Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘মাল্টিপ্লায়ার’

They shoot the white girl first.

— Toni Morrison, Opening line of “Paradise” (1998)

৮৫.

কোথায় যেনো পড়েছিলাম বই পড়ুয়ারা নাকি মাছের মতো। মেজাজ গরম হলো তখনি। শেষ পর্যন্ত মাছ? টিউবলাইটই তো ভালো ছিলো। বন্ধুদের কাছে নামের কি শেষ আছে? সেদিন কে জানি দিলো নাম আরেকটা, এসএম। স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট? না, সাবমেরিন! সে গল্প আরেকদিন! তবে, বইই তো পড়ছি, কারো ক্ষতি তো করছি না। মাছের গবেষণায় বসলাম। ভুল বুঝেছি খামোকাই। বই পড়ুয়ারা সাদামাটা মাছ নয়, স্মার্ট মাছ। বলেছে আরেক স্মার্ট লেখিকা, কে এম ওয়েইল্যান্ড, আমার বই পড়ার সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ‘গুডরিডে’র বন্ধু। বই পড়ুয়ারা ভালো ভাবেই জানেন লেখকদের। বড়শি নিয়ে বসে আছে সবাই। মানে সব লেখক। লেখকদের লেখা শেখার শুরুতে যে কয়েকটা বাজ্জওয়ার্ড জানতে হয় তার মধ্যে ‘হুক’ অন্যতম। বই মেলায় পড়ুয়াদের লক্ষ্য করেছেন কখনো?

৮৬.

মাছের কথায় আসি। স্মার্ট মাছ কিন্ত জানে লেখকরা বড়শিতে আদার লাগিয়ে বসে আছে তার বইয়ে। মাছটাকে ধরতেই হবে বইয়ের প্রথম কয়েক পাতায়। সেটার জন্য বড়শির সুতা কখন ছাড়বে আর টানবে সেখানেই লেখকের মুন্সীয়ানা। ‘হুক’ লাগানোর আগেই যদি আমরা যারা স্মার্ট মাছ বইটাকে ছেড়ে দেই সেখানে লেখকের ব্যর্থতা। স্মার্ট মাছ ধরা কিন্তু সহজ নয়। এই মাছ আসলে পড়েছে অনেক বই। প্রথম কয়েক পাতায় ‘হুক’টা ঠিকমতো না গাথলে ফসকে যাবার সম্ভাবনা বেশি। স্মার্ট লেখক তার ‘হুক’টাকে কিভাবে স্মার্ট মাছের গলায় আটকাবেন শক্ত করে সেটার গল্প আজ। ‘স্মার্ট’ মাছ বুঝতেই পারবেনা যে ও কখন পুরো ‘হুক’টা গিলে ফেলেছে – খেসারত দিতে হবে পুরো বইটা শেষ করে। তার মানে বইয়ের প্রথম কয়েক পাতায় পাঠকদের ধরে রাখার জন্য লেখক যে ছলচাতুরী করেন সেটার নামই ‘হুক’| অফিসিয়াল নাম কিন্তু।

৮৭.

লেখা শেখার প্রথম অস্ত্র, এই ‘হুক’ ব্যবহার করেই আমাদেরকে ধরাশায়ী করেন স্মার্ট লেখকেরা। প্রথম পাতাগুলোতে আমাদেরকে ‘হুক’ড না করা গেলে বইয়ের বাকি সময়ে সাঁতার কাটতে চাইবে না কেউই। পরের দিকের গল্প যতোই চমত্কার হোক না কেন, স্মার্ট মাছ ছুড়ে ফেলবে বই। এখানেও রয়েছে অনেক গবেষণা। আর এই ‘হুক’ আসে হাজার স্টাইলে, হাজার রকমের ফর্মে। তবে, সবকিছুর পেছনে থাকে একটাই ষড়যন্ত্র। মিনিম্যালিস্ট ভার্সনে বলতে গেলে লেখক স্মার্ট মাছকে কৌতুহলী করে তোলে ওই প্রথম কয়েক পাতায়। অথবা, প্রথম লাইনেই। বলেন কি? কিউরিসিটি কিল্ড দ্য ক্যাট। পিরিয়ড। মাছ আদার খাবে কেন, কৌতুহলী না হলে? সবাই কি বেকুব আমার মতো? কিছু না পেলে কাগজের ঠোঙ্গাও পড়ে।

৮৮.

জামার পেছনে হাত পড়তেই ভেজা ভেজা লাগলো শীলার। শিউরে উঠলো সে।

নোটবইয়ের একটা অসমাপ্ত গল্পের প্রথম দুটো লাইন তুলে দিলাম এখানে। পাঠকদের এটা কৌতুহলী করে তুলবে কি? সেটা আপনারাই বলবেন ভাল করে। স্মার্ট মাছের মতো চিন্তা করলে অনেক কিছুই হতে পারে এখানে। শীলা, ও আবার কে? ওর জামাটা কেনই বা ভেজা? কিভাবে ভিজলো? কোথায় ভিজেছে ওর? বৃষ্টির পানি? শিউরে ওঠার কি আছে? না কি আবার রক্ত? রক্ত আসলো কোথা থেকে? পাঠকের কৌতুহলী হবার বেশ কিছু এলিমেন্ট আছে এখানে। আচ্ছা, আরেকটা ছোট গল্পের ওপেনিং লাইন হিসেবে কোনটা পছন্দ আপনার?

তুমি কি ভালোবাসো আমাকে? মেয়েটার প্রশ্ন।

অথবা

‘তুমি কি’ মেয়েটার অস্ফুট স্বর, ‘ভালোবাসো আমাকে?’

৮৯.

আমার ধারনায় ছোটবেলার সবচেয়ে মোটা বইটা হাতে নিয়েছিলাম সেই কৌতুহলের বসে। মোটা বইগুলোর মধ্যে এই সাতশো পাতার ওজনদার বইটা আমাকে দমাতে পারেনি – ওই প্রথম লাইনটার জন্য। দুর্দান্ত! মার্কিন সাহিত্যে অমর হয়ে আছে বইটা অনেক কিছুর জন্য। আমার মতো বেকুব মাছদের কাছে কিন্তু ওই প্রথম লাইনটার জন্য।

কল মি ইসমাইল।*

* আসল উচ্চারণ, ইসমেল। ‘আমার নাম ইসমেল’ দিয়ে শুরু করলে কি ওরকম লাগতো? প্রথম প্যারাগ্রাফটা আজ না পড়ে যাবেন না কোথাও। ভয়ঙ্করভাবে সুন্দর! ইসমেলের পুরো চরিত্রটা ফুটে এসেছে ওই প্যারাগ্রাফে। সাগর ওকে কেন ডাকে? সেটার উত্তরও ওখানে।

Advertisements

Read Full Post »

When you leave this world, what will you be remembered for?

Sabirul Islam #Inspire1Million

১২৪.

পিঠের ব্যথায় কষ্ট পেলেও এমআরআইটা করা হয়নি আলসেমি করেই। আসলে, মাড়াইনি অনেক দিন সে পথ। নিজের ব্যাপারেই যতো আলসেমি – অন্য কাজে নয়। নতুন এমআরআইটার কেস ফাইলটা নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলতেই সেটা অন্যদিকে মোড় নিলো। কাল আসুন – মাথার একটা এমআরআই করলে বোঝা যাবে কিছুটা। আমতা আমতা করে অফিসের দুটো মিটিংয়ে দোহাই দিলাম। অন্যদিন হলে কেমন হয়? স্থির দৃষ্টিতে তাকালেন ডাক্তার। হিমশীতল।

১২৫.

ভয় পেলাম কিনা বুঝলাম না। তবে ‘ডিস্ট্রাকশন’ খুঁজলাম মনে মনে। জ্বর নিয়ে বাসায় আছি পড়ে। ফোনের ক্যালেন্ডার উঁকি দিলো সাবিরুল ইসলামের বক্তৃতার পপ-আপ নিয়ে। বিকেল ছয়টায়। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে। গুগল করলাম ওর নাম। নামের পাশে এলো কয়েকটা কীওয়ার্ড – লেখক, উদ্যোগতা, গ্লোবাল মোটিভেশনাল স্পিকার। ইস্ট লন্ডনের অতি দরিদ্র এলাকা থেকে উঠে এসে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন আজ। এপিলেপ্সি রোগে আক্রান্ত এই সাবিরুল চৌদ্দ বছরেই গড়ে তোলেন নিজ ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। চষে বেড়ান অনেক কোম্পানিতে – কাজের খোঁজে। ব্যর্থ হয়ে ধর্না দেন নতুন কোম্পানিগুলোর দ্বারে দ্বারে। সৃষ্টিকর্তা সবার মতো তাকেও ব্রেক দিলেন একটা। তার লেগে থাকার কারণেই চোখে পড়ে যান মেরিললিঞ্চএর এক এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের। কাজ দিলেন উনি – কিছুটা কৌতুহলের বসেই। দেখি কি করে বাচ্চাটা। পাল্টে গেলো জীবন। এপিলেপ্সি রোগ নিয়ে উড়লেন নিউ ইয়র্কে। শিখলেন স্টক এক্সচেঞ্জের কাজ – স্কুলে থাকতেই চমকিয়ে দিলেন পাড়া পড়শীদের। বাবা মার তার কাজে সন্দিহান হয়ে পড়লেন।

১২৬.

ব্যবস্যায়িক আর উদ্যোগতার যাবতীয় জ্ঞান অর্জন করে ফেললেন এর মধ্যেই। সতেরো বছর বয়সে লিখে ফেললেন ‘বেস্টসেলার’ – ‘দ্য ওয়ার্ল্ড অ্যাট ইয়োর ফিট’| চল্লিশটা পাবলিশিং হাউস তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো তাকে। বই লেখার নাকি সময় হয়নি ওর। জ্ঞান কি হয়েছে ওর? ক্ষোভে দু:খে নিজেই পাবলিশ করার ব্যবস্থা করলেন সাবিরুল। নয় মাস ধরে স্কুলে স্কুলে তরুণ উদ্যোগতাদের জন্য বক্তৃতা দিলেন – তিনশো উনোআশিটা! বই বিক্রি হলো – পয়তাল্লিশ হাজারের বেশি! বেস্টসেলার, নিমিষেই! সেই চল্লিশটা পাবলিশিং হাউস পাগল হয়ে পিছনে লেগে গেলো তার ইনস্ট্যান্ট সাকসেসে।

১২৭.

ঘুম হারাম হয়ে গেলো তার। এর মধ্যে আমন্ত্রণ এলো খোদ নাইজেরিয়ার ফার্স্টলেডি থেকে। পাল্টে দাও আমাদের তরুণ উদ্যোগতাদের! বাবা মা পাড়লেন কথা – ইটস টু ডেঞ্জারাস! আফ্রিকাতে গিয়ে তার উপলব্ধি গেলো পাল্টে। পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ফুটছে টগবগ করে। লেখাতে আগেও বলেছি আমি। আফ্রিকা পাগল হয়ে আছে শেখার জন্য – নতুন নতুন জিনিস – প্রতিদিন! মজার কান্ড হয়েছে বতসোয়ানায় গিয়ে। হাজারটা বক্তৃতা দিতে হয়েছে তাকে। মানুষের আবেগ আপ্লুত চোখের দিকে তাকিয়ে না করতে পারেননি শেষ পর্যন্ত সাবিরুল। চোখ কান দিয়ে গিলেছে তাকে – সব বক্তৃতাতে। আসল কথাটা বলা হয়নি এখনো। পুরো দেশের দশ শতাংশের মানুষ শুনেছে তার বক্তৃতা – টেলিভিশনে নয়, খোদ সমাবেশে এসে। বক্তৃতার পর ড্রাগ অ্যাডিক্ত ছেলে নিজে থেকে ভালো হয়ে দেখা করতে এসেছে লন্ডনে, ওর সাথে। সুদুর আফ্রিকা থেকে। ভিসা আর প্লেনের টিকেটের টাকা তুলে।

১২৮.

বাংলাদেশে? এসেছেন কাল। বক্তৃতা শুনে চোখে পানি এসেছে বার কয়েক। কি আবোল তাবোল বকছে ছেলেটা? পাল্টাবে কি বাংলাদেশ? ভুল স্বপ্ন দেখানোর এই সাহস কে দেখিয়েছে তাকে? গিয়েছেন আটাশটা দেশে – দেশগুলোরই আমন্ত্রণে। সবার একটাই কথা, পাল্টে দাও আমাদের ছেলেমেয়েদের! বানাও গ্লোবাল প্লেয়ার! বের করে নিয়ে আস গর্ত থেকে। দুহাজার এগারোতে লঞ্চ করেন প্রোগ্রাম ‘ইন্সপায়ার ওয়ান মিলিয়ন’, শুরু হয়েছে মালদ্বীপ থেকে। আশা করছি আমাদেরও বের হয়ে আসবে কয়েক হাজার। আমাদের নবীও ছিলেন উদ্যোগতা।

আরো আছেন তিন দিন, শুনবেন নাকি? নিজে থেকে পাল্টে যাবেন আপনি। কয়েকজনকে তরুনকে পেলাম দৌড়াচ্ছে ওর সব বক্তৃতাতে। মন্ত্রমুগ্ধ হবার মতো বটে!

সৃষ্টিকর্তা আছেন কিন্তু সবারই সাথে। দেখি নতুন কি আছে কালকে? বোঝা যাবে সেটা মাথার এমআরআইএর পর। সব ভালো তারই জন্য।

Read Full Post »

Be the change that you wish to see in the world.

Mahatma Gandhi

Everyone thinks of changing the world, but no one thinks of changing himself.

Leo Tolstoy

১১৫.

জন্ম তারিখটা নিয়ে একটা অস্বস্তিতে থাকি সবসময়। না পারতে বলি না। কোন মাসে সেটা বললেও সমস্যার মাফ নেই। রাশিফল বিশ্বাস না করলে কি হবে – বন্ধুদের মুখস্ত সেটা আগাগোড়া। নিজের রাশি নিয়ে অতটা না পড়লেও অন্যের মুখে শুনে মুখস্ত হয়ে গেছে আমারও। নিজে বিশ্বাস না করলেও বন্ধুদের ধারনা ওই রাশির সব সিম্পটম নিয়ে নাকি ঘুরে বেড়াই আমি। ভীতিকর সব ক্যারেক্টার ট্রেইটস। স্বাতী আবার আরো এক কাঠি সরেস। রাশিটা নাকি লেখাই হয়েছিলো আমাকে লক্ষ্য করে। শি ডেফিনিটলি হ্যাড সাম সেকেন্ড থট। কি সাংঘাতিক! দেরিতে বিয়ে হবার জন্য কি কারণ ছিলো জানি না – ‘সোয়াট’ এনালাইসিসে রাশিটাও ‘উইকনেসে’র ঘরে ছিলো হয়তোবা।

‘জানিস, আমেরিকার প্রেসিডেন্টদের মধ্যে তোর রাশির মানুষ বেশি ছিলো?’ এতক্ষণ খোঁচাখুচি করে মলম লাগাচ্ছে বন্ধু।

‘ওই বেটা’, আমার ঝাঁঝালো উত্তর ‘উনিশশো তেইশের পর মানুষ চিনে ফেলেছে আমাদের। দেখলি না মাইকেল ডুকাকিস আর হিলারি ক্লিনটন কি বাড়িটাই না খেলো?’

ওর পর বন্ধু কি বললো সেটা আর নাই বা বলি।

১১৬.

রাশিটার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কি মিলেছে আর কি মিলেনি সেটা নিয়ে মাথা না ঘামালেও ‘গবেষক’ ব্যাপারটা মিলেছে কানের কাছ দিয়ে। আবার এটাই ডুবিয়েছে আমাকে পদে পদে। ভাসা ভাসা করে করতে পারিনা কোনো কাজই। ধরুন, কাজ দেয়া হলো একটা। নামাতে হবে আটচল্লিশ ঘন্টায়। নামিয়ে দিলাম সময়মতো। খানিকটা গায়ের জোরে। রিঅ্যাসাইন হলাম অন্য কাজে – পরেরদিন। মন পড়ে থাকবে আগের কাজে। কাজ হয়েছে ঠিকই – মন মতো হয়নি। এমনও হয়েছে কাজ নামিয়ে দেবার ছয়মাস পরে সেটাকে নিজের মতো করে ঠিক করে দিয়েছি আবার। গবেষণা হয়েছে বিস্তর এই ফাঁকে। আর সেকারণে উর্ধতন কর্মকর্তার টাস্কলিস্টে আমার নামের কাজগুলো ‘কমপ্লিটেড’ দেখালেও নিজস্ব লিস্ট ‘স্ট্রাইকআউট’ করা হয়নি অনেকদিন পর্যন্ত। নামিয়েছি মনের মতো করে – অ্যান্ড্রয়েড ফোনটাও বেঁচেছে প্রতিদিনের টাস্ক ‘পোস্টপনের’ জ্বালা থেকে।

১১৭.

মাস্টার্স করতে গেলাম বুড়ো বয়সে। লাপ্লাস, ফোরিয়ার আর ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিকসের অংকে মাথা ঘুরতে থাকলো সারারাত। সাড়ে ছয়টার অফিস শেষে সাতটায় ক্লাস। শুক্র শনি বলে কিছু ছিলো না সেই আড়াই বছর। প্রজেক্ট আর থিসিসের গল্পে মনটা মিইয়ে গেলো। বলে কি সুপারভাইজার?

‘ওয়াইম্যাক্স এর ‘মাইমো’র বিমফর্মিংয়ের একটা সমস্যা আছে বোধকরি জানেন আপনি?’ ফ্যাকাল্টির প্রায় সবাই আমার থেকে বয়সে ছোট।

জি, সিক্সওনাইনে পড়িয়েছিলেন সেটা। আমার তটস্ত উত্তর।

দেখুন তো, সেটার ইমপ্রুভমেন্ট পাওয়া যায় কিনা?

১১৮.

খাটলাম দু মাস। কিন্তু মন পড়ে আছে অন্য জায়গায়। আমার অফিসেই পড়ে আছে দেশের অনেক সমস্যা। স্ক্রিপ্ট তৈরী করলাম একটা – মুগ্ধ করতে হবে উনাকে। ওয়ান পেজার স্ক্রিপ্ট। ইন্ডাস্ট্রিতে যেটার নাম – ‘এলিভেটর পিচ’!

শব্দটা শিখেছিলাম সিলিকন ভ্যালিতে। স্টার্টআপ থেকে বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রি – সবাইকে এই ‘এলিভেটর পিচ’ দিয়েই জোগাড় করতে হয়েছে টাকা। লম্বা কথা শুনতে চায় না কেউই। ফিনান্সিয়াল আর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলোর বসদের ফরমাল মিটিংয়ের জন্য সময় চেয়ে পায় না কেউই। অখ্যাত দু-তিনটা বাচ্চা ছেলের কথা শুনতে তো বসে নেই তারা। উপায় কি? এলিভেটর। আটকে থাকতে হবে ও সময়ে। শুনতেই হবে তাকে। কি বুদ্ধি! ওই তিরিশ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট – গিভ ইয়োর বেস্ট শট! মিলিয়ন ডলারের আইডিয়া সেল করতে হবে ওই সময়ের মধ্যে – ওখানেই। প্রচুর রিহার্সাল লাগে ওর জন্য। নতুন উদ্যোগতাদের তাদের বিজনেস কেস বিক্রি করতেই এতো গল্প। আমাকেও করতে হয় প্রতিনিয়ত। দেশের নীতিনির্ধারকদের সময় কম। ভালো একটা নীতিমালা বের করতে প্রচুর রিহার্সাল দিতে হয়। ভালো স্ক্রিপ্ট আর রিহার্সাল। সমস্যা কি? দেশেরই জন্য তো!

১১৯.

‘মাইমো’র একটা ড্রাফট নিয়ে দেখা করলাম সুপারভাইজারের সাথে। সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন। সুই হয়ে ঢুকলাম তখনি।

এটা করতে ভালো লাগছে না, স্যার। সমস্যা দেন একটা – দেশের ভেতরের। সমাধান করতে তো হবে আমাদেরকেই। আমাদের দেশ – আমাদের সমস্যা। বাইরে থেকে তো আর কেউ করে দিয়ে যাবে না।

মাথা তুলে তাকালেন সুপারভাইজার, কিছুটা বিস্মিত।

রাশির একটা বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করলাম ওই মুহুর্তে।

আমাদের চিপসেট ফ্যাব্রিকেশন ইন্ডাস্ট্রি তৈরী হতে সময় নেবে। অন্যের লেখা জার্নাল পড়ে তার ওপর ধারণা নিয়ে কাজ করা দুস্কর। আজ অ্যামেরিকায় আমি থাকলে কথা ছিলো অন্য। আরএন্ডডি ল্যাবে ভর্তি সেসব স্কুলগুলো।

তিন সেকেন্ড সময় নিলাম। স্ক্রিপ্ট আর রিহার্সালের অংশ।

বিশ্বে উদ্ভাবিত হাজারো জিনিসের কয়টা অ্যাডপ্ট করেছি আমরা, স্যার? ইনোভেশন তো মানুষের সুবিধার জন্য। ওদের একটা ডোমেইন নলেজ নিয়ে আমার অফিস বসে আছে অনেক দিন। সুযোগ দিন আমাকে সেটাকে ইমপ্লিমেন্ট করার জন্য – আমাদের মতো করে।

ইনোভেশন কিওয়ার্ড কিন্তু ‘আমাদের মতো করে’| বাইরের দেশের অনেক নীতিমালাই আমাদের দেশে কাজ করে না। বাইরের হাজারো দেশের প্রেসক্রিপশনস এন্ড আপ বিয়িং ইন সেলফ! ‘লোকালাইজেশন’টাই হচ্ছে আমার ইনোভেশন!

‘বক্তৃতা দিয়ে ফেললেন তো আপনি।’ সুপারভাইজারের প্রশ্রয়ের গলা। ‘কি করতে চান আপনি?’

অফিসের কাজ – দেশের জন্য। আমাকে দিয়ে করিয়ে নিন আপনি।

১২০.

এই মানুষগুলোর জন্য দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এখনো। ছয়মাসের ছোট্ট একটা সাদামাটা প্রজেক্ট পেপার থেকে একটা ‘কস্ট মডেলিং’ এক্সারসাইজে পরিনত হলো এটা ধীরে ধীরে। আড়াই বছরে। প্রজেক্ট পেপারে সবকিছু ভাসা ভাসা থাকলেও ওই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) কনকন্সাল্টেশন শেষে সবার কলরেট কমলো দশ পয়সা। ‘এসএমএস’ হোলসেল ইন্টারকানেকশন রেটও আসলো কমে। ফলাফল দুপাতার চিঠি হলেও এর পেছনে রয়েছে হাজার পাতার এক্সেলশীটের কারুকাজ। আমার দুজন অফিসার আজই থাইল্যান্ড গেল সেটার উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিতে। আশায় বুক বেঁধেছি তাদের উপর। তারাই পাল্টাবে বাংলাদেশ – একদিন।

১২১.

অফিসে বসে টেলিকমিউনিকেশন ইন্ডাস্ট্রি আর একাডেমিয়ার বিশাল ফারাক চোখে পড়ে বলে এ লেখার অবতারণা। উন্নত দেশের ইন্ডাস্ট্রিগুলোর জ্ঞানের বড় যোগানদাতা ইউনিভার্সিটিগুলো। আমাদের মতো দেশগুলোতে এখনো পাশ্চাত্য প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল বলে এর উপর গবেষণা হয় কম। কারণ, এর সবকিছু উদ্ভাবন হয়ে গিয়েছে বলে। বাইরের উদ্ভাবনাকে দেশের মানুষের কাজে লাগানোর যে একটা বড় ‘লোকালাইজেশন’ গ্যাপ সেটা আমাকে পীড়া দেয় বেশি। বাংলাদেশের সমস্যা অনেক দেশের জন্য গবেষনার বিষয় বটে। বাইরের প্রচুর ডকটরাল প্রোগ্রাম চলছে এই সম্ভাবনাময় দেশটাকে নিয়ে। পৃথিবীর ‘মোস্ট লিভেবল সিটি’স’ নিয়ে গল্প হলে আমাদের ঢাকার নাম চলে আসে শেষের দিকে। এবছরে ঢাকার অবস্থান সর্বশেষের যুদ্ধবিধ্বস্ত দামাস্কাসের (সিরিয়া) ঠিক উপরে। দামাস্কাস যুদ্ধে না থাকলে ঢাকার অবস্থান সহজে অনুমেয়।

১২২.

আমাদের এতো সম্ভাবনাময়ী ছাত্রছাত্রীদের জন্য দেশের হাজারো সমস্যা নিয়ে ডকটরাল প্রোগ্রাম চালু হওয়া উচিত। আমার অফিসও বসে আছে এরকম অনেক সমস্যা নিয়ে। পাচ্ছি না মন দিয়ে কাজ করার মতো মানুষ। জ্ঞান দরকার অ্যাকাডেমিয়া থেকে। এতো মানুষের দেশ, এতো সম্ভাবনার দেশ, ঠিক করতে হবে আমাদেরকেই। কথা হচ্ছিলো মুনতাসির মামুনের সাথে। টগবগ করছে তারুন্যে! ঢাকার বাস ম্যাপ তৈরীর মতো ‘ভয়াবহ’ কাজে নেমেছিলো তারা। একটা শহরের পাবলিক ট্রানজিট সার্ভিস কাজ করে সেদেশের উন্নতির একটা ইনডিকেটর হিসেবে। সরকারের কাজ করে দিয়েছে তারাই। অন্যের প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল না তুলে নিজেরাই করে দিয়েছে সেটা। টাকা দিয়েছে সবাই, কিকস্টার্টারে। পনেরো হাজার ডলার। ইন্টারনেটকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে অনেক ভালো কাজ হচ্ছে দেশে। ফেইসবুকে সময় নষ্ট না করে এখানে হাজারো তরুণ তরুণী পাল্টে দিচ্ছে বাংলাদেশকে – সবার অগোচরে। ‘আমরাই–বাংলাদেশ’ পেজ খুলেছে তারা। ব্লাডলাইনে মতো ফেইসবুক অ্যাপ মানুষের জীবন বাচাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ধন্যবাদ, আরিফ আর হোসাইন, রাজীব হাসান চৌধুরী, জাভেদ কায়সার এবং আরো অনেককে। স্টার্টআপঢাকা.কম দেখেননি এখনো?

১২৩.

বাংলাদেশ হওয়া উচিত মুনতাসিরদের মতো আমাদের সবার ‘আলটিমেট টেস্ট ল্যাব’| নিজের দেশ বলে কথা। আর ঢাকায় রয়েছে আপনার গবেষনার প্রয়োজনীয় সব উপাদান – সমস্যা। বলুনতো, বাদ আছে কোনটা? সমস্যা দেখলে আবার ঠিক থাকে না মাথা। নেমে যাই গবেষণায়। রাশির দোহাই লাগে নাকি আবার? ঢাকা, আ ডেফিনিট টেস্ট বেড! আমার ডেস্কেই ডক্টরাল আর পোস্ট ডক্টরাল মানের সমস্যা আছে দশটির মতো। মানুষ ছুটছে পিএইচডির জন্য বিদেশে, ওদের সমস্যা সমাধানে। পড়িয়েছে কে আমাদের, বিদেশ না মাতৃভূমি? নিজের দেশের সমস্যার সমাধান করতে হবে – নিজেদেরকেই। এর ওর দোষ বলে হচ্ছে না কিছুই। পাল্টাতে হবে নিজেকে।

আছেন তো সাথে?

দেশের জন্য – উৎকর্ষতার সন্ধানে?

Read Full Post »

Its hard to be a diamond in a rhinestone world.

Dolly Parton

৯২.

অবাক করার মতো ঘটনা বটে!

অনলাইনে বিএমডাব্লিউ গাড়ি কিনতে গেলে ‘‘বিল্ড-ইয়োর-ওন-বিএমডাব্লিউ’’ বলে নতুন ট্যাব দেখলাম একটা। গাড়িই যে কিনতে গিয়েছিলাম সেটা বলাটা ঠিক হবে না বোধহয়। বাংলাদেশে যে ওটা কোথায় ডেলিভারি করবে সেটা চাখতে গিয়েছিলাম ওর সাইটে। পয়সা না থাক গাড়িটাকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে মানা করছে না তো কেউ। উইন্ডো শপিং বলতে পারেন কিছুটা। আপনি আমি যে কেউ একটা বিএমডাব্লিউ অর্ডার দিতে পারবো যেটার কম্বিনেশন এক মিলিয়নের বেশি হতে পারে। গাড়ির হেড লাইট, লেদার সিট, কোন ধরনের হর্ন বা কোন ধরনের ডিজাইন পছন্দ আপনার – সেটার কাস্টোমাইজড গাড়ি ডেলিভারী দিয়ে দেবে আপনার বাসায়।

৯৩.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাবার পর ডেল-এর কম্পিউটার কিনতে কম্পিউটার দোকানে যেয়ে ভিমড়ি খেলাম প্রথমেই। সেটা নাকি অনলাইনেই কিনতে পাওয়া যায়। অনলাইনে কিনতে গিয়ে হাজারো ফ্যাকড়া – মানে ভালো অর্থে অনেক বেশি চয়েস। তার প্রসেসর কি হবে, র‌্যাম, হার্ডডিক্স সব কিছু বলে দিতে হয় অনলাইনে। অ্যামাজন শুধুমাত্র দুই হাজার এগারো সালেই তিন বিলিয়ন ডলার থেকে আটচল্লিশ বিলিয়ন ডলারে বিক্রি করেছে সবকিছু – এই নতুন ধারায়। তার পাশে বর্ডাসের মতে বড় বড় বই বিক্রির মোগল [দোকান] বন্ধ হয়ে গেছে নতুন ধারাটা বুঝতে না পারায়।

৯৪.

আমার এক পুরনো সহকর্মী যিনি যুক্তরাজ্যে থাকেন তার কাছে শুনলাম আরেক ঘটনা। স্কুলে ভর্তি করতে নিয়ে গিয়েছেন বাচ্চাদের। কোথায় কি? বরং স্কুলে দেখিয়ে দেয়া হলো কয়েকটা কম্পিউটারের কিয়স্ক, ভর্তির সবকিছুই ইন্টারনেটে। কিছু না করেই ফিরে এলেন বাসায়। কমফোর্ট জোনে বসে কফিতে চুমুক দিয়েই ভর্তি করে ফেললেন বাচ্চা দুটোকে। এ যুগের এ ঘটনাগুলো মিলিয়ে এর একটা নতুন নাম বানানো হয়েছে। নাম তার ‘ডিজিটাইজেশন’।

৯৫.

বেশ কয়েকটা স্ট্যাডি থেকে দেখা যায় যে দেশের দশ শতাংশ ডিজিটাইজেশন আসলে জিডিপির দশমিক শুন্য পচাঁত্তর শতাংশর মতো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসে। আবার দেখা গেছে এধরনের ডিজিটাইজেশনের অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধি আসলেই ব্রডব্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট হওয়ার কারণে যে ধরনের প্রবৃদ্ধি [দশমিক ষোল শতাংশ] হয় – সেটা থেকে চার দশমিক সাত গুন বেশি ফলাফল নিয়ে আসে। ও হ্যা, ব্রডব্যান্ডের আর ডিজিটাইজেশনের প্রবৃদ্ধি কিন্তু একদম আলাদা। আজ বাংলাদেশ ইন্টারনেট রয়েছে ঠিকই কিন্তু তা ফেইসবুক আর স্ট্যাটিক তথ্য আদানপ্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সেটা হচ্ছে ব্রডব্যান্ড বা সংযুক্ত থাকার প্রবৃদ্ধি।

৯৬.

মানুষ কানেক্টেড – পয়েন্ট এ টু পয়েন্ট বি, হয়েছে তো কি? কি কাজ হবে এতে? সেকারণে মানুষের ডিপেন্ডেন্সি নেই। সরকারের কোনো সুবিধা নিতে গেলে সেটাকে যদি একটা পোর্টালের মাধ্যমে যাবার বাধ্যবাধকতা থাকতো তাহলে ডিজিটাইজেশনের ধারনাটা মানুষের মধ্যে গড়ে উঠতো। এদিকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশের বা যেকোনো কোম্পানির গভার্নেস বা তার প্রতিটা প্রসেস সবকাজকে দক্ষতার সাথে করতে পারলেই সেটাকে বলা যেতো ডিজিটাইজেশন। ই-কমার্স অথবা সব ই-XXX দিয়ে শুরু সবকিছুই কিন্তু ডিজিটাইজেশন দিয়ে শুরু। অনলাইনে সরকারী কোনো অ্যাপ্রুভাল পাওয়া গেলে সেটা থাকছে না পাইপে সীমাবদ্ধ।

৯৭.

দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি চাকুরী তৈরী করা যে কোন দেশের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ বটে। সেখানে ডিজিটাইজেশন মানে সরকার, এন্টারপ্রাইজ আর ভোক্তাকে নিয়ে একটা কান্টেকটেড ডিজিটাল সার্ভিস যা দেশকে নিতে পারে নতুন মাত্রায়। ডিজিটাইজেশনে মানুষের প্রত্যেক্ষ ইন্টারেকশন বিভিন্ন সরকারী সার্ভিস ডেলিভারী প্লাটফর্মে যুক্ত হতে পারার ধারনাটাই চলছে এই মুহুর্তে। অনেক দেশের অর্থনীতি নোজডাইভ দেবার কারণে বিভিন্ন নীতিনির্ধারনী অবস্থানে বসা মানুষগুলোর মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। আমারটা পড়ছে কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব আপনার। এই ডিজিটাইজেশনের সুফল ঘরে নেয়ার জন্য বুদ্ধিমান দেশগুলো এই স্লোডাউনের সময়েও বিশ্বের অর্থনীতিতে একশো তিরানব্বই বিলিয়ন ডলার যোগ করেছে এই দুই হাজার এগারোতেই। আবার এর পাশাপাশি ছয় মিলিয়ন চাকুরীও তৈরী করেছে সেই একই বছরে। বলা যায়, এই ডিজিটাইজেশনের প্রভাব দেশগুলোর মধ্যে অথবা এক সেক্টর থেকে আরেক সেক্টরে সমান না হলেও এর একটা বেঞ্চমার্ক কিন্তু তৈরী হয়ে গেছে অনেক আগেই। আই লাভ বেঞ্চমার্কস!

৯৮.

উন্নত বিশ্বগুলো ডিজিটাইশনে সুযোগ নিয়ে পঁচিশ শতাংশের একটা অর্থনেতিক প্রবৃদ্ধির ফ্যাক্টর যোগ করলেও ইর্মাজিং মার্কেটে নতুন করে চাকুরী তৈরী এবং তার পাশাপাশি এ সর্ম্পকীয় যে প্রবৃদ্ধি সেটা স্বভাবতই কম। এখানে দেখছি – ইমার্জিং ইকোনমিতে এই ডিজিটাইজেশন সরাসরি উন্নত বিশ্বের মত তত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি না দেখাতে পারলেও জব তৈরী আর ছোট খাটো লো-এন্ড কাজ বাগিয়ে তাদের প্রবৃদ্ধি অন্যদিক দিয়ে বেশী। আবার উন্নত বিশ্বে এই ডিজিটাইজেশনের প্রবৃদ্ধি ডোমেস্টিক মার্কেটে হওয়ার ফলে তাদের দেশের ভিতরে এক ব্যবসা হতে অন্য ব্যবসায় ঘোরাঘুরি করে। টাকাও তাই। সেখানে এই ডিজিটাইজেশনের প্রত্যক্ষ ফলাফল তার বিজনেস প্রসেস উন্নত হওয়ার কারণে অনেক কম চাকুরী তৈরী করেও তাদের সরকারের সার্ভিস ডেলিভারীতে অনেক দক্ষতা এনে দিচ্ছে। এর সরাসরি ট্রান্সলেশন হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি – দেশেই।

৯৯.

এমনও হয়েছে যে, প্রচুর জব কাট হয়েছে ঠিকই – তবে প্রবৃদ্ধি আবার সেই পঁচিশ শতাংশের ফ্যাক্টরকেই ছুয়েছে। এদিকে আমাদের দেশের মত ইর্মাজিং মার্কেটে ঐসব দেশের লো-এন্ড আর লো-টেক জব মানে কল সেন্টার বা কন্ট্যাক্ট সেন্টারের মত কাজগুলো বাইরে পাঠিয়ে দেয়াতে ইন্টারনাল প্রসেসের প্রবৃদ্ধি সেভাবে না হলেও প্রচুর চাকুরী তৈরী হয়েছে। তার মানে বোঝা যাচ্ছে এক দেশের ডিজিটাইজেশনের প্রভাব অন্য দেশের চাকুরীর বাজার সম্প্রসারণ করতে সাহায্য করছে। আমরাও নিচ্ছি সেটার সুযোগ। ভারত আগে নিয়েছে, এখন ভারতও ছেড়ে দিচ্ছে সেই লো-এন্ড জবগুলো আমাদের কাছে। ওরা নিজেদের ভেতরের প্রসেস উন্নত করে প্রবৃদ্ধির সোনার কাঠি ছুইছে তারা।

বিএমডাব্লিউ এক মিলিয়ন কম্বিনেশন মিলিয়ে গাড়ি ডেলিভারি দিতে পারলে আমি পারবো না কেন? লাখের উপর ইংরেজি ব্রীফ, স্পীচ, চিঠি আর ইমেইল লিখেছি আমি – এ পর্যন্ত! তিনশো টাকা *, যেকোনো চিঠি লিখে দিবো বাসায় বসে। দাঁতভাঙ্গা ইংরেজি নয়, সাবলীল ভাষায়। টাইমলাইন – আটচল্লিশ ঘন্টা। উত্তর না দিলে পয়সা ফেরৎ!

কবে আমরা ছুইবো উৎকর্ষতার সোনার কাঠি? আমরা জানি কিভাবে ছুইতে হবে সেটা, খাকুন সাথে।

* একটা বিজনেস কেস – উদাহরণ হিসেবেই নিন। ভালোবাসার চিঠি লেখাতে দুর্বল এখনো। 

Read Full Post »

When information is cheap, attention becomes expensive.

― James Gleick, The Information: A History, a Theory, a Flood

৮৫.

বাবার বাসায় নিচের তলায় থাকছি বছর কয়েক ধরে। শহরের সাথে যোগসুত্র রাস্তাগুলোও এই এলাকা থেকে বেশ দুরে। বড় একটা রাস্তা বাসার পাশ দিয়ে যাবার কথা শুনেছিলাম বাবার মুখেই – ছোটবেলায়। পাড়ার অনেকেই এই একশো ফুট রাস্তাটার কথাটা বলে থাকেন। বিশেষ করে বয়স্করা। সেটা সম্ভাবনা হিসেবেই রয়েছে গত দশ পনেরো বছর ধরে। আশা যে মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে সেটার উত্কৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে এই ঘটনাটা। লাইফ এক্সপেকটেন্সি বেড়েছে বটে এই আশার কারণেই! হাইপোথেটিক্যালি ব্যাপারটাকে সত্যি বলে ধরে নেই – আজকের আলোচনার জন্য। ধরে নিন, সিটি কর্পোরেশনের প্ল্যান পাশ হয়ে গেছে গতবছর। রাস্তার উন্নতির কিছু চিহ্ন দেখাও যাচ্ছে মাঝে মধ্যে। ধারণা করুন তো কি ঘটতে পারে এলাকাতে?

৮৬.

প্রচুর প্রপার্টি ডেভেলপারদের আনাগোনা শুরু হয়ে যাবে এলাকায়। কাঠা প্রতি জমির দাম বেড়ে যাবে অন্ততঃ দশ থেকে বিশগুন। সুপারশপের জন্য কয়েকটা জায়গা হয়ে যাবে বুকিং কয়েকমাসের মধ্যে। নতুন স্কুল বিল্ডিংয়ের জায়গা খোঁজা হবে এখানকার অখ্যাত স্কুলগুলোর আশেপাশে। ফার্মেসী, নতুন দোকান, কেএফসির ফ্রানচাইজি আর কি কি আসবে সেটার হিসেব আর নাই বা করলাম। রাস্তা হয়নি তাতেই এ অবস্থা – রাস্তা হবার পর কি হবে সেটা সহজেই অনুমেয়। ইকোনমিক একটিভিটি কতোটুকু বাড়বে সেটার হিসেবের খুঁটিনাটি না দিতে পারলেও এলাকার মানুষের আয় যে অনেকগুন বাড়বে সেটাই মোদ্দা কথা।

৮৭.

আজ আমরা মোবাইলের জিপিআরএস আর আইএসপির স্বল্পগতির ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে যতোটুকু ইকোনমিক একটিভিটি করছি – সেখানে ব্রডব্যান্ডের একশো ফুট রাস্তা হলে কি হবে, সেটার হিসেব আমরা কি করেছি কখনো? আমার প্রতিষ্ঠানের ‘ব্রডব্যান্ড এম্বাসেডর’ আর ‘চিফ ইনোভেশন অফিসার‘ হয়ে প্রচুর প্রেজেন্টেশন দিতে গিয়ে সেটাও মুখস্ত। যে কোনো দেশের ইকোনমিক একটিভিটির মানদন্ড হিসেবে জিডিপির গল্প আসে সবার আগে। দেখা যাক উইকি(পিডিয়া) কি বলে?

একটি এলাকার মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা সামষ্টিক অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপি হচ্ছে সে এলাকার অর্থনীতির আকার পরিমাপের একটি পদ্ধতি। একটি দেশের জিডিপি বলতে বোঝায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের ভিতরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্য। একে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে পণ্য ও সেবার উপর সংযোজিত মূল্যের সমষ্টি হিসেবেও দেখা হয়।

খারাপ বলেনি তো উইকি, কি বলেন? যারা অংকে ভালো তাদের জন্য এর ডেফিনিশন আরো সহজ, মাত্র এক লাইনে!

জিডিপি = ভোগ + বিনিয়োগ + (সরকারী ব্যয়) + (রপ্তানি − আমদানি)

৮৮.

ফিরে আসি আমার ব্রডব্যান্ডের গল্পে। আমার প্রেজেন্টেশনের প্রথম গল্প থাকে স্বল্পোন্নত আর মধ্যম আয়ের দেশগুলোর জন্য একটা বিশ্বব্যাঙ্কের গবেষণা – কিয়াং আর রোসোটো মিলে যেটা করেছিলেন দুহাজার নয়ে। দশ শতাংশ ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন আমাদের মতো দেশের জিডিপি বাড়ায় ১.৩৮ শতাংশের মতো। কম নয়! এটার ওপর আরো গবেষণা নিয়ে আসেন কিম, কেলি আর রাজা – দুহাজার দশে। এবার উন্নতদেশগুলোর উপর। অবাক কান্ড! এই ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশনের ফলাফল উন্নত দেশ থেকে স্বল্পোন্নত দেশগুলোতেই বরং বেশি। উন্নত দেশে ইনফ্রাস্ট্রাকচার আগে থেকে তৈরী থাকাতে তাদের গ্রোথ কিছুটা কম – ১.২১ শতাংশ প্রতি ক্যাপিটায়, জিডিপি গ্রোথ হিসেবে। নতুন গবেষণায় ব্রডব্যান্ডের প্রবৃদ্ধি আইসিটির অন্যান্য সেক্টর থেকে বেশ উপরে। বিটিসিএলের ল্যান্ডলাইন, মোবাইলফোন আর ইন্টারনেট থেকে ব্রডব্যান্ডের প্রবৃদ্ধিই অনেক বেশি। সিইং ইজ বিলিভিং। চার্ট নিয়ে আসব কালকেই।

৮৯.

মোবাইলের পেনিট্রেশন তো ফেনোমেনাল – বিশ্বব্যাপী। ৯৬ শতাংশ পৃথিবী জুড়ে, অসম্ভব তাই না? ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের সব স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটর নিয়ে কাজ করতে হয় বলে এই কয়েকটা ডাটাশিট আমার বেশ প্রিয়। দেখবেন নাকি চেখে একটা? বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্ট পাশ কাটিয়ে চলুন আমার প্রিয় একটা কনসাল্টিং ফার্মে। ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ম্যাকেঞ্জির নাম শুনেননি টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে এমন মানুষের সন্ধান পাওয়া দুস্কর। ওদের ধারনায় সাধারণ বাসাবাড়ির ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশনই দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি করতে পারে ১.৪ শতাংশ! ইম্প্রেসিভ, তাই না?

৯০.

ওইসিডি * দেশগুলোর জন্য একটা স্টাডি করা হয়েছিলো দুহাজার নয়ে। উচ্চআয়ের দেশগুলোর ভেতরে ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন আর তার জিডিপির একটা চমত্কার কোরিলেশন পাওয়া গেল গবেষণার গভীরে যেতেই। দেখা গেল টপ টায়ার ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশনের দেশগুলো নুন্যতম দুই শতাংশ জিডিপির গ্রোথ দেখাচ্ছে ওইসিডির অন্য দেশগুলো থেকে। আবার ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশনের প্রবৃদ্ধি বিভিন্ন দেশের অন্যান্য ইনডিকেটরের উপর নির্ভর করলেও বেস্ট কেস সিনারিওতে এটা ১.৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে অনেক দেশে। সব গবেষণা কিন্তু কাঠখোট্টা নয়। ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন আর জিডিপির সম্পর্কটা কিছুটা মুরগী আর ডিমের মতো। ব্রডব্যান্ড পেনিট্রেশন বাড়লে জিডিপি বাড়বে এটা যেমন সত্যি, আবার জিডিপি বাড়লে মানুষের ব্রডব্যান্ড কেনার সামর্থ্য বাড়বে সেটাও আরেক সত্যি। তারমানে এটা একটা সাইকেল – বাড়তে থাকবে দুটোই – শৈনে, শৈনে! মানে যতো তাড়াতাড়ি পেনিট্রেশন ততো তাড়াতাড়ি উন্নতি। চার নম্বর স্লাইডটা দেখলে আন্দাজ পাবেন ভালো।

৯১.

কাজ করি এই বিগ ডাটা নিয়ে। নিশ্চিতভাবে আমার ডাটায় যে প্রমান রয়েছে সেখানে ব্রডব্যান্ডের পেনিট্রেশন বাংলাদেশের বর্তমান প্রবৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে সামনের বছর। ধারণা করছি সেটা হবে দু শতাংশের কাছাকাছি। পাল্টাচ্ছে বাংলাদেশ, সাধারণের হিসেবের বাইরে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ঠেকায় কে আমাদের ‘সেভেন পার্সেন্ট ক্লাবে’ ঢুকতে? ‘থ্রিজি’ অকশন কাল, দেখা হবে সামনের বছর! ঠিক একবছর পর। হয়তোবা অন্য কোনো জায়গায়।

কেন? ‘কেন’ আবার কেন? দিতে হবে না প্রমান?

* ওইসিডি = দ্য অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট

Read Full Post »

The purpose of collecting so much information can only be power.

― Nick Drake, Nefertiti: The Book of the Dead

৭৬.

অস্ট্রেলিয়ার গল্প শুরু করেছিলাম ব্রডব্যান্ডের ধারণাটা মাথায় নিয়ে। কিন্তু চলে গেলাম অন্য দিকে। গত দুহাজার আট থেকে অস্ট্রেলিয়ার ‘ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক’ মানে এনবিএন নিয়ে কম কথা হয়নি। আমার প্রেজেন্টেশনেই ব্যবহার করেছি বহুবার। এনবিএন এতটাই হিট যে গুগল করলেই অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক সাইটে চলে যাচ্ছে বার বার। অথচ এই এনবিএন অনেক দেশেরই এজেন্ডা। মানে, দেশের ব্রডব্যান্ড হবে না শুধুমাত্র প্রাইভেট অপারেটর দিয়ে। যেখানে ব্যবস্যা নেই সেখানে প্রাইভেট অপারেটরটা যাবেই বা কেন? দায়বদ্ধতা থেকে সেখানে যাবে সরকার। আর, সেটার জন্যও রয়েছে অন্য মেকানিজম, ইউনিভার্সাল সার্ভিসেস অবলিগেশন ফান্ড। আবার সরকারী কোম্পানি ওদের মতো এফিসিয়েন্ট নয়। যে ভুলটা আমরা করছি প্রতিনিয়ত – শুধুমাত্র বিটিসিএলের উপর ভর দিয়ে।

৭৭.

টাকা ঢালতে হবে দেশকেই, তৈরী করতে হবে এসপিভি মানে ‘স্পেশাল পারপাজ ভেহিকল’| সেই বোর্ডে বসবে সরকার, প্রাইভেট অপারেটর – সবার স্টেক থাকবে ওটাতে। কিছুটা ‘পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশীপ’ মানে পিপিপির মতো। ম্যানেজমেন্ট থাকবে এফিসিয়েন্ট কোম্পানির কাছে, যার দায়বদ্ধতা থাকবে সরকারের হাতে। এখন অবশ্য চার পির যুগ, পাবলিক মানে জনগণসহ। ভারত, নেপাল, চিলি, কলম্বিয়া, অস্ট্রেলিয়া, পেরু, ব্রাজিলের মতো দেশ ‘রিভার্স সাবসিডি অকশন’ করলে আমাদের আপত্তি কোথায়? আসছি পেরুর গল্পটা নিয়ে সামনে। এই দুহাজার পাঁচের ঘটনা! আমরা চোখ খুলে দেখতে চাইনা কোথায় কি হচ্ছে। বিদেশে তো যাওয়া হচ্ছে না কম? দেখতে আর পড়তে তো আপত্তি থাকার কথা নয়। পড়বেন নাকি একটু?

৭৮.

অস্ট্রেলিয়ার মেইনস্ট্রিম মিডিয়া কম ঠাট্টা করেনি এই এনবিএন নিয়ে। তাদের পত্রিকাগুলোতে এনবিএনের রুপার্থক একটা সাদা হাতি মানে বড় করে শ্বেত হস্তীর ছবি থাকতো প্রায়। পুরো টাকাটাই সরকার পানিতে ফেলে দিচ্ছে বলে অনেক সমালোচনা এসেছে সবস্তর থেকে। অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে ব্রডব্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কিছুটা দুঃস্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। এক জনপদ থেকে আরেক জনপদ পাঁচশো মাইলের বেশি দুরে। একেক জনপদে মানুষ নেই বললেই চলে। ফলে ইনভেস্টমেন্ট কস্ট অনেক বেশি। তাই বলে সরে আসেনি তাদের পরিকল্পনা থেকে। বরং অন্য অনেক বাজেট থেকে টাকা কেটে এনে জড়ো করেছে এখানে। আমার ধারণা, ভবিষ্যত দেখে ইনভেস্ট করছে তারা।

৭৯.

দুশো বছর পরের অস্ট্রেলিয়ার প্ল্যান করছে এখনি। অস্ট্রেলিয়া ক্যাপিটাল টেরিটোরিতে গেলে ব্যাপারটা পরিস্কার হবে। রাস্তা থেকে লাইটপোস্ট আর তার সাইডওয়াক এতো দুরেই রেখেছে যে রাস্তা বড় করা যাবে আরো দুশো বছরের কথা চিন্তা করে। ফাইবার বসাতে হবে সারা মহাদেশ জুড়ে। সে জায়্গায় আমাদের দেশের জনপদের ভেতরে কোনো ফাঁক আছে নাকি সেটাই সন্দেহ। প্রতি ইঞ্চির ফাইবারের সুষ্ঠু ব্যবহার শুধুমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব। প্রতি ইউনিট ফাইবারের দাম পড়বে সবচেয়ে কম এই বাংলাদেশে! টেলস্ট্রা মানে আমাদের বিটিসিএল আর প্রাইভেট অপারেটর মিলে যে নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে সেটা দেশকে সেভাবে যুক্ত করতে পারছে না বলে এই এনবিএন। সরকার তার অবস্থান অটুট রেখেছে সবসময়ই।

৮০.

একচল্লিশ বিলিয়ন ডলারের পৃথিবীর বৃহত্তম ফাইবার রোলআউটের যে অবকাঠামো প্রকল্প তা আর গল্পে পর্যবসিত নয় আজ। তিরানব্বই ভাগ জনসংখ্যার সবাইকে ফাইবার নেটওয়ার্ক দিয়ে একশো মেগাবিট গতির ব্রডব্যান্ড দেবার কথা বলা আছে সেই ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রোপজাল’ মানে আরএফপিতে। আবার প্রত্যন্ত এলাকায় সবাইকে লাস্ট মাইলে বেতার নেটওয়ার্ক দিয়ে সর্বনিম্ন বারো এমবিপিএসও থাকবে সেখানে। আর এই এনবিএন নিয়ে কম গবেষণা হয়নি। গবেষনার ফলাফল দেখলে ভিমড়ি খেয়ে যাবার জোগাড় হবে সবার। কথা হচ্ছিলো তাদের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথে। তাদের মন্ত্রনালয়ের নাম শুনলেই ব্রডব্যান্ডের গুরুত্বটা বোঝা যাবে কিছুটা।

৮১.

ডিবিসিডিই’র গল্প শুনতাম সবসময়ে। খোলাসা হলো তাদের ডকুমেন্ট দেথে। ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ব্রডব্যান্ড, কমিউনিকেশনস এন্ড দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ হচ্ছে সেই মন্ত্রনালয়ের নাম। যেই নাম সেই কাজ! তারা বুঝেছে কানেক্টেড ডিজিটাল ইকোনমি কি জিনিস। ওরা এটাও বুঝেছে যে ডিজিটাল অর্থনীতিতে অংশগ্রহনের মাধ্যমেই অস্ট্রেলিয়া বাড়াতে পারবে নিজের উৎপাদন। আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা মানে অন্যের বাজার দখল করতে লাগবে এই ইন্টারনেট। ‘সোশ্যাল ওয়েল বিঙ’ মানে সামাজিকভাবে ভালোভাবে থাকার উন্নতি করা যাবেই যুক্ত থাকার মাধ্যমে। সরকারী সার্ভিস ডেলিভারি প্লাটফর্ম গ্রামীন জনপদে নেবার জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। অস্ট্রেলিয়া তার ডিজিটাল অর্থনীতির পূর্ণ সম্ভাবনা দেখছে ইন্টারনেটে যুক্ত থেকে। ভালো অর্থনীতি, সুশিক্ষা, সবার জন্য স্বাস্থ্য, ভালো সামাজিক ব্যবস্থার ফলাফল নির্ভর করছে এই এনবিএনের উপর।

৮২.

চলুন দেখি কিছু গবেষনার ফলাফল – এই এনবিএন নিয়ে। এই এনবিএন তাদের আঠারোটা ইন্ডাস্ট্রিকে কিভাবে অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবিত করবে সেটার হিসেব। বিলিয়ন ডলার ঢালছে মাটিতে – সেটার আউটকাম কি হবে হচ্ছে সেটার চুলচেরা হিসেব। দুহাজার বিশ সালের মধ্যে এই ফাইবার নেটওয়ার্কের প্রভাব তাদের সেই ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে কতোটুকু সম্মৃদ্ধি করবে সেটার হিসেব নিয়ে এই গবেষণা। ভুলে যাবেন না এই প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ডেসিমালের ডানেই হয় আর সেটা অনেক অনেক বেশি!

৮৩.

আঠারোটা ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে এই প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ০.১৭ থেকে ০.৫৪ শতাংশ মধ্যে – সমস্ত ইন্ডাস্ট্রি জুড়ে এটার গড় হচ্ছে ০.৪৩ শতাংশ। এই গবেষনাতে শুধুমাত্র এনবিএনের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এনবিএনের উচ্চগতির ফলে বিভিন্ন নতুন এপ্লিকেশনের ব্যবহারের প্রবৃদ্ধি, তার প্রসেস আউটপুটের যোগফল আর সেগুলোর বিজনেস মডেলের আউটকাম আসেনি এই গবেষনাতে। সামগ্রিকভাবে, সমস্ত সেক্টর জুড়ে উচ্চগতি যে প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসে সেটা ধরা হয়নি এখানে। উদাহরণ হিসেবে আজ আমাদের দেশে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড থাকলে ইউটিউব, গুগলের মতো দেশী একটা কোম্পানি কতো রেভিনিউ জেনারেট করতো সেটা যোগ করা হয়নি উপরের গবেষণায়। চার্টটা * দেখবেন নাকি একবার?

ইন্ডাস্ট্রি

% প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি (সর্বনিম্ন)

পরিবহন ব্যবস্থা

০.৫৪

পানি

০.৫৪

বিদ্যুত

০.৫৩

সরকারী পরিষেবা

০.৫১

ফিনান্সিয়াল আর ইন্সুরেন্স

০.৪৯

কনস্ট্রাকশন

০.৪৯

গ্যাস

০.৪৮

যোগাযোগ

০.৪৬

বানিজ্য

০.৪৪

অন্যান্য বানিজ্যিক পরিষেবা

০.৪৩

তেল

০.৪২

চিত্তবিনোদন আর তার সম্পর্কিত সার্ভিস

০.৩৮

কয়লা

০.৩৮

ম্যানুফ্যাকচারিং

০.৩৩

অরণ্যবিদ্যা আর মত্স্যখাত

০.২৭

খনিজসম্পদ

০.২৭

প্রসেসড ফুড

০.২৩

কৃষিবিদ্যা ও পশুপালন

০.১৭

৮৪.

গবেষণাতে সতেরোটা ইন্ডাস্ট্রির পাঁচশোচল্লিশটা কোম্পানিকে নেয়া হয়েছিলো। কোম্পানিগুলোর বার্ষিক আয় পাঁচ মিলিয়ন থেকে এক বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি ছিলো – সেই গবেষনার সময়। এদের সাতান্ন শতাংশের মতামত অনুযায়ী এনবিএন পাল্টে দেবে তাদের ক্লায়েন্ট আর সাপ্লাইয়ারদের সাথে যোগাযোগের বর্তমান ধারাটা। বাড়বে প্রোডাক্টিভিটি। আবার পঞ্চান্ন শতাংশ বিশ্বাস করেন যে এই এনবিএন বাড়িয়ে দেবে সবার অনলাইন সক্ষমতা। ভালো তো, ভালো না?

আমাদের ব্রডব্যান্ড – আসছে শিগগির!

* চার্ট সূত্র: সাইমস এট এল. অস্ট্রেলিয়ান বিজনেস এক্সপেকটেশনস ফর দ্য ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, পৃষ্ঠা ৬

Read Full Post »

Oh no. Don’t smile. You’ll kill me. I stop breathing when you smile.

― Tessa Dare, A Lady of Persuasion

৬৯.

মাল্টিপ্লায়ারের ধারণা পেয়েছিলাম আন্দ্রিয়ার কাছ থেকে। আন্দ্রিয়া কুপার্স। আরে না! বেটি কুপার্স হলে তো বর্তে যেতাম! মেডিকেল স্টুডেন্ট। আগাস্টার মতো ভুতুড়ে শহরে যার সাথে দেখা হয় – সে হয় ডাক্তার নয়তো হেলথকেয়ার সিস্টেমের সাথে কোনো না কোনো ভাবে কানেক্টেড। ভুতুড়ে মানে সন্ধার পর কুপি ছাড়া বাকি সব লক্ষণই উপস্থিত। স্কুলে যাই হেঁটে হেঁটে। সাইকেল কিনিনি তখনো। আবার গাড়ির মানে প্রি-ওনড (আমাদের ভাষায় সেকেন্ড-থার্ডহ্যান্ড) গাড়ির দাম সাইকেলের থেকে সস্তা। বেশ দুরে স্কুল – পয়তাল্লিশ মিনিটের হাঁটা। মেয়েটা লক্ষ্য করেছে হয়তোবা। পিএক্সে দেখা হয়েছে কয়েকবার। পিএক্স হচ্ছে মিলিটারি বেজের ওয়াল-মার্ট। হাঁটতে খারাপ লাগে না। দুরের ব্লুবেরির বাগান দেখতে দেখতে চলে যেতাম স্কুলে। সেদিনের ব্যাগটা ভারী ছিল বোধহয়।

‘তোমার ওদিক দিয়েই যাচ্ছি আমি, কেয়ার ফর আ লিফ্ট?’ চশমা ছাড়াই মেয়েটাকে ভালো লাগছিলো বরং। চোখে চোখে রাখলো সে, মুখে চাপা হাসি।

অফ গার্ড অবস্থায় পেলো নাকি মেয়েটা আমাকে? ‘অসম্ভব ধন্যবাদ তোমাকে।’ ঝামেলা এড়াতে চাইলাম। বয়ফ্রেন্ড থাকবে তো অবশ্যই। দেখলে কি না কি হয়?

‘আই উড রাদার ওয়াক। জিজ্ঞাসা করার জন্য ধন্যবাদ।’

৭০.

পরে কি হলো তার থেকে আসি বরং আন্দ্রিয়া’র মাল্টিপ্লায়ারের গল্পে। স্বভাবতই খুব এক্সপেনসিভ হবার কারণে স্কলারশিপ ছাড়া মেডিকেল স্কুলে পড়া দুস্কর। মধ্যম আয়ের পরিবার থেকে মেডিকেল স্কুলে পড়তে এসে সর্ষে ফুল দেখা শুরু করলো শুরুতেই। গ্রান্ট আর স্কলারশিপ খুঁজতে খুঁজতে পাগল হয়ে যাবার জোগাড় আন্দ্রিয়ার। সেমুহুর্তে একটা ক্লাসিফাইড অ্যাড পেলো স্কুলের নোটিশবোর্ডে। যোগাযোগ পোস্টবক্সের মাধ্যমে। অ্যানোমিটি রাখতে চাইছে মহিলা। স্কুলের গ্রেড আর কি কি যেনো পাঠাতে বলেছিলো ওকে। শর্ত একটাই। পুরো স্কুলের খরচ দেবে মহিলা। প্রতিষ্ঠা পাবার পর তাকেও দুজন গরীব মেধাবীর খরচ যোগাতে হবে – মেড স্কুলে।

৭১.

ব্রডব্যান্ডের এমপ্লয়মেন্ট মাল্টিপ্লায়ার ঢালাওভাবে হিসেব করা কষ্টকর হলেও কান্ট্রি-স্পেসিফিক মাল্টিপ্লায়ার বের করে ফেলেছেন সেসব দেশের অর্থনীতিবিদগণ। অন্য দেশের উপর সরাসরি সেটা প্রয়োগ না করা গেলেও সম্ভাব্য এমপ্লয়মেন্ট গেইনের ধারণা পাওয়া যাবে ওটা থেকে।

একটা সহজ গড় এস্টিমেশনে দেখা যায় যে একটা সম্ভাব্য ব্রডব্যান্ড কাজ ২.৭৮টা পরোক্ষ মানে ইন্ডিউসড কাজ তৈরী করবে। একটা লোক যে অপারেটরে কাজ পাচ্ছে সে জেনারেট করছে ১.১৭টা স্পিলওভার মানে অতিরিক্ত কাজ। মানে ওই লোকটা মোবাইল অপারেটরে চাকরি পাবার ফলে তৈরী করছে স্পিলওভার মোবাইল রিচার্জ ব্যবস্যা। মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি আর সারাইয়ের কথা আর নাই বা তুললাম এখানে।

সে থেকে ধারণা করা যায় যে – সঠিকভাবে ব্রডব্যান্ডের ডেপ্লয় হলে এক ব্রডব্যান্ড কাজ থেকে ২.৫ থেকে ৪.০টা অতিরিক্ত কাজ বা চাকুরী তৈরী হবে। আবার বেশ কিছু সমীক্ষায় কর্মসংস্থান সৃষ্টির হারেরও উপর এই ব্রডব্যান্ড কাজের প্রভাব বের করা গেছে। লাতিন আমেরিকার বারোটা দেশে হিসেব করে দেখা গেছে যে তাদের আট শতাংশ ব্রডব্যান্ড সংযোগ বাড়ার ফলে কর্মসংস্থানের হার সেভাবেই বেড়েছে।

গল্প মনে হচ্ছে?

Read Full Post »

%d bloggers like this: