Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘টেলিযোগাযোগ’

Efficiency is doing things right; effectiveness is doing the right things.

– Peter F. Drucker

৫০০.

ছোটবেলা থেকে লেখাপড়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিলো আমার। চট করে ধরতে পারতাম না সবকিছু। ‘ফান্ডামেন্টাল’ মানে ‘বেসিক গ্রাউন্ড-আপ’ না জানলে পারতাম না ওপরের জিনিস। কোন কিছু শুরু করতে হলে ওর ‘বেসিক’ না ধরিয়ে দিলে মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগতো। বাবা আর মা – সবকিছুর জন্য ফাউন্ডেশন কোর্স করাতে থাকলেন আমার। ক্যাডেট কলেজে গিয়ে সমস্যাটা কমে গেলো। ক্লাসে না বুঝলেও রাতে বুঝিয়ে দিতো বন্ধুরা। একেবারে শুরু থেকে। গালি একটাও পড়তো না মাটিতে। দুনিয়াটা দেয়া নেয়ার। কিছু নিলে সহ্য করতে হয় অনেককিছু। তবে পড়ার বই থেকে বাইরের বই পড়তাম বেশি। ক্লাসে পড়িয়েছে এভাবে, বাইরের বইয়ে লিখেছে আরো কয়েকভাবে – কেন হবে না অন্যটা? কিছু হলেই জানতে চাইতাম ডেফিনেশন কি বলে। এটা এখনো চলছে। ওই ডেফিনেশনের জোরে চলছি আজও। নতুন জিনিস শিখতে চাইলে পড়ো ক. ডেফিনেশন, খ. আউটকাম (বিগিন এন্ড ইন মাইন্ড), গ. কিছু উদাহরন, ঘ. ওটার কিছু সাকসেস + ফেইলড স্টোরি, ঙ. আমাদের দেশে করতে গেলে ‘লোকাল কন্ডিশন’কে ‘টুইক’ করতে হবে কোথায়? নতুন করে তৈরী করার নেই কিছু। ‘রি-ইনভেন্টিং হুইল’ করার সময় নেই আমাদের।

৫০১.

বিটিআরসিতে আসার আগেই পড়েছিলাম টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি হ্যান্ডবুক। পড়েছিলাম লেখালিখির জন্য। জানতামও না ওখানে যেতে হবে একদিন। এখানে এসেই খুঁজতে থাকলাম ফান্ডামেন্টাল কোর্স। অনলাইন হলে তো কেল্লাফতে। পড়ালেখা, তাও আবার – ইন দ্য কমফোর্ট জোন অফ আওয়ার হোম। আইটিইউ’র কোর্স খুঁজে পেলেও ভ্যাকান্সী কম। মাত্র দুজন। বের করলাম যোগসূত্র, আইটিইউতে। রাশান এক ভদ্রলোক। বেগ, বরো আর স্টিল (শেষটার পক্ষপাতি নই আমি, কারণ এর আগেই হয়ে যায় কাজ) মোডে শুরু করলাম ইমেইল যোগাযোগ। ইমেইলের মাধুর্যে না হলেও সিরিজ ইমেইল থেকে বাঁচতেই বোধহয় আমাদেরকে দেয়া শুরু করলো পাঁচটি করে ভ্যাকান্সী। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি পড়াশোনায় না করেনা কেউ। উল্টো, পয়সার ছাড় দেন সহৃদয় সিনিয়ররা। কাজ ডেলিভারি দিলে শেখাতে কি অসুবিধা? আর সেকারণে আমার ‘সিভি’টা এক পাতা থেকে কিছুটা বড়।

৫০২.

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের প্রায় দুশো বছর লেগেছে। শুধু শিখতেই। শিল্প বিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো অভিজ্ঞতার কথা। সেটা কাজে লাগিয়ে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের অভিজ্ঞতা কাজে কাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে। আজ আমি জানি ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। এখন এটা নতুন করে উদ্ভাবন করার প্রয়োজন নেই। বরং, এটাকে ব্যবহার করে কিভাবে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যায় সেটাই করছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

৫০৩.

রেগুলেটরি ফান্ডামেন্টাল শিখেছি আমরা। এখন বের করতে হবে কি চায় দেশটা। তৈরী করতে হবে কাজ করার একটা প্ল্যান। চিন্হিত করতে হবে প্রয়োগের জায়গাটা। পড়েছি শতাধিক কেসস্টাডি। আর পড়েছি ওই দেশগুলোর ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড মাস্টার প্ল্যান। ধরুন, চল্লিশটার মতো। দেশগুলো অনেক আগে শুরু করাতে তাদের কনসেপ্টের রিভিউ পেপারটা পড়লেই বোঝা যাবে কোনটা কাজ করেছে আর করেনি কোনটা। এটা কোন রকেট সাইন্স নয়। দেখে শেখা। ঠেকে শেখা নয়। সেটাই ‘লেট স্টার্টার অ্যাডভান্টেজ।’ দেশগুলো তাদের ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার সাথে দাম কমানোর জন্য তৈরী করেছে হাজারো টুল। ওই টুলের মধ্যে আমি যেগুলোই ব্যবহার করেছি – ফলাফল পেয়েছি সাথে সাথে। একটা দুটো দেশে ভুল হতে পারে, তাই বলে ভুল করবে পঞ্চাশটা দেশ? সৃষ্টিকর্তা এমন কি তাদের দিয়েছেন – আমাদের দেননি? আমাদের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা অনেক দেশের পুরো জনসংখ্যার অনেক অনেক বেশি। বিশাল পরীক্ষিত বাজার। বিশ্বাস হচ্ছে না? গ্লোবাল টেলিকম জায়ান্ট টেলিনরের সবচেয়ে লাভজনক ভেঞ্চার কিন্তু বাংলাদেশে। ওই পরীক্ষিত টুলগুলোকে পরিচিত করবো আপনাদের সাথে। এক এক করে।

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

The highest patriotism is not a blind acceptance of official policy, but a love of one’s country deep enough to call her to a higher plain.

– George McGovern

৪৯৭.

নিউ ইয়র্ক। লেখালিখির একটা ওয়ার্কশপের প্রথম দিন। মেন্টর শুরু করলেন লেখার কিছু নিয়ম নিয়ে। পৃথিবীর এক নামকরা লেখকের একটা কোটেশন তুলে ধরলেন উনি। ‘লেখার নিয়ম তিনটা। তবে কেউ জানে না ও তিনটা কি।’ লেখালিখি নিয়ে থাকতেই পারে এধরনের কথাবার্তা। তাই বলে ইন্টারনেট নিয়ে? তবে মজার কথা, ইন্টারনেট নিয়ে মানুষের অনেকটাই বিভ্রান্তি আছে – দাম নিয়ে বিশেষ করে। তবে সেটা নিয়ে কম কথা হয়নি। হাজারো নিয়ম আর শর্টকাট নিয়ে কথা বলছেন অনেকে। শতাধিক ফোরামে। বোদ্ধাদের সাথে কেন জানি মনের মিল হচ্ছে না নীতিনির্ধারকদের। তবে বেসিক গল্পটা না জানার কারণে সমস্যা হচ্ছে বুঝতে। সমস্যা একটাই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেট নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন অথবা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনের সমস্যা নিয়ে আলাপ করছি ফোরামে। সবাই মিলে। মজার কথা – পড়া হয়নি প্রাথমিক ক্লাসগুলোই। কেউ জানিনা ব্রডব্যান্ড একোসিস্টেমটা কি? সমস্যা সমাধানে তাই নির্দেশনা আসছে ফ্রান্সের রানীর মতো। ভাত খেতে পাচ্ছে না জনগণ? পোলাও খেলেই তো পারে। বলতে দ্বিধা নেই, আমিও দিয়েছি এধরনের নির্দেশনা। শুরুর দিকে। আবার, ফল্টলাইনগুলো চোখে পড়ছিল বেশি করে – বিশেষ করে শেষের দিকে। সাত বছর তো কম সময় নয়।

৪৯৮.

সিরিজটা লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইয়ের ব্যবস্থা। ছয়টা বই মোটে। আগের পয়েন্টগুলোকেই ভাবসম্প্রসারণ করছি মাত্র। মাথার সাহায্য নিয়ে। ইতিহাস না লিখে এগোতে পারেনি কোন দেশ। ব্রডব্যান্ডের ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন কিছুটা।

৪৯৯.

বিটিআরসিতে থাকার সময় অনেকগুলো কাজ হয়েছে যেগুলোর ফলাফল কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী। আসবে ফলাফল, তবে সেগুলোর ইন্টার-ডিপেন্ডেন্সি থাকার ফলে অন্যগুলো না হওয়াতে শেষ হাসিটা হাসতে পারছে না কেউই। ইন্টারনেট নিয়ে পাবলিক কনসালটেশন হয়েছিল কয়েকটা। ইন্টারনেটের দাম নিয়েই হয়েছিলো সেই গনশুনানী। গনশুনানী মানে হচ্ছে ব্যবহারকারীর মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালাতে সংশোধনী আনা। দিয়েছিলাম আমার আর আমার আরেক অফিসারের ইমেইল এড্রেস। মতামত দিয়ে ভরে গিয়েছিলো আমাদের মেইল বক্স। তিন হাজারেরও বেশি ইমেইল। সময় নিয়ে পড়েছিলাম। গ্রাহক তো জানবেন না রেগুলেটরি বিষয়। বা আমাদের ইন্টারনাল ডাইনামিক্স। কিসে কাজ করবে আর কিসে নয়। তারা যা চান – তাই বলেছেন ওখানে। একদম সরাসরি। সেই গনশুনানী শেষ হবার পরে আমাদের বিটিআরসি’র অফিসিয়াল পোস্টটা অনেকবার রি-পোস্ট করেন ব্লগাররা। ভরে যেতে শুরু করে আমাদের মেইলবক্স। গ্রাহকের সমস্যা কতো ধরনের আর কি কি – পিএইচডি করা যাবে। একটা নয়, কয়েকটা। শেষটা হয়েছিলো চৌদ্দটা পয়েন্ট নিয়ে। কার্যকর করা গেছে নয়টাকে। তবে গ্রাহকের ফিডব্যাক নিয়ে রি-পজিশন করার সময় এসেছে এখন।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

It is sometimes implied that the aim of regulation in the radio industry should be to minimize interference. But this would be wrong. The aim should be to maximize output. All property rights interfere with the ability of people to use resources. What has to be insured is that the gain from interference more than offsets the harm it produces. There is no reason to suppose that the optimum situation is one in which there is no interference.

– Ronald Coase, “The Federal Communications Commission,” Journal of Law and Economics, Vol. 2 (1959)

৪৯৩.

ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে আর গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা করতে সরকার তৈরী করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ এজেন্সী। বাজারে প্রতিযোগিতাকে চাঙ্গা করার জন্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন নিয়ে আসে অনেকগুলো বিধিমালা। প্রথম ধাক্কায় প্রাইভেটাইজেশনের প্রসিডিউরে ফেলে দেয় সরকারী টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে। ব্যবস্যাবান্ধব পরিবেশ আনার জন্য বুদ্ধিমান ‘এনলাইটেনড’ দেশগুলো তাদের ওই বড় বড় কোম্পানীগুলোকে এমন ভাবে টুকরা টুকরা করে দিল যাতে ছোট ছোট নতুন প্রাইভেট কোম্পানীগুলো প্রতিযোগিতায় তাদের সাথে পেরে উঠতে পারে। পরে কিছু পয়সাপাতি হলে সরকারী কোম্পানিকে কিনতে পারে তারা। ‘মার্জার আর একুইজিশন’ নামের গল্পগুলো শিখলাম ওদের কাছ থেকে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের এটিএন্ডটির কথাই ধরুন না। আমাদের বিটিটিবির মতো একটা সরকারী কোম্পানি ছিলো ওটা। ও এত বড় যে ছোট ছোট প্রাইভেট কোম্পানি পাত্তাই পাচ্ছিলো না ওর কাছে। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করে দিলো ওদের বিরুদ্ধে।

৪৯৪.

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, লোকাল আর লঙ-ডিসটেন্স কলের মধ্যে কিছুটা দক্ষতা আনার জন্যই এ ব্যবস্থা। কলের দাম কেমন হবে সেটা নিয়েও চলছিলো সমস্যা। দক্ষতার সাথে কোম্পানিটা চলছে কিনা সেটাও ছিলো ভাববার বিষয়। আর যার হোক টাকাতো যাচ্ছে সরকারের। জনগনের টাকায় চলছে কোম্পানিগুলো। যতই কোম্পানি হোক সরকারের, মাফ নেই অদক্ষতার। বিশালকার এটিএন্ডটিকেও ভেঙ্গে ফেলা হলো আট ভাগে। উনিশশো বিরাশির ঘটনা। একটা লঙ-ডিসটেন্স কোম্পানি, আমাদের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ)র মতো – আর তার সাথে সাত সাতটা লোকাল ফোন কোম্পানি। ছোট হওয়াতে খরচপাতি স্বচ্ছ হয়ে এলো অনেকখানি। বন্ধ হয়ে গেলো ক্রস-সাবসিডাইজেশন। ব্যবস্যা কর, ভালো কথা। আলাদা আলাদা লাইসেন্স নাও অন্যদের মতো। অন্যায় আবদার করো না সরকারের কাছে। অন্য একটা বেসরকারী কোম্পানি আর তোমার মধ্যে পার্থক্য নেই কোন।

৪৯৫.

গুগল করে দেখতে পারেন ‘মা বেল’ আর ‘বেবি বেল’গুলো নিয়ে। হাজারো গল্প। এর পরেও সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে নতুন কোম্পানীগুলোর আন্তঃসংযোগ পাওয়া খুবই দূরহ ছিল। মানে, একজন আরেকজনের কল নিতে চাইতো না। ওই সময়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বড় কাজ ছিল বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করা। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে যেয়ে সবচেয়ে প্রথমে রাশ টানলো সরকারী ‘লোকাল বেবি বেল’ কোম্পানীগুলোর। প্রতিযোগীতামূলক ব্যবস্থার বিভিন্ন ইনডিকেটর থেকে তারা অনেকগুলো ‘এন্টি-ট্রাস্ট’ নীতিমালা তৈরি করলো যা ছোট ছোট কোম্পানীকে তাদের প্রয়োজন মত সার্ভিস দেবার ব্যাপারে অনেক সুবিধা করে দিলো। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বেল সিস্টেম্সকে ছোট ছোট টুকরো করার ফলে অন্যান্য ছোট ছোট কোম্পানীগুলো কাজ করার সুযোগ পেলো। পাশাপাশি। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নতুন কোম্পানীগুলো বেল্ সিস্টেমসের ইনফ্রাকটাকচার ব্যবহার করার সুযোগ নিলো সুলভমূল্যে। আন্ত:সংযোগ না দিয়ে যাবে কোথায় সরকারী কোম্পানি? গুগল করুন ‘ন্যাচারাল মনোপলি’ আর ‘আনবান্ডলিং।’

৪৯৬.

আচ্ছা, দেশটা কার? জনগনের। গ্রাহকস্বার্থ দেখবে কে? ‘জনগনের মনোনীত রেগুলেটরি এজেন্সি।’ আপনার জবাব। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাইটে যাই মাঝে মধ্যে। ধারণা নিতে। ‘প্রটেক্টিং আমেরিকা’স কনজিউমারস’ ট্যাগলাইন নিয়ে চলছে শত বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটা। অস্ট্রেলিয়ার কম্পিটিশন আর কনজিউমার কমিশনের সাইটের গেলে মাথা খারাপ হবে আপনার। কি নেই ওখানে? প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে – তুমি কি জানো তোমার কনজিউমার রাইট?

জনগনের ক্ষমতায়ন করে কিন্তু সরকারই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Vigilant and effective antitrust enforcement today is preferable to the heavy hand of government regulation of the Internet tomorrow.

– Orrin Hatch

৪৯০.

মনে আছে মাইক্রোসফট আর অন্য ব্রাউজার কোম্পানিগুলোর আইনি যুদ্ধের কথা? অপারেটিং সিস্টেম বানায় মাইক্রোসফট। সাথে দিচ্ছিলো তাদের নিজস্ব ব্রাউজার। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার। সমস্যা কি? দিচ্ছিলো তো ফ্রি! লাভ তো জনগনের। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করলো মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে। স্বত:প্রণোদিত হয়েই। মনোপলিস্টিক অবস্থানের সুযোগ নিচ্ছে সে। গ্রাহকদের বাধ্য করছে নিজের জিনিসে আটকে রাখতে। কোম্পানিগুলো যারা শুধু ব্রাউজার বানায় – কি হবে তাদের? বিশাল আইনি যুদ্ধ চললো বছর খানিক ধরে। জাজমেন্ট এলো – ভেঙ্গে ফেল মাইক্রোসফটকে। অপারেটিং সিস্টেম বানাবে এক কোম্পানি। ব্রাউজারের মতো অন্য সফটওয়্যার বানাবে আরেকটা। কোর্টে ফেরৎ গেলো মাইক্রোসফট। বিশাল আন্ডারটেকিং দিতে হলো তাকে। যতোই বড় হোক না কেন, অন্যের ব্যবস্যা নষ্ট করতে পারে না সে। এটা তো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নেই আর!

৪৯১.

ব্যাপারটা কিছুটা এমন। জুতার কোম্পানি আমার। আবার মোজাও বানাই। বললাম – জুতা কিনলে আমার মোজা ফ্রি। হরহামেশাই হচ্ছে তো। কি সমস্যা, বলুন তো? সমস্যা অন্য জায়গায়। ভেবেছেন কি অন্যান্য জুতা বা মোজার কোম্পানিগুলোর সমস্যার কথা? সব জুতার দোকান তো বানায় না মোজা। বা মোজার কোম্পানি জুতা? পয়সা আছে বলে পেটে লাথি মারতে পারেন না আরেকটা কোম্পানির। ব্যবস্যা করতে মানা করছে না কেউ। খুলুন নতুন কোম্পানি। মেনে চলুন ‘একাউন্টিং সেপারেশন’ নীতিমালা। একটার লাভ নিয়ে ঢোকানো যাবে না আরেকটাতে। তারপর বানান মোজা। কিচ্ছু বলবে না কেউ।

৪৯২.

সরকারের কোম্পানীগুলো এধরনের কিছু বাড়তি সুবিধা নেয় তাদের সেবার ওপরে। বিশেষ করে তাদের প্রতিযোগীদের থেকে। বড় কোম্পানী হওয়াতে একাই অনেক সেবা দেবার কারণে প্রতিটা জিনিসের সন্মিলিত খরচ পড়ে অন্যের চেয়ে অনেক কম। এটাকে বলা হয় ক্রস-সাবসিডাইজেশন। যে কোম্পানি ব্যবস্যা করে চালের, সেতো পারবে না ওই কোম্পানির সাথে যে একাধারে ব্যবস্যা করছে চাল, ডাল, আটা আর চিনির। এখানে রেগুলেটরকে দেখতে হয় কোম্পানিটা তার উত্পাদন খরচ থেকে কমে বিক্রি করছে কিনা। এখানে সরকারী কোম্পানীগুলোই যে মনোপলিস্টিক পরিবেশ তৈরি করে সেটাও সত্য বলা যাবে না। অনেক সময় এক কোম্পানীর মার্কেট শেয়ার বাকী সব কোম্পানীর সম্মিলিত মার্কেট শেয়ার যোগফলের বেশি হলে সেই বেসরকারী কোম্পানীটাও তৈরি করে একটি মনোপলিস্টিক পরিবেশ। ফলে আগের মতো ওই বড় কোম্পানীর প্রোডাকশন কস্ট ছোট কোম্পানীগুলোর থেকে অনেক কম হওয়ায় ওই প্রোডাক্ট বাজারে একটি অসম প্রতিযোগীতা তৈরী করে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

But let me tell you what happens when regulations go too far, when they seem to exist only for the purpose of justifying the existence of a regulator. It kills the people trying to start a business.

– Marco Rubio

৪৮৭.

‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ জিনিসটা কি? যে ইনফ্রাস্ট্রাকচারটার কোনো বিকল্প নেই। সেটা প্রাইভেট সেক্টরেও নেই। অনেক দেশের রেগুলেটরি ভাষায় এটার নাম ‘বটলনেক’ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। মানে ‘গলাচিপা’ টেলিযোগাযোগ কাঠামো। আপনি সাধারণ ব্যবহারকারী হিসেবে ওটার বিকল্প পাচ্ছেন না সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে। যেমন, সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন। অথবা, বিটিসিএলের ঢাকা থেকে কক্সবাজার ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক। ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন সরকারীভাবে আছে ওই একটাই। নেই বেসরকারী ল্যান্ডিং স্টেশন। একারণে এটা ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার। আর সেকারণে এগুলোর দাম ধরা হয় কস্ট বেসড। লাভ বা ক্ষতির বিষয় নয়, ওই প্রোডাক্টটা তৈরী করতে যা খরচ পড়েছে সেটাই নিতে হবে ওর থেকে সার্ভিস নেয়া কোম্পানিগুলো থেকে। মুনাফা নয়। কারণ এটার বিকল্প নেই কোন। এখানের উদাহরণে আসবে আইএসপিগুলো।

৪৮৮.

অনেক দেশে সরকার ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার খুলে করে দেয় প্রথমে। বিকল্প তৈরির স্বার্থে। প্রতিযোগিতাই নামিয়ে আনবে দাম। সরকারী কোম্পানিগুলো লাভ ক্ষতির হিসেব অতটা দক্ষতার সাথে করতে পারে না বলে ওখানে চালানো হয় ‘ডিউ-ডিলিজেন্স’ টুল। মানে আক্ষরিক অর্থে ওর ব্যালান্স শিট আর কি কি আছে তা সরেজমিনে দেখে নির্ধারণ করা হয় কোম্পানিগুলোর মূল্যমান। ব্যবসার ইনভেস্টমেন্টের দিকে না তাকিয়ে একটা ‘ইনক্রিমেন্টাল ফরওয়ার্ড লুকিং কস্ট’ ধরে প্রোডাক্টের দাম নির্ধারণ করে রেগুলেটর। আমাদের মতো দেশগুলোতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথের দাম এখনো কমানো হয় রাজনৈতিকভাবে। তার মানে এই নয় যে ‘কস্ট মডেলিং’ সম্ভব হচ্ছে না বলে এই পথ।

৪৮৯.

অনেক চেস্টা চরিত্র করে সাবমেরিন ক্যাবলের বিকল্প হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল লাইসেন্সটা ড্রাফট শুরু করেছিলাম। নীতিগতভাবে আলাদা সাবমেরিন ক্যাবল আর টেরেস্ট্রিয়াল লাইসেন্সের পক্ষপাতী নই আমি। পানি না ডাঙ্গা দিয়ে যাবে ক্যাবল – সেটা নির্ধারণ করবে না লাইসেন্সের প্রকৃতি। তবে প্রাইভেট সেক্টরে সাবমেরিন না আসায় বিকল্প তৈরীর একটা চেষ্টা। ফলাফল, ভয়াবহ! এক বছরেই দাম কমিয়ে নিয়ে এসেছে অর্ধেকে। সাবমেরিন ক্যাবল যা দেয়, তারা দেয় অর্ধেক রেটে। বেসরকারী কোম্পানিগুলো কস্ট মডেলিংয়ের ডাটা দিলেও সরকারী কোম্পানি থেকে পাওয়া দুস্কর। একতরফা দোষ দেয়া যাবে না তাদের। এটা আমাদের কালচারাল ইস্যু। দক্ষতার দাম দিতে শুরু করিনি আমরা। এখনো।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The problem is that agencies sometimes lose sight of common sense as they create regulations.

– Fred Thompson

৪৮৩.

ফিরে আসি গ্লোবাল সেটিংয়ে। ওই পঞ্চাশ ষাট সালের টাইমলাইনে। সরকারী টেলিযোগাযোগ কোম্পানীগুলোর পেছনে ইনভেস্টমেন্ট আকারে কোটি কোটি টাকা ঢেলেছে দেশ। অনেক আগে থেকেই। সেখানে প্রাইভেট কোম্পানীগুলো শুরু করলো মাত্র। না পেরে হাত পা ছেড়ে দিলো ছোট ছোট কোম্পানিগুলো। আগে থেকে বিভিন্ন জায়গায় সরকারী কোম্পানীগুলোর নেটওয়ার্ক বিছানো ছিলো বলে ওখানে এক্সেস পাচ্ছিলো না নতুন কোম্পানীগুলো। আবার এদিকে আগে থেকে তৈরী করা সরকারী কোম্পানীগুলোর বড় বড় ইনফ্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ালো নতুন কোম্পানীগুলোর জন্য। ওই বড় বড় ইনভেস্টমেন্ট যেটা আজ ওই কোম্পানির জন্য সাংক-কস্ট (খরচের খাতায় চলে গেলে যা হয় আর কি) সেটাই ওই বাজারে দাঁড়িয়ে গেল একেকটা মার্কেট পাওয়ার (মাতবর ধরনের) হিসেবে। ‘মার্কেট পাওয়ার’ হচ্ছে গিয়ে ওই কোম্পানি যার সামান্য খামখেয়ালীপনা পাততাড়ি গুটিয়ে দিতে পারে অন্য কোম্পানিগুলোর।

৪৮৪.

ধরা যাক, পঞ্চাশ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে একটা কোম্পানি। স্বভাবতই তার প্রতি মিনিট কলের দাম কম হবে ইকোনমি অফ স্কেলের কারণে। আর যার বাজার নিয়ন্ত্রণ দশ শতাংশে, তার প্রোডাকশন কস্ট তো বেশি হবে আগের কোম্পানি থেকে। এখন আগের কোম্পানি যদি চালাকি করে তার খরচের থেকে নিচে দাম নামালে ছোট কোম্পানিগুলো চিতপটাং। আবার বড় কোম্পানিটা যদি ছোট কোম্পানিটার কল নিতে গড়িমসি বা আন্তসংযোগের দাম ইচ্ছেমত বাড়িয়ে দেয় তাহলেও ওই কোম্পানি শেষ। পাশাপাশি সেই বিশাল সরকারী কোম্পানীগুলোর সাথে নতুন কোম্পানীগুলোর না পারার পেছনে কাজ করে অনেকগুলো জিনিস।

৪৮৫.

সরকারী কোম্পানীগুলো এতদিন একটা মনোপলিস্টিক পরিবেশে কাজ করার ফলে অন্যকে স্পেস দেবার ব্যাপারটা চিন্তাই করতো না। টেলিযোগাযোগ উন্মুক্তকরণ ধারনাটা নিয়ে এসেছে দেশের অর্থনীতিবিদরা। তাদের ধারণাগুলো ঠিক মতো আসেনি নিচের দিকে। ছোট বা নতুন কোম্পানীদের কোন টার্মস অফ রেফারেন্সে আন্ত:সংযোগ (কল আনা নেয়া) আর ফ্যাসিলিটি শেয়ার করতে হবে সেটার ব্যাপারে ছিল অজ্ঞ। আর জানবেই বা কিভাবে? ওর সময়ে তো ছিলো না অন্য কোন কোম্পানি। রেগুলেটরের অভাবে নিজেই প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতো সরকারকে। একটা ‘সুডো’ রেগুলেটর হিসেবে কাজ করতে চাইতো মাঝে মধ্যে। তবে উন্নত দেশগুলোর বিচার বিভাগ এন্টি-ট্রাস্ট মামলায় আটকে দিতো ওদেরকে। যাই করুক, বাজার নষ্ট করতে পারে না সে।

৪৮৬.

তবে কথা একটাই। মনোপলিস্টিক পরিবেশে ওই সরকারী টেলিকম অপারেটর একাই মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করতো। তাদের প্রোডাক্টের কাছাকাছি ছিল না কোন বিকল্প। এই মনোপলিস্টিক পরিবেশে যে ঝামেলাটা হয় তার একটা আইনগত সংঙ্গা রয়েছে। আগেও আলাপ করেছি এটা নিয়ে। ‘ব্যারিয়ার্স টু এন্ট্রি’র বেশ কয়েকটা গল্প চালু আছে। আগের গল্পটা থেকে এটার পার্সপেক্টিভ কিছুটা ভিন্ন। এখানে দেখা যায় যে টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করতে যেয়ে যেসব ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার রিসোর্স প্রয়োজন তার সবগুলোই থাকে ওই সরকারী কোম্পানিগুলোর হাতে। মনে আছে সত্তুরের দিকের স্যাটেলাইট আর্থ স্টেশনের কথা?

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The trouble with government regulation of the market is that it prohibits capitalistic acts between consenting adults.

– Robert Nozick

৪৮০.

আমাদের দেশেও হয়েছে একই কাজ। বেসরকারী আর বেশকিছু বাইরের কোম্পানি প্রবেশাধিকার পেল নব্বইয়ের দিকে। আজকের মোবাইলের যে জয় জয়কার সেটা হয়েছে ওই উন্মুক্তকরণের নীতিমালার কারণে। প্রাইভেটাইজেশন নিয়ে এসেছে দক্ষতা আর কম টাকায় কথা বলার নিশ্চয়তা। এটা ঠিক যে খরচ কমানোর জন্য যথেষ্ট পরিমান প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরী আর সরকারের রেগুলেটরি জ্ঞান না থাকার কারণে দাম চড়া ছিলো প্রথম দিকে। রেগুলেটরও কাজ করতে পারেনি ঠিকমতো – শুরুর দিকে। বাজার ঠিক মতো চলছে কি না আর তার সাথে নতুন অপারেটরের জন্য ‘ব্যারিয়ার্স টু এন্ট্রি’র মতো বিষয়গুলো আমাদের বাজারে তাদেরকে নিরুত্সাহিত করছে কিনা সেটা দেখার দ্বায়িত্ব সরকারের। ‘ব্যারিয়ার্স টু এন্ট্রি’ মানে নতুন কোন কোম্পানির জন্য দেশের বাজারে ঢুকতে প্রতিযোগীদের কাছ থেকে যে ধরনের সহযোগিতার দরকার সেটা না পেলে সে নতুন করে ইনভেস্টমেন্টে এগোয় না।

৪৮১.

আমাদের মোবাইল অপারেটরগুলো এ ঝামেলায় পড়েছিলো বটে। ল্যান্ড লাইনে সংযোগ না পাবার কারণে আন্তসংযোগ ছাড়াই চালু করে মোবাইল সার্ভিস। অথচ, নীতিমালা বলেছে সার্ভিসে যাবার তিন মাসের মধ্যে কোম্পানিগুলো নিজেদের মধ্যে কল আদান প্রদান করার চুক্তি করার কথা। মানে, প্রয়োগ ছিলো না নীতিমালার। সরকারী কোম্পানিকেও বাধ্য করা হয়নি ওসময়ে। ক্ষতি হলো কার? গ্রাহকদের। কিনতে হলো জোড়ায় জোড়ায় ফোন। মাথা কুটলেও কল যেতো না ল্যান্ড নেটওয়ার্কে। হারালো মানুষ তার একটা নাগরিক অধিকার। যেকোন ফোনে কথা বলার অধিকার। লিখেছিলাম এটা নিয়ে প্রথম-আলোতে। সেই দুহাজার পাঁচে। বিটিআরসিতে যাবার দুবছর আগে। কে জানতো আমাকেই যেতে হবে ওখানে? এই আন্ত:সংযোগ নিয়ে কাজ করতে।

৪৮২.

সবচেয়ে বড় এক্সারসাইজটা করতে হয়েছিল এই আন্তসংযোগ রেট নির্ধারণ করতে গিয়ে। সময় লেগেছিলো দুবছর। এক অপারেটর থেকে আরেক অপারেটর কতো পয়সাতে আপনার কলটা পাঠাতে পারবে সেটার একটা কস্ট মডেলিং। ‘ডিউ-ডিলিজেন্সে’র মতো টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের সবচেয়ে কমপ্লেক্স আন্ডারটেকিং। কোম্পানিগুলোর অদক্ষতার কারণে আপনার ফোন বিল বাড়লো কি না সেটাও দেখে এই এক্সারসাইজ। অপারেটরদের লক্ষাধিক ইনপুটের ওপর বের করা হয় একটা কল্পিত অপারেটর। তার কল রেট কতো হওয়া উচিত সেটা আসে এখান থেকে। গ্রাহকস্বার্থের সাথে যায় বলে অনেক দেশের টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এটা না করলেও গ্রাহকস্বার্থ বা প্রতিযোগিতা এজেন্সী করে নিয়মিত। আর তিন বছরের মতো সময় লেগেছিলো এটাকে বের করে আনতে। ফাইনালি!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

« Newer Posts - Older Posts »

%d bloggers like this: