Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘ব্রডব্যান্ড’

There’s a tremendous gap between public opinion and public policy.

– Noam Chomsky

৬৬৭.

আচ্ছা, টাকা নিয়ে আসবে কেন আমাদের দেশে? কেন নয় নিজের দেশে? চাকরিক্ষেত্র বাড়তো বরং ওই দেশে। তাহলে তো আইফোন তৈরি হতো খোদ মার্কিন ভূখণ্ডে। কোম্পানীগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে মুনাফা বাড়ানো। তারা তো আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান নয়। আর মুনাফা করা তো দোষের নয়। আজ মাইক্রোসফট মুনাফা করতে পেরেছিলো বলেই তৈরি হয়েছে মেলিণ্ডা এণ্ড গেটস ফাউন্ডেশন। ফলে বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে মানুষের ভালো কাজের জন্য। কম টাকা নয়, নভেম্বর দুহাজার চৌদ্দ পর্যন্ত তার টাকা বিলি হয়েছে বিয়াল্লিশ বিলিয়নের বেশি। ফিরে আসি সরকারের কাজে। ওই কোম্পানীগুলোকে দেশে আনতে দৌড়াতে হবে অনেকদুর। একটা দেশকে নিজেকে ‘ইভাল্যুয়েট’ করতে হবে কেন দেশ বা কোম্পানীগুলো আসবে টাকা নিয়ে? তারা কি চায়? আপনি হলে কি চাইতেন? বেশি লাভ, কম সময়ে। ‘ক’ দেশে ইনভেস্ট করলে আপনি কি চাইতেন? সরকারী অফিসে কম ঘুরাঘুরি, লাইসেন্সের নীতিমালাগুলো কতটুকু আপনার দিকে? লাভটা দেশে নিতে পারবেন কিনা? ওই দেশের মানুষগুলো ওই কাজের জন্য উপযুক্ত কিনা? শ্রমবাজার কেমন সস্তা?

৬৬৮.

আপনি নিজেই করবেন হাজারো প্রশ্ন। কারণ, টাকাটা আপনার। খাটাবেন আপনি। করলেন ইনভেস্ট, এরপর পাল্টে গেল নীতিমালা। আর ইনভেস্ট করবেন আপনি? নীতিমালার ‘প্রেডিক্টিবিলিটি’ নিয়েও কথা হয়েছে আগে। প্রাইভেট সেক্টর ‘ভর্তুকি’ চায়নি কখনো। তারা জানে ব্যবসা করতে হয় কিভাবে। রেগুলেটর আর সরকারকে চায় ‘ফ্যাসিলেটর’ রোলে। বাকিটা করে নেবে তারা। যেখানে ব্যবসা নেই সেখানে সরকারের ‘রেগুলেটরী ব্যবস্থা’ – ধরুন ইউনিভার্সাল অ্যাক্সেস ফান্ড নিয়ে কাজ করতে চায় তারা। দেখা গেছে বাজারে প্রতিযোগিতার বেঞ্চমার্ক ঠিক থাকলে ‘এফিসিয়েণ্ট’ নেটওয়ার্ক তৈরি হয় সবাইকে নিয়ে। ‘প্রতিযোগিতা’ ব্রডব্যান্ড সাপ্লাই সাইডে কমিয়ে নিয়ে আসে দাম, বাড়ায় সার্ভিসের কোয়ালিটি, বৃদ্ধি পায় গ্রাহকসেবা। আর সেকারণে সম্প্রসারণ করে ব্রডব্যান্ড বাজার, অ্যাক্সেস পায় আরো বেশি মানুষ। বেশি গ্রাহক মানে কমে আসে দাম, তৈরি হয় নতুন নতুন ‘ভ্যালু প্রপোজিশন’। এই সাইকেল নিয়ে কথা বলা হয়েছে আগেও।

৬৬৯.

আবার ইনফ্রাস্ট্রাক্চারে অ্যাক্সেস না পেলে প্রোভাইডাররা বাড়িয়ে দেবে দাম। আর দাম বাড়লে বারোটা বাজবে ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশনে’র। ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে গ্রাহকেরা সার্ভিস পাবে কোথা থেকে? আর নেটওয়ার্ক থাকলেও দাম না কমলে সেটার প্রতি আগ্রহ হারাবে গ্রাহকেরা। আবার সার্ভিস মানুষকে না টানলে নেটওয়ার্ক তৈরিতে আসবে মন্থরগতি। আর সেকারণে সরকারকে আসতে হবে এগিয়ে। ‘সাপ্লাই চেইনে’ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরির সাথে সাথে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা, নেটওয়ার্ক তৈরিতে প্রণোদনা আর গ্রাহকসেবার মানদন্ডটা ঠিক রাখলে বাড়বে ব্রডব্যান্ডের গ্রহণযোগ্যতা। পুরো দেশে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার থাকলে ভালো, আর না থাকলে? মানে, আমাদের দেশে যে জনবসতির ঘনত্ব, সব বিজনেস কেস কাজ করবে এখানে। তবে, ব্রডব্যান্ডের দাম হাতের নাগালে না এলে গ্রাহকদের আনা কষ্ট হবে। আর তখন, প্রোভাইডাররাও পিছিয়ে যাবে ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট থেকে। রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে যোগবিয়োগ করতে বসবে তারা। ওখানেই কাজ করতে হবে সরকারকে।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

The greatest leader is not necessarily the one who does the greatest things. He is the one that gets the people to do the greatest things.

– Ronald Reagan

৬৬৪.

আমাদের মতো দেশগুলোতে ব্রডব্যান্ডের আসল পেনিট্রেশন (এক মেগাবিটস/সেকেন্ড এবং তার ওপরে) কিন্তু অনেক কম। আইএসপিদের দরকারী ইনফ্রাস্ট্রাক্চার না থাকলে যা হয় আর কি। এদিকে ‘ওয়ারলেস ব্রডব্যান্ড’ ধরে রাখতে পারছে না তাদের নির্ধারিত গতি, স্পেকট্রামের অভাবে। এদিকে, কমছে না দাম। ব্রডব্যান্ড বাজারকে প্রণোদনা দেবার জন্য একেক দেশ একেক ধরনের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে থাকে তাদের নিজস্ব ‘লোকাল কন্ডিশন’ অথবা ‘সারকামস্টান্সের’ ওপর। একেক দেশের একেক ধরনের ইতিহাস, রেগুলেটরী স্ট্রাকচার, অর্থনৈতিক অবস্থা, দেশের সন্মিলিত ‘দর্শন’ আর সেটা থেকে কি চাইতে পারে দেশটা, জনগণের ভালোর জন্য। ওই দেশের রাজনৈতিক চর্চা আর ব্রডব্যান্ডকে রাজনৈতিকভাবে মানুষের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কাজে কিভাবে লাগানো যায় সেটার হিসেবও আলাদা – দেশ ভেদে।

৬৬৫.

তবে, দেশগুলো যতো আলাদাই হোক না কেন, এই বইয়ে আলোচনা করা নীতিমালাগুলো ব্যবহার এগিয়েছে উন্নত দেশগুলো। তার সুফল দেখতে পাচ্ছেন আপনার চোখের সামনে। উন্নত দেশগুলোতে। প্রায়োগিক দিকটা কিছু এদিক ওদিক হতে পারে, এই যা। প্রথমত: সবাই মেনে নিয়েছে সরকার নয়, বরং বেসরকারী খাত এগিয়ে নিয়ে যায় এই ব্রডব্যান্ড বাজারটাকে। মনে আছে ডাব্লিউটিও’র টেলিকম রেফারেন্স পেপারটার কথা? এদিকে, বড় বড় নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাক্চার তৈরি করেছে আমাদের সরকারী কোম্পানী। যতো জনগণের টাকা ইনভেস্ট হয়েছে সেটার ‘আরওআই’, ‘রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট’ খুবই নগণ্য। এদিকে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো হোলসেল সার্ভিস কিনছে বেসরকারী নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার থেকে। অথচ, ব্যাপারটা ‘ওপেন অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক’ নীতিমালা করে প্রাইভেট সেক্টরের ওপর ছেড়ে দিলে বেঁচে যেতো জনগণের ওই পয়সাটা। খরচ করা যেতো স্বাস্থ্য বা শিক্ষা খাতে। অথবা সবার জন্য আবাসন।

৬৬৬.

একসময় ছিলো যখন সরকার করতো সবকিছু, তখনও একটা টেলিফোনের সংযোগ পেতে বসে থাকতে হতো বছরের পর বছর। প্রাইভেট সেক্টর আসার পর ওই সংযোগটা কেনা যায় দোকানে গেলেই। এছাড়া আমাদের মতো সরকারের টাকার দরকার অন্য খাতে। সবার জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আবাসন আর জ্বালানীর টাকা দেবে কে? সেটার যোগাড় যন্ত্র করতে হবে দেশকেই। বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ খাত বেসরকারি খাতে উন্মুক্ত করে দেবার পর টাকা চায়নি কেউ। বাংলাদেশে তো নয়ই। সর্বোচ্চ ঘনত্বের দেশ হওয়াতে প্রতিটা ইঞ্চিতে রয়েছে এর ‘বিজনেস কেস’। আর সেকারণে সরকারকে টেলিযোগাযোগ খাতে টাকা আর না ঢেলে তৈরি করতে হবে ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা। সোজা কথায়, ধরে নিয়ে আসতে হবে টাকাঅলাদের। তবে এটা সত্যি, ধরে নিয়ে আসার কোন ‘প্রভিশন’ না থাকাতে এমন ব্যবসায়িক পরিবেশ করতে হবে যাতে টাকা নিয়ে হাজির হয় কোম্পানীগুলো। যেমনটি ঘটছে মায়ানমারে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

I prefer for government to err toward less regulation, lower taxation, and free markets. And I’m a radical free trader.

– Mark McKinnon

৬৬০.

‘বেশি ইন্টারনেট ছড়ানো’ দেশগুলোর কেসস্টাডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ওদের ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশন’এ সাপ্লাই আর ডিমান্ড দুটো সাইডের ফ্যাক্টরগুলোকে কাজ করিয়েছে এক সাথে। সাপ্লাই সাইডে যখন তৈরি করেছে নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাক্চার, একই সাথে ওই ব্রডব্যান্ড সার্ভিসগুলোকে সবাই যাতে ব্যবহার করতে পারে সেটার নীতিমালা করতে ভোলে নি দেশগুলো। এতে বেড়েছে ব্রডব্যান্ডের গ্রহনযোগ্যতা। বেড়েছে সার্ভিসগুলোর পরিচিতি, সরকারী সব সার্ভিস চলে গেছে অনলাইনে। ব্রডব্যান্ডের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে গিয়ে এই ডিমান্ড সাইডের কাজ। আমাদের সাপ্লাই সাইডে বেশ কাজ হলেও ডিমান্ড সাইডে কাজ হয়েছে কম। ইন্টারনেটের সজলভ্যতা আসেনি এর দামের কারণে।

৬৬১.

সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডের গল্পগুলোর মধ্যে ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ না হলে বিপদ। দেখা গেছে সাপ্লাই সাইড ঠিকমতো কাজ করলে সেটাই বাড়িয়ে দেয় ডিমান্ড সাইড। আবার ডিমান্ড সাইড বেড়ে গেলে সাপ্লাইয়ের পাইপ মোটা হতে বাধ্য। ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়লে ওর সরবরাহ না বাড়ার কোন কারণ নেই। তবে, এই ব্যাপারগুলোর ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ ওনেক সময় এমনি এমনি হয় না। সেটার জন্য একটা পরিবেশ লাগে। ‘মার্কেট ফেইলুর’ মানে বাজার ঠিকমতো কাজ না করলে কাজ করবে না জিনিসগুলো। বাজারে একটা বড় প্রোভাইডার ধসিয়ে দিতে পারে পুরো বাজার। আর সেকারণে সময়ে সময়ে বাজারে ‘প্রতিযোগিতা’ আছে কিনা সেটা দেখার টূল ব্যবহার করে কম্পিটিশন এজেন্সি অথবা রেগুলেটর। এটা ঠিক যে, ব্রডব্যান্ড ‘ডিফিউশন’ মানে এর ছড়ানোর জন্য দরকারী ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ না হলে ব্যবসা টিকবে না। এখানে ‘ক্রিটিক্যাল মাস’ হচ্ছে একটা দরকারী ব্যবহারকারীর সংখ্যা। ধরুন, কয়েক লাখ। ঐটাই ব্যবসাকে দেবে একটা ‘টেকসই’ গ্রোথ।

৬৬২.

আবার দুটো ফ্যাক্টরই যদি একই সময়ে অর্থনীতিতে দেখা যায়, সেটা তার পুরো রেজাল্ট নাও দিতে পারে। যদি না দুটো সাইড পুরোপুরি ‘কোওর্ডিনেটেড’ না থাকে। দুটো সাইডের ‘সমন্বয়’ ঠিকমতো না হলে দেখা যাবে তৈরি হচ্ছে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাক্চার, অনেক দেরিতে। আবার সাপ্লাই সাইড ঠিকমতো তৈরি না হলে এটা ধাক্কা খাবে ডিমান্ড তৈরিতে। বাড়বে না ব্যবহারকারী। তৈরি হবে না ‘ক্রিটিক্যাল মাস’। তৈরি হবে না ‘টেকসই’ অর্থনীতি। আর সেকারণেই, ব্রডব্যান্ড বেশি ‘ছড়ানো’ দেশগুলো প্রথমেই হাত দেয় ‘কমপ্রিহেনসিভ’ নীতিমালাতে। পুরো দেশের ‘দর্শন’ চলে আসে ওর মধ্যে। সাপ্লাই আর ডিমান্ড সাইডের সব ধরনের সমন্বয় পরিষ্কার ভাবে বোঝা যায় ওই নীতিমালাগুলো পড়লে। তবে দুটো দেশ এক ‘রুট’ – মানে এক রাস্তা না ধরলেও বেশ কয়েকটা মোটা দাগের ‘স্ট্র্যাটেজি’ মেনে নিয়েছে প্রায় সবাই। বিশ্বব্যাংক আর টেলিকম্যুনিকেশন ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের ডকুমেন্টেশনও তাই বলে। ব্রডব্যান্ড টূলকিটের হিসেবে ফিনল্যান্ড, ফ্রাণ্স, জাপান, ওমান, সিংগাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন না কোন ভাবে কাজ করিয়েছে এই বড় দাগের স্ট্র্যাটেজিগুলোকে।

ক॰ ‘ওপেন-অ্যাক্সেস’ হোলসেল নেটওয়ার্ক তৈরি
খ॰ বেসরকারি ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা তৈরি
গ॰ ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’র মতো ‘সবার জন্য ব্রডব্যান্ড’ ব্যাপারটা ঢোকানো হয়েছে সর্বোচ্চ নীতিমালায়
ঘ॰ ব্রডব্যান্ডের সব সার্ভিসের ডিমান্ড বাড়ানোর জন্য সবকিছুকে অনলাইনে নিয়ে এনে পাইপের দাম সস্তা করা
ঙ॰ পিপিপি, পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপ দিয়ে বড় বড় ইনফ্রাস্ট্রাক্চার তৈরিতে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করা, এক কথায়, মধুর চাক বানানো
চ॰ আঞ্চলিকভাবে অথবা ‘নেশনওয়াইড’ ব্যবসায় দেশীয় উদ্যোক্তাদের তাদের ব্যবসা তৈরিতে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দরকার মতো ভর্তুকি দেয়া
ছ॰ বড় হোলসেল প্রোভাইডার থেকে কিনে ছোট ছোট কোম্পানীগুলোকে সেই ‘রিসোর্স’ ‘রিসেল’ করার জন্য প্রণোদনা দেয়া, আর বড়রা না দিতে চাইলে সেটা বাধ্য করা
ঝ॰ * ‘লোকাল লুপ আনবান্ডলিং’য়ে বড়দের বাধ্য করা যাতে কিছু ব্যবসা করতে পারে ছোটরা

৬৬৩.

যে যাই বলুক, সাপ্লাই সাইডের নীতিমালা প্রণোদনা দেয় বেসরকারী খাতকে – ইনভেস্ট করো নেটওয়ার্কে। এখানে ইনভেস্ট করলে এটা ফ্রী! আর নেটওয়ার্কে ইনভেস্টমেন্ট মানে হাজার কোটি টাকার খেলা। ওই টাকার জন্য দরকার প্রাইভেট সেক্টরকে। ওদিকে ডিমান্ড সাইড নীতিমালা সরকারকে বাধ্য করে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ আর ব্রডব্যান্ড সার্ভিসগুলোর ওপর মানুষের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে। এটা চলে লম্বা সময় ধরে, ফলে সরকারকে এটাকে তৈরি করতে হয় শুরুতেই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

When I give a minister an order, I leave it to him to find the means to carry it out.

— Napoleon Bonaparte

৬২৫.

দরকার কি এইসব ইন্টারনেট ‘ইকোসিষ্টেমে’র? একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখতে পারবেন এগুলো একটা আরেকটার ওপর – পুরোপুরি ‘ইন্টার-ডিপেণডেণ্ট’। একটা ছাড়া আরেকটা অচল। অথচ, এই ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা জিনিষ নিয়ে কাজ করে সরকারের বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট। সত্যিই তাই। কার সাথে কোনটার কি সম্পর্ক সেটা না জানলেই বিপদ। ইন্টারনেটের ট্রান্সমিশন মানে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের। সার্ভিসগুলো কার? সেটা তো আসলে সবার। অনলাইন ক্লাস নিয়ে মাথাব্যথা হবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। ‘জেনারেল পারপাজ টেকনোলজি’ হিসেবে সবকিছুই দরকার সব মন্ত্রণালয়ের। ‘হেল্থকেয়ার’ নিয়ে ইন্টারনেটের সুবিধা নিচ্ছে পাশের দেশ ভারত। হাজার মানুষ প্লেন ভরে আসছে ওই দেশে ‘হেল্থকেয়ার’ ট্রিপে। প্রাথমিক ‘ডায়াগনস্টিকস’ হচ্ছে ইন্টারনেটের ওপর দিয়ে। থাইল্যান্ড আর সিংগাপুর তো শুরু করেছে অনেক আগেই।

৬২৬.

স্বাস্থ্য আর চিকিত্‍সা নিয়ে কাজ করবে সম্পর্কিত মন্ত্রণালয়। ‘অ্যাপ্লিকেশন’ নিয়ে কাজ করছে আইসিটি মন্ত্রণালয় অনেক আগে থেকে। তবে কেউ জানে না কার করতে হবে – কতোটুকু অংশ। নাকি আবার ‘ডুপ্লিকেশন অফ ইফোর্ট’ হচ্ছে বার বার? বিটিআরসিতে থাকার সময় দেখেছি এধরনের কাজ – করছে সবাই। সবার দরকার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক, পয়সা ঢালছে কিন্তু সবাই। গরীব দেশে এটা খুবই কষ্টকর ব্যাপার। এমনিতেই ফান্ডিংয়ের সমস্যা, সেখানে পয়সা যাচ্ছে নতুন নতুন জায়গায় – না জানার কারণে। ডোনার এজেন্সিরা সরকারের এই ‘সমন্বয়হীনতা’ ব্যাপারটা জেনেও দেনার ধার বাড়াচ্ছেন দিনে দিনে।

৬২৭.

ইন্টারনেট বা ব্রডব্যান্ড যাই বলেন সেটা যে শুধু হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক নয় – সেটা থেকে বের হতে এই ‘ইকোসিষ্টেম’ ব্যবস্থা। সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার আগে কথা বলে নিতে হবে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ে – জিনিসগুলো তাদের নেটওয়ার্ক নিতে পারবে কি না? টিএণ্ডটি’র যুগে ‘টেলিফোন মডেল’ থেকে বের হয়ে আসতে হবে আগে। একটা ফোনের জন্য একটা লাইন। আরেকটা ফোন লাগাতে চাইলে আরেকটা লাইন – আর ফ্যাক্স চাইলে আরেকটা। ওইটা ছিলো পুরনো টেলিযোগাযোগের ‘ওয়ালড গার্ডেন’ সমস্যা, সবকিছুর জন্য আলাদা আলাদা রিসোর্স। এখনকার যুগে লাইন আসবে একটা, ওইটার ওপর যা চাইবেন তাই করবেন। আবার সার্ভিস আর অ্যাপ্লিকেশন কিন্তু শুধুমাত্র আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সম্পত্তি নয়, এটা সবার। শিক্ষা আর হেল্থকেয়ার অ্যাপ্লিকেশন কেন তৈরি করবেন তারা? ব্যবহারকারী মন্ত্রণালয় জানেন না – কিন্তু তার অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছেন আরেকজন। ‘ইন-কম্পাটিবিলিটি’র শুরু ওখানেই। সনাতন ‘পুশ’ মানে ‘খাইয়ে দেয়া’র মডেল থেকে বের হয়ে আসতে হবে আমাদের। পয়সা ঢালো ‘সাপ্লাই সাইডে’, মানে দাম কমাও ইন্টারনেটের – ওতেই হবে সব – সেটা থেকেও বের হয়ে আসতে হবে আমাদের।

৬২৮.

মানি, পুরনো শেখাটাকে ‘আন-লার্ন’ করা কষ্টের। সেটাকে মেনেই চিন্তা করতে হবে নতুন ‘কনসেপ্চুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক’, বড় আকারে – সবাইকে নিয়ে। ব্যবহারকারীদের নিয়ে। টাকা দেয় তো তারাই। তাদের জন্যই তো সবকিছু। চারটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে মাইলস্টোনে ভাগ করলেই ‘ফোকাস’ এরিয়াগুলো বোঝা যাবে সরকারের দিক থেকে। ইকোসিষ্টেমের প্রতিটা কম্পোনেণ্টকে আলাদা করে সেটার জন্য সরকারের কোন কোন এজেন্সি কাজ করবে সেটা বের করতে হবে আগে। সেটার ‘ফীডব্যাক’ লুপ যাবে সরকারী বিভিন্ন প্রোগ্রামগুলোতে। সেটাকে ঘিরে ঘোরাতে হবে সরকারের সম্পর্কিত পলিসিগুলোকে। শুধুমাত্র ব্রডব্যান্ড নীতিমালা নিয়ে কাজ করতে গেলে পয়সা, সময় আর ‘ফোকাস’ নষ্ট হবে আরো বেশি। আমাদের মতো গরীব দেশের জন্য সেটা হয়ে যাবে বড় ধরনের বিলাসিতা। এখনকার ‘ব্রডব্যান্ড প্লান’ আগের মতো নেই আর। এটা শুরু হয় দেশের ‘দর্শন’ নিয়ে। দেশ কি চায়, সেটা বের করতে হয় আগে। টেকনোলজি বাদ, দেশের ‘প্রায়োরিটি’ বের করতে হয় খুটে খুটে। উদাহরণ দেখবেন নাকি একটা? ‘কানেক্টিং আমেরিকা’ বলে ওদের ন্যাশন্যাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যানটা দেখলে পরিষ্কার হবে সবার। দেখুন তাদের দর্শনগুলো – প্রথম কয়েক লাইনে। সবকিছু আছে ওতে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষা, চিকিত্‍সা ব্যবস্থা, সরকারের কাজের জবাবদিহিতা, এনার্জি খাত, মানুষের নিরাপত্তা, আরো অনেক কিছু – কোন কিছু বাদ রাখে নি তারা। এক্সিকিউটিভ সামারিটা না পড়লে ব্যাপারটা না ধরতে পারার সম্ভাবনা বেশি। একটা দেশ কি চায়, সেটাই এনেছে এই প্ল্যানে। বিশাল ক্যানভাস।

৬২৯.

‘বিল্ডিং ব্রডব্যান্ড’ বইটাতে আমাদের মতো দেশগুলো কি ধরনের ভুল করতে পারে সেগুলোর বেশ কিছু ধারনা দিয়েছেন আগেভাগেই। ব্রডব্যান্ড মানে ইন্টারনেটের মতো প্রোডাক্টের ডিমান্ড তৈরি করার মতো ‘ব্যাপারটা’র ধারনা না থাকাতে পুরো ইনভেস্টমেন্ট চলে যায় ‘সাপ্লাই’ সাইডে। মানে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক তৈরি হলেই খুশি। কিভাবে বাড়াতে হবে ব্যবহারকারীদের সংখ্যা, তৈরি করতে হবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন গ্রাহকবান্ধব অ্যাপ্লিকেশন – সেটা পলিসিতে না থাকাতে পুরো কাজটাই যায় ভেস্তে। ‘ইকোনোমি অফ স্কেল’ – ব্যবহারকারী বাড়লে কমবে দাম, আর দাম কমলে আসবে নতুন নতুন সার্ভিস, নতুন ইনভেস্টমেন্ট। ইকোসিষ্টেমের তুখোড় সাইকেল হচ্ছে জিনিসটা। কম্পোনেণ্টগুলোর মধ্যে ‘ইন্টার-ডিপেনডেন্সি’ থাকাতে পুরো জিনিসটাকে ফেলতে হবে বড় ক্যানভাসে। ইংরেজিতে যাকে আমরা বলি ‘হলিস্টিক অ্যাপ্রোচ’, তাহলেই কাজ করবে পুরো ইকোসিষ্টেম। কম্পোনেণ্টগুলোর একটার ওপর আরেকটার নির্ভরশীলতা কাজ করে অনেকদিক থেকে। হাই-স্পীড ট্রান্সমিশনে ইনভেস্টমেন্ট আসা মানে ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ বাড়বে আমাদের দরকারী সব সার্ভিসগুলোতে। আর সেটা বাড়িয়ে দেবে ‘ব্যান্ডউইডধ ইন্টেসিভ’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরির মাত্রা। যতো বেশি অ্যাপ্লিকেশন, ততো বেশি টানবে নতুন নতুন গ্রাহকদের। নতুন গ্রাহকেরা চাপ তৈরি করবে নেটওয়ার্ক এক্সপ্যানশনের কাজে। ফলে বাড়বে ইন্টারনেট আর ব্রডব্যান্ডের ওপর নতুন ইনভেস্টমেন্ট। পুরো পৃথিবী বসে আছে পয়সা নিয়ে। ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য বসে আছে কোম্পানীগুলো।

৬৩০.

নতুন সার্ভিস আসা মানে নতুন কনটেন্ট তৈরির হিড়িক। কনটেন্ট তৈরি করছেন ব্যবহারকারীরা নিজেই। ইন্টারনেটের শুরুতে ডাউনলোডই ছিলো বেশি। আজ – পাল্টে গেছে দাবার গুটি। অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে গুগল আর ফেসবুকের মতো কোম্পানীগুলো। হাজার হাজার গিগাবাইটের ‘ইউজার জেনারেটেড কনটেন্ট’ আসছে আপনার আমার দিক থেকে। আমার আপনার ভিডিও, ছবি, ব্লগ পোস্ট দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেট। ষাট হাজার ছবি আছে আমারই, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। আগে কনটেন্ট তৈরি করতো মিডিয়া কোম্পানীগুলো। এখন সেটা চলে এসেছে গ্রাহকদের হাতে। ফলে, দরকার হচ্ছে হাই-স্পীড নেটওয়ার্ক – ব্যবহারকারীর দোরগোড়ায়।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Wireless communication is plagued by a shortage of space for new services. As new regions of the radio spectrum have been opened to practical operation, commerce and industry have found more than enough uses to crowd them.

– Report by the US Joint Technical Advisory Committee , 1952

২৯৯.

ঝিম মেরে ছিলাম গত দুদিন। ব্যাপারটা অক্সিজেনের মতো। ছড়িয়ে আছে সব জায়গায়। দেখা যায় না আবার। কাজ করছে লাইফলাইন হিসেবে – যোগাযোগ যন্ত্রগুলোর। লাইফসাপোর্ট মেডিকেল ইকুইপমেন্টও চলছে ওর ওপর দিয়ে। কোথা থেকে শুরু করবো সেটাই বুঝতে পারছিলাম না। রিসার্চ পেপার হিসেবে লিখলে পড়বেনই বা কেন? সেটা তো লিখতে হবে ইংরেজিতে। কিন্তু লিখতে তো চাচ্ছি বাংলায় আমি। সবার মতো করে। আউটলাইন করে নিলাম খানিকটা। বই হিসেবে বের করবো পরে। মাথা থেকে ডাউনলোড করি তো আগে, কি বলেন?

৩০০.

লিখতে বসলাম এইমাত্র। স্বাতী বাচ্চা দুটোকে নিয়ে বেরুলো মাত্র। গন্তব্য – মায়ের বাসা! খোঁজ নিতে হলো বার কয়েক। মোবাইল ফোনে। ফোনটাকে তুলে ডায়াল করলাম ওর নাম্বারে। বাতাসের ইথারে ভেসে এলো ওর কথা। অটবিতে নেমেছে কিছুক্ষণের জন্য। হৃদস্পন্দন থেমে গেল মনে হলো। নতুন আবার কি কিনতে নামলো? ভীতি বাড়িয়ে দিলো ও। গুগল হ্যাংআউট চালু করে নতুন জুতোর শোকেসটা দেখালো ওর ফোন থেকে। রংটা ভালোই মনে হচ্ছে। দামটা জিজ্ঞাসা করতে ভুলে গেলাম – ভয়েই। গুগল হ্যাংআউটের ভিডিও কল দিয়ে জিনিসপত্র দেখানো শিখিয়েছে আমার ছেলে। দুমাস আগে গিয়েছিলাম ব্যাংককে। হোটেলে ফিরে এলেই ছেলের বায়না। কথা বলতে হবে ওর সাথে। চালু করলাম গুগল হ্যাংআউট। হঠাৎ করে বলে বসলো – রুম দেখাও বাবা! নিচের বাটন চেপে চালু করতে হলো পেছনের ক্যামেরাটা। বড়টা। এরপর পুরো পর্দা সরিয়ে বিশ তালার হোটেলের ওপর থেকে দেখাতে হলো রাতের মোহনীয় ব্যাংকক। মিনিট পনেরো ধরে আশে পাশের আলো ঝলমলে হোটেল আর রাস্তা দেখে ঘুমাতে গেল সে।

৩০১.

ফিরে আসি আগের জায়গায়। ফোনটা করেছিলাম বাতাসের ওপর ভর করে। ওটার আসল নাম বেতার তরঙ্গ। ওই তারহীন তড়িৎ-চৌম্বকীয় জিনিসটা শক্তির এমন একটা রূপ যেটা শূণ্যস্থান মানে বাতাস অথবা বাতাস ছাড়া ঢেউয়ের আকার নিয়ে সঞ্চালিত হতে পারে। মহাশুন্যের স্যাটেলাইট বা কোটি মাইল দুরের মার্সের রোভার আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে ওই বেতার তরঙ্গ দিয়ে। ওটাই হচ্ছে স্পেকট্রাম। ক্লাস ফোরে পড়ার সময় জার্মেনিয়াম ডায়ডের রেডিও তৈরী করতে গিয়ে প্রেমে পড়ি এই স্পেকট্রামের। শর্টওয়েভের কোয়ালিটি নিয়ে বিরক্ত হয়ে সস্তায় বানিয়ে নিলাম একটা স্যাটেলাইট রিসিভার। ল্যাচ করলাম এশিয়াস্যাটে। হ্যাপী স্টেশন – রেডিও নেদারল্যান্ডস! সিডি কোয়ালিটি, স্যাম্পলিং ৪৪ কিলোহার্টজের মতো। হাতে আলাদিনের চেরাগ পাওয়ার মতো অবস্থা।

৩০২.

আজও রেডিও শুনি। তবে, ইন্টারনেট দিয়ে। কান্ট্রি রেডিও। আইএসপি ধরে বাসার ওয়াইফাই রাউটারে। তারপর সব খেলা স্পেকট্রামের। পাঁচটা পিসি, টিভি, ট্যাবলেট আর আমাদের অ্যান্ড্রয়েড কয়েকটা। ২.৪ আর ৫.৭ গিগাহার্টজের খেলা। ক্যামেরাটাও নাকি কথা বলে ওদের সাথে। নতুন মাইক্রোএসডি কার্ডটা কথা বলছে রাউটারের সাথে। আইএসপির লাইন কেটে গেলেও সমস্যা নেই। ব্যাকআপ হিসেবে রয়েছে টেলিটকের থ্রীজি, ওটাও স্পেকট্রামের খেলা। আসছে থ্রিজির ওপর দিয়ে – বের হচ্ছে আরেকটা ওয়াইফাই হটস্পট হয়ে। এসআরডি মানে শর্টরেঞ্জ ডিভাইসের মধ্যে ব্লুটুথ আর আরএফআইডির ওপর চলছে অনেকগুলো যন্ত্র। গান ছাড়া চলতে পারি না বলেই মিনিম্যালিস্ট ডিস্ক সিস্টেমটাও চলছে ব্লুটুথ রিসিভারের ওপর ভর করে। ইন্টারনেট রেডিও, ল্যাপটপ বা ফোন, যার যখন দরকার ব্লুটুথ রিসিভারে রেজিস্টার করে চালাচ্ছে তার পছন্দের গান বা টকশো। টিভির রিমোটটা অবশ্যি হাতে পাইনি কখনো। তাই বলে ওটাও কি চলছে না স্পেকট্রামের ওপর? ট্রেডমিলটাও স্পেকট্রামের ওপর ভর করে পাঠিয়ে দিচ্ছে শরীরের সব গল্প। তাও আবার ক্লাউডে। জিপিএস স্যাটেলাইটগুলো আমার নজরদারী করছে বছরের পর বছর – ওই স্পেকট্রাম দিয়েই।

৩০৩.

স্পেকট্রামকে ঘিরে আছে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ভ্যালু চেইন। সরকার, রেগুলেটর, সার্ভিস প্রোভাইডার মানে অপারেটর আর যন্ত্রপ্রস্তুতকারক। যন্ত্রপ্রস্তুতকারকদের পেছনে রয়েছে বিলিয়ন ডলারের রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি। বাঘা বাঘা ইউনিভার্সিটি। হ্যান্ডসেট প্রস্তুতকারকদের যুদ্ধের শুরুতেই কুপোকাত নকিয়া। বিলিয়ন ডলারের চিপসেট ইন্ডাস্ট্রি? আর তাদের পেটেন্ট? সবকিছুর মূলে হচ্ছে গিয়ে হতচ্ছাড়া এই স্পেকট্রাম। এই স্পেকট্রামের ওপর চলছে দেশগুলোর জোর লবিং। আর্লি মুভার্স অ্যাডভান্টেজও বিলিয়ন ডলারের। স্নায়ুযুদ্ধের দেখেছেন কি?

৩০৪.

চার বছর পর পর ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশনস ইউনিয়নের ‘ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্স’ নিয়ে যুদ্ধপ্রস্তুতি দেখলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। দুহাজার পনেরোর ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্স নিয়ে মুখিয়ে আছে স্যাটেলাইট আর ওয়্যারলেস ইন্ডাস্ট্রি। খুঁজে নাও অন্য ব্যান্ড! স্যাটেলাইট ইন্ডাস্ট্রি ওর ‘সি ব্যান্ড’ নিয়ে দেবে মরণ কামড়। এদিকে টেরেস্ট্রিয়াল ব্রডকাস্টিং থেকে ‘ডিজিটাল ডিভিডেন্ড’ ব্যান্ড খেয়ে ফেলেছে ওয়্যারলেস মানে মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি। ত্রিশঙ্কু লড়াইকে ঘিরে সরকারগুলোর অবস্থা আরো ভয়াবহ। সরকারের পেছন থেকে গোলাবারুদ সরবরাহ করছে যন্ত্রপ্রস্তুতকারকগণ। বিলিয়ন ডলারের প্রোডাকশন লাইন অপেক্ষা করছে একটা নডের জন্য। আমার দেশের ওই ব্যান্ডের যন্ত্রটা ‘হারমোনাইজড’ মানে সব জায়গায় মানাতে পারলে পায় কে আমায়! তখন খেলা হবে ইকোনমি অফ স্কেলে। ভলিউমে খেলবে কোম্পানিগুলো। বোল্ডআউট হয়ে যাবে অন্য বাঘা বাঘা কোম্পানি। তার জলন্ত উদাহরণগুলো ভাসছে চোখের সামনে। হ্যা, আপনার আমার সামনে।

৩০৫.

সব কিছুর পেছনে রয়েছে সরকারগুলোর ‘এগ্রেসিভ’ ব্রডব্যান্ড মাস্টার প্ল্যান। সরকারগুলো আগে না বুঝলেও এখন বুঝে গেছে ব্রডব্যান্ড ছাড়া তাদের ভবিষ্যত অন্ধকার। নিকষ কালো অন্ধকার। নলেজ ইকোনমি আর ব্যবস্যার চাবি হচ্ছে ব্রডব্যান্ডে। তার জন্য সবচেয়ে সহজ কাঁচামাল হচ্ছে স্পেকট্রাম।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Knowledge is the new capital, but it’s worthless unless it’s accessible, communicated, and enhanced.

Hamilton Beazley, Strategic Leadership Group

Some people drink deeply from the fountain of knowledge. Others just gargle.

— Bright, Grant M

২৪৫.

শ্রীলঙ্কার রেগুলেটরের একটা উদ্যোগ মুগ্ধ করেছিল আমাকে – বছর কয়েক আগে। উদ্যোগটা ছিল ব্রডব্যান্ড স্পিড নিয়ে। ব্যবহারকারীরা তাদের কেনা ব্যান্ডউইডথ প্রতিশ্রুতি মতো পাচ্ছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগটা নেয়া। ভালো উদ্যোগ। আর সেকারণেই ইন্টারনেটের আসল গতি বের করার জন্য সার্ভার দুটোর লোকেশন রেখেছিলো দেশের বাইরে। দেশের ভেতরে ইন্টারনেটের গতি ভালো পেলেও বাইরেরটা নিয়ে শঙ্কা থাকে বেশি। আপনার প্রোভাইডার প্রয়োজন মতো ইন্টারন্যাশনাল আইপি ট্রানজিট [ব্যান্ডউইডথ] না কিনলে ওই সমস্যাটা হতে পারে।

শ্রীলংকা? আপনার প্রশ্ন।

২৪৬.

আমাদের রিজিয়নে দুহাজার ছয়েই থ্রীজি লাইসেন্স দিয়েছিলো শ্রীলংকা। আর সেকারণে এখানে ওদের কাজ হয়েছে কিছুটা বেশি। ইন্টারনেট ব্রডব্যান্ডের ‘কোয়ালিটি অফ সার্ভিস’ নিয়ে ভালো কাজ হয়েছে তাদের। অপারেটরদের মধ্যে থ্রীজি সার্ভিসের ওপর বেঞ্চমার্কিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছে তাদের সাইটে। তবে দুহাজার ছয় থেকে আজ পর্যন্ত হিসেব করলে বেশি পিছিয়ে নেই আমরাও। কাভারেজ বাড়ছে আমাদের। বিশেষ করে থ্রীজির। বসে নেই কেউই। দ্রুততম সময়ে বাড়ছে এর সীমানা। লাইসেন্স পাবার পরদিন থেকেই শুরু হয়েছে তাদের কাজ। নতুন স্পেকট্রাম প্ল্যানিং, রেডিও টিউনিং – বিটিএসে ফাইবার ব্যাকহল সংযোগ দেয়া; অনেক কাজ। লোকাল ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ পীয়ারিংয়ের কাজও এগুচ্ছে। থ্রীজিতে লোকাল কনটেন্ট বাড়তে বাধ্য। গুগলের লোকাল ক্যাশে ইঞ্জিনের অনেকগুলোই বসেছে দেশের ভেতরে। লক্ষণ ভালো।

২৪৭.

আমার গল্প অন্যখানে। অন্যদেশের রেগুলেটরদের খোঁজ খবর নেয়া আমার অভ্যেসে দাঁড়িয়েছে। ভালো অভ্যাস কি? ছেড়ে দিলাম আপনার ওপর। আবার, আমার দেশী হ্যান্ডসেটের ওপর বিভিন্ন এপ্লিকেশন চেখে দেখার বদঅভ্যাসটাও ত্যাগ করতে পারছি না। মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) একটা অ্যাপ তৈরী করে ছেড়েছে গুগলপ্লে স্টোরে। মোবাইল ব্রডব্যান্ডের গতি আর তার পারফরমেন্স চেখে দেখার জন্য গ্রাহকের জন্য তৈরী করে দিয়েছে ছোট্ট একটা অ্যাপ। ভোক্তা পর্যায়ে মোবাইল ব্রডব্যান্ডের গতি নিয়ে কাজ চলছে ওদের ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড প্ল্যান বের হবার পর থেকেই। ওখানে একটা সুপারিশও ছিলো ওটার ওপর ভিত্তি করে। ভুল বুঝবেন না, ব্রডব্যান্ড গতির পরিমাপের জন্য আগে থেকেই এফসিসি’র সাইটে একটা টুল রয়েছে। এই মোবাইল অ্যাপটা একটু ভিন্ন ধাঁচের।

এফসিসি'র  মোবাইল অ্যাপ -  মোবাইল ব্রডব্যান্ডের গতি আর তার পারফরমেন্স চেখে দেখার জন্য তৈরী করা

এফসিসি’র মোবাইল অ্যাপ – মোবাইল ব্রডব্যান্ডের গতি আর তার পারফরমেন্স চেখে দেখার জন্য তৈরী করা

২৪৮.

আমেরিকার সমস্যা অন্যখানে। বিশাল মহাদেশ। আবার মানুষও অনেক কম। ওদের সেলুলার টেলিকমিউনিকেশনস এন্ড ইন্টারনেট এসোসিয়েশনের হিসেব অনুযায়ী তিরিশটার বেশি ফ্যাসিলিটি বেসড অপারেটর রয়েছে। ফ্যাসিলিটি বেসড অপারেটর মানে ওদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক রয়েছে মার্কিন মুল্লুকে। আবার তার বড় বড় চারটা অপারেটরের ঘাড়ে ভর করে পঞ্চাশটার বেশি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটরগুলো কাজ করছে ওখানে। কাভারেজ তৈরী করা হচ্ছে ওদের বড় সমস্যা। মাইলের পর মাইল মানুষ না থাকলেও সেটার জন্য কাভারেজ তৈরী করতে তাদের বিজনেস প্ল্যান ‘অফসেট’ হয়ে যায়। ‘কমপ্লায়ান্স’ কস্ট অনেক বেশি। বাংলাদেশের কথা ভিন্ন। সর্বোচ্চ ঘনবসতির দেশগুলোর মধ্যে একটা। আর সেকারণে আমাদের ফোনকলের দাম কম।

২৪৯.

ফিরে আসি অ্যাপে। কেমন হয় এরকম একটা অ্যাপ থাকলে? আমাদের জন্য তৈরী? মজার কথা হচ্ছে এর সোর্সকোডও দেয়া আছে সফটওয়্যার কলাবোরেশন সাইট গিটহাবে। যারা টেকনিক্যালি বুঝতে চান, তাদেরকেও নিরাশ করেননি তারা। পুরো গল্পটা দেয়া আছে এফসিসি’র সাইটে।

ধারণা দিয়ে সাহায্য করতে পারেন সবাই। সোর্সকোডটা দেখে ডেভেলপাররা ধারণা দেবেন কি?

পরবর্তী পড়াশোনা:

ক. শ্রীলঙ্কার মোবাইল ব্রডব্যান্ড পরিমাপ সাইট
খ. শ্রীলঙ্কার রেগুলেটরের দুহাজার বারোর একটা প্রেজেন্টেশন (যাদের সময় কম, তাদের জন্য বুকমার্ক – স্লাইড নয়)
গ. এফসিসি’র মোবাইল ব্রডব্যান্ড পরিমাপের অ্যাপ, গুগল প্লেতেও রয়েছে সেটা
ঘ. এফসিসি’র মোবাইল ব্রডব্যান্ড পরিমাপের টেকনিক্যাল গল্প
ঙ. গিটহাবে এফসিসি’র মোবাইল ব্রডব্যান্ড অ্যাপের সোর্সকোড

Read Full Post »

The first rule of any technology used in a business is that automation applied to an efficient operation will magnify the efficiency. The second is that automation applied to an inefficient operation will magnify the inefficiency.

– Bill Gates

২১৮.

কম্পিউটার রকিব না?

শুনেছি কথাটা অনেক অনেকবার! মেনেও নিয়েছি। সত্যি কথা বলতে – সিনিয়রদের কাছ থেকে শুনলে খারাপ লাগতো না কিন্তু। বরং, স্নেহের একটা প্যাকেজিং থাকতো ওর মধ্যে। কম্পিউটারের হাজারো সমস্যা? ডাকো ওকে। সলভ করার জন্যই তো আমি। বন্ধুদের ডাকে খোঁচা না থাকলে আর বন্ধুই বা কেন? আবার, আমারো দোষ না থাকলে এই নাম কেন? অফ-লাইন ইন্টারনেটের যুগ থেকেই ব্যবহার করছি এই কম্পিউটার। এফটিপি মেইল দিয়ে ব্রাউজ করতাম নেট – ওই অফলাইনেই! পুশ পুল এসএমএস তো দেখছেন এখন! ওই পুশ পুল মেইল দিয়ে ব্রাউজ করতাম নেট! জেদ করে সব কাজেই ব্যবহার করতে চাইতাম কম্পিউটার।

২১৯.

নব্বইয়ের দিকে কম্পিউটার মানে টাইপের যন্ত্র, সে ধারনা থেকে বের করার জন্যই আমার ওই প্রানান্তকর চেষ্টা। কম বকা খাইনি ওর জন্য। ধরা যাক জরুরি একটা ফ্যাক্স পাঠাবার কথা আমার, মোডেমের ড্রাইভারের সমস্যার কারণে সেটা পাঠানো যায়নি গত কয়েক ঘন্টায়। ফ্যাক্স মেশিন কিন্তু পড়ে আছে আমার রুমে। জিদ চেপেছে – পাঠাবো এই নচ্ছার কম্পিউটার দিয়েই। যাবি না মানে – তোর বাবা যাবে, এই মটো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ছুটিটাই বাতিল হয়ে গেলো! অবহেলা করেছি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্সটা। চাকরি চলে যাবার কথা! মাঝখান দিয়ে সাত দিনের ছুটিটা নট্ হয়ে গেলো।

২২০.

কিসের মন খারাপ, কিসের কি? রাত তিনটে বাজিয়ে ওই ফ্যাক্সের আরেকটা কপি পাঠিয়ে ঘুমুতে গেলাম। লিনাক্স কার্নালটা ওটা সাপোর্ট করছিলো না। কম্পাইল আর রি-কম্পাইল করেই মিটলো ঝামেলাটা। সাড়ে পাঁচটায় আবার পিটি। আহারে দিনগুলি! কোনো কিছুই অসম্ভব মনে হয়নি তখন! শরীরের চেয়ে বড় হৃত্পিণ্ড নিয়ে আমার সিনিয়ররা আগলে ছিলেন আমাকে। কম্পিউটার রকিব, ও একাজ না করলে করবেটা কে আর? সামওয়ান হ্যাজ টু ডু দ্য ইনোভেশন, লেট হিম ইনোভেট!

২২১.

আমার রুটি রোজগার রেডিও যোগাযোগের সূত্রে বাঁধা থাকলেও কম্পিউটার কমিউনিকেশনে পড়ে ছিলো বুকভরা ভালবাসা। উপায় কি? ওদের বিয়ে না দিয়ে উপায় আছে আমার? ইংরেজিতে ম্যারিং আপ বলে কথাটা ওটার জন্য একদম সত্যি! এইচএফ (হাই ফ্রিকোয়েন্সি) রেডিওর সাথে কম্পিউটারের ডুপ্লেক্স সাউন্ডকার্ড আর লিনাক্সের বেসব্যান্ড এন্টেনা টিউনারের সঙ্গে দরকারী সফটওয়্যার! বেশি নয়, বছরখানিক লেগেছিলো মাত্র। তিনশো বউড পার সেকেন্ডের রেডিও মোডেম বানাতেই সময় লেগেছিলো এই যা।

২২২.

সবকিছুতে কম্পিউটার কেন? ভালো প্রশ্ন। ছোটবেলা থেকে অটোমেশনের ওপর একটা দুর্বলতা জন্মে গিয়েছিলো। ওর কারণও ছিলো। ওয়েস্টার্ন সিনেমার নায়কের মতো বন্দুকের নল কামড়ে না বড় হলেও ক্রিস্টাল ডায়োড আর ট্রানজিস্টর কতো চিবিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। তবে সেটা একটু বড় হয়ে – রাগের মাথায়, সার্কিট ঠিকমতো কাজ না করার কারণে। অফিসের একঘেয়ে রিপিটেটিভ কাজগুলো ফেলে দিতাম প্রসেসে। করতো মানুষই। তবে, একটা প্রসেসের মধ্যে। প্রসেসের মধ্যে হিউমান ইন্টার-অ্যাকশন লুপহোল তৈরী করলে – প্রসেসটার কয়েকটা চেক এন্ড ব্যালান্সে ধরা পরত জিনিষটা।

২২৩.

আমার ধারনায় – বড় কাজকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে ভাগ করে কয়েকজনের মধ্যে দিলে – অটোমেশনের মতোই কাজ করে। সবার আউটপুট কানেক্টেড আপনার সাথে। যাবে কোথায়? সেমি-অটোমেটিক। শেলস্ক্রিপ্টের মতো। খানিকটা ‘ফর লুপ’এর ধারণা থেকেই। সামরিক বাহিনীর সব কাজের জন্য একেকটা এসওপি – ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ আমার কাজের মূল প্রেরণা। কাজ না হবার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না – এসওপি আছে না? ফলে ডিসিশন মেকিং প্রসেসটাও – ‘ডিএমপি’ কাজ করে দ্রুত। ম্যানাজেমেন্টের জন্য বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ ম্যাগাজিনটাও অনেককিছু নিয়েছে সামরিক বাহিনী থেকে। চেখে দেখুন নিজেই স্পেশাল কালেকশনের কিছু অংশ।

২২৪.

ভাবতাম অটোমেশনে জোর দিলে কাজ বের হবে তাড়াতাড়ি। সেটা কাজও করেছে অনেক জায়গায়। প্রচুর অটোমেশনের কাজও করানো হয়েছে আমাকে দিয়ে। প্রথম দিকে কাজও হয়েছে ভালো। আমি অন্য জায়গায় চলে গেলে সেটা পড়েছে মুখ থুবড়ে। ভালো ডকুমেন্টেশন থাকা সত্ত্বেও না কাজ করার পেছনে ওই প্রজেক্টের পরবর্তী ওনারশীপ দায়ী থাকে কিছুটা। এখন কাজ করছি নলেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। সমস্যা একটাই। মানুষ চলে গেলে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রজেক্ট। সেকারণেই কাজ করছি নলেজ ‘কন্টিনিউটি’ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে।

২২৫.

এই ‘কন্টিনিউটি’ অংশটাই সমস্যা কাটাবে আসা করি। নতুন আইডিয়া বটে, আমাদের জন্য। প্রতিদিন কাজের একটা স্ন্যাপশট থাকবে সবার কাছে। সবার কাজের খতিয়ান সবাই দেখতে পারবে বছর ধরে। সপ্তাহের এক দিন সবাই দেখবে বিগ পিকচারটা। কোথায় এগুলো তার কাজ আর বাকি সবার। মানে বড় কাজটার কোন মডিউলে কাজ করছিলো সে। আর না হলে হাতির কান দেখার মতো অবস্থা হবে ওদের। প্রতিযোগিতা তৈরী হবে আউটপুটে। খাওয়া দাওয়াও হতে পারে সেদিন! ওয়েল ডিফাইন্ড প্রসেস তৈরী করতে সময় নিলেও করতে হবে সবকিছু ফেলে। প্রসেসটা ক্লায়েন্টও জানবে। সরকারের ক্ষেত্রে জনগণ। একবার দাড়িয়ে গেলে বস প্রতিদিন না থাকলেও অসুবিধা নেই। কাজ থাকবে না মানুষ ডিপেন্ডেন্ট হয়ে। ওটা হবে প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট। অমুক নেই তো হবে না কাজ – সেদিন যাচ্ছে চলে। কাজের তদারকি করবে ক্লায়েন্ট, পরোক্ষভাবে। সরকারের ক্ষেত্রে ওই জনগণই।

২২৬.

তবে সব জায়গায় ‘চলো করি অটোমেশন’ ভাবার আগে বিল গেটসের কথাটা মনে রাখবেন। হাটুন কিছুটা পেছনে, মানে সমস্যাটা থেকে বেরিয়ে এসে। প্রসেসটা দক্ষ বা কার্যকর না হলে ব্যাকফায়ার করতে পারে। ভালো দিক হচ্ছে – অটোমেশন অকার্যকর প্রসেসকে আরো আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয়। এফিসিয়েন্ট প্রসেসটাই সবকিছুর মূলে। আবার, দরকার মতো – উই হ্যাভ টু স্ট্রিমলাইন দ্য ওয়ার্কফ্লো! বছর লাগলেও কষ্ট করে তৈরী করুন একটা ‘কার্যকর’ প্রসেস ওয়ার্কফ্লো। বিয়ের রাতে বেড়াল মারার মতো। শান্তি চলে আসবে কাজে। আমি মেরেছিলাম কিনা? বলেন কি ভাই? ভয় ডর কি নেই আমার?

২২৭.

সামনের দিনগুলোতে কিভাবে কোম্পানিগুলোর বাজেট কাট হবে সেটার জন্য বসে থাকতে হবে না আরেকটা বছর। টাকা কম, ভালো কাজ আর স্বচ্ছতা; অটোমেশন ছাড়া গতি নেই সামনের দিনগুলোতে। এফিসিয়েন্ট আর কার্যকর অটোমেশন করার আইডিয়া নিয়ে আসছি সামনেই। ওয়ার্কফ্লোসহ! মাইন্ডম্যাপ? ওটা বোনাস! এই প্রাকটিসটা সবার মধ্যে ঢুকে গেলে আসবে ভালো কাজ আর স্বচ্ছতা। কত মানুষ আমাদের, খাওয়াতে হবে না সবাইকে? আনবো ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ধারণা। সবার জন্য স্বাস্থ্য আর দুরের স্বপ্ন নয়। টাকা নেই – ভুল কথা। হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রির ‘কার্যকর’ প্রসেস ওয়ার্কফ্লো তৈরীই আছে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে। দেশের জন্য ‘কাস্টমাইজেশন’ আর দরকারী ‘ম্যাপিং’ না করতে পারলে বিশ বছর কি শিখলাম তাহলে? ফেরৎ দিতে হবে না?

দেশের জন্যই তো! থাকছেন তো সাথে?

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: