Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘প্রাসঙ্গিকতা’

You have taught me very important lesson, Xiao Dre. Life will knock us down, but we can choose whether or not to stand back up.

Being still and doing nothing are two very different things.

– Mr. Han [The Karate Kid ,2010]

২০৫.

কয়েকদিন ধরেই শব্দটা ঘুরপাক খাচ্ছে মাথায়। বার বার। রেলেভেন্স। মানে প্রাসঙ্গিকতা। বুড়ো হয়ে যাচ্ছি আমি। সবকিছুর সাথে নিজেকে ‘রেলেভেন্ট’ রাখা যে কতো কষ্টকর সেটা বুঝতে পারছি হাড়ে হাড়ে। হাজারো কথাবার্তা পড়ি পত্রপত্রিকায়। কথা বলি অনেক মানুষের সাথে। রেলেভেন্সের প্রকট অভাব। নিজেরও একই সমস্যা। জন মায়ারের ‘কন্টিনিউয়াম’ অ্যালবামটা কিনেছিলাম জাপান থেকে। এক বন্ধুর পাল্লায় পড়ে। মায়ারের কনসার্টটা দেখিয়েছিলো ওই। শুনেছিলামও কয়েকবার অ্যালবামটা। নাউ, ইট ইজ গ্যাদারিং ডাস্ট। এর মানে নয় যে অ্যালবামটা ভালো না, বরং ওর্থ এভরি পেনি! হয়তো ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম অন্যকিছুতে।

২০৬.

স্বাতী ওর বোনের মেয়ের বিয়ের আয়োজনে কয়েকদিন ধরেই ব্যস্ত। আজ সকাল থেকে বাচ্চ্চাগুলো নিয়ে সকাল থেকেই গায়েব। বাসায় ছিলাম একাই। দুটো বইও নিয়ে বসেছিলাম সকালে। দুপুরে বোকার বাক্সটা খুলতেই আটকে গেলাম। সাধারণতঃ টিভি জিনিসটা দেখা হয় কম। অ্যাকশন আর হরর মুভি – একেবারে নো নো! ‘কারাটে কিড’ মুভিগুলোর সিকুয়েল ‘অ্যাকশন/কুংফু’ জাতের হওয়াতে ওদিকে মাড়াতাম না কখনোই। কারাটে কিড, মানে প্রথম মুভিটা খানিকটা দেখেছিলাম এলিজাবেথ শু’র জন্য। হাজার হোক ছোটবেলার ক্রাশ বলে কথা। দুই নম্বরটাও খানিকটা দেখেছিলাম ‘গ্লোরি অফ লাভ’ সাউন্ডট্রাকটার জন্য। প্রাক্তন শিকাগো’র পিটার সেটেরা আমার বুক ভরে আছে এখনো। গান করো ভালো কথা – মাথা খারাপ করে দিয়ো না বাপু। আমার হাজার হাজার ‘ওয়েস্টেড’ আওয়ার্স এর পেছনে দায়ী এই গায়কও শামিল।

২০৭.

ঘাপলা লাগালো কারাটে কিড – দুহাজার দশের নতুন সেক্যুয়েলটা নিয়ে। তাও আবার ‘না পছন্দে’র জ্যাকি চ্যান আছে এর মধ্যে। রিমোটটা আবার ফ্লিপ করতে গিয়েও আটকে দিলো জন মায়ার। পাগল নাকি? এখানে কেন? মানে এই গানটা? মুভিটার পাঁচ মিনিট নয় সেকেন্ডের অংশটা আটকে দিলো সারাদিনের জন্য। বারো বছরের ড্রে পার্কার আর তার মা কাজের ট্রান্সফারের ধাক্কায় চলে আসে বেইজিংয়ে। ডেট্রয়েট থেকে বিমানে ওঠার পর থেকেই মা ধাতস্ত করতে চাচ্ছিলেন ছোট ড্রেকে। ‘তোমার নাম কি’ অথবা ‘তুমি কেমন আছ’ এধরনের ছোটখাটো ম্যান্ডারিন চাইনিজ প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন ওর মা – বাসা থেকে। খানিকটা আগ বাড়িয়ে কিছুটা পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ তৈরী করলেন তার মা – বিমানে বসে। তাও আবার তার পাশের চীনা চেহারার একটা ছেলের সাথে।

নিমরাজি ড্রে চাপে পড়ে নাক বোচকা ছেলেটার সাথে শুরু করলো কথাবার্তা।

ড্রে [আড়স্ট ম্যান্ডারিন চাইনিজে]: তোমার নাম কি? তুমি আছ কেমন?

ছেলেটা [খাঁটি মার্কিন অ্যাকসেন্টে, কিছুটা অবাক হয়েই]: ডুড, আমি ডেট্রয়েট থেকে!

ড্রে প্রচন্ড অকওয়ার্ড অবস্থায় পড়লেও মানিয়ে নেবার চেষ্টা করলো ওমুহুর্তে। বোঝাই যাচ্ছে পরের লাইনটা হাতড়ে বেড়াচ্ছে সে।

ড্রে: হোয়াটস আপ! লজ্জিত গলা ওর।

ছেলেটা মার্কিন কায়দায় ভ্রূকুটি করে জানালো – ভালো আছে সে।

পরিচালকের মুন্সিয়ানা শেষ হয়নি তখনো।  তেরো ঘন্টার ফ্লাইটে ড্রে’র অস্থিরতা চমত্কারভাবে ফুটিয়ে এনেছেন ওর ঘুমানোর দৃশ্যের ওপর দিয়ে। ট্রান্স-আটলান্টিক ফ্লাইটে সকালের আলো জানালা দিয়ে ঢোকানোর দৃশ্য যা তা ব্যাপার নয়। ড্রে’কে ফ্লাইট এটেন্ডেন্টের দেখভাল – ওর ঘুম থেকে ওঠা – মায়ের প্রশ্রয়ের হাসি – জানালায় সূর্য – মায়ারের গান; সব ফুটে এলো ওই আটান্ন সেকেন্ডে। পরিচালনায় নিচ্ছেন কবে আমায়?

২০৮.

মুভিটার পরিচালকদের মুন্সিয়ানা বোঝা গেলো ওই পাঁচ মিনিট আট সেকেন্ডের মাথায়। মায়ারের গিটারের শব্দ শুরু হয়ে গেলো অন দ্যাট ভেরি মোমেন্ট। অব্যর্থ নিশানা। ধারণা করছি হৃদয় এফোড় ওফোড় হয়ে গেলো সকল দর্শকদের। হৃদয় চুইয়ে ফোঁটা ফোঁটা আবেগ পড়ছিল আগে থেকেই। আটকাতে পারলাম না আর। বসে গেলাম পুরোটা দেখার জন্য। মনে এলো রেলেভেন্সের কথা। মনে হলো গানটা লেখা হয়েছে এই মুহুর্তের জন্য। আবার সবকিছুর সাথে অনেককিছু না গেলেও কিছু জিনিস এমনিই এমন ‘রেলেভেন্ট’ যে একটার কথা চিন্তা করলে আরেকটা চলে আসে এমনিতেই।

২০৯.

গানটা আসলে লেখা হয়েছিলো মুভির জন্য। তবে কারাটে কিডের জন্য নয়। পরিচালনায় কয়েকজনের সাথে আছেন উইল স্মিথ। মনে আছে ‘পার্স্যুট অফ হ্যাপিনেস’ মুভিটার কথা? উইল স্মিথের সাথে ছিলো ওর নিজের ছেলে জেইডেন স্মিথ। মন খারাপ করা একটা মুভি। সেই জেইডেনও আছে এখানে। কারাটে কিড মুভিটা কিন্তু দাঁড়িয়ে আছে ওর সহজ আর প্রেডিকটেবল প্লটলাইনের ওপর। লক্ষ্য করে দেখবেন ওর ডায়ালগগুলোও খুবই সহজবোধ্য। আর সহজবোধ্যতার জন্য এর ভেতরের মেসেজ টেনেছে আমাকে। ক্যাডেট কলেজ আর মিলিটারি একাডেমীর কুংফু ক্লাবের সদস্য থাকার ফলে ওর মেসেজ পানির মতো পরিস্কার।

২১০.

কুংফু একটা ওয়ে অফ লাইফ, এটা কখনই মারামারি বা জেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো না। জীবনের সেরা সিদ্ধান্তগুলো নেবার সময় কুংফুর ধারণাগুলো কাজে লেগেছে আমার। কুংফুর আসল ব্যবহার কিন্তু শান্তির জন্য, মনে আছে খৃস্টপূর্ব তিনশো পঁচাত্তরের ফ্লাভিয়াস রেনাটাসের কথা? ইফ ইউ ওয়ান্ট পিস, প্রিপেয়ার ফর ওয়ার? শান্তির জন্য রক্তারক্তির আউটকাম কখনই ভালো হয়নি। জীবনের সবকিছুই যুদ্ধ, আর সেকারণে একে বলে জীবনযুদ্ধ। আর যুদ্ধের কোনকিছুই রক্তারক্তির ওপর ছিলো না। যুদ্ধের আশিভাগই থাকে স্টেট অফ মাইন্ডের ওপর। মনস্তাত্ত্বিক।

২১১.

ফাইনাল টুর্নামেন্টে আগের প্রতিযোগী ড্রে’র পা ভয়ংকরভাবে মচকে দিলেও ও রিঙ্গে ফিরতে চাচ্ছিলো অদ্ভুদ কোনো কারণে। ডাক্তারের নিষেধ সত্ত্বেও হ্যানকে [জ্যাকি চান, ওর কুংফুর শিক্ষক] অনুনয় করছিলো বার বার।

হ্যান: কারণ, আমি তোমাকে আরো মার খেতে দেখতে চাই না।

ড্রে: মিস্টার হ্যান, প্লিজ, ছেড়ে দিন আমাকে, প্লিজ।

হ্যান: লক্ষী ড্রে, বলতো কেন? কেন ফিরতে চাচ্ছো ওই হতচ্ছাড়া রিঙ্গে? এতটাই দরকার কেন?

ড্রে: আমি এখনো ভীত পুরো জিনিষটা নিয়ে। কি হবে জানিনা – আজ রাতে। তবে আর ভীত থাকতে চাইনা [সারাজীবনের জন্য] – আজ রাতের পর থেকে।

২১২.

চোখ বেয়ে পানি আর আটকাতে পারলাম না এ অংশে। জীবনের হাজারো জিনিস নিয়ে ভীত এই মানুষ তার জীবনে যা করতে চায় – তার কিয়দংশও পারে না করতে। আমিও পারিনি। অন্যেরা কি মনে করবে – ওটা আমি পারবো কি – এই সেলফ ডাউটে পার করে সারা জীবন। বুকে হাত দিয়ে বলুন, যা করতে চেয়েছেন সারাজীবন – তা পেরেছেন কি? না পারলে – কি আটকে রেখেছে আপনাকে? পার হয়ে গিয়েছে বয়স? আমিও পারিনি বলে এখনো পারবোনা সেটা বলিনি তো আমি। পার হয়ে গিয়েছে বয়স? হয়েছে কি তাতে? পার হয়নি মনের বয়স। বিশ বছরের যুবকের আশি বছরের মানসিকতা দেখেছি অনেকের মধ্যে। তার দোষ দেখিনা সেখানে। পারিপার্শ্বিকতা আটকে রেখেছে ওকে, তাকে ছাড়ানোর দায়িত্ব আমাদের। জীবন আমাদের পরখ করছে প্রতিনিয়ত: – ঠেলে ফেলে দিচ্ছে কমফোর্ট জোনের বাইরে। পরোক্ষভাবে সাহায্য করছে যুদ্ধে জয়ী হতে। যতবার উঠে দাড়াই ওই জুজুবুড়ির ভয়কে পেছনে ফেলে, ততো অজেয় হয়ে উঠি আমরা।

আচ্ছা, ভালো কথা – জন মায়ারের গানটা শুনেছেন তো?

Even if your hands are shaking
And your faith is broken
Even as the eyes are closing
Do it with a heart wide open

Say what you need to say …

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: