Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রেগুলেটরি সংস্থা’

You can never cross the ocean until you have the courage to lose sight of the shore.

– Christopher Columbus

৫৫৮.

আফ্রিকার সতেরোটা দেশে অপারেট করতো কুয়েতি অপারেটর জৈন। সেই জৈনকে কিনেছে পরে ভারতী এয়ারটেল। অতগুলো আফ্রিকার দেশে অপারেট করার কারণে জৈনের একজন গ্রাহক অন্যদেশে গেলেও কথা বলতো লোকাল রেটে। কোথায় রোমিং কোথায় কি? বাজারে পলিসি না থাকলে ইন্ডাস্ট্রি তৈরী করে নেবে তার রাস্তা। এটাই ইনোভেশন! সত্যিকার অর্থে, বহু বাজারে ব্যবসা থাকার অনেকগুলো সুবিধার এটা একটা। আমাদের অপারেটরগুলো চাইলে পারে এটা। ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স নীতিমালায় আটকে আছে এধরনের ব্যাপারগুলো। লিখে নিন একটা কথা। ঐদিন বেশি দুরে নয় যখন ইন্টারন্যাশনাল কলের দাম কমে আসবে লোকাল কলের নিচে। মিনিট ভিত্তিক কলের হিসেব উঠে যাচ্ছে অনেক দেশে। পয়সা দেবেন মাস ভিত্তিক। আনলিমিটেড কল। রেগুলেটরকে বুঝতে হবে জিনিসগুলো। ভয়েস কলের ওপর রেভিনিউয়ের আশা নিয়ে বসে থাকলে ভুল করবে সবাই।

৫৫৯.

ফিরে আসি স্বচ্ছতায়। যতো যাই হোক না কেন, কিছু কিছু নীতিমালায় স্বচ্ছতা না থাকলে ভয় পায় টেলিযোগাযোগ ইনভেস্টররা। অনিশ্চয়তা ভর করে তাদের ওপর। বানানো কথা নয় আমার। হাজারো মিটিং থেকে উঠে এসেছে এ কথাগুলো। পুরনো অপারেটরের সাথে ইন্টারকানেকশন মানে আন্তসংযোগ নীতিমালা হতে হবে ব্যবসাবান্ধব। নতুন অপারেটর এলো – কল পাঠাতে পারলো না অন্য অপারেটরে। আসবে টাকা নিয়ে কেউ? ফরওয়ার্ড লুকিং কস্ট এনালাইসিস থাকতে হবে রেগুলেটরের কাছে। ‘কস্ট প্লাস’ আর ‘রিটেল মাইনাস’ প্রাইসিংয়ে দক্ষতা দিয়ে আশ্বস্ত করতে হবে রেগুলেটরকে। নতুন ইনভেস্টমেন্টকে। দেশের টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের মূল্য নির্ধারণের নীতিমালা কেমন আর সেটা থাকলে সেটা কতোটা ব্যবসাবান্ধব সেটা দেখতে চায় নতুন টাকাওয়ালা। ভবিষ্যতের বাজার উন্মুক্ত করতে রেগুলেটরের রোডম্যাপ না থাকলে অনেক পয়েন্ট হারায় দেশ।

৫৬০.

আমাদের দেশ ‘ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন’ মানে ডাব্লিউটিওতে কি কি ব্যাপারে সাক্ষর করেছে সেটা কিন্তু জানে সে। রিসার্চ ছাড়া আসবে না নতুন ইনভেস্টমেন্ট। বিশেষ করে নতুন দেশে। রিসার্চ অর্গানাইজেশনগুলো যোগাযোগ করতো আমার সাথে। কিভাবে যেন যোগাড় করতো নাম ঠিকানা আমার। তবে, বলতো না কোন কোম্পানির হয়ে রিসার্চ করতো তারা। এটাই নিয়ম। নিয়ম করে উত্তর পাঠাতাম ইমেইলে। দেরী করলে ক্ষতি আমাদের। বেঁচতে হবে না দেশকে? দরকার নেই রোডশো’র। দেখিয়ে দাও আমাদের নীতিমালাগুলোকে। সিদ্ধান্ত নেবে তারাই। দেশকে বেঁচতে পারাটা অনেক কষ্টের কাজ। দেশ বিদেশের হাজারো নীতিমালা রাখতে হয় মুখস্ত! কখন কি লাগে সেটা আগে থেকে বলা দুস্কর। গ্লোবালাইজেশনের যুগে গ্লোবাল ফুটিং না থাকলে ধাক্কা মেরে ফেলে দেবে প্রতিযোগী দেশগুলো। ফেলেও দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। মিডিয়াতে আসে না ওগুলো। সুক্ষ মারপ্যাচের কাজ। আমরা আটকে আছি বেসিক জিনিস নিয়ে এখনো। খালি কথায় ভিঁজে না চিড়ে। ওটা আসবে কমিটমেন্ট থেকে। পাঁচ বছর পর পর ‘কমিটমেন্ট’ পাল্টালে ঘেঁসবে না কেউ।

৫৬১.

আরেকটা বড় ব্যাপার হচ্ছে ‘ডিসপিউট রিজোল্যুশন’, মানে রেগুলেটর কোন ‘অন্যায়’ সিদ্ধান্ত তার ওপর চাপিয়ে দিলে যাবে কার কাছে? এ ব্যাপারগুলো ঠিকমতো না বলা থাকলে টাকা আনতে কষ্ট হয় দেশগুলোর। আবার – নতুন ইনভেস্টমেন্ট না আসলে বাজার প্রতিযোগিতা আসে না ভালো ভাবে। কমে না দাম। এদিকে, ইনভেস্টমেন্ট করার পর পরিবেশের অভাবে কোনরকমে টাকা তুলে চলে যেতে চাইলে ন্যায্য দামের অধিকার হারায় গ্রাহকেরা।

[ক্রমশঃ]

Advertisements

Read Full Post »

Everything that is possible to be believed is an image of the truth.

— William Blake

৫৫৩.

ইনভেস্টরদের উইশলিস্টের প্রথমেই আছে স্বাধীন, রাজনৈতিক অথবা ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবমুক্ত – শক্তিশালী রেগুলেটরি সংস্থা। ন্যায়বিচার আর অবৈষম্যমূলক আচরণ করবে সবার সাথে। স্বাধীন ব্যাপারটা আসছে রেগুলেটরের রোল নিয়ে। যা চলবে – সার্বজনীনভাবে প্রকাশিত কিছু ‘ওয়েল ডিফাইনড’ নীতিমালা নিয়ে। ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহার দিয়ে নয়। মাঠে নামার আগেই জানবে সবাই কোনটা ফাউল আর কোনটা নয়। নামার পর ইচ্ছেমতো ‘ফাউল’ দিলে খেলার আগ্রহ হারাবে এই পয়সাঅলা কোম্পানিগুলো। যাই করুন কথা বলে নিন গ্রাহক আর ইন্ডাস্ট্রির সাথে। গ্রাহক হচ্ছে যিনি সরাসরি কিনছেন জিনিসটা। আর ইন্ডাস্ট্রি তৈরী করছেন সেটা।আপনি হচ্ছেন গিয়ে রেফারি। নিয়মবিরুদ্ধ জিনিস ছেড়ে দিলে ইন্ডাস্ট্রি সেটাকে ‘প্র্যাকটিস’ ধরে করতে থাকে বার বার। ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ গ্রাহক। আমার ধারণা, ইনভেস্টরদের ডেভেলপমেন্ট পার্টনার হিসেবে নিলে নিলে দেশের লাভ বেশি। ওই বিচক্ষণতার জন্য জানতে হবে রেগুলেটরকে বেশি। শিখতে হবে অনেক। না জানলে যে সমস্যাটা হয় সেটার নাম হচ্ছে গিয়ে ‘রেগুলেটরি ক্যাপচার’। গুগল করবেন নাকি একবার?

৫৫৪.

সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেক কথা বার্তা বলে থাকে ইনভেস্টররা। মানে, যা সিদ্ধান্ত নেবেন তা যাতে সমান হয় সবার জন্য। ‘ক’এর জন্য সিদ্ধান্ত এক আর ‘খ’ বিদেশ থেকে এসেছে বলে ওর জন্য অন্যরকম তাহলে সেটা ইনভেস্টর কনসোর্টিয়ামে ভুল সিগন্যাল পাঠায়। আবার যাদের টাকা পয়সা বেশি – তাদের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয় অনেক দেশেই। রাজনৈতিক ‘লবিস্ট’রা এব্যাপারে সিদ্ধহস্ত। আপনার পক্ষে সিদ্ধান্ত এনে দেবে – নো ম্যাটার হোয়াট! একটা ফী’র বিনিময়ে। এ ব্যাপারগুলো ‘ব্যাকফায়ার’ করে নতুন ইনভেস্টমেন্ট আনার জন্য। ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন বড়রা। রেগুলেটরকে বুঝতে হবে বড়রাই রেগুলেটরকে ‘এনগেজ’ করবে বেশি। এটাই নিয়ম। তাই বলে যে ছোটরা কিছু বলতে পারছে না সেটা জানতে হবে আলাদাভাবে ডেকে নিয়ে। এরপর বসিয়ে দিন সামনাসামনি। রেগুলেটর আগে থেকে সবকিছু লিখে রাখলে সবার জন্য সুবিধা। উন্নতদেশে রেগুলেটরকে নিয়ে মিডিয়াতে আলাপ হয় কালেভদ্রে। কারণ, সবাই সবকিছু জানে। কোনটা ফাউল আর কোনটা নয় – সেটা বলে রেখেছে রেগুলেটর আগে থেকেই। মিডিয়াতে কথাবার্তা না হবার মানে হচ্ছে সবকিছু চলছে ঠিকমতো!

৫৫৫.

এখন সবাই খুব কানেক্টেড, কোন দেশে কি হচ্ছে সবাই জানে আগেভাগে। এমনকি, ওই দেশের মানুষের আগে। মনে রাখতে হবে – পৃথিবী চালায় কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড। টেলিযোগাযোগ বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলোর অপারেশন আছে অনেকগুলো দেশে। এমন বড় যে ওই কোম্পানিগুলোর পেছনে আছে বড় বড় দেশগুলো। এই কোম্পানিগুলোই ঘুরে ফিরে টাকা ঢালছে একেক দেশে। তারা দেশগুলোকে চেনে ওই দেশের মানুষগুলো থেকে বেশি। একেকটা ‘ইনোভেশন’ আর পেটেণ্টের পেছনে কতো টাকা ঢালছে সেটার হিসেব নাই বা দিলাম আর।

৫৫৬.

না জানলে হবে কিভাবে? বিলিয়ন ডলারের ইনভেস্টমেন্ট তো না জেনেশুনে করবেন না কেউ? আপনি করবেন? আমরাই তো দশ টাকার ইনভেস্টমেন্টের আগে চিন্তা করি দশ বার। বোর্ডমিটিংয়ে শেয়ারহোল্ডারদের কি বোঝাবেন? আমাদের দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ তাদের নখদর্পনে। দেশগুলোর নীতিমালা মুখস্ত তাদের। কোথায় ইনভেস্টমেন্ট পরিবেশ ভালো আর কোথায় অপেক্ষা করতে হবে আরেকটা সরকারের জন্য – সেটা তাদের জানা। ইনভেস্টমেন্ট কতো প্রকার আর কি কি প্রকারের – সেটা দেখতে তাকাতে হবে ভারত আর মায়ানমারের দিকে। সামনের বছরগুলোতে।

৫৫৭.

সবার কিছু না কিছু অপারেশন আছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। একেক বাজারের জন্য আলাদা রিসার্চ টীম আছে তাদের। আমাদের দেশে কোন ধরনের প্রোডাক্ট চলবে ভালো – আর কোনটা নয়, সব জানা তাদের। সব জ্ঞান গিয়ে জমা হয় তাদের গ্রুপ হেডকোয়ার্টারে। এই জ্ঞানগুলো বাঁচায় কোম্পানিগুলোকে। কোটি টাকা খরচ করে নামালেন একটা প্রোডাক্ট – আর তা না চললে সেটার গচ্চা দিতে হয় আমাদের মতো গ্রাহকদের। সবকিছু মিলিয়ে বিশাল কার্যক্ষেত্র আর বাজার তৈরিতে সিদ্ধহস্ত তারা। তাদের সম্মিলিত জ্ঞান একেকটা দেশ থেকে অনেক বেশি। ফলে – দেশগুলোও থাকতে চায় তাদের গুডবুকে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: