Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘বুরোক্রেটিক’

The best time to plant a tree was 20 years ago. The second best time is now.

– Chinese Proverb

৫৪৯.

প্রচুর আন্তর্জাতিক মিটিংয়ে দেশগুলো কিভাবে নিজেদের বিক্রি করছে সেটার কিছু আর্ট রপ্ত করেছিলাম ওই সময়ে। বহুজাতিক ফোরামগুলোতে আলাদা স্লট কিনবে দেশগুলো। ওই সময়ে ডেকে নিয়ে যাবে আপনাকে। অর্গানাইজার থেকে ফোন আর ইমেইল এড্রেস নিয়ে মিষ্টি মিষ্টি ‘সফট রিমাইন্ডার’ দিতে থাকবে সময় সময়ে। মনে হবে আপনি রাজা। খাওয়াবে পেট পুরে, নিজেদের ‘স্ট্রেন্থ’ গুনগুন করে বলতে থাকবে – পুরো সময়ে। বসিয়ে দেবে তাদের কোম্পানিগুলোর সাথে। ফাঁকে ফাঁকেই। ফেরৎ আসার সময়ে ধরিয়ে দেবে সুন্দর সুন্দর ব্রোশিওর। এমন ভাব, ভুলে গেলে পড়ে নেবেন দেশে গিয়ে। আর দেশগুলোর গিফট আইটেম তো আছেই।

৫৫০.

মোদ্দাকথা, টাকা আনো – দেবো এই সুবিধা, ওই সুবিধা। জায়গা দেবো তোমার পছন্দের অঞ্চলে। আর চেয়েই দেখো না একবার? নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেবো সস্তায়। যেতে হবে না ‘বুরোক্রেটিক’ সরকারী অফিসে, ‘ওয়ান স্টপ শপ’ করে দেবো তোমাদের জন্য। সরকারী সব পারমিট পাবে এই একটা অফিস থেকেই। বেশি দুরে যেতে হবে না এগুলো দেখতে, শ্রীলংকা ঘুরে আসুন ইদানিং! অথবা ‘আসিয়ান’ দেশগুলোতে। একমুদ্রা চালু হবার আগে পাগল হয়ে গেছে ওরা। বেচাবেচির দেখেছেন কি? সবাই চাইছে টাকা আসুক নিজের দেশে। সেটার জন্য যতো ইনফ্রাস্ট্রাকচার আধুনিকীকরণ – তার সব করছে দেশগুলো।

৫৫১.

জানা কথা, দেশের মাথাগুলো সরকারে থাকে না অনেক দেশেই। তাতে কি? অফিসের কাজগুলো আউটসোর্স করে দিন বিআরটিএ’র নম্বরপ্লেট আর লাইসেন্স অথোরাইজেশনের মতো। যে যেটা ভালো পারে তাকে দিয়ে নিন না করিয়ে? দাড়া করান ভালো সিস্টেম, সরকারী না বেসরকারী মানুষ – কেউ ভাঙ্গবে না নিয়ম। সরকারী অফিসে বসে বেসরকারী কোম্পানির চটপটে ছেলেমেয়েদের কাজ দেখলে ভরে যায় মন। তবে, প্রজেক্টের শেষে বিষয়টা চালু থাকলেই খুশি মানুষ। ছোট করে আনছে সরকারের পরিধি – দেশে দেশে। সরকারও পারছে না সবকিছু। নীতিমালা তৈরী করতে সরকার সাহায্য নিচ্ছে ক্রাউডসৌর্সিং মতো মেগা প্ল্যাটফর্মের। আমি নিজেও ব্যবহার করেছি এই প্ল্যাটফর্ম। ভিসা প্রসেসিংয়ের মতো সংবেদনশীল কাজগুলো করছে বেসরকারী কোম্পানি – দুতাবাসের হয়ে। অন্যরা পারলে পারছি না কেন আমরা? পারবো আমরাও। পাগলও ভালো বোঝে নিজের। আমাদের বুঝতে সময় লাগছে, এই যা!

৫৫২.

অনেকগুলো বিদেশী কোম্পানি টেলিযোগাযোগ ব্যবসা করছে বাংলাদেশে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোম্পানিগুলো একা আসতো না আমার সাথে দেখা করতে। তাদের দুতাবাসের ট্রেড সম্পর্কিত সেকশনের এক দুইজনকে নিয়ে আসতো সাথে। লক্ষ্য একটাই। কোম্পানিটাকে প্রমোট করা সরাসরি মানে বেচা। এই হাজারো বিনিয়োগকারীদের সাথে বসে তাদের মনের ভাব মুখস্ত হয়ে গেছে আমার। টেলিযোগাযোগ নীতিমালার ওপর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্টের একটা অংশ নিয়ে থাইল্যান্ডের সেই কোর্সের পর মাথা খুলেছে আরো বেশি। তা – টেলিযোগাযোগ ইনভেস্টররা কি চায় একটা দেশ থেকে? ম্যালা কিছু। আর সেটা নিয়েই চলছে দেশগুলোর মধ্যে অলিখিত যুদ্ধ। যারা তাদের মনের কথা শুনে করছে ‘রেগুলেটরি রিফর্ম’, কোটি ডলার চলে যাচ্ছে ওই দেশগুলোতে।

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: