Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রকিবুল হাসান’

প্রচুর ‘লিফটে’ চড়তে হয় আমাদের। দেশের ‘স্পেস ম্যানেজমেন্ট’ করতে হলে অনেক অনেক তলার বাড়ি তৈরি হবে সামনে। সিঙ্গাপুর আর বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য সামান্য। বহুতলে যেতে হবে আমাদেরও। যতো তাড়াতাড়ি, ততো ভালো। আমাদের ওই ‘লিফট’, অনেকের ভাষায় ‘এলিভেটর’ হবে আমাদের জীবনের সঙ্গী। মানুষ কিন্তু বহুদিন আগেই ছেড়ে দিয়েছে এই জিনিসের দ্বায়িত্ব। ছেড়ে দিয়েছে যন্ত্রের ওপর। বলেছে, লিফটম্যানের দরকার নেই আর।

এক ফ্লোরে দশটা লিফট থাকলেও এক বাটনে চলে সবকিছু। কোনটা আগে আসবে সেটা নির্ভর করে যন্ত্রকে শেখানো লজিকের ওপর। কাছের লিফটটাই যে আসবে সেটা নয় কিন্তু। বরং কোনটাতে কতো বেশি রিকোয়েস্ট আছে তার ওপর। এটা কিন্তু জানে না আর লিফটের সামনের মানুষগুলো। জানে লিফট।

কি হতো আগে? দশটা লিফট। সবার বাটন আলাদা। আমাদের মতো মানুষ চাপ দিয়ে রাখতাম সবগুলোতে। যেটা আগে আসে। অথচঃ চিন্তা করি না, আমার জন্য ওই দশটা লিফট থামছে ওই ফ্লোরে। একটাতে উঠলেও বাকি নয়টা বেশ বড় একটা সময় নষ্ট করলো বাকি ফ্লোরের মানুষগুলোর। কতো বড় ইন-এফিসিয়েন্সি।

আবার, লিফটম্যান ছাড়া এই মানুষ চড়তো না লিফটে। আমি দেখেছি নিজে। প্রথম দিকে। ভয় পেতো – যদি আটকে যায় লিফটে? যদি দরজা না খোলে? যদি চলে যায় পাওয়ার? যদি পড়ে যায় নিচে? এটাই স্বাভাবিক। শুরুর দিকে। যন্ত্রকে বিশ্বাস বলে কথা। এখনো দেখি লিফটম্যান এই বাংলাদেশে। কষ্ট লাগে তখন। আপনি বলবেন – কিছু তো করে খেতে হবে তাকে। আমার কথা, আছে তো আরো অনেক কাজ। যেখানে দরকার ‘স্কিলসেট’। যেখানে দরকার মানুষকে। মাথা খাটানোয়। ওভাবে চলে আসে – তাদের কথা। রিকশা চালাচ্ছেন যারা। রিহাবিলেটেশন করা দরকার তাদের। অন্য স্কিলসেটে। মানুষের মতো কাজে।

[…]

Read Full Post »

৫৮.

প্রতিটা মানুষ কতক্ষণ কথা বলে, কোথায় কথা বলে, কার সাথে বেশি বলে, কয়জন তাকে রিং দেয়, কাদের কল কেটে দেয় সে, সারাদিন কোথায় থাকে, কার কার সাথে থাকে – মানে, কাজ করে কোথায়, ঘোরে কাদের সাথে, ঘুমায় কোথায়, কোন জায়গায় যায় বেশি, রিক্সায় যায় না গাড়িতে যায়, কয় টাকা রিচার্জ করে – সব আসে ওই মেশিন লার্নিংয়ে। ‘মিসড কল’ পার্টি কিনা সেটাও বোঝা যায় এই রেকর্ড থেকে। কয়টা এসএমএস যাচ্ছে আসছে সেটাও বোঝায় তার শিক্ষার মাত্রা।

৫৯.

ধরুন দেশের সবচেয়ে বড় নীতি নির্ধারণী কমিটিতে আছেন আপনি। প্ল্যান: তিনশো বাস নামাবেন রাস্তায়। বিশাল আরবান প্ল্যানিংয়ে শুরুতে ঢাকা শহরের মানুষগুলোর আয়ের ধারণা পেতে ‘অ্যাক্সেস’ দেয়া হলো আপনাকে। বিগ ডাটাতে। মোবাইল অপারেটরের নাম নম্বর ছাড়া ওই ‘সিডিআরে’।

৬০.

এর পাশাপাশি, মোবাইল টপ আপেও গল্প আছে অনেক। কতো তাড়াতাড়ি টপ-আপ করছে মানুষটা – সেটার একটা ধারণা পাওয়া যায় মেশিন লার্নিং থেকে। প্রতি টপ-আপে কতো টাকা ভরছে সে, সবচেয়ে বেশি আর কম রিচার্জের একটা যোগসুত্র পাওয়া যায় ওখান থেকে। রিচার্জ টাকার ওই ভ্যারিয়েশনের একটা ‘কোএফিসিয়েন্ট’ আমাদের ধারণা দেয় অনেক কিছু। কি ধরনের ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস নিয়ে – কিভাবে সেটাকে চালাচ্ছে মানুষজন – সেটাও ধারণা দেয় তাদের আয়ের একটা হিসেব।

৬১.

মোবাইল ফোন কাজ করে ‘বেজ স্টেশন’ ধরে। মোবাইল টাওয়ারের পুরো রেডিয়াস ধরে চলে আসে অনেক জ্ঞান। ফলে, মানুষটা কাদের সাথে থাকে দিনে, মানে কাজ করে কোথায় – আর রাতে ঘুমায় কোন এলাকায় সেটাও ইন্ডিকেট করে তার আয়ের হিসেব। থাকে কোথায় – বস্তি না অ্যাপার্টমেন্ট – সেটাও আসে সঙ্গে। মানুষ দিনের বেলায় কোথায় থাকে সেটাই বড় ধারণা দেয় কতো টাকা আয় করে সে। সেখানে ‘রিজিওন’ ধরে বের করা যায় মানুষের গড়পরতা আয়। মানুষের ট্রাভেল প্যাটার্ন ধারণা দেয় অনেককিছুরই।

৬২.

বাড়তি হিসেবে – অপারেটরের ডিভাইস ম্যানেজারে পাওয়া যায় আরো অনেক গল্প। কি ডিভাইস, ক্যামেরা আছে কি না, আইফোন, না স্যামস্যাং নোট – নাকি নোকিয়া ১১১০ ধারণা দেয় মানুষটার আয়ের ধরন। ফোনগুলোর মধ্যে সিম পাল্টাপাল্টি হলে জানা যায় মানুষটার অন্য ফোনগুলোর হিসেব। তবে, সবকিছুই ‘অ্যানোনিমাস’ ডাটা। ‘অ্যানোমাইজড’ মেটা ডাটা হচ্ছে গ্রাহকের নাম নম্বর না নিয়ে শুধু মোট সংখ্যার একেক ধরনের পরিসংখ্যান। গ্রাহকের ‘প্রাইভেসি’র সমস্যা নেই এতে। আমাদের বের করতে হবে ঢাকা শহরের মানুষের আয়ের সক্ষমতা। বাস ভাড়া হিসেবে। ফেলে দেবো মেশিন লার্নিংয়ে। বিগ ডাটা থেকে।

[…]

Read Full Post »

God gave me you for the ups and downs
God gave me you for the days of doubt
And for when I think I lost my way
There are no words here left to say, it’s true
God gave me you

– Blake Shelton

ব্লেক শেলটনকে ভালো লাগার শুরুটা অনেক আগে থেকেই। প্রথম অ্যালবামটা অতটা না টানলেও পরেরগুলো মন ভালো করে দিচ্ছিলো আস্তে আস্তে। গলা সুন্দর। ভরাট। যুক্তরাষ্ট্রের সাদার্ন সাইডে থাকার বড় সুবিধা ছিলো একটাই। শত শত কান্ট্রি স্টেশন। রেডিও এয়ারপ্লে মানেই ‘কান্ট্রি ওয়েস্টার্ন’ আর ‘ক্রস-ওভার’। ক্লাসিক কান্ট্রি নয়। সময়ের সাথে মনও গেছে পাল্টে। ক্লাসিক টানে না আর।

‘ক্রস-ওভার’ হচ্ছে পপ আর কান্ট্রি’র মিশ্রণ। অন্যদের কেমন লাগে সেটা অতটা না জানলেও নিজের ভালো লাগে বলে সই। ব্লেকের সাথে পুরোনো রোমান্স ফিরে এলো ওর ২০১১এর অ্যালবামটা শুনতে গিয়ে। নামটাও অদ্ভুত। তবে সুন্দর। রেড রিভার ব্লূ। মজার কথা হচ্ছে আমার ছেলের পছন্দ কেমন করে জানি মিলে গেছে একটা গানে। আমার সাথে।

সুন্দর গান একটা। না শুনলে বোঝাতে পারবো না কী মিস করছেন আপনারা। ‘গড গেভ মি ইউ’ গানটার পেছনের গল্পটা আরো সুন্দর। যতদূর মনে পড়ে, এটা লিখেছিলেন ডেভ বার্নস বলে আরেকজন ‘ক্রিশ্চিয়ান’ ঘরানার গায়ক। ঠিক তাই। ডেভ বার্নস। গানটা লিখেছিলেন তার স্ত্রী’র কথা মনে করে। নতুন গায়ক হিসেবে জীবনের উঁচু নিচু রাস্তায় চলতে গিয়ে স্ত্রী’র পুরো সময়ের সাপোর্ট তাকে ভাবাচ্ছিল অনেকদিন ধরেই। শেষে একদিন লণ্ডনের রাস্তায় চলতে চলতে মনে এলো এর লাইনগুলো। সত্যিই তাই। গানের প্রতিটা পরতে পরতে ফুটে উঠেছে কৃতজ্ঞতা।

তবে, আর্টিস্টদের স্ত্রী’রা দজ্জাল হয় বেশি। সেটার আবার বেশীরভাগ হয় ওই মানুষটার কারণে। ভক্তদের ছোঁক ছোঁক করার কারণে হয়তোবা। ট্রেন্ড দেখলে বোঝা যায় ব্যাপারটা। ফিরে আসি হাঁটার প্রসঙ্গে। যতো লেখক আছেন, তাদের মাথায় সব আইডিয়া ঢোকে হাঁটতে হাঁটতে। কেউ হাঁটে রাস্তায়। কেউবা পার্কে। সব কিন্তু বাইরেই। বিশ্বাস হচ্ছে না? বড় বড় লেখকদের তাদের লেখা নিয়ে জানতে চাইলে হাঁটার কথাই বলেন।

বার্নসের গানটা প্রভাবিত করে শেলটনকে। গানটার কারণেই মিরাণ্ডা ল্যামবার্টকে প্রস্তাব দেন এই গায়ক। গার্লফ্রেণ্ড ল্যামবার্টকে চিনবেন সবাই। কান্ট্রি’র আরেক উজ্জল ‘নক্ষত্র’ গায়িকা। পিস্তল অ্যানিজ’এর তিনজনের একজন। তাদের বিয়ের আগের রাতের ফুটেজটা জুড়ে দেয়া আছে সেলটনের এই মিউজিক ভিডিওতে। মিরান্ডাকে এই বিয়েটাকে নিয়ে অনেক আশাবাদী হবার কথা শোনা গিয়েছিলো অনেকগুলো ‘গসিপ’ ম্যাগাজিনে। শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেনি তারা। একসাথে।

Read Full Post »

০১.

সত্যি বলতে – পছন্দ হয়নি প্রথম দেখাতে। মানে টিভিতে। পরে রোলিং স্টোনের সাইটে। ব্লণ্ডদের নিয়ে অনেক জোকস আছে, মনে হলো ওটাতেও পড়ে না সে। বেশবাসে বেশ খোলামেলা। চোখ সরিয়ে নিতে হয় মাঝে মধ্যে। বুঝি, কালচারাল ইস্যু। আগে দেখতাম প্রচুর মিউজিক ভিডিও। কমিয়ে দিয়েছি সেটা। এখন গানটা ভালো লাগলেই দেখি ভিডিওটা। ‘প্রোভাইডেড’, যদি থাকে।

০২.

পরের দেখাটা হলো অস্টিন সিটি লিমিটসের একটা প্রোগ্রামে। সত্যিকারের মিউজিক দেখা যায় ওখানে। লাইভে। আর কিছু না হলেও এই প্রোগ্রামটা দেখি নিয়ম করে। বাংলাদেশে থাকলেও মিস হয়না খুব একটা। এইচডি স্ট্রীমিং আছে কী করতে? সময়টা বেকায়দা হলেও সমস্যা হয়না খুব একটা। রেকর্ডে চলে যায় লাইভ প্রোগ্রামটা। লিনাক্স স্ক্রিপ্টিং আছে কী করতে?

০৩.

ওই অস্টিন সিটি লিমিটসে এসেছিলেন ‘ডন হেনলি’। নতুন অ্যালবামের সাথে পুরোনো কয়েকটা গান গেয়ে মাত করে ফেললেন ভেন্যুটা। এর মধ্যেই তিনি ডেকে আনলেন আরো কয়েকজন গানের গুরুকে। ট্রিশা ইয়ারউড, মার্টিনা ম্যাকব্রাইড। এরপর এলো সে। আগের মতোই কিছুটা খোলামেলা। ডুয়েটের গানটা কিছুটা ‘ব্লু-গ্র্যাস’ হলেও ভালোই মনে হলো আমার। তবে মন কাড়েনি অতোটা।

০৪.

প্রচুর গান শুনেছি একসময়। বিয়ের আগে। ধরুন, গড়ে ছয় ঘণ্টা দিনে। কাজ করছি, পেছনে চলছে কিছু একটা। লো ভলিউমে। সবাই যখন কিনলো টিভি, আপগ্রেড করলাম পুরানো অ্যাম্পটাকে। ওই ব্যাচেলর সময়টাতে। এখন শুনি সিলেক্টিভ কিছুটা। গড়ে দু-তিন ঘণ্টা করে হয়তোবা। যেটাই করি না কেন, একটা অভ্যাস পাল্টেনি এখনো। যখন শুনি, শুনি একটা অ্যালবাম ধরে। একটা অ্যালবামই চড়ানো থাকে মাস ধরে।

০৫.

যেমন এখন আছে ‘দ্য ব্লেড’টা। মনে হলো অনেকদিন ধরেই শুনিনি এরকম কিছু। মজার কথা, অর্ধেক গানই রেডিও ফ্রেণ্ডলী। মন টানতে বাধ্য। মনে হয় আকাশে উড়ছি। হ্যান্ড গ্লাইডারের মতো পাতলা কিছুতে। চোখ বন্ধ হয়ে আসে এমনিতেই। গানের কম্পোজিশনে ‘মেলানকোলি’র আভাস বেশ গাঢ়। বাবাকে মিস করছে বোধহয়। উনি চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার তেরোতে।

০৬.

আরেক মজার কথা হচ্ছে এটার প্রোডিউসার হচ্ছেন মহারথী ‘ভিন্স গিল’। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে ওই ‘ভালো না’ লাগাটা কেটে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। প্রথম দেখার সেই ইম্প্রেশনটাও উবে যাচ্ছে মনের অজান্তে। মাথার ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে মেয়েটা। কিভাবে জানি। এখন মনে হচ্ছে ‘ইফ লাভ ওয়াজ ফেয়ার’ গানটা দিয়ে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The reader does not start by knowing what we mean. If our words are ambiguous, our meaning will escape him. I sometimes think that writing is like driving sheep down a road. If there is any gate opens to the left or the right the readers will most certainly go into it.

– C. S. Lewis

০১.

টেকনোলজি ভিত্তিক লেখালিখির চাহিদা বরাবরই কম। আবার, ব্যাপারটা এমন যে এটাকে ফেলে দিতে পারছে মানুষ একেবারে, সেটাও না। প্রতিদিন এটাকে কাজে লাগিয়ে সময় না বাঁচালে মানুষ সেটা ব্যবহার করবেই বা কেন? এদিকে ম্যানুয়ালের মতো রসকষহীন জিনিসটাকে একদম না পছন্দ মানুষের।

উপায় কী?

০২.

অনেক দেশ জিনিসটাকে ফেলে দিয়েছে মাঝামাঝি একটা জায়গায়। ডামিজের কথাই ধরুন। ‘এটা ফর ডামিজ’, ‘ওটা ফর ডামিজ’ – কোন বিষয়ের ওপর বই নেই ওদের? সেদিন একটা টাইটেল পেলাম, ‘সেলাই ফর ডামিজ’। যাব কোথায়? ওদেরই আছে প্রায় তিন হাজারের মতো টাইটেল। ‘কমপ্লিট ইডিয়ট গাইড’ সিরিজটা হচ্ছে আরেক পাগলের কারখানা। ‘টিচ ইওরসেল্ফ’ সিরিজটাও কিন্তু অনেক নামকরা। বইগুলো আপনাকে ডক্টরাল জিনিসপত্র না শেখালেও প্রাণহীন জিনিসকে কিভাবে উপস্থাপন করতে হয় – সেটা চেয়ে দেখাও একটা আর্ট। ওই মুগ্ধতায় বইয়ের পর বই কিনি ওই আর্ট শিখতে। বিষয় কঠিন, কিন্তু উপস্থাপন দেখে মনে হবে লেখা হয়েছে বারো বছরের বালকের জন্য।

০৩.

বছরখানিক ধরে একটা বড় সুযোগ হয়েছিল ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে পড়ার। জন বিবর্জিত আফ্রিকার সময়টা পড়ার পাশাপাশি ভাবিয়েছে আমাকে বরং। প্রোগ্রামিং শিখলে সমস্যা সমাধানে যে বিশাল ‘আই-ওপেনিং’ হয় সেটা যারা জানেন তারাই বলতে পারবেন কতোটা এগিয়েছেন অন্যদের থেকে। পাওয়া জ্ঞান, মানে যেটা আছে এমুহুর্তে আর লজিক নিয়ে মানুষ কিভাবে ‘রিজনিং সিস্টেম’ থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় সেটা জানতে গিয়ে বোকা বনে গেলাম নিজে। আমাদের সরকারী-বেসরকারী হাজারো সংস্থায় অনেক কাজ ঝুলে থাকে সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার আমাদের ‘কগনিটিভ বায়াস’ মানে ‘জ্ঞানীয় পক্ষপাত’ অনেক সিদ্ধান্তকে ফেলে দেয় পানিতে। প্রয়োজনীয় সব উপাত্ত থাকা সত্ত্বেও। মানুষের চিন্তার সীমাবদ্ধতা কিছুটা ধরতে পারছি বলে মনে হচ্ছে আমার। বিশেষ করে ইদানিং। একটা ভালো ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’ একটা দেশকে কোথায় নিতে পারে সেটা দেখা যায় ‘রেড ডট’কে দেখলে। অথচ, ওই দেশটা দুর্নীতিতে ছিল সেরা।

০৪.

নিউইয়র্কের একটা রাইটিং ওয়ার্কশপে গল্প শুনেছিলাম একটা। ওই ইনিয়ে বিনিয়ে বলা গল্পটার অর্থ হচ্ছে ‘যদি বেশি শিখতে চাও, তাহলে লেখা শুরু করো ব্যাপারটা নিয়ে।’ তবে এটা ঠিক যে যখনই শুরু করবেন লেখা, আপনার ‘মাইন্ডসেট’ আপনা আপনি ‘অ্যালাইন’ হওয়া শুরু করবে বিষয়টার সাথে। জিনিসটা বোঝার বাড়তি সক্ষমতা তৈরি হবে লিখতে লিখতেই। ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ নিয়ে প্রথমে শুরু হবে ব্লগপোস্ট। পরে সেটা বই হবে কিনা সেটা বলবেন আপনারা।
সমস্যা একটাই।

০৫.

সিরিজটার নাম নিয়ে। যেটার ‘রিফ্লেকশন’ গিয়ে পড়বে বইয়ের নামেও। ডামিজের মতো ‘বেকুবদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বললে চটানো হবে আমাদের। মানে পাঠকদের। ‘আমজনতার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা ‘বোকাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বললে একটাও বাড়ি পড়বে না মাটিতে সেটা আর না বলি।

এখন বলুন, কী নাম দেব সিরিজটার? একান্ত সহযোগিতা চাইছি আপনাদের।

[ক্রমশ:]

[আপডেট]

অনেকগুলো নাম পেয়েছি ফেসবুক থেকে। বিশেষ কিছু নিয়ে এলাম এখানে। এখনো আঁকুপাকু করছে মন। ধারনা করছি আরো ভালো কিছু নাম দেবেন আপনারা।

Mahbub Farid: আমাদের সময় ছিল, ‘মেইড ইজি’ – বাই এন এক্সপার্ট হেডমাস্টার..

Mahbub Farid: naveed used to do a show ‘ busy der easy’ show. so you can think in that line. instead of straight away insulting the intelligence of the readers, you can blame their ‘busy’ schedules, and then provide a solution they can grasp despite their preoccupation.

Humaid Ashraf: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহজ/সরল পাঠ” – কেমন হয়?

Ragib Hasan: সিরিজের নাম দেয়াটা আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রশ্ন হলো আপনি এই সিরিজে কয়টি বই লিখবেন? আমার নিজের লেখাগুলা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নানা কাজ করার প্রকৌশল বলে আমার বইগুলার নামে “কৌশল” আছে, যেমন বিদ্যাকৌশল, মন প্রকৌশল এরকম। আপনি এই ক্ষেত্রে বিদেশী সিরিজের নামের আক্ষরিক অনুবাদ না করে বরং আপনার উদ্দেশ্য কী তার উপরে ভিত্তি করে নাম ঠিক করতে পারেন। যেমন ধরেন হতে পারে “সহজ সরল অমুক”। আমার পরিচিত ছোটভাই এবং শিক্ষক.কম এর একজন নামকরা শিক্ষক Jhankar Mahbub তার প্রোগ্রামিং এর বইয়ের নাম যেমন রেখেছে “হাবলুদের জন্য প্রোগ্রামিং”। এভাবে ভাবতে পারেন।

Don Michel: আগ্রহীদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

Iftekhar Hossain: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অতিপ্রাকৃত চিন্তা”

Abu Abdulla Sabit: স্মার্টফোন পরবর্তী জীবনঃ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ট্রিলিয়ন ডলার আইডিয়া সমূহ।

আমার মন বলছে আরো ভালো কিছু নাম অপেক্ষা করছে সামনে। বিস্মিত করুন আমাকে!

Read Full Post »

What we see in the Maker Movement, is that a relatively small amount of people can have a big impact. You don’t necessarily need the world largest company behind you.

– Dale Dougherty

Formal education will make you a living; self-education will make you a fortune.

– Jim Rohn

০১.

এটা ঠিক প্রোগ্রামাররা পৃথিবীকে মুঠোয় পুরেছে বেশ আগেই, কিন্তু সেটার পাশাপাশি আরেকটা “স্কিলসেট” প্রয়োজন দুনিয়া জয়ে। আর সেটা দেখতে দিব্যদৃষ্টির দরকার নেই এখন। আপনার ওই প্রোগ্রামিং দিয়ে চালাতে হবে যন্ত্র একটা। তৈরি করতে হবে মানুষের নিত্যদিনের কাজে লাগবে এমন জিনিসের প্রটোটাইপ। সেটা ঠিক মতো চললে তো কেল্লাফতে। দুনিয়া জুড়ে “মেকার’স মুভমেন্ট” দেখলে বুঝবেন কী বলতে চাচ্ছি এখানে। সামনে ব্যাচেলর’স আর মাস্টার’স করে যে কিছু হবে না সেটা বুঝতে পেরেছে অনেকগুলো দেশ। আর সেকারণে “মেকার’স মেনিফেস্টো” নিয়ে এগোচ্ছে তারা। ইনডাস্ট্রিয়াল রেভোল্যুশনের পর ফিরে যাচ্ছি স্মার্ট যন্ত্রেই। এখনকার সব যন্ত্রই হবে স্মার্ট – যাতে বুঝতে পারে মানুষকে। সেটা বানাবে কে?

০২.

‘চাকরি চাকরি’ করে পাগল হয়ে যাচ্ছে আশপাশের মানুষ। ‘বিগ পিকচার’ দেখাতে পারিনি তাদের। তবে ইন্টারনেটের কল্যাণে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের অনেকেই ট্রেন্ডটা ধরতে পেরেছেন বলে মনে হলো। অন্তত: আমার রিসার্চ তাই বলে। তবে সেটা অনেক অনেক কম। আমার ফেসবূক ফ্রেন্ডলিস্টের অনেককেই দেখেছি সাহস করে মাথা খাটিয়ে নেমে গেছেন ইন্টারনেট ভিত্তিক ব্যবসায়। বাসার কম্পিউটারে ডিজাইন করে প্রোডাক্ট বানিয়ে আনছেন কিছু কিছু উদ্যোক্তা। সুদূর চীন থেকে। এটাই হচ্ছে “ডেমোক্রেটাইজেশন অফ টেকনোলজি”। ‘প্রোটোটাইপিং’ এর জন্য ‘থ্রীডি প্রিন্টার’ ধসিয়ে দেবে আগের বিজনেস মডেল। আগের মতো বিশাল প্রোডাকশন লাইন তৈরি করতে হচ্ছে না আপনাকে। নতুন করে হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস কোম্পানীও তৈরি করতে হবে না আপনাকে।

০৩.

মাথা খাটিয়ে সুন্দর ডিজাইন করে অ্যাপলকেও টেক্কা দিতে পারেন আপনি। ‘শাওমি’র তো নিজের ডিসট্রিবিউশন চেইন নেই। তাই বলে কী সে ঠেকে গেছে কোথাও? মানুষ কী চায় সেটা নিয়ে রিসার্চ করে আপনিও দিতে পারেন নিজের মোবাইল হ্যান্ডসেট কোম্পানী। অথবা ‘ফিটবিটে’র মতো প্রোডাক্ট। ‘আলিএক্সপ্রেসে’ গিয়ে দেখেন কী অবস্থা! কোটি কোটি প্রোডাক্ট তৈরি করছেন আপনার আমার মতো সাধারণ মানুষ। মাস লেভেলের প্রোডাকশনে চীনকে টেক্কা দিতে বলেছে কে আপনাকে? ডিজাইন দেবেন – বানিয়ে দেবে গুটিকয়েক মাস প্রোডাকশন কোম্পানী। অ্যাপলও তাদের সবকিছু বানিয়ে আনে ওখান থেকে। ওই ইকোনমি অফ স্কেলের কারণে। এখন কেউ নিজ থেকে সবকিছু বানায় না – বরং সবাই ভাগাভাগি করে নেয় জিনিসগুলো।

০৪.

যে বাচ্চারা নিজে থেকে জিনিস বানায় তারা শেখে তাড়াতাড়ি। কথায় আছে না ‘ইউ ওনলি লার্ন বাই ডুইং ইট’। এখনকার ‘লেগো’সেটে মোটর, ‘ইনফ্রারেড’ ইন্টারফেস তো ডাল ভাত। আর সেকারণে বুদ্ধিমান দেশগুলো তৈরি করে দিচ্ছে অনেক অনেক টূল। নতুন প্রজন্মের জন্য। সেরকম একটা টূল হচ্ছে ‘আরডুইনো’ ওপেন প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান প্রসেসরের কাছে এটা নস্যি – পাত্তাও পাবে না একফোটা। তবুও এটাই সেরা। কারণ – এর দাম পানির মতো সস্তা। আর যেকাজ দেবেন সেটা ও জানে কিভাবে করতে হয় পানির মতো করে। পাশের দেশেও তৈরি করছে ওই জিনিস ভেতরে ভেতরে। “মেকার’স লফট” দিয়ে গুগল করতেই চলে এলো কলকাতার অংশটা। অপেক্ষা করছি আমাদেরটা নিয়ে।

০৫.

‘আলিএক্সপ্রেস’ শীপ করছে বাংলাদেশে বেশ কিছুদিন থেকেই। ওদের ইনভেন্টরি দেখে মাথা খারাপ হবার যোগাড় আমার। হেন জিনিস নেই যেটা বিক্রি করছে না ওরা। পুরো পৃথিবী জুড়ে। বেশিরভাগই কাস্টম মেড! সব বাসায় তৈরি। ‘চিপ’, ৯ ডলারের কম্পিউটার তৈরি নিয়ে একটা ডকুমেন্টারী দেখেছিলাম একবার। যন্ত্রটা ডিজাইন করে বাচ্চা কয়েকটা ছেলে চীনে গিয়ে কিভাবে লক্ষ পিস বানিয়ে নিয়ে এলো সেটার গল্প ওটা। সেটা দেখে বোঝা গেলো অনেক কাজ বাকি আছে আমাদের।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The most important thing in communication is hearing what isn’t being said. The art of reading between the lines is a life long quest of the wise.

― Shannon L. Alder

১০.

পড়াচ্ছি আবার। বাচ্চাদের স্কুল নয়, তবে সেটা হলেই ভালো হতো বরং। ‘স্বপ্ন’ দেখাবার একটা সুযোগ কেই বা ছাড়তে চায় বলুন? ঢেকি স্বর্গে গেলেও ভানে ধান। আমারো হয়েছে তাই। যেটাই দেখি সেখান থেকে ‘প্যাটার্ন’ বের করার বদঅভ্যাসটা যায়নি এখনো। কমিউনিকেশন প্রফেশনালদের এটা একটা সমস্যা বটে। আশেপাশের ‘এনভায়রনমেন্ট’ কি মেসেজ দিচ্ছে সেটা পাবার জন্য আলাদা প্রসেস চলতে থাকে মাথায়। বেশিরভাগ সময়ে ‘অন্যজন’ কিছু না করলেও সেটার মেসেজ কিন্তু অনেক অনেক বড়। মানুষের ‘হ্যান্ড জেসচার’ আর দাড়ানোর ‘পোসচার’ বলে দেয় অনেক কিছুই। অনেক সময়ে দেখেছি, মানুষ মুখে যা বলছে – তার শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বলছে অন্যকিছু। অনেক ‘প্যাটার্ন’ মানে বিভিন্ন ডাটাসেটের ভেতরে লুকানো মেসেজ বের করতে না পারলে মাটি হয়ে যায় রাতের ঘুম। কি যেন বলছিলাম? ও, হ্যাঁ – ক্লাসে ফেরার কথা।

১১.

ছাত্ররা ক্লাসে ঠিকমতো বুঝছে কিনা সেটা বোঝার জন্য একটা সময় পর পর পরীক্ষা নেই আমি। ‘স্পট’ টেস্ট। বলা নেই কওয়া নেই, হটাত করে। জায়গায় পরীক্ষা আর কি। তবে, সর্বোচ্চ দশ মিনিটের গল্প। প্রশ্ন তৈরী করি প্রায় প্রতিটা বিষয়কে স্পর্শ করে। যা যা পড়িয়েছি ওই সময়ের মধ্যে। ছাত্রদের এই পরীক্ষাগুলো নিয়ে ওরকম মাথাব্যথা থাকে না ‘ওয়েটেজ’ কম থাকে বলে। তবে, পরীক্ষার সময়ে কিন্তু ঠিকই মাথা ঘামাতে হয় তাদের। যেটা পরীক্ষায় না পারে সেটা কিন্তু জানতে পারে পরীক্ষার শেষে। আমার ‘মিশন’ সফল। মাঝে মধ্যেই ওই অনেক ‘স্পট’ আর ‘প্রগ্রেস’ টেস্টগুলোর রেজাল্ট ইনপুট দেই এক্সেলশীটে। ‘সাধারণ’, ‘নিরীহ’ ডাটা হিসেবে পড়ে থাকে আমার ক্লাউড ড্রাইভে।

১২.

একদিন কি মনে করে ডাটাসেটগুলো ফেলে দিলাম একটা ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে। প্লট করার পর মাথা খারাপ হবার যোগাড় আমার। দেখা গেল কয়েকটা বিষয়ে ছাত্ররা খারাপ করেছে বার বার। অথচ, আমি ভাবতাম তারা ব্যাপারগুলো বুঝেছে ভালো। অথচ, ওগুলো ঠিক সময়মতো না জানলে পরের চ্যাপ্টারগুলো ধরতে কষ্ট হতো ওদের। মানে হচ্ছে, আমিই ঠিকমতো বোঝাতে পারিনি ওদেরকে। ব্যাপারটা কিন্তু পরিস্কার হলো ওই ‘নিরীহ’ ডাটাগুলোকে ভিজ্যুয়ালাইজেশন টুলে প্লটিংয়ে ফেলে দেবার পর! সপ্তাহের কোন দিনগুলোতে পরীক্ষা ভালো করছে সেটাও চলে এলো দিনের আলোর মতো। সকালে না দুপুরের পরীক্ষা – মনোসংযোগের ব্যাপারটাও চলে এলো ওর সাথে। ছাত্রদেরকে নতুনভাবে চিনতে শুরু করলাম ওর পর থেকে। কিছুটা মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও। ‘কানেক্ট’ করতে সুবিধাই হলো বরং।

১৩.

বিটিআরসিতে থাকতে বেশ কয়েকটা প্রজেক্টে কাজ করতে গিয়ে ‘মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস’ নিয়ে লম্বা লম্বা কাজ করতে হয়েছে একসময়। মোবাইল কোম্পানির গ্রূপগুলোর সাথে অনেক দেনদরবার করতে হয়েছে সার্ভিসটা চালু করার ব্যাপারে। বুঝেছিলাম, বাংলাদেশকে পাল্টে দেবে এই মোবাইলে টাকা পাঠানোর গল্পটা। ‘প্লাস্টিক’ মানে কার্ড নিয়ে ব্যাংকগুলো খুব একটা এগোতে পারবে না বলেই বলছি একথা। একটা নিরব বিপ্লব চলছে আমাদের চোখের আড়ালে। এদিকে ইন্ডাস্ট্রির সবার সাথে আমার টার্মস খারাপ নয়। মাঝেমধ্যেই যাওয়া পড়ে উনাদের অফিসগুলোতে। নাহলে, কফি খাই একসাথে।

১৪.

বর্তমান কালের এই ‘এমএফএস’ সার্ভিসের কিছু ভিজ্যুয়ালাইজেশন দেখে আমিই বেকুব। বাংলাদেশের কোন কোন এলাকা থেকে সব টাকা ক্যাশ-ইন হয়ে চলে যাচ্ছে কয়েকটা জেলায়, চিন্তায় আসেনি কখনো। ঢাকাতে কোন এলাকার লোক বেশি ব্যবসায়ী, বুঝে গেলাম মুহুর্তেই। দিনের কোন সময়টাতে মানুষ বেশি টাকা পাঠাচ্ছে – সেটাই বলে দিচ্ছে তাদের কাজের ধরন আর ডেমোগ্রাফিক ইনফরমেশন। আবার, কোন জায়গাগুলো দিয়ে এক জেলার টাকা বের হয়ে যাচ্ছে আরেক জেলায়। টাকা ওঠানো নিয়ে ব্যবহারকারীদের অভ্যাস ইঙ্গিত দিচ্ছে অনেক নতুন কিছুর। ‘ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশনে’ কাদেরকে আনতে আমাদের কাজ করতে হবে সেটাও এড়ালো না চোখ। নোটপ্যাডে এন্ট্রি পড়ল কয়েকটা।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: