Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘পিপিপি’

When there’s a vacuum of public input, lobbyists usually fill it. But when there’s public input, the people usually win.

Morgan Carroll, Take Back Your Government: A Citizen’s Guide to Making Your Government Work For You

৫১৭.

ডাটা নেটওয়ার্কের দামাদামি একটু ভিন্ন ধরনের। ভয়েস নেটওয়ার্কে এক নেটওয়ার্ক থেকে আরেক নেটওয়ার্কে কল পাঠাতে হলে যাকে পাঠাচ্ছেন তাকে দিতে হয় একটা চার্জ। এটাকে বলে আন্তসংযোগ চার্জ। আমাদের দেশে এটা আঠারো পয়সা। আবার অনেক দেশে দুটো নেটওয়ার্কের ট্রাফিক কাছাকাছি হলে ‘সেন্ডার কীপস অল’ রেজীম ভালো। বিলিংয়ের ঝামেলা কম। একেকজন আরেক নেটওয়ার্কে কল পাঠিয়ে খালাস। আর গ্রাহকের পুরো বিলটা রেখে দেবে সে। ইন্টারনেটের ট্রাফিক বিলিং আরো মজার। ধরা যাক আপনি আইএসপি ‘ক’। আমি তাহলে ‘খ’। আমাদের সমান ট্রাফিক একে ওপরকে দিলে কাটাকাটি। কাউকে দিতে হবে না পয়সা। এটাকে বলে ফ্রি-সেটেলমেন্ট। এটা যেখানে হয় সেটাকে বলে ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ। আজ আমরা ট্রাফিক কিনছি দেশের বাইরে থেকে। কারণ, আমাদের দেশের বেশিরভাগ অনলাইন পত্রিকা হোস্ট করা দেশের বাইরে। ভেতরে হলে সাশ্রয়ী হতো অনেকটা।

৫১৮.

তবে মুদ্রার ওপর পিঠটাও শুনতে হবে আপনাকে। যদি বন্ধ করে দেয় পত্রিকাটা কেউ? আবার, ইকোনমি অফ স্কেলের কারণে হোস্টিং খরচ কম – বাইরে। তবে শুরু করলেই কমে আসবে দাম। ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী হতে সময় লাগতো না অতো। ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জগুলো সাধারণত: চলে কোম্পানিগুলোর নিজেদের মধ্যে ‘মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ থেকে। কিছুটা ‘লুজলি বাউন্ডেড’। উদ্ভাবনা বেশী হয় ওখানে। লাইসেন্স হলে কমে আসে স্পৃহাটা। আমরা যতো বেশি কনটেন্ট বানাবো দেশে – ততো কমবে ইন্টারনেটের দাম। বাইরে থেকে তখন আইপি ট্রানজিট মানে ট্রাফিক কিনবে অন্যদেশ। এরকম হতে হতে এক সময় আমাদের আর ওদের ট্রাফিক হয়ে যাবে সমান। তখন হবে কাটাকাটি। মানে খরচ শুন্য।

৫১৯.

গ্লোবাল ইন্টারনেট ফার্মগুলো ইন্টারনেটকে ‘এক্সপেরিয়েন্স’ বা অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখে। মানে তাদের সাইটে গিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা খারাপ হোক এটা চায়না সে মোটেই। তার কনটেন্ট সুদুর মার্কিন মুল্লুক থেকে আনতে গিয়ে লোডিং সময় বাড়াবার পক্ষপাতি নয় গুগল বা ফেইসবুক। সেটা চায় না অন্য ইন্টারনেট ফার্মগুলো। ক্লিক দিয়ে কনটেন্ট আসতে সময় নিলে ব্যবহারকারীরা আর আসতে চাইবে না সেই সাইটে। লক্ষ্য করেছেন কি লোডিং টাইম? মানে – যখন কনটেন্ট সার্ভারটা থাকে আপনার বিল্ডিংয়ে? কি ফুর্তিটাই না লাগে তখন? ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো চাচ্ছে ওই একই জিনিস। আসতে চাচ্ছে আপনার পাশের বিল্ডিংয়ে। অথবা আপনার শহরে। আর আমার আপনার মতোই ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোও চাচ্ছে দাম কমুক ইন্টারনেটের। প্রানপনে। যতো দাম কম সংযোগের – ততো আপটেক মানে ততো প্রসার। সেকারণে বিলিয়ন ডলার ইনভেস্ট করছে সব ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো।

৫২০.

তবে আসতে চাইলেও পারছে না কিছু কিছু দেশের নীতিগত সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। স্মার্ট কোম্পানিগুলো কিছু ‘ওয়ার্কারাউন্ড’ বের করে নিয়েছে এর মধ্যে। তাদের বহুল ব্যবহৃত কনটেন্টকে আবার দেশের বাইরে থেকে আনতে না হয় – সেজন্য ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোকে দিচ্ছে তাদের ক্যাশে ইঞ্জিন। প্রায় বিনামূল্যে। এটা এমন একটা যন্ত্র – যার মাধ্যমে কম কনটেন্ট আনতে হয় দেশের বাইরে থেকে। ইন্টারনেটের বিল কমানো আর আপনার ভালো ইন্টারনেট এক্সপেরিয়েন্সের জন্য খরচ করছে বিস্তর। ইন্টারনেট কোম্পানিগুলো তো আক্ষরিক অর্থে বিনে পয়সায় আপনাকে ইন্টারনেট দিতে পারলে বাঁচে। দেখছেন না – হোয়াট’স অ্যাপের মতো অনেক অ্যাপ চালাতে যে ইন্টারনেট লাগে সেটাও ফ্রি দিচ্ছে আপনার মোবাইল অপারেটর। জিরো.ফেইসবুক বা জিরো.উইকিপেডিয়া ব্যবহার করেননি বিনামূল্যে?

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

The only people who can resist a quick fix are those that are not addicts.

– Gerald Weinberg

৫১৪.

আচ্ছা, ইন্টারনেটের কাঁচামাল কি? ঠিক বলেছেন – কনটেন্ট। এটাই হচ্ছে আমাদের প্রথম ‘দাম কমানো’র টুল। তাহলে পয়সা দিচ্ছি কিসের জন্য? সংযোগ মানে ওই পাইপটার দাম হিসেবে। দুরের কনটেন্টের জন্য আনার খরচ বেশি। আর দেশে থাকলে, দাম পানির মতো। কনটেন্ট আছে কোথায়? তার আগে জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিলো আরেকটা জিনিস। আমাদের এই ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটার কথা বলিনি আমরা। গ্রাহক কি চান? জি, আপনাকে বলছি। আপনি কি কাজে ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট? ফেইসবুক? সার্চ ইঞ্জিন? গুগল সার্ভিসেস? ওয়েববেসড ইমেইল? খবরের কাগজ পড়া? ফেইসবুক আছে কোথায়? মানে যা যা বললেন সেই কনটেন্ট আছে কোথায়?

৫১৫.

সব দেশের বাইরে। আপনার উত্তর। গুগল.কম.বিডি ও বাইরে। তো সংযোগের দামতো গুনতেই হবে আমাদের। আপনার বন্ধুদের নব্বই শতাংশ সবাই থাকেন বাংলাদেশে। আপনিও তাই। ফেইসবুকের বিলিয়ন কনটেন্ট আপডেট হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। কোটি ছবি হচ্ছে আপলোড। বাংলাদেশ থেকে দেশের বাইরে। ঠিক তো? আর দেখছে কারা? আমরাই। আমরা আছি কোথায়? বাংলাদেশে। বাংলাদেশ থেকে কনটেন্ট আপলোড হচ্ছে বাইরে। আবার ডাউনলোড করছি বাংলাদেশে, দেশের বাইরে থেকে। এটাতো হতে পারে না কোন এফিসিয়েন্ট মডেল। খবরের কাগজের একই অবস্থা। অধিকাংশ পাঠক থাকে বাংলাদেশে। খবরের কাগজের কনটেন্ট তৈরী হচ্ছে বাংলাদেশে। অথচঃ পড়তে হচ্ছে সাত সমুদ্দুর পাড়ি দিয়ে। অনেক দাম দিয়ে ইন্টারনেটের পাইপ কিনে। কমবে কিভাবে ইন্টারনেটের দাম? বলুন আমাকে?

৫১৬.

মেইল করছি আপনি আমি। নব্বই শতাংশ মেইলের প্রাপক আছে কিন্তু বাংলাদেশে। তার মানে আমার মেইল কনটেন্ট আর এটাচমেন্ট সবই যাচ্ছে দেশের বাইরে। হয় সান্তা ক্লারা, না হয় আয়ারল্যান্ড অথবা সিঙ্গাপুরে তাদের কনটেন্ট ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে। তারপর ফিরে আসছে বন্ধুদের কাছে – সেই দামী ইন্টারনেট পাইপ দিয়ে। ব্যাপারটা এমন, আপনার বাসার ছাদের পানির ট্যাংকটা রেখেছেন আপনার বন্ধুর বাসার ছাদে – যশোরে। আপনি থাকেন ঢাকায়। পয়সা খরচ না করার জায়গা পেয়ে পানি ওঠানো আর নামানোর পাইপ বসিয়েছেন সেই ঢাকা থেকে যশোরে। একই রাস্তায় ফিরতি পাইপটাও।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

A policy is a temporary creed liable to be changed, but while it holds good it has got to be pursued with apostolic zeal.

– Mahatma Gandhi

৫১১.

মিলিটারি একাডেমীতে প্রচন্ড চাপে অর্থনীতির ক্লাস পুরোপুরি না বুঝলেও তিনটা জিনিস একেবারে পরিস্কার। মানে ফকফকা পরিস্কার। ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের গল্প। ক. দাম বাড়ে কেন? বাজারে সরবরাহ না থাকলে। আর? ওটার বিকল্প তৈরী না হলে। খ. দাম কমে কিভাবে? সরবরাহ বাড়লে। সরবরাহ বাড়ে কেন? চাহিদা বাড়লে। মানে চাহিদা বাড়লে সরবরাহ বাড়বে। উত্পাদনও বাড়বে। যতো বেশি বাড়বে উত্পাদন – দাম কমবে ইউনিট প্রতি। ইকোনমি অফ স্কেলের খেলা। মোবাইলের দাম কমছে কিভাবে?

৫১২.

দশ বিশ লাখ পিস অর্ডার না পেলে উত্পাদনে যায় না প্রোডাকশন হাউসগুলো। একই ফোন বাংলাদেশে বিক্রি হচ্ছে মডেল ‘ক’ নাম দিয়ে। ভারতে হয়তোবা ‘খ’, চীনে ‘গ’ নামে। কয়েকটা দেশের অর্ডারের ভিত্তিতে লাখ পিস বানাচ্ছে ওই ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি। আমার লোকাল ব্র্যান্ডের ফোনটা নিয়ে কষ্টে ছিলাম অনেকদিন। হার্ডওয়্যার ভালো। তবে হাজারো ‘ব্লটওয়ার’ মানে অদরকারী সফটওয়্যার দিয়ে ‘রম’টা ছিলো ভর্তি। পরে কনকা’র একটা মডেল, বিক্রি হয় চীনে – ‘কাস্টম রম’ যোগাড় করে চালাচ্ছি সেটা। ওই একই ফোন চলছে নানা নামে। চলছেও কয়েকটা দেশে। দাম কমবে না মানে? গ. ডিমান্ড বাড়ানোর গল্পটা শিখেছি সিঙ্গাপুর থেকে। শেখাবো সবাইকে। নাহলে ডটের মতো এই ছোট দেশটাতে – দশটার কাছাকাছি সাবমেরিন ক্যাবল সিস্টেম থাকে কি করে?

৫১৩.

ইন্টারনেট কিন্তু ব্যতিক্রমী কিছু নয়। এটাও আমের মতো আরেকটা প্রোডাক্ট। এর দাম কমাতে বাড়াতে হবে সরবরাহ। আর সরবরাহ বাড়াতে তৈরী করতে হবে চাহিদা। তাহলে দাম কমছে না কেন? আমাদের দেশে চাহিদা নেই? এটা বললে তো মার খাওয়ার যোগাড় হবে। এমুহুর্তেই। এনালাইসিস ম্যাসন বলে নামকরা একটা কনসাল্টিং কোম্পানিতে চাকরি করতো আমার এক মার্কিন বন্ধু। সে ওই কোম্পানির একটা রিপোর্ট নিজে কিনে পাঠিয়েছিলো আমাকে। মুরগী আর ডিমের গল্প। ইন্টারনেটের প্রসার বাড়লে বাড়ে দেশের জিডিপি। আবার দেশের জিডিপি বাড়লে সচ্ছলতা বাড়ে মানুষের। তখন ইন্টারনেট কিনতে পারে মানুষ। তাহলে মানুষ ইন্টারনেট কিনবে টাকা আয় করার জন্য – নাকি সচ্ছলতা বাড়লে কিনবে ইন্টারনেট? মানে – এটা একটা সাইকেল। তবে সেটার জন্য ডিমান্ড আর সাপ্লাইয়ের দিকগুলো বোঝা জরুরি।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Surround yourself with the best people you can find, delegate authority, and don’t interfere as long as the policy you’ve decided upon is being carried out.

– Ronald Reagan

৫০৮.

প্রয়োজন নীতিমালার। ব্যবস্যাবান্ধব নীতিমালা তো পরে। সরকারী অফিসগুলোতে অনেককিছুই মুখে মুখে। জিনিসগুলো লেখা না থাকার ফলে এগুচ্ছে না কিছুই। আবার ‘উনি’ ছুটিতে থাকলে হবে না কাজ। লিখিত প্রসেস না থাকলে যা হয় আর কি। ‘সিটিজেন চার্টার’ দিয়ে এগিয়েছে দেশ। তবে, সেটার গতি বেশ স্লথ। ভাবছিলাম, লিখবো না নীতিমালা নিয়ে। অন্ততঃ এই বইটাতে। কারণ লেখালিখিতে আমরা বেশ দুর্বল। একারণে, বাংলায় কনটেন্ট আশ্চর্যরকম ভাবে কম। লেখালিখির ছাড়া অন্য দিক দিয়ে কিছু করা যায় না? ভুলে জিগ্যেস করেছিলাম বাইরের এক কনসালটেন্টকে। নামকরা কোম্পানির হয়ে লিখে দেন নীতিমালা – অনেক দেশকেই। বয়স্ক বলে স্নেহ করেন আমাকে। কিন্তু রাগটা লুকিয়ে রাখতে পারলেন না বলে মনে হলো।

আচ্ছা, তোমার দেশ কি চায় সেটা লিখবে না তুমি? সেটার জন্য টাইমলাইনটা গুরত্বপূর্ণ বটে।

লেখা আছে ওটা। বললাম আমি।

ভালো কথা, কিভাবে করবে সেটার অ্যাকশন পয়েন্ট – আর কারা কি কি করবে মানে মন্ত্রনালয়ের মধ্যে কাজের ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক না থাকলে কাজ বের করা মুশকিল। থামলেন উনি।

৫০৯.

তোমাদের মতো দেশে ব্রডব্যান্ড এজেন্সী লাগবে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে। মন্ত্রনালয়গুলোর সমন্বয় করবে ওই অফিসের পেটে বসে। সোজা কথায় – খবরদারি। এক মন্ত্রনালয় সময়ের মধ্যে কাজ না বের করতে পারলে এটার সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আটকে না যায় তার প্ল্যান ‘বি’ তৈরী করা থাকবে আগেই। লিড আর সহযোগী মন্ত্রনালয়গুলো ঠিকমতো সিনক্রোনাইজড না থাকলে টাকা গচ্চা যাবার সম্ভাবনা বেশি। ইন্টার-ডিপেন্ডেন্ট কাজে টাইমলাইন না মানলে একজনের কাজ হয়ে গেলেও বসে থাকতে হয় অন্যরা কাজে গাফিলতি করলে। আর, টাইম ইজ মানি!

৫১০.

ধরুন আমাদের টেলিকম পলিসি তৈরী হয়েছে ১৯৯৮ সালে। এটা এতো ডাইনামিক ফিল্ড যে এর মধ্যে এটাকে আপডেট করা যেতো বার কয়েক। নীতিনির্ধারকরা না লেখলে লেখবে কে? তখন লিখতে হবে আমাদেরকেই। দেশতো সবার। সরকার এটা করে না ওটা করেনা বলেতো পার পাবো না আমরা কেউ। আমরাই দেশ। আপনি মানবেন – পৃথিবীর সবচেয়ে সহজ কাজ হচ্ছে আরেকজনকে দোষারোপ করা। সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে আসলে কাজটা করা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Google understood that if you’re just a search engine, people assume you’re a very, very good search engine.

— Rory Sutherland

৫০৪.

বলুনতো, নীতিমালা লিখতে কি লাগে? যেকোনো রেগুলেটরের একটা বড় কাজ হচ্ছে দেশ কি চায় সেটা ঠিক করা। আবার, দেশ আসলে কি চায় সেটা নির্ভর করছে গুটিকয়েক মানুষের হাতে। তারা কি আসলে বের করতে পেরেছেন দেশটা কি চায়? ফিরে আসি ব্যক্তি পর্যায়ে। আমরা কজন লিখে রেখেছি – জীবন থেকে কি চাই আমরা? বেশিরভাগ মানুষ লেখে না সেটা। আর সেকারণে নিজে আসলে কি চায় – সেটাও জানে না সে। তাই বলে দেশের ভালো কিসে হবে সেটা লিখবো না আমরা? কি চাই আমরা? সেটাই তো নীতিমালা। আর সেটা করতে কি কি করতে হবে – সেটা হবে অ্যাকশন পয়েন্ট। যারাই থাইল্যান্ড গিয়েছেন মুগ্ধ হয়েছেন তারা – বিশাল বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার দেখে। বেশিরভাগ ইনফ্রাস্ট্রাকচারই কিন্তু পিপিপি’র মডেলে করা। সরকারের অতো পয়সা থাকে না কোথাও। পিপিপি হচ্ছে গিয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ। পয়সা যোগান দেবে বেসরকারী কোম্পানি – কাগজ দেবে সরকার, আইনগত ভিত্তি সহ। আমাদের পিপিপি নীতিমালা তৈরী হয়নি এখনো।

৫০৫.

উন্নত দেশগুলোতে অনেক বড় বড় কাজে সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকে না জনগণ। কারণ এই পিপিপি। যেকোনো দেশের উন্নতির ইনডিকেটর বোঝা যায় ওদেশের পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেম দেখে। মানে জনগন কতো সহজে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে পারছেন – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে। ঢাকা শহরে সেটার অবস্থা আফ্রিকার অনেক দেশ থেকেও খারাপ। অথচ ব্যবস্যা বান্ধব পিপিপি নীতিমালা থাকলে প্রাইভেট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিতে পারতো সরকারের কাছে। তৈরী করতো ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড। ভাগ করে ফেলতো পুরো শহর – চার পাঁচ ভাগে। একেকটা ভাগের রুট নিয়ে দেন-দরবার করতো কনসেশন পিরিয়ডটা নিয়ে। এই রুটটা দাও আমাকে পঞ্চাশ বছরের জন্য। তৈরী করবো স্কাই ট্রেন। ইনফ্লেশন হিসেব ধরে ভাড়ার একটা চার্ট জমা দিতো সরকারকে।

৫০৬.

অন্য কোম্পানি হয়তো হাজির হতো আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়ের প্ল্যান নিয়ে। সরাসরি টেন্ডারে যেতো সরকার। যে সবচেয়ে কম ভাড়া (জন প্রতি মানুষের) চাইতো, তার সাথে দর কষাকষি চলতো কনসেশন পিরিয়ডটা কমানোর জন্য। টাকার সমস্যা? ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের আওতায় বেশিরভাগ টাকা তোলা যায় জনগণ থেকে। মানে এই ট্রানজিট সিস্টেমটার বড় একটা মালিকানা চলে যাবে মানুষের হাতে। গুগল করুন ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড’ – পাগল হয়ে যাবেন আপনি। অথবা – ‘বিওওটি’। এধরনের মেগা প্রজেক্টের জন্য চোখ রাখতে পারেন থাইল্যান্ডের বিটিএস মাস ট্রানজিট সিস্টেমের দিকে। স্কাই ট্রেনগুলো সব তাদের। এই গত বছরই জনগনের কাছ থেকে তুলেছে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি টাকা। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ডের প্রজেক্ট স্পন্সর হিসেবে বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তারা জনগণকেও সম্পৃক্ত করে ওই মেগা-ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মালিকানা নেবার জন্য। শেয়ারের দাম দশ টাকা হলে ক্ষতি কি? থাইল্যান্ডের একদম নতুন টেলিফোন কোম্পানি ‘ট্রু কর্প’ তুলেছে ১.৮ বিলিয়ন ডলার। এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড থেকে। নতুন মোবাইল কোম্পানিটার জন্য। একেকটা শেয়ারের দাম ছিলো দশ বাথ করে।

৫০৭.

খুলবো নাকি একটা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড? তৈরী হবে বিশ্বমানের একটা ইউনিভাসিটি? নাকি একটা হাসপাতাল, বাম্রুডগ্রাডের মতো? আগেই বলেছিলাম কিছু পারি আর না পারি – লিখতে পারি নীতিমালা। আমাদের নীতিমালা লিখতে হবে আমাদেরই। লিখে দেবে বা অন্য কেউ। সাহায্য নেবো ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্মগুলো থেকে। প্রসেস তৈরিতে ওস্তাদ তারা। একটু আগেই পড়ছিলাম অ্যাকসেন্চারের একটা রিপোর্ট। সরকারগুলোর অদক্ষতার গ্যাপগুলো ধরে ধরে দক্ষ সিস্টেম তৈরী করছে তারা। তারা জানে ভালো মতো। সমস্যা মানুষে। সিস্টেমে নয়। তৈরী করতে হবে এমন প্রসেস – মানুষের জায়গায় কলাগাছ দাড়ানো থাকলেও কাজ চলবে রীতি মেনে। নীতিমালা লেখার কোর্স শুরু করছি শিগগিরই। আপনারা হবেন ‘পলিসি আন্টপ্রেনর’ মানে নীতিমালার উদ্যোক্তা। গুগল করবেন নাকি একটু? আমার ধারণা, আমরা শুরু করলে লিখবে সবাই। সবাই মিলে লিখবো আমাদের ভবিষ্যত। ক্রাউডসৌর্সিং করে লিখে দেবো আমাদের নীতিমালা। ক্রাউডসৌর্সিং মানে উইকিপেডিয়ার মতো সবাই মিলে কোনো কাজ বের করা। আইসল্যান্ডের সংবিধান নতুন করে লেখা হয়েছে এই ক্রাউডসৌর্সিং করে। অথবা কানাডার বাজেট? ফিনল্যান্ডের কথা তো সবার জানা।

বলুনতো, শুরু করা যায় কোনটা দিয়ে? সংবিধান?

[ক্রমশঃ]

নীতিমালা লিখুন নিজেই!

নীতিমালা লিখুন নিজেই!

বইটা পাবেন স্ট্যানফোর্ডের একটা পাবলিকেশন হিসেবে। নীতিমালা কোর্স শুরু করার আগে এটা একটা অবশ্য পাঠ্য। লিংক ছবিটাতে।

Read Full Post »

%d bloggers like this: