Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বিগ ডাটা’

“Those who have knowledge, don’t predict. Those who predict, don’t have knowledge. ”

Lao Tzu, 6th Century BC Chinese Poet

[আগের পর্ব থেকে …]

২৩.

টিকেট কেনার সময় ট্রেন্ড এনালাইসিস করে তার গড়পরতা দাম কমের দিকে থাকলে দিন কয়েক পরে টিকেটটা কাটলে কমে পাওয়া যাবার সম্ভাবনা বেশি। আবার সিস্টেম যদি দাম বাড়তির দিকের গন্ধ পায় –টিকেটটা কেনার পরামর্শ দেবে তখনি। ত্রিশ হাজার ফুট ওপরে এজীয়নির সেই ইনফরমাল সার্ভের ম্যাথমেটিক্যাল ভার্সন তৈরী হলো সেই ল্যাবে বসে। ভ্রমন সম্পর্কিত একটা সাইট বেছে নেয়া হলো। বারো হাজার প্রাইস পয়েন্ট মানে বিমান ভাড়ার বারো হাজার ভেরিয়েশন আর একচল্লিশ দিনের ডাটা নিয়ে তৈরী করা হলো একটা সিমুলেশন। মূল্য সংবেদনশীল মানুষের জন্য তৈরী এই প্রেডিকটিভ মডেল কাজ করতো আগের ডাটার ধারণা থেকে। সাধারণভাবে কেন দাম বাড়ছে বা কমছে সেটার দিকে না যেয়ে সামনে কি হতে পারে সেটা নিয়ে ধারণা দিতো এই মডেল। সিটের দাম বাড়া কমার পেছনে কতগুলো সিট খালি আছে বা ঈদ পূজা পার্বনের ছুটি বা সাপ্তাহিক ছুটির সাথে এক দুদিনের বাড়তি ছুটি মানুষের টিকেট কেনার ব্যাপারে কিভাবে প্রভাবিত করে সেদিকে না যেয়ে শুধুমাত্র টিকেট কিনতে সিদ্ধান্ত নেবার সাহায্য করতো এই মডেল। টিকেট কিনবেন নাকি কিনবেননা –সেটাই প্রশ্ন।

২৪.

টু বি অর নট টু বি’র মতো “টু বাই অর নট টু বাই” প্রশ্ন থেকে রিসার্চ প্রজেক্টের নামও হয়ে গেলো প্রজেক্ট হ্যামলেট। স্বভাবতই ছোট্ট প্রজেক্টটার পেছনে দাড়ালো ভেনচার ক্যাপিটাল ফার্ম। উদ্ভাবনীর গন্ধ ছুটলে টাকা ওড়ে বলে দেশটা উঠে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্টার্টআপটার নাম হয়ে গেলো ফেয়ারকাস্ট। বিমান ফেয়ারের ফোরকাস্ট করার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের ক্ষমতায়ন করলো কোম্পানিটা। প্লেনে ওড়ার আগ পর্যন্ত কবেকার টিকেটের দাম কতো হবে – সবচেয়ে সস্তা দাম থেকে কতো কম বেশি হবে সেটা বলতে পারায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমে এলো। কবে “বাই টিকেট” বাটনটা প্রেস করবেন সেটা আন্দাজ করতে পারায় লক্ষ মানুষের টাকার সাশ্রয় হওয়া শুরু করলো। ইন্টারনেট থেকে হাজার তথ্যের ভিত্তিতে কাজ শুরু করলেও এজীয়নি তার তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য ফ্লাইট ইন্ডাস্ট্রির রিজার্ভেশন ডাটাবেসের দিকে হাত বাড়ালেন। ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্টের প্রতিটা এয়ারলাইন্সের রুট আর তার প্রতিটা সিট ধরে প্রেডিকশন করার ক্ষমতা চলে এলো ফেয়ারকাস্টের হাতে। ফেয়ারকাস্টের এলগরিদম তখন প্রায় বিশ হাজার কোটি প্রাইস পয়েন্ট ভ্যারিয়েবল নিয়ে বিমানের প্রতিটা সিটের দাম আগে থেকে বলে দিচ্ছিল। এয়ারলাইন্স ইন্ডাস্ট্রির কোটি টাকার রেভিনিউ কমিয়ে দিয়েছিলেন যাত্রীদের পক্ষে। কি ভয়ংকর ব্যাপার! এর সাফল্যে তার মাথায় হোটেল রুম বুকিং, কনসার্ট টিকেট, রিকন্ডিশন্ড গাড়ি বিক্রির কাজ গিজগিজ করা শুরু করলো। শুরু করার আগেই মাইক্রোসফট কোটি টাকা নিয়ে তার দরজায় হাজির। সার্চ ইঞ্জিন বিংয়ে যুক্ত হলো ফেয়ারকাস্টের জাদু। দুহাজার বারো সালেই প্রতি টিকেটে যাত্রীরা বাঁচালেন প্রায় পঞ্চাশ ডলার করে।

২৫.

বিগ ডাটা কোম্পানি হিসেবে ফেয়ারকাস্টকে এখানে উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসার অর্থ হচ্ছে পৃথিবীর ভবিষ্যতকে আপনাদের সামনে নিয়ে আসা। আগে কম্পিউটারের ক্ষমতা, শক্তি বিজ্ঞানের পরিবর্তিত ধারায় অনেকগুণ বেড়েছে, ফলে আপনার হাতের মোবাইলফোন আগের সুপারকম্পিউটার থেকে বেশি ক্ষমতা ধারণ করে। ফলে, বিলিয়ন বিলিয়ন রেকর্ড ক্রাঞ্চ মানে প্রসেস করা এখন আর বাজেটের উপর নির্ভরশীল নয়। পিপিলিকার মতো সার্চ ইঞ্জিন এখন হোস্ট করা যায় অনায়াসে – হাজার মাইল দুরে – প্রসেসিং ক্ষমতা জেনেই। ডাটা আর আগের মতো স্ট্যাটিক নেই, এর ডাইনামিক আচার আচরণ একে মূল্যবান করে ফেলছে দিনের পর দিন। ডাটা, যেমন আপনার বিমান ভ্রমণের পর আর অপাংতেয় হচ্ছে না বরং তা ভবিষ্যত দেখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সার্চ করছেন বাংলাদেশে বসে আপনি, আপনার সার্চ কোয়েরি কর্পুরের মতো উড়ে যাচ্ছে না আপনার সার্চের পর। তাকে বরং ব্যবহার করা হচ্ছে আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণের জন্য। আমাদের ভবিষ্যত ছেড়ে দেয়া আছে তাদের উদ্ভাবনীর উপর। আমরা কি পছন্দ করবো সেটা আসছে ওখান থেকে।

২৬.

বাংলাদেশ – কোটি মানুষের দেশ – পাশ কাটাচ্ছি প্রতিনিয়ত এই বিগ ডাটার সুফল। বিশাল সম্ভবনা রয়েছে আমাদের দারিদ্র বিমোচনে, শিক্ষার প্রসারে আর সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে। তথ্য আছে হাতের মুঠোয়, বের করে নিতে হবে প্রজ্ঞা অংশটুকু।

দরকার একটু দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ভাবভঙ্গি। মানুষে নয়, নীতিমালায়।

মানুষ বাড়ছে, বাড়ছে না জমি – সিঙ্গাপুর আর আমাদের মধ্যে পার্থক্য থাকবে কি আর? যাদের খাওয়ার পানিটাও কিনে খেতে হয় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে, তারা আজকে গিয়েছে কোথায়? সাগরের সাথে যুদ্ধ করে জমি মানে রিক্লেমল্যান্ড বের করতে দক্ষতার বিকল্প নেই। ইনএফিসিয়েন্ট হবার সুযোগ দেখছি না, অন্ততঃ আমাদের।

কোটি ডাটা, যা নিয়ে কাজ আমার, ভবিষ্যতদ্বানি করার সময় হয়ে আসছে বলে।

আসছি সামনে।

Advertisements

Read Full Post »

“Global warming isn’t a prediction. It is happening.”
James Hansen

২০.

কোনো কিছু কিনে ঠকে মন খারাপ না হলে আপনি মহামানুষের ক্যাটাগরিতে পরবেন চোখ বুঁজে। এক দোকান দেখে কেনা বাদ দিয়েছি বহু আগে। অনেক সময় কয়েক দোকান দেখে কিনলেও পরে অন্য এলাকার দামের খোঁজ পেলে মন কিঞ্চিত বিষিয়ে যায় বটে। ইনফরমেশন গ্যাপের কারণে যারা এই তথ্য নিয়ে কাজ করেন তাদের মনে হয় মন খারাপ হয় আরো বেশি। যেমনটি হয়েছিলো অরেন এজীয়নির। সত্য ঘটনাটা নিয়ে আসছি ভিক্টর মেয়ারের ‘বিগ ডাটা’ থেকে। ‘বিগ ডাটা’ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি কিছু গল্প না হলে বইটা নিরস হয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। সিয়াটল থেকে লস এঞ্জেলেসে যাবার টিকেট কিনেছিলেন মাস খানিক আগেই – অনলাইনে। অনেকগুলো সাইট ঘুরে সস্তার মধ্যে পাওয়া গেলো টিকেটটা। হাজার হোক ভাইয়ের বিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী যতো আগে টিকেট কাটবেন ততো সাশ্রয়। আমার অভিজ্ঞতা এর ব্যতিক্রম কিছু নয়, তবে প্ল্যানিং এর অভাবে টিকেট কাটা পড়ে যাবার কয়েকদিন আগে। আর দাম? সে আর বলতে! মাস খানেক আগে এয়ারলাইন্সের টিকেট পাওয়া যায় পানির দামে। দুরপাল্লার ট্রেন টিকেট থেকেও দাম পড়ে অনেক কম।

২১.

ওড়ার পর কথায় কথায় পাশের সিটের সহযাত্রীর কাছ থেকে তার টিকেটের দাম শুনে চক্ষু চড়কগাছ! তাও আবার কেনা হয়েছে কয়েকদিন আগে। মেজাজ খারাপ হতে শুরু করলো এজীয়নির। কৌতুহলবশত: লজ্জার মাথা খেয়ে প্রশ্নটা করলেন আরো কয়েকজনকে। তারপর আরো চার পাঁচজনকে। বেশিরভাগই টিকেটগুলো কিনেছেন কমদামে। তাও আবার কিনেছেন এই সপ্তাহ দুএকের মধ্যে। প্রতারিত মনে হতে থাকলো নিজেকে। সাধারণ মানুষের মতো ঘটনাটা সবাই আমরা ভুলে যেতাম বিমানযাত্রাটার শেষে। কতো জায়গায় প্রতারিত হয়েছি তার নাই ঠিক। এতো সামান্য একটা টিকেটই তো! ভুললেন না জিনিষটা। সেসময়ের সেরা কম্পিউটার বিজ্ঞানীদের একজন এজীয়নি। তার তেতো হবার বিষয়টি নিয়ে বসলেন ল্যাবে। হার্ভার্ড থেকে পাশ করে তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি ‘বিগ ডাটার’ মতো জিনিসটা বোঝার চেষ্টা করছিলেন তিনি। ‘বিগ ডাটা’ শব্দটা তখন অজানা থাকলেও তার পিএইচডির রিসার্চ তৈরী করতে সাহায্য করে পৃথিবীর প্রথম সার্চ ইঞ্জিন ‘মেটাক্রলার’। ‘মেটাক্রলার’কে কিন্তু কিনে নেয় পরে ইনফোস্পেস। ‘মেটাক্রলার’কে কম জ্বালাইনি আমি। তখন তো আর ইয়াহু আর গুগল ছিলো না। মেটাক্রলার, ওয়েবক্রলার আর লাইকস ছিলো মাঠের মধ্যমনি। এজীয়নির আরো বেশ কয়েকটা স্টার্টআপ কিনে নেয় সার্চ ইঞ্জিন এক্সসাইট আর নিউজ এজেন্সী রয়টার।

২২.

এয়ারলাইন্সের টিকেট নিয়ে হাজার সাইট নতুন নতুন অফার নিয়ে আসলেও একই ফ্লাইটে সিটগুলোর দামের ওঠানামা নির্ভর করে সেই এয়ারলাইন্সের ওপর। এই দাম ওঠা নামার মধ্যে অনেক ফ্যাক্টর কাজ করলেও এয়ারলাইন্সের ভেতরের খবর তো আর কারো জানা থাকার কথা নয়। এজীয়নি এমন একটা মেকানিজম বের করতে চাইলেন যার মাধ্যমে একটা যাত্রী অনলাইনে দাম দেখে বলতে পারবেন সেটা তার জন্য আসলে প্রযোজ্য কিনা। মানে মেকানিজমটা বলতে পারার কথা যে ওই টিকেটটার দাম ওই মুহূর্ত থেকে ভবিষ্যতে আরো বাড়বে নাকি কমবে কিনা? বা, আগে আরো কম ছিলো কিনা? নাকি এখন না কিনলে ভবিষ্যতে পস্তাতে হবে কিনা? এ কাজটা করতে যেয়ে প্রথমদিকে ঝামেলা হলেও পরে প্রচুর ডাটা থেকে প্রেডিকশন আর ফোরকাস্টিং মতো জিনিসগুলো কিভাবে বের করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিলেন এজীয়নি। তার থেকে বরং নতুন কিছু উদ্ভাবন করে এই দামের হরফের বের করাটা আরো কষ্টকর হতো। তার থেকে ওই মুহুর্তে যে দাম ওয়েবসাইটে দেয়া আছে তার থেকে ভবিষ্যতে বাড়বে না কমবে সেটা আন্দাজ করতে পারলেই কিন্তু কেল্লাফতে। একটু কষ্টকর হলেও এটা সম্ভব কিন্তু। একটা রুট ধরে তার সব টিকেট বিক্রির ইতিহাস, মানে বাড়ছে না কমছে – আর সেটার সাথে ফ্লাইটের আগের দিনগুলোর হিসাব থাকলে তা সহজ হয়ে যাচ্ছে আরো। …

[পরের পোস্ট দেখুন]

Read Full Post »

“Any fool can know. The point is to understand.”
Albert Einstein

১৬.

কলেজে পড়ার সময় ঘুম না আসলে কেমিস্ট্রির বইটা কোনো রকমে বিছানার পাশে আনতে পারলেই কেল্লা ফতে। চিন্তা করুন কি দিন পার করেছি তখন! ধারণা করছি আমার লেখা তা থেকে দুরে নয় একেবারেই। আপনাকে জাগিয়ে রাখার দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম গুগলের উপরে। মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম অ্যান্ড্রয়েড আছে আমার সাথে প্রায় ওর জন্ম থেকে। বেটা টেস্টার শব্দটা কিন্তু শুনতেও খারাপ লাগার কথা নয়। মোবাইলে বড় বড় ইমেইল টাইপ করতে যেয়ে ক্লান্ত হবার ভাব আসতেই এলো “গুগল নাউ”| লেখার দিন কি শেষ হয়ে আসছে তাহলে? ‘গুগল ভয়েস সার্চ’ এর সবকিছু পাবেন আপনি এখনি। দুহাজার এগারো সাল থেকেই কিন্তু দিয়ে রেখেছে ব্রাউজারে ভয়েস সার্চ – আমাদের অগোচরে। সার্চ বাটনের পাশে মাইক্রোফোনে চাপ দেয়াটাই ছিলো বাকি।

১৭.

ক্যান ইউ গেট মি টু ঢাকা ইউনিভার্সিটি? প্রশ্ন শেষ না করতেই ঝরঝরে উত্তর – ইউনিভার্সিটির টেলিফোন নম্বর সহ। সিরি’র (মানে আইফোনের) মতো চমত্কার গলা, বিশ্বাস করুন রোবটিক মনে হয়নি কখনো। “মহিলার গলা বলে কথা!” আপনার জবাব।

প্লেস আ কল টু স্বাতী’স মোবাইল? আমার বউ জানলে সমস্যা হতে পারে কিন্তু। মানে ওকে কল করতে একটা আঙ্গুলও নাড়াতে হচ্ছে না আমাকে। ভয়ংকর কথা! অথবা কানেক্ট মি টু হোটেল সোনারগাঁও? কুচ পরোয়া নেহি। কোনোটাতে না নেই ওর।

সেন্ড টেক্সট টু ‘শান্তুনু’ সেয়িং আ’ল সি ইউ ইন থার্টি মিনিটস! দেখুন না আপনার অ্যান্ড্রয়েড কি করে? সেন্ড এসএমএস টু স্বাতী, উই আর ওয়াচিং সুপারম্যান টুমরো। সংসারে শান্তি আগে!

ইমেইল আর্শিয়া রাইসা হাসান, মা আ’ল বি লিটল লেট টুনাইট। আমার মেয়ের কাছে মেইল চলে গেলো ও মুহুর্তে। ওপেন জিমেইল। উত্তরটা পড়ে মন খারাপ হয়ে গেলো। যেতে পারছি না বাসায়।

বুঝতে পারছি, অনেক প্রশ্ন। প্রশ্ন বানিয়ে দেবো কি কয়েকটা? সোজা সোজা?

হাউ টল ইজ দ্য আইফেল টাওয়ার? হাউ বিগ ইজ বাংলাদেশ? হাউ মেনি পাউনডস ইন কিলোগ্রাম? আবার, হাউ মেনি প্যাডিতে কতো রাইস চলবে না কিন্তু।

হোয়েন উইল দ্য সান রাইজ? সূর্যমামা আমার ইব্রাহিমপুরে কখন উঠবে সেটা বলতে ভুল করেনি সে। আমি আবার ভুলে যাই সবকিছু। হোয়াট ইজ দ্য মিনিং অফ অ্যান্ড্রয়েড? আমার নিজের স্পেসিফিকেশনটাই বললো তো মনে হলো। ভুল শুনলাম নাকি?

১৮.

রিমাইন্ড মি টু বাই ম্যাঙ্গো হোয়েন আই গেট হোম। আমার বাড়ি সবার আগে চেনে ও। ফোনটা প্রতি রাতে যেখানে ঘুমিয়ে থাকে ওটা ভুলবে নাকি সে? ওভাবে ও বুঝে গেছে এটা আমার ডেরা। বাসায় পৌছানো মাত্র ক্যাট ক্যাট করতে থাকবে ফোনটা, বিশ্বাস না হলে বাসায় আসুন একদিন। চায়ের দাওয়াত রইলো, বাসায় – অফিসে। রিমেম্বার টু টেক অ্যান্টাসিড ইন থ্রি আওয়ারস। রিমাইন্ড মি টু গো ফর রান অ্যাট সেভেন পিএম। জুতা পরার আগেই পাগল করে দেবে “নাউ” বেটি।

সিডিউল অ্যান অ্যাপয়েন্টমেন্ট টু সি দ্য আই ডক অন অয়েন্সডে অ্যাট নুন! জি, নুন মানে পাঁচটা থেকে সাড়ে পাঁচটা। ইভেন্ট তৈরী হয়ে যাবে কথাতেই। আই উড লাইক টু সিডিউল অ্যা মিটিং উইথ মিজান টুমরো মর্নিং। ভালো কথা মিটিংয়ের সময় দিলেন, ঘুম থেকে ওঠাবে কে? সেট অ্যালার্ম ফর সিক্স টুমরো মর্নিং! অ্যালার্ম তৈরী হয়ে যাবে তখনি, উঠবেন তো?

দৌড়াচ্ছেন ট্রেডমিলে। ট্রেডমিলে উঠলেই লরা পসিনির কথা মনে পড়ে আমার। সে এক অন্য কথা।

প্লে সাম লরা পসিনি! লরা পসিনির কিছু বাজা ব্যাটা! সরি, বেটি। বলে কি! পয়সা চাচ্ছে দেখি। ‘প্লে মিউজিক‘ বলতেই ওর মিউজিক অ্যাপ চালু করলো সে। ভাগ্যিস, পসিনির কয়েকটা গান ছিলো ওখানে। কাল ওর একটা গান শুনলাম, নতুন। আগে শুনিনি কখনো। গানের টাইটেল জানার চেষ্টাটা ঠিক হবে কিনা – দোটানায় পড়লাম আবার।

হোয়াট ইজ দিস সং? বলেই মোবাইলটাকে ধরলাম স্পিকারের কাছে। সেটাও বলে দিলো গড়বড় করে, স্পটিফাই লাগলো না! আমার চোখ কপালে। রীতিমতো ভীতিকর।

নোট টু সেলফ, নিড টু রাইট অন বিগ ডাটা! ওমা! গুগল কীপে চালান হয়ে গেলো আমার নোট। ‘কীপ’ নোট লেখার জন্য ভয়ঙ্করভাবে খুবই সাধারণ অ্যাপ, এভারনোটের মতই খানিকটা। বই, বের করতে পারবো তো? পিক আপ দ্য কিডস ফ্রম স্কুল অ্যাট টু পিএম, রিমাইন্ডার রেডি আমার। কল জাহাঙ্গীর। ডায়ালার চালু হয়ে গেলো মুহুর্তের মধ্যে।

উইল ইট রেইন টুডে? মন ভালো হয়ে গেলো মুহুর্তে! মানুষের মতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর। ডু আই নিড অ্যান আম্ব্রেলা টুমরো? জি না। মানে উত্তর আছে সেটারও।

ভাই থাকে ভান্কুয়েভারে। অসময়ে কল না করে বরং বলি ‘হোয়াট টাইম ইজ ইট ইন ভান্কুয়েভার?’ আরো জানতে চাইলাম … উইল ইট স্নো? ভান্কুয়েভারে ক্লিয়ার স্কাই! ও ইব্রাহিমপুরের কথা বলেনি কিন্তু।

কাছের বইয়ের দোকানে নিয়ে যাওতো বাপু। পছন্দের বুলি, আমার – বাইরে যাই যখন। সব বইয়ের দোকানের নাম মুখস্ত, ওর।

গুগল নাউ এখন হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে, বাংলাদেশেই। উন্নতদেশে তা আরো বেশি। পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম মানে প্রতিটা টিউব, ট্রেন, ফ্লাইট ডিটেলস – কোথায় কোন মুভি বা আপনার পছন্দের ইভেন্ট চলছে সব তার ঠোটের আগায়। সবই বিগ ডাটার কল্যানে। ফ্রন্টএন্ডে পাঁচ হাজার টাকার সামান্য ফোনটাকে আপাততঃ নিরীহ মনে হলে এর পেছনে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের বিগ ডাটার জ্ঞান। ইন্টারনেট হচ্ছে তার একমাত্র সংযোগসুত্র।

আমরাও বসে আছি হাজার তথ্যের উপরে। এই বাংলাদেশে। কাজ করতে পারছিনা ব্যবহারবিধি অজানা থাকার কারণে। জ্ঞানের স্বর্ণখনি রয়েছে হাতের নাগালে। ভাগ্য পাল্টে দেয়া নির্ভর করছে সেটার ব্যবহারের ওপর। আরো নিয়ে আসবো সামনে।

১৯.

আপনাকে জেগে রাখানোর চেষ্টা মহাসমারোহে বিফল। শেষ চেষ্টাটাই করি বরং।

ল্যাপটপ (ব্রাউজারের স্পিকারটা চাপুন) বা গুগল নাউ থেকে প্রশ্ন –

হু ইজ দ্য প্রাইম মিনিস্টার অফ বাংলাদেশ? প্রথম প্রশ্ন।

উত্তরটা শোনার জন্য সময় নিন।

হাউ ওল্ড ইজ শি?

ওহহো, ভুল হয়ে গেছে প্রশ্নে। কার বয়স জিজ্ঞাসা করেছি ও জানবে কিভাবে?

Read Full Post »

« Newer Posts

%d bloggers like this: