Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বিগ পিকচার’

৫৮.

প্রতিটা মানুষ কতক্ষণ কথা বলে, কোথায় কথা বলে, কার সাথে বেশি বলে, কয়জন তাকে রিং দেয়, কাদের কল কেটে দেয় সে, সারাদিন কোথায় থাকে, কার কার সাথে থাকে – মানে, কাজ করে কোথায়, ঘোরে কাদের সাথে, ঘুমায় কোথায়, কোন জায়গায় যায় বেশি, রিক্সায় যায় না গাড়িতে যায়, কয় টাকা রিচার্জ করে – সব আসে ওই মেশিন লার্নিংয়ে। ‘মিসড কল’ পার্টি কিনা সেটাও বোঝা যায় এই রেকর্ড থেকে। কয়টা এসএমএস যাচ্ছে আসছে সেটাও বোঝায় তার শিক্ষার মাত্রা।

৫৯.

ধরুন দেশের সবচেয়ে বড় নীতি নির্ধারণী কমিটিতে আছেন আপনি। প্ল্যান: তিনশো বাস নামাবেন রাস্তায়। বিশাল আরবান প্ল্যানিংয়ে শুরুতে ঢাকা শহরের মানুষগুলোর আয়ের ধারণা পেতে ‘অ্যাক্সেস’ দেয়া হলো আপনাকে। বিগ ডাটাতে। মোবাইল অপারেটরের নাম নম্বর ছাড়া ওই ‘সিডিআরে’।

৬০.

এর পাশাপাশি, মোবাইল টপ আপেও গল্প আছে অনেক। কতো তাড়াতাড়ি টপ-আপ করছে মানুষটা – সেটার একটা ধারণা পাওয়া যায় মেশিন লার্নিং থেকে। প্রতি টপ-আপে কতো টাকা ভরছে সে, সবচেয়ে বেশি আর কম রিচার্জের একটা যোগসুত্র পাওয়া যায় ওখান থেকে। রিচার্জ টাকার ওই ভ্যারিয়েশনের একটা ‘কোএফিসিয়েন্ট’ আমাদের ধারণা দেয় অনেক কিছু। কি ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়ে – কিভাবে সেটাকে চালাচ্ছে মানুষজন – সেটাও ধারণা দেয় তাদের আয়ের একটা হিসেব।

৬১.

মোবাইল ফোন কাজ করে ‘বেজ স্টেশন’ ধরে। মোবাইল টাওয়ারের পুরো রেডিয়াস ধরে চলে আসে অনেক জ্ঞান। ফলে, মানুষটা কাদের সাথে থাকে দিনে, মানে কাজ করে কোথায় – আর রাতে ঘুমায় কোন এলাকায় সেটাও ইন্ডিকেট করে তার আয়ের হিসেব। থাকে কোথায় – বস্তি না অ্যাপার্টমেন্ট – সেটাও আসে সঙ্গে। মানুষ দিনের বেলায় কোথায় থাকে সেটাই বড় ধারণা দেয় কতো টাকা আয় করে সে। সেখানে ‘রিজিওন’ ধরে বের করা যায় মানুষের গড়পরতা আয়। মানুষের ট্রাভেল প্যাটার্ন ধারণা দেয় অনেককিছুরই।

৬২.

বাড়তি হিসেবে – অপারেটরের ডিভাইস ম্যানেজারে পাওয়া যায় আরো অনেক গল্প। কি ডিভাইস, ক্যামেরা আছে কি না, আইফোন, না স্যামস্যাং নোট – নাকি নোকিয়া ১১১০ ধারণা দেয় মানুষটার আয়ের ধরন। ফোনগুলোর মধ্যে সিম পাল্টাপাল্টি হলে জানা যায় মানুষটার অন্য ফোনগুলোর হিসেব। তবে, সবকিছুই ‘অ্যানোনিমাস’ ডাটা। ‘অ্যানোমাইজড’ মেটা ডাটা হচ্ছে গ্রাহকের নাম নম্বর না নিয়ে শুধু মোট সংখ্যার একেক ধরনের পরিসংখ্যান। গ্রাহকের ‘প্রাইভেসি’র সমস্যা নেই এতে। আমাদের বের করতে হবে ঢাকা শহরের মানুষের আয়ের সক্ষমতা। বাস ভাড়া হিসেবে। ফেলে দেবো মেশিন লার্নিংয়ে। বিগ ডাটা থেকে।

[…]

Advertisements

Read Full Post »

The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

– Mark Twain

০৪.

আমার নিজের একটা তত্ত্ব আছে এই ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ নিয়ে। হয়তোবা এতো বছরের উপলব্ধি থেকে তৈরি হয়েছে জিনিসটা। অনেক কিছু পড়তে গিয়েও আসতে পারে ধারনাটা। ব্যাপারটার নাম দিয়েছি ‘ক্যানভাস’ তত্ত্ব। প্রতিটা মানুষ পৃথিবীতে আসে একটা সময়ের জন্য। ধরে নিন – ওই সময়টাতে সমমাপের একেকটা ‘সাদা ক্যানভাস’ নিয়ে আসি আমরা। জন্মের পর ওই একেকটা জ্ঞান একেকটা বিন্দু হয়ে আঁকা হতে থাকে ওই ক্যানভাসে। সবার ক্যানভাসের জায়গা সমান হলেও যে শিখবে যতো বেশি, তার বিন্দু হবেও বেশি। এক যায়গায় কারো বিন্দু বেশি হলে সেগুলো চলে আসবে কাছাকাছি।

০৫.

হাটতে শেখার জ্ঞানটাকে প্লট করুন একটা বিন্দু দিয়ে। সেভাবে দৌড়ানোটাও আরেকটা বিন্দু হয়ে যোগ হবে আগের হাঁটতে শেখার বিন্দুর কাছাকাছি। সাঁতার শেখাটাও কিন্তু আরেকটা বিন্দু। এগুলো সব কাছাকাছি বিন্দু। তেমন করে ক্লাস ওয়ান পড়াটা একটা বিন্দু, ক্লাস টু আরেকটা। এক ধরনের জ্ঞানগুলোর বিন্দুগুলোই আঁকা হতে থাকে কাছাকাছি।

০৬.

আর এভাবেই তৈরি হতে থাকে একেকটা ‘ফ্লো অফ আইডিয়া’। কয়েকটা বিন্দু মিলে হয় একেকটা ‘ওয়ার্কফ্লো’। যুক্ত হতে থাকে ওই ‘ডটেড’ ইভেন্টগুলো। পাশাপাশি। তৈরি হয় ‘বিগ পিকচার’। মনে আছে ওই প্রথম ভিডিও’র বিন্দু থেকে আঁকা পাখিটার মতো? আর সেসময়ে তৈরি হয় ওই ‘আহা’ মুহূর্তটা!

০৭.

সময় আর অভিজ্ঞতা থেকেই চলে আসে আরো অনেক ‘ডট’। দুটো ‘ডটে’র মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে নতুন নতুন জ্ঞান মানে ওই ‘ডট’ প্রতিদিন। মানে নতুন নতুন প্রসেস করা তথ্য। একেকটা বিন্দুর ‘ইনফ্লুয়েন্স’ চলে আসে পরের বিন্দুগুলোর ওপর। আর সেকারণে পেছনের ওই গায়ে গায়ে লাগানো ডটগুলো প্রজ্ঞা দেয় তৈরি করতে – আমাদের সামনের ডটগুলো। ভবিষ্যত দেখার প্রজ্ঞা। কিছুটা বুঝতে পারি এখন – কি করতে চাই জীবনে।

০৮.

যে যতো শেখে তার ক্যানভাসে বিন্দুর সংখ্যা বেশি। আবার, বেশি বেশি বিন্দুতে কাছাকাছি বিন্দুগুলো ‘ইনফ্লুয়েন্স’ করে যে জায়গাগুলোতে – যেখানে বিন্দু পড়েনি এখনো। সেকারণে ওই বিশেষ জ্ঞানটা তার না থাকলেও কাছের বিন্দুগুলো থেকে ‘কনটেক্সচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নিয়ে নেয় ওই মানুষটা। এর সোজা মানে হচ্ছে সেই মানুষটা ‘কানেক্ট করতে পারে ওই ডটগুলোকে। আমার ধারনা, সেটার আউটকাম হচ্ছে ড্যানিয়েল গোল্ডম্যানের ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’। কিছুটা উপলব্ধির ‘বিগ পিকচার’।

কেন দরকার?

নিজেকে চিনতে। আরো ভালো করে বললে, জানতে – কেন এসেছি দুনিয়াতে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

True intelligence operates silently. Stillness is where creativity and solutions to problems are found.

― Eckhart Tolle, Stillness Speaks

১৯.

এখন তো বড় বড় টিভি বানাচ্ছে স্যামস্যাং। ওরকম একটা বড় টিভির এলইডি প্যানেলের খুব কাছে দাড়ালে ছোট ছোট ডট ছাড়া আর কিছু দেখার কথা নয়, কি বলেন? সেকেন্ডে শতবার পাল্টানো ওই স্ক্রীনে কি হচ্ছে সেটা বোঝার উপায় আছে কি? ওই জায়ান্ট স্ক্রীন থেকে দূরে দাড়ালেই বরং পুরো ক্যানভাসটা ভেসে আসবে চোখে। আমাদের জীবনটাও ক্যানভাস একটা। ‘বিগ পিকচার’ পেতে হলে সচরাচর জীবন থেকে নিতে হবে ‘ব্রেক’। ওয়ান্স আ হোয়াইল। যেকোন সমস্যার সমাধানে ওই সমস্যা থেকে বের হয়ে সমাধান করার মতো। আপনাকে তো সময় পার করার জন্য পাঠানো হয়নি এই নশ্বর পৃথিবীতে। মনে আছে স্টিভ জবসের ‘পুট আ ডেণ্ট ইন দ্য ইউনিভার্স’ কথাটা? ‘মহাবিশ্বে টোল খাওয়ানোর জন্য এসেছি আমরা। সেটা না হলে এখানে থাকাই বা কেন?’ জীবনের হাজারটা জিনিস ‘ঘটতে থাকে’ এই আমাদেরই মাথার ভেতর, কি বলেন? আমাদের স্মৃতি, কল্পনা, ইন্টারপ্রেটেশন, জল্পনা, ভাবনাচিন্তা আর স্বপ্ন চলছে প্রতিমূহুর্তে – আমাদের মনে। তার মানে হচ্ছে, আপনার জীবনকে পাল্টাতে হলে প্রথমেই পাল্টাতে হবে আপনার মনকে। আপনাকে মানে নিজেকে না চিনলে মনকে কিভাবে নিয়ে আসবেন হাতের নাগালে?

২০.

সমাজ নিয়ে যারা কাজ করেন তারাই তো সমাজ বিজ্ঞানী, তাই না? তাদের একটা নতুন গবেষণা পড়ছিলাম দিন কয়েক আগে। যদিও এটা তৈরি করা হয়েছে ‘মার্কিনী’দের ওপর, আমি এখানে কোন ভিন্নতা দেখিনা – আমাদের সাথে। গত পঞ্চাশ বছর ধরে যে হিসেব পাওয়া গেছে সেখানে আমরা আসলেই কাজ করছি কম। মানে, কমে গেছে আমাদের ‘কোয়ালিটি’ কাজের সময়। আমরা মনে করছি, অনেক বেশি কাজ করছি আগে থেকে, তবে আউটপুট বলছে অন্য কথা। কারণ, আমরা সময় নষ্ট করছি ‘ফালতু’ কাজে। যতো বেশি ‘টাইম সেভিং’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করছি সময় বাচানোর জন্য, ততো কমছে ‘নিজেদের’ সময়। আমরা সেকেন্ডে যোগাযোগ করতে পারছি পৃথিবীর ওপর প্রান্তের মানুষের সাথে, তবে ওই প্রসেসে হারিয়ে ফেলছি নিজের সাথের যোগসূত্র। নিজেকে চেনার সময় নেই বলতে গেলেই চলে।

২১.

চুপি চুপি বলি একটা কথা। বলবেন না তো কাউকে? জনাব পিকো আয়ারের মতো অনেক দেশ ঘোরার সুযোগ হয়েছিল আমার। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর কোম্পানীগুলোতে। সান-ফ্রান্সিসকো, সিলিকন ভ্যালি, টোকিও, সিংগাপুর, মিউনিখ, লণ্ডনের সিলিকন রাউন্ডাবাউট, হায়দারাবাদ, ঢাকার বেশ কিছু প্রযুক্তি কোম্পানীগুলোকে কাছে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। যারা আমাদেরকে প্রযুক্তির হাজারটা অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে বাঁচিয়ে দিয়েছেন ‘সময়’, তারাই বরং বিশ্বাস করেন প্রযুক্তির ব্যবহার ‘সীমিত’ করতে। তারা ‘এগজ্যাক্টলি’ জানেন, কখন বন্ধ করতে হবে ওই যন্ত্রপাতির ব্যবহার। ফেসবূক তৈরি করে মার্ক জুকারবার্গ পড়ে থাকেন না ফেসবুক নিয়ে – অন্তত: আমাদের মতো। গুগলের হাজারো প্রোডাক্ট নিয়ে বসে থাকেন না তাদের প্রতিষ্ঠাতারা। বরং মানুষকে অমরত্ব দেবার প্রজেক্টে ঢালছেন বিলিয়ন ডলার। প্রযুক্তি তৈরি করেন যারা তারা ভালো ভাবেই জানেন কখন বন্ধ করতে হবে ওটার ব্যবহার। গূগলের মূল প্রোডাক্ট ‘সার্চ ইঞ্জিন’ হলেও তাদের প্রযুক্তিবিদরা ব্যস্ত ‘ইনার সার্চ ইঞ্জিন’ নিয়ে। নিজেকে না চিনলে অন্যদের চিনবেন কিভাবে? অন্যদের না চিনলে অন্যদের জন্য ‘প্রোডাক্ট’ তৈরি করবেন কিভাবে? বিশ্বাস হচ্ছে না কথাটা? গুগল হেডকোয়ার্টারে তো গিয়েছেন অনেকে, জিজ্ঞাসা করুন তাদেরকে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: