Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ব্যবসায়িক দর্শন’

But my favorite is the one I read once in a magazine or book whose name I can’t remember: there’s a house in a prairie, it’s dark outside and a violent storm is raging. Inside it’s bright and warm. Somebody opens a window and a bird flies in, crosses the room and flies out the other window, back into the night.

We’re this bird.

– Roberto Motta

০১.

মন ভালো না থাকলে লিখি। আলতু ফালতু। মনে যা আসে। ‘আ গ্রেট এস্কেপ ফ্রম ডিফিকাল্ট ওয়ার্ল্ড।’ কে কী বললো সেটা কেয়ার করলে সেটাও হতো না হয়তো। আমার ওয়াল, আমার জিনিস। আর ‘ওয়াল’ তো এলো অনেক পরে। আগে তো ছিলো ব্লগ। প্রথম ব্লগ পোস্টটা ছিলো দুহাজারে। আছে এখনো। আগেরগুলো হারিয়ে গেছে ওয়েব্যাক মেশিনে। ঠিক বলেছেন। ওটাই হচ্ছে আমাদের মানে প্রস্তরযুগের মানুষদের ‘ইন্টারনেট’ আর্কাইভ।

০২.

ফেসবুক নয়, বরং ‘কোরা’তে অ্যাডিক্ট আমি। নেই কোন ফ্রেণ্ডের ঝামেলা। কে যেন হুমকি দিলো, ‘রেকোয়েস্ট অ্যাক্সেপ্ট না করলে খুলে দেবো লুঙ্গি’। বললাম, ‘ভাই ওটা পরি না যে? কি হপে এখন?’ উত্তর যা আসলো সেটা অলেখ্য। এখন ম্যাসেঞ্জার খুলি না ভয়ে। ‘কোরা’ই ভালো।

০৩.

হাজারো প্রশ্ন করে মানুষ। প্রতিদিন। উত্তর পড়ে তারও বেশি। ব্যাপারটা অনেক ফুলফিলিং। মানুষ লেখে কম্যুনিকেট করতে। ইণ্টেলেকচুয়াল গ্রিডের সাপ্লাই বলেন অনেক। যাই হোক, অনেকে শুধুই পড়ে। উত্তরগুলো। যেমন আমি। বেশিরভাগ নিজেরই প্রশ্ন। অন্য কেউ করেছে। এই যা! মাথায় অদৃশ্য আলোর ঝিকিমিকি করে ওই সময়টাতে। বুঝি, অনেকের জন্য হয়তোবা ‘কমপ্লিট ওয়েস্ট অফ ইফোর্ট’।

০৪.

একজন লিখলো, আমার বেড়াল ভেগে গেছে পাশের বাড়ির বেড়ালীর সাথে। কী করবো? পুলিশে যাব? উত্তরও আসলো আরো অনেক বেগে। অনেকের অভিযোগ একই। বরং গুরুতর অভিযোগ এলো আরো কিছু। এক্সের সাথে চলে গেছে নিজের বেড়াল। ফ্রী কান্ট্রি। যে যার সাথে যাবে স্বেচ্ছায়। প্রাপ্তবয়স্ক বেড়াল বলে কথা। আর মতামত লেখার সময় ‘নো ক্যাট ওয়াজ হার্মড’।

০৫.

জীবনের ‘পারপাজ’ নিয়ে প্রশ্ন হয় অনেক। ওগুলো আরো মজার। পড়লে পাল্টে যায় জীবনের পার্সপেক্টিভ। উন্নত দেশগুলো কেন উন্নত সেটার কিছুটা আভাস পাওয়া যায় ওখানে। ‘মিনিমালিস্ট লিভিং’ নিয়ে পড়ছিলাম কিছুদিন। সুখী হবার অনেক উপকরণ নিয়ে আলোচনা শুনলে মুগ্ধ হতে বাধ্য। ‘হায়ার লিভিং’, মানুষ কী করলে অমরত্ব পেতে পারে সেটা নিয়েও অনেক আলাপ হয় ওখানে। আসল কথা, মানুষের মনের গভীরের অনেক অনেক প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে এই মর্তের মানুষ।

০৬.

হাই-টেক উত্তর আসে ওই ইনডাস্ট্রির মাথাগুলো থেকে। নতুন প্রযুক্তি নিয়ে কী ধরনের ব্যবসা এখন জনপ্রিয় সেটাও বলছেন অনেক বাঘা বাঘা লোকেরা। কোন ব্যবসা টিকবে আর কোনটা নয় সেটা ভালো বোঝা যায় ওখানে গেলে। দেশকে উন্নতির শিখরে নেবার অনেক উত্তরও লিখছে মানুষ। বছর ধরে। মানুষের মন কতো ক্রিয়েটিভ হতে পারে সেটা বোঝা যায় কোরা’তে গেলে।

[ক্রমশ:]

কোরা’র কন্সালট্যান্ট দরকার হলে যোগাযোগ করতে পারেন এখানে। ওহ, আচ্ছা। না। কোরা’র ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে এখনো নিয়োগ দেয়নি ওরা। দেবে হয়তোবা। অসম্ভব কিছু নয় এযুগে।

#wideangle-rh

** শুনছিলাম: অ্যাশলী মনরো’র ‘দ্য ব্লেড’। ওই গানের ইনফ্লুয়েন্সে খারাপ হয়েছে লেখা। না শুনলে ভালো হতো আরো।

Advertisements

Read Full Post »

Public servants say, always with the best of intentions, “What greater service we could render if only we had a little more money and a little more power.” But the truth is that outside of its legitimate function, government does nothing as well or as economically as the private sector.

– Ronald Reagan

৫৩৯.

ফিরে আসি মূল প্রশ্নে, বাইরের কোম্পানি বা মানুষটা পয়সা ফেলবে কেন এই দেশে? মনে আছে ওই তিনটা রিপোর্টের কথা? যেই কোম্পানিটা পয়সা ফেলবে সেটাতো চালায় আপনার আমার মতোই মানুষ। পয়সা আমার হলে কি করতাম – এই আমি নিজে? ভালো জায়গা বের করতাম খুঁজে। ইনভেস্টমেন্টের জন্য। ঝামেলা ছাড়া লাভ চাইতাম আমি। মূল টাকার ওপরে। খুঁজতাম এমন একটা দেশ যার – ক. অর্থনীতিটা তুলনামূলক ভাবে শক্তিশালী, খ. জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি ট্রেন্ড সুবিধার দিকে, গ. ইনফ্রাস্ট্রাকচার মানে সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চলছে ভালোভাবে, ঘ. মুদ্রাস্ফীতি কম, ঙ. ওই দেশের টাকার রিস্ক ফ্যাক্টর আছে কিনা, চ. বাইরের মুদ্রার এক্সচেঞ্জ কন্ট্রোল আছে কিনা?

৫৪০.

লিস্ট মনে হচ্ছে ছোট – তাই না? আসলে লিস্টি কিন্তু অনেক বড়। দেশের রাজনৈতিক অবস্থা বিশালভাবে প্রভাবিত করে এই টাকাওয়ালাদের। ক. দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আমার ব্যবসায়ের সাথে যায় কিনা, খ. সরকারের ‘বিজনেস ফিলোসফি’ মানে ব্যবসায়িক দর্শন আছে কিনা , গ. থাকলে তার ট্র্যাক রেকর্ড কেমন? শেষ গল্প হচ্ছে প্রনোদনা নিয়ে। ইনসেনটিভ কে না চায়? ক. করারোপনের মাত্রা কেমন? খ. ট্যাক্স ইনসেনটিভ আছে কিনা? গ. ওই দেশে সম্পত্তি কিনলে তার অধিকারের মাত্রাটা জানতে চাইতে পারি আমি। সবশেষে, মানুষের শিক্ষার হার, জনবলের দক্ষতা, অন্যান্য ব্যবসার সুযোগ আছে কিনা, আবার – ওই ব্যবসায় লোকাল কম্পিটিশন কেমন ইত্যাদি না জানলে বিপদে পড়বে টাকাওয়ালা।

৫৪১.

ভালো কথা – এ ব্যাপারগুলো খাটবে সব ব্যবসায়। টেলিযোগাযোগ ব্যবসায় গল্প কিন্তু আরো ভেতরে। ধরে নিন আপনি এসেছেন বাইরের কোন একটা দেশ থেকে। করতে চান টেলিযোগাযোগ ব্যবসা। বাংলাদেশে। পয়সা ঢালার আগে আপনার চেকলিস্টে কি কি থাকতে পারে – বলবেন কি আমাদের? একটা মোবাইল কোম্পানি খুললে তার লাইসেন্সের সময়সীমা হচ্ছে পনেরো বছর। আপনি যদি জানেন সময়সীমাটা, তাহলে বিজনেস প্ল্যান করতে সুবিধা হবে আপনার। আর তার সাথে ‘রেগুলেটরি সার্টেনিটি’ মানে লাইসেন্সের ‘ক্লজ’ মানে ধারাগুলো যদি পাল্টে যায় মাঝে মধ্যে – তাহলে ভয় পাবেন আপনি।

৫৪২.

বড় বড় কোম্পানিগুলো মোবাইল লাইসেন্স পনেরো বছরের জন্য নিলেও তারা জানে ভালো করে – তাদের চুক্তিনামা বাড়বে তিরিশ, পয়তাল্লিশ বছর করে। একটা কোম্পানি খুব বড় অপরাধ না করলে বাতিল হয়না তার লাইসেন্স। অনেককিছু জড়িত থাকে এর মধ্যে। ইনভেস্টমেন্ট, কার্যক্ষেত্র তৈরী হয়ে গেছে এর মধ্যে। ধরে নিলাম আপনার মোবাইল কোম্পানির বিজনেস প্ল্যান করলেন তিরিশ বছর ধরে। প্রথম দিকে ইনফ্রাস্ট্রাকচারে প্রচুর ইনভেস্টমেন্ট দরকার পড়ে বলে আপনার কোম্পানির ব্রেক-ইভেনে পৌছাতে লাগলো না হয় লাগলো সাত বছর। মানে, আসল লাভ করা শুরু করলেন ওই সময়ের পর থেকে। আপনি লাইসেন্সের সময়সীমা নিয়ে নিশ্চিত থাকলে আপনার প্রোডাক্টের দামও হবে ওই সময়সীমার সাথে মিল রেখে। পনেরো হলে এক দাম – পয়তাল্লিশ হলে আরেক দাম! হিসেব সোজা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: