Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘টেলিযোগাযোগ আইন’

Don’t find fault, find a remedy; anybody can complain.
― Henry Ford

Common sense is not so common.
― Voltaire, A Pocket Philosophical Dictionary

২১৩.

অফিসে ‘ওপেন ডোর’ নীতি নিয়ে কাজ করার ফলে পরিচয় হয়েছে হাজারো মানুষের সাথে। এতে শুরুর দিকে সময় নষ্ট হয়েছে বটে, কিন্তু অফিসের পর বাড়তি ঘন্টা কাজ করে পুষিয়েছি সবসময়। ছুটি হয়েছে পাঁচটায় – থেকেছি রাত নটা পর্যন্ত। ছেড়ে দিয়েছি সবাইকে ওই পাঁচটায়। বসেছি ঠান্ডা মাথায় – ডিরেক্টিভ আর অন্য ইনোভেশনগুলো নিয়ে। লিগালীজ জানাটা হচ্ছে সবকিছুর বাই প্রোডাক্ট। ঠান্ডা মাথাও মেইলিংয়ের জন্য প্রযোজ্য। দেখা গেছে আমার প্রোডাকটিভ আওয়ার্স হচ্ছে বিকাল পাঁচটা থেকে রাত আটটা। বাকিটা কাল কি করবো সেটার প্ল্যানিং। আমি নিজে ক্যালেন্ডার বয়, ক্যালেন্ডার এন্ট্রি ছাড়া অচল আমি। আমার এন্ট্রি, পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্টের এন্ট্রি আর উইকএন্ডের বাকি এন্ট্রি ভরে রাখে কালারফুল ক্যালেন্ডারটা। চল্লিশ শতাংশ দিনে পোস্টপন হলেও ক্ষতি কি? অন্যদেশগুলো কি করছে – বা কি ধরনের সার্ভিস আসছে – অথবা অন্য ইকোনমিগুলোতে সেটা আনছে কিভাবে – তার জন্য আলাদাভাবে বের করতে হয় মেইলিংলিস্টগুলো। ভালো ধারণা পাওয়া যায় ওই চার ঘন্টা। অফিসে আসতে সময় নেই দেড় ঘন্টা। তিরিশ শতাংশ মেইলের উত্তর দেয়া যায় রাস্তায়। আহ! পুশ মেইল, আবিস্কার করেছিলো কে?

২১৪.

ফিরে আসি লিগালীজের ব্যাপারটা নিয়ে। সামরিক বাহিনীতে টেলিযোগাযোগ রুটি রোজগার হওয়াতে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে ছিলাম দীর্ঘ পনেরোটা বছর। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে লিখতাম বলে সবকিছুর গোড়ায় টেলিযোগাযোগ আইন লাগে বলে ওটাও পড়ে ফেলেছিলাম তখনি। এই অফিসে আসার আগেই হস্তগত হয়েছিলো টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরদের বাইবেল বলে খ্যাত টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি হ্যান্ডবুক। না পড়লে বোঝানো মুশকিল। যে দেশগুলোর এজেন্ডাতে ‘ডিজিটাল ইকোনমি’ নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে – তাদের জন্যই এই পাবলিকেশন।

২১৫.

তথ্যপ্রযুক্তিতে এতো কিছু থাকতে আইনের দিকে ঝুঁকলেন কেন? প্রশ্নটা আমারও। আইনের ব্যাপারটা নিয়ে বিশাল দাগ কেটেছিলো ছোটবেলায় দেখা ‘পেপার চেজ’ টিভি সিরিজটা। না বুঝলেও দেখা বাদ দিতাম না সিরিজটা। সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান বা বায়োনিক উওম্যান মিস করলেও ওটা নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ হতো বাবা মার সাথে। মিনেসোটার অজ পাড়াগা থেকে উঠে আসা আইনের ছাত্র জেমস হার্ট – বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ভর্তি হয়েছিলো হার্ভার্ড ল স্কুলে। কম্পিটিটিভ আর খরুচে স্কুল বলে কথা। ওর পর থেকে বিপদ পিছু ছাড়ে না তাকে। মনে আছে প্রফেসর কিংসলের কথা? পরে শুনেছিলাম উনি পড়াতেন ‘কন্ট্রাক্ট ল’, আমার এমবিএতেও খুঁজে পেতে নিয়েছিলাম ওই বিষয়টা।

২১৬.

বুঝতে বুঝতেই চলে এলো এল.এ. ল। আরেকটা হিট টিভি সিরিজ। মাথা খারাপ হয়ে গেলো প্যারালাল স্টোরিলাইন দেখে। হাজারো কন্ট্রোভার্সি আর আসল ঘটনা নিয়ে ভালই চলছিলো সিরিজটা। ল আর কমনসেন্সের মধ্যে ফারাক কমে আসতে লাগলো আস্তে আস্তে। এরমধ্যেই চলে এলো জন গ্রিশাম। হাতে এলো ‘অ টাইম টু কিল’, মাথা খারাপ করা একটা লিগাল থ্রিলার। দ্য ফার্ম, পেলিক্যান ব্রিফের মতো বইগুলো মোড় ঘুরিয়ে দিলো আমার ‘আনস্ট্রাকচারড’ চিন্তাধারা। জন গ্রিশাম নিয়ে আলাদাভাবে আসবো আরেকদিন। অন্য রেগুলেটরদের বিভিন্ন লাইসেন্সিং ডকুমেন্ট ঘাটতে ঘাটতে অনেককিছু শেখা হয়েছে এই বছরগুলোতে। হাজারো লিগালীজ আনতে হয়েছে নখদর্পণে – অফিসের প্রয়োজনে।

২১৭.

বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রির সাথে কাজ করতে গেলে পড়তে হয় প্রচুর ইন্টারন্যাশনাল লিগাল ডকুমেন্টেশন। গুগলের সাথে কাজ করতে গিয়েই শতখানিক লিগালীজ জানতে হয়েছে এই আমাকেই। ফেইসবুক শুরু হলো বলে। ইনোভেশন আর ‘ফ্রী স্পীচে’র ধারক হিসেবে মার্কিন ডিজিটাল মিলেনিয়াম কপিরাইট অ্যাক্টের ধারা ৫১২ ভালো কাজ করেছে অনেক দেশেই। আবার কমিউনিকেশন ডিসেন্সি অ্যাক্টের ২৩০ ধারা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের প্ল্যাটফর্মগুলোকে ভারসাম্য দিয়েছে অনেকটাই। বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ আইনের ওপর ক্র্যাশ কোর্স, কেমন হয় নিলে? তবে সবার আগে আনছি কম্পেটিটিশন ল। মানে হচ্ছে প্রতিযোগিতা আইন যা ছাড়া অসম্পূর্ণ থেকে যায় টেলিযোগাযোগ আইনটাই।

আসছি সামনেই।

আচ্ছা, ‘বস্টন লিগাল’ কেমন লাগছে আপনার?

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: