Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বই’

The reader does not start by knowing what we mean. If our words are ambiguous, our meaning will escape him. I sometimes think that writing is like driving sheep down a road. If there is any gate opens to the left or the right the readers will most certainly go into it.

– C. S. Lewis

০১.

টেকনোলজি ভিত্তিক লেখালিখির চাহিদা বরাবরই কম। আবার, ব্যাপারটা এমন যে এটাকে ফেলে দিতে পারছে মানুষ একেবারে, সেটাও না। প্রতিদিন এটাকে কাজে লাগিয়ে সময় না বাঁচালে মানুষ সেটা ব্যবহার করবেই বা কেন? এদিকে ম্যানুয়ালের মতো রসকষহীন জিনিসটাকে একদম না পছন্দ মানুষের।

উপায় কী?

০২.

অনেক দেশ জিনিসটাকে ফেলে দিয়েছে মাঝামাঝি একটা জায়গায়। ডামিজের কথাই ধরুন। ‘এটা ফর ডামিজ’, ‘ওটা ফর ডামিজ’ – কোন বিষয়ের ওপর বই নেই ওদের? সেদিন একটা টাইটেল পেলাম, ‘সেলাই ফর ডামিজ’। যাব কোথায়? ওদেরই আছে প্রায় তিন হাজারের মতো টাইটেল। ‘কমপ্লিট ইডিয়ট গাইড’ সিরিজটা হচ্ছে আরেক পাগলের কারখানা। ‘টিচ ইওরসেল্ফ’ সিরিজটাও কিন্তু অনেক নামকরা। বইগুলো আপনাকে ডক্টরাল জিনিসপত্র না শেখালেও প্রাণহীন জিনিসকে কিভাবে উপস্থাপন করতে হয় – সেটা চেয়ে দেখাও একটা আর্ট। ওই মুগ্ধতায় বইয়ের পর বই কিনি ওই আর্ট শিখতে। বিষয় কঠিন, কিন্তু উপস্থাপন দেখে মনে হবে লেখা হয়েছে বারো বছরের বালকের জন্য।

০৩.

বছরখানিক ধরে একটা বড় সুযোগ হয়েছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে পড়ার। জন বিবর্জিত আফ্রিকার সময়টা পড়ার পাশাপাশি ভাবিয়েছে আমাকে বরং। প্রোগ্রামিং শিখলে সমস্যা সমাধানে যে বিশাল ‘আই-ওপেনিং’ হয় সেটা যারা জানেন তারাই বলতে পারবেন কতোটা এগিয়েছেন অন্যদের থেকে। পাওয়া জ্ঞান, মানে যেটা আছে এমুহুর্তে আর লজিক নিয়ে মানুষ কিভাবে ‘রিজনিং সিস্টেম’ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সেটা জানতে গিয়ে বোকা বনে গেলাম নিজে। আমাদের সরকারী-বেসরকারী হাজারো সংস্থায় অনেক কাজ ঝুলে থাকে সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার আমাদের ‘কগনিটিভ বায়াস’ মানে ‘জ্ঞানীয় পক্ষপাত’ অনেক সিদ্ধান্তকে ফেলে দেয় পানিতে। প্রয়োজনীয় সব উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও। মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতা কিছুটা ধরতে পারছি বলে মনে হচ্ছে আমার। বিশেষ করে ইদানিং। একটা ভালো ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’ একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে সেটা দেখা যায় ‘রেড ডট’কে দেখলে। অথচ, ওই দেশটা দুর্নীতিতে ছিল সেরা।

০৪.

নিউইয়র্কের একটা রাইটিং ওয়ার্কশপে গল্প শুনেছিলাম একটা। ওই ইনিয়ে বিনিয়ে বলা গল্পটার অর্থ হচ্ছে ‘যদি বেশি শিখতে চাও, তাহলে লেখা শুরু করো ব্যাপারটা নিয়ে।’ তবে এটা ঠিক যে যখনই শুরু করবেন লেখা, আপনার ‘মাইন্ডসেট’ আপনা আপনি ‘অ্যালাইন’ হওয়া শুরু করবে বিষয়টার সাথে। জিনিসটা বোঝার বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে লিখতে লিখতেই। ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে প্রথমে শুরু হবে ব্লগপোস্ট। পরে সেটা বই হবে কিনা সেটা বলবেন আপনারা।
সমস্যা একটাই।

০৫.

সিরিজটার নাম নিয়ে। যেটার ‘রিফ্লেকশন’ গিয়ে পড়বে বইয়ের নামেও। ডামিজের মতো ‘বেকুবদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বললে চটানো হবে আমাদের। মানে পাঠকদের। ‘আমজনতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা ‘বোকাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বললে একটাও বাড়ি পড়বে না মাটিতে সেটা আর না বলি।

এখন বলুন, কী নাম দেব সিরিজটার? একান্ত সহযোগিতা চাইছি আপনাদের।

[ক্রমশ:]

[আপডেট]

অনেকগুলো নাম পেয়েছি ফেসবুক থেকে। বিশেষ কিছু নিয়ে এলাম এখানে। এখনো আঁকুপাকু করছে মন। ধারনা করছি আরো ভালো কিছু নাম দেবেন আপনারা।

Mahbub Farid: আমাদের সময় ছিল, ‘মেইড ইজি’ – বাই এন এক্সপার্ট হেডমাস্টার..

Mahbub Farid: naveed used to do a show ‘ busy der easy’ show. so you can think in that line. instead of straight away insulting the intelligence of the readers, you can blame their ‘busy’ schedules, and then provide a solution they can grasp despite their preoccupation.

Humaid Ashraf: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজ/সরল পাঠ” – কেমন হয়?

Ragib Hasan: সিরিজের নাম দেয়াটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন হলো আপনি এই সিরিজে কয়টি বই লিখবেন? আমার নিজের লেখাগুলা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নানা কাজ করার প্রকৌশল বলে আমার বইগুলার নামে “কৌশল” আছে, যেমন বিদ্যাকৌশল, মন প্রকৌশল এরকম। আপনি এই ক্ষেত্রে বিদেশী সিরিজের নামের আক্ষরিক অনুবাদ না করে বরং আপনার উদ্দেশ্য কী তার উপরে ভিত্তি করে নাম ঠিক করতে পারেন। যেমন ধরেন হতে পারে “সহজ সরল অমুক”। আমার পরিচিত ছোটভাই এবং শিক্ষক.কম এর একজন নামকরা শিক্ষক Jhankar Mahbub তার প্রোগ্রামিং এর বইয়ের নাম যেমন রেখেছে “হাবলুদের জন্য প্রোগ্রামিং”। এভাবে ভাবতে পারেন।

Don Michel: আগ্রহীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

Iftekhar Hossain: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অতিপ্রাকৃত চিন্তা”

Abu Abdulla Sabit: স্মার্টফোন পরবর্তী জীবনঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ট্রিলিয়ন ডলার আইডিয়া সমূহ।

আমার মন বলছে আরো ভালো কিছু নাম অপেক্ষা করছে সামনে। বিস্মিত করুন আমাকে!

Read Full Post »

The single most powerful element of youth is that you don’t have the life experiences to know what can’t be done.

Your life should be a story you are excited to tell.

― Adam Braun, The Promise of a Pencil: How an Ordinary Person Can Create Extraordinary Change

০১.

সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ। আফ্রিকাতে বছরখানেকের বেশি নিরবিচ্ছিন্ন সময় দেবার জন্য। দেশ থেকে অনেক অনেক দূরে। দিনের কাজের শেষে অফুরন্ত সময়। ইউএন স্টাফ হিসেবে অন্যদেরকেও পাওয়া যায় না সহজে। উই হ্যাড টু ট্রাভেল আ লট! হেলিকপ্টার, বীচক্রাফ্ট, আর তুখোড় তুখোড় গাড়ি। মনে করবেন না এয়ার ট্রাভেল হেভি মজার। ট্রান্সপোর্ট হেলিকপ্টার আর বীচক্রাফ্টের রোলিং সহ্য করে নিয়েছিলাম নতুন নতুন যায়গা দেখার লোভে। কি করা যায়? বাকি সময়? প্রজেক্ট ‘কোরআন’এর পাশাপাশি নামিয়ে ফেললাম অনেকগুলো বই – এই বেকুব মাথায়। না, পাইরেসি নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপ ফেরত বন্ধুদের বই না নিয়ে দেখা করতে আসা বারণ। বইয়ের দাম দেয়া নিয়েও ঝামেলা হয় প্রচুর। টাকা নিয়ে তো আর ঘোরা হয় না সবসময়। পরে দেখলাম চেক দিলে সেটা জমা দেয় না অনেকে। ভীষণ বিপদ। বই পড়তে গিয়েও যে বিপদ সেটা জানা ছিলো না আগে। কিণ্ডলেও জমা হতে থাকলো অনেক বই।

০২.

ওয়ারেন বাফেট দাড়িয়ে আছেন ১৬৫টা উত্‍সুক ছাত্রদের সামনে। বোধহয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। বক্তৃতা শেষ। ইনভেস্টমেন্ট ক্যারিয়ার নিয়ে। হাত তুললো একজন। ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে ক্যারিয়ার গড়ার ‘চিটকোড’ কি? বাফেট তার সাথে আনা ট্রেড পেপারের অনেকগুলো রিপোর্ট বের করে নিলেন হাতে। তিনি কি বললেন সেটা অনুবাদ করলে ভুল বুঝতে পারেন আমাকে। আর, ‘টাইপো’ হিসেবে বকার সুযোগ দিতে চাইনা আপনাকে। তিনি যা বললেন সেটাকেই তুলে দিলাম দাড়ি কমা সহ। “Read 500 pages like this every day. That’s how knowledge works. It builds up, like compound interest. All of you can do it, but I guarantee not many of you will do it.” ব্যাংকের ইন্টারেস্ট খুব একটা না বুঝলেও একটা জিনিস বুঝি ভালো ভাবে। ‘কম্পাউণ্ড’ ইন্টারেস্ট। ইট বিল্ডস আপ। আগে বুঝতাম না অনেক কিছুই। ‘কানেক্টিং দ্য ডটে’র গল্প দিয়ে দিব্যদৃষ্টির মতো জিনিস পরিষ্কার হচ্ছে প্রতিদিন। পড়তে পড়তেই। ওমা, পড়লেই হবে? সংসার চালাবে কে?

০৩.

শেষ হলো আফ্রিকা অধ্যায়। শুরু হলে শেষ হবে জানা কথা, তবে শুরুটাই ছিল আসল। ‘স্টার্টিং ইজ হাফ দ্য ব্যাটেল’ নিয়ে সমস্যা হলেও সেটাও শেষ হলো একসময়। ফিরে এলাম দেশে। কষ্টের অ্যাসাইনমেন্ট শেষে এক মাসের ছুটি। এক মাস!?! অবিশ্বাস্য, তাই না? হেভি মজার। তবে, কয়েকদিন যেতেই ব্যস্ত হয়ে পড়লো আমার ব্যাংকার বউ ‘স্বাতী’ আর বাচ্চারা। স্কুল বলে কথা। কি করি, কি করি! ইউনিক্স প্রোগ্রামিং নিয়ে লিখেছিলাম অনেক অনেক আগে। ঘষা মাজা করে সেটাও দাড়া হলো সপ্তাহের মাথায়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

এটি একটি বই। আমরা এটি তোমার কাছে অবতীর্ণ করেছি আশীর্বাদ হিসেবে। এই আশীর্বাদ বই আমরা এজন্য পাঠিয়েছি যাতে মানুষ এর আয়াতগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা (গবেষণা) করে। আর, জ্ঞানবান লোকেরা যেনো এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।

– সূরা ৩৮ সোয়াদ: আয়াত ২৯

০১.

নতুন বত্‍সরের ‘রেজ্যুলুশন’ নিয়ে অনেক কথা হলেও রমজান মাস নিয়ে ভেবেছেন কখনো? তিরিশ দিন, সময় কম নয়। কি করা যায় বলুনতো? আমার মাথায় খেলছে জিনিস একটা। বলবো?

নতুন ভাষা শিখলে হয় কেমন? নতুন একটা ভাষা। যেটা আমরা পড়তেও জানি কিছুটা।

হটাত্‍ কেন এই কথা?

পৃথিবী চষে বেড়ানোর পর এ উপলব্ধি কেন আপনার? এড়াতে পারলাম না প্রশ্নটা।

০২.

যুগটা গ্লোবালাইজেশনের। বন্ধুও জুটিয়েছি বিভিন্ন টাইমজোনে। তাদের মধ্যে পৃথিবী চষে বেড়াচ্ছে তারাই – যারা ভাষা জানে নিদেনপক্ষে পাঁচটার মতো। ‘জিম রনে’র ভাষায় একেক ভাষা মানে এক মিলিয়ন ডলার। বাড়তি আয়। মিথ্যে বলেনি সে। ছোট বাচ্চাদের হাজারো গিফটের মধ্যে এটাই সব সেরা গিফট। সারা জীবনের জন্য। ঘুরে বেড়াবে পৃথিবী দাপিয়ে। ধন্যবাদ দেবে আপনাকে মনে মনে। দূরদৃষ্টির জন্য।

কতো গুলো ভাষা শিখতে পারে বাচ্চারা?

যতোগুলো চান আপনি। ভাষাতত্ববিদদের উত্তর। তবে সংখ্যা ছয় ব্যপারটা খারাপ নয়। রিসার্চ বলে বাচ্চারা একসাথে দুটো করে ভাষা শিখতে পারে ওই ‘দুই-তিন’ বছর বয়সে। কোন সময়ে কোন ভাষা ব্যবহার করতে হবে সেটাও ধরতে পারে ওই সময়ে।

০৩.

আচ্ছা, বাদ দিলাম বাচ্চাদের কথা। আমাদের কি হবে? চুল পেকে গেলেও আরেকটা ভাষা শেখা কঠিন নয়। নিজের কথাই বলি। জার্মান নিয়ে খোঁচাখুচি করেছিলাম একসময়ে। খবর পড়ুয়াদের বেশ বড় অংশ বুঝতেও পারতাম একসময়। টিভিতে সারাদিন জার্মান দেখলে না শিখে উপায় কি? কঙ্গোতে ছিলাম এক বছর। ফ্র্যাংকোফণিক দেশ হিসেবে ফরাসী ছাড়া ওদেশ অচল। কিছুটা শিখতে হয়েছিল অবস্থার চাপে পড়ে। দশ বছর পরে আবার এসে পড়লাম এই আইভরি কোস্টে। এখানেও সবাই কথা বলছেন ফ্রেঞ্চে। পুরোনো ফ্রেঞ্চকে ঝালাই করতে আবার ভর্তি হলাম ফ্রেঞ্চ ক্লাসে। এই আইভরি কোস্টে। মন টিকলো না মাসখানিক পরে। পুরানো জিনিস ভালো লাগে কার? নতুন কিছু শেখার জন্য আকুপাকু করতে থাকলো মন।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

(একটুখানি) সুন্দর কথা বলা আর (উদারতা দেখিয়ে) ক্ষমা করে দেয়া সেই দানের চাইতে অনেক ভালো, যে দানের পরিণামে কষ্টই আসে।

— আল কোরআন ২:২৬২

৬৫.

প্রচুর ‘সেলফ হেল্প’ ক্যাটেগরীর বই পড়তে গিয়ে আবিষ্কার করলাম কয়েকটা জিনিস। মূল কতগুলো ‘গাইডেন্স’কে নিয়ে তৈরি হয়েছে হাজারো ‘ভ্যারিয়েন্ট’। আর ওই ‘ভ্যারিয়েশন’গুলো নিয়েই লেখা হচ্ছে হাজারো ‘বেস্টসেলার’। আমি অবাক হয়ে দেখলাম মানুষকে চালানোর জন্য সুন্দর সুন্দর নীতি যা পড়েছি এতোদিন – বিভিন্ন বইয়ে, তার সবকিছুই রয়েছে কোরআনে। ছয়মাস ধরে পড়েছি অনুবাদ বইগুলো। আফ্রিকাতে পড়ে থাকার ফলে ‘পন্ডারিং’ করতে পেরেছি অনেক অনেক বেশি। ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তাকে। এধরণের সুযোগ করে দেবার জন্য। প্রচুর বই পড়েছি এর মধ্যে। জন্ম থেকে। হাজার দুইয়ের বেশি হবে হয়তোবা। তবে, আমার মতে পৃথিবীর সেরা বইটা বুঝে পড়া হয়নি কখনো। এই আট মাস আগ পর্যন্ত।

৬৬.

বই পড়লে ভালো লাগে, তবে কোরআন এতোটা ‘কমফোর্টিং’ সেটা জানা ছিলো না আগে। কোরআন শুধুমাত্র পজিটিভ একটা বই নয়, এটাতে ‘চুড়ান্ত ক্ষমাশীলতা’, ‘ভালো কাজের পুরস্কারের প্রতিশ্রুতি’ আর বিপদের সময় সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা হিসেবে কাজ করে মানুষের ওপর। নিরাশাবাদীদের কাছে শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করছে বইটা। কোরআনের আরেক নাম ফুরকান। মানে, পৃথিবীর ভালো আর খারাপের পার্থক্য বুঝতে জানতে হবে কোরআনকে। আর কোরআনটাই যদি না পড়া থাকে? তাহলে, কোরআনকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা যাবে কি? কোরআন পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ‘পঠিত’ বই হলেও এর আশি শতাংশের বেশি মানুষ না বুঝেই পড়ে। ফলে, সৃষ্টিকর্তার আসল ‘মেসেজ’ না পাবার ফলে আজ মুসলমানদের বেহাল অবস্থা। কোরআন না পড়েই দাবি করছি আমরা মুসলমান।

৬৭.

আমরা যখন কোরআনের অর্থ পড়তে যাই, প্রতিবারই নতুন নতুন জিনিস এসে দাড়ায় মনের সামনে। আপনি আর আমি যখন পড়বো, আমাদের দুজনের বোঝার ব্যাপারটা আলাদা হবে। এটা এক অন্য রকম অভিজ্ঞতা। যতবারই পড়ি – নতুন ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’, নতুন অর্থ মুগ্ধ করে আমাদের। কোরআন এমন ভাবে লেখা, মনে হবে সৃষ্টিকর্তা নিজেই কথা বলছেন আপনার আমার সাথে। একদম ‘পার্সোনাল’ মোডে। কোরআন পড়লেই বুঝতে পারবেন। পুরোটাই ‘কনভার্সেশনাল’ মোডে তৈরি করেছেন সৃষ্টিকর্তা। অনেক ‘গাইডেন্স’ রয়েছে মানুষের জন্য। অনেক ঘটনা বলা হয়েছে – চিন্তা মানে ‘পন্ডার আপন’ করে বোঝার জন্য। সীমারেখা টেনে দেয়া আছে অনেক অংশে। সতর্কীকরণ এসেছে বারে বারে, মানুষের স্বভাবের কথা চিন্তা করেই। কোরআন পড়ছেন কিন্তু সেটা নিজের জীবনে ‘রিফলেক্টেড’ হয়েছে কিনা সেটা জানবেন কিভাবে? কোরআনকে বুঝতে হবে নিজের মতো করে। বাকিটা করে দেবেন সৃষ্টিকর্তা। প্রতিটা ঘটনা গল্প কিন্তু আমাদের জন্য ‘থেরাপি’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

But the real way to get happiness is by giving out happiness to other people. Try and leave this world a little better than you found it, and when your turn comes to die you can die happy in feeling that at any rate you have not wasted your time but have done your best.

– Last message to scouts, Robert Baden-Powell

৩৮৬.

স্বপ্ন দেখানোর কোম্পানির ব্লু-প্রিন্ট করতে গিয়ে পড়লাম বিপদে। ভালো কথা, স্বপ্ন দেখাবো – কিন্তু কি ধরনের স্বপ্ন? চিন্তা করতে গিয়ে ঘেমে নেয়ে উঠলাম। আমার স্বপ্নটা কি সেটা বুঝতে বুঝতে বয়স চল্লিশ পার হয়ে গেল। আমার ধারণা, যারা উদ্যোগতা তাদের স্বপ্ন পূরণ হয় তাড়াতাড়ি। নিজের বস নিজে হলে স্বপ্ন পূরণ সময়ের ব্যাপার মাত্র। ফিরে আসি নিজের কথায়। স্বপ্ন দেখানোর পাগলামিটা কোথায় পেলাম থেকে সেটা নিয়ে কম প্রশ্নের সন্মুখীন হইনি আমি। ভালো কথা, পাল্টা প্রশ্ন করি আপনাকে? আপনি কি চেয়েছেন জীবনে? আপনার স্বপ্নটা পূরণ করতে পেরেছেন কি? আবারো প্রশ্ন করছি আপনার চূড়ান্ত স্বপ্নের ব্যাপারে। মানুষের অনেকগুলো মধ্যম পর্যায়ের স্বপ্ন থাকতে পারে, তবে আপনি কি হতে চেয়েছিলেন শেষ অবধি? উত্তরটার জন্য আপনাকে কিছু ইনপুট দেই বরং।

৩৮৭.

দিনের শেষে কি হতে চান আপনি? একজন ভালো মানুষ, একজন ভালো ছেলে/মেয়ে, নিজের বাচ্চাদের জন্য ভালো বাবা/মা? অথবা সহৃদয়বান সহকর্মী যিনি অন্যদের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করেন? অথবা এমন মানুষ যিনি অন্যদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বিলিয়ে দেন সারাটি জীবন? কি হতে চেয়েছিলেন জীবনের শেষমুহূর্ত পর্যন্ত? আরো একটা ইনপুট নিয়ে আসি এখানে। মনে করুন তো শেষ কবে গিয়েছিলেন আপনার প্রিয় কারো জানাজাতে? অথবা তার বাসায় উনার মৃত্যুর পর? কি হয়েছিলো ওখানে? সবার মুখে কি দেখতে পেয়েছিলেন? সবাই কি কথা বলছিলেন উনাকে নিয়ে? কেমন মানুষ এসেছিলেন ওনার মৃত্যুর পর? পত্রিকায় উনার ব্যাপারে কি লেখা হয়েছিলো?

৩৮৮.

যুদ্ধ ঠিক যেদিন শুরু হবে অর্থাৎ আক্রমনের ওই দিনটাকে আমরা বলি ‘ডি’ ডে। ওই ‘ডি’ডে টাকে শূন্য ধরে ডি-২ বা ডি-৫ দিন ধরে থাকি প্রস্তুতির সুবিধার্থে। মানে, ডি-৩ দিবসে কি করবেন সেটারও প্ল্যান করতে হয় আগেভাগে। এটা এক ধরনের ব্যাক ক্যালকুলেশন। প্রিয়জনের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে যেয়ে চিন্তা করুন ওখানে নিজের মুখটাকে। ধরে নিন এটা আমার আপনার মৃত্যুর পরের ঘটনা। ফাস্ট ফরওয়ার্ড করে নিলাম আমার আপনার জীবনটাকে। ডি ডে, মানে ডি শূন্য দিবস। যেদিন মারা গেলাম আমরা। চিন্তা করুন ডি+১ আর তার পরবর্তী দিনগুলোকে। আপনার জানাজার সময় কেমন মানুষ এসেছিলো? তারা সবাই কতটুকু ‘ইমপ্যাক্টেড’? আপনার কথা স্বরণ করতে যেয়ে কি বলছিলেন তারা? ওখানে বসে চিন্তা করুন আপনার আত্মীয়দের কথা? কি করছিলেন তারা? আপনার স্বামী/স্ত্রীর কি অবস্থা? আপনার ছেলেমেয়েগুলোর? আপনার বন্ধুদের আলোচনা? কেমন ছিলেন উনাদের চোখে আপনি? আমার ধারনায় ওটাই হচ্ছে সত্যিকারের ইভালুয়েশন। সৃষ্টিকর্তাও জানতে চান আপনি আমি কেমন ছিলাম? বিশেষ করে অন্যের চোখে। ওরকম একটা প্রশ্ন করা হয় জানাজাতে।

৩৮৯.

এখন আসি ব্যাক ক্যালকুলেশনে। বাংলাদেশের লাইফ এক্সপেকটেন্সীতে বাঁচি আমরা পঁচিশ-তিরিশ হাজার দিন। হিসেবের সুবিধার্থে ডি-১৫০০০ দিবস ধরে নিলাম আজ। স্বপ্ন পূরণের ব্লু-প্রিন্ট করেছি কি আমরা? আপনি যা হতে চান অথবা যা করতে চান তার ব্যাপারে কি করেছেন আপনি? হাজারো বই পড়ছি বলে অনেকগুলো ধারণাই মিলে যাচ্ছে একে অপরের সাথে। মনে আছে তো – স্টিভেন কোভি’র দ্বিতীয় অভ্যাসটার কথা? শুরু করতে হবে শেষের চিন্তাটা মাথায় নিয়ে। যাই শুরু করছেন না কেন আজ, শেষটা থাকে যেনো মাথায়। তাহলেই কিন্তু পৌছাতে পারবো আমাদের স্বপ্নে। নেপোলিয়ান হিলের কথাটাতে আসি ফিরে। মানুষ যা চিন্তা করতে পারে, চাইলে সে সেটা পেতে পারে। মানে আমি আজ যা হতে চাই বা পেতে চাই সেটা মস্তিস্কে ‘পারসিভ’ করলে সেটা পাওয়া সম্ভব। রন্ডা বার্নের ‘সিক্রেট’ ভিডিওটা দেখেছেন কি? আপনি যা চাইবেন পুরো পৃথিবীর সমস্ত শক্তি জড়ো হয়ে আপনাকে দিতে চাইবে, কিন্তু আপনাকে চাইতে হবে আগে। আমি আপনি কি চাই সেটা নিয়ে বসেছি কখনো? নিভৃতে। কথা বলেছি কি মনের মন্দিরে? লিখেছি কোথাও? লিখি তো বাজারের লিস্টিও!

৩৯০.

অভিজ্ঞতা বলে, প্রতিটা জিনিস তৈরী হয় দুবার। হ্যা, পৃথিবীর প্রতিটা জিনিস। মাথায় তৈরী হয় আগে, বাস্তবে তৈরী হয় ঠিকমতো চাইলে। আমাদের অফিসটার কথাই ধরুন। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট বিল্ডিংয়ে এর অবস্থান। চমত্কার বিল্ডিং। আজ এ বিল্ডিংটা দাঁড়িয়ে আছে বাস্তবে, কারণ কেউ না কেউ ওই খালি জায়গাটার পাশে দাঁড়িয়ে পুরো বিল্ডিংটা দেখেছিলেন আগে। মাথা উচু করে পনেরো তলা পর্যন্তও গুনেছিলেন উনি! এই বাতাসেই! ফ্লোর বাই ফ্লোর। এতো নিঁখুতভাবে যে বিল্ডিংটার কাঁচের প্রতিফলিত আলোর জন্য মাথা নুইয়ে নিয়েছিলেন উনি। স্বপ্নচারী মানুষ বলে কথা। অবিশ্বাসী মানুষেরও অভাব নেই। স্বপ্নে দেখেছেন নাকি প্রশ্ন করেছিলেন কেউ কেউ। তাদের জন্য আঁকা হয়েছিলো পুরো বিল্ডিংটা। বিল্ডিংটা তো আর হঠাত্‍ করে বানানো হয়নি। আবার হঠাত্‍ করে কেউ তো ইট সুরকি নিয়ে হাজির হননি খালি জায়গাটায়। বাস্তবে আসার আগেই স্বপ্ন দেখেছেন বছরের পর বছর ওই বিল্ডিংটা নিয়ে। বুঝতে চেয়েছেন কি চান তারা। আর আমাদের জীবন নিয়ে কি চাই সেটা নিয়ে চিন্তা করেছি কখনো? কতটুকু সময় দিয়েছি ভাবার জন্য – সত্যিকারের কি চাই আমরা?

৩৯১.

নিয়তির পরিহাসের মতো শোনালেও অফিসের কাজ বা একটা প্রজেক্টের পেছনে যতটা সময় দেই সে তুলনায় নিজের জীবনের প্রজেক্টে সময় দেয়া হয় না কখনো। আমি কি করতে ভালবাসি মানে সত্যিকারের ভালবাসার জিনিসটা উপেক্ষিত হয়ে থাকে সারাজীবন। অফিসের প্রজেক্টের কাজে প্রতিটা মাইলস্টোন লিখে রাখলেও নিজে কি চাই এ জীবন থেকে তা কি লিখে রাখিনি কখনো। সর্বোচ্চ চাওয়া। আমিও লিখিনি চল্লিশ বছরের আগ পর্যন্ত। আরো ভয়ংকর একটা কথা বলি? আমাদের অনেকেই বছর ধরে ভ্যাকেশনে কোথায় কোথায় যাবেন আর কি কি করবেন প্ল্যান করেন সেটার। সাময়িক মুক্তি পাবার জন্য, এই দুঃসহ জীবন থেকে। অথচঃ বর্তমান জীবনটাকে সুন্দর করার ব্যাপারে একটা প্ল্যান করতে আমাদের অনীহা অনেক। বিদেশে যেয়ে তাদের স্কাই ট্রেন দেখে আন্দোলিত হলেও দেশে এসে তাকিয়ে থাকি সরকারের দিকে। স্বপ্ন দেখতেও ভয় পাই ওটা নিয়ে। থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশের মানুষেরা নিজেরাই টাকা তুলে বিশাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করছেন সরকারের দিকে না তাকিয়ে থেকে। মনে চাইলো তো নতুন একটা মোবাইল কোম্পানিই খুলে ফেললো সবাই মিলে। ওটার গল্প মানে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড নিয়ে আসবো সামনে। তবে নিজের মতো করে কিসে আমাদের পরিবেশটাকে সুন্দর করা যাবে সেটার একটা ব্লু-প্রিন্ট তৈরী করা গেলে দেশটাকে নিয়ে যেতে পারবো অন্য মাত্রায়। তার জন্য জানতে হবে নিজেদের সত্যিকারের চাওয়াটাকে। তাহলে পালানোর ব্লু-প্রিন্ট করতে হতো না বছর ধরে।

৩৯২.

স্টিভ চ্যান্ডলারের একটা বেস্টসেলার পড়ছিলাম কয়েকদিন ধরে। সাধারণ নাম, তবে বিভ্রান্তকর টাইটেল, না জানলে কিনতাম না কখনই। আমাজনে রিভিউ পড়ে হুঁশ হলো আমার। চাইই আমার বইটা। থাকি ঢাকায়। একদিন স্বপ্নেও দেখলাম বইয়ের কভারটা। আমার কোলে। চাওয়ার মাত্রাটা অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবার আগেই চলে এলো বইটা। একেবারে আমার টেবিলে। চোরাই বই চেষ্টা করি না পড়ার জন্য। পড়লেও পরে বইটা কিনে নেই নিজের জন্য। আমি চুরি করলে আমার বই কিনবে কে? চ্যান্ডলারের কথা একটাই। দুনিয়া থেকে যাবার আগে একটা প্রশ্ন আসবে কিন্তু বারে বারে। কি পরিবর্তন করেছি সবার জন্য? কি ভালো হয়েছে আমার এই দুনিয়াতে আসাতে? উত্তরটা কিন্তু ছোট, কতটুকু দিতে পেরেছি দুনিয়াকে।

৩৯৩.

স্কাউটের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ লেফটেন্যান্ট জেনারেল রবার্ট বেইডেন পাওয়েলের কথা ওই একই সুরে বাধা। স্কাউটদের জন্য লেখা শেষ চিঠিটা মুগ্ধ করবে সবাইকে। কতোটুকু ‘এনলাইটেনড’ হলে একজন মানুষ তার ভ্রমণের সময় সাথে রাখতেন চিঠি কয়েকটা। তার একটা ছিলো মার্ক করা – ‘আমার মৃত্যুর পর’। স্ট্যানফোর্ডে দেয়া স্টিভ জবসের তিন নম্বর গল্পটা ছিলো মৃত্যুর ওপর। আমার মতে, সেরা অংশ। মাসলো’র তত্ত্ব অনুযায়ী এরা পৌঁছে গেছে ‘সেলফ অ্যাকচুয়ালাইজেশন’ পর্বে, তা না হলে মেলিন্ডা এন্ড গেটস ফাউন্ডেশন বিলিয়ন ডলার ঢালছে কেন মানব কল্যানে? সেরা অংশের ভাবটা তুলে আনলে ‘কনটেক্সট’টা বাদ যেতো চলে। সেকারণেই – সেরা অংশের আমার সেরা অংশটা হুবহু তুলে দিচ্ছি এখানে।

Your time is limited, so don’t waste it living someone else’s life. Don’t be trapped by dogma — which is living with the results of other people’s thinking. Don’t let the noise of others’ opinions drown out your own inner voice. And most important, have the courage to follow your heart and intuition. They somehow already know what you truly want to become. Everything else is secondary.

৩৯৪.

আমাদের সমস্যাটা কোথায়? স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই কেন আমরা? কেন জানি না – আমরা কি চাই জীবনে? স্বপ্ন দেখানোর কোম্পানির বিজনেস কেস না থাকলেও সাহস পাচ্ছি কোথা থেকে? নিজের ভয় কাটানোর গল্প নিয়ে আসছি সামনে।

বিদায় নেবো একটা মিউজিক ভিডিও দিয়ে। কেনী চেজনী’র এই গানটা মনে করিয়ে দেয় ক্যাডেট কলেজের এথলেটিক প্রতিযোগিতাগুলোর কথা। পুরো গানটা না শুনতে পারলেও পাঁচ মিনিট পঞ্চাশ সেকেন্ড থেকে মিস করবেন না, অনুগ্রহ করে। স্বপ্ন দেখবোই আমরা! থাকুন সাথে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

1. You cannot change your destination overnight, but you can change your direction overnight.

2. Formal education will make you a living; self-education will make you a fortune.

― Jim Rohn

৩৮০.

বিরানব্বইয়ের গল্প। মানে উনিশশো বিরানব্বই। প্রথম পোস্টিং সৈয়দপুরে। চমত্কার সেনানিবাস। খোলামেলা। শহরটাও বেশ দুরে। অফিসার্স মেসটাও খালি খালি। কোর্সমেট চারজন থাকলেও অফিসেই কাটতো ব্যস্ত সময় আমাদের। মজার ব্যাপার, আমার অফিসের ওপর তলায় ছিলো একটা পিসি। ওই সময়ের তুলনায় অনেক অনেক এক্সেসিবল! কিসের এয়ারকন্ডিশনিং, কিসের কি? কাজ করার সুযোগ পেত সবাই। উদার ধ্যানধারণার সিনিয়র থাকলে যা হয় আর কি? হাইয়ুন্ডাইয়ের একটা টুএইটসিক্স। ও সময়ের জন্য আধুনিক না হলে মোডেম থাকে কি করে? তাও আবার ভেতরের স্লটে। ডস মেশিন, ‘ডাব্লিউপি’ চাপলে চালু হতো ওসময়কারের সেরা ওয়ার্ড প্রসেসর।

৩৮১.

ছোটবেলায় কমোডর ১২৮ দিয়ে হাত পাকালেও পুরো একটা ইন্টেল মেশিনের অধিগ্রহণ এই প্রথম। তখন প্রেজেন্টেশনের সর্বোচ্চমান হচ্ছে গিয়ে স্লাইড প্রজেক্টর। সাধারণ মানের প্রেজেন্টেশন মানে ওএইচপি। ওভার হেড প্রজেকশন, ওএইচপি ট্রান্সপারেন্সি বানানোর ঝক্কি থেকে বাচতে কান খোলা রাখলাম নতুন কিছুর জন্য। মোবাইলের যুগ নয় তখন। তবুও কিভাবে যেন নতুন একটা গল্প শুনলাম। ঢাকায় ছুটিতে এলে গাঁটের পয়সা ফেলে ফ্লপি ড্রাইভে করে নিয়ে এলাম হার্ভার্ড গ্রাফিক্সের সফটওয়্যারটা। ইংরেজি অক্ষরে নতুন ক্যালিগ্রাফি – ভালোই লাগছিলো। পাল্টাবার গল্পের শুরুটা ওখানে।

৩৮২.

জিম রনের একটা অডিওবুক শুনেছিলাম কোথাও। নামের বানান কিন্তু আর-ও-এইচ-এন। ‘লাইফ চেঞ্জিং ডে’র একটা ব্যাপার ছিলো ওখানে। আমার ধারণা, জিম রন হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে ‘কনফিডেন্ট’ মোটিভেশনাল স্পিকার, যিনি জানেন কিভাবে আর কোথায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হয়। সময়জ্ঞান অসাধারণ। তার পাল্টানোর গল্পটা অসাধারণ। পঁচিশ বছর বয়স। কলেজে ঢুকতে পারেন নি খরচের কারণে। ফাইফরমাস খাটছেন ছোট একটা কোম্পানিতে। সঙ্গে রয়েছে কিন্তু তার পরিবার। টেনেটুনে চলছে সংসার।

৩৮৩.

একদিন বাসায় ছিলেন আমাদের রন সাহেব। গার্লসস্কাউটের একটা মেয়ে এসে চমত্কার কারিশমা দেখালো কিছুক্ষণ। আমাদের দেশের রাস্তায় ছোটখাটো জাদু দেখিয়ে বা বাসে গান করে টাকা চাওয়ার মতো। প্রেজেন্টেশনটার পর হাসি দিয়ে রনকে কিছু বিস্কিট কিনতে অনুরোধ বললো বরাবরের মতো। গার্লসস্কাউটদের বিস্কিট বিক্রির টাকাটা চলে যেতো জনস্বার্থের কাজে। দু ডলার চাইল বিস্কিটের প্যাকেটটার জন্য। ওই টাকাটাও ছিলো না তখন রনের কাছে। কি করবে সে? গার্লসস্কাউটের এতো বড় প্রেজেন্টেশন দেখার পর ওই দু ডলার না থাকার ব্যাপারটা কিভাবে বলবেন রন। সিদ্ধান্ত নিলেন মিথ্যা বলার। দেখো প্রচুর গার্লসস্কাউট কুকি পড়ে আছে বাসায়। অনেকেই এসে বিক্রি করেছে গত কয়েকদিনে। মেয়েটা বরং ধন্যবাদ দিয়ে চলে গেল।

৩৮৪.

মেয়েটা চলে যাবার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন জিম রন। দু ডলারও দিতে পারলেন না মেয়েটাকে। তাহলে কি করছেন ওই বয়সে। আর নয় এ জীবন! ওই দিনটাই ছিলো রনের ‘লাইফ চেঞ্জিং ডে’। মানে পাল্টে যাবার দিন। আসলে মানুষ পাল্টায় অনেক দিন ধরে। তবে সেই পাল্টানোর শুরুটা কিন্তু কোন একটা কিছুর উপলক্ষ্য ধরে। আজ আপনি যদি মনে মনে ঠিক করে নেন যে লিখবেন একটা নভেল, তাহলে শুরু করছেন সেটা কবে? অথবা শরীরের যত্ন নেবেন – শুরু করবেন দৌড়, সেটা শুরু হবে কবে থেকে? আজ থেকে আপনি পাঁচ বা দশ বছর পর কোথায় পৌঁছুবেন সেটা ঠিক করতে হবে ওই একটা দিন থেকে। ধারণা করলেন পাঁচ বছর পর পাঁচ কোটি টাকার মালিক হবেন আপনি, সেটার ব্লু-প্রিন্ট শুরু করছেন কবে থেকে? আগে মানুষ পথব্রজে পাড়ি দিতেন দুনিয়া, উত্তর মেরু না দক্ষিন মেরু যাবেন সেটার সিদ্ধান্ত নিতে নিতে হবে ওই পাঁচ বছর আগে। কারণ, আজ সিদ্ধান্ত নিলেই না আপনি পাঁচ বছর পর পৌছাবেন ওই উত্তর বা দক্ষিন মেরুতে। মোদ্দাকথা সবকিছুর শুরুতে থাকতে হবে একটা ‘লাইফ চেঞ্জিং ডে’ বা পাল্টে যাবার দিন। বিশেষ একটা মাহেন্দ্রক্ষণ।

৩৮৫.

আমারটাও শুরু হয়েছিলো ওই হার্ভার্ড গ্রাফিক্স দিয়ে। নিতান্তই একটা প্রেজেন্টেশন ইউটিলিটি, কিন্তু বন্দুক চালানোর পাশাপাশি যুক্ত করেছে বক্তৃতা লেখক হিসেবে আমাকে। প্রেজেন্টেশন বানানোর ‘ক্যারিয়ার’ দিয়ে শুরু হলেও বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে এসেছে বক্তৃতা লেখা। কার জন্য লিখিনি? এক সময়ে এলো নিজের বক্তৃতার অংশে। বস বললেন, আমি পারবো না যেতে, তুমি যাও বরং! কে লিখবে সেটা? নিজেরটা লিখতে গিয়ে এর মর্মার্থটা বুঝে এলো। ভীষণ শক্তিশালী মাধ্যম। পাল্টে দেয়া যায় জনপদকেই! আগে একটা স্কিলসেট বেচে চালানো যেতো সারাটা জীবন। এখন একেকটা স্কিল মানে একেক কোটি টাকা। নখদর্পনে একেকটা ভাষা মানে একেক কোটি টাকা। ভুল বুঝবেন না, আপনার মূল্য হচ্ছে আপনি বাজারে কতটা মুল্য যোগ করতে পারছেন সেটার ওপর। আর সেকারণে ঘন্টা আনুপাতিক হারে আমি ‘শ’ খানেক টাকা আয় করলেও আপনি যোগ করছেন লাখ টাকার মতো। ‘স্ব-শিক্ষিত’ হবার গল্প নিয়ে আসছি সামনে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Leave this world a little better than you found it.

Baden-Powell’s Last Message (1945)

২৬৯.

রাস্তাটার পাশে বসেই ভিক্ষা করছিলো মানুষটা। তিরিশ বছরের বেশি সময় ধরে। একদিন ওই ভিক্ষুকটার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো পথচারী একজন। বরাবরের মতো পুরনো বেসবল ক্যাপটা বাড়িয়ে দিলো ভিক্ষুক।

খুচরো কিছু হবে ভাই?

যান্ত্রিক স্বর ভিক্ষুকের।

কিছু দেবার নেই যে আমার কাছে।

পথচারীর উত্তর। উত্তরেই শেষ হলো না তার কথা।

কিসের ওপর বসে আছ ভাই? পথচারীর প্রশ্ন।

‘কিছু না’ ভিক্ষুকের উত্তর, ‘পুরনো একটা বাক্স। যতদুর মনে পড়ে, এটার ওপরে বসেই আছি এতগুলো বছর।’

কখনো দেখেছ ভেতরে? পথচারীর উত্সুক প্রশ্ন।

‘না’, ভিক্ষুকের উত্তর, ‘দেখার দরকার আছে কি? কিছু নেই ভেতরে।’

দেখোই না একবার? পথচারীর উত্তর।

কিছুটা নিমরাজি হয়েই বাক্সটা ওল্টালো সে। উল্টিয়েই পাথর বনে গেল। বিশ্বাস করতে পারছে না সে নিজের চোখকেই। বাক্সটা সোনায় ভরা।

৩৭০.

আমি হচ্ছি গিয়ে সেই পথচারী। দেবার কিছু নেই আমার আপনাদের। একটা কথাই বলতে চাচ্ছি শুধু। দেখুন ভেতরে। বাক্সে নয়। দুরে কোথাও নয়। আপনার একদম কাছের জিনিসে। দেখুন নিজের ভেতরে।

আমি তো ভিক্ষুক নই, আপনার উত্তর।

ঠিকই বলেছেন আপনি। যারা চিনতে পারেননি নিজেকে, নিজেকে হারিয়েছেন বার বার – পৃথিবীর ইঁদুর দৌড়ে, তারাই সত্যিকারের ভিক্ষুক। যতই টাকা থাকুক না তার। মরীচিকার পেছনে ছুটছে সে – সুখ খুঁজছে সে ভুল জায়গায়। নিজেকে জিজ্ঞাসা করা হয়নি একবারও। কিসে সুখী আমি?

৩৭১.

গল্পটা আমার নয়। হ্যা। ঠিক ধরেছেন। বরাবরের মতো নতুন বই হাতে আমার। নাম হচ্ছে ‘পাওয়ার অফ নাউ’; অন্য ধরনের বই। নিজেকে খোঁজার বই। বইয়ের শুরুটা হয়েছে চমত্কার একটা ‘স্টোরিটেলিং’য়ের মধ্য দিয়ে। সে কাহিনী হবে আরেক দিন। আমার সমস্যা অন্যখানে। বই না পড়লেই মাথা ধরে থাকে আমার। বই পড়ার সময় একটা ‘ইলুমিনেশন’ মানে মস্তিকের ঝিল্লিতে এক ধরনের সুখানুভূতি তৈরী হয়। বই শেষ করার পরও কেন জানি ওই অনুভুতিটা থাকে আরো দিন কয়েক। তারপর আবার ধরতে থাকে মাথা। খুঁজতে বের হতে হয় নতুন বইয়ের। চেষ্টা করছি প্রতি সপ্তাহে একটা করে বই পড়ার। বাসা থেকে অফিসে যাওয়া আসায় চলে যায় তিন থেকে চার ঘন্টা। প্রতিদিন। ওটাই ‘ব্লেসিং ইন ডিসগাইজ’। এছাড়াও আছে অডিওবুক।

৩৭২.

টেলিযোগাযোগের মতো একটা ডাইনামিক চাকুরীতে থাকার ফলে ভবিষদ্বাণী করতে হয় সকাল বিকাল। টিয়া পাখির মতো ভারী কার্ডবোর্ড তুলতে না হলেও এই ‘প্রেডিকশন’ আর ‘ফোরকাস্টিং’য়ের মতো জটিল কাজটা করতে খারাপ লাগে না। রোবোটিক মানুষ বলে হয়তোবা। এর মানে, আমার কাজের একটা বড় অংশ হচ্ছে ওই অদৃশ্য ‘ডটেড লাইনে’র ওপর কাজ করা। প্রজেকশন আর ফোরকাস্টিং ব্যাপারটার অনেকটাই আসে হিস্টরিক ডাটা থেকে, সঙ্গে যোগ হয় ভবিষ্যতের ধারণা। নয়েজ থেকে সিগন্যাল বের করার মতো।

৩৭৩.

আসল কথায় আসি। ভুল বকছি হয়তোবা, ঝামেলার মতো মনে হচ্ছে একটা জিনিস। ইদানিং কালের ঘটনা। প্রচুর বই পড়ার কারণে ‘উত্তর’ বের করতে পারছি হিস্টরিক ডাটা ‘কনসাল্ট’ না করেই। লাসভেগাসে জ্যাকপট হিট করার মতো। ভয়েই আছি জিনিসটা নিয়ে। ভবিষ্যত পড়তে পারার কথা নয় এখন, অন্ততঃ এই বয়সে নয়। যাই কাজ করছি তার ওপর পড়ালেখা থাকার কারনে হোক আর অভিজ্ঞতার আলোকে হোক – ডটগুলো যুক্ত করতে পারছি ফর্মুলা ব্যবহার না করেই। প্যাটার্ন ধরে ফেললে যা হয়। যাই দেখি প্রথমেই প্যাটার্ন খুঁজি মনে মনে। যেটা এখনো আসেনি অথবা ধারণা করা হয়নি সেটাও ভেসে আসছে চোখের সামনে। গুগল গ্লাসের মতো। এব্যাপারে লিখেছিলাম একবার

বড় বড় দুরূহ, অসম্ভব জটিল আর লম্বা প্রজেক্টগুলোকে চালানোর জন্য এ কৌশল ছাড়া গতি নেই। প্রথমে প্রজেক্টটাকে ছোট ছোট ভাগে (মাইলস্টোন) ভাগ করে ডিপেন্ডেন্সি দেখে নেয়া হয়। ধরা যাক, বিন্দু ‘ক’ থেকে ‘খ’, ‘গ’ থেকে ‘ঘ’ আর ‘ঘ’ থেকে ‘ঙ’ করতে যে প্রযুক্তি প্রয়োজন তা বর্তমানে উপস্থিত অথবা, সময়ের মধ্যে তৈরী করে নেয়া যাবে। কিন্ত, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তার সমন্ধে কারো কোনো ধারণাই নেই। প্রজেক্ট শুরু হয়ে যাবে, ‘খ’ থেকে ‘গ’ অংশটা কিভাবে হবে তা বাকি প্রজেক্ট এর গতি কমাবে না। সবসময়ে দেখা যায় (পরীক্ষিত বটে), বাকি অংশগুলো হবার সময় যেহেতু প্রজেক্টটা বের করে নিতেই হবে, অন্য অংশের উপলব্ধিগুলো জড়ো হয়ে অজানা অংশটুকুও বের করে নিয়ে আসে। আমি কি চাই, তা ঠিক মতো পিনপয়েন্ট করে – বিশ্বাস করে লেগে থাকলে তা পাওয়া যাবেই।

৩৭৪.

ফিরে আসি সেথ গোডিংয়ের ‘শিপিং’ এর গল্পে। বই পড়ছি এতো, ফলাফল কোথায় তার? ধরে নিন, পড়লাম হাজার দশেক বই, সেলফ ডেভেলপমেন্ট হলো নিজের। হাজারো সুখানুভূতি হলো মনে। তারপর চলে গেলাম দুনিয়া থেকে একদিন। তাহলে পাল্টালাম কি দুনিয়ার, যাবার আগে? ‘লিভ দিস ওয়ার্ল্ড আ লিটল বেটার দ্যান ইউ ফাউন্ড ইট’ কথাটার কি হবে? স্টিভ জবসের ‘ডেন্টিং দ্য ইউনিভার্স’ কনসেপ্টটা ফেলে রাখার মানে হয় কোনো? বই পড়ার ‘পণ্যরূপ’ মানে প্রোডাক্ট কোথায়?

৩৭৫.

এই তেতাল্লিশ বছর বয়সে এসে বুঝতে পেরেছি কি চাই জীবনে। সত্যিকারের চাওয়া! অন্যের মাধ্যমে চাওয়া না। দেরী হয়েছে হয়তোবা। তবে এগিয়ে আছি অনেকের থেকে। ভুল বুঝবেন না, এখনো অনেকে জানেন না তারা কি চেয়েছেন জীবনে। সত্যিকারে! আর জানতে পারলেও সেটার পেছনে দৌড়ানোর স্পৃহা বা ইচ্ছে হারিয়ে গেছে এর মধ্যে। হাসবেন কিনা জানি না, তবে ‘স্বপ্ন দেখানো’র কোম্পানি খুলতে চাই আমি। লাখো লোকের সাথে হয়েছে পরিচয়। মানুষের সাথে কথা বলার সময় চোখের দিকে তাকাতে পছন্দ করি আমি। ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি পাথরের চোখ দেখতে দেখতে। বাচ্চাদের মতো উত্সুক চোখ কমে যাচ্ছে দিন দিন। নেতিবাচক জিনিসগুলো কুরেকুরে খাচ্ছে আমাদের সবাইকে। ধারণা করছি – আমাদের তৈরী পরিবেশ আর পরিস্থিতির কারণে ‘স্বপ্ন’ দেখতে ভয় পাই আমরা – নিজেরাই। ‘দ্য লাইফ অফ পাই’য়ে উড়ুক্কু মাছ নিয়ে চিন্তা করার মতো সাহস দরকার আমাদের সন্তানদের। মনটা ছোট হয়ে থাকে সবসময়। স্বপ্ন আর কল্পনা করতে পাই ভয়। অসম্ভব ভয়। কলেজে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের দেখাতে চাই স্বপ্ন। ওই সময়ে হারানোর থাকে না কিছু। বাবা মার হোটেলে থেকে স্বপ্ন না দেখতে পারলে আর দেখা হবে না কখনো! আমিও পেতাম ভয়, সেটা কেঁটে গেছে গত সাত বছরে।

৩৭৬.

আমাদের লাইফ এক্সপেকটেন্সী’র হার ধরলে বাঁচি আমরা সত্তুরের মতো। গড়ে পঁচিশ হাজার দিন। কলেজ পড়ুয়ারা পার করে ফেলেছে দশ হাজার দিন। ওর মধ্যে যদি স্বপ্ন না দেখতে পারে তাহলে সপ্ন সফল করবে কবে? এতো দিনের পড়াশোনায় যা বুঝেছি – মানুষ যা কল্পনা করতে পারে সেটাকে সম্ভব করতে পারে একমাত্র মানুষই। ‘বুর্জ খলিফা’কে বানানোর আগে কেউ একজন কল্পনাতে দেখেছেন বলে আজকে এটা পৃথিবীর সর্বোচ্চ ‘মানুষের তৈরী’ স্ট্রাকচার। পাগলের প্রলাপ বলাতে হাতে এঁকে দেখিয়েছেন সবাইকে। একমাত্র মানুষই পারে কল্পনার বাস্তবরূপ দিতে। ডিসকভারি চ্যানেলে দেখানো ‘মেগাস্ট্রাকচার’গুলো তো অন্যগ্রহের মানুষ তৈরী করে দিয়ে যায়নি আর। তৈরী করেছে এই মানুষই। আমার আপনার মতো সাধারণ মানুষ, তবে কিছুটা পাগল কিসিমের। সেই অবাস্তববাদীদের কেউ ওই ‘অসম্ভব’ স্ট্রাকচারটা কল্পনা করেছিল বটে। আমরা পাগলামি বলি যাকে। ওই ‘পাগল’দের ভাষায় সেটাই সবকিছু, শয়নে স্বপনে। সেখানে আমরা স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই। সেই স্বপ্ন দেখার প্রশিক্ষণ দেবো সবাইকে। ফাইনাল প্রোডাক্টের আগে একটা প্রি-প্রোডাক্ট আনলে কেমন হয় বাজারে?

বই পড়িয়ে দেবার প্রোগ্রাম, প্রতি সপ্তাহে একটা বই!

বই পড়িয়ে দেবার প্রোগ্রাম, প্রতি সপ্তাহে একটা করে বই!

৩৭৭.

ধরে নিন, হাজারটা বেস্টসেলার পড়ে ফেলেছি এর মধ্যে। ইন্টারন্যাশনাল বেস্টসেলার! এটা কাঁচামাল হিসেবে আছে আমার মধ্যে। এখনো। দরকার ‘শিপিং’। আপনার আশেপাশে নতুন প্রজন্মের সফল মানুষগুলোর মধ্যে কোন জিনিষটা মিলছে সবার সাথে? মানে ‘কমন’ জিনিসটা কি? হ্যা, তারা শিখছে সবার আগে। নতুন নতুন জিনিস। চিন্তা করতে পারছে তারা – সনাতন পদ্ধতির বাইরে। চিন্তা করতে পারছে বড় বড় ‘অসম্ভব’ জিনিস। মজার কথা, যতো বড় চিন্তা করছে, ততো বড় হচ্ছে ওরা। আর বড় হচ্ছে তাড়াতাড়ি। একারণে পৃথিবীর নব্বই শতাংশ সম্পদ গিয়ে জড়ো হয়েছে ওই এক শতাংশ ‘স্বপ্ন দেখা’ মানুষগুলোর কাছে। যতো বড় হচ্ছে ততো পরীক্ষা করছে তাদের নতুন নতুন কল্পনাপ্রসূত ‘অসম্ভব’ জিনিস নিয়ে। সম্ভব হচ্ছেও ওগুলো। তাড়াতাড়ি শেখার পদ্ধতি কি?

৩৭৮.

শেখার পদ্ধতিটাই হচ্ছে আমার প্রি-প্রোডাক্ট! বিশ্বের বেস্টসেলারগুলো পড়ে শোনাবো আপনাদের। প্রতি সপ্তাহে একটা করে বই। একঘন্টায় শেষ করে দেবো এক একটা বই। বাংলাদেশের কনটেক্সটে। ‘থিঙ্ক গ্লোবাল অ্যাক্ট লোকাল’ কনসেপ্ট। যেভাবে চাইবেন সেভাবে পড়িয়ে দেবো আপনাকে। যারা আমাকে চেনেন তারা ধার দিতে চাইবেন না তাদের বই। কারণ? বই দাগাদাগি না করলে ঘুমই আসে না আমার। সাইডনোট আর আকিবুকি করি বইয়ের পাশ দিয়ে। অন্য বইয়ের রেফারেন্স নিয়ে আসি ওখানে। বইটা পড়িয়ে দেবো আমার সাইডনোট মিলে। ছোটবেলায় শিখেছিলাম ‘রিড বিটউইন দ্য লাইনস’এর গল্পটা। অনেকটা ওরকম। ঠিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার পেলে তিনশো বই পড়িয়ে দেবো বছরে। তাহলে আপনাকে পায় কে? নেপোলিয়ান হিলের স্বপ্নের বই থেকে শুরু করে পার্সোনাল ফিনান্সের গুরু রবার্ট কিয়োসাকি’র সব বই পড়িয়ে দেবো এক এক ঘন্টা করে। আপনার জীবন উন্নত না হয়ে যাবে কোথায়? আর যখনি আপনি বই পড়ে ফেলবেন অনেকগুলো – ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ শুধুমাত্র সময়ের ব্যাপার।

৩৭৯.

প্রোডাক্টটা চলবে না। আমাদের বাজারে। ঠিক বলেছেন। শুরু করবো ফ্রিমিয়াম মডেলে। মানে, ফ্রি কিন্তু প্রিমিয়াম – শুরুতে। পাঁচটা ক্লাস ফ্রি। সবার জন্য। এর মধ্যে কয়েকটা স্পন্সর পেয়ে যাবে ‘স্বপ্ন দেখানোর কোম্পানি’টা। বাংলায় নোট লিখে দেবো বইটার ওপর। পয়সা আসবে ওখান থেকে। বলুনতো, ট্যাবলেট পিসি বাজারে এনেছিলো কোন কোম্পানি? সবার আগে? হ্যা, মাইক্রোসফট। বাজার পায়নি ওটা। একই প্রোডাক্ট পরে এনেছে অ্যাপল। স্টিভ জবস আইপ্যাড দিয়ে বাজার তৈরী করেছেন। বাজার তৈরী করে আইপ্যাড আনেননি।

আপনাকে সাথে পেলে বাজার তৈরী করবো আমরা। বই পড়ানোর বাজার। টেক্কা দেবো গ্লোবাল স্কেলে!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: