Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বিটিআরসি’

৫৪.

দুহাজার দশের কথা। বিটিআরসিতে তখন আমি। বিদেশি একটা ইউনিভার্সিটি এলো কথা বলতে। দক্ষিণাঞ্চলের সাগরের তান্ডব তাদের রিসার্চের টপিক। কাহিনী কি? সাগরের সুনামিতে বিপদে পড়ে মানুষ। হারায় সবকিছু। ভাগ্যকে পুঁজি করে চলে আসে শহরে। শেষমেষ, জায়গা হয় বস্তিতে।

৫৫.

এখানে ঝামেলা হয় কয়েকটা। এক. সরকার জানতে পারে না কোথায় গিয়েছে তারা। তখন মার খায় পুনর্বাসনের ব্যাপারটা। তাদেরকে ফিরিয়ে আনার তাগিদ থাকে না কারোই। শেষে, চাপ তৈরি হয় শহরগুলোতে। দুই. মানুষটাকে কি ধরনের সহযোগিতা দিতে হবে সেটাও জানে না এইড এজেন্সীগুলো। তিন. মানুষগুলো কোথায় কোথায় ছড়িয়ে পড়ছে সেটার হিসেব থাকে না কারো কাছে। যদি কোন মহামারী হয় ওই এলাকা থেকে – সেটা ছড়াচ্ছে কোথায় কোথায় – সেটাও জানা দুস্কর।

৫৬.

কি দরকার আপনাদের? জিজ্ঞাসা করলাম তাদের। দরকার ‘এক্সেস’। মোবাইল কোম্পানির ডাটাতে। রিসার্চ টিমের দরকার কিছু ‘অ্যানোমাইজড’ মেটা ডাটা যা বের করে দেবে সবকিছু। প্রজ্ঞা হিসেবে। সরকারের কাজে।

৫৭.

দেখা গেছে মোবাইল ফোনের লগ মেটাডাটায় রয়ে যায় মানুষের স্বভাবজনিত প্রচুর ডিজিটাল ট্রেস। মোবাইল কোম্পানিগুলো তাদের বিলিংয়ের কাজে তৈরি করে ‘কল ডিটেল রেকর্ড’। এই ‘সিডিআর’ একটা নির্দোষ ফরম্যাট। তবে, মিলিয়ন ডাটার সাথে একে ‘অ্যানালাইজ’ করলে মানুষকে প্রজ্ঞা দেয় অন্য লেভেলে।

[…]

Read Full Post »

The most important thing in communication is hearing what isn’t being said. The art of reading between the lines is a life long quest of the wise.

― Shannon L. Alder

১০.

পড়াচ্ছি আবার। বাচ্চাদের স্কুল নয়, তবে সেটা হলেই ভালো হতো বরং। ‘স্বপ্ন’ দেখাবার একটা সুযোগ কেই বা ছাড়তে চায় বলুন? ঢেকি স্বর্গে গেলেও ভানে ধান। আমারো হয়েছে তাই। যেটাই দেখি সেখান থেকে ‘প্যাটার্ন’ বের করার বদঅভ্যাসটা যায়নি এখনো। কমিউনিকেশন প্রফেশনালদের এটা একটা সমস্যা বটে। আশেপাশের ‘এনভায়রনমেন্ট’ কি মেসেজ দিচ্ছে সেটা পাবার জন্য আলাদা প্রসেস চলতে থাকে মাথায়। বেশিরভাগ সময়ে ‘অন্যজন’ কিছু না করলেও সেটার মেসেজ কিন্তু অনেক অনেক বড়। মানুষের ‘হ্যান্ড জেসচার’ আর দাড়ানোর ‘পোসচার’ বলে দেয় অনেক কিছুই। অনেক সময়ে দেখেছি, মানুষ মুখে যা বলছে – তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বলছে অন্যকিছু। অনেক ‘প্যাটার্ন’ মানে বিভিন্ন ডাটাসেটের ভেতরে লুকানো মেসেজ বের করতে না পারলে মাটি হয়ে যায় রাতের ঘুম। কি যেন বলছিলাম? ও, হ্যাঁ – ক্লাসে ফেরার কথা।

১১.

ছাত্ররা ক্লাসে ঠিকমতো বুঝছে কিনা সেটা বোঝার জন্য একটা সময় পর পর পরীক্ষা নেই আমি। ‘স্পট’ টেস্ট। বলা নেই কওয়া নেই, হটাত করে। জায়গায় পরীক্ষা আর কি। তবে, সর্বোচ্চ দশ মিনিটের গল্প। প্রশ্ন তৈরী করি প্রায় প্রতিটা বিষয়কে স্পর্শ করে। যা যা পড়িয়েছি ওই সময়ের মধ্যে। ছাত্রদের এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে ওরকম মাথাব্যথা থাকে না ‘ওয়েটেজ’ কম থাকে বলে। তবে, পরীক্ষার সময়ে কিন্তু ঠিকই মাথা ঘামাতে হয় তাদের। যেটা পরীক্ষায় না পারে সেটা কিন্তু জানতে পারে পরীক্ষার শেষে। আমার ‘মিশন’ সফল। মাঝে মধ্যেই ওই অনেক ‘স্পট’ আর ‘প্রগ্রেস’ টেস্টগুলোর রেজাল্ট ইনপুট দেই এক্সেলশীটে। ‘সাধারণ’, ‘নিরীহ’ ডাটা হিসেবে পড়ে থাকে আমার ক্লাউড ড্রাইভে।

১২.

একদিন কি মনে করে ডাটাসেটগুলো ফেলে দিলাম একটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে। প্লট করার পর মাথা খারাপ হবার যোগাড় আমার। দেখা গেল কয়েকটা বিষয়ে ছাত্ররা খারাপ করেছে বার বার। অথচ, আমি ভাবতাম তারা ব্যাপারগুলো বুঝেছে ভালো। অথচ, ওগুলো ঠিক সময়মতো না জানলে পরের চ্যাপ্টারগুলো ধরতে কষ্ট হতো ওদের। মানে হচ্ছে, আমিই ঠিকমতো বোঝাতে পারিনি ওদেরকে। ব্যাপারটা কিন্তু পরিস্কার হলো ওই ‘নিরীহ’ ডাটাগুলোকে ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে প্লটিংয়ে ফেলে দেবার পর! সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে পরীক্ষা ভালো করছে সেটাও চলে এলো দিনের আলোর মতো। সকালে না দুপুরের পরীক্ষা – মনোসংযোগের ব্যাপারটাও চলে এলো ওর সাথে। ছাত্রদেরকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করলাম ওর পর থেকে। কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও। ‘কানেক্ট’ করতে সুবিধাই হলো বরং।

১৩.

বিটিআরসিতে থাকতে বেশ কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে ‘মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’ নিয়ে লম্বা লম্বা কাজ করতে হয়েছে একসময়। মোবাইল কোম্পানির গ্রূপগুলোর সাথে অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে সার্ভিসটা চালু করার ব্যাপারে। বুঝেছিলাম, বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে এই মোবাইলে টাকা পাঠানোর গল্পটা। ‘প্লাস্টিক’ মানে কার্ড নিয়ে ব্যাংকগুলো খুব একটা এগোতে পারবে না বলেই বলছি একথা। একটা নিরব বিপ্লব চলছে আমাদের চোখের আড়ালে। এদিকে ইন্ডাস্ট্রির সবার সাথে আমার টার্মস খারাপ নয়। মাঝেমধ্যেই যাওয়া পড়ে উনাদের অফিসগুলোতে। নাহলে, কফি খাই একসাথে।

১৪.

বর্তমান কালের এই ‘এমএফএস’ সার্ভিসের কিছু ভিজ্যুয়ালাইজেশন দেখে আমিই বেকুব। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকা থেকে সব টাকা ক্যাশ-ইন হয়ে চলে যাচ্ছে কয়েকটা জেলায়, চিন্তায় আসেনি কখনো। ঢাকাতে কোন এলাকার লোক বেশি ব্যবসায়ী, বুঝে গেলাম মুহুর্তেই। দিনের কোন সময়টাতে মানুষ বেশি টাকা পাঠাচ্ছে – সেটাই বলে দিচ্ছে তাদের কাজের ধরন আর ডেমোগ্রাফিক ইনফরমেশন। আবার, কোন জায়গাগুলো দিয়ে এক জেলার টাকা বের হয়ে যাচ্ছে আরেক জেলায়। টাকা ওঠানো নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভ্যাস ইঙ্গিত দিচ্ছে অনেক নতুন কিছুর। ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনে’ কাদেরকে আনতে আমাদের কাজ করতে হবে সেটাও এড়ালো না চোখ। নোটপ্যাডে এন্ট্রি পড়ল কয়েকটা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Don’t tell me about your effort. Show me your results.

― Tim Fargo

৩৭৩.

পুরোনো কাসুন্দি না ঘেঁটে সামনে আগাই বরং। ডাব্লিউআরসি-০৭তে যা আলাপ হয়েছে সেটার ধারণায় আমাদের কতো স্পেকট্রাম লাগবে ২০২০ সাল নাগাদ, সেটার প্ল্যানিং করতে হবে আমাদেরই। এখনই। স্যাটেলাইট কম্যুনিটি খেপে আছে মোবাইল ইনডাস্ট্রির ওপর। তারা নাকি নিয়ে নিচ্ছে সব ফ্রিকোয়েন্সি। এদিকে ডিজিটাল টিভি’র মাইগ্রেশনের কারণে বেঁচে যাচ্ছে অনেক ফ্রিকোয়েন্সি, সেটার জন্যও চাপাচপি করছে মোবাইল ইনডাস্ট্রি। তবে দেশগুলো নেই বসে। তাদের ম্যানুফ্যাক্চারিং ইনডাস্ট্রি চাপ তৈরি করছে নিজ নিজ দেশের অ্যাডমিনিষ্ট্রেশনের ওপর। এ এক বিশাল যুদ্ধ। আইএমটি-২০০০তে সনাক্ত করা ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে মাত্র অর্ধেকটা ব্যবহারযোগ্য। বাকিটা দেশগুলো না বুঝে দিয়ে বসে আছে অন্য সার্ভিসে। এদিকে, স্পেকট্রাম না থাকায় দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে অপারেটররা। গ্রাহক বেশি, পাইপ (স্পেকট্রাম) কম। ব্যবসা করে খেতে হবে তো তাদের। দেশগুলোকে কাজ করতে হবে নতুন স্পেকট্রাম ব্যান্ড ছাড়ার ব্যপারে। অপারেটরদের দেবার ব্যপারে। ডাব্লিউআরসি-১৫এর আগে ২০২০ সালে কতো স্পেকট্রাম দরকার সেটার ‘এষ্টিমেশন’ নিয়ে কাজ করেছে আইটিইউ’র ‘ওয়ার্কিং পার্টি ৫ডি’। হিসেবে বের হলো দেশগুলোর দরকার ১৮০০ মেগাহার্টজ। নিদেনপক্ষে। তার আগের ‘এষ্টিমেশন’ বলছিলো ১১৭২ মেগাহার্টজের কথা। মোদ্দা কথা, খুঁজে পেতে বের করতে হবে আরো ৫০০ মেগাহার্টজের বেশি স্পেকট্রাম। কম নয়।

৩৭৪.

তবে, বলে নেই একটা কথা – এই মোবাইল ট্রাফিকের মোটা পাইপটা কিন্তু সনাতন নেটওয়ার্ক থেকে আসে না। বরং এটাকে যদি বলি এভাবে – মোট ট্রাফিকের ৮০ শতাংশই আসে মোবাইল হটস্পট অথবা ইনডোর কাভারেজ থেকে। হতে পারে সেটা ওয়াইফাই, ফেমটোসেল অথবা ওয়াইডব্যান্ডের ছোট ছোট সেল। অল্প যায়গায়। ‘ইনফরমা টেলিকমস এণ্ড মিডিয়া’ রিপোর্ট তাই বলে। মানুষ চায় বেশি ডাউনলোড স্পীড। সোজা কথায় – বেশি ‘থ্রুপুট’। বেশি ‘থ্রুপুট’ চাইলে মোবাইল বিটিএসগুলো থেকে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলগুলো কাজ করে ভালো। আর সেকারণে গ্রাহকদের এই অতিরিক্ত চাহিদা আর ভালো সার্ভিসের জন্য অপারেটরদের সাহায্য নিতে হয় সব ধরনের প্রযুক্তির।

৩৭৫.

বাংলাদেশে ‘ইউনিফাইড’ লাইসেন্সিং রেজীম না থাকায় সমস্যা হচ্ছে কিছুটা। যেমন যারা ‘অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার’, গ্রাহকদের কাছে যেতে পারে যারা সরাসরি – যোগাযোগটা তারা স্পেকট্রাম দিয়ে দেবেন, না তার (ফাইবার) দিয়ে দেবেন সেটা ছেড়ে দেয়া হয় অপারেটরের কাছে। যাকে আমরা বলি ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং। আবার, অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডার (মোবাইল বা আইএসপি কোম্পানী) ঢুকতে পারবেন না হোলসেল প্রোভাইডারের আয়ত্ত্বাধীন ‘জুরিসডিকশনে’। ‘টেকনোলজি অ্যাগনস্টিক’ লাইসেন্সিং থাকলে অ্যাক্সেস সার্ভিস প্রোভাইডাররা ফাইবার দিয়ে গেলেন না স্পেকট্রাম দিয়ে গেলেন সেটা নির্ভর করবে অপারেটরের ওপর। কারণ তারা লাইসেন্স নিয়েছেন গ্রাহকের কাছে পৌছানোর জন্য। কি দিয়ে যাবে সেটা বিবেচ্য নয় রেগুলেটরের। ফলে তারা তৈরি করবে একটা ‘মিশ্র’ নেটওয়ার্ক। বাসা অফিসে ফাইবার। বাকি যায়গার জন্য কিনে নেবে স্পেকট্রাম। আর তাই স্পেকট্রামকে ‘ডি-লিঙ্ক’ করতে হবে লাইসেন্সিং থেকে। এগিয়ে গিয়েছে সবাই। লাইসেন্সিংয়ে।

৩৭৬.

রাস্তায় কাভারেজ দেবে মোবাইল বিটিএস (এইচএসপিএ/এলটিই)। বড় বড় শপিং মল, স্টেডিয়াম, বহুতল ফ্ল্যাট, বিশাল কণফারেন্স এরিনা – পুরো ‘থ্রুপুট’টাই ছেড়ে দেবে ওয়াইফাই অথবা ছোট ছোট সেলের ওপর। অনেক সময় এই ছোট ছোট সেলগুলো সার্ভিস দেয় ওই ফাইবারের ফিক্সড নেটওয়ার্কের মতো। গ্রাহকদের জানতেও হয় না কখন কোথায় সংযোগ পাচ্ছে। ওটা ছেড়ে দেয়া থাকে অপারেটরের ওপর। ফাইবার দিয়ে যাবে বিভিন্ন টিভি সার্ভিস। ‘অন ডিমান্ড ব্রডকাস্টিং’ অথবা নেটফ্লিক্সের মতো ‘ভিডিও অন ডিমান্ড’ সার্ভিস। ওগুলো খানিকটা ‘হেভি ইউসেজ’ সেগমেণ্টের জন্য। আর স্পেকট্রাম দিয়ে যাবে মোবাইল ডিভাইসের সংযোগগুলো। ট্রাফিক হবে কিছুটা ‘অ্যাসিমেট্রিক’, মানে ডাউনলোড বেশি হবে আপলোডের চেয়ে। স্পেকট্রাম দিয়ে কাজ করতে গেলে অপারেটরদের প্রয়োজন প্রায় সব ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি। কিছু প্ল্যানিং নিয়ে আলাপ করি আপনাদের সুবিধার জন্য।

ক॰ ওপরের দিকের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো চমত্কার কাজ করে – বড় বড় ‘থ্রুপুট’এর জন্য। এগুলো দিয়ে বড় ক্যাপসিটি দেয়া যায় গ্রাহকদের। ওয়াইডব্যান্ড বলে ফিক্সড নেটওয়ার্কের কাছাকাছি স্পীড দিতে পারে গ্রাহকদের। এগুলো সাধারণত: ১ গিগাহার্টজ অথবা ৩ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে ভালো। তবে এদের ‘ইন-বিল্ডিং’ পেনিট্রেশন নিয়ে কিছু সমস্যা হয় শহরে। তবে, ঢাকার মতো শহরে – যেখানে ৪০০ – ৫০০ মিটার পর পর রেডিও প্ল্যানিং করা হয় মোবাইল বিটিএসের, সেখানে এই সমস্যা থাকার সম্ভাবনা কম।

খ॰ সুত্র অনুযায়ী, নিচের ফ্রিকোয়েন্সি সুন্দর কাজ করে দূর দুরান্তের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে। যেখানে মোবাইল কোম্পানীর ব্যবসা কম, যদিও বাংলাদেশে ও ধরনের যায়গা পাওয়া ভার – সেখানে এক বিটিএস দিয়ে অনেক বেশি যায়গা নিয়ে যুক্ত করতে পারে গ্রাহকদের। একারণে ৭০০ মেগাহার্টজ নিয়ে পুরো পৃথিবীতে হৈচৈ। ১ গিগাহার্টজের নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলো এজন্যই ছেড়ে দেয়া জরুরী। বিটিআরসিতে থাকার সময় শুরু হয়েছিল কাজটা। ভয়েস চ্যানেলগুলো ৭০০ মেগাহার্টজে ‘অফলোড’ করে ৯০০, ১৮০০ আর ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যবহার করা যেতে পারে ডাটার জন্য। আর সামনে তো আসছেই ‘ভয়েস ওভার এলটিই’। ডাটা অল দ্য ওয়ে।

গ॰ ৪০০ মেগাহার্টজের নিচে গেলে ভালো – তবে, বড় হয়ে যাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট। এছাড়া ডিজাইন সমস্যা আছে ওর নিচের ফ্রিকোয়েন্সিগুলোতে। অস্ট্রেলিয়ান কম্যুনিকেশন্স এণ্ড মিডিয়া কমিশনের একটা হোয়াইট পেপার যদিও ব্যাপারটাকে নিয়েছে মেনে, তবে চ্যানেল ব্যান্ডউইডথ কমে এসে দাড়ায় ৬.২৫ কিলোহার্টজে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If you reveal your secrets to the wind, you should not blame the wind for revealing them to the trees.

— Kahlil Gibran

১২.

গুপ্তচররাই তথ্য লুকিয়ে ঘুরে বেড়ায় এক দেশ থেকে আরেক দেশে। মাঝে মধ্যে ওই ‘কাগজ’ অন্যের হাতে পড়লেও পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয় না বলে দেখি আমরা মুভিতে। অথবা স্পাই-থ্রিলার বইগুলো পড়তে গেলে। সচরাচর ধারনা করা হয়, স্নায়ু যুদ্ধের পর ব্যবহার শেষ হয়ে গেছে এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র। ‘কেজিবি’র ‘শ্লীপার এজেন্ট’দের নিয়ে পড়তে পড়তে আমরাও হয়ে যেতাম একেকজন গুপ্তচর। ওই ছোটবেলায়। ছিলো না খালি নায়িকা। কেউ ‘নায়িকা’ হলেও সে আবার মিলাতে পারতো না গুপ্তচরদের ‘খল’ নায়িকার চরিত্রে। গুপ্তচর হবার খায়েশ ওখানেই শেষ! ‘অ্যানা’কে কেন মরতে হলো ‘গানস অফ নাভারোণ’য়ে – সেটা নিয়েই জল্পনা কল্পনা। বছরখানেক। ‘গ্রেগরি পেক’ আবার হতেও দিলো ব্যপারটা? আর যাই হই – গুপ্তচর নয়। সৃষ্টিকর্তা বোধহয় হেসেছিলেন আড়ালে।

১৩.

সত্যিকার অর্থে, স্নায়ু যুদ্ধের পর ব্যবহার বেড়েছে ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’র। বরং হু হু করে। কোম্পানীগুলো একটার পর একটা সাইবার আক্রমনের শিকার হয়ে হারাচ্ছিলো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। গ্রাহকের ‘পরিচয়’ চুরি করে এমন সব কাজ হতে শুরু করলো সেটাতে শুধু টাকা হারানো নয়, হাজারো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে থাকলো সাধারণ মানুষেরা। কে কবে কাকে কি ইমেইল লিখেছিলো সেটাও চলে গেল ওয়েব সাইটে। মানুষের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও চুরি করে বিক্রি হচ্ছে অনলাইনে। ‘ব্যক্তিগত গোপনীয়তা’ মানে মানুষের ‘প্রাইভেসী’ নিয়ে চরম টানাটানি। বিটিআরসিতে ‘সাইবার সিকিউরিটি টীম’ চালানোর সময় মানুষের হয়রানি দেখে শিউরে উঠতাম নিজেই। সাত বছর – লম্বা সময়। মানসিকভাবে কষ্ট পেতাম মানুষের ‘অসহায়ত্ব’ দেখে। মানুষের চোখের পানির সামনে নিজেকে অসহায় মনে হতো আরো। ওই কষ্ট থেকে বইটা ধরা। মিলিয়ন ডলারের ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’ নিয়ে আলাপ করবো না আমি। ‘ওপেনসোর্স’ হাজারো ‘নিরাপত্তা প্রজেক্ট’ তৈরি হয়েছে মানুষকে সাহায্য করতে। এটা নয় আর রকেট সায়েন্স। অন্তত: আমাদের জন্য। তবে, সবার আগে – কেন দরকার এই ‘ক্রিপ্টোগ্রাফী’? আর, কিছুটা ব্যাবচ্ছেদ করবো – মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিকে।

১৪.

আমার অভিজ্ঞতা বলে – মানুষ সবচেয়ে বেশি ‘ওপেন’ মানে খোলামেলা হয় অনলাইনে গেলে। অনেকেই নিজের ভালো মানুষের খোলসটা ফেলে দিয়ে নেমে পড়েন দু:সাহসী কাজে। ‘কেউ দেখছে না’ মনে করে ইচ্ছেমতো সাইটে গিয়ে রেজিস্টার করছেন নিজের লুকানো নাম দিয়ে। ওই ইচ্ছেমতো সাইটগুলো শুরুতেই ঢুকিয়ে দেয় ‘ট্র্যাকিং কুকি’। আপনার কম্পিউটারে। আপনার দুর্দান্ত ‘প্রোফাইল’ তৈরি করে ফেলবে ‘ব্রাউজিং হিসট্রি’ ঘেঁটে। ইনিয়ে বিনিয়ে আপনাকে দিয়েই ডাউনলোড করিয়ে নেবে তাদের পছন্দের সফটওয়্যার। বাকি গল্প থাকছে সামনে। তবে, ওই ‘সাইবার সিকিউরিটি টীম’ চালানোর সময় কিছু শিক্ষিত(!), ভালো অবয়বের মানুষের ‘মানসিক বিকৃতি’ দেখে অবাক হয়েছি বেশি। সাধারণ মানুষের ‘কম্পিউটার নিরাপত্তার’ অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে হেয় করছে তাদের। সামাজিক ও মানসিক ভাবে। দেশছাড়া হয়েও মুক্তি পায়নি মানুষ।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The greatest leader is not necessarily the one who does the greatest things. He is the one that gets the people to do the greatest things.

– Ronald Reagan

৬৬৪.

আমাদের মতো দেশগুলোতে ব্রডব্যান্ডের আসল পেনিট্রেশন (এক মেগাবিটস/সেকেন্ড এবং তার ওপরে) কিন্তু অনেক কম। আইএসপিদের দরকারী ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে যা হয় আর কি। এদিকে ‘ওয়ারলেস ব্রডব্যান্ড’ ধরে রাখতে পারছে না তাদের নির্ধারিত গতি, স্পেকট্রামের অভাবে। এদিকে, কমছে না দাম। ব্রডব্যান্ড বাজারকে প্রণোদনা দেবার জন্য একেক দেশ একেক ধরনের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে থাকে তাদের নিজস্ব ‘লোকাল কন্ডিশন’ অথবা ‘সারকামস্টান্সের’ ওপর। একেক দেশের একেক ধরনের ইতিহাস, রেগুলেটরী স্ট্রাকচার, অর্থনৈতিক অবস্থা, দেশের সন্মিলিত ‘দর্শন’ আর সেটা থেকে কি চাইতে পারে দেশটা, জনগণের ভালোর জন্য। ওই দেশের রাজনৈতিক চর্চা আর ব্রডব্যান্ডকে রাজনৈতিকভাবে মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাজে কিভাবে লাগানো যায় সেটার হিসেবও আলাদা – দেশ ভেদে।

৬৬৫.

তবে, দেশগুলো যতো আলাদাই হোক না কেন, এই বইয়ে আলোচনা করা নীতিমালাগুলো ব্যবহার এগিয়েছে উন্নত দেশগুলো। তার সুফল দেখতে পাচ্ছেন আপনার চোখের সামনে। উন্নত দেশগুলোতে। প্রায়োগিক দিকটা কিছু এদিক ওদিক হতে পারে, এই যা। প্রথমত: সবাই মেনে নিয়েছে সরকার নয়, বরং বেসরকারী খাত এগিয়ে নিয়ে যায় এই ব্রডব্যান্ড বাজারটাকে। মনে আছে ডাব্লিউটিও’র টেলিকম রেফারেন্স পেপারটার কথা? এদিকে, বড় বড় নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাক্চার তৈরি করেছে আমাদের সরকারী কোম্পানী। যতো জনগণের টাকা ইনভেস্ট হয়েছে সেটার ‘আরওআই’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ খুবই নগণ্য। এদিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হোলসেল সার্ভিস কিনছে বেসরকারী নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার থেকে। অথচ, ব্যাপারটা ‘ওপেন অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক’ নীতিমালা করে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর ছেড়ে দিলে বেঁচে যেতো জনগণের ওই পয়সাটা। খরচ করা যেতো স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতে। অথবা সবার জন্য আবাসন।

৬৬৬.

একসময় ছিলো যখন সরকার করতো সবকিছু, তখনও একটা টেলিফোনের সংযোগ পেতে বসে থাকতে হতো বছরের পর বছর। প্রাইভেট সেক্টর আসার পর ওই সংযোগটা কেনা যায় দোকানে গেলেই। এছাড়া আমাদের মতো সরকারের টাকার দরকার অন্য খাতে। সবার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন আর জ্বালানীর টাকা দেবে কে? সেটার যোগাড় যন্ত্র করতে হবে দেশকেই। বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ খাত বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেবার পর টাকা চায়নি কেউ। বাংলাদেশে তো নয়ই। সর্বোচ্চ ঘনত্বের দেশ হওয়াতে প্রতিটা ইঞ্চিতে রয়েছে এর ‘বিজনেস কেস’। আর সেকারণে সরকারকে টেলিযোগাযোগ খাতে টাকা আর না ঢেলে তৈরি করতে হবে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা। সোজা কথায়, ধরে নিয়ে আসতে হবে টাকাঅলাদের। তবে এটা সত্যি, ধরে নিয়ে আসার কোন ‘প্রভিশন’ না থাকাতে এমন ব্যবসায়িক পরিবেশ করতে হবে যাতে টাকা নিয়ে হাজির হয় কোম্পানীগুলো। যেমনটি ঘটছে মায়ানমারে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I prefer for government to err toward less regulation, lower taxation, and free markets. And I’m a radical free trader.

– Mark McKinnon

৬৬০.

‘বেশি ইন্টারনেট ছড়ানো’ দেশগুলোর কেসস্টাডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ওদের ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশন’এ সাপ্লাই আর ডিমান্ড দুটো সাইডের ফ্যাক্টরগুলোকে কাজ করিয়েছে এক সাথে। সাপ্লাই সাইডে যখন তৈরি করেছে নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাক্চার, একই সাথে ওই ব্রডব্যান্ড সার্ভিসগুলোকে সবাই যাতে ব্যবহার করতে পারে সেটার নীতিমালা করতে ভোলে নি দেশগুলো। এতে বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের গ্রহনযোগ্যতা। বেড়েছে সার্ভিসগুলোর পরিচিতি, সরকারী সব সার্ভিস চলে গেছে অনলাইনে। ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে গিয়ে এই ডিমান্ড সাইডের কাজ। আমাদের সাপ্লাই সাইডে বেশ কাজ হলেও ডিমান্ড সাইডে কাজ হয়েছে কম। ইন্টারনেটের সজলভ্যতা আসেনি এর দামের কারণে।

৬৬১.

সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডের গল্পগুলোর মধ্যে ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ না হলে বিপদ। দেখা গেছে সাপ্লাই সাইড ঠিকমতো কাজ করলে সেটাই বাড়িয়ে দেয় ডিমান্ড সাইড। আবার ডিমান্ড সাইড বেড়ে গেলে সাপ্লাইয়ের পাইপ মোটা হতে বাধ্য। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লে ওর সরবরাহ না বাড়ার কোন কারণ নেই। তবে, এই ব্যাপারগুলোর ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ ওনেক সময় এমনি এমনি হয় না। সেটার জন্য একটা পরিবেশ লাগে। ‘মার্কেট ফেইলুর’ মানে বাজার ঠিকমতো কাজ না করলে কাজ করবে না জিনিসগুলো। বাজারে একটা বড় প্রোভাইডার ধসিয়ে দিতে পারে পুরো বাজার। আর সেকারণে সময়ে সময়ে বাজারে ‘প্রতিযোগিতা’ আছে কিনা সেটা দেখার টূল ব্যবহার করে কম্পিটিশন এজেন্সি অথবা রেগুলেটর। এটা ঠিক যে, ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশন’ মানে এর ছড়ানোর জন্য দরকারী ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ না হলে ব্যবসা টিকবে না। এখানে ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ হচ্ছে একটা দরকারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ধরুন, কয়েক লাখ। ঐটাই ব্যবসাকে দেবে একটা ‘টেকসই’ গ্রোথ।

৬৬২.

আবার দুটো ফ্যাক্টরই যদি একই সময়ে অর্থনীতিতে দেখা যায়, সেটা তার পুরো রেজাল্ট নাও দিতে পারে। যদি না দুটো সাইড পুরোপুরি ‘কোওর্ডিনেটেড’ না থাকে। দুটো সাইডের ‘সমন্বয়’ ঠিকমতো না হলে দেখা যাবে তৈরি হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার, অনেক দেরিতে। আবার সাপ্লাই সাইড ঠিকমতো তৈরি না হলে এটা ধাক্কা খাবে ডিমান্ড তৈরিতে। বাড়বে না ব্যবহারকারী। তৈরি হবে না ‘ক্রিটিক্যাল মাস’। তৈরি হবে না ‘টেকসই’ অর্থনীতি। আর সেকারণেই, ব্রডব্যান্ড বেশি ‘ছড়ানো’ দেশগুলো প্রথমেই হাত দেয় ‘কমপ্রিহেনসিভ’ নীতিমালাতে। পুরো দেশের ‘দর্শন’ চলে আসে ওর মধ্যে। সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডের সব ধরনের সমন্বয় পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় ওই নীতিমালাগুলো পড়লে। তবে দুটো দেশ এক ‘রুট’ – মানে এক রাস্তা না ধরলেও বেশ কয়েকটা মোটা দাগের ‘স্ট্র্যাটেজি’ মেনে নিয়েছে প্রায় সবাই। বিশ্বব্যাংক আর টেলিকম্যুনিকেশন ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের ডকুমেন্টেশনও তাই বলে। ব্রডব্যান্ড টূলকিটের হিসেবে ফিনল্যান্ড, ফ্রাণ্স, জাপান, ওমান, সিংগাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন না কোন ভাবে কাজ করিয়েছে এই বড় দাগের স্ট্র্যাটেজিগুলোকে।

ক॰ ‘ওপেন-অ্যাক্সেস’ হোলসেল নেটওয়ার্ক তৈরি
খ॰ বেসরকারি ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা তৈরি
গ॰ ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র মতো ‘সবার জন্য ব্রডব্যান্ড’ ব্যাপারটা ঢোকানো হয়েছে সর্বোচ্চ নীতিমালায়
ঘ॰ ব্রডব্যান্ডের সব সার্ভিসের ডিমান্ড বাড়ানোর জন্য সবকিছুকে অনলাইনে নিয়ে এনে পাইপের দাম সস্তা করা
ঙ॰ পিপিপি, পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপ দিয়ে বড় বড় ইনফ্রাস্ট্রাক্চার তৈরিতে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করা, এক কথায়, মধুর চাক বানানো
চ॰ আঞ্চলিকভাবে অথবা ‘নেশনওয়াইড’ ব্যবসায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসা তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দরকার মতো ভর্তুকি দেয়া
ছ॰ বড় হোলসেল প্রোভাইডার থেকে কিনে ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে সেই ‘রিসোর্স’ ‘রিসেল’ করার জন্য প্রণোদনা দেয়া, আর বড়রা না দিতে চাইলে সেটা বাধ্য করা
ঝ॰ * ‘লোকাল লুপ আনবান্ডলিং’য়ে বড়দের বাধ্য করা যাতে কিছু ব্যবসা করতে পারে ছোটরা

৬৬৩.

যে যাই বলুক, সাপ্লাই সাইডের নীতিমালা প্রণোদনা দেয় বেসরকারী খাতকে – ইনভেস্ট করো নেটওয়ার্কে। এখানে ইনভেস্ট করলে এটা ফ্রী! আর নেটওয়ার্কে ইনভেস্টমেন্ট মানে হাজার কোটি টাকার খেলা। ওই টাকার জন্য দরকার প্রাইভেট সেক্টরকে। ওদিকে ডিমান্ড সাইড নীতিমালা সরকারকে বাধ্য করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আর ব্রডব্যান্ড সার্ভিসগুলোর ওপর মানুষের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে। এটা চলে লম্বা সময় ধরে, ফলে সরকারকে এটাকে তৈরি করতে হয় শুরুতেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The hungrier one becomes, the clearer one’s mind works— also the more sensitive one becomes to the odors of food.

― George S. Clason, The Richest Man in Babylon

৬৫৮.

এদিকে চমত্কার একটা কাজ করেছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তাদের যোগাযোগ আর আইসিটি মন্ত্রণালয় তৈরি করেছে একটা ‘অ্যাডভাইজরী গ্রুপ’। সরকারী লোক নয় শুধু, সবাইকে নিয়ে এসেছে এক কাতারে। টেলিযোগাযোগ কোম্পানী থেকে শুরু করে ইনডাস্ট্রি অ্যাসোশিয়েশন, ইনভেস্টর, সম্পর্কিত দপ্তর থেকে সরকারী প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা – শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় – বাদ পড়েনি কিছুই। সবাইকে দিতে হয়েছে ‘কম্পিটেণ্ট’ সদস্য। ভারতের জাতীয় ব্রডব্যান্ড প্ল্যান অনুযায়ী একত্রীভূত ‘জাতীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক’ দিয়ে প্রতিটা গ্রাম আর শহরকে কিভাবে যুক্ত করা যায় সেটাই এই অ্যাডভাইজরী গ্রুপের ভাবনা। লাস্ট মাইলে স্পেকট্রামকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাও দেখছে তারা। মোদ্দা কথা, যুক্ত করতে হবে সবাইকে। মানুষের পয়সা থাকুক আর না থাকুক। ইন্টারনেট তো লাগবেই। আজ নয়তো কাল। ইন্টারনেটকে সস্তা না করলে হবে কিভাবে? আর এই কাজ করতে ভারতের এই সম্মিলিত ‘অ্যাডভাইজরী গ্রুপ’কে ‘ফোকাল পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহারকে ‘উদাহরণ’ হিসেবে টানা হয়েছে ব্রডব্যান্ড টূলকিটে। সত্যি বলতে, বেশ ভালোভাবেই। এতে অনেক সরকারী বেসরকারী এজেন্সিগুলোর ‘ক্রস-কাটিং’ ব্যাপারগুলো মেটানো গেছে সবার সাথে কথা বলে। নেটওয়ার্ক রোলআউট করতে লাগে অনেক টাকা, তবে সেটাকে সবাই মিলে করলে খরচ কমে আসে। গ্যাস পাইপ বসবে, একই সাথে চলে যাচ্ছে পানি, ফাইবার, তেল, বিদ্যুত্‍। সমন্বয় করার দ্বায়িত্ব ফোকাল পয়েন্টের। আর সেই সুবিধাটা নিয়েছে দেশটা।

৬৫৯.

ব্রডব্যান্ড প্রোমোশন এজেন্সি লাগবে কিনা – সেটা অনেকটাই নির্ভর করে দেশটার ‘লোকাল কন্ডিশনে’র ওপর। মানে ওই দেশের বর্তমান আইন ব্যবস্থা, সরকারী ‘প্রতিষ্ঠানগুলো’র কাজের ক্ষমতায়ন কতোখানি, ব্রডব্যান্ডে নেতৃত্ব দেবার মতো মানুষের ‘ক্যাপসিটি তৈরি’, আর সরকার এই এজেন্সিটাকে চালানোর জন্য পয়সা দিতে পারবে কিনা সেগুলো আসবে আস্তে আস্তে। উন্নয়নশীল দেশের জন্য ব্যাপারটা ‘উচ্চাকাংখী’ মনে হলেও ব্রডব্যান্ড একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে সেটা অনুধাবন করলে এই এজেন্সি জরুরী। এই এজেন্সি বসাতে জন্য যে প্রচুর পয়সা লাগবে তাও নয়। তথ্য, টেলিযোগাযোগ, আইটি আর শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে একীভূত করলে যে পয়সাটা বাঁচবে তাতেই হয়ে যাবে এজেন্সিটা। প্রযুক্তি মানে ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’র মতো জিনিসকে মানুষের জীবনে ঢুকিয়ে দিতে পারলে দেশে চলে আসবে ‘সুশাসন’ আর ‘স্বচ্ছতা’। সাধারণ মানুষের চাওয়া এগুলোই। ব্যাস, দেশকে আর তাকাতে হবে না পেছনে। তবে, ‘ব্রডব্যান্ড টূলকিট’ বলছে আরো একটা গল্প। সরকারে সেই ‘জ্ঞান’টা না থাকলে নেতৃত্ব দেবে কে? ব্রডব্যান্ডকে ঠেলে সামনে নেবার জন্য প্রয়োজন ‘প্রজ্ঞা’সহ নেতৃত্ব। সেটাকে দিতে হবে সরকারকেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Singapore is building to be the world’s first Smart Nation, with fuller use of technology to live, work and play. Singapore has the opportunity to be a Smart Nation if we work together and successfully combine policy, people and technology, and boost all aspects to enhance our national capabilities – from infrastructure, industry and talent, to governance.

– Smart Nation Vision, 2005

৬৫৫.

‘ফোকাল পয়েন্ট’ ধারনাটা নতুন নয় কিন্তু। যারা এগিয়েছে ব্রডব্যান্ডে, তাদের সবারই আছে এই আলাদা অফিসটা। কাজ একটাই, সারাদিন ব্রডব্যান্ড নিয়ে চিন্তা করা। সরকারী সম্পর্কিত সব এজেন্সিগুলোকে ধাক্কা দিয়ে এক কাতারে নিয়ে আসা। ইনভেস্টর, ইনডাস্ট্রি, অপারেটররাও বাদ যাবে না সেই ধাক্কা থেকে। ‘প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট অফিস’ থেকে বিভিন্ন ‘ওভারল্যাপিং’ প্রজেক্টের সমন্বয় সাধনের মতো জিনিসের সাথে ‘ব্লেম গেম’ ব্যাপারটা সরিয়ে আসল কাজ বের করে নিয়ে আসছে এই অফিস। ফিরে আসি সুইডেনের কথায়। তাদের ‘আইটি পলিসি স্ট্র্যাটেজি গ্রুপ’ প্রথমেই তৈরি করতে বলেছিল ‘আভ্যন্তরীণ একটা স্ট্র্যাটেজিক সমন্বয়কারী অফিস’। তার কাজ হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্টে জড়িত সব এজেন্সিকে এক টেবিলে এনে কাজের ধারাবাহিকতা ‘মনিটর’ করা। সব এজেন্সি মানে সরকারী, বেসরকারী – ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সবাই।

৬৫৬.

ভালো কথা, ব্রিটেনে তো পুরো একজন মন্ত্রী রয়েছেন এই ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ দেখভাল করার জন্য। ব্রাজিল এদিকে এগিয়ে আছে বেশ ভালোভাবে। তাদের এগিয়ে থাকার পেছনে রয়েছেন একজন ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ সচিব যাকে আলাদাভাবে বসানো হয়েছে ওই যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে। জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা ঠিকমতো বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটা নিয়েই পড়ে আছেন তিনি। ‘ডিজিটাল ইনক্লুশন’ নিয়ে সব মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কিত প্রজেক্টেরগুলোর মাথা উনি। তবে, অনেকদেশে এই ব্রডব্যান্ড ডেভেলপেমেণ্টের দেখভাল করার কাজ দিয়ে রেখেছে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় অথবা রেগুলেটরের কাছে। এটার ভালো খারাপ দুটোই দেখেছি আমি। আমার মত হচ্ছে যে দেশগুলোর আভ্যন্তরীণ ‘গভার্ণেস’ খুবই শক্তিশালী, সেখানে এটা কাজ করে ভালো। এই কম্বিনেশনটা কাজ করে চমত্কার – যাদের রয়েছে ‘পোক্ত’ মানে ডিটেইল লেভেলে কাজ করা জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা। ‘পোক্ত’ ব্রডব্যান্ড নীতিমালার মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্হ্য, জ্বালানী – দক্ষ প্রশাসন – থাকবে সবকিছু।

৬৫৭.

উদাহরণ হিসেবে নিয়ে আসি সিংগাপুরের কথা। ওদের দেশের জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে ‘স্ট্র্যাটেজিক’ লেভেলের একটা কোর্স করিয়েছিল আমাকে, বিটিআরসি। পাঁচ হাজার ডলারের মতো ছিলো শুধুমাত্র তার কোর্স ফি। সিংগাপুর একটা মাস্টার প্ল্যান করেছিলো অনেক আগে। নাম ‘ইণ্টেলিজেণ্ট নেশন ২০১৫’। প্ল্যানটা নিয়ে মাঠে নামে ২০০৫য়ে, যদিও সেটা তৈরি হয়েছিল অনেক আগে। দশ বছর ধরে প্রতিটা আইটেম ধরে ধরে এগিয়েছে তারা। দর্শন ছিলো, ‘অ্যান ইণ্টেলিজেণ্ট নেশন, আ গ্লোবাল সিটি, পাওয়ারড বাই ইনফো-কম’। তারা মনোযোগ দিয়েছিলো ‘ট্রাস্টেড’ আর ‘বুদ্ধিমান’ আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাক্চারের ওপর। সেই সাথে ব্যস্ত ছিল পুরো ‘ইকোসিষ্টেম’ তৈরিতে। ডিমান্ড আর সাপ্লাই সাইড নিয়ে তাদের কাজ দেখার মতো। বাজারে প্রতিযোগিতা ঠিক রেখে নতুন নতুন ‘স্টার্ট-আপ’ কোম্পানী মানে ইনভেস্টমেন্ট আনার ব্যপারে তাদের কাজ দেখলে তাক লাগবে সবার। ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য অনেক অফিস খুলেছে পৃথিবী জুড়ে। সেই সাথে তৈরি করেছে বিশাল ‘ট্যালেন্ট পুল’। বেড়েছে জাতীয় ‘সক্ষমতা’। দশ বছরের ধারাবাহিকতার ফলাফল – ‘স্মার্ট নেশন’।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

If you were born without wings, do nothing to prevent them from growing.

― Coco Chanel

৬৫২.

বাংলাদেশে কি চলবে আর চলবে না, সেটা দেখার আগে দেখে আসি অন্য দেশগুলোতে কি কি চলেছে। ব্রডব্যান্ডের সুফল পাবার আগে ওই দেশগুলো কি করেছে? যার ফলাফল পেয়েছে হাতেনাতে। মজার কথা – পঞ্চাশটার বেশি দেশের ব্রডব্যান্ড নীতিমালা দেখে একটা প্যাটার্ন পাওয়া যাচ্ছে যার অনেকটাই মিলে যাচ্ছে ব্রডব্যান্ড হ্যান্ডবূকের সাথে।

ক॰ ব্রডব্যান্ড নয়, দেশের উন্নতির নীতিমালা তৈরি করেছে উন্নতির শিখরে পৌছে যাওয়া দেশগুলো – সবার আগে। দেশের সমস্যা আর তার সমাধান চলে আসবে সেই ‘স্ট্র্যাটেজিক’ ক্যানভাসে। টার্গেট আর সেটাকে সময়মতো মেটানোর টাইমলাইন চলে আসবে ওই কাগজে। ওই কাগজ দেখবে সবাই। প্রাইভেট সেক্টর, ইনভেস্টর, ইনডাস্ট্রি। আর সেটা দেখে পরিমার্জন করবে তাদের ‘ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’। এই সবকিছুর টূল হচ্ছে এই ব্রডব্যান্ড নীতিমালা।

খ॰ দেশের উন্নতির নীতিমালা অথবা ওই দেশের ‘দর্শন’ তৈরি করার প্রক্রিয়ার সময় আলোচনা করতে হবে সবার সাথে। সরকার হয়তোবা তৈরি করতে পারে নীতিমালা, কিন্তু সেটার বাস্তবায়ন করবে প্রাইভেট সেক্টর আর ইনডাস্ট্রি। সেটার পয়সা ঢালবে ইনভেস্টর। তাদের সাথে কথা না বলে অথবা তাদের মতামত – তাদের সুবিধা অসুবিধা না জেনে নীতিমালা তৈরি করলে কাজ এগোবে না দরকার মতো। গ্রাহক কি চান সেটা তো আসবে সবার আগে। ভুল বলেছি?

গ॰ তৈরি হলো নীতিমালা, তবে সেটা কাজ করছে কিনা বা তার ধারাবাহিকতা দেখার জন্য দ্বায়িত্ব নিতে হবে রেগুলেটর অথবা মন্ত্রণালয়কে। যেকোন কাজের ‘প্রগ্রেস ট্র্যাক’ করার অনেকগুলো ঝামেলা রয়েছে বলে উন্নতদেশগুলো একটা ‘রিসার্চ মেকানিজম’ বের করে নেয় আগে থেকে। নীতিমালার কাজ শুরু হয়ে গেলে পাল্টে যেতে থাকবে অনেকগুলো ‘ভ্যারিয়াবল’। যেমন, মানুষের ডিজিটাল লিটারেসি অনেকখানি বেড়ে যেতে পারে নীতিমালার ‘প্রজেক্টেড’ সংখ্যা থেকে। মানুষের ইন্টারনেট ব্যাবহারের ‘অ্যাডপশন রেট’ বেড়ে যেতে পারে সময়ের আগেই। আবার অনেকগুলো এজেন্সি ট্র্যাক করতে থাকবে তাদের অংশগুলো। ফলে, এই ‘মাল্টিলেয়ারড’ ফাংশনালিটিতে কার কার কাজ কতটুকু এগোলো সেটা বের করতে দরকার হবে ওই ‘রিসার্চ মেকানিজম’ প্রোগ্রাম। কি ধরনের ‘প্রগ্রেস ট্র্যাক’ হতে পারে এই প্রোগ্রামে? মানুষ কতটুকু সুবিধা নিচ্ছে এই ইন্টারনেটের, কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা আটকে দিচ্ছে কাজগুলোকে, ডিজিটাল লিটারেসী বেড়েছে কতটুকু, সাপ্লাই সাইডের প্যারামিটারগুলোর কি অবস্থা, নেটওয়ার্ক তৈরির গতি কেমন, ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে জিনিসগুলোর মাপার একক ‘ইউনিভার্সাল’ না হলে বিপদে পড়বে অন্যান্য এজেন্সিগুলো। কারণ, সব এজেন্সির জবাবদিহিতার প্যারামিটার এক নয়।

ঘ॰ ব্রডব্যান্ড নীতিমালাকে অনেক লম্বা সময় নিয়ে কাজ করতে হয় বলে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। একেকটা নীতিমালার পনেরো থেকে বিশ বছরের টাইমলাইন থাকে বলে সেটাকে ঠেলে নেয়ার মতো ‘প্রজ্ঞা’ সরকারগুলোতে থাকে কম। পাঁচ বছর পর পর নতুন সরকার এলেও আগের কাজগুলোকে ধরে রাখলে দেশ অর্জন করতে পারে তার সেই লক্ষ্যমাত্রা। উন্নতদেশগুলোতে এই লম্বা সময় ধরে ‘লেগে থাকা’ ব্যাপারটাই দিয়েছে তাদের সফলতা। সাধারণ মানের ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়েও শুধুমাত্র ‘লেগে থাকা’র কারণে উঠে গেছে ওই উন্নয়নশীল দেশগুলো। এদিকে, দুহাজার সালের ‘আইটি বিল’ নিয়ে শুধুমাত্র লেগে থাকার কারণে সাফল্যের চূড়ায় পৌছেছে সুইডেন।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

A dream is a seed.
Vision plants it.
Imagination nurtures growth.
Opportunities create blooms.
Thoughts become things!

― Donna McGoff

৬৪৯.

দেশকে ওপরে ওঠাতে হলে কাজ করতে হবে সব সেক্টর মিলে। ব্রডব্যান্ড হচ্ছে সেটার একটা ‘টুলস’ মাত্র। অথবা, বলতে পারেন নাট বল্টু! দেশের মানুষকে চাইতে হবে বিশ – পঞ্চাশ বছরে কোথায় যেতে চায় সে। বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরনের একটা রোডম্যাপ। ভুলে যান টেকনিক্যাল কথা বার্তা। শিক্ষা,স্বাস্থ্যসেবা, জ্বালানী, চাকরির বাজার তৈরি অথবা ‘সরকারী সার্ভিস ডেলিভারী’ খাত যাই বলুন না কেন, সেটা একটা একটা ধরে ঠিক করতে হবে আগে। তৈরি করতে হবে সেই টার্গেটগুলো। টাইমলাইন সহ। সেই টার্গেটগুলো পূরণ করতে ব্রডব্যান্ডের যে ধরনের নীতিমালা দরকার সেটাই নিয়ে এসেছি এখানে। তবে, সরকারকে নিয়ে আসতে হবে সবাইকে, এক টেবিলে। ইনভেস্টর, প্রাইভেট সেক্টর, টেলিকম ইনডাস্ট্রি সবার মতামত নিয়ে তৈরি হবে ‘হলিস্টিক’ নীতিমালা। তারাই তৈরি করবে ওই ব্রডব্যান্ডের পাইপটা। শুনতে হবে তাদের কথা। তার সাথে বুঝতে হবে ‘সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডে’র হিসেব। সেটার জন্য থাকতে হবে জ্ঞান – প্রজ্ঞা, সরকারের ভেতর। প্রয়োজনে, অবিভাবক হিসেবে সরকারকে নামতে হতে পারে ‘ক্যারট এণ্ড স্টিক’ খেলায়। উন্নতদেশগুলোতে প্রথম দিকে দরকার হয়েছে সেগুলো। খালি বকবেন, হবে না সেটা। সমস্যার সমাধান তৈরি করে দিতে হবে তাদেরকে। শাসন করা তাকেই সাজে, সোহাগ করে যে।

৬৫০.

সামরিক বাহিনীতে চাকরির সুবাদে সব যায়গায় ‘চেকলিস্ট’ ধারনাটা ঢুকে গেছে রক্তে। প্রায় কাজে তৈরি করতাম একেকটা চেকলিস্ট। সেটার একটা চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। লিস্টটার পরিবর্ধন, পরিমার্জন হবে সময়ের সাথে। যেহেতু সরকারী ‘রোলে’ ছিলাম সাত সাতটা বছর, সেকারণে ‘সরকারী’ কার্যপরিধি নিয়েই বইটা। বিভিন্ন দেশের ‘বেস্ট প্র্যাকটিস’ নয়, বরং বাংলাদেশে কি কি জিনিস কাজ করবে সেটাই তুলে আনা হয়েছে বাস্তব ‘অভিজ্ঞতা’ থেকে। তবে, কোন কোন দেশে কি কাজ করেছে আর কি কাজ করেনি সেটা জানা জরুরী। আগেই বলেছি, প্রাইভেট সেক্টরের গতির ওপর লাগাম না ধরে সেটা দেশের প্রবৃদ্ধিতে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটাই ‘বিজ্ঞান’ এখানে। আমরা ‘রকেট সায়েন্স’ নিয়ে আলোচনা না করে ইন্টারনেটকে সারা দেশে কিভাবে ছড়িয়ে দেয়া যায়, কীওয়ার্ড ‘সস্তায়’, সেখানে সরকার কিভাবে এগোবে সেটাকে ভাগ করে ফেলবো মাত্র চার চারটা ভাগে। পৃথিবীব্যাপী যখন সরকারী কোম্পানীগুলোর অবস্থা তথৈবচ, তখন সরকার সরে যাচ্ছে ব্যবসা থেকে – নিজে নিজেই। বরং, স্বীকার করতে বাঁধা নেই প্রাইভেট সেক্টর এখানে তুখোড়। ফলে, সরকার ফিরে গেল নীতিমালা তৈরিতে, ‘কিভাবে ব্যবসা চালাবে এই প্রাইভেট সেক্টর?’ কিভাবে দেখবে গ্রাহকস্বার্থ। নীতিমালাগুলো হবে কিছুটা ‘লাইট হ্যান্ডেড রেগুলেশন’এর ধারণায়। বেশি চাপচাপি করলে দেশ হারাবে ‘উদ্ভাবনা’। দ্বিতীয় কীওয়ার্ড হচ্ছে এটা।

৬৫১.

চারটা ভাগ কি হতে পারে সরকারী কাজে? ক॰ প্রাসঙ্গিক নীতিমালা প্রণয়ন আর পরিমার্জন খ॰ ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যে’র মতো ‘সবার জন্য ইন্টারনেট মানে যোগাযোগ’ নীতিমালা প্রণয়ন। উন্নত বিশ্বে এটাকে বলে ‘ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস’। সরকার যা করবে, করবে সবার জন্য। গ্রামের মানুষদের কি দোষ? গ॰ প্রাইভেট সেক্টরকে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক তৈরি করার যা যা ‘প্রণোদনা’ দরকার সেটা দেয়া ঘ॰ ইন্টারনেটের চাহিদা এবং এর ‘অ্যাডপশন রেট’ বাড়ানোর জন্য ডিমান্ড সাইডের নীতিমালা প্রণয়ন করা।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: