Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বাজার’

Sometimes I feel my heart is breaking
But I stay strong and I hold on cause I know
I will see you again,
This is not where it ends
I will carry you with me … @Carrie Underwood

২২৮.

জর্জিয়া থেকে ফিরলাম নিউ ইয়র্কে। আমেরিকার ভেতরের টিকেটটা ওভাবেই করে দিয়েছিলো স্টেট ডিপার্টমেন্ট। গিয়ে উঠলাম লঙ আইল্যান্ডে, ক্যাডেট কলেজের বন্ধুর বাসায়।

দোস্ত, সাদার্ন অ্যাকসেন্ট তো ধরে ফেলেছে তোকে।

বলিস কি? টরকাতে চাইলাম। বুঝলি কিভাবে?

একটু আগে ফোনে কথা বলার সময় শুনলাম।

মনে পড়লো, কথা বলছিলাম টেনেসির এক বন্ধুর সাথে।

হতে পারে। কম থাকা হয়নি ওখানে। জর্জিয়া আর সাউথ ক্যারোলাইনার মানুষগুলো বেশ বন্ধুবত্‍সল। কথা বলতে পছন্দ করে আমাদের মতো। ইয়াংকিদের মতো নয়, অন্ততঃ। টান পড়াটা স্বাভাবিক।

২২৯.

ছোট বেলা থেকে বড় হয়েছি কান্ট্রি আর ক্রসওভার শুনেই। ওয়ার্ল্ড হারভেস্ট রেডিওর কল্যানে। সৃষ্টিকর্তা মনে হয় আমার কথা শুনলেন। আর সেকারণে ফেললেনও সাদার্ন অংশে। ওখানকার মিলিটারি বেজ থেকে যিনি আমাকে ওই ছোট্ট এয়ারপোর্ট থেকে নিতে এসেছিলেন – তাকে না চেনার উপায় নেই। ছোট এয়ারপোর্ট মানে সপ্তাহে নামে কয়েকটা সেশনা বা ড্যাশ প্লেন। আমার প্লেনে ছিলাম মোটে তিনজন। সাভান্নার ওপর দিয়ে উড়ে আসার সময় দেখলাম আসল সাভান্না। ছোটবেলায় পড়েছিলাম, সেটাই দেখতে দেখতে আসলাম। গাছ আর গাছ – বিশাল বন আর শেষ হয় না। বনেই ফেলবে নাকি শেষ পর্যন্ত? আতংকে রইলাম।

২৩০.

গাড়িতে আসতে আসতে কয়েকটা চমৎকার কান্ট্রি শুনে ফেললাম। স্টেশনটার নাম হচ্ছে ডাব্লিউ-বি-বি-কিউ। বোঝাই যাচ্ছে স্টেশনের কল সাইন ওটা। দিন গড়াতে শুরু করলো। কান্ট্রির দেশে এসে মেমফিস আর ন্যাশভিলে না ঘুরলে কেমন হয়? কনসার্ট দেখেও ফেললাম অনেকগুলো। আমার জনরা* হচ্ছে কান্ট্রি ওয়েস্টার্ন। তবে সেটা পাল্টে যাচ্ছে ক্রসওভারে। ক্রসওভার হচ্ছে কান্ট্রির সাথে অন্য কোনো জনরার মিশ্রন। সেটা পপ বা রক হলে অসুবিধা কি? উদাহরন দিলে পরিস্কার হবে সবার। ডলি পার্টন আর কেনি রজার্স নিজেদেরকে ওই ‘মেলো’ কান্ট্রির মধ্যে আটকে রাখেননি। ঈগলস, উইলি নেলসন, অ্যান ম্যারি, ক্রিস্টাল গেইল সবাই কান্ট্রির সাথে মিলিয়েছেন পপকে। খ্যাতি পেয়েছেন আমেরিকার বাইরে।

২৩১.

এ জমানার আপনার পরিচিত কান্ট্রি গায়ক/গায়িকার প্রায় সবাই পড়েছেন এই ক্রসওভারে। গার্থ ব্রুক, শানিয়া টোয়াইন, ফেইথহিল, ডিক্সি চিক্স, লিয়ান রাইমস – আর কার নাম বলবো? লি অ্যান ওম্যাক? আমেরিকান আইডল থেকে উত্থান পাওয়া সব গায়ক পরে কান্ট্রি অথবা ক্রসওভারে গিয়েছেন। গলার কারুকাজ দেখাতে হলে ব্লুজ আর কান্ট্রির বিকল্প নেই। এখন আসি ‘ক্যারি আন্ডারউড’কে নিয়ে। ‘ক্যারি’ নামটার উপর দুর্বলতা আমার ওই ইউরোপের গানটার পর থেকে। ঝামেলাটা আরো বাড়লো স্টিফেন কিংয়ের সাথে। তার বইয়ের নামও ওই ক্যারি দিয়ে। মুভিও হচ্ছে নাকি বইটাকে ঘিরে। অজ পাড়াগাঁ থেকে উঠে এসেছেন এই ক্যারি আমেরিকান আইডল হয়ে। বাবা কাজ করতেন স-মিলে। মা পড়াতেন একটা এলিমেন্টারি স্কুলে। সব ধরনের ‘ওড’ জব করে এসেছেন এই ক্যারি। ছোটবেলা থেকে গান করে এলেও জীবনযুদ্ধে না পেরে ওটা ছেড়ে দিয়েছিলেন মেয়েটা। তারপরের ঘটনা সবার জানা।

২৩২.

ক্যারির অনেকগুলো অ্যালবামই আমার কেনা। ইউএস মিলিটারি বেজে থাকার ফলে সাধারণ মার্কিনীদের মনোভাব জানতে পেরেছি কিছুটা। সেনাবাহিনীর ব্যাপারটা তারা নিয়ে আসে অনেক জায়গায় – তাদের ঐকতা অর্থাৎ ‘ইউনিটি’ বোঝানোর জন্য। সেনাবাহিনী মানে লাস্ট রিসোর্ট, যারা তাদেরকে সাহায্য করবে – সকল দুর্যোগে, রাজনীতি ছাড়া অন্য সব বড় বড় সমস্যায়। হাজার হাজার মুভি হয়েছে এই সেনাবাহিনীর উপর ভরসার গল্প দিয়ে। কান্ট্রি আর্টিস্টদের মধ্যে প্রচুর মিউজিক ভিডিও তৈরী করার প্রবণতা রয়েছে এই সেনাবাহিনী নিয়ে। মোস্টলি, দেশ যখন দুর্যোগে পড়ে। আর সেকারণে আজকের এই লেখা।

২৩৩.

ক্যারি আন্ডারউডের নতুন অ্যালবামের ‘সি ইউ এগেইন’ গানটা মৃত্যুর মতো শক্তিশালী একটা থিমের উপর তৈরী করা। মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে তার ভালবাসার মানুষগুলোর সাথে আবার দেখা হবার কথা এসেছে এই গানটাতে। ‘মৃত্যুই শেষ নয়’, ক্যারির কথা গানটা নিয়ে – ‘আমি স্বর্গে বিশ্বাস করি মনে প্রাণে। সৃষ্টিকর্তা রয়েছেন আর তার কাছে যেতেই হবে একদিন। পৃথিবীতে আমাদের প্রিয়জনদের হারানোটা খুবই কষ্টের। তবে, আমরা শুধু বিশ্বাসই করি না – জানি যে তাদের সাথে দেখা হবে আবার। এর থেকে খুশির আর আনন্দময় কি হতে পারে বলুনতো? বিস্ময়কর বটে। এব্যাপারটা নিয়েই গানটা।’

২৩৪.

মিউজিক ভিডিওটা আরেক কাঠি ওপরে। যুদ্ধফেরৎ ছেলে, বাবা আর পরিবারের সাথে ‘রি-ইউনাইটেড’ হবার সত্যিকারের ফুটেজ নিয়ে তৈরী করা এই ভিডিওটা আমার বাধ্য করেছে হাজারবার দেখতে। ওকলাহোমার ট্রাজেডি আর টর্নেডো পরমুহুর্তের অংশগুলো স্পর্শ করবে আপনাকে। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সমাধিপ্রস্তর, শেষকৃত্যের প্রোগ্রাম বা আলিঙ্গনের মধ্যে অনেক গল্পই এসেছে এই ভিডিওটাতে। মৃত্যু, বার্ধক্য, জীবন আর ভালবাসা সংক্রান্ত ফুটেজগুলো চলছে কনস্ট্যান্ট লুপে – আমার পিসিতে। ভিডিওটা হাই ডেফিনেশন হওয়াতে এটা ডাউনলোড করে নিতে পারেন বার বার দেখার জন্য। ক্যারির শক্তিশালী কন্ঠ আর ব্যাকআপ সিঙ্গারদের হামিং মুগ্ধ করবে আপনাকেও।

০০:৩৫

মন ভেঙ্গে গিয়েছে এই ছোট্ট মেয়েটার কথা চিন্তা করে। যুদ্ধফেরৎ বাবার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানটার কথা মনে রাখবে এই ছোট্ট মেয়েটা। সারাজীবন। খুবই কষ্টকর – তবে দেখা হবে আবার।

০১:০২

যুদ্ধফেরৎ ন্যাভাল সৈনিক আর তার প্রেমিকার মিলনের দৃশ্য। সাধারণ বটে, তবে মেয়েটার লজ্জা ছেড়ে দৌড়ানোর দৃশ্যটা কম মোহনীয় নয়। ভালবাসা বলে কথা। তবে এক সৈনিক আরেকজনের ব্যথা বুঝবে বলে ওই ধারণা থেকেই লিখছি। ভুলো মন আমার, লক্ষ্য করেছেন মেয়েটার পোশাকটা? জ্যাকেটের নিচে? বিয়ের পোশাকেই এসেছে কিন্তু মেয়েটা!

০১:১৬

নানার অবাক হবার দৃশ্য। নাতির কোনো জড়তা কাজ করছেনা এখানে। নানার মাথায় ঢুকে দেখেছেন কখনো?

০১:৪৬

ক্যারির ‘আই ক্যান হিয়ার দোজ একোজ ইন দ্য উইন্ড অ্যাট নাইট’ অংশটা শুনুন ভালোভাবে। ‘অ্যাট নাইট’ অংশটার টানটা খেয়াল করেছেন তো? স্বর্গীয়!
০২:১১

বাচ্চাটার চোখ দেখেছেন, পুরো ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন? অসম্ভব পজিটিভ একটা স্ন্যাপশট। বাচ্চাটা নিশ্চয়ই তার খুব প্রিয় কাউকে দেখছে ওই মুহুর্তে।

০২:১৬

আমার ধারণা, যুদ্ধফেরৎ ছেলে হটাৎ করেই চলে এসেছে দেশে। মাকে সারপ্রাইজ দেবার জন্য লুকিয়ে বারে গিয়ে পানীয় দিতে গিয়ে এই অবস্থা। দেখেছেন মায়ের অবাক হবার ধরনটা? মা বলে কথা। ছেলের কথা চিন্তা করতে করতে মার অবস্থা শেষ! বলে গেলে কি হতো?

০২:২৬-০৩:৩১

যুদ্ধফেরৎ স্বামীর সাথে স্ত্রীর যোগ হবার দৃশ্য। কোলে ছোট বাচ্চাটা। চুমুর দৃশ্য হলেও স্ত্রী কাঁদছেন অঝোরে। খুশির কান্না তো বটে। স্বামী ছাড়া বছরগুলো কিভাবে কেটেছে সেটা জানার জন্য তার মনের ভেতরে ঢোকার প্রয়োজন নেই। আমার স্ত্রীও পায়নি আমাকে বিয়ের প্রথম পাঁচ বছর। বাচ্চা দুটো হবার সময়েও পাশে থাকতে পারিনি ওর। সুখদুঃখ স্থান কাল পাত্র ভেদে এক বলে আমার ধারণা। ইউএস মিলিটারি বেজে যুদ্ধে যাওয়া সৈন্যদের স্ত্রীদের দেখেছি – অবর্ণনীয় কষ্ট।

০২:৫৪ – ০৩:০১

তিন মাসের মেয়েটাকে ফেলে পাড়ি দিয়েছিলাম আটলান্টিক। নেমেই থাঙ্কসগিভিংয়ের ছুটি। পুরো বেজই ফাঁকা। পাগল হয়ে গেলাম। পাগল হয়ে গেলাম মেয়েটার জন্য। কাঁদলাম দুদিন ধরে। ফিরতে চাইলাম দেশে। সে অনেক কথা। ফুটেজটা আপনার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করাতে বাধ্য। এমনিতেই চুইছিলো হৃদয়টা। যুদ্ধফেরৎ বাবার জন্য তিন চার বছরের মেয়েকে এগিয়ে দিলো মা আর আর তার আত্মীয়রা। মেয়ে কিছুটা আড়স্ট হয়ে রইলো প্রথম কয়েক সেকেন্ড। দেখা গেলো বাবাকে – বেশ দুরে। মেয়ের জড়তা রইলো না আর। শুরু হলো হান্ড্রেড মিটার স্প্রিন্ট।

০৩:০২

দৌড় আর দৌড়। কিন্তু, একি? শেষ হচ্ছে না কেন দৌড় –  মেয়েটার? আমার হৃত্‍স্পন্দন বাড়তেই থাকলো। নিশ্বাস বন্ধ করে বসে রইলাম আমি। আহ! শেষ হলো দৌড়ের গল্প। বাবা ধরে ফেললো বড় ভালুকের মতো – পরম মমতায়। অতটুকু মেয়ের খুশি দেখে কে? বিশ্বজয় করে ফেলেছে মেয়েটা! বাবার আকুলিবিকুলি হৃদয় ঠান্ডা হলো বলে। এই মুহূর্তগুলোরই জন্য বেঁচে থাকি – প্রতিনিয়ত!

আরেকটা জিনিস, ক্যারির ওয়ার্ডড্রোবটা মানিয়েছে চমৎকারভাবে। ভুল বলেছি?

* genre = বিশেষত শিল্পসাহিত্যের প্রকরণগত রীতি , ধরণ , শৈলী , গোত্র , ঘরানা

Advertisements

Read Full Post »

You can have everything in life you want, if you will just help other people get what they want.

Zig Ziglar

Life is a gift, and it offers us the privilege, opportunity, and responsibility to give something back by becoming more.

Anthony Robbins

১৯৫.

ব্যাংককের হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিটা না দেখলে বিশ্বাস করতাম না মিসিং লিংকটা। পরিচিতদের সামান্য ফোঁড়া উঠলেই ব্যাংককে দৌড়ানোর কারণটা ঠাহর করতে পারলাম কিছুটা। বিদেশে ডাক্তার দেখাইনি কখনো – মনে হয়েছিলো দেশের উপর বিশ্বাস না করলে দেশে থাকছিই বা কেন? আর নিজের জিনিস ব্যবহার না করলে সেটা ওয়ার্ল্ড ক্লাস হবে কবে? আমাদের হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিতে সমস্যা অনেক থাকলেও সেটা তো বাইরে থেকে কেউ এসে ঠিক করে দিয়ে যাবে না। সেটা করতে হবে আমাদেরকেই। আমাদেরকে ইন্ডাস্ট্রিকে এমনভাবে ‘ওন’ করতে হবে যে এটা ছাড়া গতি নেই আমাদের। তাহলেই এটা দাড়াবে ওয়ার্ল্ড ক্লাসে!

১৯৬.

ছোটবেলার লার্নিং হচ্ছে – নিজের সমস্যার কথা বলতে হয় না বেশি। বললেই, সেটা নিয়ে হয় মজা করবে মানুষ অথবা কিছুক্ষণ সমবেদনা জানিয়ে চলে যাবে। এই তো? তার থেকে না বলাটাই ভালো বরং। এরপরও মানুষ জেনে গেল চোখের সমস্যাটার কথা। তবে তেরো বছর অনেক লম্বা সময়। চোখের ম্যাকুলা অংশে দুটো ছিদ্র ধরা পড়েছিলো সেই দুহাজার সালে। ঝাপসা দেখা শুরু করলাম। রোগটা আমাদের দেশে সচরাচর দেখা যায় না বলে ডাক্তাররা তাদের ইন্টার্নদের ডেকে দেখাতে থাকলেন বার বার। অসম্ভব উজ্জ্বল আলোর নিচে আমার চোখগুলো ক্লান্ত হয়ে যেতে লাগলো পুরো মাস ধরে। তখনি দেখা হলো উনার সাথে।

১৯৭.

খুব ভালো একজন চোখের ডাক্তার – তবে থাকেন ভয়ঙ্কর ব্যস্ত। আমার ধারনায় ব্যস্ত মানুষগুলোই সব কাজ তাড়াতাড়ি বের করে দেন। লাইন দিলাম উনার পেছনে। বুঝলাম উনার চিকিত্‍সায় মনোবিজ্ঞানকে ব্যবহার করেন চমত্‍কার ভাবে। মাসখানিক অবজারভেশনে রাখলেন উনি। উন্নতি না হবার কারণে আর্গন লেজার ব্যবহার করতে হলো তাকে। লেজার দিয়ে ছিদ্রগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করলেন উনি। সেন্ট্রাল ভিশনটা একেবারে কাছে হওয়াতে পুরোপুরি লেজার ব্যবহার করা গেলো না। সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে উনার ধারণার উপর যতোটুকু করা সম্ভব সেটাই করলেন উনি। এর পরের ইতিহাস লম্বা হলেও পাল্টে গেলাম আমি। জীবনের প্রতি স্ট্রাটেজিটা রি-পজিশন করে নিলাম। চোখে আরো কয়েকটা অ্যাটাক হয়ে গেল পরের কয়েক বছরে। মন ভেঙ্গে পড়লেও তা চালান করে দিলাম অন্যদিকে। পড়ালেখা শুরু করলাম ওর মধ্যেই। কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স করে ফেললাম পরের তিন বছরে। ভর্তি হলাম এমবিএতে।

১৯৮.

বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ তৈরী করলেন। নিজেরই নাই ঠিক বিয়ে করবো কিভাবে? সেভাবেই কাটলো আরো কয়েক বছর। চাপে পড়ে সিদ্ধান্ত নিলাম – সমস্যাটা বলে নিতে হবে আগে। গাট বাঁধার আগেই। হটাত্‍ করে চাকরি না থাকলে তো দুজনেই সাগরে। আমার প্রফেশন প্রচন্ডভাবে চোখের উপর নির্ভরশীল বটে। প্রশিক্ষণের সময় শার্পশুটার হিসেবে নাম করেছিলাম এই চোখের কারণেই। যিনি বিয়ে করবেন তিনি জেনেই আসবেন। ডাক্তারের সাথে কথা বলতে চাইলেন স্বাতীর বাবা মা। ডাক্তার আমার দিক টানলেন কিনা জানিনা – তবে এগিয়ে এলো স্বাতী। ডাক্তারকে পরে জিজ্ঞাসা করেছিলাম – পার্শিয়ালটি হয়েছে কি না, উনার সরাসরি উত্তর – আমার কাজ আমি করেছি। অতপর: মুখ কুলুপ। আজও জানি না, কি কথা হয়েছিলো তাদের মধ্যে।

১৯৯.

নিজের অবস্থা ইভাল্যুয়েট করে নিলাম ভালোভাবে। কোথায় আছি আর কোথায় যাবো তার একটা প্যাটার্ন এনালাইসিস বের করে ফেললাম এর মধ্যে। নিজের দুর্বলতা জেনে নেয়া ভালো। আমার দুর্বলতা জানি বলেই সেটাকে মিটিগেট করতে হবে আমাকেই। দুর্বলতা জানলে সেটাকে ‘স্ট্রেন্থ’ হিসেবে ব্যবহার করাটা নিজের ওপর। প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলাম নিজের কাছে – যা করবো বা যেখানে কাজ করবো – সর্বোচ্চ আউটকাম নিয়ে আসবো সেখানে। সময় আসছে কমে। দেশ তো কম দেয়নি আমাকে। ক্যাডেট কলেজে পড়িয়েছে আমাকে। গরীব দেশের কোটি টাকা ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে আমার ওপর – বিভিন্ন প্রশিক্ষণে। টাইম টু গিভ ব্যাক। যা নিয়েছি ফেরৎ দিতে হবে না?

২০০.

ফিরে আসি আগের গল্পে। ব্যাঙ্ককে গিয়েছিলাম ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)এর এক প্রোগ্রামে। সবার চাপাচাপিতে ছুটি নিলাম দুদিন। সেকেন্ড একটা ওপিনিয়ন নেবার জন্য। চোখের। আমার ধারনায় পুরো হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রিটা দাঁড়িয়ে আছে একটা কীওয়ার্ডের ওপর। শৃঙ্খলা। এর পরে আসছে স্ট্রিক্ট কোয়ালিটি কন্ট্রোল। হাজারো রোগীর চাপে দিশেহারা হয়নি তারা। আইটিইউ’এর প্রোগ্রামে চল্লিশ হাজার অতিথির অনেকেই চেক-আপে এসেছিলেন প্রোগ্রাম শেষের ঠিক পরের দিন। ধারণা করছি – তৈরী ছিলো ব্যাঙ্ককের পুরো হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রি। এনালাইটিক্সয়ের খেলা। পয়সা আয় করতে জ্ঞানের সর্বোত্তম ব্যবহার। ব্যাংককের আসার আগেই ওরা জানে মানুষ কি কি সার্চ করছে – ওদেরকে নিয়ে। সবাই জানে। আমিও জানি।

২০১.

আমি অন্য হাসপাতালের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে গেলেও সকালে হেঁটেই চলে গেলাম নতুন একটা হাসপাতালে। সেদিনই প্রথম। কিছুটা ভয়ে ভয়ে। এপয়েন্টমেন্ট নেইনি তো আগে থেকে। কোথায় কি? হয়ে গেলাম ভিআইপি! একদিনের বাদশা! সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি বলে কথা। প্রসেসে ফেলে দিলো আমাকে – সন্তর্পনে। মানুষ ডিপেন্ডেন্ট নয়, পুরোপুরি প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট। টাকা পয়সা কম নিয়ে গিয়েছিলাম বলে অনেকগুলো টেস্ট করতে চাইছিলাম না। ডাক্তার এমনই মগজধোলাই দিলো যে ছুটতে ছুটতে বাকি টাকা নিয়ে এলাম হোটেল থেকে – এই আমিই। তার কথা একটাই, তুমি তো এখানে এসেছো সেকেন্ড ওপিনিয়নের জন্য। বাকি টেস্টগুলো না করালে দেশে গেলে মন খোঁচাতে থাকবে। আমি তোমাকে একটা ‘এন্ড টু এন্ড’ চেক করতে চাচ্ছি। ফেল কড়ি মাখো তেল। সার্ভিসের বাহার দেখে পয়সার কথা মনে থাকবে না আর। সস্তা করে ফেলেছে অনেক জিনিস, ভলিউমে খেলছে তারা। কীওয়ার্ড ‘ইকোনমি অফ স্কেল’, পড়েছি হাজার জায়গায়। নিজের চোখে দেখতে হলো ওখানে।

২০২.

অবাক কান্ড, পরীক্ষা শেষে ডাক্তার [মহিলা] হেঁটে এসে ল্যাবে বসলো আমার পাশে – নিজে থেকে। তার চেম্বার ছেড়ে। রিপোর্টটা লাইন ধরে ধরে বোঝাতে শুরু করলো – খাঁটি মার্কিন অ্যাকসেন্টে। কথার ফাঁকে ও কোথায় বড় হয়েছে সেটা জানতে চাইলে – আমেরিকাতে শুধুমাত্র মেডিকেলেই পড়ার কথা জানালো সে। সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রির জন্য পার্সোনালাইজেশনটা যে কি জিনিস সেটা বোঝা গেলো ওখানে বসে। বন্ধুর মতো পুরো জিনিষটার রানডাউন দিলো ডাক্তার। তেরো বত্‍সর আগে কিছুটা শক্তিশালী লেজার ব্যবহার করার কারণে ম্যাকুলার পেছনে ক্ষতিগ্রস্ত সুক্ষ রক্তনালীগুলো কি সমস্যা করতে পারে সেটা হালকাভাবে বললেও ওটাকে মিটিগেট করার ভবিষ্য করনীয় বুঝিয়ে দিলো বন্ধুর মতো। কিছু জিনিস এখনো হাতের নাগালে আসেনি মানুষের। সেটা মেনে নিয়েছি অনেক আগে। আর্গন লেজার ব্যবহার করলে সমস্যা হতেই পারে এধরনের – নতুন কিছু নয় এটা। আশা করছে – ‘ওর্স্ট কেস সিনারিওতে’ সেন্ট্রাল ভিশনে সমস্যা হলে পার্শ্ব ভিশন থাকবে ভালো। হাঁটা চলাতে সমস্যা থাকার কথা নয়।

ইউ ওন্ট গো কমপ্লিট ব্লাইন্ড, চোখে চোখ রাখলো ডাক্তার।

আশাই বাঁচিয়ে রাখবে আমাদেরকে। সৃষ্টিকর্তা বড় মহান।

Read Full Post »

The reasonable man adapts himself to the world; the unreasonable one persists in trying to adapt the world to himself. Therefore all progress depends on the unreasonable man.

George Bernard Shaw

১৮৭.

সময়টা [ছিলো] বর্ষাকাল। সন্ধার ট্রাফিক লাইট পোস্টে এসে দাড়ালো গাড়িটা। আমার মানে অফিসের দেয়া গাড়ি। মেয়ে একটা এসে দাড়ালো গাড়িটার পাশে। আমার আর তার মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে গাড়ির কাঁচের জানালাটা। গাড়ির এসিটা ভালোভাবে না কাজ করলেও জানালার কাঁচ তুলে পানির ঝাপটা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলাম। বর্ষার সঙ্গে বেশ ঠান্ডা বাইরে। মেয়েটার বয়স আমার মেয়ের সমান হবে হয়তোবা। অপুষ্টির কারণে বয়স বোঝা দুস্কর হলেও নিজের মেয়েটার কথা মনে হলো ওমুহুর্তে। ভিক্ষে চাইছে না মেয়েটা। ফুল বিক্রির পাশাপাশি সাহায্য চাইলো অস্ফুট স্বরে। তুমুল বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। সাথের প্লাস্টিকটা মাথায় না দিয়ে ফুলগুলোকে ঢেকে রেখেছে বরং। মনে হচ্ছে ফুলগুলোর কাছে ওর শরীরটা কিছুই নয়। ভার্বাল কমিউনিকেশনের পাশাপাশি অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলার চেষ্টার অংশ হিসেবে নাক লাগিয়ে দিলো জানালার কাঁচে। প্রচুর ঠান্ডার কারণে ওর নাকের নিশ্বাস কাঁচকে ঘোলা করে দিচ্ছিলো বারবার। সহ্য করতে পারলাম না আর। মনুষ্যত্ব ছাপিয়ে উঠলো – দুপাশেই মানুষ। বৃষ্টি আর প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে একজন অন্যজনকে দাড়িয়ে করে রেখেছে। জন্ম পক্ষপাতদুষ্ট বলে ও আজ জানালার ওপাশে। কাঁচ নামিয়ে দিলাম, সমতা আনার ব্যর্থ চেষ্টা। বৃষ্টি আর ঠান্ডা থেকে তাকে বাঁচাবার কথা মনে হলো – গাড়িতে নিয়ে বাসায় পৌছে দিলে কেমন হয়? মেয়ে বাচ্চা বলে সামলে নিলাম নিজেকে। রাস্তার বাকি বাচ্চাদের কি হবে তাহলে? কিনে নিলাম সবগুলো ফুল বরং। আশা করছি বৃষ্টিতে বেশিক্ষণ না ভিজে ও চলে যাবে বাসায়।

১৮৮.

যাদের ভাগ্য আপনার আমার মতো অতটা সুপ্রসন্ন নয় তাদের জন্য কাজ করবে কে? যাদের নুন্যতম অধিকার নিশ্চিত করতে পারছিনা আমরা – তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করছে কেউ? উন্নত দেশগুলোতে ‘ওয়েলফেয়ার ফান্ড’এর ধারণা মানুষকে একটা নুন্যতম ‘ফীড’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে – সেটার ধারণা আসবে কবে? ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ব্যাপারটা আসবে এর ঠিক পরে। আমার ধারণা, আমরা যারা পারছি তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে সেটা। সরকারকে একটা ভালো মডেল দেখাতে হবে আমাদেরকেই।

১৮৯.

অফিসে আমার কাজের একটা বড় অংশ হচ্ছে – নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরী করা। কার্যক্ষেত্রের সাথে উদ্যোক্তা তৈরীর সম্পর্কটা আরো গভীরে। সারাদিন ধান্দা করি নতুন কার্যক্ষেত্রের খোঁজে। খুঁজে ফিরি উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের। নতুন লাইসেন্স, মানে নতুন কিছু এমপ্লয়মেন্ট। এখন বিশ্ব আবার সরে আসছে সনাতন ‘লাইসেন্সিং রেজীম’ থেকে। সেটা নিয়ে আসবো আরেকদিন। একেকটা গাইডলাইন আনছি কার্যক্ষেত্র তৈরীর ধারনায় – আবার নিজেই আমি অটোমেশনমুখী। অটোমেশনই নিয়ে আসবে স্বচ্ছতা। কাজগুলো মানুষ নির্ভর না হয়ে প্রসেস নির্ভর হলে সেদেশকে ফিরে তাকাতে হবে না আর। সেকারণে আমি ‘অ্যাকসেন্চারের’ মতো ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং কোম্পানিগুলোর ভক্ত। আজ একটা অর্গানাইজেশনের প্রসেস ডেভেলপমেন্ট করে দিন, ছোট সিদ্ধান্তগুলো মানুষের উপর ছেড়ে দিলে ঝামেলা হতে বাধ্য। সবকিছুর একটা ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর’ তৈরী করে নিতে বলুন সবাইকে। সেটাই কমিয়ে নিয়ে আসবে ন্যায়বর্জিত কাজ। আমার ধারনায় জ্ঞান স্বল্পতায় মানুষই ক্ষতি করতে পারে আরেক মানুষের, প্রসেস নয়।

১৯০.

আবার মানবসম্পদকে যথাযথ ব্যবহার না করলে সেটা অভিশাপে পরিনত হতে দেরী হবে না। নতুন কর্মক্ষেত্র মানে নতুন চাঞ্চল্য। সেটার ফাঁকে খুঁজতে হবে নতুন বাজার – দেশের বাইরে। আর নয় পড়ে থাকা – অন্যের বাজার হয়ে। সত্যি যেটা, অটোমেশন নষ্ট করবে আমাদের অনেকের চাকুরী। তাদের জন্য আমাদের খুঁজতে হবে নতুন পথ। ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ধারনাটা আসবে সামনে। যারা কোনো কাজ পাবেন না, তাদেরকে তো আর ফেলে দেয়া যাবে না। কিছু মানুষ কোন কাজই পাবেন না, তাই বলে কি ওদের অধিকার নেই কি বাঁচার?

১৯১.

যন্ত্র কৃষিনির্ভর আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ‘হেভি’ কাজগুলোকে কেড়ে নিয়েছে মানুষের কাছ থেকে। সত্যিই তো, আর কতো কষ্ট করবে মানুষ? ফলে সার্ভিস সেক্টরে এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। সেখানেও ধারণা করছি সত্তুর শতাংশ মানুষ কাজ হারাবে অটোমেশনের কাছে। ফলে কমবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। সেটা কমলে কমবে অটোমেশনের অগ্রগতি। এটা একটা সাইকেল বটে।

একটা উদাহরণ নিয়ে আসি বরং।

অটোমেশনের ফলে মানুষের কি হয় বলুনতো?

সত্যিকার অর্থে চাকুরী হারায় তারা। উন্নত দেশগুলো তাদের আবার একটা ওয়েলফেয়ার ফান্ডের উপর বাঁচিয়ে রাখে। সেই ‘ফীড’টা চলতে থাকে ততদিন পর্যন্ত যতদিন সে না আরেকটা চাকরি পাচ্ছে। চাকরি খুঁজেও বের করে সেই দেশগুলো।

আচ্ছা, ওয়েলফেয়ার ফান্ডটা আসে কোথা থেকে?

ওয়েলফেয়ারের পুরো টাকাটা আসে জনগনের রাজস্ব থেকে।

আচ্ছা ওয়েলফেয়ারে থাকা মানুষটা কি কোন ট্যাক্স দেয়?

না, তারা দেন না।

তাহলে অটোমেশনের কারণে সবাই চাকুরী হারালে তাদেরকে রাখতে হবে ওয়েলফেয়ারের ওপর। ওঁরা আবার ট্যাক্স দেবেন না। তাহলে চলবে কিভাবে দেশ?

ওটার উত্তরও আছে। সেটায় আসছি পরে। আমার কাজ হচ্ছে এই আংশিক অটোমেশনে সুবিধা নিয়ে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরী করা। আজও একটা ডিরেক্টিভ নিয়ে কাজ করলাম যা নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরী করবে। আর অটোমেশনের কারণে সেটা এখন ওয়েবসাইটে – মানে পৌছে গিয়েছে সবার কাছে – স্বচ্ছতার সাথে।

১৯২.

ফিরে আসি পুরো অটোমেশনের ব্যাপারে। এটা নির্ভর করছে আমাদের ইচ্ছার ওপর। আজ আমরা পুরো পৃথিবীর সব সম্পদকে যদি উৎসর্গ করি মানবজাতির উদ্দেশ্যে, আর ছুটি দিয়ে দেই সবাইকে চাকুরী থেকে? আর অটোমেশনকে যদি ব্যবহার করি আমাদের সব চাহিদা মেটানোর জন্য – উচ্চমানের খাদ্য, বাসস্থান, কাপড় আর যা লাগে? হাই স্ট্যান্ডার্ড লিভিং তৈরী করবো সবারই জন্য। সবই সম্ভব। এর জন্য লাগবে মোটে দশ বছর – সেটাও দরকার হচ্ছে প্ল্যানিং আর তার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানানোর জন্য। বানিয়ে বলছি? পড়েই দেখুন এই বইটা। ‘দ্য বেস্ট দ্যাট মানি ক্যান্ট বাই: বিয়ন্ড পলিটিক্স, পভার্টি এন্ড ওয়ার’ মিথ্যা বলেনি এতোটুকু। ফিরে যাই ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার এডুকেশন সার্ভিস রিপোর্টে। মাথা খারাপ করা রিপোর্ট। পৃথিবী আসলে পুরো মানবজাতিকে খাওয়ানোর মতো খাদ্য উৎপাদন করে অনেক আগে থেকে। তার তিরিশ বছর পর পৃথিবীর জনসংখ্যা সত্তুর শতাংশ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি মানুষ প্রতি সতেরো শতাংশের বেশি ক্যালোরি উৎপাদন করে আজ। না খেয়ে মরার কথা নয় মানুষের। সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী দিন প্রতি একেকজনের জন্য অন্তত প্রায় তিন হাজার কিলোক্যালোরির বেশি খাদ্য উৎপাদন হয় এই পৃথিবীতে। তাহলে সমস্যা কোথায়?

১৯৩.

ফিরে আসি আমার ডেস্কে। হাজারো স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটর বলছে এগোচ্ছি আমরা। এটা সত্য যে পিছিয়ে পড়ছি আবার কিছু বিষয়ে। কাজ বের করতে হবে আমাদের – সবার জন্য। ছোট রেড ডটের কথা মনে আছে? বিশ্বের অনেক ম্যাপে সিঙ্গাপুরকে দেখানো হয় ওই ছোট একটা রেড ডট দিয়ে। ওদের ইনফরমেশন আর কমিউনিকেশন রেগুলেটরের সাইট থেকে নেয়া নিচের ছবিটা। আমাদেরটাও তৈরী করতে বসে গিয়েছি আমি।

manpowerGrowth

নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরীর ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে লিটল রেড ডট

১৯৪.

সবার আগে মন পড়ে আছে কিভাবে ওই মেয়েটাকে [ওদের মতো সবাইকে] জন্মগত একটা নুন্যতম অধিকার দেয়া যায়। ফুল বিক্রি করতে হবে না ওকে। আমার মেয়ের মতো পড়বে ও, একটা নিশ্চিত ছাদের নিচে।

Read Full Post »

2. It’s best to do one thing really, really well.

6. You can make money without doing evil.

– Google’s “Ten things”

১৮০.

গিয়েছিলাম সেদিন নামকরা এক ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে। মোবাইল অ্যাপসের এক প্রতিযোগিতায়। চৌত্রিশ জন জুরীর একজন। শুক্রবারের ভোরের ঘুম ফেলে ছুটলাম ভবিষ্যত প্রজম্মের গল্প শুনতে। বাদ সকালের নাস্তা, ঠিক করলাম অ্যাপস দিয়ে নাস্তাটা সারবো’খন। গিয়ে দেখি হুলুস্থুল অবস্থা। পরিচিত সব ডক্টরদের (পিএইচডি ধারী) মধ্যে নন একাডেমিয়া এই চেহারা দিয়ে পার পেলাম। ভালো চেহারা নয়, আমার অভিজ্ঞতায় গোবেচারা চেহারা পার পায় সব জায়গায়। পরিচিত হলে আরো সুবিধা।

১৮১.

জুরিবোর্ডের চমৎকার ব্রিফিং শেষে চলে এলাম নিজ নিজ ক্যাটাগরির ক্লাসরুমে। মনটাই ভালো হয়ে গেলো বুদ্ধিদীপ্ত চেহারাগুলো দেখে। উসখুস করছে নতুন কিছু করার জন্য। সুযোগ পেলেই দেখিয়ে দেবে বিশ্বকে। একেকটা প্রেজেন্টেশন একেক আঙ্গিকের। মন ভালো করে দেবার ওই আইডিয়াগুলো পাল্টে দিচ্ছিলো দেহের অঙ্গভঙ্গি। প্রত্যয়ী ডেলিভারি। এক কথায় চমৎকার। শেষ হলো টীমগুলোর ডেলিভারি, দশ মিনিট করে পেলো প্রতিটা টীম। এরপর পাঁচ মিনিটের প্রশ্নোত্তর পর্ব। জুরিবোর্ডের দুজন ছিলাম আমাদের এই ক্যাটাগরিতে। প্রোগ্রামটা শেষে আমাদের দুজনকে বলতে বলা হয়েছিল কিছু একটা। ইম্প্রমচু স্পীচ বলে কথা। কি বলেছিলাম দুজন মিলে? ইংরেজিটাকে ত্রান্সক্রাইব করলাম এখানে। লিখতে গিয়ে কিছুটা সাঁজিয়েও নিলাম মনের মতো করে। রি-রাইটিং যাকে বলে আর কি!

ক. অসম্ভব ভালো লাগছে তোমাদের সাথে থাকতে পেরে। ধন্যবাদ সবাইকে – চমৎকার একটা অভিজ্ঞতা দেবার জন্য। কে পুরস্কার পাবে আর কে পাবে না সেটা থেকে বড় কথা হচ্ছে তোমরা চিন্তা করেছ সবাই। এই চিন্তা করার ইচ্ছাটাই তোমাদেরকে নিয়ে যাবে অনেকদুর। ডাকা হয়েছিলো সবাইকে। এসেছো তারাই যারা চিন্তা করছো – দিতে চাচ্ছো কিছু। পাল্টাতে চাও দেশকে। কথায় আছে না, ‘শোয়িং আপ ইজ হাফ দ্য ব্যাটেল’ অথবা ‘এইটি পার্সেন্ট অফ সাকসেস ইজ শোয়িং আপ’? শুক্রবারের ঘুম নষ্ট করে এসেছো মানে ঠেকাতে পারবে না কেউই তোমাদের। একটা মোটিভেশনাল স্পীচ শুনতে গিয়েছিলাম অনেক বছর আগে। জীবনকে পাল্টানো উপর ছিলো স্পীচটা। সময়টা ছিলো ছুটির দিন – সকাল নটায়। স্পিকারের গুষ্টি উদ্ধার করে ছুটলাম ওই কনভেনশন সেন্টারে। বক্তৃতার শুরুতেই শুক্রবারের সকাল নয়টার শানে নুযুল দিলেন বিশ্বখ্যাত সেই বক্তা। মার্কিন যুক্তরাস্ট্রে এই বক্তৃতাই দশ হাজার ডলার খরচ করে শোনে মানুষ। সেখানে বাংলাদেশে ফ্রী করে দিয়েছিলেন। শুধুমাত্র দেখার জন্য – কারা পাল্টাতে চান। এর অর্থ হচ্ছে যারা এসেছেন তারা আসলেই পাল্টাতে চান। আর যারা আসেননি, তারা কখনো পাল্টাতে চান নি, আর পাল্টাবেনও না। তোমাদের জন্য সেটাই প্রযোজ্য। আসতে পারাটাই জয়ী হবার পূর্বলক্ষণ। আজ বিজয়ীর মুকুট না পড়লেও কালকে ঠেকায় কে? অভিনন্দন সবাইকে।

খ. সবকিছুকে প্রতিযোগিতার মতো করে নিলে তোমরা হয়ে উঠবে অজেয়। পরবর্তীতে যেখানেই যাও না কেন, শিখতে হবে নিজেকে ‘সেল’ করতে। শিখতে হবে সেলস পিচ। সেজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত রিহার্সাল। জার্মানিতে থাকার সময় আমার অ্যাপার্টমেন্টের সামনেই থাকতেন এক ভদ্রলোক। মধ্যবয়স্ক, পঞ্চাশের উপর বয়স। একটা কাজে গিয়েছিলাম উনার অফিসে। সেলসটীমে ছিলেন উনি। দেখা হলো তার অফিসের বারান্দাতেই। দেয়ালের দিকে মুখ করা। কি যেনো পড়ছেন মনে হলো। হাত নাড়িয়ে অদৃশ্য কাউকে কিছু বোঝাচ্ছিলেন। তাকে ইন্টারাপ্ট না করে দাড়িয়ে থাকলাম দুরে। দশ মিনিট পর ঘুরে দাড়ালেন। হাসিমুখে আমাকে নিয়ে সেই কাজে চলে এলেন। অনেকদিন পর কিছুটা কুন্ঠিত হয়েই ওই ঘটনাটার কথা জিগ্যেস করেছিলাম। বোঝা গেলো যে ওটা ছিলো একটা সেলস পিচ রিহার্সাল – দেয়ালের দিকে মুখ করে। সেলসে বের হবার আগে রিহার্সাল দেন পনেরো মিনিট। প্রতিটার আগে একবার করে। একই জিনিস করছেন পঁচিশ বছর ধরে, রিহার্সালের প্রয়োজন আছে কি? প্রশ্ন করেছিলাম। উত্তরে তাজ্জব হয়েছিলাম কিছুটা। প্রতিটা ক্রেতার ডেমোগ্রাফির উপর ভিত্তি করে প্রতিবারই নতুন গল্প ফাঁদতেন তিনি। প্রতিটা সেলসের আগে এই রিহার্সাল তাকে নিয়ে গিয়েছিলো নতুন মাত্রায়। আমার অনুরোধ প্রতিটা প্রেজেন্টেশনের আগে কমপক্ষে রিহার্সাল করবে দুবার। টীম মেম্বারদের সাথে সিনক্রোনাইজেশন না থাকলে চোখে লাগে বেশি। মনে হয় প্রজেক্টটাকে সিরিয়াসলি নাওনি তোমরা। প্রেজেন্টেশনের সময় টীম লিডারকে অন্য সবার কন্ট্রিবিউশনের কথা বলতে হবে প্রথমেই। আর সবাই দেখবে ‘টেড’ এর বক্তৃতা, এরাই পাল্টাচ্ছে পৃথিবীকে। লার্ন ফ্রম দ্য লিডারস! গেট দ্য বেস্ট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড!

গ. দশ মিনিট, অনেক সময়। ‘বিটিং অ্যারাউন্ড দ্য বুশ’ মানে হচ্ছে তোমরা প্রিপারেশন নাওনি ভালো করে। সময়ের ডিস্ট্রিবিউশন হাতের দখলে রাখার জন্য স্লাইডশোর রিহার্সাল টাইমার ব্যবহার করলে ভালো। সবার দরকার নেই ধন্যবাদ দেবার, টীমলিডারই যথেষ্ট। নিজের অ্যাপ সম্পর্কে বলার সময় বাইরের বিশ্বে কি হচ্ছে সেটা বলতে অর্ধেক সময় নিয়ে ফেললে নিজেরই ক্ষতি। উদাহরণ হিসেবে গেমস এনভায়রনমেন্টে ফিজিক্সের জন্য বিশ্বের সব ইঞ্জিনের গল্প না দিয়ে তুমি কোনটা ব্যবহার করেছ আর কি কারণে সেটা ব্যবহার করেছ সেটা বললেই হয়ে যায় কিন্তু। প্রোটোটাইপ খুবই প্রয়োজনীয় – যা জুরিদের একটা পার্সপেক্টিভ তৈরী করতে সাহায্য করে। আমাদের মনের অজান্তে নতুন একটা পার্সপেক্টিভ ‘পুশ-ইন’ করতে পারলে তোমাদেরই লাভ। সীইং ইজ বিলিভিং।

ঘ. একটা ভালো আইডিয়া পাল্টে দিতে পারে পৃথিবীকে। সময় পেলে দুহাজার পাঁচের নিউজউইকে প্রকাশিত গুগলের দশটা গোল্ডেন রুলস দেখে নিও। অনলাইনেও পাবে। ক. ডোন্ট বি ইভিল, সব মানুষই তার ভিউপয়েন্ট দেবার ব্যাপারে প্যাশনেট থাকে। তার মানে এই নয় যে ওর অ্যাপের আইডিয়া আমার থেকে খারাপ। অন্যকে ভালো বললে সেটা ফেরৎ আসে। লার্ন টু অ্যাপ্রেসিয়েট আদার্স। খ. ইট ইয়োর ওন ডগ ফুড, যতই খারাপ হোক না কেন – ব্যবহার করবে নিজের প্রোডাক্ট। ফলে মহব্বত তৈরী হবে সেটার জন্য। জিমেইলের বেটা টেস্টার ছিলাম আমি। ইট ওজ টেরিবল! গুগলের নিজস্ব এমপ্লয়ীদের সবাই ওই বেটা টেস্টিংয়ের জিনিসটা হজম করেছিলো বলেই আজ এটা এক নম্বর ইমেইল সার্ভিস। এটা কাজ করে না আর ওটা কাজ করে না বলে ক্ষান্ত থাকেনি তারা, সেটা ফিক্স করেই ঘুমাতে গিয়েছে তিন দিন রাতের পর।

ঙ. ফাইট দাও গ্লোবাল স্কেলে! তোমার কোম্পানির রিজিওনাল অফিস হবে নিউ ইয়র্ক আর লন্ডনে। হেডকোয়ার্টার কিন্তু ঢাকায়। আর আরেকটা কথা বলি তোমাদের, থিঙ্ক গ্লোবাল, অ্যাক্ট লোকাল! পৃথিবীর ভালো জিনিসগুলো নিয়ে আসো আমাদের কাজে। ভালো লার্নিং কার্ভ ছাড়া টেকা দুস্কর। লিপফ্রগিং না করলে মরে যাব আমরা! অন্যের বাজার হয়ে আর কতদিন! চলে যাও – আফ্রিকাতে! কিছুটা দেরী হলেও কাজ করার অনেক স্কোপ আছে এখনো। বের হয়ে যাও, আজই! গো অ্যান্ড সি দ্য ওয়ার্ল্ড!

চ. পৃথিবী আজ তোমাদের হাতে। এর দেখভাল কিন্তু বর্তায় তোমাদের উপর। কোনোরকমে দুহাজার তিরিশ সাল পার হলেই বাঁচবে একশো বিশের বেশি। কি করবে তোমরা ওই বাড়তি সময়? মাসলো’র তত্ত্বের ‘সেলফ অ্যাকচুয়ালাইজেশন’ ধাপে পৌছে যাবে সবাই। বিল গেটস যা করছেন এখন। মহৎ লোকে ভরে যাবে পৃথিবী। আর এখনকার জন্য, ফোকাস অন পিপলস এমপাওয়ারমেন্ট, (ভালো করো মানুষের, একটা কাজের অ্যাপ পাল্টে দিতে পারে মানুষের জীবন), অল এলস উইল ফলো!*

ধন্যবাদ, আজ আমাদের পাল্টে দেবার জন্য!

* স্ক্রিপ্টটা লেখার সময় বার বার মনে পড়ছিল জেনিফার পলকার ‘কোডিং আ বেটার গভার্নমেন্ট’ স্পীচটার কথা। অ্যাপ ডেভেলপাররা তৈরী করছে কমিউনিটি অ্যাপ – মানুষের জন্য, সরকারকে যুক্ত করছে জনসাধারণের সাথে। স্বচ্ছতা তৈরী করতে সাহায্য করছে চমৎকার সেই প্রসেসগুলো। মানুষের মতো দোষগুনেও সরকার। দোষারোপ না করে সরকারকে সাহায্য করার মানসিকতাই পাল্টাবে আমাদের। আমাদের মতোই মানুষই চালাচ্ছে সরকার, বিচ্ছিন্ন কেউ নয়। চলুন, অ্যাপ ডেভেলপাররা সরকারকে কিভাবে সাহায্য করছে দেখে আসি বরং।

Read Full Post »

UNIX was not designed to stop its users from doing stupid things, as that would also stop them from doing clever things.

– Doug Gwyn

১৭৬.

অ্যাপ নিয়ে কম ঘাটাঘাটি হয়নি। মোবাইল অ্যাপের কথা বলছি। ব্যাকগ্রাউন্ড দেই একটু। নব্বইয়ের দিকে ইউনিক্সের হেডলেস সার্ভার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এর কার্নালের প্রেমে পড়া। বিরানব্বইতে এলো লিনাক্স। পায় কে আমায়। আমার ডেস্কটপ থেকে কিভাবে যেনো পড়ে গেলো উইন্ডোজ ৩.১১| চুরানব্বই সাল বলে কথা। না চেনে নেটওয়ার্ক কার্ড আর না চেনে কোনো হার্ডওয়্যার। মনোযোগ দিলাম কার্নালের দিকে। এই প্যাচ আর ওই প্যাচ নিয়েই কাটতো দিন। না ভাই, ওই ‘প্যাচ’ না কিন্তু। আর, হবে না মানে? হতেই হবে। এই ডিভাইস চেনে না মানে? ইউজনেট আছে কি জন্য? ঠিক ঠিক তৈরী করে ফেলবো ডিভাইস ড্রাইভার! আর সেকারণে ইন্টারনেটের উপরে রয়েছে অসম্ভব মায়া। আতুর ঘর থেকে দেখে আসছি একে। সত্যিকারের মানুষ করেছে আমাকে। বলুন আমাকে, কি পারছেন না এমুহুর্তে। আ’ল ডেলিভার! আমার জানার দরকার নেই সবকিছুর। আমি জানি একটা জিনিস, কে পারে কোন কাজটা। আর আছে ম্যাসিভ ওপেন অনলাইন কোর্সের ষ্টিপ লার্নিং কার্ভ। আসল ব্যাপার হচ্ছে যেকোনো জিনিসপত্র দ্রুততম সময়ে  শেখার জন্য সেই ‘দ্রুততম সময়ে শেখার টেকনিক’টা জানতে হবে আগে। দেবো নাকি একটা পয়েন্টার? ঠেকায় কে আমায়? ক্রাউডসোর্সিং নিয়ে আর নাই বা বলি!

১৭৭.

আমাদের সময়ে এই নিউজগ্রুপগুলো ছিলো গডসেন্ড! ইউনিক্স টু ইউনিক্স কপি মানে ইউইউসিপির উপর এনএনটিপি পোর্ট ১১৯ কাজ করতো মধুর মতো। আর হাতে খড়ি হলো এমবেডেড লিনাক্স প্রোগ্রামিংয়ে। হাইগেইন এন্টেনা থেকে শুরু করে কোথায় ব্যবহার হয় না এটা? বাসার কোন কোন জিনিস এমবেডেড লিনাক্সে চলে বলে ধরা খাব নাকি? দূর থেকে রুট এক্সেস নিয়ে বাসাকে হ্যাক করানোর মানে হয় কোনো! বিজিবক্স, ইউনিক্সের পজিক্স এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড্রয়েডেও চলে বলে আরো ভয়। মাইক্রোকন্ট্রোলারগুলো এমবেডেড লিনাক্স দিয়ে চালানো যায় চমৎকার! দুনিয়া হাতের মুঠোয়।

১৭৮.

দুহাজার দশের শুরুতেই কিনলাম একটা অ্যান্ড্রয়েড হ্যান্ডসেট। এইচটিসির ফ্ল্যাগশীপ প্রোডাক্ট। বেকুব (মহা বেকুব বলে কথা) প্রোডাক্ট ম্যানেজার এর রম ডিজাইন করলো মাত্র পাঁচশো বারো মেগাবাইট দিয়ে। পুরো অপারেটিং সিস্টেম লোড হবার পর থাকে মাত্র একশো মেগাবাইটের মতো খালি। বাকি অ্যাপসের জন্য ওই স্পেস! আমি হলে ফায়ার করে দিতাম প্রোডাক্ট ম্যানেজারকে! অবশ্য দুহাজার নয়ে ওর বেশি চিন্তা করতে পারেনি ব্যাটা। ওই সমস্যাটা ছাড়া এই এইচটিসি ডিজায়ারের তুখোড় হার্ডওয়্যার তাকে করেছিলো ‘প্রোডাক্ট অফ দ্য ইয়ার’| হাইডেফিনেশন ভিডিও রেকর্ড করতে পারতো নিমিষেই হ্যান্ডসেটটা। তুখোড় হার্ডওয়্যারের কারণে আমার মতো আরো বেকুব(!) যারা কিনেছিলো যন্ত্রটা, ফেলে দিতে পারছে না কোনোভাবেই। বড় কথা, ফেলে দিতে চাই – নষ্ট হয়না কেন জানি। এইচটিসি ছেড়েছিল ওটা অ্যান্ড্রয়েড ২.২ দিয়ে (কোডনেম ফ্রয়ো)।

১৭৯.

পরের ভার্সন জিনজার ব্রেডটাকেও ঠিকমতো দিতে পারেনি রমের স্পেস ছিলো না দেখে। ব্যবহারকারীদের রোষে পড়ে কোনো রকমে অনেকগুলো বিল্টইন অ্যাপস ফেলে একটা ডেভেলপার ভার্সন বের করে দেয় – একটা সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। ওটা আবার ওভার দ্য এয়ার (ওটিএ) আপডেট ছিলো না। গা শিউড়ে উঠছিলো আমার অ্যান্ড্রয়েড ২.২ নিয়ে বাকি জীবন পার করার চিন্তা করতে। আমার মতো ধরা খাওয়া অন্য এইচটিসি ডিজায়ারের মালিকদের আছে ফোরাম। নির্যাতিত স্বামীদের ফোরামের মতো। চিন্তা কি আমার? সমস্যা হলো পুরানো এসডি কার্ডটা নিয়ে। নতুন কিনতে যতো আপত্তি আমার। কিছুদিন লিনাক্স চালালাম ওটার ওপর। খারাপ না। অ্যাপসের স্বল্পতা হেতু ফিরলাম আবার অ্যান্ড্রয়েডে। তবে ৪.২ মানে জেলিবিন নিয়ে। ফোন পুরনো হয়েছে তো কি হয়েছে – ওর কি শখ নেই? চালু হতে সময় নেয় একটু, এই যা। সকালে ঘুম থেকে উঠতে তো দেরী করি আমরাও। দোষ কোথায় ওর? যন্ত্রের কি থাকতে নেই মন?

Read Full Post »

Today you’ll be in negotiation with somebody in Africa and learn the man’s been to Oxford, Cambridge, and Harvard and speaks six languages. I barely speak English.

– Aidan Heavey, CEO, Tullow Oil (Ireland)

১৪৬.

কফি নিয়ে এসেছি দুটো –মনের ভুলে, নেবে নাকি একটা?

খানিকটা অবাক হয়েই তাকালো সে। ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না বলে মনে হলো। নিজের কথা গিলে খাওয়ার মতো অবস্থায় দাড়িয়ে গেল মনে হচ্ছে।

রিওয়াইন্ড করার মানে হয় না কোনো। র-সুগারের প্যাকেটটা এগিয়ে দিলাম বরং।

সুগার আলাদা করেই নিয়ে এসেছি – তোমার আন্দাজ জানা নেই আমার।

মেয়েটা দাড়িয়ে গেল হঠাত্‍ করে। কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই। এগিয়ে এলো কিছুটা। জিনিস দুটো আমার হাত থেকে নিলো সে।

আই উড লাভ টু, ধন্যবাদ তোমাকে। ইউ আর সো থটফুল! নিয়ে আসা উচিত ছিলো আমারই।

খাঁটি ব্রিটিশ অ্যাকসেন্ট, কিংস কলেজে পড়েছে সে।

১৪৭.

গতকাল থেকে কনফারেন্স শুরু হয়েছে আফ্রিকার একটা দেশে। একই টেবিলে বসছি আমরা। দুজনের এক টেবিল। টুকটাক হয়েছে কথা। গতকাল কার্ড বিনিময়ের সময় পেছনের ‘কিউআর কোড’ দেখে যে ভূয়সী প্রশংসা করলো তাতে মনে হলো কোডটা আমিই আবিস্কার করেছি।

ওয়াজ আই ব্লাশিং? ব্রেকে একটা ‘কিউআর কোড’ জেনারেটর বের করে দিতে হয়েছিলো ওকে।

আজ সকাল থেকে খুবই ব্যস্ত সে। একটা রিপোর্ট পাঠাতে হবে তার অফিসে। কেনিয়ান কমিউনিকেশন কমিশনে। কফি ব্রেকেও যেতে পারেনি সকাল থেকে। আভাস দিলো রিপোর্টটার ব্যাপারে, সাঁজিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায়। কিছু কসমেটিক চেঞ্জ বাকি। এর মধ্যে দুটো কফি ব্রেক পার। ওঠেনি ল্যাপটপ ছেড়ে। সেকারণেই কফিটা আনা।

টাইমজোনে ঘাপলা হলেই হতচ্ছাড়া ঘুম যায় পালিয়ে। ভোর পাঁচটায় উঠে সব ই-মেইলগুলোকে সিসটেম করাতে ব্রেকে নেটওয়ার্কিং করা যাচ্ছে ভালো।

১৪৮.

একটা ক্রোসান্টও নিয়ে এসেছো দেখা যাচ্ছে। আমার জন্য নাকি?

থতমত খেয়ে গেলাম এবার। আসলেই তাই। ওর জন্যই নিয়ে এসেছিলাম। কাঁচুমাচু মুখ করে এগিয়ে দিলাম ওকে। টুইস্টেড ক্লাসি ব্রেইডের চুলগুলোকে বেশ মানিয়েছে ওর হাস্যজ্জল মুখে।

এটা গছানোর জন্য কি বলবে বলে রিহার্সাল দিয়েছো, বলতো?

হাসলাম আমি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইছে সে।

রিপোর্ট শেষ, ফুর্তিতে আছ মনে হচ্ছে। এড়ানোর চেষ্টা করলাম।

বল না প্লিজ, অনুনয় করলো সে।

হাসতে গিয়ে গালে টোল ফেলে দিলো মনে হচ্ছে। চুল থেকে একধরনের গ্লিটারিং আভা তার আফ্রিকান ডিম্বাকার মুখটাকে আকর্ষনীয় করে রেখেছে।

রিহার্সাল শুরু করলাম, দ্বিতীয়বার।

ভাবটা এমন করবো যে ক্রোসান্টটা আমার জন্যই নিয়ে এসেছি আমি।

তারপর? চোখ বড় বড় করলো সে। যথেষ্ট ইমপর্টেন্স দেবার সিগন্যাল দিচ্ছে – আমার কথায়।

তারপর বলবো, ভুলেই গেছি যে ক্রোসান্ট খেয়ে এসেছি একটা, নেবে নাকি এটা?

মৃদু হাততালির অভিনয় করলো সে। ‘রিহার্সাল চমত্‍কার, আর তার থেকে চমত্‍কার তোমার অভিনয়। হলিউডে যাচ্ছ কবে?’

কেনিয়া: নির্ধারণ করেছে নুন্যতম গতি, স্কুল আর হেলথকেয়ার সিস্টেমকে নিয়ে এসেছে ভেতরে ...

কেনিয়া: নির্ধারণ করেছে নুন্যতম গতি, স্কুল আর হেলথকেয়ার সিস্টেমকে নিয়ে এসেছে ভেতরে …

১৪৯.

এই গত জুলাই মাসে কেনিয়া সাহস করে বিশাল এক কাজে হাত দিয়েছে। তিনশো কোটি ডলারের কাজ। আমাদের টাকায় দুহাজার চারশো কোটি টাকা, ইন্টারনেটের স্পীড বাড়ানো আর ডিজিটাল সার্ভিসগুলোকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিভাবে নেয়া যায় সেটার জন্যই নেয়া হয়েছে এই নতুন ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজি। দুহাজার সতেরোর মধ্যে দেশব্যাপী ‘নির্ভরযোগ্য’ ইন্টারনেট আর ডিজিটাল সার্ভিসগুলোকে কিভাবে সেখানে নেয়া হবে সেটাই এখানে উপজীব্য। নিখুত প্ল্যান, এদিক ওদিক হবার জো নেই একেবারে।

ব্রডব্যান্ড ডেফিনেশন, স্বপ্ন দেখছে না কেনিয়া, বাস্তবে রূপান্তর করছে দুহাজার সতেরোর মধ্যে ...

ব্রডব্যান্ড ডেফিনেশন, স্বপ্ন দেখছে না কেনিয়া, বাস্তবে রূপান্তর করবে দুহাজার সতেরোর মধ্যে …

অতিনো হাত নেড়েচেড়ে বোঝাচ্ছিল ওদের ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিটা, নিখুতই বলতে হবে। জ্বলজ্বল করছে ওর চোখ, মনেই হচ্ছে আত্মস্থ করেছে মন থেকে। মনে প্রাণে বিশ্বাস করছে মেয়েটা – কাজ করবেই এটা। আমাকেও বিশ্বাস করিয়ে ফেলেছে এর মধ্যে।

১৫০.

মাঝ রাতে জন্ম নেয়ায় ওর নামের মর্মার্থ পেলাম দুপুরের খাবারের টেবিলে বসে। দুপুরে খুঁজে খুঁজে আমার টেবিল বের করেছে সে। কিন্তু কাছে এসেই ভড়ং।

তোমার সাথেই বসতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত! ফাঁকা কেন তোমার টেবিল? টিপ্পনী কাটলো সে।

হাসলাম বরং। প্রশ্রয়ের হাসি। বয়সে অনেক ছোট সে।

সব টিপ্পনীর উত্তর দিতে নেই। ফলাফল পেলাম কিছুক্ষণের মধ্যে। খাবারের মাঝখান থেকে উঠে গেল সে। ফিরে এলো আরেকটা প্লেট নিয়ে। কিছু ফ্রাইড প্ল্যানটেনস পাশে রাখা। নিজের জন্য নিয়ে এলো বুঝি!

তোমার পছন্দ হবে এই মাছের ‘স্টু’টা। ওবোকুন মাছের সাথে টমেটো দিয়ে তৈরী কিন্তু। স্পাইস দেয়া। স্পাইস খাওতো তোমরা। ‘ওবেএজা তুতু’ বললেই হবে এখানে।

১৫১.

আছে কি ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিটাতে? ‘স্টু’টা লাগছে চমত্‍কার।

দুহাজার সতেরোর মধ্যে পঁচাত্তর শতাংশ লোকাল বিজনেসকে অনলাইনে আনার অনেকগুলো অ্যাকশন পয়েন্ট দিয়ে শুরু করা হয়েছে এটা। অতিনোর শার্প রেসপন্স।

ফিস রোল চেখে দেখবে নাকি একটা? মাংসের পাইয়ের মধ্যে মাছের ফিলিং, ডিপ ফ্রাইড!

অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে। চেখে দেখবো ‘খন। আর কি আছে স্ট্রাটেজিতে?

ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়েই অনেকগুলো অ্যাকশন পয়েন্ট আছে এখানে, প্রথম পাতাটা তুলে দিচ্ছি শুধু, পুরো রিপোর্টটা দিচ্ছি নিচে ...

ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়েই অনেকগুলো অ্যাকশন পয়েন্ট আছে এখানে, প্রথম পাতাটা তুলে দিচ্ছি শুধু, পুরো রিপোর্টটা দিচ্ছি নিচে …

সরকারীভাবে যোগাযোগের সত্তুরভাগ জিনিসপত্র অনলাইনে আনতে হবে ওই সময়ের মধ্যে। চল্লিশ শতাংশ মানুষকে ডিজিটালি লিটারেট মানে ডিজিটাল সার্ভিস নেবার নুন্যতম শিক্ষার মধ্যে আনতে হবে একই সময়ে। এর জন্য যা যা করতে হবে তার সব কিছুই বলা আছে ওই স্ট্রাটেজিক পেপারে – অ্যাকশন পয়েন্ট আকারে। কেনিয়ান ওয়েবসাইটগুলোর নুন্যতম বিশ শতাংশ আনতে হবে আমাদের নিজস্ব ভাষায়।

মনে হলো পেপারটা পুরোই মুখস্ত ওর! ভালো লাগলো ওর আত্মবিশ্বাসে। মুখমন্ডল থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে যেনো!

১৫২.

ডেজার্ট কোনটা পছন্দ তোমার? ‘চিন চিন’ না ‘পাফ পাফ’? হাসি লুকানোর চেষ্টা করলো না আর। রিদমিক শব্দের জন্য বোধহয়।

চেখে দেখলেই হাতে পাবে কিন্তু স্ট্রাটেজিক পেপারটা!

বলে কি, মেয়েটা! পড়ে ফেলছে আমাকে! মাইন্ডরিডার নাকি?

বেকায়দায় পড়লাম মনে হচ্ছে। দেখতে হয় যে চেখে!

ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিকে বছর ধরে সাপোর্ট করার জন্য টাকাটা আসবে কোথা থেকে? আমার দেখা অনেক ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজির সীড ফান্ডিংয়ের পরে সাস্টেনিবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন আসে অনেক।

ঠিক বলেছ হাসান। এই স্ট্রাটেজিক প্ল্যানকে সাপোর্ট করার জন্য বার্ষিক বাজেট থেকে পাঁচ শতাংশ চলে যাবে ওই ফান্ডে। এখন এটা আছে মাত্র ০.৫ শতাংশে! এছাড়াও টেলিকমিউনিকেশন অপারেটররা তাদের রেভিনিউয়ের একটা অংশ ছেড়ে দিচ্ছে লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটির জন্য, বিশেষ করে গ্রামের দিকে।

মাথা নাড়িয়ে সায় দিলাম। কথা বলতে দিলাম ওকেই।

সরকারও প্ল্যান করছে একটা ব্রডব্যান্ড ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড তৈরী করতে। সেটা তুলতে লাগবে চৌত্রিশ কোটি ডলার। এছাড়া এই ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিজে থেকে তুলবে উননব্বই কোটি ডলার।

স্মার্টফোনটা বের করলো সে। স্ট্রাটেজির ব্লুপ্রিন্টটা বড় করলো। সেটা বলছে, তুলে দিচ্ছি হুবহু;

The strategy provides a roadmap to transform Kenya into a knowledge-based society driven by reliable high-capacity nationwide broadband network.

আরেকটা পাতা, শিক্ষা আর হেলথকেয়ার খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে এখানে ...

আরেকটা পাতা, শিক্ষা আর হেলথকেয়ার খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে এখানে …

১৫৩.

অনেকগুলো থিমেটিক এরিয়া নিয়ে তৈরী হয়েছে স্ট্রাটেজি পেপারটা। প্রথমেই রয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কানেক্টিভিটি আর ডিভাইস সংক্রান্ত বিষয়গুলো। পরের ধাপে রয়েছে কনটেন্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলো, উদ্ভাবনা, মানবসম্পদ তৈরী আর সচেতনতা বৃদ্ধির রোডম্যাপ। শেষে আছে সব গুরু বিষয় – নীতিমালা, লিগ্যাল, রেগুলেটরি, ফিনান্স আর বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির কিছু মাইলস্টোন।

টিং টিং করে আস্তে বেল বাজলো বারান্দায়। লাঞ্চের সময় শেষ। ফেরার পালা কনফারেন্সে। দুজনের কফি নিয়ে কনফারেন্স ভেন্যুতে যাবার দায়িত্ব নিলো অতিনো। আমি ছুটলাম কনফারেন্স প্রোডিউসারের কাছে। দেখা করতে বলেছে, দুমিনিটের জন্য। কার বক্তৃতা প্রক্সি দিতে হয় কে জানে!

১৫৪.

বিকেলের কফি ব্রেকে একজনের কার্ড নেবার জন্য দৌড় দেবার চেষ্টা করতেই আটকালো সে।

ওর কার্ড আছে আমার কাছে। কার্ডস্ক্যান অ্যাপ থেকে ট্রানসফার করে দিচ্ছি এখুনি।

তাই সই। গাইডেড ট্যুর দাও তোমার স্ট্রাটেজিক পেপারের ওপর। কালকের লাঞ্চ আমার উপর।

তাই নাকি? এশিয়ান, আফ্রিকায় এসে হোস্ট বনলো কবে থেকে? লাঞ্চ আমার উপর!

আমি অফার করেছি আগে! তোমাদের ব্রডব্যান্ডের নুন্যতম স্পীড কতো বলতো? সাবজেক্ট পাল্টানোর চেষ্টা করলাম।

স্ট্রাটেজিক প্ল্যান অনুযায়ী মানুষের বাসাবাড়িতে নুন্যতম সংযোগ গতি হবে পাঁচ মেগাবিট/সেকেন্ডের। এছাড়াও স্কুলের সব শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আইসিটি শিক্ষা করা হয়েছে বাধ্যতামূলক।

ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন? সেটার কথা কি আছে কিছু? সন্দেহ ছুড়ে দিলাম ওর দিকে।

বলো কি তুমি? সরকার শুরু করেছে কাজ, সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে তিরিশ হাজার কিলোমিটারের ফাইবারের নেটওয়ার্ক। নুন্যতম আশি শতাংশ এলাকায় পৌঁছুতে হবে নেটওয়ার্কটাকে! সড়ক আর রেল বিভাগকেও বলা হয়েছে আইসিটির সম্পুরক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করতে। সরকারী সব এজেন্সীকে এর মধ্যেই তার কনটেন্টকে হোস্ট করতে হবে এই শেয়ার্ড নেটওয়ার্কে। গ্রামে ফাইবার নেবার জন্য দেয়া হচ্ছে ট্যাক্স ওয়েভার।

১৫৫.

কনফারেন্স শেষেই দৌড় দিতে হলো। হোস্ট আমার হোটেলে যাবার গাড়ির ব্যবস্থা করেছে। ভেন্যুতে থাকা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল – খরচ বেশি বলে। রাতে এদেশের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় আমন্ত্রণ করেছে ওদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে – ফলোড বাই ডিনার। ভেন্যু, নতুন জায়গা।

হোটেলে ফিরে সময় পেলাম দেড় ঘন্টার মতো। মাথা ঘুরছে। টাইমার চালু করলাম, সাঁতার আধাঘন্টা।

কেনিয়ার ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিক প্ল্যানের উপর ইন্টারনেট রিসার্চ – পয়তাল্লিশ মিনিট।

সাঁতার কেটে এলাম। দেহঘড়িকে এডজাস্ট করার নিজস্ব পন্থা। পিঠের ব্যথাটা বাড়লো মনে হচ্ছে।

ইন্টারনেট রিসার্চের ফলাফল ভয়াবহ। আইসিটি রেগুলেশন টুলকিট আর ব্রডব্যান্ড টুলকিটের গল্প বলেছিলাম আগেই। আইটিইউ, ওয়ার্ল্ডব্যাংক আর ইনফোডেভের রিসার্চ পাবলিকেশন্সে কেনিয়ার এই ব্রডব্যান্ড প্ল্যানের মাথা ‘ভিশন ২০৩০’ ফ্রেমওয়ার্ককে নিয়ে এসেছে কেসস্টাডি হিসেবে! মাথা খারাপ করা ফ্রেমওয়ার্ক, কাজ না করে উপায় নেই। গভার্নমেন্ট লেড এই প্রোগ্রামের ট্যাগলাইন পড়তে গিয়ে চোখে পানি এলো চলে। ‘বিল্ড ইট, দে উইল কাম’ কথাটার অন্তর্নিহিত মেসেজ অনেক ভেতরের। সাঁতারের পর চোখে পানি – অসম্ভব ব্যাপার।

১৫৬.

অতিনোকে চিনতেই পারিনি ডিনারে। টারকুইজ কালারের আফ্রিকান ফ্রেঞ্চ লেস স্কার্ট, সঙ্গে মাথায় চমত্‍কার একটা ‘আসো ওকে’র টপ।

মাফ করবেন, চিনতে পারছি না আপনাকে। হ্যাভ উই মেট বিফোর?

হাত বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ডসেক করার জন্য, হাসি আটকাতেই পারচ্ছে না সে, কোনোভাবেই।

আফ্রিকায় থেকে যেতে হবে মনে হচ্ছে!

ভালো কথা – নিয়ে এসেছে ‘দ্য ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজি ফর কেনিয়া’র একটা কপি। নিজে থেকে মনে করে।

তোমার জন্যই কিন্তু। মনে করিয়ে দিলো সে, আবার।

আমার জন্য মানে দেশের জন্য, লিখবো দেশে গিয়ে। অসুবিধা হবে তোমার?

ঠিক আছে, পাল্টে দিও নামটা আমার। সেটিংটাও কিন্তু!

১৫৭.

খেতে বসে নতুন আইটেমগুলোর চেখে দেখার আবদারের মধ্যে ফিরে এলাম স্ট্রাটেজিক পেপারটাতে।

টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কের কি অবস্থা? দেশের এই লাইসেন্সটার প্রথম ড্রাফট তৈরী করেছিলাম বলে অন্যদেরটাও জানার ইচ্ছা হয় মাঝে মধ্যে।

শোনোনি তুমি সকালের সেশনটা?

না, অ্যাপের সেশনটায় গিয়েছিলাম আমি। সিমুলটেনাস সেশনের এই সমস্যা।

তানজানিয়া, জাম্বিয়া আর কেনিয়া মিলে তৈরী করছে ত্রিদেশীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক। ইলেকট্রিসিটি মানে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানির ঘাড়ে চড়ে এই নেটওয়ার্ক করতে লাগবে মাত্র পসট্টি কোটি ডলার।

থামলো সে। পরের প্রশ্নটা ছুড়ে দিলো আমাকেই।

বল দেখি, আইটিইউর রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোবাইল ব্রডব্যান্ডের পেনিট্রেশন কার? আফ্রিকার রিজিওনের কথা বলছি।

সাউথ আফ্রিকা?

ভুল! ঘানা, দুহাজার এগারোর রিপোর্টেই ‘তেইশ শতাংশ’ ছিলো এই মোবাইল ব্রডব্যান্ডে। মাইন্ড ইট, কীওয়ার্ড ‘মোবাইল ব্রডব্যান্ড’।

সেই ঘানা আর ‘বারকিনা ফাসো’ নিজেদের টেরেস্ট্রিয়াল ফাইবার লিংকের কাজ ধরেছে এমাস থেকে।

দেখে নিও আমাদের ছুঁতে পারবে না কেউই।

ভুল হতে পারে আমার। ভেজা ভেজা লাগছে ওর চোখ।

ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছা হচ্ছিলো প্রথমে। এমনিতেই। ‘আইনফুলঙস্যাম্যু’ জার্মান শব্দটাই মনে হচ্ছিলো বার বার। পরে যোগ হয় ইংরেজিতে। এম্প্যাথি।

এক্সকিউজ মি, দাড়িয়ে গেল সে। নতুন একটা ডেজার্ট দেখলাম, আনছি এখুনি, ভালো লাগবে তোমার।

* The preceding is a work of fiction. Any resemblance to persons living or dead is purely coincidental.

Read Full Post »

Dominate in your domain; You can do it.

― Jaachynma N.E. Agu, The Prince and the Pauper

১৩৩.

ঈদের দিন আজ! মন ভালো করার একটা গল্প নিয়ে আসি, কি বলেন? সবার জন্য। তুলনার গল্প। পালাবেন না প্লিজ। দেশকে উপরে তোলার গল্প।

আমি আপনার থেকে ভালো, বললেন আপনি।

প্রমান করুন কোথায় কোথায় ভালো আপনি? আমার সহজাত উত্তর।

একশো মিটার স্প্রিন্টে আপনাকে হারিয়েছি, মনে নেই?

মেনে নিলাম। আসলেই হারিয়েছেন আমাকে।

মেট্রিকে আমি স্ট্যান্ড করেছি। আর আপনি?

সত্যি। স্ট্যান্ড করিনি আমি।

ইন্টার ক্যাডেট কলেজ বক্তৃতায় আমি ছিলাম চ্যাম্পিয়ন।

একদম সত্যি কথা। বোমা মারলেও আমার মুখ থেকে বেরুতো না কথা, তখন।

এখন, আপনারাই বলবেন ভালো।

১৩৪.

ছোটবেলায় বাবা মা চাইতেন ডাক্তার হই। বয়সের দোষ ফেলে দিলো অন্য দিকে। এমনই কাজ করলাম যাতে মেডিক্যাল পড়তে না হয় কখনো। মেট্রিকের বায়োলজিতে ভালোই করছিলাম। ইন্টারমিডিয়েটের সময় কিভাবে যেনো বায়োলজি ফেলে পরিসংখ্যান নিয়ে নিলাম, সেটা নিয়ে ভাবি এখনো। হয়েছিলো কি আমার? সে যাই হোক – ইন্টারমিডিয়েটের পরিসংখ্যানই বাঁচিয়ে দিলো আমাকে। তুলনার গল্পে আপনি আমার থেকে দৌড়ে, পরীক্ষায় আর বক্তৃতায় ভালো। স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটরের ভাষায় ওই তিনটা বিষয়ে আপনি এগিয়ে। তুলনা করছিলাম আপনার সাথে আমার।

১৩৫.

এখন দেশগুলোই দৌড়াচ্ছে নিজেদেরকে এগিয়ে নেবার জন্য – প্রতিনিয়ত:| নিজের তাগিদেই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বলে যাকে আর কি। একেক দেশ একেকদিকে ভালো। কেউ ভালো পড়াশোনায়, কেউ আইসিটিতে, আবার কেউ খাদ্য উত্‍পাদনে। আবার অনেকে প্রায় সবকিছুতেই! আফ্রিকার দেশগুলো তাদের ইনডিকেটরগুলোকে ভালো দেখানোর জন্য হেন কাজ নেই করছে না। ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্পর্কিত যতো ইনডিকেটর আছে সেগুলো ভালো হলে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আনার জন্য অত রোডশো করতে হয় না। কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেদেশের ইনডিকেটর দেখেই মনকে তৈরী করে ইনভেস্টররা। আমরা ভুলে যাই, আইসিটি নিজেই একটা বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার! মায়ানমারকে দেখে মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলছি ইদানিং। চেখে দেখবেন না কি রিপোর্ট একটা? অন্যেরটা না পড়লে আমাদের অবস্থান জানা দুঃসাধ্য! নিজে ঠেকে না শিখে অন্যের ভুল থেকে শেখা ভালো নয়? আমার কথা, হোয়াই রি-ইনভেন্টিং হুইল!

১৩৬.

কিছু কিছু ইনডিকেটর খালি চোখে দেখা যায়, এর জন্য স্ট্যাটিসটিসিয়ান হবার প্রয়োজন হয় না। যেকোনো দেশের একটা শহরের উদাহরণে আসি বরং। শহরের রাস্তা আর তার পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেমস দেখলেই খালি চোখে ওর উন্নতি বোঝা যায়। বাকি জিনিসগুলোর তুলনা করার উপায় কি? আইসিটি আমার বিষয় হবার ফলে ফিরে আসি ওর গল্পেই। আইসিটিতে কোন দেশগুলো ভালো করছে? ওটার পরিমাপ কি? তুলনার বিষয়গুলো কি কি হতে পারে? সবাই সেটা মানবে কিনা? সেগুলোর তথ্য কিভাবে নেয়া হবে?

১৩৭.

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কে করবে?

ইউ এন অর্গানাইজেশন, আপনার উত্তর।

আপনি আসলেই ভালো, অন্ততঃ, আমার থেকে। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) একাজটার ধারণা নিয়ে বসে আছে প্রায় বিশ বছর আগে থেকে। সবদেশের সম্মতির ভিত্তিতে আশির বেশি ইনডিকেটর ঠিক করা হলো বিশ্বের আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ট্র্যাক করার জন্য। রিপোর্ট বের করা শুরু করলো দুহাজার নয় থেকে। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নেটওয়ার্ক রেডিনেস ইনডেক্স (এনআরআই) আর ইউএন ই-গভর্নমেন্ট সার্ভের ডাটা একাজে ব্যবহার হয়।

১৩৮.

ভালো কথা, আইসিটির দরকার কেন? আইসিটি ব্যবহার করেই দেশগুলো উঠছে উপরে। যারা পারছে না উঠতে তাদের ঘাটতি আছে এই আইসিটি ব্যবহারে। ভালো গভার্নেসের জন্য দরকার আইসিটির বহুল ব্যবহার। ইনফরমেশন উইথহেল্ড নয়, তথ্য দিয়েই এগুচ্ছে সরকারগুলো। আর সেকারণে আইসিটি। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন আঠারোশো পসট্টি সালে উত্পত্তি হলেও ইউএনের স্পেশালাইজড এজেন্সি হিসেবে নাম লেখায় উনিশশো সাতচল্লিশে। আইসিটি নিয়ে সব কাজ কারবার করতে হয় ওকেই। একশো বিরানব্বইটা দেশ ওর সদস্য হলেও ওর জ্ঞানের আঁধার হচ্ছে সাতশোর বেশি বেসরকারী কোম্পানিগুলো। টেলিযোগাযোগ, স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে যতো পলিসি আর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, ওর সবকিছুই আসে ওর থেকে। তিউনিস কমিটমেন্টের আওতায় ওয়ার্ল্ড ‘সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি’ (উইসিস)র পর অনেক দিন গেছে চলে।

১৩৯.

ডাটা কালেকশন হ্যান্ডবুক, টেলিযোগাযোগ/আইসিটি

ডাটা কালেকশন হ্যান্ডবুক, টেলিযোগাযোগ/আইসিটি

ডাটা এক্সট্রাপলেশনের ধারণা পাবার জন্য মনটা আইটাই করছিলো বেশ কিছুদিন। জেনেভাতে ই-হেলথের উপর এক বক্তৃতা দিতে যেয়ে সুযোগটা গেল বাতলে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের অফিস থেকে এক লাঞ্চ ব্রেকে চলে এলাম আইটিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেলের সাথে দেখা করতে। জেনেভায় নেমেই আউটলুক মিটিং রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম ওনার কাছে। মিটিং শেষে নামতেই করিডোরে চোখে পড়ল ডাটা সংগ্রহ করার চমত্কার একটা হ্যান্ডবুক। আইটিইউ এর পাবলিকেশন্স এটা। চেয়ে নিলাম কপিটা। পড়ে ফেললাম নিমিষেই। মানে ওই রাতেই – হোটেলে বসে। মাথায় এন্ডরফিনসের সরবরাহ বেড়ে গেলো বলে মনে হলো। দরকার আপনার? নামিয়ে নিন আজই। জানালাম অফিসে। আইটিইউ’র রিজিওনাল অফিসের সাথে খোচাখুচি করে একাউন্ট তৈরী হলো সে মাসেই। কাজে নামতে সময় লাগলেও ছোট একটা কমিটি তৈরী করে ফেললাম। চেকলিস্ট যোগ হলো সঙ্গে। ধাক্কা খেলাম ডাটা টানতে যেয়ে। বিশাল কাজ। কমিটির অন্যদের আইটিইউ’র বিভিন্ন স্ট্যাটিসটিকাল মিটিংগুলোতে পাঠাবার জন্য উত্‍যোগ গ্রহণ করলাম। তার একজন যাচ্ছে মেক্সিকোতে, এই ডিসেম্বরে। থাইল্যান্ডের টাও মিস যায়নি। এগুচ্ছে বাংলাদেশ।

১৪০.

মিটিং ডাকলাম সবাইকে নিয়ে। পর পর কয়েকটা। সব লাইসেন্সড অপারেটর, বুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স সহ। ইনডিকেটর নিয়ে বসলাম, একটা একটা করে। একশোর বেশি ফিল্ড। ইনডিকেটর ডেফিনেশনেই কাবু হয়ে যাচ্ছিলাম বার বার।একেকজন একেকভাবে ডেফিনেশন বুঝলে তো আমাদের অবস্থা খারাপ। চাইলাম এক ডাটা, দিলেন আরেকটা। সমস্যাটা তো মিটলো না। আবার ডাটা দরকার দু-হাজার দশ, এগারো আর বারোর। সবাই সাহায্য করতে চাইলেন। চ্যালেঞ্জ একটাই। এতো ডাটা, পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। দরকার সহসাই। নতুন ডাটাই রেডিমেড থাকছে না, পুরনো ডাটা তো আরো সমস্যা। কিছু কিছু ডাটা প্রজেকশন করলাম। চিঠি, ই-মেইল, ফোন আর তাগাদা পত্র, চলতে থাকলো একাধারে। ডাটা না থাকলে তো তৈরী করা যাবে না, বললেন অনেকে। অনেকেই সাহায্য করলেন আগ বাড়িয়ে। কাজের প্রসেস ডেভেলপ করে ফেললাম – নতুন ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল প্রসেস।

১৪১.

আইটিইউ’র স্ট্যাটিসটিকাল ডিপার্টমেন্টের সাথে লিয়াজোঁ বাড়িয়ে দিলাম এর পাশাপাশি। ডক্টর সুসান আর ভানেসা গ্রে নিজ থেকে সাহায্য করতে শুরু করলেন। আইটিইউ’র রিজিওনাল হেডকোয়ার্টারের সাহায্য চাইলাম। দেশকে উপরে উঠাতে হলে যা যা করা দরকার তার স্কিম তৈরী করে ফেললাম সে মাসেই। চমত্‍কার সম্পর্ক তৈরী করে ফেললাম ওদের সাথে। ডেডলাইন পার হয়ে গেলেও এক্সেস পাওয়া গেলো আপডেট করার। কিছু কিছু জিনিস ওরাই আপডেট করলো, আমাদের পরে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে। অসাধ্য সাধন করে ফেললো, আমার টীম! বলতে গেলে ক্রস ফাংশনাল টীম। সমস্যা শুরু হলো অন্যখানে। ডাটা টানা শুরু করলো আইটিইউর অন্যান্য ডিপার্টমেন্টগুলো। জেনে গেছে ওরা, বাংলাদেশের কোন লোকটাকে মেইল করলে রেসপন্স পাওয়া যায় ঘন্টার মধ্যে। ট্যারিফের ডাটা রিকোয়েস্ট চলে আসলো এর মধ্যে। আমার মনও ভালো, কাজ বাড়ছে, ছোট ছোট কমিটি করছি। প্রসেস তৈরী করছি মনের আনন্দে। কাজ হবে প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট, মানুষ ডিপেন্ডেন্ট নয়। মানুষ চলে গেলে কাজ যাতে থমকে না যায় সেজন্য এই প্রসেস তৈরী করা। নিজের দেশ বলে কথা। এসক্যাপও কথা বলছে আমাদের সাথে। মন খারাপ হয়ে আছে – আইসিটি ডাটার বাইরের ডাটাগুলো পাচ্ছি না। টীমও লেগে আছে আমার পেছনে। নাছোড় বান্দা বসের নাছোড় বান্দা টীম প্লেয়ার! ভালোই আছি। চমত্‍কার এই ছেলেমেয়েগুলোকে পাবো কোথায়?

১৪২.

ডাটা দেবার পর শুরু হয় আসল সমস্যা, ভ্যালিডেশন। ডাটা ঠিক আছে কিনা, সেটার জন্য হাজার কোয়েরি। স্বাভাবিক। আমি দেশের ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের হার পঞ্চাশ শতাংশ বললেই তো আর সেটা হবে না। ওর সপক্ষে যুক্তি না দিলে সেটা টিকানো মুশকিল। ওরা অন্য ডাটা সোর্স থেকে সেটা ভেরিফাই করে – সবসময়। দুঃখের কথা, বিশ্বব্যাপী আমাদের সাপোর্ট করার ডাটা খুবই কম। আমরা ডাটা দিলে অন্য সোর্স সেটা কনফার্ম না করলে সেটা যায় কেঁচে। তখন ধরি অন্য পন্থা। বৈধভাবেই। সেদিকে আর নাই বা গেলাম। মজার কথা, ভয় নেই ডাটা হারানোর। সবই আছে আইটিইউ’র আইসিটি-আই ক্লাউডে। আপডেট করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কয়েক দফা ডাটা দিয়ে শিখেছি অনেক কিছু। সেটা আরেকদিন।

মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজ - বাংলাদেশ এগিয়েছে চার চার ধাপ!

মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজ – বাংলাদেশ এগিয়েছে চার চার ধাপ! আবার, অস্ট্রেলিয়ার এনবিএন প্রজেক্ট ওকেও এগিয়েছে চার ধাপ!

১৪৩.

ঘাপটি মেরে পড়ে ছিলাম এমাসের সাত তারিখের জন্য। ‘মেজারিং দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি রিপোর্ট’ ২০১৩ বের হলো বলে। পৃথিবী তাকিয়ে আছে এই রিপোর্টটার দিকে। আমাদের কথা চিন্তা করেই, গরীবদেশগুলো জেনেভা হেডকোয়ার্টারে যেতে না পারলেও পুরো অনুষ্ঠানটাই ওরা আপলোড করেছে ইউটিউবে! এই অনুষ্ঠানটা একাধারে জেনেভার পাশাপাশি আদ্দিস আবাবা, ব্যাঙ্কক, ব্রাসিলিয়া, কায়রো, মস্কো, নিউ ইয়র্কে হয়েছে। লঙ লিভ ইউটিউব! দেখতে চান? যাদের সময় নেই তাদেরকে বলবো টেনে উনিশ মিনিটের মাথায় চলে যেতে। এবার মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজ, যারা ভালো করেছে সেখানে ‘বাংলাদেশে’র নাম বলেছেন ডক্টর সুসান – ঠিক বিশ মিনিটের মাথায়। ডক্টর সুসান তেল্শার, হেড অফ আইসিটি ডাটা এন্ড স্ট্যাটিসটিক্স ডিভিশন পুরো রিপোর্টের একটা ব্রিফ দিলেন ওখানে। আমার তুরুপের তাস ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট পাঠানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রেসপন্স করলেন ডক্টর সুসান, তারিফ করলেন বাংলাদেশের। শেষ লাইনে বলেছিলাম আমাদের থ্রিজির কথা। দেখা হবে সামনের বছরে। পাল্টে যাবে বাংলাদেশ। সুখের কথা, আবার ডাটা চেয়েছে আইটিইউ, ডেডলাইন তিরিশে অক্টোবর। সময় নেই একেবারেই। পরের বছর বাংলাদেশ যাবে কোথায়? প্রেডিকশন ইন্জিনিয়ারিংয়ের ধারনায় বর্তমান গ্রোথ রেটে এগোলে ‘একশো তিরিশে’র ভেতরে যাবার ইচ্ছা পোষণ করাটা খুব কি একটা ভুল হবে? আপনি বলুন।

আরো এগুবে বাংলাদেশ, পাল্টাচ্ছি আমরা, পাল্টাতে হবে সবাইকে!

আরো অনেক এগুবে বাংলাদেশ, আমার হাতের ডাটা তাই বলে। সুযোগ হাতছাড়া যাবে না করা!

১৪৪.

গত বছর থেকে এবার এগিয়েছি চার ধাপ, একবারেই। প্রথম ধাক্কায়। আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (আইডিআই) একশো সাতান্নটা দেশের মধ্যে তুলনা করে কে কতটা এগিয়েছে সেটা দেখিয়েছে ওখানে। আবার দুহাজার বারোর আইসিটি প্রাইস বাস্কেট (আইপিবি) ইনডেক্সে গ্রাহকেরা টেলিযোগাযোগ আর ইন্টারনেট খাতে কতো ব্যয় করছে সেটারও স্নাপ্শটটা ক্যাপচার করেছে ওখানেই। ‘পারচেজ পাওয়ার প্যারিটি’ (পিপিপি) মানে গ্রাহকের কেনার ক্ষমতাতে খারাপ নেই আমরা। গ্রাহক পর্যায়ের ইন্টারনেটের দাম নিয়ে ওভাবে কিছু না এলেও এর দাম কমে আসবেই এর মধ্যে। প্রতিযোগিতায় থ্রিজির দাম কমে আসতে বাধ্য।এক্সেসে মানে ‘সংযোগ’ পাবার আইসিটি সাব ইনডেক্সে বাংলাদেশ ভালো অগ্রসর হলেও ‘ব্যবহার’ সাব ইনডেক্সে অনেক কাজ করার স্কোপ রয়েছে। ব্যবহার বাড়াতে হলে ইন্টারনেটের ‘ইউজফুল’ অ্যাপ্লিকেশন আনতে হবে আগে। সরকারী বেসরকারী সার্ভিস ডেলিভারি প্লাটফর্মে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ নেয়া দেয়া বাধ্যতামূলক করলে ‘ব্যবহার’ আইসিটি সাব ইনডেক্স বাড়তে বাধ্য। ইলেকট্রনিকভাবে টিআইএন নেবার পদ্ধতিটা এর ভালো উদাহরণ। খালি ফেইসবুক আর ব্লগিং করে কতো আর? ইলেকট্রনিক ট্রানজাকশানের উপর উন্নত বিশ্বের মতো প্রনোদনা দিলে ভালো করবে বাংলাদেশ। মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে কি লিখেছে ওরা, পড়তে ইচ্ছা করছে নিশ্চয়ই!

সব তথ্যই সরবরাহ করা হয়েছে একটা ভালো রাইট-আপের জন্য, ভালো লাগছে না?

সব তথ্যই সরবরাহ করা হয়েছে একটা ভালো রাইট-আপের জন্য, ভালো লাগছে না?

১৪৫.

আজ এ পর্যন্তই। ঘুমানোর সময় হলো বলে। বাকি সাব-ইনডেক্সগুলোর মধ্যে আইসিটি “এক্সেস”, “ইউজ” আর “স্কিল” নিয়ে আসছি সামনে। ফেলে দিন আমার বকবকানি, নামিয়ে নিন পুরো রিপোর্টটা, অ্যানেক্স চার ছাড়া। দরকার নেই ওটার আপনার! নিজেই দেখুন চেখে। হাতে নিয়েছি নতুন এক্সেলশিট, উইসিস আর এমডিজির ডাটা টানবো বলে। উইসিস, ও’ইসিডি, ইউনেস্কো, ইউএন রিজিওনাল কমিশন আর আংকটাড মিলে এক বিশাল উইসিস টার্গেট রিপোর্ট চেয়েছে দেশগুলো থেকে – দশ বছরের উপর। ওখানেও হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পিছিয়ে পড়ে থাকার দিন নেই আর! শুরু তো করতে হবে – কোথাও। দেশকে তুলতে হবে ঠিক জায়গায়।

এগুচ্ছি আমরা, পাল্টাচ্ছে বাংলাদেশ!

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: