Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ডাব্লিউটিও’

Never doubt that a small group of thoughtful, concerned citizens can change world. Indeed it is the only thing that ever has.

— Margaret Mead

৫৮৪.

ধরুন, ব্যবহার করছি আইএসপি’র সার্ভিস। লিখিত আর অলিখিত হোক, একটা সার্ভিস লেভেল এগ্রিমেন্ট আছে – তার সাথে আমার। গ্রাহক হিসেবে আমার অধিকার থাকার কথা ওই কোম্পানিটার সাথে সরকারের কি চুক্তি হয়েছে তা দেখার। অনুলিপি নেবার বাড়তি টাকাটা বরং প্রতিবন্ধক হিসেবে দাড়াবে গ্রাহক পর্যায়ে। ওয়েবসাইট হচ্ছে সবচেয়ে ভালো মাধ্যম। আর সেজন্যই ছুঁতো পেলেই করতাম পাবলিক কনসাল্টেশন। মতামত নিতাম সবার। দেখা যেতো যা চিন্তা করেছি – গ্রাহক আর ইন্ডাস্ট্রি চাইছে আরেক জিনিস। ভুল হয়েছে আমারই। আর আমি তো জানবো না সবকিছু। ‘ইগো’ ফেলে দিয়ে নতুন প্রস্তাব দিতাম নীতিনির্ধারকদের।

৫৮৫.

আমি নীতিনির্ধারকদের দোষ দেখি না অনেক জায়গায়। তারা বরং চান – জিনিসগুলো হোক। আর নির্ভর করেন আমাদের ওপর। বেশি জানি বলে অনেক সময় আটকে দেবার চেষ্টা করি আমাদের মনোমতো হয়নি বলে। ইনোভেশনের সুযোগ হারায় মানুষ। ডাব্লিউটিও’র কথা ছিলো দুটো। উন্মুক্ত করতে হবে ক. লাইসেন্সের সব ক্রাইটেরিয়া আর কতোদিনের মধ্যে লাইসেন্সটা পাবেন ‘আবেদনকারী’? সময়সীমাটা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারী তো বসে থাকবেন না অনন্তকাল ধরে।

৫৮৬.

অনেক উদ্যোক্তাকে দেখেছি মাসের পর মাস কর্মচারীর বেতন আর বিল্ডিং ভাড়া গুনে যাচ্ছেন। ভেবেছেন, হয়ে যাবে হয়তোবা – কয়েক মাসের মধ্যে। হয়েছে পরে, তবে ব্যবসাটা আর টানতে পারেননি অতগুলো বছর। কতোদিন বসিয়ে খাওয়াতে পারবেন ব্যবসা শুরু করতে না পারলে? আমার কথা, হ্যা অথবা না – হওয়া উচিত একটা সময়ের মধ্যে। ছোট ব্যবস্যা – সর্বোচ্চ চৌদ্দ দিন। বড় ব্যবস্যা মানে সাবমেরিন ক্যাবল অথবা মোবাইল কোম্পানি – পয়তাল্লিশ দিন থেকে দুমাস।

৫৮৭.

সবকিছুর জন্য থাকবে ‘ওয়েল পাবলিসাইজড’ ‘ডিফাইনড প্রসেস’। তাহলে সময় লাগবে কেন বেশি? সময় বেশি লাগলেই ওর ভেতরে অন্যায় কিছু ব্যাপার ঢুকে যেতে পারে। তারপরও সময় বেশি লাগলে – জানিয়ে নিন সবাইকে। ডাব্লিউটিও দ্বিতীয় পয়েন্টটা ছিলো খ. ইন্ডিভিজুয়াল লাইসেন্সের সব টার্মস/কন্ডিশন সবাইকে জানানোর ব্যাপারে। আবার, লাইসেন্স না পাবার কারণ বলতে হবে আবেদনকারী চাইলে।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

We can easily forgive a child who is afraid of the dark; the real tragedy of life is when men are afraid of the light.

– Plato

৫৭৭.

ডাব্লিউটিও’র রেফারেন্স পেপারের প্রথমেই কোম্পানীদের মধ্যে সার্ভিসগুলোর ভেতর ‘প্রতিযোগিতামূলক সেফগার্ড’ রাখার কথা বলা হয়েছে বার বার। ছোট কোম্পানীগুলোকে দেখবে কে? রেগুলেটর। বড় বড় কোম্পানিগুলো একে ওপরকে অথবা বড়রা সবাই মিলে ছোট কোম্পানিগুলোকে বাজার থেকে বের করে দেবার অপকৌশলের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছে রেগুলেটরকে। ‘ক্রস-সাবসিডাইজেশন’ মানে কয়েকটা পণ্যের লাভ মিলিয়ে একটা কোম্পানির প্রোডাক্টের দাম এমন কমিয়ে আনে যাতে শুধুমাত্র ওই প্রোডাক্ট তৈরী করছে যারা – তারা যাতে আর না আসতে পারে প্রতিযোগিতায়। অনেক সময় প্রতিযোগীদের ভেতরের তথ্য নিয়ে নিজের পণ্যকে এমন ভাবে নিয়ে আসে যাতে প্রতিযোগীরা মার খেয়ে যায়। ব্যবসা গোটাতে হয় বাজারে যাবার আগেই। আবার আমার তৈরী কাঁচামাল নিয়ে অন্যেরা কোন প্রোডাক্ট বাজারে নিয়ে আসলে সেখানে সাপ্লাই চেইন বন্ধ করে বিপদে ফেলে রিটেলারদের। এধরনের কাজ হলে আটকে দেবে রেগুলেটর। এসব কাজে প্রতিযোগিতা হারায় মুক্ত বাজার। মুক্ত বাজার মানে এই নয় যে যা ইচ্ছা করতে পারবে সে। আর প্রতিযোগিতা না থাকলে দাম কমবে কিভাবে? আপনারই বলুন। 

৫৭৮.

সব সার্ভিসের জন্য দরকার নেই লাইসেন্সের। তবে ‘ইনোভেশন’ বন্ধ করতে চাইলে সেটার দরকার হতে পারে হয়তোবা। অন্যান্য দেশগুলোর ‘টেলিকমিউনিকেশন অ্যাক্ট’ পড়ে মনে হয়েছে তাই। আমার ধারণায় টেলিকম অ্যাক্টে ‘এনিথিং হুইচ ইজ নট প্রোহিবিটেড ইজ পারমিটেড’ ব্যাপারটা থাকলে ইনোভেশনে ঠেখাতে পারতো না আমাদের। শুরুতেই লাইসেন্স লাগলে আজকের বিলিয়ন ডলারের ইনডাস্ট্রি ফেসবুক আর ইউটিউব দেখতো না আলোর মুখ। রেগুলেটরকে ছাড় দিতে হবে নতুন নতুন উদ্ভাবনাকে। উল্টো, নতুন পথ দেখাতে হবে ছোট ছোট উদ্যোক্তাদের। লাইসেন্স লাগবে কি লাগবে না – সেটা দেখা যাবে প্রজেক্ট ওড়ার পর। হাজারো লোক আসতো আমার কাছে, ভাই, এটা করবো – ওটা করবো। করবো ডাটা সেন্টার, অনলাইন রেডিও, পডকাস্টিং। “লাইসেন্স দেন আগে। সবাই বলছে – লাগবে লাইসেন্স।” আমার কথা একটাই, শুরু করুন তো আগে। আমাদের একটা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিন এটা করতে চাচ্ছেন – এই টাইম লাইনের মধ্যে।

৫৭৯.

বলুন তো গুগল, ইউটিউব আর ফেসবুকের লাইসেন্স লেগেছিল কি প্রথমে? টেলিকম লাইসেন্স? জিনিসটা ওড়ার পর সার্ভিসটা নিয়ে কোম্পানী তৈরি করতে গিয়ে ওই দেশের কোম্পানী অ্যাক্ট অনুযায়ী যা যা লাগে সেটাই করেছে তারা। তারা সেটা করতে পারবে কি, পারবে না সেটার জন্য ধরনা দিতে হয়নি সরকারের কাছে। বসে থাকতে হয়নি বছর ধরে। ভালো করে তাকিয়ে দেখুন – আমাদের দেশের মালিকানাধীন কোম্পানীগুলোর যাদের ‘প্রেজেন্স’ রয়েছে দেশের বাইরে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের রেজিস্ট্রেশন নিতে আগ্রহী। অথবা, আয়ারল্যান্ড। ভুল বুঝবেন না, দেশ চালাচ্ছে কিন্তু উদ্যোক্তারা। তাদেরকে অনিয়মের জুজুবুড়ীর ভয় দেখিয়ে ইনোভেশন আটকে দিলে তারা চলে যাবে দেশের বাইরে। কর্মসংস্থান হবে ওদেশে। আর সেজন্যই ব্যবসায়িক ক্যাটেগরীর অভিবাসন নীতিমালা ততো মাত্রায় শিথিল। নীতিমালা করতে হবে ব্যবসাবান্ধব। পেঁচাবেন বেশি, তো সুযোগ হারাবে দেশ। হয়তোবা – ওনার হবে না কিছু, দেশ হারাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ।  

৫৮০.

বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রির সাথে কাজ করতে গেলে পড়তে হয় প্রচুর ইন্টারন্যাশনাল লিগাল ডকুমেন্টেশন। গুগলের সাথে কাজ করতে গিয়ে শতখানিক ‘লিগালীজ’ জানতে হয়েছে এই আমাকেই। ফেইসবুক নিয়েও একই অবস্থা। ইনোভেশন আর ‘ফ্রী স্পীচে’র ধারক হিসেবে মার্কিন ‘ডিজিটাল মিলেনিয়াম কপিরাইট অ্যাক্টে’র ধারা ৫১২ ভালো কাজ করেছে অনেক দেশেই। প্ল্যাটফর্ম প্রোভাইডারদের স্বাধীনতা দিয়েছে ওই অ্যাক্ট। আর সেকারণে ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্ম এখনো টিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। আবার ‘কমিউনিকেশন ডিসেন্সি অ্যাক্টে’র ২৩০ ধারা সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের প্ল্যাটফর্মগুলোকে ভারসাম্য দিয়েছে অনেকটাই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটা যুগান্তকারী ব্যাপার হচ্ছে সাম্প্রতিক ‘ইনোভেশন অ্যাক্ট’। দেখবেন নাকি এক পলক? ধরাধরি করলে তো অনেক কিছুই করা যায়। তাহলে মুখ থুবড়ে পড়তো আইটি ইনডাস্ট্রি। পোস্ট দিলেন আপনি, আর বন্ধ করলেন ফেসবুক বা ইউটিউবের প্ল্যাটফর্ম, ঠিক হলো জিনিসটা? এটা তো ‘ইউজার জেনারটেড কনটেন্ট’, ধর্মীয় বিদ্বেষী হলে আইনগত ব্যবস্থা নিন তার বিরুদ্ধে। তবে, সেই মানুষটার মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ না হয় সেটা দেখবে সর্বোচ্চ আদালত। কিছু মানুষ সরকারকে ভুল পথ দেখালেও সেটা ঠিক করে দেবে দেশের বিচার ব্যবস্থা। সবকিছুর ওপর আস্থা হারালে যাবে কোথায় মানুষ? 

৫৮১.

মোদ্দা কথা, প্রাইভেট সেক্টর মুখিয়ে আছে আইডিয়া নিয়ে। ক্লিক করতে দিন তাদের। পয়সা তো চাচ্ছে না তারা সরকারের কাছ থেকে। শুরু করতে দিন কাজটা। নীতিমালার বাইরে রাখুন পরীক্ষামূলক কাজগুলো। প্রথম তিন বছরের ‘ইনোভেশন’ হলিডে দিন উদ্যোক্তাদের। ‘ফ্লাই’ করতে দিন তাদের স্বপ্নের প্রজেক্টটাকে। দরকার হলে নীতিমালার ভেতরে নিয়ে আসুন এর পরের বছরগুলোতে। যখন উদ্যোক্তারা শোনেন ‘নীতিমালা তৈরি হচ্ছে’ গত পাঁচ বছর ধরে, তখন তারা চলে যান ভিয়েতনাম, না হয় মালয়েশিয়া। পরিক্ষিত প্রযুক্তি নিয়ে বসে থাকতে চান না কোনো উদ্যোক্তা। ‘আমি বুঝি না তাই এর অনুমতি দেবো না’ অথবা, ‘না বুঝে দিয়ে বিপদে পড়বো নাকি’ মনোভাব পিছিয়ে দিচ্ছে দেশকে। তবে, যেগুলোর জন্য দরকার লাইসেন্স, তার ‘লাইসেন্সিং ক্রাইটেরিয়া’ মানে লাইসেন্সের সব ‘ক্লজ’ উন্মুক্ত করতে বলেছে – সবার জন্য। ডাব্লিউটিও। আমাদের টেলিযোগাযোগ আইনও বলেছে একই কথা। উন্মুক্ত করতে হবে লাইসেন্সের সব ক্রাইটেরিয়া। সবার জন্য। জানবে সবাই। লুকোচুরির তো কিছু নেই। আপনার সার্ভিস প্রোভাইডার মানে আইএসপি, মোবাইল কোম্পানী আপনাকে কী দিচ্ছে আর সে কি বলে সরকারের কাছে লাইসেন্স নিয়েছে সেটা তো জানতে চাইবেন গ্রাহকরা। বলেছেন রেগুলেটরকে একটা – আর গ্রাহককে দিচ্ছেন আরেকটা, থাকতে হবে তো একটা ‘চেকিং মেকানিজম’। 

৫৮২.

সব লাইসেন্সের কপি ওয়েবসাইটে দেবার ব্যাপারে কাজ করতে হয়েছে আমাকে। শুরুতে অনেকগুলোই ছিলো না ওয়েবসাইটে। মোবাইল লাইসেন্সটাও ছিলো না অনেকদিন। সাংবাদিকরা চাইতেন মাঝে মধ্যে। আমাদের ভেতরের অনেকে বললেন – দিলে সমস্যা হতে পারে। সারাদিন আমাদের ভুল বের করার চেষ্টা করবেন তারা। টেলিকম অ্যাক্টে কিন্তু উন্মুক্ত করতে বলা হয়েছে সব লাইসেন্সিং ক্লজ। তখন অনেকে বললেন দুহাজার টাকা নিয়ে অনুলিপি দেবার কথা। আমার কথা একটাই। মানুষের জন্যই তো আমরা। আমাদের ভুল বের করে দিলে এর থেকে খুশির খবর কি আছে আর? ভুল শোধরাবার পথ পাওয়া গেলো বরং। আমার কণসেপ্টে ‘থার্ড আই’ কাজ করে ভালো। সরকার নয়, একটা জনগোষ্ঠী জানে কিসে ভালো হবে তাদের। শুনে নিন তাদের কথা। ‘ইনক্লুসিভনেস’ কথাটা তো উড়ে আসেনি এমনিতেই! সম্পৃক্ত করতে হবে গ্রাহক, সার্ভিস প্রোভাইডার, সম্পর্কিত স্টেকহোল্ডারদের। গ্রহণযোগ্যতা আসবে তখনি।

৫৮৩.

ইউএন পিস কীপিং অপারেশনের একটা বড় কাজ হচ্ছে বেসামরিক জনপদকে রক্ষা করা, যেকোন মূল্যে। রুয়াণ্ডান জেনোসাইড নিয়ে ‘হোটেল রুয়াণ্ডা’ দেখেছেন নিশ্চয়ই। জাতিগত বিদ্বেষে প্রথমেই টার্গেট হন বেসামরিক মানুষেরা। তবে এই ‘কো-ল্যাটেরাল ড্যামেজে’র প্রথম শিকার হন মহিলা আর বাচ্চারা। আর সেকারণে আমাদের প্রথম ম্যানডেট, ‘প্রোটেকশন অফ সিভিলিয়ান’ – নো ম্যাটার হোয়াট! আইভরি কোস্টে পিস কীপিং মিশন চলছে প্রায় দশ বছর ধরে। মিলিটারি অ্যাকশন কমাতে বাড়ছে এখন ইনফ্রাস্ট্রাক্চার প্রজেক্ট। ছোট ছোট প্রজেক্ট, মন জয় না করতে পারলে বাকি কাজ কষ্টসাধ্য। সেটা পড়েছে আমার ডিপার্টমেন্টে, সিভিল মিলিটারি কোর্ডিনেশনে। আমি হচ্ছি মিলিটারির সর্বশেষ কম্পোনেণ্ট যেটা কাজ করছে সাধারণ জনগণের সাথে। যুদ্ধে দরকারী সব ইনফ্রাস্ট্রাক্চার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় অনেক কিছুই তৈরি করতে হচ্ছে নতুন করে। স্কুল, কলেজ, হাট, বাজার – লাইব্রেরীর প্রজেক্ট নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে ইদানিং। কোন গ্রামে কি দরকার সেটা কিন্তু ঠিক করছি না আমরা। চেষ্টাও করছি না চাপানোর। বরং, কথা বলছি সবার সাথে। শুনছি তাদের কষ্টের কথা। উঠে আসছে তাদের ‘এক্সপেক্টেশন’গুলো। সহকর্মীদের বলি, এটা কিন্তু তাদের দেশ। আমরা এসেছি সহায়তা দিতে তাদের। শুনতে হবে তাদের কথা, শুরুতেই! তাহলেই আসবে গ্রহনযোগ্যতা।   

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

In a bold move, the Pakistan Telecom Authority, the telecom Regulator has made it mandatory that all bases stations being set up with support from the USF should be ‘Green Sites’ or renewable energy powered, especially solar and wind as the case may be. The reason being that there is currently, a huge shortage of electricity in rural Pakistan.

– The Hindu, Business Line print edition, May 7, 2010

৫৭৩.

টেলিযোগাযোগের জন্য ওই সার্বজনীন সেবা মানে ‘ইউনিভার্সাল সার্ভিস’ নিয়ে বাংলাদেশ চিন্তা করেছে এই দুহাজার নয়ে। নাম দেয়া হয়েছিলো আমাদের মতো করে। ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল’। শহরে ভালো ব্যবসা করলেও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার জন্য এই ছাড়। মানে সবার জন্য ফোন বা কিছু একটা। সুলভ বা বিনামূল্যে সংযোগ। ধরুন, প্রথম কয়েক বছরের জন্য। আমার রিসার্চ বলে, সংযোগের কারণে এর মধ্যেই বের হয়ে আসবে মানুষটি তার বর্তমান ‘সুবিধাবঞ্চিত’ অবস্থান থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপারটা নিয়ে লিখেছিলাম এখানে। পাশের দেশ ভারত আর পাকিস্তানে ব্যাপারটা নিয়ে রয়েছে আলাদা আলাদা অফিস।

৫৭৪.

ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে ছিলাম আমিও। সেটাকে টেলিযোগাযোগ নীতিমালাতে ঢোকাতে কিছুটা সময় লেগেছে হয়তোবা। সুবিধাবঞ্চিতদের যেকোনো ধরনের সংযোগ বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র মূল্যে দেবার জন্য তৈরী করা হয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল। শুরু হয়েছে মোবাইল অপারেটরদের দিয়ে। তাদের রেভিনিউয়ের এক শতাংশ জমা হচ্ছে ওই ইউনিভার্সাল অবলিগেশন ফান্ডে। শর্তটা ঢোকানো হয়েছে লাইসেন্স নবায়নের সময়। এই দুহাজার দশে। ওই টাকা খরচ হবে সুবিধাবঞ্চিতদের সংযোগ দেবার জন্য।

৫৭৫.

পর্যায়ক্রমে নীতিমালাটা ঢোকানোর কথা সব লাইসেন্সে। ডাব্লিউটিও চুক্তিবদ্ধ দেশগুলোকে নিজেদের মতো করে চালানোর পরামর্শ দিয়েছে এই ইউনিভার্সাল অবলিগেশন ফান্ড। তবে সেটার ‘এন্টি কম্পিটিটিভ’ ব্যবহার ব্যহত করতে পারে বাজারকে। ফান্ড ম্যানেজমেন্টে স্বচ্ছতা না থাকলে অধিকার হারাবে গ্রাহকেরা। অপারেটররাও প্রতারিত মনে করতে পারে নিজেদেরকে। চাঁদা দেবে যারা – তাদের কাছে এটা বোঝা হিসেবে না দাড়ায় – সেটা দেখতে হবে দেশগুলোকে। অনেক দেশে এই চাঁদার পরিমাণ পাঁচ শতাংশের অধিক হলেও বাংলাদেশে সেটা করা হয়েছে মাত্র এক শতাংশ।

৫৭৬॰

অনেক দেশ চাঁদা তোলা আর ফান্ড ডিজবার্সমেন্ট মানে টাকা খরচ করার আলাদা এজেন্সী করার প্রস্তাব দিয়েছে স্বচ্ছতা আনার জন্য। যে টাকা তোলে আর সেই যদি টাকা বরাদ্দ করে, সেখানে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। দেখা গেছে এই সমস্যার কারণে অনেক দেশে টাকাগুলো ব্যবহার করা যায়নি বহু বছর। এতে শহরের মানুষের কিছু এসে না গেলেও বঞ্চিত হবে স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর অধিকার। এই ইউনিভার্সাল সার্ভিস ফান্ড নিয়ে অনেকগুলো কোর্স করেছিলাম নিজে নিজে। আলাদা বই লিখলে কেমন হয়?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The most common way people give up their power is by thinking they don’t have any.

– Alice Walker

৫৭০.

ইন্টারকানেকশন না হলে কি হয় সেটা দেখেছেন বছর কয়েক আগে। এই বাংলাদেশেই। ফোন আপনার। টেলিযোগাযোগের নীতি অনুযায়ী আপনার ফোন থেকে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় হ্যালো বলতে পারার কথা। টাকা একটু বেশি লাগবে – এই যা। তাই বলে কলই যাবে না – এটা হয় কখনো? এধরনের আধাআধি সার্ভিস দেবার কথা নয় আপনার সার্ভিস প্রোভাইডারের। তো রেগুলেটর আছে কি কারণে? ‘জিপি টু জিপি’ বা ‘একটেল টু একটেল’ প্যাকেজ? গ্রাহকের অধিকার খর্ব হয় এখানে। দরকারের সময় মাথা কুটে হাজার টাকা ভরলেও ফোন যেতো না আরেকজনের কাছে। তবে, রেগুলেটর কিছু করার আগেই ব্যাপারটা ঠিক করে ফেলে বাজার। তবে, পিছিয়ে পড়ে গ্রাহকস্বার্থ।

৫৭১॰

একারণে অপারেটর থেকে অপারেটরের মধ্যে ইন্টারকানেকশনকে বিশেষ প্রায়োরিটি দিয়েছে ডাব্লিউটিও। বাজারে নতুন অপারেটর আসলে তার সুবিধামতো জায়গায় কতো দিনের মধ্যে ওই সংযোগটা দিতে হবে সেটার একটা ভালো আলাপ আছে ওর মধ্যে। বড় অপারেটর আন্তসংযোগ না দিয়ে যাবে কোথায়? আবার, ইন্টারকানেকশনের চুক্তি জানবে সবাই। সংযোগ পাবার রেট হবে কস্ট বেসড, প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। সেটার দাম নির্ধারণ করতে কস্ট মডেলিং করতে মানা করছে না কেউ। অতিরিক্ত মুনাফা নয়। দুবছরের এই এক্সারসাইজ কাকে বলে আমাকে জিজ্ঞাসা করুন। লিখেছি আগেও। আবার, অপারেটরদের অদক্ষতার কারণে কলের দাম বাড়লে সেটাও দেখবে রেগুলেটর। ওই দেশে আন্ত:সংযোগ রেট কতো হবে সেটা দেখে দেবে তারাই। পাশাপাশি সংযোগের টাকা পয়সার ক্যাচাল মানে ‘ডিসপিউট রেজল্যুশন’ মেটানোর গল্প দেয়া না থাকলে গ্রাহকের ক্ষতি।

৫৭২.

‘ইউনিভার্সাল সার্ভিস’টা বড় জিনিস হিসেবে এসেছে ডাব্লিউটিও’র এই রেফারেন্স পেপারে। রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকে তাদের জনগনের প্রতি। যেমন – সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা অথবা বিদ্যুৎ – সবার জন্য। প্রতিটা মানুষের জন্য হতে হবে এক সেবা। ইউনিভার্সাল। প্রতিটা মানুষের জন্য বাসা দেয়া হতে পারে একটা ইউনিভার্সাল সার্ভিস। ধারণাটা শুরু হয় আঠারো সাইত্রিশ সালে। ব্রিটেনে। আপনার বাসা যতো দুরে বা জঙ্গলে হোক না কেন ওই এক রেটে চিঠি পাঠাবার সুবিধা নিয়ে আসলো এই ইউনিভার্সাল পোস্টাল সার্ভিস। ব্যাপারটা কাজ করে লিগাল ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে। প্রতিটা জনগনের জন্য ফোন সংযোগ কিন্তু একটা ইউনিভার্সাল সার্ভিস। আছে নীতিমালায়। নেই প্রয়োগ। জানেও না জনগণ। জানলেও, চাইতে পারছে না কেন জানি।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I attribute my success to this: I never gave or took any excuse.

– Florence Nightingale

৫৬৬.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

৫৬৭.

ওই উনিশশো ছিয়ানব্বইতে ‘বেসিক টেলিকমিউনিকেশনস’ নিয়ে একটা ‘রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে’ কি কি থাকা উচিত – সেটা লেখা হলো নেগোশিয়েশন টেবিলে। মাথা নাড়লো মানে ‘নড’ দিল ওই বিরাশিটা দেশ। কিছু সঙ্গা আর তার জন্য দরকারী ধারা ছিলো ওখানে। সঙ্গায়িত না করলে কি হয় সেটা আমার থেকে ভালো জানবে কে আর? সঙ্গায়িত না করলে পরে যে যার মতো নেয় ভেবে। এটার পরিনতি হয় ভয়াবহ। ওই সময়ে যে বিষয়গুলো দেশগুলো মেনে নিয়েছিলো সেটা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম প্রথমে। কারণ, এখনো মানেনি অনেক দেশ।

৫৬৮.

তবে, যারা মেনেছিল – তারা আজ দাড়িয়েছে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে একেকটা নক্ষত্র হিসেবে। ওই দেশগুলোর কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে পৃথিবীকে। ওই ‘রেফারেন্স পেপারে’ টেলিযোগাযোগের ব্যবহারকারী হিসেবে আমার আপনার মতো গ্রাহকদের নেয়নি শুধু, সার্ভিস দিচ্ছে যারা তাদেরকেও শামিল করেছে সঙ্গার মধ্যে। কোন সার্ভিস যদি একটা বা গুটিকয়েক কোম্পানি দেয় আর – সেই সার্ভিসটার বিকল্প তৈরী করার প্রয়োজন না পড়ে – সেটাকে তারা বলতে চাচ্ছে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’। যেটা ছাড়া দেশ অচল। দেশের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে ওই সার্ভিসগুলো।

৫৬৯.

উদাহরণ নিয়ে আসি, কী বলেন? যেমন, বিটিসিএলের কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথ আনার জন্য দুই একটা সার্কিটের বেশি প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের। এখানে বেশি সার্কিট তৈরী করলেই বরং খরচ পড়বে বেশি। আর সেটা পড়বে গিয়ে গ্রাহকদের ঘাড়ে। এদিক দিয়ে না হলে অন্যদিক দিয়ে। মানে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’ আনা নেয়া করতে গিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে একে ‘রেপ্লিকেট’ করা গেলেও টাকাতে নাও কুলাতে পারে দেশগুলোর জন্য। তবে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’টাকে কে নিয়ন্ত্রণ করছে আর তার ওই সম্পর্কিত বাজারে পজিশন কেমন সেটা দেখবে রেগুলেটর। ওই সার্ভিসটার দাম হবে কস্ট বেসড – মানে লাভ করে নয়। মোদ্দা কথা, ব্যবসা করবে না এখানে সরকারী কোম্পানী। 

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Education costs money. But then so does ignorance.

– Sir Claus Moser

৫৬২.

নীতিমালার একটা ‘প্রেডিক্টাবিলিটি’র কথা বলে ইনভেস্টররা। যেকোনো ব্যাপারে একটা চালু নীতিমালা থাকার কথা। লেখা থাকলে ভালো। আর লেখা না থাকলে রেগুলেটরে ওই মানুষটা পাল্টালে বিপদ। যেকোন ঝামেলা মেটানোর জন্য একটা ‘ওয়েল ডিফাইন্ড’ প্রোসিডিং না থাকলে একেক সময়ে একেক রেজল্যুশন হলে ভয়ে থাকে ইনভেস্টররা। এধরনের অনিশ্চয়তা চায় না বিলিয়ন ডলারের এই ইনভেস্টররা। আর তারা ‘হিট এন্ড রান’ ব্যবসা করতে আসেনি নতুন দেশে। ‘লাভ করলাম আর চলে গেলাম’ কিসিমের ব্যবসা হয় না এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টরে। আর যদি পাল্টাতেই হয় – সেটার একটা ‘প্ল্যানড’ রোডম্যাপ থাকতে হবে আগে থেকে। সবাই জানবে পরিবর্তনটা। কবে হবে, কিভাবে হবে, কে করবে, কাদের মাধ্যমে করবে, ইন্টার-ডিপেন্ডেন্সি কোথায় – সব বলা থাকবে ওই পাবলিক ডকুমেন্টে।

৫৬৩.

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘বোঝার সমস্যা’র কারণে বড় বড় বাণিজ্যিক লেনদেন ব্যহত হচ্ছিলো অনেকদিন ধরে। আবার টেলিযোগাযোগ সেবাটাও দাড়িয়ে গেল দেশেগুলোর জনগনের একটা মৌলিক অধিকার হিসেবে। ব্যবসাতে সমস্যা হওয়াতে সেটা নিয়ে এগিয়ে এলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন, ডাব্লিউটিও। বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে প্রথম চুক্তিটা হয় উরুগুয়ে রাউন্ডে (১৯৮৬-৯৪)। ততোদিনে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস জেনারেট করছে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এটা নিয়ে সব দেশ না ভাবলেও ভাবছিল অনেকেই। প্রথম কথা শুরু হয় ভ্যালু এডেড সার্ভিস নিয়ে। মোবাইলটাও ছিলো ওই সার্ভিসের মধ্যে। ১০৮টা দেশ টেলিযোগাযোগের ভেতরে বাণিজ্যিক গল্পে সন্মতি দেয়। উরুগুয়ে রাউন্ডের পর (১৯৯৪-৯৭) নতুন দেন-দরবারে বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই সেক্টরের রিফর্মের আলাপটা চলে আসে। এতো বড় বাজার – দরকার রেগুলেটরি রিফর্ম।

৫৬৪.

পুরনো মান্ধাতা আইন দিয়ে না চালিয়ে নতুন ‘ইনোভেটিভ’ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের প্রয়োজন মনে করলো সব দেশ। রেগুলেটরের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দরকার চমত্কার একটা আইন। সময়োপযোগী। সরকারী কোম্পানি ভালো না ব্যবসায়। বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এগুলো দিয়ে দেয়া যায় বরং। রেগুলেটর না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো পারবে না সরকারী কোম্পানির সাথে। দরকার শক্ত রেগুলেটর। কথা বলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ওই ১০৮টা দেশ যে চুক্তিতে মত দেয় সেটাতে নতুন টেলিযোগাযোগ কোম্পানি খোলা থেকে শুরু করে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের নীতিমালা আর দেশগুলোর ভেতর যোগাযোগের নতুন মাত্রা আনলো বলে। ওটা না হলে আজকের সাবমেরিন ক্যাবলের দেখা পেতেন বলুন?

৫৬৫.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

No policy that does not rest upon some philosophical public opinion can be permanently maintained.

Abraham Lincoln

৫২৬.

আরেকটা দাম কমানোর টুলে আসি আজ। এটা আরেকটা রেগুলেটরি টুল, নাম এসএমপি। মানে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার। বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিকমতো আছে কিনা সেটা দেখার দ্বায়িত্ব রেগুলেটরের। একাজে ‘কম্পিটিশন এজেন্সী’ একটা বিশেষায়িত সংস্থা। ওটা যতদিন না আসছে – ততোদিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের কাজ এটা। ডাব্লিউটিও, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন এটা নিয়ে কাজ করছে অনেকদিন ধরে। কোন দেশে ঠিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা না থাকলে ক্ষতি সবারই। ক্ষতি ছোট কোম্পানিগুলোর। সবচেয়ে ক্ষতি গ্রাহকের। গ্রাহক কখনো জানতে পারেনা প্রোডাক্টটার আসল দাম কতো। বাজার হারায় তার দক্ষতা। তৈরী হয়না বিকল্প পণ্য। ফলে দাম কমে না ইন্টারনেটের মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিসের।

৫২৭.

সাপ্লাই সাইডের সমস্যা নিরসনে ডাব্লিউটিও’র চুক্তিতে আমরা আছি কিন্তু। তবে নীতিমালার প্রযোজ্যতা নেই খুব একটা। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে এটা দেখে কোর্ট, তবে বাকি প্রায় সব দেশে সুস্থ্য প্রতিযোগিতার মানদন্ড নির্ধারণ করে থাকে কোম্পানিগুলোর মার্কেট শেয়ারের ওপর। অনেক কোম্পানি থাকার অর্থ এই নয় যে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বহাল আছে। এটা বের করারও অংক আছে কয়েকটা। দু-একটা কোম্পানি যদি বাজারের বেশি অংশ ধরে রাখে তাহলে দামটাও কিছুটা ‘ডিস্টর্টেড’ হয়ে পড়ে। এখানে জিনিষটার আসল দামটা কতো হওয়া উচিত সেটা বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়টা জিনিষের ‘কস্ট-মডেলিং’ করবেন আপনি? দু-একটা কোম্পানির পণ্য বাজারের অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করলে তৈরী হয় সমস্যাটা। বাজারে অন্য কোম্পানিগুলো থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাপারটা নিয়ে কেউ দেখভাল না করলে ‘মার্কেট ফেইলুর’ হবার সম্ভাবনা বেশি। ফলে – দাম আর কমে না। অথচ, উত্পাদন খরচ এর অর্ধেক। উদাহরন দেই বরং।

৫২৮.

ব্যবস্যা আমার মুড়ির। বাংলাদেশের ষাটভাগ বাজার আমার হাতে। কারণ, আমি ঢুকেছি বাজারে আগে। আমার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বড় অনেক। সরকারের সব লোককে চেনা আমার। প্রতিযোগীরা ধারে কাছে নেই আমার। পনেরো দশ শতাংশ নিয়ে আছে বাকিরা। আমার মুড়ি একদম প্রান্তিক পর্যায়ে যায় বলে ওটার বিকল্প হিসেবে ধারে কাছে যেতে পারেনি অন্যরা। পয়সা বেশি থাকায় প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর কয়েকটাকে কিনে নিলাম আমি। সাদা চোখে এখানে সমস্যা না থাকলেও প্রতিযোগিতা না থাকায় দাম বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। কম্পিটিশন এজেন্সি থাকলে কোন কোম্পানি বাজারের একটা নির্দিষ্ট শতাংশের ওপরে গেলেই তার মুনাফা বের করে সেটার আসল দামের কাছাকাছি একটা দাম বেঁধে দিতো। টেলিকমে কম্পিটিশন রেগুলেশন আরো ভয়াবহ। ডোমিন্যান্ট মানে বড় অপারেটরের হাজারো আন্ডারটেকিং। আর তার বড় হবার ক্ষমতাকে অপব্যবহার করলে হয় কোর্ট কাচারী।

৫২৯.

সেই উনিশশো সাতানব্বইতে ইউরোপিয়ান কমিশন চারটা বাজার নির্ধারণ করে এই টেলিকমেই। মোবাইল, ফিক্সড লাইন মানে টিএন্ডটি, লীজড লাইন আর ইন্টারকানেকশন মার্কেট যার মাধ্যমে যুক্ত থাকে অপারেটররা দেশে বিদেশে। কারো বাজার কোন ভাবে ২৫% বা ওর ওপরে গেলেই তাকে এসএমপি মানে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার হিসেবে ধরা হয়। এসএমপি হলে তার নেটওয়ার্কে অন্য প্রতিযোগীরা যারা ঢুকবে – তাদেরকে দিতে হবে আসল দামে। প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। মুনাফার দামে নয়। তার নেটওয়ার্ক এলিমেন্টগুলোতে আলাদাভাবে এক্সেস চাইলে সেটা দিতে বাধ্য।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: