Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রকিব’

কি ডিসিশন নিয়েছেন আপনারা?

ডক্টর তাকিয়ে আছেন মামুনের দিকে। দাড়িয়ে ও। ওকেই প্রশ্ন করেছেন আমাদের ডক্টর। আমার দিকে তাকিয়েছিলেন একবার। এক সেকেন্ডের মতো হবে হয়তো। ভেতর দিয়ে দেখার মতো। ইংরেজিতে যাকে বলে ‘সি থ্রু মি’। ঘরে মানুষ না থাকলে যেভাবে তাকায় সবাই। অথবা তাকাচ্ছেন না ইচ্ছে করেই। কোন একটা কারণে। পলক পড়ছে না মহিলার।

রাস্তা খোলা তিনটা। আমাদের সামনে। এ মুহুর্তে। খারাপ সবগুলোই। সময় দেয়া হয়েছে দশ মিনিট। দশ মিনিটের ওই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেবে আমাদেরকে। সারাজীবনের জন্য। এতোই কমপ্লেক্স ব্যাপারটা – মনে হচ্ছে, ডক্টরের সারাজীবনের পড়াশোনার মুখোমুখি দাড়িয়ে আমরা।

শেষ হয়ে গেছে ওই মিনিট দশ। কিছুক্ষণ আগেই।

***

দশ দিন আগের ঘটনা। প্রচন্ড ব্লিডিং হচ্ছিলো আমার। হঠাৎ করেই।

‘ঘাবড়াবেন না তো এতো!’ বলেছিলেন আরেক ডক্টর। ‘প্রেগন্যান্ট মহিলাদের কমন সিম্পটম জিনিসটা।’ কয়েকটা পরীক্ষা দিলেন বরং। আমাকে।

এতো ঘাবড়ালে মানুষ করবেন কি বাচ্চাদের? মনে হলো, সাহস দিলেন মামুনকে। ওই ডক্টর। আসলেই ঘাবড়ে গিয়েছিলো মামুন। এতো বিচলিত হতে দেখিনি আগে ওকে।

আলট্রাসাউন্ডের রেজাল্ট পারফেক্ট। হার্ট মনিটরেও এলো সবকিছু। ভালো। ভালো সবই। তবে ভালো ছিলো না কিছু একটা।

দশ ঘন্টা আগে ধরা পড়ল সমস্যাটা। ঠিকমতো সাপ্লাই পাচ্ছে না। বাচ্চা দুটো। আমার প্ল্যাসেন্টা থেকে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওজন বেড়েছে আমার। বিশেষ করে তলপেটের ওজন। ফুলেছেও বেশ। ব্যথা অনেক বাড়লেও বলিনি মামুনকে। কাঁদছিলাম মাঝে মধ্যেই। একা একা। নিতে পারছিলাম না আর। ধরে ফেললো মামুন এক রাতে।

কি করবো আমরা? জিগ্গেস করেছিলো মামুন। ‘আপনি আমার মেয়ে হলে’, ডাক্তার তাকালেন আমার দিকে। এবার ভালোভাবে। দম নিলেন কয়েক সেকেন্ড। ‘বলতাম টার্মিনেট করতে।’

দশ মিনিট আগের ঘটনা। আমাদের নতুন স্পেশালিস্ট মহিলা বুঝিয়েছিলেন ব্যাপারটা। এক বাবুমনি পাচ্ছে যা, অন্যজন পাচ্ছে না সেটাও। আমার নাড়ি থেকে। ব্যাপারটা এমন – একজন বাঁচলেও পারবে না পরের বাবু। স্টেজ তিন চলছে। চার হলে শেষ সব। মারা যাবে দুজনই।

দুটো জিনিস হতে পারে আমাদের সামনে। ইশারায় হাত দিয়ে দেখালেন ডক্টর। ‘অ্যাবর্ট করতে পারি আমরা। একজনকে।’ চোখ সরিয়ে নিলেন আমার থেকে। উপচে এলো আমার কান্না। ‘আশা করছি’ দম নিলেন মহিলা, ‘এই সিলেক্টিভ টার্মিনেশনে নরমাল লাইফ পাবার সম্ভাবনা আছে একটা বাচ্চার।’ আটকাতে পারলাম না আর।  হাউমাউ করে কেঁদে উঠলাম আমি। ধরে রইলো মামুন আমাকে। শক্ত করে।  

‘শেষ চেষ্টা হিসেবে সার্জারির একটা অপশন আছে আমাদের। রিপেয়ার করার চেষ্টা করতে পারি আপনার প্ল্যাসেন্টাকে। যদি বাঁচে দুজন ..’ থামলেন ডক্টর। ‘তবে, সেটা ঠিক না হলে বিপদের সম্ভাবনা বেশি। বিপদে পড়বে সবাই।’ তাকালেন আমার দিকে। বুঝলাম আমি। স্ট্রেস দিলেন শেষে। ‘মা সহ’।

মামুন তাকালো আমার দিকে। বোঝা গেল রাজি না সে। সার্জারিতে। ডক্টর জানালেন, আমরা সার্জারি চাইলে করতে হবে তাড়াতাড়ি। আজই।

‘কথা বলুন আপনারা’ উনি বললেন, ‘দশ মিনিট পর আসছি আমি। জানাবেন কি চাচ্ছেন আপনারা?’ বেরিয়ে গেলেন ডক্টর।

বাবু দুটোই আমার ভেতর। দুজনের নড়াচড়ার রিদম বুঝতে পারি আমি। ডক্টর দুটো রাস্তার কথা বললেও আমি দেখছি না কিছু। বাচ্চাদের ছবি ভাসছে এখনো। সামনের স্ক্রিনে। সেগুলোর প্রিন্টআউটও আমাদের হাতে। ১৮ সপ্তাহেই চলে এসেছে তাদের চেহারার অবয়ব। এক বাবুর নাক দেখা যাচ্ছে। ভালোভাবে। হাতের শেপও দেখা যাচ্ছে চিবুকের কাছে। মনে হচ্ছে ভাবছে কিছু। বাবুটা। শেপগুলো মুখস্ত আমার। দেখছি তো কয়েকদিন ধরে। গেঁথে গেছে মাথায়।

কাঁদছে মামুন। ধরে আছে আমাকে। শক্ত করে। ও বুঝে গেছে এর মধ্যেই। মানুষকে বুঝতে পারে  ও দেখেই। ব্যতিক্রম হয়নি এখানে। ও বুঝতে পারছে কি ঘুরছে মাথায় আমার। মানা করছে আমাকে। বার বার।

জেদি নই আমি। সবাই জানে সেটা। অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ আমাদের। বিয়ের আগেই বলেছিলো ওর সমস্যার কথা। চোখের। আমার বাবা মাকে। সবাই সরে গেলেও সরিনি আমি।

হাত ছাড়ছে না মামুন। চোখ মুছলো ও। তাকালো আমার দিকে।

আরেক হাত বাড়ালাম ওর দিকে। ধরতে ওকে। দুহাতে। এতো নিশ্চিত মনে হয়নি আমার কখনো। এই নিজেকে।

বললাম, ‘খবর দাও ডক্টরকে। তৈরি আমি।’

Read Full Post »

It’s like Tolstoy said. Happiness is an allegory, unhappiness a story.

― Haruki Murakami, Kafka on the Shore

ট্রেন স্টেশনে ঢুকেই চক্ষুচড়কগাছ! প্রায় সবার হাতেই অন্য ধরনের একটা কাগজ। এগোলাম একটু। খটকা লাগছিল প্রথম থেকেই। নিউজ পেপার নয়। পত্রিকা তো নয়ই। সামনে পড়লো একজন বয়স্ক মহিলা। সাহস করে ঘাড়ের ওপর দিয়েই দেখার চেষ্টা করলাম। অল্প বয়স্কদের ওপর দিয়ে তাকানো বিপদজনক। একবার হলো কী, এই চট্টগ্রামের ঘটনা।

বিরক্ত চোখে থাকলেন আপনি। ‘আরে শুরু করলেন ট্রেন স্টেশনে – থাকেন তো ওখানে। পরে শুনবো ওই কাহিনী।’

মাফ করবেন। ট্রেন স্টেশনে থাকি বরং। হ্যাঁ, যা বলছিলাম। ছোট কাগজ। ‘এ-ফোর’ সাইজ থেকে বেশ ছোট। আবার, পেপারব্যাক বইয়ের সমান না। বরং একটু বড়। হেডলাইন পড়েই বুঝলাম কাহিনী কী। ছোট গল্প। আশেপাশে তাকালাম সময় নিয়ে। ইংরেজির ‘হার্ড লুক’এর মতো করে। অনেকের হাতেই এই কাগজ। একেকটা দু তিন পাতার। সোর্স কী – মানে পেল কোথায়? বইয়ের দোকান থেকে পায়নি তো?

এটা ঠিক, স্মার্ট কখনোই ছিলো না এই বান্দা। তবে বেকুব হয়ে থাকার সুবিধা অনেক। মানুষ এগিয়ে আসে সাহায্যে। ভুল ভাঙ্গাতে। হলো এবারো। আমার ধারণা ওই বয়স্ক মহিলা বুঝতে পারছিলেন আমার অবস্থা।

‘মসিয়ে’, ভদ্রমহিলা তাকালেন আমার দিকে। মনে হলো – স্মিত হাসলেন আমার অবস্থা দেখে। ‘অবাক কান্ড হয়েছে এখানে। আজ। লাগবে আপনার?’ নিজের হাতের কাগজটা দেখিয়ে বললেন উনি।

মাথা নাড়ালাম আড়ষ্ট হাসি দিয়ে। ‘আসুন আমার সাথে।’ বললেন মহিলা।

পিছু নিলাম ওনার। অনেকে আসছেন ওই দিক থেকেই। ভিড় নয় তবে বোঝা যাচ্ছে কিছু একটা আছে ওখানে।

ওখানেই পাবেন আপনার গল্পগুলো! অসাধারণ, তাই না? বললেন মহিলা।

মহিলার চোখের লীড নিয়ে তাকালাম ওই দিকটাতে। দুটো ভেণ্ডিং মেশিন দাড়িয়ে আছে ওদিকে। ধন্যবাদ জানিয়ে এগোলাম যন্ত্রগুলোর কাছে। যতোই এগোই যন্ত্রগুলোর কাছে – ততোই বাড়ছে আমার হাঁটার গতি।

কমলা রঙের গোলাকৃতি এই ভেণ্ডিং মেশিনটা অনেকটাই অন্য মেশিনগুলোর মতো, তবে একটা পার্থক্য বোঝা গেলো কাছে থেকে। মাত্র তিনটা বোতাম। এক মিনিট, দুই আর পাঁচ মিনিট। টাকা পয়সার কথা বলেনি কোথাও।

বলে কী? এই একটা ভেণ্ডিং মেশিন পাওয়া গেলো পয়সা ছাড়া। চাপ দিলাম দুই মিনিটের বোতামে। বেরিয়ে এলো দুই পাতার একটা ছোট গল্প।


গল্পের মানুষগুলো কাল্পনিক হলেও ঘটনা কিন্তু একদম সত্যি। ফ্রান্সের ট্রেন স্টেশনগুলোতে বসানো হয়েছে এই গল্পের ভেণ্ডিং মেশিন। বিনে পয়সায় গল্প পড়ার সুযোগ করে দিচ্ছে ওদের ট্রেন অপারেটর ‘এসএনসিএফ’। ‘এসএনসিএফ’ ব্যবহার করার সুযোগ হয়েছে অনেকবার। প্রতিবারই নতুন কিছু না কিছু দেখেছি ওটাতে উঠে। এবারের গল্পটা বেশ ইউনিক। অনেক গভীর।

এই মোবাইলের যুগে এটা একটা স্বস্তির বাতাস। বোঝা যাচ্ছে – ট্রেন অপারেটর একটা নতুন কালচার চালু করতে চাচ্ছে এই গল্প পড়া নিয়ে। ব্যস্ততার মধ্যে মানুষ যাতে কিছু কোয়ালিটি সময় পায় সেটার ব্যবস্থা করেছে এই অপারেটর। কোয়ালিটি সময়ের সাথে কোয়ালিটি লিটারেচার দিতে এপর্যন্ত লাখের বেশি গল্প ডিস্ট্রিবিউট করেছে এই প্রোগ্রামের সলিউশন প্রোভাইডার ‘শর্ট এডিশন’।

দশ বছর হবে হয়তোবা। আমাজন থেকে ছোট গল্প কিনতাম চল্লিশ সেন্ট করে। তিন – পাঁচ পাতার। দেশীয় ক্রেডিট কার্ড ঝামেলা করলে বন্ধুরাই কিনে দিতো জিনিসটা। পরে মেইল করে দিতো পিডিএফ ফাইলটা। তখনই মনে হয়েছিল এই মডেলটার কথা। পাঁচ টাকায় একেকটা গল্প। কয়েকজনের সাথে এটা নিয়ে কথা বলেছিলাম অনেকবার। সবার কথা, মানুষের পড়া কমে গেছে অনেকাংশে। সত্যি। পরে আর এগোয়নি জিনিসটা।

২০১৩তে ফ্রান্সকে নাম দেয়া হয়েছিল ‘লেখকদের দেশ’ হিসেবে। এটা এসেছিল বড় একটা ‘নেশনওয়াইড’ সার্ভের পর। জানা গেলো প্রায় ১৭ শতাংশ মানুষ বইয়ের পাণ্ডুলিপি লিখেও ফেলে রাখে বছরের পর বছর। বই হিসেবে আলোর মুখ দেখেনা আরো বড় একটা শতাংশ। শর্ট এডিশনের ডিরেক্টরের কথাটা ভালো লেগেছে আমার। ‘আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই গল্পকে। মানুষের মাঝে। উত্সাহ দিতে চাই পড়া আর গল্প লেখার ওপর। প্রোমোট করতে চাই আমাদের লেখকদের। গল্পের বিশাল একটা আবেদন আছে আমাদের জীবনে।’ ঠিক তাই। একটা জার্নির আগে আরেকটা জার্নির পরশ দিতেই এ ব্যবস্থা।

পাঁচ হাজারের বেশি গল্প লেখক লিখেছেন এই প্রোগ্রামে। বুঝুন তাহলে – অনেক লেখক তৈরি হবে এভাবে। সামনের বছরগুলোতে। ট্রেনে মানুষের সময়ের ওপর ভিত্তি করে এক, দুই আর পাঁচ মিনিটের গল্প নিয়েই আজ আমার এই গল্প। আমিও চাইবো এধরনের একটা প্রোগ্রাম চালাতে। কী বলেন?

Read Full Post »

Most good programmers do programming not because they expect to get paid or get adulation by the public, but because it is fun to program.

– Linus Torvalds

ভুলেই গিয়েছিলাম প্রায়।

বিশাল একটা দিন আজ। ১২ই সেপ্টেম্বর। প্রোগ্রামারস’ ডে।

আমাদের প্রতিটা মুহূর্তকে এগিয়ে নিতে এই প্রোগ্রামারদের অবদান আমরা জানি সবাই। সামান্য লিফটের বাটন থেকে শুরু করে প্রতিটা রিমোট কনট্রোল, হাতের মুঠোফোন থেকে টিভি, জীবনরক্ষাকারী সব মেডিকেল ইকুইপমেণ্টের পেছনে রয়েছে শত থেকে হাজার লাইনের কোড। আমাদের এই মুঠোফোনের অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিষ্টেমেই আছে দেড় কোটি লাইনের কোড। আর সেকারণে যন্ত্রটা যেকোন মানুষ থেকে ভালো চেনে আমাদের। আমাদের ভালোমন্দ – পছন্দ অপছন্দ জানে অনেকটাই। জানবে আরো বেশি। সামনে। কারণ একটাই। জিনিসটা আমাদের সাহায্যকারী একটা অংশ।

সৃষ্টিকর্তা তার গুণগুলোকে অল্প অল্প করে দিয়েছেন মানুষকে। এর মধ্যে ‘জিনিস তৈরি’ করার ক্ষমতাটা অতুলনীয়। উদ্ভাবন করার ক্ষমতা। সেইগুণ দিয়ে অনেকটাই অজেয় হয়ে উঠছে মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে প্রোগ্রামিংয়ে কিছুটা এক্সপোজড থাকার কারণে ভবিষ্যত দেখার ‘ছোটখাট একটা উইনডো’ তৈরি হয় আমাদের সামনে। তাও সবসময় নয়, মাঝে মধ্যে। খেয়াল করলে দেখবেন, মানুষ নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবার অনেক ক্ষমতা ছেড়ে দিচ্ছে যন্ত্রের হাতে। আমিও চাই তাই। কয়েকটা লিফটের মধ্যে কোনটা ‘কতো তলায় থাকার সময়’ কোন কলে আপনার কাছে আসবে সেটাতো ছাড়িনি লিফটম্যানের হাতে। ‘লিফটম্যান’ বলে অপমান করা হয়েছে মানুষকে। আমাদের অনেক ‘অনেক’ কাজ রয়েছে সামনে।

চেয়ে দেখুন, সামান্য ড্রাইভিং থেকে শুরু করে বড় বড় উড়ুক্কযান চলে গেছে অটো-পাইলটে। সামনে আরো যাবে। সোজা হিসেব। মানুষ দেখেছে, একটা সীমার মধ্যে বেশ কয়েকটা সিদ্ধান্তের ভেতরে “কী প্রেক্ষিতে কে কী করবে” সেটা আগে থেকে ঠিক করে দিলে যন্ত্র কাজটা করে নির্ভুলভাবে। মানুষের মধ্যে অনেক ‘বায়াসিং’ বিভ্রান্ত করলেও যন্ত্র সেটা করে ঠিক করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বড় কিছু নয় কিন্তু। মানুষের ‘ডিসিশন সাপোর্ট সিষ্টেম’কে ওয়ার্কফ্লোতে ফেলে যন্ত্রকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছে বাড়তি কিছু জিনিস। তেমনি এই মানুষেরই তৈরি ‘সুপারভাইজড লার্নিং’ দিয়ে নিজের কাজের ফীডব্যাক নিয়ে শিখছে নতুন নতুন জিনিস। মানুষকে চিনতে। আরো ভালোভাবে।

মানুষ এখনো অসহায় – অনেক কিছুর কাছে। জলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, আর হাজারো রোগ আসবে সামনে। এগুলো ঠেলেই এগুতে হবে – আরো অনেক। সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে জ্ঞান দিয়েছেন ‘এক্সপ্লোর’ করতে। জানতে। যেতে হবে লাইট ইয়ার্স দূরের নতুন নতুন গ্রহাণুপুঞ্জে। যদি জানতাম আমরা, সৃষ্টিকর্তা কী অভূতপূর্ব জিনিস ছড়িয়ে রেখেছেন নক্ষত্রপুঞ্জে। আর সেকারণেই অফলোড করতে হবে আরো অনেক সময়ক্ষেপণকারী ‘সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা’। আমাদের সহায়তাকারী যন্ত্রের কাছে। দরকার কোটি কোটি … কোটি লাইন লেখার ‘উদ্ভাবনাশক্তি’ সম্পন্ন প্রোগ্রামার। সামনের দিনগুলোতে। যন্ত্রকে শিখিয়ে দেবার জন্য। ওর পর, শিখিয়ে দেয়া হবে মানুষের ভেতরের ‘সুপারভাইজড লার্নিং’ সিকোয়েন্স। যন্ত্রকে। যাতে, ও নিজে থেকেই লিখতে পারে কোড।

মানুষের কাজ অন্যকিছু। সেটা বের করবে এই মানুষই।

মোদ্দা কথা, যন্ত্রকে ভয় নেই। মানুষই মাত্রই ‘চিন্তা’ করতে পারে। যন্ত্র নয়। সৃষ্টিকর্তাই মানুষকে তৈরি করেছেন ওই সুদূরপ্রসারী চিন্তাধারা দিয়ে। তাকে খুঁজতে। জানতে তাকে। আরো ভালোভাবে।

যেতে হবে বহুদূর।

ঈদ মুবারক।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Learn to get in touch with the silence within yourself, and know that everything in life has purpose. There are no mistakes, no coincidences, all events are blessings given to us to learn from.

– Elisabeth Kubler-Ross, the author “On Death and Dying”

বইটার নাম দেখেই নাক সিটকেছিলাম বোধহয়। না হলে কিনলাম না কেন? আটানব্বইয়ের কথা। ‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল।’ ‘ওয়ার্ড বাই ওয়ার্ড’ অর্থে গেলে হয় ‘আত্মার জন্য মুরগীর ঝোল’। বলে কী? এই বই কিনে পয়সা নষ্ট করার মানুষ না আমি।

দশ বছর পরের কথা। বুদ্ধিশুদ্ধি হয়েছে আরো। এবার যেতে হলো ওয়েস্ট কোস্টে। ‘সানি’ সান-ফ্রান্সিসকোতে। উঠলাম একটা পারিবারিক ধরনের হোটেলে। মানে, নিজের বড় বাসাকে পাল্টে নিয়েছে একেকটা গেস্টরুম ধরে। বুড়ো-বুড়ি মাথার ওপর থেকে চালালেও ব্যবসাটার খুঁটিনাটি সবকিছু বড় মেয়ের হাতে। আমার থেকে কিছুটা ছোট হবে। হোটেল ব্যবসায় যতোটুকু আন্তরিক হওয়া উচিত তার থেকেও বেশি আন্তরিক ছিলো মেয়েটা। বিশেষ করে এশিয়ানদের প্রতি। সে গল্প আরেকদিন।

সকালের বিনিপয়সার ব্রেকফাস্ট করতে যেতে হতো একটা বড় হলওয়ে দিয়ে। মজার কথা হচ্ছে পুরো হলওয়ের দুপাশটা অনেকগুলো বইয়ের ‘শেলফ’ দিয়ে ভর্তি। হাজারো বই। তার চেয়ে ভালো লাগতো ওই বইগুলোর গন্ধ। সকালের কফি, মাফিন আর বেকনের গন্ধ ছাপিয়ে বইয়ের গন্ধ খারাপ লাগতো না মোটেই।

আচ্ছা, ড্যাফনি – কিছু বই নিতে পারি রুমে? সন্ধার পর বেশ কিছু সময় নষ্ট হয় এমনিতেই। তোমাদের টিভি’র চ্যানেল মাত্র কয়েকটা।

ভাঙ্গাচোরা হলেও দুটো পয়েন্ট দাড়া করিয়েছি বলে শান্তি শান্তি লাগছিল মনে।

চোখ মটকালো মেয়েটা। মনে হচ্ছে হলিউড ফেল। ফেল তো হবেই। আমরা তো হলিউড স্টেটে। ব্লণ্ডদের নামে যে দুর্ণাম সেটাও উতরে যাচ্ছে সে।

ওমা! টিভি দেখবে কোন দুঃখে? আমাদের নাইটলাইফ পৃথিবী সেরা! তুমি চাইলেই পরিচয় করিয়ে দিতে পারি আমার কিছু বন্ধুবান্ধবীদের সাথে। ফোন দেবো ওদের?

এ আবার কী বিপদ ডেকে আনছি এই সকালে! মিনমিন করে কয়েকটা বই চাইতে যেয়ে এ বিপদে পড়বো জানলে ওমুখো হয় কী কেউ? শেষমেষ হাতে পায়ে ধরে রক্ষা পেলাম ওর বন্ধুদের হাত থেকে। নাইটক্লাবে গেলে ডেজিগনেটেড ড্রাইভার হিসেবে ফ্রী সোডাটাই যা লাভ।

এই ড্যাফনি’র হাত ধরে আবার এলো ‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল’ সিরিজের দুটো বই। আমার নেয়া কয়েকটা বইয়ের মধ্যে কিছুটা জোর করেই ঢুকিয়ে দিলো বই দুটো। কথা না বাড়িয়ে বইগুলো নিলাম ওর হাত থেকে। দিন কয়েক পর এক উইকেন্ডে বন্ধুর বাসায় দাওয়াতে যেতে হলো আমাকে। ট্রেনে যেতে যেতে কী পড়বো বলে মনে হতে নিয়ে নিলাম ওই দুটো বই।

প্রথম গল্পেই ঝাপসা হয়ে গেল চোখ। জীবনের ‘ডার্কেষ্ট আওয়ার’গুলোতে সাধারণ মানুষগুলোর অসাধারণ গল্পগুলো পড়তে পড়তে মনটা ভিজে রইলো পুরো সময়টা ধরে। ছোট্ট ছোট্ট সত্যিকারের গল্প। আসলেই, খুব সুন্দর করে লেখা। চিকেন স্যুপ যেমন করে পেটের জন্য সহনীয়, গল্পগুলোও তাই। মনের জন্য।

ট্রেন স্টেশনে এসেছিল বন্ধু আমাকে নেবার জন্য। ও ঠিক ধরে ফেললো ব্যাপারটা। ক্যাডেট কলেজ থেকে দেখছে না আমাকে? হাতের বইটা হিন্ট দিয়েছে হয়তোবা। মজার কথা, ওই সিরিজের বেশ কয়েকটা বই বের হলো ওর বাসা থেকেও। সেই থেকে জ্যাক ক্যানফিল্ডের বিশাল ভক্ত আমি।

‘চিকেন স্যুপ ফর দ্য সৌল’ সিরিজের প্রথম দিকের একটা গল্প হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেরা একজন প্রেসিডেন্টকে নিয়ে। ঠিক ধরেছেন, উনি হচ্ছেন আব্রাহাম লিন্কন। অধ্যবসায় মানে ‘নাছোড়বান্দাভাবে জিনিস চালিয়ে’ নেবার ব্যাপারটা মনে হয় এসেছে উনার কাছ থেকে। আরেক রবার্ট ব্রূস। চরম দারিদ্র থেকে উঠে আসা এই মানুষটা সারা জীবন বিফলতা ছাড়া কিছু দেখেননি বলে আমার ধারনা। তার জীবনের টাইমলাইন কিন্তু তাই বলে।

আট আটটা ইলেকশনে হারলে ওই পথ আর মাড়ায় কেউ? দুবার ব্যবসা করতে গিয়ে খুইয়েছিলেন সব। বিয়ের পর হারান তার প্রিয়তমাকে। আরো কয়েকটা বিপদে পড়ে বড় ধরনের নার্ভাস ব্রেকডাউন হয় তার। বিছানায় পড়ে ছিলেন ছয়মাস। চাকরি হারান কয়েকবার। কিন্তু হাল ছাড়েননি কখনো। আর সেই লেগে থাকাই তাকে নিয়ে গেছে সর্বোচ্চ জায়গায়। আর ওই বিফলতা তাকে শিখিয়েছে নম্র আর বিশাল হতে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The hungrier one becomes, the clearer one’s mind works— also the more sensitive one becomes to the odors of food.

George S. Clason, The Richest Man in Babylon

ইন্টারনেট নিয়ে আমার কৌতুহল ওই অফলাইন ইন্টারনেট থেকে। নব্বইয়ের সেই “ওয়াইল্ডক্যাট” বুলেটিন বোর্ড সার্ভিস টানে এখনো। অফলাইন পুশ-পুল এফটিপি, এনএনটিপি পোর্ট দিয়ে নিউজ সার্ভিস – দৃক, প্রদেষ্টা, কাইফনেট সব অনেক অনেক আগের জিনিস। একটা কমোডোর ১২৮ নিয়ে খোঁচাখুচির ফল যা হয় আরকি! একটা জিনিস খেয়াল করতাম, ইউইউসিপি (ইউনিক্স টু ইউনিক্স) প্রটোকল দিয়েও সবাই কানেক্ট করতো কাছাকাছি প্রোভাইডারদেরকে। এরপর এলো আসল ইন্টারনেট, আমাদের সব ডাটা যেতো গোটা পৃথিবী জুড়ে। মানে – যুক্তরাষ্ট্র হয়ে!

সেটাও অনেক অনেক দিন। এরপর ঘুরতো সিঙ্গাপুর হয়ে। এখন?

স্যানোগ-৪ ই হবে হয়তোবা, ২০০৫ এর কথা। সুমন ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছিলাম কিছু ডকুমেন্ট। যেটা বেশি টেনেছিলো – ‘আই-এক্স’, ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ নামের একটা গল্প। তখন কী জানতাম বিটিআরসিতে পোস্টিং হবে ওর দুবছর পর? “আই-আই-জি”, ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে লাইসেন্সে অনেকটা মারামারি করে করে ঢুকিয়েছিলাম ‘এক্সচেঞ্জ’ ব্যাপারটা। সুমন ভাইয়ের সাহায্য নিয়ে।

সেটা কাগজে ঢুকলেও বাস্তবে আনতে কষ্ট হচ্ছিলো অনেক। মানে, আই-আই-জি’রা সবাই ডাটা পিয়ারিং করবে দেশের ভেতর। একটা ব্যাপার ঠিক। এটা কিছুটা ব্যবসায়িক স্বার্থেই চলে। জোরাজুরির কিছু নেই। লাইসেন্সিং দরকার নেই। ‘বিডিআইএক্স’ হলো। আইএসপিদের কল্যাণে। মোবাইল অপারেটররা কানেক্ট করছিলো না। নন-লাইসেন্সিং এনটিটিতে কানেক্ট করে কী না কী হয়? এক সময় সেটারও লাইসেন্স এলো।

এখন দেশের ভেতরেই থাকছে প্রচুর ডাটা। বড় বড় ডাউনলোড সার্ভারগুলো ‘ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জ’ হয়ে যাচ্ছে একেকটা আইএসপিতে। লাভ অনেক। আইএসপিদের বিদেশী ‘আইপি ট্রানজিট’ কিনতে হচ্ছে কম। আসল কথা হচ্ছে দেশে হোস্টিং বেশি হলে একসময় অন্যদেশ ‘আইপি ট্রানজিট’ কিনবে আমাদের থেকে। ওটা অনেক পরে হলেও একসময় করতে হবে। ব্যালান্স করতে হবে না ট্রাফিক? ধরুন, বিদেশ থেকে কিনলেন ৩০ জিবিপিএস। ওরা যদি সমপরিমাণ নেয় আমাদের থেকে – তাহলে সেটা হবে “সেটলমেন্ট ফ্রী”। কেউ কাউকে পয়সা দেবে না। মানেও হয় না।

অনেক অনেক আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটা গ্রামে থাকার সময় ব্যবহার করতাম ‘ডিএসএল’ সার্ভিস। বেসিক ফোনের সাথে এসেছিলো ওটা। একবার ফোনে সমস্যা হলো, কিন্তু ‘ডিএসএল’ ডাউন হয়নি কখনোই! এখন তো ফোনের ওই কপারলাইন দিয়ে গিগাবিট ইথারনেটও চলছে অনেক জায়গায়। সেটা আরেকদিন!

বিটিসিএলএর ডিএসএল সার্ভিস নিলাম কয়েকদিন আগে। ওর আগে পাড়ার আইএসপি ছিলো বাসায়। পাড়ার আইএসপি’র সার্ভিস ছিলো রকেটের মতো। ‘গুগল ক্যাশে’ ইঞ্জিন থেকে শুরু করে ডাউনলোড সার্ভার, কী নেই তাদের! অনেকের বাসা পর্যন্ত ফাইবার টেনেছে তারা। বিদ্যুত্‍ চমকালেও যাবে না রাউটার। নতুন ‘ডিএসএল’ নেবার পরও ডাউনলোড ম্যানেজারে পুরানো আইএসপি’র একটা লিংক রয়ে গিয়েছিলো কোনো একটা কারণে। পিসি চালু করতেই লিংকটা মুছতে গিয়ে দেখলাম ঢাকা থেকে ঢাকার ওই দুই কিলোমিটার দূরত্বের ট্রাফিক ঘুরে আসছে ওই বিদেশ থেকে। মানে, এখনো যেতে হবে অনেকদূর!

আমার বাসা থেকে দুই আইএসপি’র ট্রাফিকের রাউটিং। এর থেকেও অনেক অনেক কমপ্লেক্স রাউটিং আছে অনেক জায়গায়। আমার কথা একটাই। দেশের ট্রাফিক বিদেশী ডলারের কেনা “আইপি ট্রানজিট” দিয়ে গেলে দাম বাড়বে বৈকি।  ইন্টারনেটের।

[এটা একটা উদাহরণ, কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়, আমরাও শিখছি প্রতিদিন]

1 5 ms 3 ms 2 ms Routing.Home.Inside [192.168.x.x]
2 1615 ms 1675 ms 2003 ms 123.49.x.x
3 1920 ms 1534 ms 1852 ms 123.49.13.x
4 931 ms 995 ms 892 ms 44.44.44.2 [এটা যাচ্ছে স্যান-দিয়াগো, অ্যামেচার রেডিও]
5 1399 ms 1458 ms 1571 ms 123.49.13.82
6 1400 ms 701 ms 729 ms 123.49.1.14 [বিটিসিএলের মধ্যেই অনেকগুলো হপ]
7 1062 ms 1115 ms 1189 ms 121-1-130-114.mango.com.bd [114.130.1.121]
8 1562 ms 1555 ms 1466 ms aes-static-133.195.22.125.airtel.in [125.22.195.133]
9 1456 ms 1536 ms 1591 ms 182.79.222.249 [ভারতে যেয়ে ঘুরে আসছে ট্রাফিক]
10 1878 ms * 1009 ms aes-static-118.1.22.125.airtel.in [125.22.1.118]
11 1479 ms 1605 ms 1444 ms 103-9-112-1.aamratechnologies.com [103.9.112.54]
12 1007 ms 1611 ms 1727 ms 103-9-112-1.aamratechnologies.com [103.9.113.130]
13 1619 ms 1596 ms 1810 ms 103.x.x.x
14 1774 ms 1058 ms 1222 ms x.x.82.x
15 1373 ms 1423 ms 1410 ms site1.myoldisp.com [x.x.28.x]

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

The two most important days in your life are the day you are born and the day you find out why.

– Mark Twain

০৪.

আমার নিজের একটা তত্ত্ব আছে এই ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ নিয়ে। হয়তোবা এতো বছরের উপলব্ধি থেকে তৈরি হয়েছে জিনিসটা। অনেক কিছু পড়তে গিয়েও আসতে পারে ধারনাটা। ব্যাপারটার নাম দিয়েছি ‘ক্যানভাস’ তত্ত্ব। প্রতিটা মানুষ পৃথিবীতে আসে একটা সময়ের জন্য। ধরে নিন – ওই সময়টাতে সমমাপের একেকটা ‘সাদা ক্যানভাস’ নিয়ে আসি আমরা। জন্মের পর ওই একেকটা জ্ঞান একেকটা বিন্দু হয়ে আঁকা হতে থাকে ওই ক্যানভাসে। সবার ক্যানভাসের জায়গা সমান হলেও যে শিখবে যতো বেশি, তার বিন্দু হবেও বেশি। এক যায়গায় কারো বিন্দু বেশি হলে সেগুলো চলে আসবে কাছাকাছি।

০৫.

হাটতে শেখার জ্ঞানটাকে প্লট করুন একটা বিন্দু দিয়ে। সেভাবে দৌড়ানোটাও আরেকটা বিন্দু হয়ে যোগ হবে আগের হাঁটতে শেখার বিন্দুর কাছাকাছি। সাঁতার শেখাটাও কিন্তু আরেকটা বিন্দু। এগুলো সব কাছাকাছি বিন্দু। তেমন করে ক্লাস ওয়ান পড়াটা একটা বিন্দু, ক্লাস টু আরেকটা। এক ধরনের জ্ঞানগুলোর বিন্দুগুলোই আঁকা হতে থাকে কাছাকাছি।

০৬.

আর এভাবেই তৈরি হতে থাকে একেকটা ‘ফ্লো অফ আইডিয়া’। কয়েকটা বিন্দু মিলে হয় একেকটা ‘ওয়ার্কফ্লো’। যুক্ত হতে থাকে ওই ‘ডটেড’ ইভেন্টগুলো। পাশাপাশি। তৈরি হয় ‘বিগ পিকচার’। মনে আছে ওই প্রথম ভিডিও’র বিন্দু থেকে আঁকা পাখিটার মতো? আর সেসময়ে তৈরি হয় ওই ‘আহা’ মুহূর্তটা!

০৭.

সময় আর অভিজ্ঞতা থেকেই চলে আসে আরো অনেক ‘ডট’। দুটো ‘ডটে’র মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনে নতুন নতুন জ্ঞান মানে ওই ‘ডট’ প্রতিদিন। মানে নতুন নতুন প্রসেস করা তথ্য। একেকটা বিন্দুর ‘ইনফ্লুয়েন্স’ চলে আসে পরের বিন্দুগুলোর ওপর। আর সেকারণে পেছনের ওই গায়ে গায়ে লাগানো ডটগুলো প্রজ্ঞা দেয় তৈরি করতে – আমাদের সামনের ডটগুলো। ভবিষ্যত দেখার প্রজ্ঞা। কিছুটা বুঝতে পারি এখন – কি করতে চাই জীবনে।

০৮.

যে যতো শেখে তার ক্যানভাসে বিন্দুর সংখ্যা বেশি। আবার, বেশি বেশি বিন্দুতে কাছাকাছি বিন্দুগুলো ‘ইনফ্লুয়েন্স’ করে যে জায়গাগুলোতে – যেখানে বিন্দু পড়েনি এখনো। সেকারণে ওই বিশেষ জ্ঞানটা তার না থাকলেও কাছের বিন্দুগুলো থেকে ‘কনটেক্সচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ নিয়ে নেয় ওই মানুষটা। এর সোজা মানে হচ্ছে সেই মানুষটা ‘কানেক্ট করতে পারে ওই ডটগুলোকে। আমার ধারনা, সেটার আউটকাম হচ্ছে ড্যানিয়েল গোল্ডম্যানের ‘ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স’। কিছুটা উপলব্ধির ‘বিগ পিকচার’।

কেন দরকার?

নিজেকে চিনতে। আরো ভালো করে বললে, জানতে – কেন এসেছি দুনিয়াতে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Again, you can’t connect the dots looking forward; you can only connect them looking backwards. So you have to trust that the dots will somehow connect in your future. You have to trust in something, your gut, destiny, life, karma, whatever.

Believing that the dots will connect down the road will give you the confidence to follow your heart. Even when it leads you off the well worn path, and that will make all the difference.

– Steve Jobs

০১.

মনে আছে ছোট্টবেলার প্রিয় পত্রিকাগুলোর কথা?

অনেকগুলোর শেষ পাতায় থাকতো কিছু বিন্দু আঁকা। পেন্সিল দিয়ে টানতে হবে এক থেকে দুই, দুই থেকে তিন – তারপর চার। শেষমেষ নিরানব্বই পর্যন্ত! ধরতেই পারতাম না প্রথমে – কি দাড়াবে জিনিসটা? শেষে – ওমা, কি সুন্দর পাখি! রং করবো নাকি একটু? এই বিন্দু বিন্দুগুলোকে যোগ করলেই জানতে পারতাম আসলে জিনিসটা কী? যতোই বিন্দু যোগ করে লাইন টানতাম ততোই ধারনা বাড়তো কী জিনিস বানাতে যাচ্ছি তখন। বুঝলাম, জীবনে যতো এগোবো ততো খুলতে থাকবে এর ভেতরের জট। আগে নয়।

০২.

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন জিনিসটা কি? মনে আছে? প্রশ্নটা করা হয়েছিল গ্রীক দার্শনিক ‘থেলস’কে। ‘টু নো দাইসেল্ফ।’ মানে, নিজেকে জানা। আর সবচেয়ে সহজ? অন্যকে উপদেশ দেয়া। দুহাজার পাঁচে স্টিভ জবসের কমেন্সমেন্ট স্পীচে ‘কানেক্টিং দ্য ডটস’ ব্যাপারটা শুনলেও মাথায় ঢোকাইনি তখন – গভীরভাবে। পরে বুঝেছি ধীরে ধীরে। ওই ‘ডট’গুলো হচ্ছে আপনার আমার জীবনের অভিজ্ঞতা আর ‘দ্য চয়েসেস উই হ্যাভ মেড’। মানে – আমাদের লেগে থাকার আউটকাম। আমরা যখন পেছনে তাকাবো জীবন নিয়ে, একটা প্যাটার্ন ফুটে উঠবে আমাদের কাজে। কি কি করেছি আমরা। এটা আমাদেরকে জীবনকে দেখতে শেখায় নতুন একটা ‘পার্সপেক্টিভ’ থেকে। আসলে জীবনের হাজারো ‘ইভেন্টে’র পেছনের একটা ট্রেন্ড, আমাদেরকে তৈরি করে দেয় – সামনে দেখতে।

০৩.

জবসের ভাষায় – আমাদের মন যেটাকে টানে সেটাকে সত্যি করে বিশ্বাস করলে “বিন্দুগুলো” কানেক্ট করবে কিন্তু একসময়। আজ না হলেও হবে একদিন না একদিন। এই বিশ্বাসই আমাদের যোগাবে সেই পথে থাকার মনোবল। আর সেই বিশ্বাস আমাদের হাজারো কষ্টকর রাস্তায় নিলেও সেটাই কিন্তু পাল্টে দেবে আমাদের। বিশেষ করে অন্যদের থেকে। ওই ঝামেলার রাস্তাটা পার হতে গিয়ে যা শিখবো সেটাই নিয়ে যাবে আমাদের অন্য মাত্রায়। আমি কিন্তু বিশ্বাস করি ব্যাপারটা। আমার জীবনে ঘটেছেও তাই।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: