিকার সাথে মেলেও খানিকটা। আর ভালো শব্দের জন্য বহুদূর যেতে রাজি। ‘পার্ফেকশনিষ্ট’ না হলেও ব্যাপারটা কষ্ট দেয় আমাকে।

০৭.

গান হচ্ছে অ্যানালগ, আর তার আধার হচ্ছে ডিজিটাল। অ্যানালগ আধারে রাখলে রিপ্রোডাকশনে সমস্যা। অ্যানালগ হচ্ছে নদীর ঢেউয়ের মতো। হারিয়ে যায় সময়ের সাথে সাথে। আর ডিজিটাল হচ্ছে ইটের মতো। কাঠখোট্টা। বাঁকা ত্যাড়ার কিছু নেই। হিসেব রাখা সহজ। তার মানে – এখন গান মানে হচ্ছে শূন্য আর একের গল্প। কম্যুনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে এটা বলতে পারি যে – স্টুডিওর বাইরে ধারণ করা ওই সিগন্যালকে আবার একদম ঠিকমতো তৈরি মানে ‘রি-কন্সট্রাক্ট’ করা যাবে যদি স্যাম্পলিং ফ্রিকোয়েন্সিটা ওই সিগন্যালের সর্বোচ্চের দ্বিগুণ হয়। বেশি গল্প দিয়ে ফেললাম নাকি? গল্প আমার না। হ্যারি নাইকুয়িস্ট বলেছিলেন সেই উনিশশো চব্বিশে।

০৮.

তাহলে গল্পটা দাড়ালো কোথায়? গানকে যদি কোন আধারে ঠিকমতো ধরতে হয়, তাহলে সেটার স্যাম্পলিং হতে হবে নিদেনপক্ষে ৪০ কিলোহার্টজ। ভালো কথা। আগেই বলেছিলাম মানুষের কান শুনতে পায় ২০ কিলোহার্টজ পর্যন্ত। আমাদের গানের ডিস্ট্রিবিউটররা গানগুলো যে সিডিতে ছাড়ছেন সেটা আসছে ৪৪.১ কিলোহার্টজ স্যাম্পলিং আর ১৬ বিট ট্রান্সফার রেট নিয়ে। হিসেব অনুযায়ী, মানুষের কানের জন্য সিডি কোয়ালিটি শব্দ ঠিক থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে ১৯৬ কিলোহার্টজ স্যাম্পলিংয়ের গান কি যেন কিছু একটা দিচ্ছে যা মাথা খারাপ করে দিচ্ছে আমাদের। আগে শুনিনি সেই শব্দও শুনতে পারছি ইদানিং। গল্প দিচ্ছি? এখন ভেগে গেলে কষ্ট পাবো কিন্তু! কথা দিচ্ছি দ্বিতীয় পর্বের পর অংক কম থাকবে সামনে।

[ক্রমশ:]


শুনছি এখন: দ্য লাস্ট ওর্থলেস ইভনিং – ডন হেনলি
অ্যালবাম: দ্য এন্ড অফ দ্য ইনোসেন্স

Advertisements

Read Full Post »

Where words fail, music speaks.

– Hans Christian Andersen

০১.

গান না শুনে বড় হয়েছেন কে? আমার মনে হয় খুব কম মানুষই। যতোদূর মনে পড়ে – বিয়ের আগে আমার বেতনের একটা বড় অংশ চলে যেতো এই গানের পেছনে। আগে দৌড়াতাম রেইনবো, রিদম আর সুর-বিচিত্রাতে। ছয়মাস বসে থাকতাম একেকটা ক্যাসেটের পেছনে। ক্যাডেট কলেজের এক ছুটিতে অর্ডার দিয়ে আরেক ছুটিতে পাওয়া আর কি! তাও ভালো। নিজে আয় দিয়ে ‘ভাইনল’ (যাকে আমরা সচরাচর বলে থাকি ভিনাইল) – পরের দিকে নতুন নতুন সিডি কেনা, আর নতুন পুরানো অডিও হার্ডওয়্যারের সংগ্রহ বাড়ানোই ছিলো আমার লিস্টের ওপরের দিকে। ওই সময়ে হাজার ‘পাঁচ’ ডলারের নিচে পাওয়াও যেতো না কোন ভালো অডিও হার্ডওয়্যার। এই হাই-ফিডেলিটি (হাই-ফাই) সাউন্ড নিয়ে যারা অতিমাত্রায় সচেতন, তাদের নামও আছে একটা। জানেন নিশ্চয়ই।

০২.

অডিওফাইল। হ্যাঁ। স্টুডিও কোয়ালিটি সাউন্ডকে নিজের বাসায় আনার প্রানান্তকর চেষ্টা করতে গিয়ে যা যা করা দরকার সেটা করে তারা। স্বাতী বিয়ের পর আমার রুমে এসে অবাক। না আছে টিভি, না আছে একটা ভালো পর্দা, না মটর সাইকেল। না একটা কার্পেট। পুরো রুম ধরে একটা কম্পোনেণ্ট সিষ্টেম। আর হাজার খানেক অরিজিনাল সিডি, ভাইনল। বই তো আছেই। আমি ওই ‘অডিওফাইল’ ব্যান্ডে না পড়লেও অডিওফাইল স্পেকট্রামের ওপরের দিকেই থাকবো বলে ধারনা করি। ছুটিতে আসার সময় মেয়ের জন্য একটা হেডফোন নিয়ে আসাতে ও অবাক হয়ে তাকিয়েছিলো আমার দিকে। কি ভেবেছিল সে? পাগল বাবা? মেয়েদের কাছে সব বাবাই ‘পাগল’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

৪০.

আটকে ছিলাম দু সপ্তাহ – গানটা নিয়ে। গানটা নিয়ে নয়, ওটা নিয়ে লেখার ব্যাপারটায়। লেখবো – নাকি লেখবো না? কি মনে করে সবাই? আবার ওটার জন্য আটকে আছে বাকি লেখাগুলো। গা ঝাড়া দিলাম কয়েকবার। লিখে দেখি না, মিলে যেতে পারে বোদ্ধাদের সাথে। আর সহৃদয় পাঠকেরা তো আছেনই।

৪১.

রেডিওতে শোনার আগে এমটিভিতে দেখি গানটা। চ্যানেলটা পাল্টে ফেলি প্রথমবার দেখার আগেই। আর ‘না পাল্টানোর’ উপায় রাখে নি সে। সে মানে গায়িকার কথা বলছি আর কি। এক রত্তি সুতা ছাড়াই গায়িকা হেঁটে বেড়াচ্ছে সব পাবলিক প্লেসে। সুপারমার্কেট, সাবওয়ে – ডিপার্টমেন্টাল স্টোর, বাদ পড়েনি কিছুই। ভাগ্য খারাপ হলে যা হয় আর কি – যখনই টিউন করছি এমটিভি, চলছে গানটা। ওমা! বলতে বলতে চলেও এলো এমটিভি টপ টোয়েন্টিতে। ইউএস, ইউরোপিয়ান কাউন্টডাউন শেষ করে ফুড়ুত্‍ করে আবার ঢুকেও গেলো এশিয়ান কাউন্টডাউনে। কি আছে জিনিসটায়? পুরো গানটা দেখার পাশাপাশি কান খাড়া করলাম কৌতুহল থেকেই। আটকে গেলাম গ্লুয়ের মতো। চমত্কার পিয়ানোর কাজ দিয়ে শুরু হয়েছে গানটা। ‘অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ছেড়ে দিলে কেমন হয় বলো না?’ কেমন ধরনের প্রশ্ন এটা? অথচ এই কথা দিয়ে শুরু গানটা। মনে পড়লো ‘কমফোর্টেবল নাম্ব’য়ের কথা। মাথায় ঢুকে গেল ওই ছোটবেলার জ্বরের কথা। যখন হাত ভেসে যেত বেলুনের মতো। আটকে গেলাম একটা ভার্সে।

How ’bout me not blaming you for everything
How ’bout me enjoying the moment for once
How ’bout how good it feels to finally forgive you
How ’bout grieving it all one at a time …

৪২.

মনে আছে ‘জ্যাগ্গড লিটল পিল’ অ্যালবামটার কথা? আকাশ ছোয়া খ্যাতি পেয়েছিলো অ্যালানিস মরিসেট গানগুলো দিয়ে। সেটাও সেই পচানব্বইয়ের কথা। তিন বছর আর কিছু বের হয়নি বলে সবার দৃষ্টি ছিলো পরের ম্যাটেরিয়ালগুলোর দিকে। তখনই এলো পরের অ্যালবাম – যার মধ্যমনি হিসেবে ছিলো এই গানটা। থ্যাংক ইউ, ‘ধন্যবাদ সবাইকে’র মধ্যে একটা ব্যতিক্রমধর্মী অল্টারনেটিভ ‘নোশন’ কাজ করেছে শুরু থেকেই। ভিএইচওয়ান চ্যানেলে ‘স্টোরিটেলার্স’য়ের একটা পর্বে এসেছিলো অ্যালানিস। গানটা লেখার ব্যপারে প্রশ্ন আসলে তার ধারনাটা পরিষ্কার হয় আমাদের কাছে। ‘আমরা এমন একটা সমাজ ব্যবস্থায় আছি যেখানে আমাদের বাইরের চেহারাটাই সব। সেটাতেই ডুবে আছি আমরা। মনে করছি ওখানেই আমাদের শান্তি। মানুষ বলছে আমি যা পাবার সেটা পেয়ে গিয়েছি এই বয়সেই। আসলে কি তাই? শান্তি পাচ্ছিলাম না মনে মনে। প্রশ্ন করা শুরু করি নিজেকে। বুঝি তখন, যা পেয়েছি সবই ‘ইল্যুশন’ মানে ভ্রমের মধ্যে আছি আমি। আমার সামনের সবকিছু যখন উবে যাওয়া শুরু করলো কর্পুরের মতো, সত্যিকারের ভয় পেতে শুরু করলাম তখন। মৃত্যুর ব্যাপারটাও ভাবিয়েছে আমাকে। সবকিছু নিয়ে থামলাম একসময়।’

৪৩.

ওই সময় সব বাদ দিয়ে দেড় বছরের ছুটি নিলো অ্যালানিস – নিজের কাছ থেকে। চলে এলো ভারতের দিকে। নতুন করে নিজেকে আবিষ্কার করলো সে। শুধু নিজেকে নয়, আশেপাশের সবাইকে নিয়ে। সমাজটা সবাইকে নিয়ে, ধারনাটা ‘সবাই আমরা সবার তরে’র মতো। তার আশেপাশের সবার কারণে আজ সে এখানে। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই গানটা লেখা তার।

How ’bout no longer being masochistic
How ’bout remembering your divinity
How ’bout unabashedly bawling your eyes out
How ’bout not equating death with stopping …

৪৪.

তবে তার অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিওটা নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না বলে আমি নিজেও দেখিনি প্রথম দিকে। এমটিভি, ইন্ডিয়া আর এশিয়ার অনেক দেশেই ওটাকে কিছুটা পাল্টে চালিয়েছিলো প্রথমদিকে। গানতো শোনার জন্য, দেখার ব্যাপারটাকে রেখে দেই আলাদা করে। গ্র্যামি পেয়েছিলো গানটা। দুহাজার এক সালে ভিএইচওয়ানের সেরা একশো ভিডিও’র মধ্যে তার জায়গা হয়েছিল ৬৬তে। বাংলাভাষাবাসী ব্লগে অফিসিয়ালটা না দিয়ে অডিওটা দিলাম শুধু!

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

And you may hear the same old story
In ev’ry town, on ev’ry street
The story of ‘Sunset’, and the
Heartbreak Kid

– Icehouse, Man of Colours

৩৫.

গানের নায়িকার প্রেমে পড়ে যাব – সেটা ভাবিনি কখনো। বইয়ের নায়িকা? ঠিক আছে, বই তো ‘গ্রো’ করতে থাকে আমাদের মনের ওপর – পড়ার শুরু থেকে। প্রথমেই না পছন্দ – নায়িকাকে। হবে না কেন? সেই তো ঝামেলা তৈরি করতে থাকে নায়কের। শুরু থেকে। বাস্তবেও তাই। আগেই ‘ক্লিয়ার’ করে রাখি, স্বাতী ব্যতিক্রম। নো মোর ডিসট্র্যাকশন। ফিরে আসি বইয়ে। একেকটা অধ্যায় পার হয়, মায়া বাড়তে থাকে নিজের অজান্তে। মানে নায়িকার ওপর। নায়ক হয়তো পাত্তা দিচ্ছে না মেয়েটাকে। তখন নিজেই উতযোগ নেই – মেলানোর ব্যপারে। আমরা তো আর মিলাই না, ওত্‍ পেতে থাকি গল্পের ‘টুইস্টে’র জন্য। কখন নায়িকা এমন কিছু করে ফেলবে যাতে নায়ক জিভ কেটে নায়িকার কাছে ক্ষমা চাইবে। মুভিতে মিল হলেও বইতে আবার মিলনান্তক ঘটনা কম।

‘ঠিক বলেন নি আপনি।’ আপনার জবাব। তবে তর্কে কখনোই পারিনি মানুষের সাথে।

৩৬.

বন্ধুর বাসায় গিয়ে চোখে পড়লো ক্যাসেটের খাপ একটা। বোঝাই যাচ্ছিলো বাইরে থেকে এনেছে কেউ। ইএমআই, অস্ট্রেলিয়ার রেকর্ডিং। উনিশশো অষ্টাশির কথা। খুব গান শুনতাম তখন। হয়তোবা, এখনো। কাভারটা পুরোটাই সাদা, একটা মানুষের আউটলাইন আঁকা। একেছে তাও কয়েক টানে। মানুষটার হাতে ফুল তিনটা। তিনটাই তিন রঙের। অ্যালবামের কাভার হিসেবে একেবারে ব্যতিক্রমধর্মী। আকর্ষণ করলো আমাকে। খোঁজ নিয়ে জানলাম, বন্ধুর খালাতো বোন এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে। বরাবরের মতো ধার নিলাম ক্যাসেটটা। দিন কয়েকের জন্য। অস্ট্রেলীয় গায়কদের গান তো কম শোনা হয়নি ওই সময়ে। থ্যাংকস টু এবিসি, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কার্পোরেশন। আর শর্টওয়েভ রেডিও।

৩৭.

আটকে গেলাম পাঁচ নম্বর গানটাতে। কোনো রিওয়াইন্ড বাটন ছিলো না আমার ওয়াকম্যানে – ওই সময়ের জিনিস। প্লে, ফরওয়ার্ড আর স্টপ। রিওয়াইন্ড করতে হলে ক্যাসেটটাকে উল্টিয়ে ফরওয়ার্ড – আবার উল্টিয়ে প্লে। সেম ড্রিল, ওভার এণ্ড ওভার এগেন। বুঝতেই পারছেন অবস্থাটা। আমার অভ্যাস হচ্ছে গান ভালো লাগলে শুনি – হাজারবার। রিপিট – আনলিমিটেড মোড। বাসার সবাই জানে ব্যাপারটা। অভ্যস্ত হয়ে গেছে সবাই। বিয়ের পর স্বাতীও। এখন আমার বাচ্চারা। আমার ধারনা, ইউটিউব আমাকে চেনে বলে ‘রিপিট’ ফিচারটা দেয়নি ইচ্ছে করে। আর সে কারণে চলে এসেছে রিপিট করার আলাদা সাইট। টেকনোলজি, ব্রাদার।

৩৮.

তখন তো ওয়েস্টার্ন বইয়ের যুগ। ঘটনাটা আঁচ করে নিলাম লিরিকস দেখে। বাকিটা তৈরি হলো মাথায় আমার। প্রেমে পড়ে গেলাম ‘সানসেট’ নামের মেয়েটার। বারমেইড। সমস্যাটা শুরু হলো অন্যখানে। আগন্তুক বন্ধুকধারীকে গুলি না করলে কি হতো না? আর বোকাটাই বা কেন চলে যেতে চাইলো? হৃদয় ভাঙার খেসারত যে এভাবে দিতে হবে এটা কে জানতো? গল্পটা অবশ্য জানে সবাই, পুরো জনপদ। রোমিও জূলিয়েটের ধাঁচে। ওয়েস্টার্ন বইয়ের ভেতরের সাব-প্লটের মতো। সবই ঘোরাঘুরি করছে মাথার ভেতরে। বের হয় না আর।

৩৯.

এটা ঠিক, ইভা ডেভিস গানটাও লিখেছিল দরদ দিয়ে। চমত্কার ‘স্টোরিটেলিং’ রয়েছে গানটাতে। সেটিং, প্রেমিস – সবই অসাধারণ। অ্যালবাম কাভারটার স্কেচেও হাত রয়েছে তার। আর শুরুটা না শুনলে মিস করবে সবাই। আরেকটা কথা না বললেই নয়, অ্যালবামটার নামটাও অসাধারণ বটে।

পুনশ্চ: এর মিউজিক ভিডিওটা পাইনি খুঁজে। গানটার জন্য লিংকটা দেয়া।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If there weren’t such massive prejudice against Madonna’s display of her sexuality ‘Live to Tell’ would have probably been considered the greatest song ever written.

– Collected.

৩২.

ম্যাডোনার গান শুনতাম না বললে ভুল হবে। মিথ্যা বলা হবে বরং! আমার প্লে-লিস্টিতে ম্যাডোনার কয়েকটা গান থাকাতে বন্ধুদের অনেকে ‘মেয়েলি’ পছন্দ ঠাউরালেও ফেলতে পারিনি অ্যালবামটাকে। সত্যি বলতে – ম্যাডোনার এই অ্যালবামটাই আমার অনেক পছন্দের। বাকিগুলো কেন জানি টানেনি মনটাকে। শুরু হয়েছিলো কিন্তু টাইটেল ট্র্যাকটা দিয়ে। চমত্কার টেমপো, আহামরি ধরনের মিউজিক ভিডিও না হলেও দেখতে লাগতো ভালোই। ফিল্মফেয়ার আর রোজভ্যালি থেকে বন্ধুরা মিলে ভিএইচএস টেপ ভাড়া করে আনতাম সপ্তাহের জন্য। পছন্দের গানগুলো আবার ভিসিআরে রেকর্ড করে রাখতো বন্ধুরা। ছোটবেলার ‘ট্যাবু’র ধারণায় ‘লাইক আ ভার্জিন’ কিনিনি বাসায় আনতে পারবো না এই ভয়ে। অ্যালবাম কাভার বলে কথা। বর্ডারলাইনের ‘ইনট্রো’টা অন্য ধরনের হওয়াতে গানটা ছিলো পছন্দের মধ্যে। ওই ছোটবেলায়।

৩৩.

ওই বয়সে ‘পাপা ডোন্ট প্রিচে’র মতো মিউজিক ভিডিওটা আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় বলে লুকিয়ে দেখতে হতো না ওই অ্যালবামটার আরো কিছু গান। ‘ওপেন ইয়োর হার্ট’ গানটা পছন্দের হলেও ভিডিওটার জন্য ছিলো ওটা ‘নো নো’ লিস্টে। মানে দেখতে পারতাম না সবাই মিলে। তবে একটা গান শুনেছি হাজার বার, ওয়াকম্যানে টেনে টেনে। ছোটবেলার ওই প্রথম ওয়াকম্যানটাতে প্লে’র পাশাপাশি ছিল শুধুমাত্র ‘ফরওয়ার্ড’ অপশন। বুঝুন তাহলে! অ্যালবামটাও কেনা এই গানটার জন্য। আবার, মিউজিক ভিডিওটার জন্য সিনেমাটা দেখতে হয়েছে পরে। মুভিটার সাথে গানটা মিলেছিলো ভালো। তবে এই ব্যালাডটার জন্য যেই ভোকাল রেঞ্জ দরকার সেটা তৈরি হতে সময় লেগেছিল ম্যাডোনার। ওই সময়ে ম্যাডোনার গলায় এই গান – বিশ্বাস হচ্ছিলো না প্রথমে। ভিশন কোয়েস্ট মুভিতে ‘ক্রেজি ফর ইউ’ গানটা শোনার পর ভুল ভাঙতে থাকে আস্তে আস্তে।

৩৪.

আশির দশকে গান শুনেছেন অথচ স্যান পেদ্রো’র নাম শোনেননি এমন লোক পাওয়া দুষ্কর হবে বোধহয়। ধারনাটা ভুল কি? ‘লা ইসলা বনিতা’ শুরুই হয় এই জায়গার নামটা দিয়ে। স্বপ্নে যেখানে যাওয়া যায় যেই জায়গায় – সেটাই হচ্ছে স্যান পেদ্রো। স্প্যানিশ অর্থে দ্বীপের কথা বললেও এটা কোথায় সেটা বলেন নি কিন্তু ম্যাডোনাও। আইভরি কোস্টে আসার পর ম্যাপ নিয়ে বসতে গিয়ে পেলাম সাগর পাড়ের এই জায়গাটা। ওমা, একি! স্যান পেদ্রো দেখি এখানে। বেনিনের সহকর্মীর প্রশ্রয়ের হাসি। আইভরি কোস্টের প্রথম রাজধানী ছিলো এটা। ইবোলা ভাইরাসের জন্য মন খুলে মিশতে পারছি না মানুষের সাথে। তবে একটা জায়গায় যাবার সময় স্যান পেদ্রো’র ওপর দিয়ে যাবো জেনে মনটা ভালো হয়ে গেলো তখনি। শহরটার সাগরপাড়ে যেতেই মনে পড়লো গানটার কথা। হোয়াইট স্যান্ড বীচ। স্বপ্নের জায়গা বটে। আর স্বর্গের আবহাওয়ায় ভুলে গিয়েছিলাম কাজের কথা।

বাড়ি কিনবে নাকি এখানে?

সম্বিত ফিরলো স্হানীয় সহকর্মীর প্রশ্নে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

And if my time on earth were through
And she must face the world without me
Is the love I gave her in the past
Gonna be enough to last
If tomorrow never comes …

If Tomorrow Never Comes, Garth Brooks

২৭৭.

গান না পছন্দ করার মানুষ আছে নাকি? গানের ওপর দুর্বলতা আছে সবারই। আমার ব্যাপারটা ওই রকমই বটে। চল্লিশ বছরের বিশ বছরই হয়তোবা শুনেছি গান। গানের মধ্যেই আছি। দৌড়ালেও আছি গান নিয়ে। বই পড়লেও গান চলছে। শোয়ার সময় চলে কিছু অডিওবুক অবশ্যি। অফিসে অবশ্যি শোনা হয় না খুব একটা। অফিসের সময়ে তো নয়ই। ও সময়ে তো হাজারো মিটিং আর কথা বলতে হয় অনেকের সাথে। তবে অফিস শেষে সবাইকে ছুটি দিয়ে বসি লম্বা ড্রাফটিং নিয়ে। তখন হেডফোনটা আবার চড়ে কানে। গানটা অবশ্যি কিছুটা পার্সোনাল হয়ে যায়। কে কোন গান শোনে সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত পর্যায়ে পড়ে। সেখানে অন্যের নাক গলাগলি নেই। আমার পছন্দের সাথে অন্যের না মেলাটাই স্বাভাবিক। আর সেজন্যই তো মানুষ। আবার অনেকের পছন্দের সাথে মিললে তো আর কথাই নেই।

২৭৮.

আমার ধারণা, বন্ধু বান্ধবদের মধ্যে গান মেলানো বেশ দুস্কর। আমি একটা পছন্দ করলে অন্যজন যে আমার ‘জনরা’ পছন্দ করে – সে যে ওটা পছন্দ করবে সেটার হার তেত্রিশের বেশি হবে না। উদাহরনই নিয়ে আসি বরং। ধরা যাক আমার পছন্দের ‘জনরা’ কান্ট্রি – তবে ক্লাসিক কান্ট্রি নয়। খানিকটা ব্লুজ+কান্ট্রি+পপের ব্লেন্ডিং। তবে এটার সাথে ডেফ লেপার্ড ধাঁচের কিছুটা রকে আপত্তি নেই আমার। নামও আছে এ গোত্রের। ক্রস-ওভার। তাই বলে ফিউশন নয়। ক্রস-ওভার গোত্রের মধ্যে শানাইয়া টোয়াইনের গান আমরা দুবন্ধু পছন্দ করলেও ‘ফরএভার এ্যান্ড অলওয়েজ’ দুজনের পছন্দ হবার সম্ভাবনা কম। একই গায়কের গানের মধ্যেই অনেক পার্থক্য, সেখানে পছন্দের হারটা অনেক কমে আসে জনরার ক্ষেত্রে।

২৭৯.

সাজাম সার্ভিসটা অনেকেই ব্যবহার করেন আমার ধারণা। গান সনাক্ত করার জন্য চমত্কার অ্যাপ একটা। একটা অপরিচিত গানটাকে কয়েক সেকেন্ড আপনার ফোনকে শোনালে ও বলে দিতে পারে, এটা কোন গান আর তার গায়ক কে – কোন অ্যালবামের। স্যাম্পলিং দিলেই হলো। বের করে ফেলবে ও ব্যাটা। ওর ব্যাকগ্রাউন্ডে বিলিয়ন গানের ‘অ্যাকুস্টিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট’ থরে থরে সাজিয়ে রেখেছে ওদের সার্ভারে – কয়েকটা লোকেশনে। বাইরের নয়েজ কান্সেলেশন টেকনিক ব্যবহার করে আসল চেহারাটা পাঠায় ওদের সার্ভারে। মুহুর্তেই ফিরতি রিকোয়েস্টে উত্তর দেয় পাঠিয়ে।

২৮০.

সাজামের গল্প নিয়ে আসলাম কেন?

মানুষের মনের ভেতরে ঢোকার জন্য। মানুষের গান শোনাটা একটা রকেট সাইন্স বলে। আপনার কেন ওই গানটা পছন্দ আর আমার পছন্দ নয়, সেটা একটা গবেষনার বিষয় বটে। ধরে নিন ‘ফুয়াদের’ মতো একজন গায়ক আপনি। কনসার্টে গান গাইবেন বারো থেকে চোদ্দটা। কিন্তু আপনার অ্যালবামের সংখ্যা দশটা। কোন বারোটা গাইবেন? সাজামের সাহায্য নিন। মানুষের পছন্দের লিস্টি পেয়ে যাবেন ওর হ্যাস ট্যাগে। কনসার্ট শেষে মানুষ আপনাকে ধন্যবাদ দিতে থাকবে। কারণ ওর মনের ভেতরের খবর নিয়ে বানিয়েছেন আপনার প্লে-লিস্টি। লেডি গাগা থেকে শুরু করে হালের সব গায়ক গায়িকারা সাহায্য নেন সার্ভিসটার। সাজামের প্রেডিকশন অব্যর্থ। ভবিষ্যত গায়ক গায়িকা কে হবে সেটা ও জানতে পারে আগে। কারণ আমরাই জানিয়ে দেই ওকে। ওটাই ওর বিজনেস কেস। বিগ ডাটা।

২৮১.

বাইরে গিয়েই এফএম রেডিওগুলো প্রেমে পড়ে গেলাম। ওই সময়ে ছোটদের মতো কেউ আমাকে জিজ্ঞাসা করলে ওর উত্তর ধারণা করা সেকেন্ডের ব্যাপার। হোয়াট ডু ইউ ওয়ান্ট টু বি হোয়েন ইউ গ্রো আপ? আ রেডিও হোস্ট! পার্বত্যাঞ্চলে থাকার সময়ে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের ‘জলি গুড শো’ বাঁচিয়ে রেখেছিলো আমাকে – মাসের পর মাস। একাশি সালে শুরু হয়েছিলো প্রোগ্রামটা। ডিজে ডেভ ট্রাভিস পুরো পৃথিবীর গানের রিকোয়েস্ট পড়ে শোনাতেন ওই গানটা প্লে করার আগে। চিঠি লিখে রিকোয়েস্ট করতে হতো আমাদের মতো সবাইকে। ফোনের ভয়েসমেইলেও রিকোয়েস্ট পাঠানো যেতো। আমি নিজেও পাঠিয়েছিলাম একটা। চিঠিতে। ‘দ্য উইনার টেকস ইট অল’ গানটাও বাজিয়েছিলো ওই জলি গুড শো। মনে থাকবে না? পুরো মাসটাই ফুরফুরে কেটেছিলো বলে কথা। মজার কথা – গুগল করলাম ওই ‘জলি গুড শো’টা নিয়ে। ওমা, অং সান সুচিও পছন্দ করতেন এই শোটা। গৃহবন্দী থাকার সময়ের ঘটনা।

২৮২.

ধরা যাক এই আপনারাই ধরে বেঁধে রেডিও হোস্ট বানিয়ে দিলেন – একটা শোর! কাকে আবার? আমাকে।
‘এটার প্রয়োজন ছিলো কি একেবারে? পারেন ও আপনারা!’ কপট রাগ দেখাবো আপনাদের।

অবচেতন মন কিন্তু কাজ শুরু করে দিয়েছে এর মধ্যে! কি কি গান প্লে করবো সেটাই নিয়ে আসছি সামনে! মিউজিক ভিডিওর লিস্টি কিন্তু আলাদা। ভিডিওর আবেদন অডিওর লিস্টকে ওলট পালট করে দেবে।

আচ্ছা, ভালো বলেছেন – মুভির অরিজিনাল সাউন্ডট্র্যাক বাদ যাবে কেন?

পুনশ্চ: স্বাতী আর আমার পছন্দের একটা মিউজিক ভিডিও দিয়ে বিদায় নিচ্ছি আজ। গার্থ ব্রূকস গানটা গাইলেও রোনানের ভিডিও ডিরেক্টরের মুন্সিয়ানা মনে রাখার মতো।

Read Full Post »

%d bloggers like this: