Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রেগুলেটর’

Tagline: There’s so much to do in Bangladesh!

০১.

সেদিন দেখলাম নতুন একটা ব্যবসায়িক ফোরাম। নাম হচ্ছে “বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন”। ভালো উদ্যোগ। আরো আগে আসতে পারতো ব্যাপারটা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “ফেয়ার ট্রেড কমিশন” (এফটিসি) ঠিক এই কাজটাই করে সুস্থ প্রতিযোগিতার স্বার্থে। এফটিসিতে কমপ্লেইন মানে খবর আছে ওই কোম্পানি অথবা কোম্পানিগুলোর “সিন্ডিকেটের”। কোন কোম্পানির জিনিস কিনে প্রতারিত হয়েছেন? সেটাও আদায় করে দেবে কমপ্লেইন করলেই। তারপর তো জরিমানা আছেই। গ্রাহক স্বার্থ থেকে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সবকিছুর খবর রাখে এই এফটিসি। ঘুরে আসতে পারেন ওদের সাইট থেকে। এইমাত্র দেখলাম ফোনে “ডু নট ডিস্টার্ব” নামে একটা বড় ট্যাবই রেখেছে গ্রাহকদের অচেনা কল থেকে রক্ষা করতে।

০২.

অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন (এ ট্রিপল সি) তো আরেক জিনিস। যেকোন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন সাথে সাথে। গ্রাহক পর্যায়ে ফোনের প্রতি মিনিট বিল আসলে কতো হওয়া উচিৎ সেটার “কস্ট মডেলিং” করে থাকে এই কমিশন। নিয়মিত ভাবে। টেলিকম রেগুলেটর না হয়েও। তাদের কথা একটাই। কোন একটা কোম্পানির ভেতরের অদক্ষতা অথবা কিছু কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে গ্রাহক কেন গুনবে বেশি পয়সা? তাহলে ট্যাক্স দেয়াই বা কেন? একটা দক্ষ কোম্পানি হলে ফোনের ‘আন্তসংযোগ’ বিল কতো হতো সেটাই বের করে ওই এক্সারসাইজ।

০৩.

অস্ট্রেলিয়া বিশাল দেশ। সেখানের বেশিরভাগ জায়গা খালি। মানে, মানুষ থাকে দুরে দুরে। এমন দেশে মোবাইল ব্যবসা ভয়ংকর কষ্টসাধ্য। যে হাইওয়ে দিয়ে দিনে একটা দুটো মানুষ চলে – সেখানে মোবাইল কাভারেজ দেয়া ব্যবসাবান্ধব নয়। দিতে হয় তবুও। সেখানে ‘ফ্লাগফল’ নিয়ে কম ঝামেলা হয়নি প্রথমে। মোবাইলে ‘ফ্লাগফল’ হচ্ছে প্রথম মিনিটের চার্জ বাকি মিনিট থেকে বেশি। বাংলাদেশেও ছিলো জিনিসটা। সমাধান করা হয়েছে মিনিট ‘পালস’ সহ। মানে, কথা বলেছেন এক মিনিট ১ সেকেন্ড, দাম নিয়ে নিলো ২ মিনিটের। এছাড়া, বাংলাদেশে কোথায় মানুষ নেই? বরং একেকটা বেসস্টেশন ইনভেস্টমেন্টে ক্যাপাসিটির সমস্যা। সংযোগ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না যন্ত্র। এতোই মানুষ আমাদের এখানে! ওটা আরেকদিন!

০৪.

ওঁদের ধারণাটা নিয়ে ২০১১তে প্রায় দেড় বছর ধরে করা হয়েছিলো এই “কস্ট মডেলিং এক্সারসাইজ”। বাড়ি টাড়ি খেয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম কয়েকবার। তবে, সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন সংস্থার প্রয়াত চেয়ারম্যান। সবার সহায়তা নিয়েই ওই এক্সারসাইজে ফোনের বিল কমেছিল প্রায় ৩০%। আমার হিসেবে ওই প্রজেকশনে প্রতি মিনিটের দাম কমতে পারে আরো ২০%। নিজস্ব অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে ১৮ পয়সা + আইসিএক্স ৪ পয়সা = “২২+নিজের লাভ” পয়সা থেকেই শুরু হতে পারে একটা কল। নিজের নেটওয়ার্কে কল শুরু হতে পারে ০ পয়সা দিয়ে। বান্ডল অফারে। (পরে দেখুন হিসেবটা) পাশের দেশে ভয়েস কল হয়ে যাচ্ছে বিনামূল্য আইটেমে। মানেন না মানেন, এটাই ভবিষ্যত মডেল। ‘রিলায়েন্স জিও’ নিয়ে গুগল করলেই বুঝতে পারবেন কি ঘটনা হচ্ছে ওখানে।

০৫.

বাজারে ঠিক প্রতিযোগিতা আছে কিনা সেটার জন্য টেলিকম রেগুলেটরকে কাজ করতে হয় একটা ইনডেক্সের ওপর। এটাকে বলে “হারফিন্ডেল ইনডেক্স” (এইচএইচআই)। জিনিসটার একটা নাম আছে বিশ্বব্যাপী। সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি)। সাংবাদিক বন্ধুরা বলতে পারবেন ভালো। এই নীতিমালাটাও করা হয়েছে বাংলাদেশে। আমার সাত বছর রেগুলেটরে থাকার সময়ে। তবে প্রয়োগে প্রয়োজন প্রজ্ঞা। তা না হলে বাজারে বড়রা বড়ই হবেন আরো ছোটরা ছোটতর। গুগল করে দেখুন। এটা আছে অনেক অনেক দেশে। নাইজেরিয়াতে গিয়েছিলাম অনেক আগে – দেখলাম ওরাও জানে সবই।

০৬.

এইচএইচআই ছাড়াও ‘ওই স্পেসিফিক বাজারের স্ট্রাকচার’ আর ‘ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ ইনডেক্স দেখলে পরিস্কার হবে অনেক কিছু। নতুনকে যদি অন্য কোন অপারেটরের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, সেটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ মানে ব্যবসার শুরুতে কানেকশন চেয়ে না পাওয়া। তাহলে তো মোবাইল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (এমভিএনও) অপারেটর চলবে না এদেশে। সব দেশেই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রোভাইডারদের নির্ভর করতে হয় মোবাইল অপারেটরদের ইন্টার-কানেকশনের ওপর। সেটার জন্য ওই ক্রিটিকাল ইন্টার-কানেকশন হতে হবে ‘কস্ট বেসড’। মুনাফা নয় ওই জায়গায়। দাম ঠিক করে দেবে রেগুলেটর। যেভাবে ঠিক করে দেয়া হয় সাবমেরিন কেবলের ইন্টারনেটের দাম। কারণ, ওই সাবমেরিন কেবলের বিকল্প নেই আর। এগুলো ‘বটলনেক’ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। যে সেবার বিকল্প নেই, সেগুলোর রেগুলেশনে এগিয়ে আসতে হবে ওই মার্কেটের রেগুলেটর অথবা কম্পিটিশন এজেন্সীকে। হিসেব সোজা।

০৭.

ঠিক সেভাবেই নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় ভয়েস কলের ইন্টার-কানেকশনের দাম। যেটা ঠিক করা হয়েছিল ১৮ পয়সায়। শেষটা করা হয়েছিল ২০১৩তে। এটার অর্থ হচ্ছে মোবাইল, ল্যান্ডলাইন অপারেটররা একে অপরকে কল পাঠাতে হলে অন্যজনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে গতি নেই কারো। সেজন্য এটাও একটা ‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’। সেটার দাম বেঁধে দেবে রেগুলেটর। হিসেব করে। ০১৭ থেকে ০১৮য়ে কল পাঠাতে গ্রামীন রবিকে দেবে ১৮ পয়সা। ৪ পয়সা দেবে মাঝের ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স)কে। ২২ পয়সা দিয়ে বাকিটা নিজের লাভ।

০৮.

কোন একটা স্পেসিফিক বাজারে (মোবাইল বাজার, ইন্টারনেট বাজার, হোলসেল, রিটেল বাজার) যার মার্কেট শেয়ার অনেক অনেক বেশি, সেটা ক্ষতি করে প্রতিযোগিতাকে। অন্যরা বাজারে পরে আসলে তারা পায়না পানি। উদাহরণ দেই বরং। আমাকে একটা রেগুলেটরি প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছিল থাইল্যান্ডে। প্রশিক্ষণ শেষে হাতে কলমে দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হলো ওদের টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে তাদের নিয়ম পরিষ্কার। আসলেই তাই।

০৯.

ওদের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেটরের (হোক সে মোবাইল অথবা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার), মার্কেট শেয়ার ২৫% ওপরে গেলেই তাকে বলা হবে “সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার” (এসএমপি)। তখন তার ওপর বর্তাবে আলাদা নিয়ম। ‘অ্যাকাউন্টিং সেপারেশন’ করে দেবে সার্ভিসগুলোর। মানে, একটার লাভ দিয়ে অন্যটাকে ক্রস-সাবসিডি দিয়ে চালাতে পারবে না ওই অপারেটর। নতুন কোন অফার নামাতে জানাতে হবে রেগুলেটরকে। নেটওয়ার্ককে খুলে দিতে হবে ‘ওপেন অ্যাক্সেস’ মডেলে। যাতে সবাই একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে ‘রাইড’ নিতে পারে ওই নেটওয়ার্কে। বান্ডলিং, মানে এটা নিলে ওইটা ফ্রি – দিতে পারবে না সে। তার ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং’ মানে ব্যবহার করতে দিতে হবে অন্য প্রতিযোগী অপারেটরদের। একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে। ওটা জানবে রেগুলেটর। সেটা শিখেছিলাম আরেকটা গুরূ দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর। ওদের টেলিকম রেগুলেটর থেকে। পাগল করা কোর্স ছিলো ওটা। এমনই রেগুলেটর যে নিজেদের নাম পাল্টে রেখেছে “ইনফোকম ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি” নামে।

১০.

এসএমপি অপারেটরদের ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’ একেবারে না না। অর্থাৎ মনে হলো যে দাম অফার করলে বাজার থেকে নাই হয়ে যাবে প্রতিযোগীরা, সেটা করলে রেগুলেটরের খড়গ নেমে আসবে তার ওপর। ২০১২ সাল থেকে থাইল্যান্ডের ‘এআইএস’ আর ‘ডিট্যাক’ রেগুলেটর ঘোষিত ‘এসএমপি’ অপারেটর। অন্য অনেক অবলিগেশনের মধ্যে তাদেরকে ফেলা হয়েছে ‘মোবাইল ভয়েস প্রাইস রেগুলেশনে’। ফলে তাদের প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে দেয়া আছে ০.৯৯ বাথে। আবার যারা যারা থ্রিজি লাইসেন্স পেয়েছে (মানে যারা ২.১ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পেয়েছে) তাদেরকে বাজারের গড় দাম থেকে ১৫% কমিয়ে রাখতে বলেছে রেগুলেটর। ওখানে আরেকটা জিনিস কাজ করে ভালো। ইনসেনটিভ রেগুলেশন। অপারেটর মুনাফা বাড়াতে পারে দক্ষতা দেখিয়ে। দক্ষতা মানে দেখাতে হবে নিজেদের ‘এফিসিয়েন্সি’। মানে কম ইনভেস্টমেন্টে বেশি সুবিধা। ফলে, গ্রাহককে গুনতে হবে কম পয়সা।

১১.

বাজারে প্রতিযোগিতার সুস্থ পরিবেশ না থাকলে অনেকগুলো জিনিস হয়। নষ্ট হয় অপারেটরদের ইনভেস্টমেন্ট। মারা যায় অনেকে। মার্জার অ্যাকুইজেশন হয় তখন। এতে অনেকে বলবেন, ‘সারভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট’। ব্যাপারটা তা না। এটাতো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নয়। নীতিমালা আছে এখানে। তবে প্রতিযোগিতা সুস্থ না হলে বাজারে বার বার টাকা হারিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে ইনভেস্টররা। চলে যাবে বাইরে। যেমনটি দেখেছি ওই চেয়ারে বসে। টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। যে যাই বলুক, উদ্যোক্তারাই কিন্তু চালায় দেশের অর্থনীতি। হোক সেটা দেশীয় অথবা বৈদেশিক বিনিয়োগ। দশটা পরিবারের চল্লিশটা মুখের খাবারের যোগান দেয় এই উদ্যোক্তা।

১২.

উদাহরন দেই বরং। আমাদের উপমহাদেশের একটা দেশ ‘ক’। কাকতালীয়ভাবে মিল হলে সেটা হবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে। পুরো মোবাইল বাজার নিয়ে আছে ওখানের ছয়টা অপারেটর। পুরো রেভিনিউ মার্কেটের ৫০% এর কিছুটা বেশি মার্কেট শেয়ার দখল করে আছে প্রথম অপারেটর। মানে হচ্ছে – পুরো মোবাইল মার্কেট থেকে ১০০ টাকা আসলে সেটার ৫২ টাকা পায় ওই অপারেটর। বাকি ৪৮ টাকা মিলে মিশে পায় পাঁচ অপারেটর। বুঝতেই পারছেন প্রতিযোগিতার অবস্থা। ওই সময় একটা হিসেব করলো রেগুলেটর। বিদেশী কনসালটেন্ট নিয়ে। দেখা গেলো এই মোবাইল বাজারে ৩৫-৪০% হতে পারে নিচের ‘থ্রেসহোল্ড’ – মার্কেট শেয়ারে। মানে, ৩৫ থেকে ৪০% মার্কেট শেয়ার (যেটা রেগুলেটর মনে করে ভালো) হলেই সে হবে ‘এসএমপি’। এরকম ভাবে হোলসেল বাজারে ট্রান্সমিশন লাইসেন্সেও আসতে পারে এধরনের শতাংশের বেস লাইন।

১৩.

আমাদের প্রতিযোগিতা কমিশন নেই – সেটা নয় কিন্তু। আছে। আবার দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্ট দুটোকে পরস্পর সাংঘর্ষিক করে দেখার সুযোগ কম। সেটার জন্য আমাদের দেখতে হবে বিশ্বখ্যাত “ডুইং বিজনেস” ইনডেক্সে কোথায় আমরা? কতোটা ব্যবসাবান্ধব আমরা? একটা ট্রেড লাইসেন্স অথবা একটা টেলিকম ব্যবসা খুলতে সময় লাগে কতো দিন? সরকার থেকে একটা ‘পারমিট’ বের করতে কতোটা অসহায় হতে হয় একেকজন উদ্যোক্তাকে? ‘গোল পোস্ট’ পাল্টায় কতো তাড়াতাড়ি? মানে, একটা নিয়ম মেনে ইনভেস্টমেন্ট করার পর কখন পাল্টায় আগের নিয়ম?

১৪.

খালি চোখে দেখা যায় না প্রতিযোগিতা’র অসুস্থতা। সেটা দেখতে লাগবে অনেকগুলো স্ট্যাটিসটিকাল ইন্ডিকেটর। আর প্রতিযোগিতাকে ব্যবসাবান্ধব করতে লাগবে ‘প্রজ্ঞা’। একটু ওলটপালট হলেই ক্ষতি হবে ব্যবসায়িক পরিবেশের। তিন বছর লেগেছে আমারই বুঝতে। আমার এই ব্যাপারটা কিছুটা ধীর, পুরনো প্রসেসর বলে হয়তোবা। যেমন, ‘প্রাইস’ অথবা ‘মার্জিন স্কুইজ’ দেখা যাবে না খালি চোখে। আপনি আরেকজনের কাঁচামাল নিয়ে যদি রিটেল মার্কেটে ব্যবসা করেন যেখানে ওই কাঁচামাল তৈরীর কোম্পানিও ব্যবসা করে পাশাপাশি। পারবেন তার সাথে? ধরা যাক, মোবাইল অপারেটর থেকে ‘ক’ টাকায় “ইন্টারনেট” কিনে ‘ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস’ দেন আপনি। ওই বাজারে মোবাইল অপারেটর ওই একই ব্যবসা করলে টিকবে কি সেই উদ্যোক্তা? যতোই লাভ সে দিক সরকারকে। এরকম জিনিস আছে হাজারো।

১৫.

এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে ফারাক নেই বললেই চলে। বর্তমানে অনেক সফল দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চারে বিনিয়োগ আসছে বিদেশ থেকে। আমার কথা একটাই। তৈরী হোক সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। দেশে। বাড়ুক সবাই। একসাথে। হাজার হোক, আমাদের দেশ এটা। হোক এটা আরেকটা ‘ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি’। বসে আছি ওই দিনের জন্য, যখন আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে থেকে পড়ে ফিরে আসবে বাংলাদেশে।

কেন?

১. ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি ২. দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ! আসলেই তাই! এখানে করার আছে এতো কিছু, যে মাঝে মধ্যে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বসে থাকি ওই উত্তেজনায়!

ধন্যবাদ সবাইকে।

ট্যাগলাইন: দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ!


ডুইং বিজনেস http://www.doingbusiness.org
অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন http://accc.gov.au
ফেয়ার ট্রেড কমিশন https://www.ftc.gov
বাংলাদেশের রিপোর্ট: সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার https://goo.gl/IVbJSG

Advertisements

Read Full Post »

It is truly rare for people to outmaneuver Big Telecom’s army of lobbyists, but together Canadians did it. Now that we’ve prevented big phone and cable companies from taking full control, it’s time to fix our broken telecom market for good. A first step is for Canadians to move to independent providers, then we need to shift policy so everyone has affordable choices for Internet access. Our future depends on it.

Steve Anderson, Executive Director, OpenMedia.ca

৬৩৬.

দেশগুলোর রেগুলেটরী এজেন্সি তৈরির পেছনে ‘গ্রাহকস্বার্থ’ দেখার ব্যাপারটা কাজ করে বেশি। গ্রাহক ঠিকমতো তার সার্ভিসটা পাচ্ছে কিনা বা যে টাকা দিয়ে কিনছে সেটা যথোপযুক্ত কিনা, এধরনের ‘নজরদারি’ করে থাকে রেগুলেটরী এজেন্সি। দেশের মানুষের ভালো দেখবে তারা, সেটাই থাকে মুখ্য। আর রেগুলেটরী এজেন্সি বাইরের সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে সেটাও আশা করে জনগণ। তবে বড় বড় ইনডাস্ট্রির জন্য রেগুলেশন সরকারের মাথা ব্যাথা হয়ে দাড়ায় অনেক সময়। অর্থনৈতিকভাবে এ ব্যাপারটা আরো প্রকট হয় যখন বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোর কাছে প্রচুর পয়সা থাকে। ফলে, তাদের কাছে চলে যায় সেরা মেধাগুলো, সেরা আইনজীবী, হাজারে হাজারে। সরকারও ধরে রাখতে পারে না তাদের ‘সেরা মেধাগুলো’ – তাদের বেতন স্ট্রাকচারের কারণে। ফলে রেগুলেটর জনগণের না হয়ে – হয়ে যায় ইনডাস্ট্রি’র ‘হস্তগত’। ‘রেগুলেটরী ক্যাপচার’ হচ্ছে এর আইনগত সংজ্ঞা। দাম বেড়ে যায় পণ্যের।

৬৩৭.

দেখা গেছে কোম্পানীগুলোর স্যাটেলাইট অফিস থাকে সরকারী অফিসের কাছাকাছি। লবিষ্টদের কথা আর নাই বা বললাম। ছোট কোম্পানী আর সাধারণ জনগণের দিকটা দেখা অনিবার্য হয়ে পড়ে ওই রেগুলেটরী এজেন্সি’র ওপর। তবে সেটা হয়ে ওঠে না সবসময়। দেখা যায় সরকারের নীতিনির্ধারণীতে থাকা মানুষগুলো পরিবেষ্টিত থাকে ওই বড় বড় কোম্পানীর ‘মেধাবী’ মানুষদের দিয়ে। ছোট কোম্পানীগুলো বা সাধারণ জনগণ তো তাদের নিজেদের ‘দিনকে দিনের’ সমস্যা মেটাতেই ব্যস্ত, তার স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে কিনা সেটার পেছনে দৌড়ানো হয় কমই। আপনি করবেন? আপনার পেটের দায় আগে – না আপনার ‘গ্রাহকস্বার্থ’? আর সেকারণে দেশগুলো তৈরি করে থাকে আলাদা ‘গ্রাহকস্বার্থ’ কমিশন।

৬৩৮.

প্রতিটা ইনডাস্ট্রির কিছু স্বার্থ থাকে যেটার জন্য সেই কোম্পানীটা যে কোন দৌড়ে যেতে আগ্রহী। এভিয়েশন ইনডাস্ট্রির দিকে তাকাই একবার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ওই সেক্টরের রেগুলেটর হচ্ছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন, যাকে আমরা বলি ‘এফএএ’। তাদের ‘ডিপার্টমেন্ট অফ ট্রান্সপোর্টেশন’ মানে মন্ত্রণালয়ের একটা ইনভেস্টিগেশন রিপোর্টে দেখা গেলো একটা নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্সের ৪৬টা প্লেন আকাশে উড়ছিলো ‘সেফটি ইন্সপেকশন’ ছাড়াই। সাধারণ গাড়ির মতো প্রতিটা প্লেনের ‘ফিটনেস’ সার্টিফিকেট নিতে হয় একটা সময় পর পর। ওই এয়ারলাইন্সটাকে দুবছর ধরে এই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো তাদের রেগুলেটর। যাত্রীদের জানের ওপর বাজী রেখে ওই ছাড় দিয়ে রেখেছিলো এফএএ’র অফিসাররা। এদিয়ে বাকি এয়ারলাইন্সগুলোর অডিট রিপোর্ট ঠিকমতো যাবার ফলে ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে গেল শত শত প্লেন। শুরু হয়ে গেল ফ্লাইট ক্যান্সেলেশন। তাও আবার হাজার খানেক ফ্লাইট। ঘটনা প্রকাশ পেল যখন ওই এয়ারলাইন্সের একটা প্লেনকে ‘গ্রাউন্ডেড’ করতে যেয়ে। প্লেনের ‘ফিউজলাজে’ কয়েকটা ফাটল পাওয়াতে ইন্সপেকটর ‘ক’কে বলা হলো ‘রেগুলেটরের ভালো সম্পর্ক’ আছে ওই এয়ারলাইন্সের সাথে।

৬৩৯.

মার্কিন টেলিযোগাযোগ রেগুলেটর এফসিসি’কে কম কথা হয়নি। ‘এফসিসি’ বিশাল মিডিয়া ইনডাস্ট্রির ‘হস্তগত’ হয়ে আছে এধরনের কথাবার্তা শোনা যাচ্ছিলো অনেকদিন থেকে। যাই রেগুলেশন করা হয় সেগুলো সাপোর্ট করছিলো ওই বড় বড় ইনডাস্ট্রিগুলোকে। কর্পোরেট ‘কার্টেলাইজেশন’ আর কি। বড় বড় মিডিয়া ইনডাস্ট্রির যোগসাজসে ক্রমশ: খরচ বাড়ছিলো গ্রাহকদের। ছোট ফার্মগুলো টিকতে না পেরে গুটিয়ে ফেলছিলো তাদের ব্যবসা। নতুন কোম্পানীও আসতে পারছিলো না বাজারে। ফলে উদ্ভাবনা যাচ্ছিলো কমে। দিনের শেষে গ্রাহকের পছন্দের ‘বিকল্প পন্য’ আসছিলো কমে। মানে সোজা। ধরুন, আগে ছয়টা কোম্পানী দিতো মোবাইল সেবা, ‘মার্জার অ্যাকুইজিশন’ হয়ে কোম্পানী হয়ে গেলো তিনটা। পছন্দের সংখ্যা গেলো কমে। এদিকে রেডিও টেলিভিশন লাইসেন্স পাবার ক্ষেত্রে পাত্তাই পেল না ছোট কোম্পানীগুলো।

৬৪০.

ঘুরে আসবো নাকি কানাডা একবার? কানাডিয়ান রেডিও-টেলিভিশন এণ্ড টেলিকম্যুনিকেশনস কমিশন হচ্ছে ‘কনভার্জড’ রেগুলেটর। ব্রডকাস্টিং, মিডিয়া, টেলিযোগাযোগ – সবই তার আওতায়। এক কথায় আধুনিক রেগুলেটর। বেল কানাডা, সবচেয়ে বড় অপারেটর – একবার কিভাবে যেন হোলসেল ইন্টারনেট বিক্রির ওপর ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ সিষ্টেমটা নিয়েছিল পাস করে। খোদ রেগুলেটর থেকে। মানে বেল কানাডা থেকে হোলসেল ইন্টারনেট কিনতে গেলে পয়সা গুনতে হবে ব্যবহারের ওপর। কিনতে হবে গিগাবাইট ধরে। আইএসপিদের যদি এভাবে কিনতে হয়, তাহলে গ্রাহকদের অবস্থা বারোটা। মোবাইলের ব্যপারটা কিছুটা আলাদা। তাদের সীমিত রিসোর্স হচ্ছে স্পেকট্রাম। ফলে ‘ইউসেজ বেসড বিলিং’ দিয়ে গ্রাহকদের চাপটা কমিয়ে নিয়ে আসে নেটওয়ার্কের ওপর থেকে। রাগান্বিত গ্রাহক আর আইএসপিরা শুরু করলো অনলাইন পিটিশন। পাঁচ লাখ লোকের পিটিশন। রেগুলেটর আর ‘বেল কানাডা’র মিল-মিলাপের গল্প শুরু হলো মিডিয়াতে। চাপ তৈরি হলো পার্লামেন্টারী স্ট্যান্ডিং কমিটির ওপর। ডাক পড়লো কমিশনের চেয়ারম্যানের। পিছু হটলো রেগুলেটর

এতে দাম বাড়ে বৈকি। এখন উপায় কি? আবার, মেধাগুলোকেও রাখা যাচ্ছে না সরকারে। উপায় না থাকলে শুরুই বা কেন করলাম গল্পটা?

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Careers are here and they’re gone. No matter how great we think we are, we’re nothing but the temples of Ozymandias—we’re ruins in the making.

– William Shatner

৫৯২.

আসলে এই টেলিযোগাযোগ বিভাগটা নিজেই একসময়ে ‘রেগুলেটর’ থাকায় নতুন রেগুলেটরকে মানতে চায় না মনে মনে। আবার রেগুলেটরের সঠিক সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই সরকারী কোম্পানি। সরকারী কোম্পানিটা দক্ষতার সাথে না চলার ফলে এর প্রয়োজনের তুলনায় কর্মসংস্থান করে বেশি। কোম্পানিটার দক্ষতা বাড়ানো আর খরচ কমাতে গিয়ে সরকার ওই কর্মসংস্থানকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান না করে রেখে দেয় আগের মতো। মানুষ অসন্তুষ্ট হতে পারে বলে ওদিকে এগোয় না আর।

৫৯৩.

ফলে সরকার অনেকাংশে দ্বৈত ভূমিকায় চলে যায় সরকারী কোম্পানির জন্য। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল সিগন্যাল – এফডিআই কমিউনিটির কাছে। এদিকে বুদ্ধিমান দেশগুলো এই বেসরকারিকরণ শুরু করেছে নিজের কোম্পানিটার কিছু অংশ ‘প্রাইভেটাইজেশন’ করে। শুরু করেছে ওই নব্বইয়ের দিকে। এখন পুরোপুরি ‘প্রাইভেটাইজেড’ হয়ে গেছে ওই অদক্ষ কোম্পানিগুলো। অনেক আগে শুরু করাতে সুফল পাচ্ছে দেশগুলো। এতে ম্যানেজমেন্ট চলে যায় দক্ষ কর্পোরেট গভর্নেন্সের কাছে। চুক্তি থাকে সরকারের সাথে – কিভাবে কতো বছরে মানুষের চাকরি না খেয়ে দক্ষ লোক নিয়োগ দেবে ম্যানেজমেন্ট।

৫৯৪.

আস্তে আস্তে দক্ষতা ফিরে পায় পুরনো ‘ইনকামবেন্ট’। রেগুলেটর হাফ ছেড়ে বাঁচে ওই দ্বৈত ‘রোল’ মানে ভুমিকা থেকে। রেগুলেটরের একটা স্ট্রাকচারাল পরিবর্তন আসে ভেতরে। সরকারী কোম্পানির প্রভাব কমে আসে কমিশনে। ইনভেস্টররা আস্থা ফিরে পায় রেগুলেটরের ওপর। ইনভেস্টমেন্ট আসতে থাকে ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচারে। শুরু হয় সুস্থ প্রতিযোগিতা। দাম কমে আসে আসল দামের কাছে। মানে প্রোডাকশন কষ্টের কাছাকাছি। এটাইতো চায় গ্রাহক।

৫৯৫.

প্রস্তাব দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছি না আমি। সরকারী কোম্পানিকে কিভাবে ‘প্রাইভেটাইজেড’ করতে হয় সেটার রোডম্যাপ আমার মুখস্ত। শুরু করবো ‘ডিউ ডিলিজেন্স’ দিয়ে। কোম্পানির মূল্যমান নির্ধারণ করাটা সমস্যা নয় আর। আজও মনে পড়ে মানুষ কিভাবে লাইন ধরে প্রথম টেলিটকের সংযোগ কিনেছিলো। ভিয়েতনামের ভিয়েতটেল এসেছিলো বাংলাদেশে। ইনভেস্ট করতে। কথা হয়েছিলো তাদের সাথে। কয়েক দফায়। শতভাগ মালিকানা আর অপারেশন্স হচ্ছে ওদের মিনিস্ট্রি অফ ডিফেন্সের হাতে।

৫৯৬.

ওদের মোবাইল ভেঞ্চার ‘ভিয়েতটেল মোবাইল’ আসে বাজারে সবার শেষে। সবার শেষে এসে এখন সেটা এক নম্বর অপারেটর। ফিক্সড লাইন মানে টিএন্ডটিতে তাদের ‘রীচ’ প্রত্যন্ত অঞ্চলে। অনেক আগে থেকেই সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের বিনামূল্যে ফোন আর ইন্টারনেট দিয়ে মন জয় করে আসছে এই ভিয়েতটেল। আফ্রিকায় তাদের অপারেশন্সে স্থানীয়দের মন জয় করছে একই ভাবে। সরকারী এই ‘ভিয়েতটেল’এর সাকসেস স্টোরি নিয়ে গবেষণা হয়েছে অনেক। ওদের মার্কেটিং স্ট্রাটেজি মাথা ঘুরিয়ে দেবার মতো। এরমধ্যে ইনভেস্ট করেছে আরো দশ বারোটা দেশে।

এসেছিলো বাংলাদেশেও। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কিভাবে একটা কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ববাজার দখল করছে সেটা জানতে চোখ রাখতে হবে সামনের সংখ্যাগুলোতে।

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

%d bloggers like this: