Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ফোকাল পয়েন্ট’

The hungrier one becomes, the clearer one’s mind works— also the more sensitive one becomes to the odors of food.

― George S. Clason, The Richest Man in Babylon

৬৫৮.

এদিকে চমত্কার একটা কাজ করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তাদের যোগাযোগ আর আইসিটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে একটা ‘অ্যাডভাইজরী গ্রুপ’। সরকারী লোক নয় শুধু, সবাইকে নিয়ে এসেছে এক কাতারে। টেলিযোগাযোগ কোম্পানী থেকে শুরু করে ইনডাস্ট্রি অ্যাসোশিয়েশন, ইনভেস্টর, সম্পর্কিত দপ্তর থেকে সরকারী প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় – বাদ পড়েনি কিছুই। সবাইকে দিতে হয়েছে ‘কম্পিটেণ্ট’ সদস্য। ভারতের জাতীয় ব্রডব্যান্ড প্ল্যান অনুযায়ী একত্রীভূত ‘জাতীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক’ দিয়ে প্রতিটা গ্রাম আর শহরকে কিভাবে যুক্ত করা যায় সেটাই এই অ্যাডভাইজরী গ্রুপের ভাবনা। লাস্ট মাইলে স্পেকট্রামকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাও দেখছে তারা। মোদ্দা কথা, যুক্ত করতে হবে সবাইকে। মানুষের পয়সা থাকুক আর না থাকুক। ইন্টারনেট তো লাগবেই। আজ নয়তো কাল। ইন্টারনেটকে সস্তা না করলে হবে কিভাবে? আর এই কাজ করতে ভারতের এই সম্মিলিত ‘অ্যাডভাইজরী গ্রুপ’কে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহারকে ‘উদাহরণ’ হিসেবে টানা হয়েছে ব্রডব্যান্ড টূলকিটে। সত্যি বলতে, বেশ ভালোভাবেই। এতে অনেক সরকারী বেসরকারী এজেন্সিগুলোর ‘ক্রস-কাটিং’ ব্যাপারগুলো মেটানো গেছে সবার সাথে কথা বলে। নেটওয়ার্ক রোলআউট করতে লাগে অনেক টাকা, তবে সেটাকে সবাই মিলে করলে খরচ কমে আসে। গ্যাস পাইপ বসবে, একই সাথে চলে যাচ্ছে পানি, ফাইবার, তেল, বিদ্যুত্‍। সমন্বয় করার দ্বায়িত্ব ফোকাল পয়েন্টের। আর সেই সুবিধাটা নিয়েছে দেশটা।

৬৫৯.

ব্রডব্যান্ড প্রোমোশন এজেন্সি লাগবে কিনা – সেটা অনেকটাই নির্ভর করে দেশটার ‘লোকাল কন্ডিশনে’র ওপর। মানে ওই দেশের বর্তমান আইন ব্যবস্থা, সরকারী ‘প্রতিষ্ঠানগুলো’র কাজের ক্ষমতায়ন কতোখানি, ব্রডব্যান্ডে নেতৃত্ব দেবার মতো মানুষের ‘ক্যাপসিটি তৈরি’, আর সরকার এই এজেন্সিটাকে চালানোর জন্য পয়সা দিতে পারবে কিনা সেগুলো আসবে আস্তে আস্তে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য ব্যাপারটা ‘উচ্চাকাংখী’ মনে হলেও ব্রডব্যান্ড একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে সেটা অনুধাবন করলে এই এজেন্সি জরুরী। এই এজেন্সি বসাতে জন্য যে প্রচুর পয়সা লাগবে তাও নয়। তথ্য, টেলিযোগাযোগ, আইটি আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একীভূত করলে যে পয়সাটা বাঁচবে তাতেই হয়ে যাবে এজেন্সিটা। প্রযুক্তি মানে ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’র মতো জিনিসকে মানুষের জীবনে ঢুকিয়ে দিতে পারলে দেশে চলে আসবে ‘সুশাসন’ আর ‘স্বচ্ছতা’। সাধারণ মানুষের চাওয়া এগুলোই। ব্যাস, দেশকে আর তাকাতে হবে না পেছনে। তবে, ‘ব্রডব্যান্ড টূলকিট’ বলছে আরো একটা গল্প। সরকারে সেই ‘জ্ঞান’টা না থাকলে নেতৃত্ব দেবে কে? ব্রডব্যান্ডকে ঠেলে সামনে নেবার জন্য প্রয়োজন ‘প্রজ্ঞা’সহ নেতৃত্ব। সেটাকে দিতে হবে সরকারকেই।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

Singapore is building to be the world’s first Smart Nation, with fuller use of technology to live, work and play. Singapore has the opportunity to be a Smart Nation if we work together and successfully combine policy, people and technology, and boost all aspects to enhance our national capabilities – from infrastructure, industry and talent, to governance.

– Smart Nation Vision, 2005

৬৫৫.

‘ফোকাল পয়েন্ট’ ধারনাটা নতুন নয় কিন্তু। যারা এগিয়েছে ব্রডব্যান্ডে, তাদের সবারই আছে এই আলাদা অফিসটা। কাজ একটাই, সারাদিন ব্রডব্যান্ড নিয়ে চিন্তা করা। সরকারী সম্পর্কিত সব এজেন্সিগুলোকে ধাক্কা দিয়ে এক কাতারে নিয়ে আসা। ইনভেস্টর, ইনডাস্ট্রি, অপারেটররাও বাদ যাবে না সেই ধাক্কা থেকে। ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস’ থেকে বিভিন্ন ‘ওভারল্যাপিং’ প্রজেক্টের সমন্বয় সাধনের মতো জিনিসের সাথে ‘ব্লেম গেম’ ব্যাপারটা সরিয়ে আসল কাজ বের করে নিয়ে আসছে এই অফিস। ফিরে আসি সুইডেনের কথায়। তাদের ‘আইটি পলিসি স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ’ প্রথমেই তৈরি করতে বলেছিল ‘আভ্যন্তরীণ একটা স্ট্র্যাটেজিক সমন্বয়কারী অফিস’। তার কাজ হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্টে জড়িত সব এজেন্সিকে এক টেবিলে এনে কাজের ধারাবাহিকতা ‘মনিটর’ করা। সব এজেন্সি মানে সরকারী, বেসরকারী – ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সবাই।

৬৫৬.

ভালো কথা, ব্রিটেনে তো পুরো একজন মন্ত্রী রয়েছেন এই ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ দেখভাল করার জন্য। ব্রাজিল এদিকে এগিয়ে আছে বেশ ভালোভাবে। তাদের এগিয়ে থাকার পেছনে রয়েছেন একজন ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ সচিব যাকে আলাদাভাবে বসানো হয়েছে ওই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটা নিয়েই পড়ে আছেন তিনি। ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ নিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত প্রজেক্টেরগুলোর মাথা উনি। তবে, অনেকদেশে এই ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্টের দেখভাল করার কাজ দিয়ে রেখেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় অথবা রেগুলেটরের কাছে। এটার ভালো খারাপ দুটোই দেখেছি আমি। আমার মত হচ্ছে যে দেশগুলোর আভ্যন্তরীণ ‘গভার্ণেস’ খুবই শক্তিশালী, সেখানে এটা কাজ করে ভালো। এই কম্বিনেশনটা কাজ করে চমত্কার – যাদের রয়েছে ‘পোক্ত’ মানে ডিটেইল লেভেলে কাজ করা জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা। ‘পোক্ত’ ব্রডব্যান্ড নীতিমালার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্হ্য, জ্বালানী – দক্ষ প্রশাসন – থাকবে সবকিছু।

৬৫৭.

উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসি সিংগাপুরের কথা। ওদের দেশের জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ লেভেলের একটা কোর্স করিয়েছিল আমাকে, বিটিআরসি। পাঁচ হাজার ডলারের মতো ছিলো শুধুমাত্র তার কোর্স ফি। সিংগাপুর একটা মাস্টার প্ল্যান করেছিলো অনেক আগে। নাম ‘ইণ্টেলিজেণ্ট নেশন ২০১৫’। প্ল্যানটা নিয়ে মাঠে নামে ২০০৫য়ে, যদিও সেটা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। দশ বছর ধরে প্রতিটা আইটেম ধরে ধরে এগিয়েছে তারা। দর্শন ছিলো, ‘অ্যান ইণ্টেলিজেণ্ট নেশন, আ গ্লোবাল সিটি, পাওয়ারড বাই ইনফো-কম’। তারা মনোযোগ দিয়েছিলো ‘ট্রাস্টেড’ আর ‘বুদ্ধিমান’ আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাক্চারের ওপর। সেই সাথে ব্যস্ত ছিল পুরো ‘ইকোসিষ্টেম’ তৈরিতে। ডিমান্ড আর সাপ্লাই সাইড নিয়ে তাদের কাজ দেখার মতো। বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিক রেখে নতুন নতুন ‘স্টার্ট-আপ’ কোম্পানী মানে ইনভেস্টমেন্ট আনার ব্যপারে তাদের কাজ দেখলে তাক লাগবে সবার। ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য অনেক অফিস খুলেছে পৃথিবী জুড়ে। সেই সাথে তৈরি করেছে বিশাল ‘ট্যালেন্ট পুল’। বেড়েছে জাতীয় ‘সক্ষমতা’। দশ বছরের ধারাবাহিকতার ফলাফল – ‘স্মার্ট নেশন’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

It’s better to be at the bottom of the ladder you want to climb than at the top of the one you don’t.

– Stephen Kellogg

৬৫৩.

ব্রডব্যান্ডের সুফল দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে দিতে হলে আগে নির্ধারন করতে হবে জাতীয় ‘ফোকাল পয়েন্ট’। বুঝতেই পারছেন, হাজারো কাজ হবে এই ব্রডব্যান্ড নিয়ে। সরকারের কোন এজেন্সি যদি সেটাকে ঠিকমতো ‘মনিটর’ অর্থাত্‍ কাজগুলো ঠিক মতো হচ্ছে কিনা – কোন কাজটার সুফল আসছে আর কোনটার আসছে না সেটাকে চিহ্নিত করার দ্বায়িত্ব নিতে হবে সেই ফোকাল পয়েন্টকে। কাজটা হচ্ছে দেশের – সেখানে নন-গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশনের তো আর ‘লীড’ নেবে না। সরকারী আর বেসরকারি ‘শত’ এজেন্সি কাজ করবে এখানে, কাজ হবে বিশাল প্রজেক্ট আকারে। ফোকাল পয়েন্ট থাকবে ‘ক্লিয়ারিং হাউস’ হিসেবে – এই বিশাল প্রজেক্টের। প্রজেক্টের কাজের সফলতা, অগ্রগতি আর একেকটা কাজের ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ অথবা, কার জন্য আটকে আছে কাজটা – এধরনের ধারাবাহিকতা ‘মনিটর’ করার জন্য থাকতে হবে সরকার থেকে মনোনীত ‘ফোকাল পয়েন্ট’ একটা এজেন্সিকে। এটাকে ধরে নেব ‘পিএমও’ মানে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস হিসেবে।

৬৫৪॰

ফোকাল পয়েন্ট এজেন্সি হিসেবে থাকছেন যারা, তাদের ‘ক্যাপাসিটি’ তৈরি করা জরুরী। ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্ট প্রোগ্রাম তৈরি করতে তাদের জানতে হবে বিভিন্ন টুলস। পুরো পৃথিবীতে ব্যবহার হচ্ছে এই টূলগুলো। রকেট সায়েন্স নয় বলে এগুলো ব্যবহার করে ‘উন্নত’ থেকে ‘উন্নয়নশীল’ দেশগুলো সুফল পাচ্ছে সরাসরি। বইটার তৃতীয় অধ্যায়ে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে এই টুলগুলো নিয়ে। এই কাজগুলো অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সাথে কিভাবে সম্পৃক্ত সেটা জানতে হবে আগে। আর সেকারণে বেশ কিছু অর্থনীতিবিদ থাকতে হবে সেই ফোকাল পয়েন্ট এজেন্সিতে। রেগুলেটরী এজেন্সি থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় এবং ব্রডব্যান্ড প্রোমোশন এজেন্সি (যদি থাকে) সবাইকে জানতে হবে জিনিসগুলো। ব্যাপারগুলো না জানলে অপারেটর, ইনভেস্টর আর ইনডাস্ট্রির কাছ থেকে নেয়া যেতে পারে ধারণাগুলো – ‘পাবলিক কন্সাল্টেশন’ হিসেবে। সবদেশের অপারেটরদের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টারে জ্ঞানগুলো জমা রাখা হয় বিভিন্ন দেশের প্রয়োজন মেটানোর জন্য। বলতে বাঁধা নেই, তাদের ‘জ্ঞান ব্যবস্থাপনা’ অনেক উঁচুমানের। হবে না কেন? এক কোম্পানী যখন ‘অপারেট’ করে অনেক দেশে, তাদের জানতে হয় অনেক কিছু। ব্যবসার খাতিরেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: