Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ডিমান্ড’

Success is just a war of attrition. Sure, there’s an element of talent you should probably possess. But if you just stick around long enough, eventually something is going to happen.

– Dax Shepard

৬০২.

ফিরে আসি ইন্টারনেটের দাম কমানোর গল্প নিয়ে। যেকোনো দেশের ব্রডব্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে সরকার নিজে। যারা বুঝতে পেরেছে আগে, তারা আজ উঠে গেছে ওপরে। সরকারের হাজারো অফিস, স্কুল, কলেজ আর হাসপাতাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দুরদুরান্তে। ওখানের ইন্টারনেটের সংযোগ দেবে কে? কমদামে? ধরুন, আমি ডোমারের একটা স্কুলের ম্যানেজমেন্ট কমিটিতে আছি। আমার স্কুলে দরকার পাঁচশো বারোর (কেবিপিএস) একটা সংযোগ। ওই একটা সংযোগের জন্য বিজনেস কেস হবে না কিন্তু কোন প্রোভাইডারের। তাও আবার মাত্র পাঁচশো বারো! ওটা ওখানে নিতে যে খরচ – সেটাতে অল্প টাকা যোগ করলে সংযুক্ত করা যাবে পুরো ডোমারের সব সরকারী অফিসগুলোকে।

৬০৩.

ফিরে আসি ওই স্কুলের গল্পে। ওই একটা সংযোগ হলেও তার যা দাম হবে সেটা দিতে পারবে না সরকার। আমার স্কুলের ইন্টারনেটের বিলটা দেবে হয়তোবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেটা পাস করাতেও ওই প্রোভাইডারের যে সময় ক্ষেপন হবে তাতে রাজি হবে না সে পরের মাস থেকে। মনে করুন আমি সরকার। প্রথমেই তৈরী করবো একটা ব্রডব্যান্ড কমিশন। চার পাঁচ জনের একটা অফিস। যার জায়গা হবে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে। ওই অফিসের পেটে বসে সব মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইবো কার দরকার কতো ব্যান্ডউইডথ। দরকার কি কাজে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হিসেব দেবে তার সব রিজিওনাল অফিস আর হাসপাতালগুলোর ইন্টারনেটের চাহিদা। ভিডিও কনফারেন্স সহ। জেলা ভিত্তিক।

৬০৪.

ধরুন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আয়ত্তে দুরদুরান্তের স্কুলসহ পুরো ব্যান্ডউইডথের হিসেব পাওয়া গেল পাঁচ গিগাবিট/সেকেন্ডের। আবার, জনপ্রশাসন থেকে ডিসি অফিস ধরে সবার চাহিদা পাওয়া গেল আরো তিন গিগাবিট/সেকেন্ডের। এভাবে পুরো বাংলাদেশের সরকারী সব অফিস, পুলিশ স্টেশন, স্কুল কলেজ, হাসপাতালের চাহিদা পাওয়া গেলো পঞ্চাশ গিগাবিট/সেকেন্ডের। হিসেব নিলাম সম্ভাব্য কোথায় কোথায় সংযোগটা লাগবে সেটা সহ। ব্রডব্যান্ড কমিশনের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বসলাম আমি। এই পঞ্চাশ গিগাবিট/সেকেন্ডের মধ্যে তিরিশই হচ্ছে ভেতরে ব্যান্ডউইডথ। মানে সরকারী সার্ভারগুলো তো দেশের ভেতরে। নাকি তাও নেই? যুক্ত করে দিলাম দেশের ভেতরের ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জে। তিরিশ গিগাবিট/সেকেন্ড গতি কিনবো না আর। তারমানে কিনতে হচ্ছে মাত্র বিশ গিগাবিট/সেকেন্ড। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ হিসেবে। সরকারের কতো দরকার তার একটা ‘এগ্রিগেটেড’ ডিমান্ড চলে আসলো আমার হাতে। গুগল আর ফেইসবুকের কিছু প্রাইভেট ব্যান্ডউইডথ চাইলে সেটা নেমে আসবে দশ গিগাবিট/সেকেন্ডে। সরু করে তাকালেন মনে হচ্ছে? আচ্ছা, বাদ দিলাম আজ।

৬০৫.

বিজ্ঞাপন দেয়া হলো ওয়েবসাইট আর পত্রিকায়। বিশ গিগাবিট/সেকেন্ডের কতো ব্যান্ডউইডথ দরকার – দেশের কোথায় কোথায়, সেটার হিসেব সহ। এক্সেল টেবিল আকারে দেয়া হলে দেখা যাবে ওই ডোমারের পুরো ‘এগ্রিগেটেড’ ব্যান্ডউইডথ দরকার হচ্ছে প্রায় পাঁচশো এমবিপিএস! আর ওই পাঁচশো এমবিপিএস ওখানে নিতে আরো উপজেলা হয়ে যাবার সময় ওই একই পরিমানের মতো ব্যান্ডউইডথ প্রতি উপজেলায় নামিয়ে যেতে যেতে তার বিজনেস কেস উঠে যাবে অনেক আগেই। সেখান থেকে পাঁচশো বারো কেবিপিএস নেমে যাবে স্কুলে। আশেপাশের অনেকগুলো সরকারী স্থাপনা নিয়ে। পানির দামে।

৬০৬.

ভলিউমের খেলা। আন্তর্জাতিক বাজারে একটা ভলিউমের ওপর বেশি মাত্রায় ব্যান্ডউইডথ মানে ‘আইপি ট্রানজিট’ কিনলে সেটার দাম হয়ে যায় পানির মতো। কে কতো দিয়ে কিনছে সেটা নিয়ে গবেষণা করতাম বিটিআরসিতে বসে। একটা আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইডথ গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছাতে যা খরচ পড়তো সেটাকে ভাগ করেছিলাম ষোলটা কস্ট কম্পোনেন্টে। হ্যা, ষোলটা। দুঃখজনক হলেও সত্যি এর মধ্যে লোকাল ব্যাকহল মানে দেশের ভেতরের ট্রান্সমিশন খরচটা সবচেয়ে বেশি।

৬০৭.

বিজ্ঞাপনের টেন্ডারের উত্তরে বিশাল সাড়া পড়বে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক অপারেটরদের পক্ষ থেকে। লাস্ট মাইল মানে শেষ সংযোগটা দেবার জন্য হুড়াহুড়ি পড়ে যাবে আইএসপি আর মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে। যেখানে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক অপারেটরদের নেটওয়ার্ক নেই – তবে যাদের নেটওয়ার্ক আছে তাদের সাথে ‘মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ করে নিয়ে টেন্ডারে আসবেন তারা। সরকার টাকা দেবে একটা জায়গা থেকে। ওএসএস, ওয়ান স্টপ শপ! আগের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে নয়। বিল পাশ করাতে হবে না প্রোভাইডারদের – নিজের গাটের পয়সা খরচ করে।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

No policy that does not rest upon some philosophical public opinion can be permanently maintained.

Abraham Lincoln

৫২৬.

আরেকটা দাম কমানোর টুলে আসি আজ। এটা আরেকটা রেগুলেটরি টুল, নাম এসএমপি। মানে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার। বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিকমতো আছে কিনা সেটা দেখার দ্বায়িত্ব রেগুলেটরের। একাজে ‘কম্পিটিশন এজেন্সী’ একটা বিশেষায়িত সংস্থা। ওটা যতদিন না আসছে – ততোদিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের কাজ এটা। ডাব্লিউটিও, ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন এটা নিয়ে কাজ করছে অনেকদিন ধরে। কোন দেশে ঠিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থা না থাকলে ক্ষতি সবারই। ক্ষতি ছোট কোম্পানিগুলোর। সবচেয়ে ক্ষতি গ্রাহকের। গ্রাহক কখনো জানতে পারেনা প্রোডাক্টটার আসল দাম কতো। বাজার হারায় তার দক্ষতা। তৈরী হয়না বিকল্প পণ্য। ফলে দাম কমে না ইন্টারনেটের মতো অতি প্রয়োজনীয় জিনিসের।

৫২৭.

সাপ্লাই সাইডের সমস্যা নিরসনে ডাব্লিউটিও’র চুক্তিতে আমরা আছি কিন্তু। তবে নীতিমালার প্রযোজ্যতা নেই খুব একটা। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে এটা দেখে কোর্ট, তবে বাকি প্রায় সব দেশে সুস্থ্য প্রতিযোগিতার মানদন্ড নির্ধারণ করে থাকে কোম্পানিগুলোর মার্কেট শেয়ারের ওপর। অনেক কোম্পানি থাকার অর্থ এই নয় যে বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা বহাল আছে। এটা বের করারও অংক আছে কয়েকটা। দু-একটা কোম্পানি যদি বাজারের বেশি অংশ ধরে রাখে তাহলে দামটাও কিছুটা ‘ডিস্টর্টেড’ হয়ে পড়ে। এখানে জিনিষটার আসল দামটা কতো হওয়া উচিত সেটা বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়টা জিনিষের ‘কস্ট-মডেলিং’ করবেন আপনি? দু-একটা কোম্পানির পণ্য বাজারের অধিকাংশ মানুষ ব্যবহার করলে তৈরী হয় সমস্যাটা। বাজারে অন্য কোম্পানিগুলো থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাপারটা নিয়ে কেউ দেখভাল না করলে ‘মার্কেট ফেইলুর’ হবার সম্ভাবনা বেশি। ফলে – দাম আর কমে না। অথচ, উত্পাদন খরচ এর অর্ধেক। উদাহরন দেই বরং।

৫২৮.

ব্যবস্যা আমার মুড়ির। বাংলাদেশের ষাটভাগ বাজার আমার হাতে। কারণ, আমি ঢুকেছি বাজারে আগে। আমার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বড় অনেক। সরকারের সব লোককে চেনা আমার। প্রতিযোগীরা ধারে কাছে নেই আমার। পনেরো দশ শতাংশ নিয়ে আছে বাকিরা। আমার মুড়ি একদম প্রান্তিক পর্যায়ে যায় বলে ওটার বিকল্প হিসেবে ধারে কাছে যেতে পারেনি অন্যরা। পয়সা বেশি থাকায় প্রতিযোগী কোম্পানিগুলোর কয়েকটাকে কিনে নিলাম আমি। সাদা চোখে এখানে সমস্যা না থাকলেও প্রতিযোগিতা না থাকায় দাম বেশি থাকাটাই স্বাভাবিক। কম্পিটিশন এজেন্সি থাকলে কোন কোম্পানি বাজারের একটা নির্দিষ্ট শতাংশের ওপরে গেলেই তার মুনাফা বের করে সেটার আসল দামের কাছাকাছি একটা দাম বেঁধে দিতো। টেলিকমে কম্পিটিশন রেগুলেশন আরো ভয়াবহ। ডোমিন্যান্ট মানে বড় অপারেটরের হাজারো আন্ডারটেকিং। আর তার বড় হবার ক্ষমতাকে অপব্যবহার করলে হয় কোর্ট কাচারী।

৫২৯.

সেই উনিশশো সাতানব্বইতে ইউরোপিয়ান কমিশন চারটা বাজার নির্ধারণ করে এই টেলিকমেই। মোবাইল, ফিক্সড লাইন মানে টিএন্ডটি, লীজড লাইন আর ইন্টারকানেকশন মার্কেট যার মাধ্যমে যুক্ত থাকে অপারেটররা দেশে বিদেশে। কারো বাজার কোন ভাবে ২৫% বা ওর ওপরে গেলেই তাকে এসএমপি মানে সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার হিসেবে ধরা হয়। এসএমপি হলে তার নেটওয়ার্কে অন্য প্রতিযোগীরা যারা ঢুকবে – তাদেরকে দিতে হবে আসল দামে। প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। মুনাফার দামে নয়। তার নেটওয়ার্ক এলিমেন্টগুলোতে আলাদাভাবে এক্সেস চাইলে সেটা দিতে বাধ্য।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The only people who can resist a quick fix are those that are not addicts.

– Gerald Weinberg

৫১৪.

আচ্ছা, ইন্টারনেটের কাঁচামাল কি? ঠিক বলেছেন – কনটেন্ট। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম ‘দাম কমানো’র টুল। তাহলে পয়সা দিচ্ছি কিসের জন্য? সংযোগ মানে ওই পাইপটার দাম হিসেবে। দুরের কনটেন্টের জন্য আনার খরচ বেশি। আর দেশে থাকলে, দাম পানির মতো। কনটেন্ট আছে কোথায়? তার আগে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিলো আরেকটা জিনিস। আমাদের এই ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটার কথা বলিনি আমরা। গ্রাহক কি চান? জি, আপনাকে বলছি। আপনি কি কাজে ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট? ফেইসবুক? সার্চ ইঞ্জিন? গুগল সার্ভিসেস? ওয়েববেসড ইমেইল? খবরের কাগজ পড়া? ফেইসবুক আছে কোথায়? মানে যা যা বললেন সেই কনটেন্ট আছে কোথায়?

৫১৫.

সব দেশের বাইরে। আপনার উত্তর। গুগল.কম.বিডি ও বাইরে। তো সংযোগের দামতো গুনতেই হবে আমাদের। আপনার বন্ধুদের নব্বই শতাংশ সবাই থাকেন বাংলাদেশে। আপনিও তাই। ফেইসবুকের বিলিয়ন কনটেন্ট আপডেট হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। কোটি ছবি হচ্ছে আপলোড। বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে। ঠিক তো? আর দেখছে কারা? আমরাই। আমরা আছি কোথায়? বাংলাদেশে। বাংলাদেশ থেকে কনটেন্ট আপলোড হচ্ছে বাইরে। আবার ডাউনলোড করছি বাংলাদেশে, দেশের বাইরে থেকে। এটাতো হতে পারে না কোন এফিসিয়েন্ট মডেল। খবরের কাগজের একই অবস্থা। অধিকাংশ পাঠক থাকে বাংলাদেশে। খবরের কাগজের কনটেন্ট তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশে। অথচঃ পড়তে হচ্ছে সাত সমুদ্দুর পাড়ি দিয়ে। অনেক দাম দিয়ে ইন্টারনেটের পাইপ কিনে। কমবে কিভাবে ইন্টারনেটের দাম? বলুন আমাকে?

৫১৬.

মেইল করছি আপনি আমি। নব্বই শতাংশ মেইলের প্রাপক আছে কিন্তু বাংলাদেশে। তার মানে আমার মেইল কনটেন্ট আর এটাচমেন্ট সবই যাচ্ছে দেশের বাইরে। হয় সান্তা ক্লারা, না হয় আয়ারল্যান্ড অথবা সিঙ্গাপুরে তাদের কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে। তারপর ফিরে আসছে বন্ধুদের কাছে – সেই দামী ইন্টারনেট পাইপ দিয়ে। ব্যাপারটা এমন, আপনার বাসার ছাদের পানির ট্যাংকটা রেখেছেন আপনার বন্ধুর বাসার ছাদে – যশোরে। আপনি থাকেন ঢাকায়। পয়সা খরচ না করার জায়গা পেয়ে পানি ওঠানো আর নামানোর পাইপ বসিয়েছেন সেই ঢাকা থেকে যশোরে। একই রাস্তায় ফিরতি পাইপটাও।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

A policy is a temporary creed liable to be changed, but while it holds good it has got to be pursued with apostolic zeal.

– Mahatma Gandhi

৫১১.

মিলিটারি একাডেমীতে প্রচন্ড চাপে অর্থনীতির ক্লাস পুরোপুরি না বুঝলেও তিনটা জিনিস একেবারে পরিস্কার। মানে ফকফকা পরিস্কার। ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের গল্প। ক. দাম বাড়ে কেন? বাজারে সরবরাহ না থাকলে। আর? ওটার বিকল্প তৈরী না হলে। খ. দাম কমে কিভাবে? সরবরাহ বাড়লে। সরবরাহ বাড়ে কেন? চাহিদা বাড়লে। মানে চাহিদা বাড়লে সরবরাহ বাড়বে। উত্পাদনও বাড়বে। যতো বেশি বাড়বে উত্পাদন – দাম কমবে ইউনিট প্রতি। ইকোনমি অফ স্কেলের খেলা। মোবাইলের দাম কমছে কিভাবে?

৫১২.

দশ বিশ লাখ পিস অর্ডার না পেলে উত্পাদনে যায় না প্রোডাকশন হাউসগুলো। একই ফোন বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে মডেল ‘ক’ নাম দিয়ে। ভারতে হয়তোবা ‘খ’, চীনে ‘গ’ নামে। কয়েকটা দেশের অর্ডারের ভিত্তিতে লাখ পিস বানাচ্ছে ওই ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। আমার লোকাল ব্র্যান্ডের ফোনটা নিয়ে কষ্টে ছিলাম অনেকদিন। হার্ডওয়্যার ভালো। তবে হাজারো ‘ব্লটওয়ার’ মানে অদরকারী সফটওয়্যার দিয়ে ‘রম’টা ছিলো ভর্তি। পরে কনকা’র একটা মডেল, বিক্রি হয় চীনে – ‘কাস্টম রম’ যোগাড় করে চালাচ্ছি সেটা। ওই একই ফোন চলছে নানা নামে। চলছেও কয়েকটা দেশে। দাম কমবে না মানে? গ. ডিমান্ড বাড়ানোর গল্পটা শিখেছি সিঙ্গাপুর থেকে। শেখাবো সবাইকে। নাহলে ডটের মতো এই ছোট দেশটাতে – দশটার কাছাকাছি সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম থাকে কি করে?

৫১৩.

ইন্টারনেট কিন্তু ব্যতিক্রমী কিছু নয়। এটাও আমের মতো আরেকটা প্রোডাক্ট। এর দাম কমাতে বাড়াতে হবে সরবরাহ। আর সরবরাহ বাড়াতে তৈরী করতে হবে চাহিদা। তাহলে দাম কমছে না কেন? আমাদের দেশে চাহিদা নেই? এটা বললে তো মার খাওয়ার যোগাড় হবে। এমুহুর্তেই। এনালাইসিস ম্যাসন বলে নামকরা একটা কনসাল্টিং কোম্পানিতে চাকরি করতো আমার এক মার্কিন বন্ধু। সে ওই কোম্পানির একটা রিপোর্ট নিজে কিনে পাঠিয়েছিলো আমাকে। মুরগী আর ডিমের গল্প। ইন্টারনেটের প্রসার বাড়লে বাড়ে দেশের জিডিপি। আবার দেশের জিডিপি বাড়লে সচ্ছলতা বাড়ে মানুষের। তখন ইন্টারনেট কিনতে পারে মানুষ। তাহলে মানুষ ইন্টারনেট কিনবে টাকা আয় করার জন্য – নাকি সচ্ছলতা বাড়লে কিনবে ইন্টারনেট? মানে – এটা একটা সাইকেল। তবে সেটার জন্য ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের দিকগুলো বোঝা জরুরি।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Virtue is more to be feared than vice, because its excesses are not subject to the regulation of conscience.

– Adam Smith

৪৭৩.

টাকা কই? বাইরের টাকা আনতেও উন্মুক্ত করতে হবে টেলিযোগাযোগ খাত। পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে টেলিযোগাযোগ নীতিমালাতে। অনেক টাকা আয় ব্যয় হবে এই খাতে। ডাব্লিউটিও’র রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস নিয়ে ‘টেলিকমিউনিকেশন রেফারেন্স পেপার’টা পড়লে পরিস্কার হবে আরো বেশি। দেশগুলোর প্রাইভেট ক্যাপিটাল যাতে অন্যদেশে ঢুকতে পারে সেজন্য এই চুক্তি। শুধুমাত্র দেশীয় কোম্পানি নয় – টেকনোলজি ট্রান্সফার হবে দেশগুলোর ভেতর। অভাবনীয় সার্ভিস নিয়ে একে ঢুকবে অন্যদেশে। কোন দেশ কবে কোন সেক্টরে বাইরের ইনভেস্টমেন্ট ঢুকতে দেবে সেটারও একটা টাইমলাইন দেয়া আছে ওখানে।

৪৭৪.

ফলে টেলিনর বা গুগলের মতো কোম্পানি বিভিন্ন দেশে তাদের ইনোভেশনগুলো নিয়ে আসছে অন্য মার্কেটে। ইনোভেশন হয়েছে হয়তোবা এক মার্কেটে, প্রয়োগ করছে অন্য জায়গায়। ভলিউমে খেলছে তারা। খরচ পড়ছে কম। এই কোম্পানিগুলোর স্ট্রাটেজি আর অপারেশন্স একদম আলাদা থাকার কারণে উঠছে ওপরে। দেখেছেন কি ‘সলভ ফর এক্স’ সাইটটা? ফিরে আসি ডাব্লিউটিও’র পেপারে। আরো অনেক সুন্দর গল্প আছে ওই চুক্তিনামায়। এর সাথে গ্যাটস মানে জেনারেল এগ্রিমেন্ট অন ট্রেডস ইন সার্ভিসেসএর ক্রস-বর্ডার সার্ভিস সেটেলমেন্ট বড় করে থাকবে সামনে। করুন গুগল ‘ডাব্লিউটিও টেলিকম রেফারেন্স পেপার’, খারাপ হয়ে যাবে মাথা!

৪৭৫.

আর আছে ইন্টারনেট! কোনো দেশ এটাকে আনতে পারেনি বাগে। মানে এই প্ল্যাটফর্মকে। ইনোভেশনের চূড়ান্ত মাত্রা বলা যায় এটাকে। মানুষের যা ক্ষমতায়ন হয়েছে তার বড় একটা কৃতিত্ব পাবে এই ইন্টারনেট। সেটা হয়েছে অনেক কিছুর ডি-রেগুলেশন মানে উন্মুক্তকরনের ফলে। সরকারগুলো ইন্টারনেটের নীতিমালা নিয়ে অনেক গবেষণা করলেও এর টুঁটি চেপে ধরেনি অতটা। কোটি উদ্যোক্তা আজ বেঁচে আছেন এই ইন্টারনেটের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে। ডাটা ট্রাফিক যখন ছাড়িয়ে গেলো ভয়েসকে, প্রাইভেটাইজেশনই ছিলো এর এক্সিট রুট। দেশের অর্থনীতি চালায় কোম্পানিগুলো, আর নীতিমালাহীন ইন্টারনেট এর বিশাল পৃষ্টপোষক। ইন্টারনেটের বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর দেখভাল ছেড়ে দিয়েছে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপর।

৪৭৬.

তবে শুরুটা ছিলো অনেক ঝামেলার। নাহলে তো প্রয়োজন হতো না এই রেগুলেশনের। দরকার হতো না টেলিযোগাযোগ নীতিমালা। টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে ঢুকতে গিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেল সরকারের নিয়ন্ত্রিত টেলিযোগোযোগ খাত থেকে। এই প্রাইভেট সেক্টর। গ্রাহক তো সব সরকারের কাছে। শুরুতে টেলিযোগাযোগ সার্ভিস মানে ছিলো ল্যান্ডলাইন। আর বিটিটিবির লাইনই ছিলো মানুষের কাছে। প্রাইভেট সেক্টর যতোই আসুক না কেন আবার নতুন লাইন বসাবে কে? আর বসালেই কি নেবে মানুষ? দেখা গেলো প্রাইভেট সেক্টর পেরে উঠছে না সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে। আর পারবেই বা কেন? স্বল্প পুজি নিয়ে সরকারী কোম্পানির সাথে পারছিলো না প্রথম দিকে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

If you have ten thousand regulations, you destroy all respect for the law.

– Winston Churchill

৪৭০.

পঞ্চাশ দিকে বিভিন্ন দেশগুলোতে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস দিতো সরকার নিজেই। সার্ভিস মানে খালি ল্যান্ড টেলিফোন। মানে টিএন্ডটি’র ফোন। মনে নেই আপনাদের? তাও চেয়ে পেতো না মানুষ। ডিমান্ড নোট লালচে হয়ে যেতো লাইন লাগার আগেই। ফ্যাক্সতো আসলো অনেক পরে। সেটা পেতেও আরেক গল্প। মানে ফ্যাক্স লাগাতে দিতে হবে দশ হাজার টাকা বেশি। আপনার ল্যান্ডলাইন কাজ করে তিনশো হার্টজ থেকে ৩.৪ কিলোহার্টজ ভয়েস ফ্রিকোয়েন্সিতে। এখন এই লাইন দিয়ে কথা পাঠাবেন না ডাটা বা ফ্যাক্স পাঠাবেন সেটাতে হাত দেয়া ঠিক নয় প্রোভাইডারের। আপনার ডিভাইসের ক্যাপাবিলিটি অনুযায়ী ওই তিনশো হার্টজ থেকে ৩.৪ কিলোহার্টজ ভয়েস ফ্রিকোয়েন্সিতে কি পাঠাবেন সেই স্বাধীনতাটা থাকা উচিত গ্রাহক পর্যায়ে। কারণ, ওটার পয়সা দিয়েছেন আপনি। ধরুন, নিলেন ইন্টারনেট লাইন, এখন সেটা দিয়ে ফেইসবুক ব্রাউজ করলে এক পয়সা আর টুইটারের জন্য চার্জ আলাদা। ভালো লাগবে আপনার?

৪৭১.

শুরুতে অত টাকাও ছিলো না প্রাইভেট সেক্টরে। সত্তর সালের দিকে সরকারগুলো বুঝে গেল টেলিযোগাযোগ বিষয়টা বেশ কমপ্লেক্স। উদ্ভাবনার বিশাল ক্ষেত্র হবে এটা। পাল্টে দিবে দুনিয়া। আঁচ না করতে পারলেও এটা বুঝতে পারছিলো যে দুনিয়া চালাবে কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। দক্ষতা ওখানে। নিজেদের দক্ষতা আনতে ছোট করে নিয়ে আসবে সরকারের আয়তন। আর সরকার নিজে থেকে ব্যবস্যা পারে না ভালো। যাই করে – গচ্চা দেয় টাকা। নিজের টাকা নয়, জনগনের টাকা। সরকারকে হতে হবে ভালো দেশ চালানোয়, ব্যবস্যা নয়। পরিবেশ করে দেবে সরকার, উদ্ভাবনা আসবে এমনিতেই। তাই ব্যবস্যাগুলো ছেড়ে দেয়া শুরু করলো ছোট ছোট কোম্পানিগুলোর কাছে। সেখানেই আসল দক্ষতা। কাস্টমার কেয়ার ধারনাটা যাবে অন্য মার্গে। গ্রাহক কাল কি চাইবে সেটা আজ না ধরতে পারলে টিকবে না কোম্পানি। সত্যি কথা বলতে গ্রাহকের মন পড়তে শুরু করেছে অনেক কোম্পানি। না হলে আমি কি পছন্দ করি আর না করি সেটা বলতে পারছে কি করে – গুগল? মনে আছে টিয়ে পাখির গল্পটা?

৪৭২.

অনেককিছু করার আন্দাজ নিয়ে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে জড়ো হওয়া শুরু করলো প্রাইভেট কোম্পানীগুলো। উদ্ভাবনা এখানে অনেক বেশি। এতদিন টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস সরকারের পক্ষ থেকে দেয়ার কারণে অনেক ক্ষেত্রে এই সার্ভিস কোয়ালিটির ব্যাপারে জবাবদিহিতা ছিলো না অতটা। আর কাস্টমার কেয়ার? সে আর বলতে! টেলিযোগাযোগ খাতটাকে উন্মুক্ত না করলে নতুন সার্ভিস আসবে কোথা থেকে? বলুনতো কোন সরকার কি নিজে থেকে করতো ইউটিউব? বা এই ফেইসবুক? টাকায় টাকা আনে। ব্যক্তি মালিকানাধীন কোম্পানি জানে কোথায় টাকা ফেলতে হয়। কারণ এটা ওর টাকা, তুলতে হবে তাকেই। উদ্ভাবন না করলে মরবে সে। হাজারো কোম্পানি, প্রোডাক্টও এক। ডিফারেন্সিয়েশন হবে আফটার সেলস সার্ভিস আর কাস্টমার কেয়ারে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Regulation needs to catch up with innovation.

– Henry Paulson

৪৬৫.

ফিরে যাই পুরনো গল্পে। রেগুলেটর এলো কবে থেকে? তার আগে একটু ইতিহাস ঘাঁটি, কি বলেন? আর রেগুলেশনের গল্পটাই বা কি? আদৌ এর দরকার ছিলো কি?

টেলিকম রেগুলেটর হিসেবে সিঙ্গাপুরের নাম বিশ্বজোড়া। আসলে গভার্নেসেই সেরা। আর না হয়ে যাবে কোথায়? ছোট্ট দেশ, মানুষ কম নয়। পানিটাও কিনে খেতে হয় পাশের দেশ থেকে। বুঝে গেছে তারা, জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ না বানালে বাঁচবে না তারা। চলতে হবে জ্ঞান মানে মাথা বেচেঁ। দক্ষ রেগুলেটর না হলে নতুন নতুন সার্ভিস আর ইন্টারনেট ভিত্তিক সমাজ বানাবে কিভাবে? ব্যবস্যায়ীরা বলতে পারবেন ভালো – ছোট্ট দেশে বিজনেস কেস বানানো কষ্টকর বটে। প্রতিযোগিতামূলক বাজার তৈরী করা বেশ সমস্যা ছোট্ট দেশ হবার কারণে। কয়টা অপারেটর বাঁচবে ওই ছোট্ট বাজারে?

৪৬৬.

তো রেগুলেটর এমন নীতিমালা বানালেন যে মানুষের প্রয়োজন পড়লো হাজারো গিগাবাইটের ব্যান্ডউইডথের।‘ডিমান্ড সাইডের রেগুলেশন’ খুলে দিলো অবারিত ‘সাপ্লাই সাইডের’ নীতিমালা। খুলে দাও সবকিছু। হুমড়ি খেয়ে পড়বে সাবমেরিন আর টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল কোম্পানিগুলো। হলোও তাই। দুহাজার দশেই পনেরোটা ক্যাবল সিস্টেমস যুক্ত হলো সিঙ্গাপুরে। হ্যা, সংখ্যা ঠিক আছে কিন্তু! রেগুলেটরের ভাষায় ‘আরআইও’ মানে ‘রেফারেন্স ইন্টার-কানেকশন অফার’ নীতিমালা ব্যান্ডউইডথের দাম আনলো পানির কাছাকাছি। ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনে কনসোর্টিয়ামের সবাই বেচবে প্রতিযোগিতামূলক দামে।

৪৬৭.

দাও প্রবেশাধিকার সবাইকে, ওরাই মারামারি করে নামিয়ে আনবে পানির দামে। ফলে সরকারী সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি দাম না কমিয়ে যাবে কোথায়? সরকারী কোম্পানিকে বাঁচাতে গিয়ে গ্রাহকস্বার্থ যাবে না বলি দেয়া। সরকারী কোম্পানি গচ্চা দেয় টাকা – অদক্ষতার কারণে। ভালো ম্যানেজমেন্ট আবার টেক্কা দিতে পারে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে। সাবমেরিন ক্যাবলের মতো ক্রিটিকাল বা ‘বটলনেক’ রিসোর্সকে চালাতে হবে দক্ষতার সাথে। নীতিমালা ঠিক তো সব ঠিক। ছয়টা ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল কোম্পানি নামিয়ে নিয়ে এসেছে ব্যান্ডউইডথের দাম। খরচের নিচে নিচ্ছে দাম? কস্ট মডেলিং করে দেখুন অদক্ষতাটা কোথায়। অপারেটরের অদক্ষতার ভার যাতে গ্রাহকদের ঘাড়ে না চাপে মানে কস্টিংয়ের থেকে বেশি দাম না দিতে হয় সেটা দেখবে রেগুলেটর। দেখেছি আমিও – ওই অফিসে বসে।

৪৬৮.

ওই দেশের রেগুলেটর এক্সিকিউটিভ লেভেলের একটা ট্রেনিং দিয়েছিলো আমাকে। পাঁচ হাজার ডলারের কোর্স। মাথা ঘুরিয়ে দিলো কোর্সটা। যাই শিখেছি – ভুল শিখেছি এতদিন। করাতে হবে আরো অনেককে। আইটিইউ’র সাথে দেন দরবার করে নিয়ে আসা হলো আরো কোর্স – পরের বছরগুলোতে। বিনামূল্যে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আইটিইউ’র ফোকাল পয়েন্ট হওয়ায় সম্পর্ক তৈরী করে আনতে হয়েছে অনেক কিছুই। দেশগুলো সাহায্য করেছে অনেক। ফান্ডিং আর জ্ঞান দিয়ে। ফলে শিখেছি বাড়তি জিনিস। সে এক লাইফ চেঞ্জিং এক্সপেরিয়েন্স!

৪৬৯.

প্রথম ক্লাসেই খেলাম ভিমড়ি। ‘হাউ’য়ের গল্পের ধারে কাছে না গিয়ে শুরু করলো ‘হোয়াই’ দিয়ে। হোয়াই রেগুলেশন? বলে কি বেটা? শিখতে এসেছি ‘হাউ’ রেগুলেশন, কিভাবে রেগুলেট করতে হয়। এখন দেখি অন্য জিনিস। যাই বলি – মিচকি হাসে ওরা।কিভাবে করবে সেটা পরে, আগে বল কেন এটা দরকার? আসলেই দরকার আছে কি না? এভাবে তো ভাবিনি কখনো। দেশগুলো যেখানে ছোট করছে সরকার, সেখানে গাঁটের পয়সা খরচ করে আবার রেগুলেটর কেন? তারপর শুধু টেলিকম রেগুলেটর। ‘কনভার্জ’ নয়।কনভার্জ মানে হচ্ছে টেলিযোগাযোগ, মিডিয়া (প্রিন্ট/ইলেকট্রনিক), আইসিটি, ব্রডকাস্টিং সবকিছুর রেগুলেটর। না হলে হবে না কাজ। এগুলো ইন্টার-ডিপেন্ডেন্ট। চতুর্থ প্রজন্মের রেগুলেশন নিয়ে আছে অনেক গল্প। দেশগুলো এগুচ্ছে ওদিকেই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: