Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ফেসবুক’

Real stupidity beats artificial intelligence every time.

— Terry Pratchett

চার বছর আগের ঘটনা। বাসার গাড়িটা সমস্যা করছে বেশ কিছুদিন ধরে। সমস্যাটা একটা চাকায়। ঠিক করলাম – ফেলবো পাল্টে। ফোন দিলাম দোকানে। চাকার ক্যাটাগরি/পার্ট নম্বর জানতে চাইলেন উত্তরদাতা। ঠিকই তো। জানা উচিত ছিলো আমার। পড়লাম বিপদে। গাড়ি তো এখন বাইরে। না ফেরা পর্যন্ত গেলাম আটকে। আগের বারও দোকানদার জিগ্যেস করেছিলেন এই জিনিস। আবছা করে মনে আসছে কিছু সংখ্যা। তবে, বলতে পারছি না সেটা নিশ্চিত করে।

খুব ভুলোমন আমার। মনে রাখতে পারি না আগের মতো। স্বাতী’র ওপর দিয়ে যায় তখন। আজকেও ঘটেছে একটা জিনিস। জুমা’র নামাজে যাবার আগের মুহূর্ত। একটা বই পড়ছিলাম সকাল থেকে। তখন থেকেই ঘুরছিলো জিনিসটা মাথায়। পাঞ্জাবি পরার জন্য মাথা না ঢুকিয়ে প্রায় পা তুলে ফেলেছিলাম তখন। ভাগ্যিস কেউ বোঝেনি ব্যাপারটা।

ভুলোমনের জন্য সাহায্য নিতে হয় প্রযুক্তির। দরকারী কাগজ, বিল, ভিজিটিং কার্ড, কার্ড স্টেটমেন্ট – হেন জিনিস নেই যেটা যায় না গুগল ক্লাউডে। একটা নির্দিস্ট পিক্সেলের জন্য আনলিমিটেড স্টোরেজ, ভাবা যায়? মনে পড়লো আগের ঘটনা। গাড়ি চাকা পাল্টানোর সময় তুলে রেখেছিলাম ছবি। আগের চাকার। তাও আবার ওই সময়ের মোবাইলে। নাম দিয়ে তো সেভ করিনি জিনিসটা। তো – বের করবো কি করে?

চালু করলাম ‘ফটোজ’ অ্যাপ। গুগলের নেটিভ সার্ভিস। তখনি ছিলো লাখ খানিকের মতো ছবি। লিখলাম ‘কার টায়ার’। মুহূর্তেই চলে এলো ২০০৯য়ের তোলা দুটো ছবি। গাড়ির চাকার। নম্বর সহ। সঙ্গে এলো আরো কয়েকটা ছবি। মনে পড়ল একটা তুষার ঝড়ের কথা। ওয়েস্ট কোস্টে থাকতে। গাড়ির চাকাতে লাগানো হচ্ছিলো স্নো চেইন। লাগাচ্ছিলো আমার বন্ধু। রাস্তাতে পিছলে যাবার ভয়ে। সেটার ছবি তুলেছিলাম ওই সময়ে। কোন জিনিস ভোলেনি গুগল।

চেষ্টা করতে পারেন আপনিও। চালু করুন ‘ফটোজ’ অ্যাপ। লিখুন ‘বার্থডে’। দেখুন, চলে এসেছে বাচ্চাদের নিয়ে সব ছবি। জন্মদিনগুলোর। পিক্সেলও বোঝে কোনটা কেক, কোনটা বেলুন। মোমবাতিসহ। জানে জিনিসগুলোর ‘আসপেক্ট রেশিও’। তাদের প্লেসমেন্ট। মজা আছে আরেকটু। সামনে ওই মোমবাতি গুনে আপনাকে জানাবে – কতো বয়সে পড়ল মেয়েটা আপনার। যারা বয়স মনে রাখতে পারে না তাদের জন্য এটা একটা লাইফসেভার! কেকের ওপর লেখাও মনে রাখছে সে। ওই ছবিতে থাকছেন কারা কারা? আর, কারা কারা থাকছেন প্রতিবছর? কেকটা কোন দোকানের, এবছর? আগের বছরগুলোতে? সেটাকে কাজে লাগাবে সামনে। আস্তে আস্তে। সত্যি!

ইমেজ প্রসেসিংয়ে কি তুলকালাম কান্ড ঘটছে সেটার কিছু ধারণা পাচ্ছেন সবাই ফেসবুকে। ছবি আলো আধারি – দাড়ি ছাড়া বা সহ, ক্যাপ সহ অথবা ছাড়া, সানগ্লাস সহ বা ছাড়া। কোনকিছুতেই চিনতে ভুল করছে না আপনাকে। এই ফেসবুক। এটা মাত্র ‘টিপ অফ দ্য আইসবার্গ’। তো পিচ্চি কালের ছবি? চিনবে তো? আপনার কি মনে হয়? মনে রাখবেন, ফেসবুক এমন কিছু করবে না যাতে ভয় পেয়ে যায় মানুষ।

[…]

Advertisements

Read Full Post »

You can fool some of the people all of the time, and all of the people some of the time, but you can not fool all of the people all of the time.

– Abraham Lincoln

save6০৯.

বুকে হাত দিয়ে বলুনতো আজ ‘ইউটিউব’ বা ‘ফেসবুক’ বাংলাদেশী ইনকরপোরেটেড কোম্পানী হলে বছরে বন্ধ হতো কতো বার? কতো কনটেন্ট মুছে যেতো প্রতিদিন? আমার কথা একটাই। আপনার ভালো না লাগলে ওই সাইটে যাওয়া কেন বার বার? আর, ও মিথ্যে বললে কি উড়ে যাচ্ছে আপনার ‘ঠুনকো’ ইমেজ? ‘রেড লাইট এরিয়া’র মতো প্রতিটা ‘পর্নোসাইট’ বন্ধ করতে উঠে পড়ে লাগেনি পৃথিবী। সময়ের দাম আছে মানুষের। ‘নিষিদ্ধ’ কনটেন্টের সাইটে না যাবার জন্য নিজের ওপর ভরসা নেই কেন আমাদের? কেন সরকারকে বলা – ‘এটা ওইটা বন্ধ করেন’? রাস্তায় নামলেই দুর্ঘটনা হয় বলে ঘরে বসে থাকেন আপনি? আর, ভিন্ন মতাবলম্বী মানুষ থাকবেই। সবার মত তো আর এক হবে না। তাহলে, অন্যের মুখ বন্ধ করতে যাওয়া কেন? ওতো আপনার বাড়া ভাতে ছাই ফেলেনি। আপনার মতের বিরুদ্ধে কথা বলেছে হয়তোবা। এই যা! আর – উত্তরে দাড়া করান আপনার মতামত। এমনও তো হতে পারে সে ঠিক। গ্যালিলিওকেও তো মিথ্যেবাদী বলেছিল মানুষ।

১০.

আর সেকারণে আমার ভয় এই ‘জিরো ইন্টারনেট’ নিয়ে। আজ যা জিরো, সামান্য গুটিকয়েকের জন্য, কাল আপনাকে তারাই ফেলে দিতে পারে ‘স্লো’ জোনে। পরশুদিন ‘নো জোন’। মানে, পাওয়া যাচ্ছে না আপনার সাইট – দেশ থেকে। ‘ইন্টারনেট’ বৈষম্য করেনি কখনো। বৈষম্য তৈরি করে না প্রযুক্তি, তৈরি করি আমরা। মানুষেরা। একে ওকে ‘শূন্য ট্যারিফ’ – আর বাকিদের নয়, সেটাই মূলনীতির বাইরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন পলিসি নিয়ে হাজারো গল্প থাকলেও দেশের ভেতরে এই ‘সহিষ্ণুতা’ তাদেরকে ‘মাতবরী’ করতে দেবে অনেক কটা বছর। সহিষ্ণুতা মানে ‘অন্যের মতামতকে নেবার ক্ষমতা’। কারণ – তারা জানে ভিন্ন মতের মাহত্ব। আর সেকারণে ওই দেশের ফাউন্ডিং ফাদাররা তৈরি করেছিলেন ‘বিল অফ রাইটস’ বলে একটা কাগজ। সাদামাটা কথা। দেখবেন নাকি পড়ে একবার? ওই ১৭৮৭ সালে থমাস জেফারসন কি বলেছিলেন মনে আছে কি? “[A] bill of rights is what the people are entitled to against every government on earth, general or particular, and what no just government should refuse.”

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Freedom of connection with any application to any party is the fundamental social basis of the internet. And now, is the basis of the society built on the internet.

– Tim Berners-Lee

save0০১.

ইন্টারনেট নিয়ে সখ্যতা আমাদের অনেক অনেক দিনের। আমাদের মানে আমাদের মতো বুড়োদের। ইন্টারনেট বড় হয়েছে আমাদের চোখের সামনেই। বিরানব্বই থেকে অফলাইন ইন্টারনেট নিয়ে খোঁচাখুচি। ব্রাউজও করতে পারতাম এই অফলাইন ইন্টারনেটে। ভাবা যায়? ভাবখানা কিছুটা আজকের পুশ-পুল এসএমএসের মতো। যাই হোক – জানা যেতো অনেক কিছু। সত্যি কথা বলতে – ‘লোকাল ইন্টারনেট’ মানে মোডেম দিয়ে এক বাসা থেকে আরেক বাসায় ফাইল পাঠানো শুরু হয়েছে বহু আগেই। তিরাশি সালের কথা। হাতে পড়লো একটা ‘কমোডোর’ কম্পিউটার। মোডেমসহ। পাল্টে গেল আমাদের দুনিয়া। এক সময় চালু হলো বুলেটিন বোর্ড সার্ভিস। এই ঢাকায়! মনে আছে ‘ওয়াইল্ড ক্যাট’এর প্রম্পটের কথা? কথাটা আপনাদের কাছে ‘হিব্রু’ মনে হলে বুঝতে হবে আসলেই বুড়ো হয়েছি আমরা।

০২.

আজকের ইন্টারনেট পাল্টে দিচ্ছে পৃথিবীকে। কোথায় কি হলো সেটা সরকার জানার আগেই জানে মানুষ। মানে জনগণ। জনগণ তার মুখ খুলতে পারে এই ইন্টারনেটের কারণে। ‘আরব বসন্তে’র দেখেছেন কি, ওটাতো আইসবার্গের ছোট্ট ‘নিষ্পাপ’ মাথা। আজকের গনতন্ত্রের বিশাল অংশ চলছে এই ইন্টারনেটকে ঘিরে। আল গোরের ‘ইন্টারনেট আর ভবিষ্যত গনতন্ত্র’ নিয়ে বক্তৃতা কিছুটা গল্প দিলেও তার সবকিছু শুরু কিন্তু একটা সহজ ‘টার্মেনোলোজি’ নিয়ে। ‘নেট নিউট্রালিটি’। পুরো ইন্টারনেট ‘সরব’ এই গল্পটা নিয়ে। হ্যা, প্রায় একযুগ ধরে। আমরা যারা ভোক্তা, তাদের ভয় একটাই। কোনদিন না বন্ধ হয়ে যায় সব। আমার প্রিয় সাইট হয়তোবা হারিয়ে যাবে এই টেলকোদের ধাক্কাধাক্কিতে। সাইট থাকবে, কিন্তু সেটাকে আর বইবেনা (মানে আর ‘ক্যারি’ করবে না) আমাদের ‘টেলকো’রা। কারণ বনিবনা হয়নি পয়সার ভাগ বাটোয়ারাতে। অপারেটর ‘ক’ এর ওপর দিয়ে ওই অ্যাপ্লিকেশন বা সাইট আসতে হলে পয়সা দিতে হবে ঘাটে ঘাটে। সব দোষ জর্জ অরওয়েলের। কেন লিখতে গেলেন বইটা? মানে ১৯৮৪ নামের বইটা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Formal education will make you a living; self-education will make you a fortune.

― Jim Rohn

০১.

লিঙ্কডইন নেটওয়ার্কে ফেসবুকের মতো ‘পোকিং’ ফীচার না থাকলেও মাঝে মধ্যে বাজিয়ে দেখে হেড-হান্টাররা। ধরুন, এই অধমকেই। মানে আপনার সিভি’র কাছে যে নস্যি! আসল আফ্রিকান ‘হেড-হানটিং’ হলে পালিয়ে বেড়াতাম এর মধ্যেই। এটা সেধরনের নয় বলে রক্ষা। পৃথিবী পাল্টে গেছে অনেক। পাঁচ বছর আগের গল্প দিয়ে চাকরি পাওয়া কঠিন এখন। আর যারা দেবে চাকরি, তারাও পাল্টেছেন তাদের পজিশন। পুরোপুরি – রিপজিশন! তারা এখন অনেক ফোকাসড, তারা জানেন – আসলে কি চায় কোম্পানী। তিন বছর আগে যেভাবে চাকরি পেয়েছেন – সেটা কিন্তু নেই আর। সত্যি বলছি। গতানুগতিক চাকরি দিতে চান না তারা, কথা হয় নির্দিষ্ট কাজ ওঠানো নিয়ে। তাহলে ‘হেড-হানটিং’ নিয়ে কথা বলি দু একটা, কি বলেন?

০২.

‘হেড-হানটিং’য়ের গল্পটা তখনই আসে যখন কোম্পানীটা একটা ‘নির্দিষ্ট’ কাজের জন্য মানুষ চায়। ‘প্রিটি মাচ স্পেসিফিক।’ সাধারণত: এই প্রসেসটা শুরু হয় ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের মাথাদের ‘হায়ার’ করার জন্য। সোজা কথায়, পিরামিডের ওপরের দিকের মানুষ খুঁজতেই এই ‘মাথা’ নিয়ে টানাটানি। সে কি ধরনের হবে সেটার একটা ‘ম্যাপিং’ তৈরি করে নেয় কোম্পানীটা। আরেকটা ব্যাপার বলে রাখি আগেভাগে, পেপারে বা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজগুলো করা হয় না – বেশির ভাগ সময়ে। আবার, অনেক সময় ওই কোম্পানীর ‘এইচআর’ও জানে না কি হচ্ছে কোথায়? হতে পারে – প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানী থেকে নিয়ে আসতে হবে একজনকে, অথবা যার কাজের প্রোফাইল সাধারণের মতো নয়। রিক্রুটিং এজেন্সির কাজের বাইরের কাজ এটা। কোম্পানী তখন খোঁজে হেড-হান্টারদের। যাদের ব্যবসা মানুষের নাড়িনক্ষত্র নিয়ে। হেড-হান্টাররা সাধারণত: লূকোছাপা করেন কম, তাদের কথাবার্তা আর যোগাযোগ অনেকটাই ‘পার্সোনালাইজড’ আর সরাসরি ধরনের।

০৩.

কেন হেডহানটিং? কোম্পানী চায় কি? মানে ম্যানেজাররা চান কি? যেকোন কাজকে ‘আইডেন্টিফাই’ করে ওই সমস্যার সমাধান। ওই সমস্যা সমাধান করতে গিয়ে যতো কম ‘রিসোর্সে’র ব্যবহার আর সেটা তাদের বটমলাইনে পজিটিভ ইমপ্যাক্ট আনছে কি না। এগুলোই দেখার বিষয়। সোজা কথায় ম্যানেজারদের কাজ মাপার ‘ইয়ার্ডস্টিক’ হচ্ছে সময়ের সাথে সাথে তারা কতটুকু সফলতা পাচ্ছে ক। কোম্পানীর খরচ কমাতে, খ। দিনের শেষে কতো লাভ হলো। ওর সাথে সাথে ‘হেড-কাউন্ট’ চলে আসে। যেখানে এই কাজটা করতে চারজন লাগে, সেটাকে খরচ কমাতে গিয়ে হাত পড়ে হেড-কাউন্টে। ফলে কমে যায় মানুষ। আর কোম্পানী খোঁজে ওই লোক যে ওই বাড়তি কাজটাও পারে। আগে যেটা তার ‘টার্মস অফ রেফারেন্সে অমুক জিনিস থাকলে ‘অ্যাডেড’ অ্যাডভাণ্টেজ – সেটা যোগ হয়ে যায় মূল কাজে। মানে পুরানো কাজের ‘চোথা’ দিয়ে এগুতে পারছে না কোম্পানীগুলো। হেড-হান্টারদের লাগছে ওই ‘কাস্টোমাইজড’ কাজের গল্প বানিয়ে ওই লোকটাকে খুঁজে বের করতে।

০৪.

কোম্পানীর বড় লেভেলের এগজিকিউটিভ খুঁজতে বড় ধরনের ‘ক্যাম্পেন’ করতে হয় না হেড-হান্টারদের। যারা ওই কোম্পানীটার জন্য এগজিকিউটিভকে খুঁজছেন তাদের অনেকেরই নিজস্ব ফার্ম থাকে। রিক্রুটমেন্ট কন্সাল্ট্যান্টদের মতো তুলনা করা যাবে না তাদের। আপনি চাকরি পেলেন নাকি পেলেন না সেটা নিয়ে মাথা ঘামায় না ওই ফার্ম। আপনাকে বলে দেবে কিভাবে চাকরি খুঁজতে হয় অথবা ওই কোম্পানীতে চাকরি করতে হলে এই এই কাজ করতে হবে। তার ফী নির্ধারিত। হেড-হান্টারদের গল্প কিন্তু আলাদা। তারা ওই কোম্পানীর মানুষটাকে খুঁজে দিতে পারলেই পায় পয়সা। মানে খেটে – রেজাল্ট দেখিয়ে আয় করতে হয় তাদের। ব্যাপারটা কিছুটা কমিশন ভিত্তিক হয়। তাদের ফী – সেটা ‘কন্টিজেন্সী’ অথবা ‘রিটেইনড’ মানে কাজ ভিত্তিক বা বড় ধরনের রিক্রুটমেন্ট ভিত্তিক যাই হোক না কেন সেটা বেতনের ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত দেখা যায়। কোম্পানীর ওই এগজিকিউটিভের রোল কি হবে, তার ব্যাকগ্রাউণ্ড নিয়ে গবেষণা থেকে শুরু করে কোন কোন কোম্পানী থেকে মানুষ টানা যায় সেটার লিস্ট তৈরি করতে সাহায্য করে হেড-হান্টাররা।

০৫.

আচ্ছা, হেড-হান্টাররা তাদের লিস্ট বানায় কি করে? আমার ধারনা, গ্লোবাল নেটওয়ার্কিং। ‘ক্যারিয়ার মীট’ কোনটাই মিস করে না তারা। রিসার্চেও তুখোড় তারা। বিভিন্ন ট্রেড অ্যাসোশিয়েশন থেকে ‘ইনহাউস’ তথ্য পায় তারা। আর তো রয়েছে ইন্টারনেট। চাকরির বাজার নিয়ে বেশ কিছু ডিরেক্টরি বের হয় প্রতি বছর। সবশেষে তো আছে লিংকডইন! মানুষ নিয়েই তাদের কাজ। কোন কোম্পানীতে কোন মানুষটা আছে – সে কি রকম ভাবে আছে – সব জানতে হয় তাদের। এদিকে কোন কোম্পানী কি চাইবে সেটাও ধারনা করতে হয় আগে থেকে। ইদানিং কোম্পানীগুলো পড়া বাদ দিয়েছে মানুষের ‘রেজিউমে’। ওই ‘হিব্রু’ থেকে কি পাওয়া যাবে সেটা নিয়ে সন্দিহান তারা। এখন ফোকাস হচ্ছে নির্দিষ্ট কাজগুলোকে তুলে দেয়া – একটা সময়ের মধ্যে। বলতে হবে আর ‘কেপিআই’এর গল্প? আপনারা আরো ভালো জানেন আমার থেকে।

০৬.

প্রথম কলটা পাই প্রায় পাঁচ বছর আগে। ইউরোপের একটা ফার্ম। পরপরই চলে এলো পুরোপুরি ‘পার্সোনালাইজড’ একটা ইমেইল। বোঝা গেলো আমাকে অনেক ভালোভাবেই চেনে সে। কবে কোথায় ছিলাম সেটা জানে ‘ইন ডেপ্থ’! তবে, কি কি কাজ করেছি সেটা নিয়ে কথা বলতে চায় সে। কিভাবে আমাকে চেনে বলতেই হাসলো মেয়েটা। বোঝা গেল – বলতে চাইছে না সে। তবে, পরের দিকে জানিয়েছিল – একটা নামকরা টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি কোম্পানী থেকে পেয়েছিল আমার কনট্যাক্ট ডিটেলস। একটা রেগুলেটরের পক্ষ হয়ে কাজ করছে সে। কোন রেগুলেটর? এখন নয়, শর্টলিস্টিং হলে জানাবে সে। এটা চায় তো ওটা চায়। কণফারেন্স কল তো পানিভাত। আমি আগ বাড়িনি আর। এধরনের অনেকগুলো ঘটনা ঘটেছে এর পরে। বাজার ‘যাচাই’ করতে কে না চায় বলুন? মানে, আপনার দাম উঠলো কতো? মনে কিছু করবেন না, নিজেকে বিক্রি করতে পারাটা আর্টের পর্যায়ে চলে গেছে ইদানিং। ঘণ্টায় দশ টাকা আয় করার মানুষ থেকে শুরু করে লক্ষ টাকার মানুষ আছে এই আমাদের দেশেই। মানে সেই মানুষটা ওই মূল্যটা পাচ্ছে বাজার থেকে। আপনার কাজ থেকে কোম্পানী ঘণ্টায় বিশ লাখ টাকা আয় করলে আপনাকে লাখ টাকা দিতে বাধা কোথায়? মনে নেই জিম রনের সেই কথা?

We get paid for bringing value to the marketplace. It takes time to bring value to the marketplace, but we get paid for the value, not the time.

— Jim Rohn

০৭.

আইডিয়া হলো কিছু। পরের দিকে ‘নক’ করলেই বলতাম – চাকরি খুঁজছি না এ মূহুর্তে। তবে ছোট বড় কিছু কাজ নিয়ে কথা বলতো হেড-হান্টাররা। ‘তোমার একটা প্রেজেন্টেশন দেখলাম এই নীতিমালাটা নিয়ে। ওই সাইটে। ওই দেশকে নীতিমালাটা তৈরি করে দিচ্ছি আমরা, কেয়ার টু জয়েন?’

বলুনতো কোথায় কাটাবেন সময়? ফেসবুক না লিংকডইন? প্রায়োরিটি কোথায়? টাকা কিন্তু উড়ছেই। ধরতে পারাটাই কায়দা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: