Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘পয়তাল্লিশ’

১৫.

মনে আছে পত্রিকাগুলোর কথা? মানে, আমাদের ছোটবেলার ওই শিশুতোষ পত্রিকাগুলো? যেগুলো পাল্টে দিয়েছিল আমাদের এখনকার চিন্তা ভাবনা। শিশু? নবারুণ? কৈশোরে এসে পেলাম কিশোর পত্রিকা! যারা লিখতেন তারা জানতেনও কিভাবে জানি – কি চাই আমরা। ‘সুমন আর মিঠুর গল্প’, ‘কুশল আর মৃত্যু বুড়ো’? পরের দিকে – ‘দীপু নাম্বার টু’? মনে নেই তবে কোন যেন একটা পত্রিকার শেষ পাতায় থাকতো কিছু বিন্দু আঁকা। পেন্সিল দিয়ে টানতে হবে এক থেকে দুই, এর পর তিন – চার। নিরানব্বই পর্যন্ত! ধরতেই পারতাম না প্রথমে – কি দাড়াবে জিনিসটা? ওমা, কি সুন্দর পাখি! রং করবো নাকি একটু?

পয়তাল্লিশে এসে ফিরে তাকালাম একবার। পেছনে। জিরাবো কিছুক্ষণ। হিসেবপাতিও করবো কিছু। কি করতে পেরেছি আর কি আছে বাকি?

১৬.

এখন বুঝি, মনের অনেক টান অগ্রাহ্য করেছি সারাজীবন। ভয় পেয়েছি, আশেপাশের মানুষ কি বলে। এটা ওটা করতে চেয়েছি – পিছিয়ে এসেছি পরমূহুর্তে। যেতে চেয়েছি এখানে ওখানে। ‘পয়সা না থাকা’র খোঁড়া যুক্তিতে আটকে ছিলাম ওই সময়গুলোতে। দুহাজার সাতে এসে শুনলাম নামকরা ইউনিভার্সিটির একটা কমেন্সমেন্ট অ্যাড্রেস। ইউনিভার্সিটি থেকে পাস করে বের হবার দিন এক একজন বিখ্যাত মানুষকে ডাকা হয় তার অভিজ্ঞতা বলতে। দুহাজার পাঁচে দেয়া ওই বক্তৃতার সময় মানুষটাকে পছন্দ করতাম না তেমন একটা। ছোট্ট ছোট্ট তিনটা গল্প বলেছিল মানুষটা। গল্পগুলো দাগ কাটলো তার প্রায় ছয় বছর পর। বলতে পারেন চল্লিশে এসে বুঝতে পারলাম প্রতিটা লাইনের অর্থ।

১৭.

মানুষটা কেন জানি ‘সনাতন’ জিনিস মানেনি। আমরা কি পারতাম কলেজে না পড়ে ইচ্ছামতো জিনিস নিয়ে কাজ করতে? মন যা চায় সেটা করার মতো সাহস এখনো আসেনি আমার। অথচ, মনের টানে কলেজ ছেড়ে ইচ্ছেমতো জিনিস শিখে পৃথিবী পাল্টে দিয়েছে ওই মানুষটা। সে যখন ওই কাজগুলো শিখেছে তখন সে নিজেও জানতো না যে জিনিসগুলো তার কাজে লাগবে পৃথিবী পাল্টাতে। মানে ‘ডেলিবারেটলি’ জেনে কোন কিছু করেন নি উনি।

১৯.

মন চেয়েছে তাই করেছেন। বিশ্বাস ছিল যে জিনিসটা পাল্টে দেবে মানুষের অভিজ্ঞতার ব্যাপারগুলোকে। সেটা করতে গিয়ে অনেক সমস্যাতেও পড়েছিলেন উনি। সেটার ভয়ে কাজগুলো ফেলে পালায়নি মানুষটা। তখনও বোঝেননি কি করতে চলেছেন উনি। পৃথিবী জয় করলেন একসময়। অনেক কাজ করেলেন নিজের মতো করে। আর সেগুলোকে বিন্দু হিসেবে কানেক্ট করতে গিয়ে শেষ বয়সে এসে বুঝতে পারলেন আসল জিনিসটা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

(বিচারের দিন) আল্লাহর রসুল (অভিযোগ করে)বলবেন: হে প্রভু! আমার লোকেরা এই কোরআনকে পরিত্যক্ত করে রেখেছিলো।

– সূরা ২৫ আল ফুরকান, আয়াত ৩০

০৬.

ফিরে তাকাই আমার দিকে। ছোটবেলায় কোরআন পড়েছিলাম শুধুমাত্র পড়ার জন্য। আজ পয়তাল্লিশ বছর বয়সে এসে কোরআন পড়লাম আবারো। তবে, এবার বোঝার আগ্রহ নিয়ে। তাও সেটা এলো সৃষ্টিকর্তার ইশারায়। মানে, ওই বিপদে না পড়লে হয়তোবা পড়তাম আরো পরে। ওই ধাক্কাটার জন্য ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তাকে। ধাক্কা কি পায় সবাই? পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ‘পড়া’ বইগুলোর মধ্যে এই বই বাদ পড়লো কিভাবে সেটাই বিস্ময়। মানে, আমি নিজেই পড়িনি এতোদিন। বুঝে। এখন চিন্তা করছি অন্য কথা। এমন কি আছে এখানে – যা অন্য ধর্মের মানুষদের টেনে আনছে চুম্বকের মতো? আর আমরা ফেলে রেখেছি আলমারির ওই উঁচু তাকে। গিলাফে সযত্নে মুড়িয়ে। মনে কষ্ট পেলেও প্রবোধ দিলাম নিজেকে। নাও তো জানতে পারতাম কি আছে এই বিশ্বসেরা ‘ম্যানুয়ালে’। তার আগেও তো চলে যেতে পারতাম এই দুনিয়া থেকে।

০৭.

যিনি তৈরি করেছেন মানুষকে, তিনিই বাতলে দিয়েছেন জীবন ব্যবস্থা। যন্ত্রপাতির সাথে ইউজার ম্যানুয়াল যেমন ‘ইন্টেগ্রাল’ পার্ট, তেমনি এটাও। মিডল-ইস্ট আর আফ্রিকাতে বন্ধু হয়েছে অনেক। ইদানিং। আগে ছিলো, তবে বেড়েছে আরো। যখন বলি, একটা ভাষা পড়তে লিখতে পারি, তবে বুঝি না, মুচকি হাসে তারা। হয়তোবা ভাবে, এ আবার কি ধরনের ভাষার দক্ষতা? মুখ ফুটে না বললেও বোঝা যায় হাবভাবে। দোষ দিয়ে লাভ নেই তাদেরকেও। ব্যাপারটা তারা বুঝবেনা। আমিও দাড়িয়ে থাকি হাসি দিয়ে। বউয়ের সাথে এই কাজ করি বলে বউ থাকে খাপ্পা। আফ্রিকায় বউ সাথে থাকে না বলে কোরআনকে বোঝার ‘ভাষা আরবী’ নিয়ে নেমে গেলাম একটা প্রজেক্টে। শুধুমাত্র – কোরআন বুঝতে। যা পেলাম – মাথা খারাপ করে দিলো আমার!

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: