Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বাংলাদেশ’

What we see in the Maker Movement, is that a relatively small amount of people can have a big impact. You don’t necessarily need the world largest company behind you.

– Dale Dougherty

Formal education will make you a living; self-education will make you a fortune.

– Jim Rohn

০১.

এটা ঠিক প্রোগ্রামাররা পৃথিবীকে মুঠোয় পুরেছে বেশ আগেই, কিন্তু সেটার পাশাপাশি আরেকটা “স্কিলসেট” প্রয়োজন দুনিয়া জয়ে। আর সেটা দেখতে দিব্যদৃষ্টির দরকার নেই এখন। আপনার ওই প্রোগ্রামিং দিয়ে চালাতে হবে যন্ত্র একটা। তৈরি করতে হবে মানুষের নিত্যদিনের কাজে লাগবে এমন জিনিসের প্রটোটাইপ। সেটা ঠিক মতো চললে তো কেল্লাফতে। দুনিয়া জুড়ে “মেকার’স মুভমেন্ট” দেখলে বুঝবেন কী বলতে চাচ্ছি এখানে। সামনে ব্যাচেলর’স আর মাস্টার’স করে যে কিছু হবে না সেটা বুঝতে পেরেছে অনেকগুলো দেশ। আর সেকারণে “মেকার’স মেনিফেস্টো” নিয়ে এগোচ্ছে তারা। ইনডাস্ট্রিয়াল রেভোল্যুশনের পর ফিরে যাচ্ছি স্মার্ট যন্ত্রেই। এখনকার সব যন্ত্রই হবে স্মার্ট – যাতে বুঝতে পারে মানুষকে। সেটা বানাবে কে?

০২.

‘চাকরি চাকরি’ করে পাগল হয়ে যাচ্ছে আশপাশের মানুষ। ‘বিগ পিকচার’ দেখাতে পারিনি তাদের। তবে ইন্টারনেটের কল্যাণে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই ট্রেন্ডটা ধরতে পেরেছেন বলে মনে হলো। অন্তত: আমার রিসার্চ তাই বলে। তবে সেটা অনেক অনেক কম। আমার ফেসবূক ফ্রেন্ডলিস্টের অনেককেই দেখেছি সাহস করে মাথা খাটিয়ে নেমে গেছেন ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসায়। বাসার কম্পিউটারে ডিজাইন করে প্রোডাক্ট বানিয়ে আনছেন কিছু কিছু উদ্যোক্তা। সুদূর চীন থেকে। এটাই হচ্ছে “ডেমোক্রেটাইজেশন অফ টেকনোলজি”। ‘প্রোটোটাইপিং’ এর জন্য ‘থ্রীডি প্রিন্টার’ ধসিয়ে দেবে আগের বিজনেস মডেল। আগের মতো বিশাল প্রোডাকশন লাইন তৈরি করতে হচ্ছে না আপনাকে। নতুন করে হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস কোম্পানীও তৈরি করতে হবে না আপনাকে।

০৩.

মাথা খাটিয়ে সুন্দর ডিজাইন করে অ্যাপলকেও টেক্কা দিতে পারেন আপনি। ‘শাওমি’র তো নিজের ডিসট্রিবিউশন চেইন নেই। তাই বলে কী সে ঠেকে গেছে কোথাও? মানুষ কী চায় সেটা নিয়ে রিসার্চ করে আপনিও দিতে পারেন নিজের মোবাইল হ্যান্ডসেট কোম্পানী। অথবা ‘ফিটবিটে’র মতো প্রোডাক্ট। ‘আলিএক্সপ্রেসে’ গিয়ে দেখেন কী অবস্থা! কোটি কোটি প্রোডাক্ট তৈরি করছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মাস লেভেলের প্রোডাকশনে চীনকে টেক্কা দিতে বলেছে কে আপনাকে? ডিজাইন দেবেন – বানিয়ে দেবে গুটিকয়েক মাস প্রোডাকশন কোম্পানী। অ্যাপলও তাদের সবকিছু বানিয়ে আনে ওখান থেকে। ওই ইকোনমি অফ স্কেলের কারণে। এখন কেউ নিজ থেকে সবকিছু বানায় না – বরং সবাই ভাগাভাগি করে নেয় জিনিসগুলো।

০৪.

যে বাচ্চারা নিজে থেকে জিনিস বানায় তারা শেখে তাড়াতাড়ি। কথায় আছে না ‘ইউ ওনলি লার্ন বাই ডুইং ইট’। এখনকার ‘লেগো’সেটে মোটর, ‘ইনফ্রারেড’ ইন্টারফেস তো ডাল ভাত। আর সেকারণে বুদ্ধিমান দেশগুলো তৈরি করে দিচ্ছে অনেক অনেক টূল। নতুন প্রজন্মের জন্য। সেরকম একটা টূল হচ্ছে ‘আরডুইনো’ ওপেন প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান প্রসেসরের কাছে এটা নস্যি – পাত্তাও পাবে না একফোটা। তবুও এটাই সেরা। কারণ – এর দাম পানির মতো সস্তা। আর যেকাজ দেবেন সেটা ও জানে কিভাবে করতে হয় পানির মতো করে। পাশের দেশেও তৈরি করছে ওই জিনিস ভেতরে ভেতরে। “মেকার’স লফট” দিয়ে গুগল করতেই চলে এলো কলকাতার অংশটা। অপেক্ষা করছি আমাদেরটা নিয়ে।

০৫.

‘আলিএক্সপ্রেস’ শীপ করছে বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন থেকেই। ওদের ইনভেন্টরি দেখে মাথা খারাপ হবার যোগাড় আমার। হেন জিনিস নেই যেটা বিক্রি করছে না ওরা। পুরো পৃথিবী জুড়ে। বেশিরভাগই কাস্টম মেড! সব বাসায় তৈরি। ‘চিপ’, ৯ ডলারের কম্পিউটার তৈরি নিয়ে একটা ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম একবার। যন্ত্রটা ডিজাইন করে বাচ্চা কয়েকটা ছেলে চীনে গিয়ে কিভাবে লক্ষ পিস বানিয়ে নিয়ে এলো সেটার গল্প ওটা। সেটা দেখে বোঝা গেলো অনেক কাজ বাকি আছে আমাদের।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

As we will show, poor countries are poor because those who have power make choices that create poverty. They get it wrong not by mistake or ignorance but on purpose.

― Daron Acemoğlu, Why Nations Fail: The Origins of Power, Prosperity, and Poverty

০১.

বয়স পয়তাল্লিশ হলো গত মাসে। লুকিং ব্যাক, সময় খারাপ কাটে নি কিন্তু। তবে, এর মধ্যে পাল্টেছে দেখার আর বোঝার ‘পার্সপেক্টিভ’। বলতে গেলে অনেক অনেক বেশিই। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেতেই হয়তোবা। দেখা হয়েছে অনেক বেশি। যাই দেখি এখন, ‘ডট কানেক্ট’ হয়ে যায় মুহুর্তে। আগের জ্ঞানের ছিটেফোঁটা থেকে চলে আসে ‘বিগ পিকচার’। ‘বিগিন এন্ড ইন মাইন্ড’ ব্যাপারটাও কাজ করছে সমান তালে। আর সেটার ‘এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন’ চলে ব্যাকগ্রাউন্ডে। চব্বিশ বছর ছুতে চললো চাকরির বয়স। কম তো ভুল করিনি এ পর্যন্ত! একেক ভুল থেকে তিনটা করে লেসন! আর সেটা নিয়েই আরেকটা সিরিজ। “পয়তাল্লিশ – ফিরে দেখা”। কিছুটা ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য শোল্ডার অফ জায়ান্টস’ মোডে। আগের গুনীজনদের প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে।

০২.

বই পড়ছিলাম একটা। গতকাল। অর্থনীতিবিদ টাইলার কোয়েনের লেখা। ‘অ্যাভারেজ ইজ ওভার’। ফারাক বাড়ছে ধনী আর দরিদ্রের। কমছে আমাদের মতো ‘ষ্টিডি’ মধ্য আয়ের রিজিওন। আর বেশি আয়ের মানুষগুলো কিন্তু বসে নেই। আয় করেই যাচ্ছে তারা। চমকটা কোথায়? পিরামিডের ওপরে থাকা মানুষগুলোর সাথে বাকিদের পার্থক্য একটা জায়গায়। পার্সপেক্টিভে। দুদলের মানুষের কাজের মধ্যে বিরাট ফারাক। পিরামিডের নিচের মানুষগুলো বসে আছেন পুরোনো প্রজ্ঞা নিয়েই। ডট যুক্ত করছেন কম। বেশি আয় করা মানুষ আর কোম্পানিগুলো শিখছে প্রতিনিয়ত। সঠিক সিধান্ত নেবার মেট্রিক্স, ডাটা এনালাইসিস, মেশিন ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সময় কমিয়ে নিয়ে আসছেন প্রথাগত কাজের লিডটাইম। আমাদের মাথার পাশাপাশি অনেক ছোট ছোট কাজ ছেড়ে দেয়া হয়েছে ‘স্ট্রাকচারড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’। আর না হলে সেটাকেও আউটসোর্স করে দেয়া হয়েছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। সেই সময় বাঁচিয়ে সেটাকে ইনভেস্ট করছে পরের লার্নিংয়ে। ‘লো-টেক’ রুটিনমাফিক কাজে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা সাজে না পিরামিডের ওপরের মানুষগুলোর।

০৩.

চব্বিশ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বলে কয়েকটা জিনিস। আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে আছে প্রথাগত রুটিনমাফিক কাজ নিয়ে। ৮০ শতাংশ সময় নষ্ট হয় রুটিন আর ‘রিপিটেটিভ’ কাজগুলোর পেছনে। যে কাজটা আগেও হয়েছে আর সেটার কি ধরনের সিধান্ত হয়েছে সেটা জানা সত্ত্বেও সেটাকে প্রসেস করছি প্রতিদিন। নতুন করে। রুটিনমাফিক কাজগুলোর সিদ্ধান্তের পেছনে আগের মতো সময় দিচ্ছে আমাদের ম্যানেজাররা। ম্যানেজারদের সময় নষ্টের টাকা গুনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রুটিন কাজগুলো সাধারণত: চলে কিছু ‘প্রিডিফাইনড’ রুলসেটের ওপর। আর সেগুলো আসে প্রতিষ্ঠানের ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রোসিডিউর’ (এসওপি) থেকে। আর সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমের ‘ডিসিশন ট্রি’তে ফেলে বিভিন্ন ইনপুটের দরকারী সিদ্ধান্তের সিকোয়েন্স আর তার কাজের আউটকাম নিয়ে আগে এনালাইসিস না করাতে এক কাজে আটকে থাকছি বছরের পর বছর।

০৪.

প্রতিদিনের ডে-টু-ডে অপারেশন্সে ব্যবহার করছি না আগের শেখা ‘প্রজ্ঞা’। কার্বন কপি সিস্টেমে ‘আগে কিভাবে হয়েছে?’ জিজ্ঞাসা করলেও সেই জ্ঞানটাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক মেমরি’তে না রাখার জন্য নিতে হচ্ছে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত। ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট ব্যস্ত থাকছে একই কাজে। মজার কথা হচ্ছে একই কাজে, এক ধরনের উপাত্তের ওপর সিধান্ত হচ্ছে একেক রকম। রুটিন কাজেই। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। সিদ্ধান্ত নেবার সময়ক্ষেপনের খরচ না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু কি হবে ভুল সিদ্ধান্তের? কে দায়ভার নেবে ওই বাড়তি খরচের? ‘রুল ভিত্তিক সিধান্ত’ মানে ‘এই’ ‘এই’ জিনিস হলে এই কাজ করতে হবে জেনেও সেটার পেছনে সময় নস্ট করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থা হলে নতুন নতুন উদ্ভাবনাতে সময় বের করবে কে? উদ্ভাবনা ছাড়া উপায় নেই বাঁচার।

মনে এলো আরেকটা বইয়ের কথা। ‘হোয়াই নেশনস ফেইল?’

উপায় কি এখন?

০৫.

উপায় বের করার আগে একটু ভেতরে ঢুকি কি বলেন? বিমান চালাতে পাইলটকে কত ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটা নিয়েই আলাপ করি বরং। বিমান টেকঅফ থেকে শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত হাজারো ইনপুট প্যারামিটার থেকে ‘মানুষ পাইলট’রা যদি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে যান, তাহলে বিমানের ওড়া হবে না আর। তাই বলে কি উড়ছে না বিমান? মানুষের জীবনের হাজারো ঝুঁকি ছেড়ে দেয়া হয়েছে এই ‘অটোমেটেড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’র ওপর। সম্ভাব্য কি কি ইনপুটে কি কি সিদ্ধান্ত হতে পারে, আর তার মধ্যে তার ফাইনাল ‘অবজেক্টিভ’ বিচার করে ওই সময়ের জন্য কোনটা ‘অপটিমাল’ হবে সেটার প্রসেস ফ্লো কিন্তু তৈরী করে দিয়েছে এই মানুষই। মানুষ তৈরী করে দিয়েছে পুরো রাস্তা, তবে সেটাকে চালানোর দ্বায়িত্ব দিয়েছে একটা সিস্টেমকে। যন্ত্রকে তো আর বলা হয়নি আমাদেরকে চালাতে, কি বলেন? আর যন্ত্রকে যদি আমার ‘লো-টেক’ কাজ আউটসোর্স না করি তাহলে ওটাকে তৈরী করলাম কেন?

০৬.

এদিকে দুবাই বা লন্ডন এয়ারপোর্টের ম্যানেজমেন্টকে ‘ম্যানুয়ালি’ প্রতিটা বিমান ওঠা নামার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলে কি যে হবে সেটা ‘ভিজ্যুয়ালাইজ’ আর নাই বা করি। অনেক দেশে মেট্রো আর সাবওয়ে সিস্টেমে দেয়া হচ্ছে না ড্রাইভার। কারণ, মানুষই ভুল করবে বরং। সামনে যতই চেষ্টা করুন, ‘ড্রাইভারলেস’ গাড়ি তো ঠেকাতে পারবো না আমি আপনি। আর সেটা কথা নয়, এই লো-টেক ‘শারীরিক’ জিনিস আর কতো দিন করবে মানুষ? অনেক জিনিসেরই বাজারে কি দাম কতো হবে সেটা কিন্তু তৈরী করে দেয় না মানুষ। বর্তমান সময়ে। বিমানের টিকেটের দাম কে ঠিক করে সেটাই দেখুন না চেখে? ব্যাংক তো বসে থাকে না আমার জন্য সারা রাত – তার অফিস খুলে? টাকা দেবার দ্বায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু এটিএমএর ওপর। আমাকে যারা চেনেন, তারা বলবেন, ‘আপনি তো কম্পিউটারের লোক, এ কথা তো বলবেনই আপনি। সব সিদ্ধান্ত তো আর ছাড়া যাবে না মেশিনের ওপর।’

০৭.

মানছি আপনার কথা। তবে, আমাদের প্রতিষ্টানগুলো প্রতিদিন হাজারো ঘন্টা নষ্ট করছে এমন কিছু ‘অপারেশনাল’ সিদ্ধান্ত নিতে যেটা সহজেই ছেড়ে দেয়া যায় কিছু ‘রুল বেসড’ সিস্টেমের ওপর। ভুল বুঝবেন না, কম্পিউটারের কথা বলছি না এখানে। বরং, কম্পিউটার ধরতেও হবে না ওটা তৈরী করতে। যেগুলো আমাদের ম্যানেজারদের মাথায় আছে অথবা ‘আগে কিভাবে করা হয়েছে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে’ সেটাকে কাগজে সিকোয়েন্স আকারে বিভিন্ন ‘সিদ্ধান্তের শাখা’ ধরে লিখে পাঠিয়ে দিন নিচের দিকে। তারা ঠিকই পারবে ওই সব সিদ্ধান্তগুলো দিয়ে কাজ করতে যেগুলো এতোদিন নিচ্ছিলেন বড় বড় ম্যানেজাররা। সত্যি বলছি! ‘ডিসিশন ট্রি’র অ্যাকশন পয়েন্টের সত্যিকারের গ্রাফিকাল রিপ্রেজেন্টেশন একবার করেই দেখুন না কাগজে, অবাক হয়ে যাবেন নিজেই। নিজের হাত কামড়াবেন – এতোদিন কতো সময় নষ্ট করেছেন ফালতু কাজে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Sometimes I feel my heart is breaking
But I stay strong and I hold on cause I know
I will see you again,
This is not where it ends
I will carry you with me … @Carrie Underwood

২২৮.

জর্জিয়া থেকে ফিরলাম নিউ ইয়র্কে। আমেরিকার ভেতরের টিকেটটা ওভাবেই করে দিয়েছিলো স্টেট ডিপার্টমেন্ট। গিয়ে উঠলাম লঙ আইল্যান্ডে, ক্যাডেট কলেজের বন্ধুর বাসায়।

দোস্ত, সাদার্ন অ্যাকসেন্ট তো ধরে ফেলেছে তোকে।

বলিস কি? টরকাতে চাইলাম। বুঝলি কিভাবে?

একটু আগে ফোনে কথা বলার সময় শুনলাম।

মনে পড়লো, কথা বলছিলাম টেনেসির এক বন্ধুর সাথে।

হতে পারে। কম থাকা হয়নি ওখানে। জর্জিয়া আর সাউথ ক্যারোলাইনার মানুষগুলো বেশ বন্ধুবত্‍সল। কথা বলতে পছন্দ করে আমাদের মতো। ইয়াংকিদের মতো নয়, অন্ততঃ। টান পড়াটা স্বাভাবিক।

২২৯.

ছোট বেলা থেকে বড় হয়েছি কান্ট্রি আর ক্রসওভার শুনেই। ওয়ার্ল্ড হারভেস্ট রেডিওর কল্যানে। সৃষ্টিকর্তা মনে হয় আমার কথা শুনলেন। আর সেকারণে ফেললেনও সাদার্ন অংশে। ওখানকার মিলিটারি বেজ থেকে যিনি আমাকে ওই ছোট্ট এয়ারপোর্ট থেকে নিতে এসেছিলেন – তাকে না চেনার উপায় নেই। ছোট এয়ারপোর্ট মানে সপ্তাহে নামে কয়েকটা সেশনা বা ড্যাশ প্লেন। আমার প্লেনে ছিলাম মোটে তিনজন। সাভান্নার ওপর দিয়ে উড়ে আসার সময় দেখলাম আসল সাভান্না। ছোটবেলায় পড়েছিলাম, সেটাই দেখতে দেখতে আসলাম। গাছ আর গাছ – বিশাল বন আর শেষ হয় না। বনেই ফেলবে নাকি শেষ পর্যন্ত? আতংকে রইলাম।

২৩০.

গাড়িতে আসতে আসতে কয়েকটা চমৎকার কান্ট্রি শুনে ফেললাম। স্টেশনটার নাম হচ্ছে ডাব্লিউ-বি-বি-কিউ। বোঝাই যাচ্ছে স্টেশনের কল সাইন ওটা। দিন গড়াতে শুরু করলো। কান্ট্রির দেশে এসে মেমফিস আর ন্যাশভিলে না ঘুরলে কেমন হয়? কনসার্ট দেখেও ফেললাম অনেকগুলো। আমার জনরা* হচ্ছে কান্ট্রি ওয়েস্টার্ন। তবে সেটা পাল্টে যাচ্ছে ক্রসওভারে। ক্রসওভার হচ্ছে কান্ট্রির সাথে অন্য কোনো জনরার মিশ্রন। সেটা পপ বা রক হলে অসুবিধা কি? উদাহরন দিলে পরিস্কার হবে সবার। ডলি পার্টন আর কেনি রজার্স নিজেদেরকে ওই ‘মেলো’ কান্ট্রির মধ্যে আটকে রাখেননি। ঈগলস, উইলি নেলসন, অ্যান ম্যারি, ক্রিস্টাল গেইল সবাই কান্ট্রির সাথে মিলিয়েছেন পপকে। খ্যাতি পেয়েছেন আমেরিকার বাইরে।

২৩১.

এ জমানার আপনার পরিচিত কান্ট্রি গায়ক/গায়িকার প্রায় সবাই পড়েছেন এই ক্রসওভারে। গার্থ ব্রুক, শানিয়া টোয়াইন, ফেইথহিল, ডিক্সি চিক্স, লিয়ান রাইমস – আর কার নাম বলবো? লি অ্যান ওম্যাক? আমেরিকান আইডল থেকে উত্থান পাওয়া সব গায়ক পরে কান্ট্রি অথবা ক্রসওভারে গিয়েছেন। গলার কারুকাজ দেখাতে হলে ব্লুজ আর কান্ট্রির বিকল্প নেই। এখন আসি ‘ক্যারি আন্ডারউড’কে নিয়ে। ‘ক্যারি’ নামটার উপর দুর্বলতা আমার ওই ইউরোপের গানটার পর থেকে। ঝামেলাটা আরো বাড়লো স্টিফেন কিংয়ের সাথে। তার বইয়ের নামও ওই ক্যারি দিয়ে। মুভিও হচ্ছে নাকি বইটাকে ঘিরে। অজ পাড়াগাঁ থেকে উঠে এসেছেন এই ক্যারি আমেরিকান আইডল হয়ে। বাবা কাজ করতেন স-মিলে। মা পড়াতেন একটা এলিমেন্টারি স্কুলে। সব ধরনের ‘ওড’ জব করে এসেছেন এই ক্যারি। ছোটবেলা থেকে গান করে এলেও জীবনযুদ্ধে না পেরে ওটা ছেড়ে দিয়েছিলেন মেয়েটা। তারপরের ঘটনা সবার জানা।

২৩২.

ক্যারির অনেকগুলো অ্যালবামই আমার কেনা। ইউএস মিলিটারি বেজে থাকার ফলে সাধারণ মার্কিনীদের মনোভাব জানতে পেরেছি কিছুটা। সেনাবাহিনীর ব্যাপারটা তারা নিয়ে আসে অনেক জায়গায় – তাদের ঐকতা অর্থাৎ ‘ইউনিটি’ বোঝানোর জন্য। সেনাবাহিনী মানে লাস্ট রিসোর্ট, যারা তাদেরকে সাহায্য করবে – সকল দুর্যোগে, রাজনীতি ছাড়া অন্য সব বড় বড় সমস্যায়। হাজার হাজার মুভি হয়েছে এই সেনাবাহিনীর উপর ভরসার গল্প দিয়ে। কান্ট্রি আর্টিস্টদের মধ্যে প্রচুর মিউজিক ভিডিও তৈরী করার প্রবণতা রয়েছে এই সেনাবাহিনী নিয়ে। মোস্টলি, দেশ যখন দুর্যোগে পড়ে। আর সেকারণে আজকের এই লেখা।

২৩৩.

ক্যারি আন্ডারউডের নতুন অ্যালবামের ‘সি ইউ এগেইন’ গানটা মৃত্যুর মতো শক্তিশালী একটা থিমের উপর তৈরী করা। মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে তার ভালবাসার মানুষগুলোর সাথে আবার দেখা হবার কথা এসেছে এই গানটাতে। ‘মৃত্যুই শেষ নয়’, ক্যারির কথা গানটা নিয়ে – ‘আমি স্বর্গে বিশ্বাস করি মনে প্রাণে। সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন আর তার কাছে যেতেই হবে একদিন। পৃথিবীতে আমাদের প্রিয়জনদের হারানোটা খুবই কষ্টের। তবে, আমরা শুধু বিশ্বাসই করি না – জানি যে তাদের সাথে দেখা হবে আবার। এর থেকে খুশির আর আনন্দময় কি হতে পারে বলুনতো? বিস্ময়কর বটে। এব্যাপারটা নিয়েই গানটা।’

২৩৪.

মিউজিক ভিডিওটা আরেক কাঠি ওপরে। যুদ্ধফেরৎ ছেলে, বাবা আর পরিবারের সাথে ‘রি-ইউনাইটেড’ হবার সত্যিকারের ফুটেজ নিয়ে তৈরী করা এই ভিডিওটা আমার বাধ্য করেছে হাজারবার দেখতে। ওকলাহোমার ট্রাজেডি আর টর্নেডো পরমুহুর্তের অংশগুলো স্পর্শ করবে আপনাকে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সমাধিপ্রস্তর, শেষকৃত্যের প্রোগ্রাম বা আলিঙ্গনের মধ্যে অনেক গল্পই এসেছে এই ভিডিওটাতে। মৃত্যু, বার্ধক্য, জীবন আর ভালবাসা সংক্রান্ত ফুটেজগুলো চলছে কনস্ট্যান্ট লুপে – আমার পিসিতে। ভিডিওটা হাই ডেফিনেশন হওয়াতে এটা ডাউনলোড করে নিতে পারেন বার বার দেখার জন্য। ক্যারির শক্তিশালী কন্ঠ আর ব্যাকআপ সিঙ্গারদের হামিং মুগ্ধ করবে আপনাকেও।

০০:৩৫

মন ভেঙ্গে গিয়েছে এই ছোট্ট মেয়েটার কথা চিন্তা করে। যুদ্ধফেরৎ বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটার কথা মনে রাখবে এই ছোট্ট মেয়েটা। সারাজীবন। খুবই কষ্টকর – তবে দেখা হবে আবার।

০১:০২

যুদ্ধফেরৎ ন্যাভাল সৈনিক আর তার প্রেমিকার মিলনের দৃশ্য। সাধারণ বটে, তবে মেয়েটার লজ্জা ছেড়ে দৌড়ানোর দৃশ্যটা কম মোহনীয় নয়। ভালবাসা বলে কথা। তবে এক সৈনিক আরেকজনের ব্যথা বুঝবে বলে ওই ধারণা থেকেই লিখছি। ভুলো মন আমার, লক্ষ্য করেছেন মেয়েটার পোশাকটা? জ্যাকেটের নিচে? বিয়ের পোশাকেই এসেছে কিন্তু মেয়েটা!

০১:১৬

নানার অবাক হবার দৃশ্য। নাতির কোনো জড়তা কাজ করছেনা এখানে। নানার মাথায় ঢুকে দেখেছেন কখনো?

০১:৪৬

ক্যারির ‘আই ক্যান হিয়ার দোজ একোজ ইন দ্য উইন্ড অ্যাট নাইট’ অংশটা শুনুন ভালোভাবে। ‘অ্যাট নাইট’ অংশটার টানটা খেয়াল করেছেন তো? স্বর্গীয়!
০২:১১

বাচ্চাটার চোখ দেখেছেন, পুরো ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন? অসম্ভব পজিটিভ একটা স্ন্যাপশট। বাচ্চাটা নিশ্চয়ই তার খুব প্রিয় কাউকে দেখছে ওই মুহুর্তে।

০২:১৬

আমার ধারণা, যুদ্ধফেরৎ ছেলে হটাৎ করেই চলে এসেছে দেশে। মাকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য লুকিয়ে বারে গিয়ে পানীয় দিতে গিয়ে এই অবস্থা। দেখেছেন মায়ের অবাক হবার ধরনটা? মা বলে কথা। ছেলের কথা চিন্তা করতে করতে মার অবস্থা শেষ! বলে গেলে কি হতো?

০২:২৬-০৩:৩১

যুদ্ধফেরৎ স্বামীর সাথে স্ত্রীর যোগ হবার দৃশ্য। কোলে ছোট বাচ্চাটা। চুমুর দৃশ্য হলেও স্ত্রী কাঁদছেন অঝোরে। খুশির কান্না তো বটে। স্বামী ছাড়া বছরগুলো কিভাবে কেটেছে সেটা জানার জন্য তার মনের ভেতরে ঢোকার প্রয়োজন নেই। আমার স্ত্রীও পায়নি আমাকে বিয়ের প্রথম পাঁচ বছর। বাচ্চা দুটো হবার সময়েও পাশে থাকতে পারিনি ওর। সুখদুঃখ স্থান কাল পাত্র ভেদে এক বলে আমার ধারণা। ইউএস মিলিটারি বেজে যুদ্ধে যাওয়া সৈন্যদের স্ত্রীদের দেখেছি – অবর্ণনীয় কষ্ট।

০২:৫৪ – ০৩:০১

তিন মাসের মেয়েটাকে ফেলে পাড়ি দিয়েছিলাম আটলান্টিক। নেমেই থাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটি। পুরো বেজই ফাঁকা। পাগল হয়ে গেলাম। পাগল হয়ে গেলাম মেয়েটার জন্য। কাঁদলাম দুদিন ধরে। ফিরতে চাইলাম দেশে। সে অনেক কথা। ফুটেজটা আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করাতে বাধ্য। এমনিতেই চুইছিলো হৃদয়টা। যুদ্ধফেরৎ বাবার জন্য তিন চার বছরের মেয়েকে এগিয়ে দিলো মা আর আর তার আত্মীয়রা। মেয়ে কিছুটা আড়স্ট হয়ে রইলো প্রথম কয়েক সেকেন্ড। দেখা গেলো বাবাকে – বেশ দুরে। মেয়ের জড়তা রইলো না আর। শুরু হলো হান্ড্রেড মিটার স্প্রিন্ট।

০৩:০২

দৌড় আর দৌড়। কিন্তু, একি? শেষ হচ্ছে না কেন দৌড় –  মেয়েটার? আমার হৃত্‍স্পন্দন বাড়তেই থাকলো। নিশ্বাস বন্ধ করে বসে রইলাম আমি। আহ! শেষ হলো দৌড়ের গল্প। বাবা ধরে ফেললো বড় ভালুকের মতো – পরম মমতায়। অতটুকু মেয়ের খুশি দেখে কে? বিশ্বজয় করে ফেলেছে মেয়েটা! বাবার আকুলিবিকুলি হৃদয় ঠান্ডা হলো বলে। এই মুহূর্তগুলোরই জন্য বেঁচে থাকি – প্রতিনিয়ত!

আরেকটা জিনিস, ক্যারির ওয়ার্ডড্রোবটা মানিয়েছে চমৎকারভাবে। ভুল বলেছি?

* genre = বিশেষত শিল্পসাহিত্যের প্রকরণগত রীতি , ধরণ , শৈলী , গোত্র , ঘরানা

Read Full Post »

The first rule of any technology used in a business is that automation applied to an efficient operation will magnify the efficiency. The second is that automation applied to an inefficient operation will magnify the inefficiency.

– Bill Gates

২১৮.

কম্পিউটার রকিব না?

শুনেছি কথাটা অনেক অনেকবার! মেনেও নিয়েছি। সত্যি কথা বলতে – সিনিয়রদের কাছ থেকে শুনলে খারাপ লাগতো না কিন্তু। বরং, স্নেহের একটা প্যাকেজিং থাকতো ওর মধ্যে। কম্পিউটারের হাজারো সমস্যা? ডাকো ওকে। সলভ করার জন্যই তো আমি। বন্ধুদের ডাকে খোঁচা না থাকলে আর বন্ধুই বা কেন? আবার, আমারো দোষ না থাকলে এই নাম কেন? অফ-লাইন ইন্টারনেটের যুগ থেকেই ব্যবহার করছি এই কম্পিউটার। এফটিপি মেইল দিয়ে ব্রাউজ করতাম নেট – ওই অফলাইনেই! পুশ পুল এসএমএস তো দেখছেন এখন! ওই পুশ পুল মেইল দিয়ে ব্রাউজ করতাম নেট! জেদ করে সব কাজেই ব্যবহার করতে চাইতাম কম্পিউটার।

২১৯.

নব্বইয়ের দিকে কম্পিউটার মানে টাইপের যন্ত্র, সে ধারনা থেকে বের করার জন্যই আমার ওই প্রানান্তকর চেষ্টা। কম বকা খাইনি ওর জন্য। ধরা যাক জরুরি একটা ফ্যাক্স পাঠাবার কথা আমার, মোডেমের ড্রাইভারের সমস্যার কারণে সেটা পাঠানো যায়নি গত কয়েক ঘন্টায়। ফ্যাক্স মেশিন কিন্তু পড়ে আছে আমার রুমে। জিদ চেপেছে – পাঠাবো এই নচ্ছার কম্পিউটার দিয়েই। যাবি না মানে – তোর বাবা যাবে, এই মটো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ছুটিটাই বাতিল হয়ে গেলো! অবহেলা করেছি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্সটা। চাকরি চলে যাবার কথা! মাঝখান দিয়ে সাত দিনের ছুটিটা নট্ হয়ে গেলো।

২২০.

কিসের মন খারাপ, কিসের কি? রাত তিনটে বাজিয়ে ওই ফ্যাক্সের আরেকটা কপি পাঠিয়ে ঘুমুতে গেলাম। লিনাক্স কার্নালটা ওটা সাপোর্ট করছিলো না। কম্পাইল আর রি-কম্পাইল করেই মিটলো ঝামেলাটা। সাড়ে পাঁচটায় আবার পিটি। আহারে দিনগুলি! কোনো কিছুই অসম্ভব মনে হয়নি তখন! শরীরের চেয়ে বড় হৃত্পিণ্ড নিয়ে আমার সিনিয়ররা আগলে ছিলেন আমাকে। কম্পিউটার রকিব, ও একাজ না করলে করবেটা কে আর? সামওয়ান হ্যাজ টু ডু দ্য ইনোভেশন, লেট হিম ইনোভেট!

২২১.

আমার রুটি রোজগার রেডিও যোগাযোগের সূত্রে বাঁধা থাকলেও কম্পিউটার কমিউনিকেশনে পড়ে ছিলো বুকভরা ভালবাসা। উপায় কি? ওদের বিয়ে না দিয়ে উপায় আছে আমার? ইংরেজিতে ম্যারিং আপ বলে কথাটা ওটার জন্য একদম সত্যি! এইচএফ (হাই ফ্রিকোয়েন্সি) রেডিওর সাথে কম্পিউটারের ডুপ্লেক্স সাউন্ডকার্ড আর লিনাক্সের বেসব্যান্ড এন্টেনা টিউনারের সঙ্গে দরকারী সফটওয়্যার! বেশি নয়, বছরখানিক লেগেছিলো মাত্র। তিনশো বউড পার সেকেন্ডের রেডিও মোডেম বানাতেই সময় লেগেছিলো এই যা।

২২২.

সবকিছুতে কম্পিউটার কেন? ভালো প্রশ্ন। ছোটবেলা থেকে অটোমেশনের ওপর একটা দুর্বলতা জন্মে গিয়েছিলো। ওর কারণও ছিলো। ওয়েস্টার্ন সিনেমার নায়কের মতো বন্দুকের নল কামড়ে না বড় হলেও ক্রিস্টাল ডায়োড আর ট্রানজিস্টর কতো চিবিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। তবে সেটা একটু বড় হয়ে – রাগের মাথায়, সার্কিট ঠিকমতো কাজ না করার কারণে। অফিসের একঘেয়ে রিপিটেটিভ কাজগুলো ফেলে দিতাম প্রসেসে। করতো মানুষই। তবে, একটা প্রসেসের মধ্যে। প্রসেসের মধ্যে হিউমান ইন্টার-অ্যাকশন লুপহোল তৈরী করলে – প্রসেসটার কয়েকটা চেক এন্ড ব্যালান্সে ধরা পরত জিনিষটা।

২২৩.

আমার ধারনায় – বড় কাজকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে ভাগ করে কয়েকজনের মধ্যে দিলে – অটোমেশনের মতোই কাজ করে। সবার আউটপুট কানেক্টেড আপনার সাথে। যাবে কোথায়? সেমি-অটোমেটিক। শেলস্ক্রিপ্টের মতো। খানিকটা ‘ফর লুপ’এর ধারণা থেকেই। সামরিক বাহিনীর সব কাজের জন্য একেকটা এসওপি – ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ আমার কাজের মূল প্রেরণা। কাজ না হবার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না – এসওপি আছে না? ফলে ডিসিশন মেকিং প্রসেসটাও – ‘ডিএমপি’ কাজ করে দ্রুত। ম্যানাজেমেন্টের জন্য বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ ম্যাগাজিনটাও অনেককিছু নিয়েছে সামরিক বাহিনী থেকে। চেখে দেখুন নিজেই স্পেশাল কালেকশনের কিছু অংশ।

২২৪.

ভাবতাম অটোমেশনে জোর দিলে কাজ বের হবে তাড়াতাড়ি। সেটা কাজও করেছে অনেক জায়গায়। প্রচুর অটোমেশনের কাজও করানো হয়েছে আমাকে দিয়ে। প্রথম দিকে কাজও হয়েছে ভালো। আমি অন্য জায়গায় চলে গেলে সেটা পড়েছে মুখ থুবড়ে। ভালো ডকুমেন্টেশন থাকা সত্ত্বেও না কাজ করার পেছনে ওই প্রজেক্টের পরবর্তী ওনারশীপ দায়ী থাকে কিছুটা। এখন কাজ করছি নলেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। সমস্যা একটাই। মানুষ চলে গেলে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রজেক্ট। সেকারণেই কাজ করছি নলেজ ‘কন্টিনিউটি’ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে।

২২৫.

এই ‘কন্টিনিউটি’ অংশটাই সমস্যা কাটাবে আসা করি। নতুন আইডিয়া বটে, আমাদের জন্য। প্রতিদিন কাজের একটা স্ন্যাপশট থাকবে সবার কাছে। সবার কাজের খতিয়ান সবাই দেখতে পারবে বছর ধরে। সপ্তাহের এক দিন সবাই দেখবে বিগ পিকচারটা। কোথায় এগুলো তার কাজ আর বাকি সবার। মানে বড় কাজটার কোন মডিউলে কাজ করছিলো সে। আর না হলে হাতির কান দেখার মতো অবস্থা হবে ওদের। প্রতিযোগিতা তৈরী হবে আউটপুটে। খাওয়া দাওয়াও হতে পারে সেদিন! ওয়েল ডিফাইন্ড প্রসেস তৈরী করতে সময় নিলেও করতে হবে সবকিছু ফেলে। প্রসেসটা ক্লায়েন্টও জানবে। সরকারের ক্ষেত্রে জনগণ। একবার দাড়িয়ে গেলে বস প্রতিদিন না থাকলেও অসুবিধা নেই। কাজ থাকবে না মানুষ ডিপেন্ডেন্ট হয়ে। ওটা হবে প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট। অমুক নেই তো হবে না কাজ – সেদিন যাচ্ছে চলে। কাজের তদারকি করবে ক্লায়েন্ট, পরোক্ষভাবে। সরকারের ক্ষেত্রে ওই জনগণই।

২২৬.

তবে সব জায়গায় ‘চলো করি অটোমেশন’ ভাবার আগে বিল গেটসের কথাটা মনে রাখবেন। হাটুন কিছুটা পেছনে, মানে সমস্যাটা থেকে বেরিয়ে এসে। প্রসেসটা দক্ষ বা কার্যকর না হলে ব্যাকফায়ার করতে পারে। ভালো দিক হচ্ছে – অটোমেশন অকার্যকর প্রসেসকে আরো আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয়। এফিসিয়েন্ট প্রসেসটাই সবকিছুর মূলে। আবার, দরকার মতো – উই হ্যাভ টু স্ট্রিমলাইন দ্য ওয়ার্কফ্লো! বছর লাগলেও কষ্ট করে তৈরী করুন একটা ‘কার্যকর’ প্রসেস ওয়ার্কফ্লো। বিয়ের রাতে বেড়াল মারার মতো। শান্তি চলে আসবে কাজে। আমি মেরেছিলাম কিনা? বলেন কি ভাই? ভয় ডর কি নেই আমার?

২২৭.

সামনের দিনগুলোতে কিভাবে কোম্পানিগুলোর বাজেট কাট হবে সেটার জন্য বসে থাকতে হবে না আরেকটা বছর। টাকা কম, ভালো কাজ আর স্বচ্ছতা; অটোমেশন ছাড়া গতি নেই সামনের দিনগুলোতে। এফিসিয়েন্ট আর কার্যকর অটোমেশন করার আইডিয়া নিয়ে আসছি সামনেই। ওয়ার্কফ্লোসহ! মাইন্ডম্যাপ? ওটা বোনাস! এই প্রাকটিসটা সবার মধ্যে ঢুকে গেলে আসবে ভালো কাজ আর স্বচ্ছতা। কত মানুষ আমাদের, খাওয়াতে হবে না সবাইকে? আনবো ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ধারণা। সবার জন্য স্বাস্থ্য আর দুরের স্বপ্ন নয়। টাকা নেই – ভুল কথা। হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রির ‘কার্যকর’ প্রসেস ওয়ার্কফ্লো তৈরীই আছে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে। দেশের জন্য ‘কাস্টমাইজেশন’ আর দরকারী ‘ম্যাপিং’ না করতে পারলে বিশ বছর কি শিখলাম তাহলে? ফেরৎ দিতে হবে না?

দেশের জন্যই তো! থাকছেন তো সাথে?

Read Full Post »

Great anger and violence can never build a nation. We are striving to proceed in a manner and towards a result, which will ensure that all our people, both black and white, emerge as victors.

– Nelson Mandela (Speech to European Parliament, 1990)

২০৩.

নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লঙ ওয়াক টু ফ্রিডম’টা পড়তে যেয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো বার বার। আমাদের দেশের সাথে অনেকগুলো ঘটনা মিলে যাচ্ছে বলে কষ্টটা বেড়েছে। অবাক কান্ড – অন্য জায়গায়! বইটার নতুন ভার্সনটার মুখবন্ধ লিখেছেন আমার প্রিয় একটা মানুষ। তাকে খুব কাছ থেকে পেয়েছিলাম দু দুবার। কথাও বলেন চমত্কার। নিশ্চিত আমি, ধরে ফেলেছেন আপনি। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। দেশকে কিভাবে তুলতে হয় সেটা দেখেছি তার ফরেন পলিসিতে। মুখবন্ধ পড়তে গিয়েই বইটা দুবার বন্ধ করে ভাবছিলাম। ক্লিনটন তার সাথে ম্যান্ডেলার কিছু কথাবার্তার স্ন্যাপশট নিয়ে এসেছেন মুখবন্ধেই। প্রথমটা পড়ে ধাতস্থ হতে না হতেই পরেরটা মনের অর্গল খুলে দিলো। পাশ কাঁটাতে পারলাম না বইটাকে।

২০৪.

‘সত্যি করে বলুনতো?’ ক্লিন্টনের প্রশ্ন, ‘দীর্ঘ সাতাশ বছর পর জেল থেকে মুক্তির পথে হাঁটার সময় কেমন মনে হয়েছিলো আপনার? ওদেরকে কি নতুন করে ঘৃনা করতে শুরু করছিলেন?’

‘অবশ্যই ঘৃনা করেছিলাম।’ ম্যান্ডেলার সহজ সরল উত্তর। ‘ওরা আমাকে আটকে রেখেছিলো অনেকটা বছর। অমানবিক ব্যবহার করেছে আমার সাথে। জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টা পার করেছি এই কুঠুরিতে। বিয়েটাও শেষ হয়ে গিয়েছে ওই কারণে। বাচ্চাদের বড় হওয়ার সময় পারিনি পাশে থাকতে। প্রচন্ড রকমের ক্রোধান্বিত ছিলাম ওদের ওপর। আতঙ্কগ্রস্ত সময় পার করতে হয়েছে ওই লম্বা – আটকে থাকার সময়টাতে।’

‘তবে মুক্তির সময়ে গাড়িটার কাছে হেঁটে যাচ্ছিলাম যখন – অনেক চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো মাথায়। গেটটা পার হবার সময় একটা উপলব্ধিতে পৌছালাম। ওদেরকে তখনো ঘৃনা করলে ওরাতো পেয়ে গেলো আমাকে। ওটাতো চাইনি আমি। মুক্তি চেয়েছি বরং ওই সংকীর্ণতা আর বিদ্বেষের শৃঙ্খল থেকে। ওই সর্বগ্রাসী ঘৃনা তুলে নিলাম ওদের ওপর থেকে। ওই মুহূর্ত থেকেই।’

___
* পুরো মুখবন্ধটা নিয়ে আসবো সামনে। আমাজনে বইটার লিঙ্কে গেলে প্রথম অধ্যায়টা পড়তে পারবেন বিনামূল্যে। জীবন পাল্টে দিয়েছে এই আমাজন। বইয়ের কাভারের ছবিটার উপর ক্লিক করুন। পুরো মুখবন্ধটা পড়তে ভুলে যাবেন না কিন্তু। বলে নিচ্ছি আগে, আমি বঙ্গানুবাদে বিশ্বাসী নই। আমার ধারনায়, মুখবন্ধের শেষ প্যারাটাই পুরো বইটার ওয়ান লাইনার!  ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন আশা করি।

Read Full Post »

You can have everything in life you want, if you will just help other people get what they want.

Zig Ziglar

Life is a gift, and it offers us the privilege, opportunity, and responsibility to give something back by becoming more.

Anthony Robbins

১৯৫.

ব্যাংককের হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিটা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না মিসিং লিংকটা। পরিচিতদের সামান্য ফোঁড়া উঠলেই ব্যাংককে দৌড়ানোর কারণটা ঠাহর করতে পারলাম কিছুটা। বিদেশে ডাক্তার দেখাইনি কখনো – মনে হয়েছিলো দেশের উপর বিশ্বাস না করলে দেশে থাকছিই বা কেন? আর নিজের জিনিস ব্যবহার না করলে সেটা ওয়ার্ল্ড ক্লাস হবে কবে? আমাদের হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে সমস্যা অনেক থাকলেও সেটা তো বাইরে থেকে কেউ এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে না। সেটা করতে হবে আমাদেরকেই। আমাদেরকে ইন্ডাস্ট্রিকে এমনভাবে ‘ওন’ করতে হবে যে এটা ছাড়া গতি নেই আমাদের। তাহলেই এটা দাড়াবে ওয়ার্ল্ড ক্লাসে!

১৯৬.

ছোটবেলার লার্নিং হচ্ছে – নিজের সমস্যার কথা বলতে হয় না বেশি। বললেই, সেটা নিয়ে হয় মজা করবে মানুষ অথবা কিছুক্ষণ সমবেদনা জানিয়ে চলে যাবে। এই তো? তার থেকে না বলাটাই ভালো বরং। এরপরও মানুষ জেনে গেল চোখের সমস্যাটার কথা। তবে তেরো বছর অনেক লম্বা সময়। চোখের ম্যাকুলা অংশে দুটো ছিদ্র ধরা পড়েছিলো সেই দুহাজার সালে। ঝাপসা দেখা শুরু করলাম। রোগটা আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যায় না বলে ডাক্তাররা তাদের ইন্টার্নদের ডেকে দেখাতে থাকলেন বার বার। অসম্ভব উজ্জ্বল আলোর নিচে আমার চোখগুলো ক্লান্ত হয়ে যেতে লাগলো পুরো মাস ধরে। তখনি দেখা হলো উনার সাথে।

১৯৭.

খুব ভালো একজন চোখের ডাক্তার – তবে থাকেন ভয়ঙ্কর ব্যস্ত। আমার ধারনায় ব্যস্ত মানুষগুলোই সব কাজ তাড়াতাড়ি বের করে দেন। লাইন দিলাম উনার পেছনে। বুঝলাম উনার চিকিত্‍সায় মনোবিজ্ঞানকে ব্যবহার করেন চমত্‍কার ভাবে। মাসখানিক অবজারভেশনে রাখলেন উনি। উন্নতি না হবার কারণে আর্গন লেজার ব্যবহার করতে হলো তাকে। লেজার দিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করলেন উনি। সেন্ট্রাল ভিশনটা একেবারে কাছে হওয়াতে পুরোপুরি লেজার ব্যবহার করা গেলো না। সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে উনার ধারণার উপর যতোটুকু করা সম্ভব সেটাই করলেন উনি। এর পরের ইতিহাস লম্বা হলেও পাল্টে গেলাম আমি। জীবনের প্রতি স্ট্রাটেজিটা রি-পজিশন করে নিলাম। চোখে আরো কয়েকটা অ্যাটাক হয়ে গেল পরের কয়েক বছরে। মন ভেঙ্গে পড়লেও তা চালান করে দিলাম অন্যদিকে। পড়ালেখা শুরু করলাম ওর মধ্যেই। কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করে ফেললাম পরের তিন বছরে। ভর্তি হলাম এমবিএতে।

১৯৮.

বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ তৈরী করলেন। নিজেরই নাই ঠিক বিয়ে করবো কিভাবে? সেভাবেই কাটলো আরো কয়েক বছর। চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নিলাম – সমস্যাটা বলে নিতে হবে আগে। গাট বাঁধার আগেই। হটাত্‍ করে চাকরি না থাকলে তো দুজনেই সাগরে। আমার প্রফেশন প্রচন্ডভাবে চোখের উপর নির্ভরশীল বটে। প্রশিক্ষণের সময় শার্পশুটার হিসেবে নাম করেছিলাম এই চোখের কারণেই। যিনি বিয়ে করবেন তিনি জেনেই আসবেন। ডাক্তারের সাথে কথা বলতে চাইলেন স্বাতীর বাবা মা। ডাক্তার আমার দিক টানলেন কিনা জানিনা – তবে এগিয়ে এলো স্বাতী। ডাক্তারকে পরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম – পার্শিয়ালটি হয়েছে কি না, উনার সরাসরি উত্তর – আমার কাজ আমি করেছি। অতপর: মুখ কুলুপ। আজও জানি না, কি কথা হয়েছিলো তাদের মধ্যে।

১৯৯.

নিজের অবস্থা ইভাল্যুয়েট করে নিলাম ভালোভাবে। কোথায় আছি আর কোথায় যাবো তার একটা প্যাটার্ন এনালাইসিস বের করে ফেললাম এর মধ্যে। নিজের দুর্বলতা জেনে নেয়া ভালো। আমার দুর্বলতা জানি বলেই সেটাকে মিটিগেট করতে হবে আমাকেই। দুর্বলতা জানলে সেটাকে ‘স্ট্রেন্থ’ হিসেবে ব্যবহার করাটা নিজের ওপর। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম নিজের কাছে – যা করবো বা যেখানে কাজ করবো – সর্বোচ্চ আউটকাম নিয়ে আসবো সেখানে। সময় আসছে কমে। দেশ তো কম দেয়নি আমাকে। ক্যাডেট কলেজে পড়িয়েছে আমাকে। গরীব দেশের কোটি টাকা ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে আমার ওপর – বিভিন্ন প্রশিক্ষণে। টাইম টু গিভ ব্যাক। যা নিয়েছি ফেরৎ দিতে হবে না?

২০০.

ফিরে আসি আগের গল্পে। ব্যাঙ্ককে গিয়েছিলাম ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)এর এক প্রোগ্রামে। সবার চাপাচাপিতে ছুটি নিলাম দুদিন। সেকেন্ড একটা ওপিনিয়ন নেবার জন্য। চোখের। আমার ধারনায় পুরো হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিটা দাঁড়িয়ে আছে একটা কীওয়ার্ডের ওপর। শৃঙ্খলা। এর পরে আসছে স্ট্রিক্ট কোয়ালিটি কন্ট্রোল। হাজারো রোগীর চাপে দিশেহারা হয়নি তারা। আইটিইউ’এর প্রোগ্রামে চল্লিশ হাজার অতিথির অনেকেই চেক-আপে এসেছিলেন প্রোগ্রাম শেষের ঠিক পরের দিন। ধারণা করছি – তৈরী ছিলো ব্যাঙ্ককের পুরো হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রি। এনালাইটিক্সয়ের খেলা। পয়সা আয় করতে জ্ঞানের সর্বোত্তম ব্যবহার। ব্যাংককের আসার আগেই ওরা জানে মানুষ কি কি সার্চ করছে – ওদেরকে নিয়ে। সবাই জানে। আমিও জানি।

২০১.

আমি অন্য হাসপাতালের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে গেলেও সকালে হেঁটেই চলে গেলাম নতুন একটা হাসপাতালে। সেদিনই প্রথম। কিছুটা ভয়ে ভয়ে। এপয়েন্টমেন্ট নেইনি তো আগে থেকে। কোথায় কি? হয়ে গেলাম ভিআইপি! একদিনের বাদশা! সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি বলে কথা। প্রসেসে ফেলে দিলো আমাকে – সন্তর্পনে। মানুষ ডিপেন্ডেন্ট নয়, পুরোপুরি প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট। টাকা পয়সা কম নিয়ে গিয়েছিলাম বলে অনেকগুলো টেস্ট করতে চাইছিলাম না। ডাক্তার এমনই মগজধোলাই দিলো যে ছুটতে ছুটতে বাকি টাকা নিয়ে এলাম হোটেল থেকে – এই আমিই। তার কথা একটাই, তুমি তো এখানে এসেছো সেকেন্ড ওপিনিয়নের জন্য। বাকি টেস্টগুলো না করালে দেশে গেলে মন খোঁচাতে থাকবে। আমি তোমাকে একটা ‘এন্ড টু এন্ড’ চেক করতে চাচ্ছি। ফেল কড়ি মাখো তেল। সার্ভিসের বাহার দেখে পয়সার কথা মনে থাকবে না আর। সস্তা করে ফেলেছে অনেক জিনিস, ভলিউমে খেলছে তারা। কীওয়ার্ড ‘ইকোনমি অফ স্কেল’, পড়েছি হাজার জায়গায়। নিজের চোখে দেখতে হলো ওখানে।

২০২.

অবাক কান্ড, পরীক্ষা শেষে ডাক্তার [মহিলা] হেঁটে এসে ল্যাবে বসলো আমার পাশে – নিজে থেকে। তার চেম্বার ছেড়ে। রিপোর্টটা লাইন ধরে ধরে বোঝাতে শুরু করলো – খাঁটি মার্কিন অ্যাকসেন্টে। কথার ফাঁকে ও কোথায় বড় হয়েছে সেটা জানতে চাইলে – আমেরিকাতে শুধুমাত্র মেডিকেলেই পড়ার কথা জানালো সে। সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির জন্য পার্সোনালাইজেশনটা যে কি জিনিস সেটা বোঝা গেলো ওখানে বসে। বন্ধুর মতো পুরো জিনিষটার রানডাউন দিলো ডাক্তার। তেরো বত্‍সর আগে কিছুটা শক্তিশালী লেজার ব্যবহার করার কারণে ম্যাকুলার পেছনে ক্ষতিগ্রস্ত সুক্ষ রক্তনালীগুলো কি সমস্যা করতে পারে সেটা হালকাভাবে বললেও ওটাকে মিটিগেট করার ভবিষ্য করনীয় বুঝিয়ে দিলো বন্ধুর মতো। কিছু জিনিস এখনো হাতের নাগালে আসেনি মানুষের। সেটা মেনে নিয়েছি অনেক আগে। আর্গন লেজার ব্যবহার করলে সমস্যা হতেই পারে এধরনের – নতুন কিছু নয় এটা। আশা করছে – ‘ওর্স্ট কেস সিনারিওতে’ সেন্ট্রাল ভিশনে সমস্যা হলে পার্শ্ব ভিশন থাকবে ভালো। হাঁটা চলাতে সমস্যা থাকার কথা নয়।

ইউ ওন্ট গো কমপ্লিট ব্লাইন্ড, চোখে চোখ রাখলো ডাক্তার।

আশাই বাঁচিয়ে রাখবে আমাদেরকে। সৃষ্টিকর্তা বড় মহান।

Read Full Post »

The reasonable man adapts himself to the world; the unreasonable one persists in trying to adapt the world to himself. Therefore all progress depends on the unreasonable man.

George Bernard Shaw

১৮৭.

সময়টা [ছিলো] বর্ষাকাল। সন্ধার ট্রাফিক লাইট পোস্টে এসে দাড়ালো গাড়িটা। আমার মানে অফিসের দেয়া গাড়ি। মেয়ে একটা এসে দাড়ালো গাড়িটার পাশে। আমার আর তার মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে গাড়ির কাঁচের জানালাটা। গাড়ির এসিটা ভালোভাবে না কাজ করলেও জানালার কাঁচ তুলে পানির ঝাপটা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলাম। বর্ষার সঙ্গে বেশ ঠান্ডা বাইরে। মেয়েটার বয়স আমার মেয়ের সমান হবে হয়তোবা। অপুষ্টির কারণে বয়স বোঝা দুস্কর হলেও নিজের মেয়েটার কথা মনে হলো ওমুহুর্তে। ভিক্ষে চাইছে না মেয়েটা। ফুল বিক্রির পাশাপাশি সাহায্য চাইলো অস্ফুট স্বরে। তুমুল বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। সাথের প্লাস্টিকটা মাথায় না দিয়ে ফুলগুলোকে ঢেকে রেখেছে বরং। মনে হচ্ছে ফুলগুলোর কাছে ওর শরীরটা কিছুই নয়। ভার্বাল কমিউনিকেশনের পাশাপাশি অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলার চেষ্টার অংশ হিসেবে নাক লাগিয়ে দিলো জানালার কাঁচে। প্রচুর ঠান্ডার কারণে ওর নাকের নিশ্বাস কাঁচকে ঘোলা করে দিচ্ছিলো বারবার। সহ্য করতে পারলাম না আর। মনুষ্যত্ব ছাপিয়ে উঠলো – দুপাশেই মানুষ। বৃষ্টি আর প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে একজন অন্যজনকে দাড়িয়ে করে রেখেছে। জন্ম পক্ষপাতদুষ্ট বলে ও আজ জানালার ওপাশে। কাঁচ নামিয়ে দিলাম, সমতা আনার ব্যর্থ চেষ্টা। বৃষ্টি আর ঠান্ডা থেকে তাকে বাঁচাবার কথা মনে হলো – গাড়িতে নিয়ে বাসায় পৌছে দিলে কেমন হয়? মেয়ে বাচ্চা বলে সামলে নিলাম নিজেকে। রাস্তার বাকি বাচ্চাদের কি হবে তাহলে? কিনে নিলাম সবগুলো ফুল বরং। আশা করছি বৃষ্টিতে বেশিক্ষণ না ভিজে ও চলে যাবে বাসায়।

১৮৮.

যাদের ভাগ্য আপনার আমার মতো অতটা সুপ্রসন্ন নয় তাদের জন্য কাজ করবে কে? যাদের নুন্যতম অধিকার নিশ্চিত করতে পারছিনা আমরা – তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করছে কেউ? উন্নত দেশগুলোতে ‘ওয়েলফেয়ার ফান্ড’এর ধারণা মানুষকে একটা নুন্যতম ‘ফীড’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে – সেটার ধারণা আসবে কবে? ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ব্যাপারটা আসবে এর ঠিক পরে। আমার ধারণা, আমরা যারা পারছি তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে সেটা। সরকারকে একটা ভালো মডেল দেখাতে হবে আমাদেরকেই।

১৮৯.

অফিসে আমার কাজের একটা বড় অংশ হচ্ছে – নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরী করা। কার্যক্ষেত্রের সাথে উদ্যোক্তা তৈরীর সম্পর্কটা আরো গভীরে। সারাদিন ধান্দা করি নতুন কার্যক্ষেত্রের খোঁজে। খুঁজে ফিরি উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের। নতুন লাইসেন্স, মানে নতুন কিছু এমপ্লয়মেন্ট। এখন বিশ্ব আবার সরে আসছে সনাতন ‘লাইসেন্সিং রেজীম’ থেকে। সেটা নিয়ে আসবো আরেকদিন। একেকটা গাইডলাইন আনছি কার্যক্ষেত্র তৈরীর ধারনায় – আবার নিজেই আমি অটোমেশনমুখী। অটোমেশনই নিয়ে আসবে স্বচ্ছতা। কাজগুলো মানুষ নির্ভর না হয়ে প্রসেস নির্ভর হলে সেদেশকে ফিরে তাকাতে হবে না আর। সেকারণে আমি ‘অ্যাকসেন্চারের’ মতো ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং কোম্পানিগুলোর ভক্ত। আজ একটা অর্গানাইজেশনের প্রসেস ডেভেলপমেন্ট করে দিন, ছোট সিদ্ধান্তগুলো মানুষের উপর ছেড়ে দিলে ঝামেলা হতে বাধ্য। সবকিছুর একটা ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর’ তৈরী করে নিতে বলুন সবাইকে। সেটাই কমিয়ে নিয়ে আসবে ন্যায়বর্জিত কাজ। আমার ধারনায় জ্ঞান স্বল্পতায় মানুষই ক্ষতি করতে পারে আরেক মানুষের, প্রসেস নয়।

১৯০.

আবার মানবসম্পদকে যথাযথ ব্যবহার না করলে সেটা অভিশাপে পরিনত হতে দেরী হবে না। নতুন কর্মক্ষেত্র মানে নতুন চাঞ্চল্য। সেটার ফাঁকে খুঁজতে হবে নতুন বাজার – দেশের বাইরে। আর নয় পড়ে থাকা – অন্যের বাজার হয়ে। সত্যি যেটা, অটোমেশন নষ্ট করবে আমাদের অনেকের চাকুরী। তাদের জন্য আমাদের খুঁজতে হবে নতুন পথ। ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ধারনাটা আসবে সামনে। যারা কোনো কাজ পাবেন না, তাদেরকে তো আর ফেলে দেয়া যাবে না। কিছু মানুষ কোন কাজই পাবেন না, তাই বলে কি ওদের অধিকার নেই কি বাঁচার?

১৯১.

যন্ত্র কৃষিনির্ভর আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ‘হেভি’ কাজগুলোকে কেড়ে নিয়েছে মানুষের কাছ থেকে। সত্যিই তো, আর কতো কষ্ট করবে মানুষ? ফলে সার্ভিস সেক্টরে এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। সেখানেও ধারণা করছি সত্তুর শতাংশ মানুষ কাজ হারাবে অটোমেশনের কাছে। ফলে কমবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। সেটা কমলে কমবে অটোমেশনের অগ্রগতি। এটা একটা সাইকেল বটে।

একটা উদাহরণ নিয়ে আসি বরং।

অটোমেশনের ফলে মানুষের কি হয় বলুনতো?

সত্যিকার অর্থে চাকুরী হারায় তারা। উন্নত দেশগুলো তাদের আবার একটা ওয়েলফেয়ার ফান্ডের উপর বাঁচিয়ে রাখে। সেই ‘ফীড’টা চলতে থাকে ততদিন পর্যন্ত যতদিন সে না আরেকটা চাকরি পাচ্ছে। চাকরি খুঁজেও বের করে সেই দেশগুলো।

আচ্ছা, ওয়েলফেয়ার ফান্ডটা আসে কোথা থেকে?

ওয়েলফেয়ারের পুরো টাকাটা আসে জনগনের রাজস্ব থেকে।

আচ্ছা ওয়েলফেয়ারে থাকা মানুষটা কি কোন ট্যাক্স দেয়?

না, তারা দেন না।

তাহলে অটোমেশনের কারণে সবাই চাকুরী হারালে তাদেরকে রাখতে হবে ওয়েলফেয়ারের ওপর। ওঁরা আবার ট্যাক্স দেবেন না। তাহলে চলবে কিভাবে দেশ?

ওটার উত্তরও আছে। সেটায় আসছি পরে। আমার কাজ হচ্ছে এই আংশিক অটোমেশনে সুবিধা নিয়ে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরী করা। আজও একটা ডিরেক্টিভ নিয়ে কাজ করলাম যা নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরী করবে। আর অটোমেশনের কারণে সেটা এখন ওয়েবসাইটে – মানে পৌছে গিয়েছে সবার কাছে – স্বচ্ছতার সাথে।

১৯২.

ফিরে আসি পুরো অটোমেশনের ব্যাপারে। এটা নির্ভর করছে আমাদের ইচ্ছার ওপর। আজ আমরা পুরো পৃথিবীর সব সম্পদকে যদি উৎসর্গ করি মানবজাতির উদ্দেশ্যে, আর ছুটি দিয়ে দেই সবাইকে চাকুরী থেকে? আর অটোমেশনকে যদি ব্যবহার করি আমাদের সব চাহিদা মেটানোর জন্য – উচ্চমানের খাদ্য, বাসস্থান, কাপড় আর যা লাগে? হাই স্ট্যান্ডার্ড লিভিং তৈরী করবো সবারই জন্য। সবই সম্ভব। এর জন্য লাগবে মোটে দশ বছর – সেটাও দরকার হচ্ছে প্ল্যানিং আর তার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানানোর জন্য। বানিয়ে বলছি? পড়েই দেখুন এই বইটা। ‘দ্য বেস্ট দ্যাট মানি ক্যান্ট বাই: বিয়ন্ড পলিটিক্স, পভার্টি এন্ড ওয়ার’ মিথ্যা বলেনি এতোটুকু। ফিরে যাই ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার এডুকেশন সার্ভিস রিপোর্টে। মাথা খারাপ করা রিপোর্ট। পৃথিবী আসলে পুরো মানবজাতিকে খাওয়ানোর মতো খাদ্য উৎপাদন করে অনেক আগে থেকে। তার তিরিশ বছর পর পৃথিবীর জনসংখ্যা সত্তুর শতাংশ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি মানুষ প্রতি সতেরো শতাংশের বেশি ক্যালোরি উৎপাদন করে আজ। না খেয়ে মরার কথা নয় মানুষের। সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী দিন প্রতি একেকজনের জন্য অন্তত প্রায় তিন হাজার কিলোক্যালোরির বেশি খাদ্য উৎপাদন হয় এই পৃথিবীতে। তাহলে সমস্যা কোথায়?

১৯৩.

ফিরে আসি আমার ডেস্কে। হাজারো স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটর বলছে এগোচ্ছি আমরা। এটা সত্য যে পিছিয়ে পড়ছি আবার কিছু বিষয়ে। কাজ বের করতে হবে আমাদের – সবার জন্য। ছোট রেড ডটের কথা মনে আছে? বিশ্বের অনেক ম্যাপে সিঙ্গাপুরকে দেখানো হয় ওই ছোট একটা রেড ডট দিয়ে। ওদের ইনফরমেশন আর কমিউনিকেশন রেগুলেটরের সাইট থেকে নেয়া নিচের ছবিটা। আমাদেরটাও তৈরী করতে বসে গিয়েছি আমি।

manpowerGrowth

নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরীর ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে লিটল রেড ডট

১৯৪.

সবার আগে মন পড়ে আছে কিভাবে ওই মেয়েটাকে [ওদের মতো সবাইকে] জন্মগত একটা নুন্যতম অধিকার দেয়া যায়। ফুল বিক্রি করতে হবে না ওকে। আমার মেয়ের মতো পড়বে ও, একটা নিশ্চিত ছাদের নিচে।

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: