Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘প্রতিযোগিতামূলক’

There’s a tremendous gap between public opinion and public policy.

– Noam Chomsky

৬৬৭.

আচ্ছা, টাকা নিয়ে আসবে কেন আমাদের দেশে? কেন নয় নিজের দেশে? চাকরিক্ষেত্র বাড়তো বরং ওই দেশে। তাহলে তো আইফোন তৈরি হতো খোদ মার্কিন ভূখণ্ডে। কোম্পানীগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা বাড়ানো। তারা তো আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। আর মুনাফা করা তো দোষের নয়। আজ মাইক্রোসফট মুনাফা করতে পেরেছিলো বলেই তৈরি হয়েছে মেলিণ্ডা এণ্ড গেটস ফাউন্ডেশন। ফলে বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে মানুষের ভালো কাজের জন্য। কম টাকা নয়, নভেম্বর দুহাজার চৌদ্দ পর্যন্ত তার টাকা বিলি হয়েছে বিয়াল্লিশ বিলিয়নের বেশি। ফিরে আসি সরকারের কাজে। ওই কোম্পানীগুলোকে দেশে আনতে দৌড়াতে হবে অনেকদুর। একটা দেশকে নিজেকে ‘ইভাল্যুয়েট’ করতে হবে কেন দেশ বা কোম্পানীগুলো আসবে টাকা নিয়ে? তারা কি চায়? আপনি হলে কি চাইতেন? বেশি লাভ, কম সময়ে। ‘ক’ দেশে ইনভেস্ট করলে আপনি কি চাইতেন? সরকারী অফিসে কম ঘুরাঘুরি, লাইসেন্সের নীতিমালাগুলো কতটুকু আপনার দিকে? লাভটা দেশে নিতে পারবেন কিনা? ওই দেশের মানুষগুলো ওই কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা? শ্রমবাজার কেমন সস্তা?

৬৬৮.

আপনি নিজেই করবেন হাজারো প্রশ্ন। কারণ, টাকাটা আপনার। খাটাবেন আপনি। করলেন ইনভেস্ট, এরপর পাল্টে গেল নীতিমালা। আর ইনভেস্ট করবেন আপনি? নীতিমালার ‘প্রেডিক্টিবিলিটি’ নিয়েও কথা হয়েছে আগে। প্রাইভেট সেক্টর ‘ভর্তুকি’ চায়নি কখনো। তারা জানে ব্যবসা করতে হয় কিভাবে। রেগুলেটর আর সরকারকে চায় ‘ফ্যাসিলেটর’ রোলে। বাকিটা করে নেবে তারা। যেখানে ব্যবসা নেই সেখানে সরকারের ‘রেগুলেটরী ব্যবস্থা’ – ধরুন ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস ফান্ড নিয়ে কাজ করতে চায় তারা। দেখা গেছে বাজারে প্রতিযোগিতার বেঞ্চমার্ক ঠিক থাকলে ‘এফিসিয়েণ্ট’ নেটওয়ার্ক তৈরি হয় সবাইকে নিয়ে। ‘প্রতিযোগিতা’ ব্রডব্যান্ড সাপ্লাই সাইডে কমিয়ে নিয়ে আসে দাম, বাড়ায় সার্ভিসের কোয়ালিটি, বৃদ্ধি পায় গ্রাহকসেবা। আর সেকারণে সম্প্রসারণ করে ব্রডব্যান্ড বাজার, অ্যাক্সেস পায় আরো বেশি মানুষ। বেশি গ্রাহক মানে কমে আসে দাম, তৈরি হয় নতুন নতুন ‘ভ্যালু প্রপোজিশন’। এই সাইকেল নিয়ে কথা বলা হয়েছে আগেও।

৬৬৯.

আবার ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে অ্যাক্সেস না পেলে প্রোভাইডাররা বাড়িয়ে দেবে দাম। আর দাম বাড়লে বারোটা বাজবে ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশনে’র। ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে গ্রাহকেরা সার্ভিস পাবে কোথা থেকে? আর নেটওয়ার্ক থাকলেও দাম না কমলে সেটার প্রতি আগ্রহ হারাবে গ্রাহকেরা। আবার সার্ভিস মানুষকে না টানলে নেটওয়ার্ক তৈরিতে আসবে মন্থরগতি। আর সেকারণে সরকারকে আসতে হবে এগিয়ে। ‘সাপ্লাই চেইনে’ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির সাথে সাথে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা, নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রণোদনা আর গ্রাহকসেবার মানদন্ডটা ঠিক রাখলে বাড়বে ব্রডব্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা। পুরো দেশে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার থাকলে ভালো, আর না থাকলে? মানে, আমাদের দেশে যে জনবসতির ঘনত্ব, সব বিজনেস কেস কাজ করবে এখানে। তবে, ব্রডব্যান্ডের দাম হাতের নাগালে না এলে গ্রাহকদের আনা কষ্ট হবে। আর তখন, প্রোভাইডাররাও পিছিয়ে যাবে ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট থেকে। রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে যোগবিয়োগ করতে বসবে তারা। ওখানেই কাজ করতে হবে সরকারকে।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

Efficiency is doing things right; effectiveness is doing the right things.

– Peter F. Drucker

৫০০.

ছোটবেলা থেকে লেখাপড়া নিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিলো আমার। চট করে ধরতে পারতাম না সবকিছু। ‘ফান্ডামেন্টাল’ মানে ‘বেসিক গ্রাউন্ড-আপ’ না জানলে পারতাম না ওপরের জিনিস। কোন কিছু শুরু করতে হলে ওর ‘বেসিক’ না ধরিয়ে দিলে মাথা ফাঁকা ফাঁকা লাগতো। বাবা আর মা – সবকিছুর জন্য ফাউন্ডেশন কোর্স করাতে থাকলেন আমার। ক্যাডেট কলেজে গিয়ে সমস্যাটা কমে গেলো। ক্লাসে না বুঝলেও রাতে বুঝিয়ে দিতো বন্ধুরা। একেবারে শুরু থেকে। গালি একটাও পড়তো না মাটিতে। দুনিয়াটা দেয়া নেয়ার। কিছু নিলে সহ্য করতে হয় অনেককিছু। তবে পড়ার বই থেকে বাইরের বই পড়তাম বেশি। ক্লাসে পড়িয়েছে এভাবে, বাইরের বইয়ে লিখেছে আরো কয়েকভাবে – কেন হবে না অন্যটা? কিছু হলেই জানতে চাইতাম ডেফিনেশন কি বলে। এটা এখনো চলছে। ওই ডেফিনেশনের জোরে চলছি আজও। নতুন জিনিস শিখতে চাইলে পড়ো ক. ডেফিনেশন, খ. আউটকাম (বিগিন এন্ড ইন মাইন্ড), গ. কিছু উদাহরন, ঘ. ওটার কিছু সাকসেস + ফেইলড স্টোরি, ঙ. আমাদের দেশে করতে গেলে ‘লোকাল কন্ডিশন’কে ‘টুইক’ করতে হবে কোথায়? নতুন করে তৈরী করার নেই কিছু। ‘রি-ইনভেন্টিং হুইল’ করার সময় নেই আমাদের।

৫০১.

বিটিআরসিতে আসার আগেই পড়েছিলাম টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি হ্যান্ডবুক। পড়েছিলাম লেখালিখির জন্য। জানতামও না ওখানে যেতে হবে একদিন। এখানে এসেই খুঁজতে থাকলাম ফান্ডামেন্টাল কোর্স। অনলাইন হলে তো কেল্লাফতে। পড়ালেখা, তাও আবার – ইন দ্য কমফোর্ট জোন অফ আওয়ার হোম। আইটিইউ’র কোর্স খুঁজে পেলেও ভ্যাকান্সী কম। মাত্র দুজন। বের করলাম যোগসূত্র, আইটিইউতে। রাশান এক ভদ্রলোক। বেগ, বরো আর স্টিল (শেষটার পক্ষপাতি নই আমি, কারণ এর আগেই হয়ে যায় কাজ) মোডে শুরু করলাম ইমেইল যোগাযোগ। ইমেইলের মাধুর্যে না হলেও সিরিজ ইমেইল থেকে বাঁচতেই বোধহয় আমাদেরকে দেয়া শুরু করলো পাঁচটি করে ভ্যাকান্সী। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় দেখেছি পড়াশোনায় না করেনা কেউ। উল্টো, পয়সার ছাড় দেন সহৃদয় সিনিয়ররা। কাজ ডেলিভারি দিলে শেখাতে কি অসুবিধা? আর সেকারণে আমার ‘সিভি’টা এক পাতা থেকে কিছুটা বড়।

৫০২.

জ্ঞান কিন্তু রি-ইউজেবল। ব্রিটেনের প্রায় দুশো বছর লেগেছে। শুধু শিখতেই। শিল্প বিপ্লব থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিখেছে ব্রিটেন থেকে। তাদের লোক পাঠিয়ে। নোটবই ভরে নিয়ে আসতো অভিজ্ঞতার কথা। সেটা কাজে লাগিয়ে টক্কর দিয়েছে অনেক কম সময়ে। কমিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায় একশো বছর। এশিয়ান দেশগুলো আরো বুদ্ধিমান। ইউরোপ আর অ্যামেরিকা থেকে শিখে সেটা কাজে লাগিয়েছে গত তিরিশ বছরে। এখন টক্কর দিচ্ছে সবার সাথে। হংকং, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর অন্যের অভিজ্ঞতা কাজে কাগিয়ে এগিয়েছে বেশি। পাশ্চাত্যে কোনটা কাজ করছে আর কোনটা করেনি সেটা জানলেই তো হলো! মনে আছে বৈজ্ঞানিক নিউটনের কথা? আমি যদি আজ বেশি দেখে থাকি অন্যদের চেয়ে, সেটা পেরেছি পূর্বপুরুষদের জ্ঞানের ভিত্তিতে। আজ আমি জানি ট্রানজিস্টর কি – আর কিভাবে কোটি ট্রানজিস্টর থাকে একটা চিপসেটে। এখন এটা নতুন করে উদ্ভাবন করার প্রয়োজন নেই। বরং, এটাকে ব্যবহার করে কিভাবে নতুন কিছু উদ্ভাবন করা যায় সেটাই করছে নতুন ইমার্জিং দেশগুলো। এটাকে বলা হয় লিপ-ফ্রগিং।

৫০৩.

রেগুলেটরি ফান্ডামেন্টাল শিখেছি আমরা। এখন বের করতে হবে কি চায় দেশটা। তৈরী করতে হবে কাজ করার একটা প্ল্যান। চিন্হিত করতে হবে প্রয়োগের জায়গাটা। পড়েছি শতাধিক কেসস্টাডি। আর পড়েছি ওই দেশগুলোর ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড মাস্টার প্ল্যান। ধরুন, চল্লিশটার মতো। দেশগুলো অনেক আগে শুরু করাতে তাদের কনসেপ্টের রিভিউ পেপারটা পড়লেই বোঝা যাবে কোনটা কাজ করেছে আর করেনি কোনটা। এটা কোন রকেট সাইন্স নয়। দেখে শেখা। ঠেকে শেখা নয়। সেটাই ‘লেট স্টার্টার অ্যাডভান্টেজ।’ দেশগুলো তাদের ব্রডব্যান্ড ছড়িয়ে দেবার সাথে দাম কমানোর জন্য তৈরী করেছে হাজারো টুল। ওই টুলের মধ্যে আমি যেগুলোই ব্যবহার করেছি – ফলাফল পেয়েছি সাথে সাথে। একটা দুটো দেশে ভুল হতে পারে, তাই বলে ভুল করবে পঞ্চাশটা দেশ? সৃষ্টিকর্তা এমন কি তাদের দিয়েছেন – আমাদের দেননি? আমাদের মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা অনেক দেশের পুরো জনসংখ্যার অনেক অনেক বেশি। বিশাল পরীক্ষিত বাজার। বিশ্বাস হচ্ছে না? গ্লোবাল টেলিকম জায়ান্ট টেলিনরের সবচেয়ে লাভজনক ভেঞ্চার কিন্তু বাংলাদেশে। ওই পরীক্ষিত টুলগুলোকে পরিচিত করবো আপনাদের সাথে। এক এক করে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The highest patriotism is not a blind acceptance of official policy, but a love of one’s country deep enough to call her to a higher plain.

– George McGovern

৪৯৭.

নিউ ইয়র্ক। লেখালিখির একটা ওয়ার্কশপের প্রথম দিন। মেন্টর শুরু করলেন লেখার কিছু নিয়ম নিয়ে। পৃথিবীর এক নামকরা লেখকের একটা কোটেশন তুলে ধরলেন উনি। ‘লেখার নিয়ম তিনটা। তবে কেউ জানে না ও তিনটা কি।’ লেখালিখি নিয়ে থাকতেই পারে এধরনের কথাবার্তা। তাই বলে ইন্টারনেট নিয়ে? তবে মজার কথা, ইন্টারনেট নিয়ে মানুষের অনেকটাই বিভ্রান্তি আছে – দাম নিয়ে বিশেষ করে। তবে সেটা নিয়ে কম কথা হয়নি। হাজারো নিয়ম আর শর্টকাট নিয়ে কথা বলছেন অনেকে। শতাধিক ফোরামে। বোদ্ধাদের সাথে কেন জানি মনের মিল হচ্ছে না নীতিনির্ধারকদের। তবে বেসিক গল্পটা না জানার কারণে সমস্যা হচ্ছে বুঝতে। সমস্যা একটাই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেট নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন অথবা পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশনের সমস্যা নিয়ে আলাপ করছি ফোরামে। সবাই মিলে। মজার কথা – পড়া হয়নি প্রাথমিক ক্লাসগুলোই। কেউ জানিনা ব্রডব্যান্ড একোসিস্টেমটা কি? সমস্যা সমাধানে তাই নির্দেশনা আসছে ফ্রান্সের রানীর মতো। ভাত খেতে পাচ্ছে না জনগণ? পোলাও খেলেই তো পারে। বলতে দ্বিধা নেই, আমিও দিয়েছি এধরনের নির্দেশনা। শুরুর দিকে। আবার, ফল্টলাইনগুলো চোখে পড়ছিল বেশি করে – বিশেষ করে শেষের দিকে। সাত বছর তো কম সময় নয়।

৪৯৮.

সিরিজটা লিখছি কিছুটা দায়বদ্ধতা থেকে। বিটিআরসির সাত বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় নিয়ে ঘোরার অন্তর্জালা থেকে মুক্তি পেতে এ ব্যবস্থা। নোটবই সেনাবাহিনীতে পোশাকের অঙ্গ হবার ফলে মিস করিনি খুব একটা। জিম রনের অমোঘ ‘নেভার ট্রাস্ট ইয়োর মেমরী’ বাণীটা খুব একটা বিচ্যুতি আনতে পারেনি ‘নোট টেকিং’য়ে। এখন যুগ হচ্ছে ‘গুগল কীপ’ আর ‘এভারনোটে’র। হাতির স্মৃতি বলে কথা – মাটিতে পড়ে না কিছুই। দেশ বিদেশের ফোরাম, যেখানে গিয়েছি বা যাইনি – হাজির করেছি তথ্য। টুকেছি সময় পেলেই। ভরে যাচ্ছিলো নোটবই। পয়েন্ট আকারে। প্রোগ্রামিংয়ের মতো পয়েন্টারগুলো লিংক করা ছিলো মাথায়। ভুলে যাবার আগেই বইয়ের ব্যবস্থা। ছয়টা বই মোটে। আগের পয়েন্টগুলোকেই ভাবসম্প্রসারণ করছি মাত্র। মাথার সাহায্য নিয়ে। ইতিহাস না লিখে এগোতে পারেনি কোন দেশ। ব্রডব্যান্ডের ‘চিটকোড’ হিসেবে ধরুন কিছুটা।

৪৯৯.

বিটিআরসিতে থাকার সময় অনেকগুলো কাজ হয়েছে যেগুলোর ফলাফল কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী। আসবে ফলাফল, তবে সেগুলোর ইন্টার-ডিপেন্ডেন্সি থাকার ফলে অন্যগুলো না হওয়াতে শেষ হাসিটা হাসতে পারছে না কেউই। ইন্টারনেট নিয়ে পাবলিক কনসালটেশন হয়েছিল কয়েকটা। ইন্টারনেটের দাম নিয়েই হয়েছিলো সেই গনশুনানী। গনশুনানী মানে হচ্ছে ব্যবহারকারীর মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালাতে সংশোধনী আনা। দিয়েছিলাম আমার আর আমার আরেক অফিসারের ইমেইল এড্রেস। মতামত দিয়ে ভরে গিয়েছিলো আমাদের মেইল বক্স। তিন হাজারেরও বেশি ইমেইল। সময় নিয়ে পড়েছিলাম। গ্রাহক তো জানবেন না রেগুলেটরি বিষয়। বা আমাদের ইন্টারনাল ডাইনামিক্স। কিসে কাজ করবে আর কিসে নয়। তারা যা চান – তাই বলেছেন ওখানে। একদম সরাসরি। সেই গনশুনানী শেষ হবার পরে আমাদের বিটিআরসি’র অফিসিয়াল পোস্টটা অনেকবার রি-পোস্ট করেন ব্লগাররা। ভরে যেতে শুরু করে আমাদের মেইলবক্স। গ্রাহকের সমস্যা কতো ধরনের আর কি কি – পিএইচডি করা যাবে। একটা নয়, কয়েকটা। শেষটা হয়েছিলো চৌদ্দটা পয়েন্ট নিয়ে। কার্যকর করা গেছে নয়টাকে। তবে গ্রাহকের ফিডব্যাক নিয়ে রি-পজিশন করার সময় এসেছে এখন।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

It is sometimes implied that the aim of regulation in the radio industry should be to minimize interference. But this would be wrong. The aim should be to maximize output. All property rights interfere with the ability of people to use resources. What has to be insured is that the gain from interference more than offsets the harm it produces. There is no reason to suppose that the optimum situation is one in which there is no interference.

– Ronald Coase, “The Federal Communications Commission,” Journal of Law and Economics, Vol. 2 (1959)

৪৯৩.

ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে এই অসম প্রতিযোগিতা থেকে আর গ্রাহকস্বার্থ রক্ষা করতে সরকার তৈরী করে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ এজেন্সী। বাজারে প্রতিযোগিতাকে চাঙ্গা করার জন্য নিয়ন্ত্রণ কমিশন নিয়ে আসে অনেকগুলো বিধিমালা। প্রথম ধাক্কায় প্রাইভেটাইজেশনের প্রসিডিউরে ফেলে দেয় সরকারী টেলিযোগাযোগ কোম্পানিগুলোকে। ব্যবস্যাবান্ধব পরিবেশ আনার জন্য বুদ্ধিমান ‘এনলাইটেনড’ দেশগুলো তাদের ওই বড় বড় কোম্পানীগুলোকে এমন ভাবে টুকরা টুকরা করে দিল যাতে ছোট ছোট নতুন প্রাইভেট কোম্পানীগুলো প্রতিযোগিতায় তাদের সাথে পেরে উঠতে পারে। পরে কিছু পয়সাপাতি হলে সরকারী কোম্পানিকে কিনতে পারে তারা। ‘মার্জার আর একুইজিশন’ নামের গল্পগুলো শিখলাম ওদের কাছ থেকে। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের এটিএন্ডটির কথাই ধরুন না। আমাদের বিটিটিবির মতো একটা সরকারী কোম্পানি ছিলো ওটা। ও এত বড় যে ছোট ছোট প্রাইভেট কোম্পানি পাত্তাই পাচ্ছিলো না ওর কাছে। ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস মামলা করে দিলো ওদের বিরুদ্ধে।

৪৯৪.

প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ, লোকাল আর লঙ-ডিসটেন্স কলের মধ্যে কিছুটা দক্ষতা আনার জন্যই এ ব্যবস্থা। কলের দাম কেমন হবে সেটা নিয়েও চলছিলো সমস্যা। দক্ষতার সাথে কোম্পানিটা চলছে কিনা সেটাও ছিলো ভাববার বিষয়। আর যার হোক টাকাতো যাচ্ছে সরকারের। জনগনের টাকায় চলছে কোম্পানিগুলো। যতই কোম্পানি হোক সরকারের, মাফ নেই অদক্ষতার। বিশালকার এটিএন্ডটিকেও ভেঙ্গে ফেলা হলো আট ভাগে। উনিশশো বিরাশির ঘটনা। একটা লঙ-ডিসটেন্স কোম্পানি, আমাদের ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে (আইজিডাব্লিউ)র মতো – আর তার সাথে সাত সাতটা লোকাল ফোন কোম্পানি। ছোট হওয়াতে খরচপাতি স্বচ্ছ হয়ে এলো অনেকখানি। বন্ধ হয়ে গেলো ক্রস-সাবসিডাইজেশন। ব্যবস্যা কর, ভালো কথা। আলাদা আলাদা লাইসেন্স নাও অন্যদের মতো। অন্যায় আবদার করো না সরকারের কাছে। অন্য একটা বেসরকারী কোম্পানি আর তোমার মধ্যে পার্থক্য নেই কোন।

৪৯৫.

গুগল করে দেখতে পারেন ‘মা বেল’ আর ‘বেবি বেল’গুলো নিয়ে। হাজারো গল্প। এর পরেও সরকারী কোম্পানিগুলোর সাথে নতুন কোম্পানীগুলোর আন্তঃসংযোগ পাওয়া খুবই দূরহ ছিল। মানে, একজন আরেকজনের কল নিতে চাইতো না। ওই সময়ে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বড় কাজ ছিল বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি তৈরি করা। প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করতে যেয়ে সবচেয়ে প্রথমে রাশ টানলো সরকারী ‘লোকাল বেবি বেল’ কোম্পানীগুলোর। প্রতিযোগীতামূলক ব্যবস্থার বিভিন্ন ইনডিকেটর থেকে তারা অনেকগুলো ‘এন্টি-ট্রাস্ট’ নীতিমালা তৈরি করলো যা ছোট ছোট কোম্পানীকে তাদের প্রয়োজন মত সার্ভিস দেবার ব্যাপারে অনেক সুবিধা করে দিলো। পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বেল সিস্টেম্সকে ছোট ছোট টুকরো করার ফলে অন্যান্য ছোট ছোট কোম্পানীগুলো কাজ করার সুযোগ পেলো। পাশাপাশি। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নতুন কোম্পানীগুলো বেল্ সিস্টেমসের ইনফ্রাকটাকচার ব্যবহার করার সুযোগ নিলো সুলভমূল্যে। আন্ত:সংযোগ না দিয়ে যাবে কোথায় সরকারী কোম্পানি? গুগল করুন ‘ন্যাচারাল মনোপলি’ আর ‘আনবান্ডলিং।’

৪৯৬.

আচ্ছা, দেশটা কার? জনগনের। গ্রাহকস্বার্থ দেখবে কে? ‘জনগনের মনোনীত রেগুলেটরি এজেন্সি।’ আপনার জবাব। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশনের সাইটে যাই মাঝে মধ্যে। ধারণা নিতে। ‘প্রটেক্টিং আমেরিকা’স কনজিউমারস’ ট্যাগলাইন নিয়ে চলছে শত বছরের পুরনো এই প্রতিষ্ঠানটা। অস্ট্রেলিয়ার কম্পিটিশন আর কনজিউমার কমিশনের সাইটের গেলে মাথা খারাপ হবে আপনার। কি নেই ওখানে? প্রথমেই জিজ্ঞাসা করে – তুমি কি জানো তোমার কনজিউমার রাইট?

জনগনের ক্ষমতায়ন করে কিন্তু সরকারই।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: