Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রেগুলেশন’

Tagline: There’s so much to do in Bangladesh!

০১.

সেদিন দেখলাম নতুন একটা ব্যবসায়িক ফোরাম। নাম হচ্ছে “বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন”। ভালো উদ্যোগ। আরো আগে আসতে পারতো ব্যাপারটা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে “ফেয়ার ট্রেড কমিশন” (এফটিসি) ঠিক এই কাজটাই করে সুস্থ প্রতিযোগিতার স্বার্থে। এফটিসিতে কমপ্লেইন মানে খবর আছে ওই কোম্পানি অথবা কোম্পানিগুলোর “সিন্ডিকেটের”। কোন কোম্পানির জিনিস কিনে প্রতারিত হয়েছেন? সেটাও আদায় করে দেবে কমপ্লেইন করলেই। তারপর তো জরিমানা আছেই। গ্রাহক স্বার্থ থেকে বাজারে অসুস্থ প্রতিযোগিতা সবকিছুর খবর রাখে এই এফটিসি। ঘুরে আসতে পারেন ওদের সাইট থেকে। এইমাত্র দেখলাম ফোনে “ডু নট ডিস্টার্ব” নামে একটা বড় ট্যাবই রেখেছে গ্রাহকদের অচেনা কল থেকে রক্ষা করতে।

০২.

অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন (এ ট্রিপল সি) তো আরেক জিনিস। যেকোন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিককে জিজ্ঞেস করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন সাথে সাথে। গ্রাহক পর্যায়ে ফোনের প্রতি মিনিট বিল আসলে কতো হওয়া উচিৎ সেটার “কস্ট মডেলিং” করে থাকে এই কমিশন। নিয়মিত ভাবে। টেলিকম রেগুলেটর না হয়েও। তাদের কথা একটাই। কোন একটা কোম্পানির ভেতরের অদক্ষতা অথবা কিছু কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে গ্রাহক কেন গুনবে বেশি পয়সা? তাহলে ট্যাক্স দেয়াই বা কেন? একটা দক্ষ কোম্পানি হলে ফোনের ‘আন্তসংযোগ’ বিল কতো হতো সেটাই বের করে ওই এক্সারসাইজ।

০৩.

অস্ট্রেলিয়া বিশাল দেশ। সেখানের বেশিরভাগ জায়গা খালি। মানে, মানুষ থাকে দুরে দুরে। এমন দেশে মোবাইল ব্যবসা ভয়ংকর কষ্টসাধ্য। যে হাইওয়ে দিয়ে দিনে একটা দুটো মানুষ চলে – সেখানে মোবাইল কাভারেজ দেয়া ব্যবসাবান্ধব নয়। দিতে হয় তবুও। সেখানে ‘ফ্লাগফল’ নিয়ে কম ঝামেলা হয়নি প্রথমে। মোবাইলে ‘ফ্লাগফল’ হচ্ছে প্রথম মিনিটের চার্জ বাকি মিনিট থেকে বেশি। বাংলাদেশেও ছিলো জিনিসটা। সমাধান করা হয়েছে মিনিট ‘পালস’ সহ। মানে, কথা বলেছেন এক মিনিট ১ সেকেন্ড, দাম নিয়ে নিলো ২ মিনিটের। এছাড়া, বাংলাদেশে কোথায় মানুষ নেই? বরং একেকটা বেসস্টেশন ইনভেস্টমেন্টে ক্যাপাসিটির সমস্যা। সংযোগ দিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারে না যন্ত্র। এতোই মানুষ আমাদের এখানে! ওটা আরেকদিন!

০৪.

ওঁদের ধারণাটা নিয়ে ২০১১তে প্রায় দেড় বছর ধরে করা হয়েছিলো এই “কস্ট মডেলিং এক্সারসাইজ”। বাড়ি টাড়ি খেয়ে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম কয়েকবার। তবে, সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন সংস্থার প্রয়াত চেয়ারম্যান। সবার সহায়তা নিয়েই ওই এক্সারসাইজে ফোনের বিল কমেছিল প্রায় ৩০%। আমার হিসেবে ওই প্রজেকশনে প্রতি মিনিটের দাম কমতে পারে আরো ২০%। নিজস্ব অপারেটর থেকে অন্য অপারেটরে ১৮ পয়সা + আইসিএক্স ৪ পয়সা = “২২+নিজের লাভ” পয়সা থেকেই শুরু হতে পারে একটা কল। নিজের নেটওয়ার্কে কল শুরু হতে পারে ০ পয়সা দিয়ে। বান্ডল অফারে। (পরে দেখুন হিসেবটা) পাশের দেশে ভয়েস কল হয়ে যাচ্ছে বিনামূল্য আইটেমে। মানেন না মানেন, এটাই ভবিষ্যত মডেল। ‘রিলায়েন্স জিও’ নিয়ে গুগল করলেই বুঝতে পারবেন কি ঘটনা হচ্ছে ওখানে।

০৫.

বাজারে ঠিক প্রতিযোগিতা আছে কিনা সেটার জন্য টেলিকম রেগুলেটরকে কাজ করতে হয় একটা ইনডেক্সের ওপর। এটাকে বলে “হারফিন্ডেল ইনডেক্স” (এইচএইচআই)। জিনিসটার একটা নাম আছে বিশ্বব্যাপী। সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি)। সাংবাদিক বন্ধুরা বলতে পারবেন ভালো। এই নীতিমালাটাও করা হয়েছে বাংলাদেশে। আমার সাত বছর রেগুলেটরে থাকার সময়ে। তবে প্রয়োগে প্রয়োজন প্রজ্ঞা। তা না হলে বাজারে বড়রা বড়ই হবেন আরো ছোটরা ছোটতর। গুগল করে দেখুন। এটা আছে অনেক অনেক দেশে। নাইজেরিয়াতে গিয়েছিলাম অনেক আগে – দেখলাম ওরাও জানে সবই।

০৬.

এইচএইচআই ছাড়াও ‘ওই স্পেসিফিক বাজারের স্ট্রাকচার’ আর ‘ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ ইনডেক্স দেখলে পরিস্কার হবে অনেক কিছু। নতুনকে যদি অন্য কোন অপারেটরের ওপর বেশি নির্ভর করতে হয়, সেটা সুস্থতার লক্ষণ নয়। ব্যারিয়ার টু এন্ট্রি’ মানে ব্যবসার শুরুতে কানেকশন চেয়ে না পাওয়া। তাহলে তো মোবাইল ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (এমভিএনও) অপারেটর চলবে না এদেশে। সব দেশেই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস প্রোভাইডারদের নির্ভর করতে হয় মোবাইল অপারেটরদের ইন্টার-কানেকশনের ওপর। সেটার জন্য ওই ক্রিটিকাল ইন্টার-কানেকশন হতে হবে ‘কস্ট বেসড’। মুনাফা নয় ওই জায়গায়। দাম ঠিক করে দেবে রেগুলেটর। যেভাবে ঠিক করে দেয়া হয় সাবমেরিন কেবলের ইন্টারনেটের দাম। কারণ, ওই সাবমেরিন কেবলের বিকল্প নেই আর। এগুলো ‘বটলনেক’ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। যে সেবার বিকল্প নেই, সেগুলোর রেগুলেশনে এগিয়ে আসতে হবে ওই মার্কেটের রেগুলেটর অথবা কম্পিটিশন এজেন্সীকে। হিসেব সোজা।

০৭.

ঠিক সেভাবেই নির্দিষ্ট করে দেয়া হয় ভয়েস কলের ইন্টার-কানেকশনের দাম। যেটা ঠিক করা হয়েছিল ১৮ পয়সায়। শেষটা করা হয়েছিল ২০১৩তে। এটার অর্থ হচ্ছে মোবাইল, ল্যান্ডলাইন অপারেটররা একে অপরকে কল পাঠাতে হলে অন্যজনের নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে গতি নেই কারো। সেজন্য এটাও একটা ‘ক্রিটিকাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার’। সেটার দাম বেঁধে দেবে রেগুলেটর। হিসেব করে। ০১৭ থেকে ০১৮য়ে কল পাঠাতে গ্রামীন রবিকে দেবে ১৮ পয়সা। ৪ পয়সা দেবে মাঝের ইন্টারকানেকশন এক্সচেঞ্জ (আইসিএক্স)কে। ২২ পয়সা দিয়ে বাকিটা নিজের লাভ।

০৮.

কোন একটা স্পেসিফিক বাজারে (মোবাইল বাজার, ইন্টারনেট বাজার, হোলসেল, রিটেল বাজার) যার মার্কেট শেয়ার অনেক অনেক বেশি, সেটা ক্ষতি করে প্রতিযোগিতাকে। অন্যরা বাজারে পরে আসলে তারা পায়না পানি। উদাহরণ দেই বরং। আমাকে একটা রেগুলেটরি প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছিল থাইল্যান্ডে। প্রশিক্ষণ শেষে হাতে কলমে দেখানোর জন্য নিয়ে যাওয়া হলো ওদের টেলিকম রেগুলেটরি কমিশনে। অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করতে তাদের নিয়ম পরিষ্কার। আসলেই তাই।

০৯.

ওদের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেটরের (হোক সে মোবাইল অথবা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার), মার্কেট শেয়ার ২৫% ওপরে গেলেই তাকে বলা হবে “সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার” (এসএমপি)। তখন তার ওপর বর্তাবে আলাদা নিয়ম। ‘অ্যাকাউন্টিং সেপারেশন’ করে দেবে সার্ভিসগুলোর। মানে, একটার লাভ দিয়ে অন্যটাকে ক্রস-সাবসিডি দিয়ে চালাতে পারবে না ওই অপারেটর। নতুন কোন অফার নামাতে জানাতে হবে রেগুলেটরকে। নেটওয়ার্ককে খুলে দিতে হবে ‘ওপেন অ্যাক্সেস’ মডেলে। যাতে সবাই একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে ‘রাইড’ নিতে পারে ওই নেটওয়ার্কে। বান্ডলিং, মানে এটা নিলে ওইটা ফ্রি – দিতে পারবে না সে। তার ‘ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং’ মানে ব্যবহার করতে দিতে হবে অন্য প্রতিযোগী অপারেটরদের। একটা নির্দিষ্ট দামের ভিত্তিতে। ওটা জানবে রেগুলেটর। সেটা শিখেছিলাম আরেকটা গুরূ দেশ থেকে। সিঙ্গাপুর। ওদের টেলিকম রেগুলেটর থেকে। পাগল করা কোর্স ছিলো ওটা। এমনই রেগুলেটর যে নিজেদের নাম পাল্টে রেখেছে “ইনফোকম ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি” নামে।

১০.

এসএমপি অপারেটরদের ‘প্রিডেটরি প্রাইসিং’ একেবারে না না। অর্থাৎ মনে হলো যে দাম অফার করলে বাজার থেকে নাই হয়ে যাবে প্রতিযোগীরা, সেটা করলে রেগুলেটরের খড়গ নেমে আসবে তার ওপর। ২০১২ সাল থেকে থাইল্যান্ডের ‘এআইএস’ আর ‘ডিট্যাক’ রেগুলেটর ঘোষিত ‘এসএমপি’ অপারেটর। অন্য অনেক অবলিগেশনের মধ্যে তাদেরকে ফেলা হয়েছে ‘মোবাইল ভয়েস প্রাইস রেগুলেশনে’। ফলে তাদের প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বোচ্চ দাম ঠিক করে দেয়া আছে ০.৯৯ বাথে। আবার যারা যারা থ্রিজি লাইসেন্স পেয়েছে (মানে যারা ২.১ গিগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পেয়েছে) তাদেরকে বাজারের গড় দাম থেকে ১৫% কমিয়ে রাখতে বলেছে রেগুলেটর। ওখানে আরেকটা জিনিস কাজ করে ভালো। ইনসেনটিভ রেগুলেশন। অপারেটর মুনাফা বাড়াতে পারে দক্ষতা দেখিয়ে। দক্ষতা মানে দেখাতে হবে নিজেদের ‘এফিসিয়েন্সি’। মানে কম ইনভেস্টমেন্টে বেশি সুবিধা। ফলে, গ্রাহককে গুনতে হবে কম পয়সা।

১১.

বাজারে প্রতিযোগিতার সুস্থ পরিবেশ না থাকলে অনেকগুলো জিনিস হয়। নষ্ট হয় অপারেটরদের ইনভেস্টমেন্ট। মারা যায় অনেকে। মার্জার অ্যাকুইজেশন হয় তখন। এতে অনেকে বলবেন, ‘সারভাইভাল ফর দ্যা ফিটেস্ট’। ব্যাপারটা তা না। এটাতো আর ‘ওয়াইল্ড ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ নয়। নীতিমালা আছে এখানে। তবে প্রতিযোগিতা সুস্থ না হলে বাজারে বার বার টাকা হারিয়ে মুখ ফিরিয়ে নেবে ইনভেস্টররা। চলে যাবে বাইরে। যেমনটি দেখেছি ওই চেয়ারে বসে। টাকা চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। যে যাই বলুক, উদ্যোক্তারাই কিন্তু চালায় দেশের অর্থনীতি। হোক সেটা দেশীয় অথবা বৈদেশিক বিনিয়োগ। দশটা পরিবারের চল্লিশটা মুখের খাবারের যোগান দেয় এই উদ্যোক্তা।

১২.

উদাহরন দেই বরং। আমাদের উপমহাদেশের একটা দেশ ‘ক’। কাকতালীয়ভাবে মিল হলে সেটা হবে দৈবচয়নের ভিত্তিতে। পুরো মোবাইল বাজার নিয়ে আছে ওখানের ছয়টা অপারেটর। পুরো রেভিনিউ মার্কেটের ৫০% এর কিছুটা বেশি মার্কেট শেয়ার দখল করে আছে প্রথম অপারেটর। মানে হচ্ছে – পুরো মোবাইল মার্কেট থেকে ১০০ টাকা আসলে সেটার ৫২ টাকা পায় ওই অপারেটর। বাকি ৪৮ টাকা মিলে মিশে পায় পাঁচ অপারেটর। বুঝতেই পারছেন প্রতিযোগিতার অবস্থা। ওই সময় একটা হিসেব করলো রেগুলেটর। বিদেশী কনসালটেন্ট নিয়ে। দেখা গেলো এই মোবাইল বাজারে ৩৫-৪০% হতে পারে নিচের ‘থ্রেসহোল্ড’ – মার্কেট শেয়ারে। মানে, ৩৫ থেকে ৪০% মার্কেট শেয়ার (যেটা রেগুলেটর মনে করে ভালো) হলেই সে হবে ‘এসএমপি’। এরকম ভাবে হোলসেল বাজারে ট্রান্সমিশন লাইসেন্সেও আসতে পারে এধরনের শতাংশের বেস লাইন।

১৩.

আমাদের প্রতিযোগিতা কমিশন নেই – সেটা নয় কিন্তু। আছে। আবার দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্ট দুটোকে পরস্পর সাংঘর্ষিক করে দেখার সুযোগ কম। সেটার জন্য আমাদের দেখতে হবে বিশ্বখ্যাত “ডুইং বিজনেস” ইনডেক্সে কোথায় আমরা? কতোটা ব্যবসাবান্ধব আমরা? একটা ট্রেড লাইসেন্স অথবা একটা টেলিকম ব্যবসা খুলতে সময় লাগে কতো দিন? সরকার থেকে একটা ‘পারমিট’ বের করতে কতোটা অসহায় হতে হয় একেকজন উদ্যোক্তাকে? ‘গোল পোস্ট’ পাল্টায় কতো তাড়াতাড়ি? মানে, একটা নিয়ম মেনে ইনভেস্টমেন্ট করার পর কখন পাল্টায় আগের নিয়ম?

১৪.

খালি চোখে দেখা যায় না প্রতিযোগিতা’র অসুস্থতা। সেটা দেখতে লাগবে অনেকগুলো স্ট্যাটিসটিকাল ইন্ডিকেটর। আর প্রতিযোগিতাকে ব্যবসাবান্ধব করতে লাগবে ‘প্রজ্ঞা’। একটু ওলটপালট হলেই ক্ষতি হবে ব্যবসায়িক পরিবেশের। তিন বছর লেগেছে আমারই বুঝতে। আমার এই ব্যাপারটা কিছুটা ধীর, পুরনো প্রসেসর বলে হয়তোবা। যেমন, ‘প্রাইস’ অথবা ‘মার্জিন স্কুইজ’ দেখা যাবে না খালি চোখে। আপনি আরেকজনের কাঁচামাল নিয়ে যদি রিটেল মার্কেটে ব্যবসা করেন যেখানে ওই কাঁচামাল তৈরীর কোম্পানিও ব্যবসা করে পাশাপাশি। পারবেন তার সাথে? ধরা যাক, মোবাইল অপারেটর থেকে ‘ক’ টাকায় “ইন্টারনেট” কিনে ‘ভেহিকল ট্র্যাকিং সার্ভিস’ দেন আপনি। ওই বাজারে মোবাইল অপারেটর ওই একই ব্যবসা করলে টিকবে কি সেই উদ্যোক্তা? যতোই লাভ সে দিক সরকারকে। এরকম জিনিস আছে হাজারো।

১৫.

এই গ্লোবালাইজেশনের যুগে দেশীয় উদ্যোক্তা আর বৈদেশিক ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে ফারাক নেই বললেই চলে। বর্তমানে অনেক সফল দেশীয় উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চারে বিনিয়োগ আসছে বিদেশ থেকে। আমার কথা একটাই। তৈরী হোক সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ। দেশে। বাড়ুক সবাই। একসাথে। হাজার হোক, আমাদের দেশ এটা। হোক এটা আরেকটা ‘ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি’। বসে আছি ওই দিনের জন্য, যখন আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে থেকে পড়ে ফিরে আসবে বাংলাদেশে।

কেন?

১. ল্যান্ড অফ অপুর্চুনিটি ২. দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ! আসলেই তাই! এখানে করার আছে এতো কিছু, যে মাঝে মধ্যে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বসে থাকি ওই উত্তেজনায়!

ধন্যবাদ সবাইকে।

ট্যাগলাইন: দেয়ার’স সো মাচ টু ডু ইন বাংলাদেশ!


ডুইং বিজনেস http://www.doingbusiness.org
অস্ট্রেলিয়ান কম্পেটিশন অ্যান্ড কনসিউমার কমিশন http://accc.gov.au
ফেয়ার ট্রেড কমিশন https://www.ftc.gov
বাংলাদেশের রিপোর্ট: সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার https://goo.gl/IVbJSG

Advertisements

Read Full Post »

As we will show, poor countries are poor because those who have power make choices that create poverty. They get it wrong not by mistake or ignorance but on purpose.

― Daron Acemoğlu, Why Nations Fail: The Origins of Power, Prosperity, and Poverty

০১.

বয়স পয়তাল্লিশ হলো গত মাসে। লুকিং ব্যাক, সময় খারাপ কাটে নি কিন্তু। তবে, এর মধ্যে পাল্টেছে দেখার আর বোঝার ‘পার্সপেক্টিভ’। বলতে গেলে অনেক অনেক বেশিই। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছেতেই হয়তোবা। দেখা হয়েছে অনেক বেশি। যাই দেখি এখন, ‘ডট কানেক্ট’ হয়ে যায় মুহুর্তে। আগের জ্ঞানের ছিটেফোঁটা থেকে চলে আসে ‘বিগ পিকচার’। ‘বিগিন এন্ড ইন মাইন্ড’ ব্যাপারটাও কাজ করছে সমান তালে। আর সেটার ‘এনালাইটিক্যাল ইঞ্জিন’ চলে ব্যাকগ্রাউন্ডে। চব্বিশ বছর ছুতে চললো চাকরির বয়স। কম তো ভুল করিনি এ পর্যন্ত! একেক ভুল থেকে তিনটা করে লেসন! আর সেটা নিয়েই আরেকটা সিরিজ। “পয়তাল্লিশ – ফিরে দেখা”। কিছুটা ‘স্ট্যান্ডিং অন দ্য শোল্ডার অফ জায়ান্টস’ মোডে। আগের গুনীজনদের প্রজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে।

০২.

বই পড়ছিলাম একটা। গতকাল। অর্থনীতিবিদ টাইলার কোয়েনের লেখা। ‘অ্যাভারেজ ইজ ওভার’। ফারাক বাড়ছে ধনী আর দরিদ্রের। কমছে আমাদের মতো ‘ষ্টিডি’ মধ্য আয়ের রিজিওন। আর বেশি আয়ের মানুষগুলো কিন্তু বসে নেই। আয় করেই যাচ্ছে তারা। চমকটা কোথায়? পিরামিডের ওপরে থাকা মানুষগুলোর সাথে বাকিদের পার্থক্য একটা জায়গায়। পার্সপেক্টিভে। দুদলের মানুষের কাজের মধ্যে বিরাট ফারাক। পিরামিডের নিচের মানুষগুলো বসে আছেন পুরোনো প্রজ্ঞা নিয়েই। ডট যুক্ত করছেন কম। বেশি আয় করা মানুষ আর কোম্পানিগুলো শিখছে প্রতিনিয়ত। সঠিক সিধান্ত নেবার মেট্রিক্স, ডাটা এনালাইসিস, মেশিন ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার করে সময় কমিয়ে নিয়ে আসছেন প্রথাগত কাজের লিডটাইম। আমাদের মাথার পাশাপাশি অনেক ছোট ছোট কাজ ছেড়ে দেয়া হয়েছে ‘স্ট্রাকচারড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’। আর না হলে সেটাকেও আউটসোর্স করে দেয়া হয়েছে আমাদের মতো দেশগুলোতে। সেই সময় বাঁচিয়ে সেটাকে ইনভেস্ট করছে পরের লার্নিংয়ে। ‘লো-টেক’ রুটিনমাফিক কাজে সময় নষ্ট করার বিলাসিতা সাজে না পিরামিডের ওপরের মানুষগুলোর।

০৩.

চব্বিশ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা বলে কয়েকটা জিনিস। আমাদের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানগুলো আটকে আছে প্রথাগত রুটিনমাফিক কাজ নিয়ে। ৮০ শতাংশ সময় নষ্ট হয় রুটিন আর ‘রিপিটেটিভ’ কাজগুলোর পেছনে। যে কাজটা আগেও হয়েছে আর সেটার কি ধরনের সিধান্ত হয়েছে সেটা জানা সত্ত্বেও সেটাকে প্রসেস করছি প্রতিদিন। নতুন করে। রুটিনমাফিক কাজগুলোর সিদ্ধান্তের পেছনে আগের মতো সময় দিচ্ছে আমাদের ম্যানেজাররা। ম্যানেজারদের সময় নষ্টের টাকা গুনছে প্রতিষ্ঠানগুলো। রুটিন কাজগুলো সাধারণত: চলে কিছু ‘প্রিডিফাইনড’ রুলসেটের ওপর। আর সেগুলো আসে প্রতিষ্ঠানের ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রোসিডিউর’ (এসওপি) থেকে। আর সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমের ‘ডিসিশন ট্রি’তে ফেলে বিভিন্ন ইনপুটের দরকারী সিদ্ধান্তের সিকোয়েন্স আর তার কাজের আউটকাম নিয়ে আগে এনালাইসিস না করাতে এক কাজে আটকে থাকছি বছরের পর বছর।

০৪.

প্রতিদিনের ডে-টু-ডে অপারেশন্সে ব্যবহার করছি না আগের শেখা ‘প্রজ্ঞা’। কার্বন কপি সিস্টেমে ‘আগে কিভাবে হয়েছে?’ জিজ্ঞাসা করলেও সেই জ্ঞানটাকে ‘প্রাতিষ্ঠানিক মেমরি’তে না রাখার জন্য নিতে হচ্ছে নতুন নতুন সিদ্ধান্ত। ফলে পুরো প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট ব্যস্ত থাকছে একই কাজে। মজার কথা হচ্ছে একই কাজে, এক ধরনের উপাত্তের ওপর সিধান্ত হচ্ছে একেক রকম। রুটিন কাজেই। আমার অভিজ্ঞতা তাই বলে। সিদ্ধান্ত নেবার সময়ক্ষেপনের খরচ না হয় বাদই দিলাম, কিন্তু কি হবে ভুল সিদ্ধান্তের? কে দায়ভার নেবে ওই বাড়তি খরচের? ‘রুল ভিত্তিক সিধান্ত’ মানে ‘এই’ ‘এই’ জিনিস হলে এই কাজ করতে হবে জেনেও সেটার পেছনে সময় নস্ট করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থা হলে নতুন নতুন উদ্ভাবনাতে সময় বের করবে কে? উদ্ভাবনা ছাড়া উপায় নেই বাঁচার।

মনে এলো আরেকটা বইয়ের কথা। ‘হোয়াই নেশনস ফেইল?’

উপায় কি এখন?

০৫.

উপায় বের করার আগে একটু ভেতরে ঢুকি কি বলেন? বিমান চালাতে পাইলটকে কত ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয় সেটা নিয়েই আলাপ করি বরং। বিমান টেকঅফ থেকে শুরু করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত হাজারো ইনপুট প্যারামিটার থেকে ‘মানুষ পাইলট’রা যদি নিজে থেকে সিদ্ধান্ত নিতে যান, তাহলে বিমানের ওড়া হবে না আর। তাই বলে কি উড়ছে না বিমান? মানুষের জীবনের হাজারো ঝুঁকি ছেড়ে দেয়া হয়েছে এই ‘অটোমেটেড ডিসিশন সাপোর্ট সিস্টেমে’র ওপর। সম্ভাব্য কি কি ইনপুটে কি কি সিদ্ধান্ত হতে পারে, আর তার মধ্যে তার ফাইনাল ‘অবজেক্টিভ’ বিচার করে ওই সময়ের জন্য কোনটা ‘অপটিমাল’ হবে সেটার প্রসেস ফ্লো কিন্তু তৈরী করে দিয়েছে এই মানুষই। মানুষ তৈরী করে দিয়েছে পুরো রাস্তা, তবে সেটাকে চালানোর দ্বায়িত্ব দিয়েছে একটা সিস্টেমকে। যন্ত্রকে তো আর বলা হয়নি আমাদেরকে চালাতে, কি বলেন? আর যন্ত্রকে যদি আমার ‘লো-টেক’ কাজ আউটসোর্স না করি তাহলে ওটাকে তৈরী করলাম কেন?

০৬.

এদিকে দুবাই বা লন্ডন এয়ারপোর্টের ম্যানেজমেন্টকে ‘ম্যানুয়ালি’ প্রতিটা বিমান ওঠা নামার সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলে কি যে হবে সেটা ‘ভিজ্যুয়ালাইজ’ আর নাই বা করি। অনেক দেশে মেট্রো আর সাবওয়ে সিস্টেমে দেয়া হচ্ছে না ড্রাইভার। কারণ, মানুষই ভুল করবে বরং। সামনে যতই চেষ্টা করুন, ‘ড্রাইভারলেস’ গাড়ি তো ঠেকাতে পারবো না আমি আপনি। আর সেটা কথা নয়, এই লো-টেক ‘শারীরিক’ জিনিস আর কতো দিন করবে মানুষ? অনেক জিনিসেরই বাজারে কি দাম কতো হবে সেটা কিন্তু তৈরী করে দেয় না মানুষ। বর্তমান সময়ে। বিমানের টিকেটের দাম কে ঠিক করে সেটাই দেখুন না চেখে? ব্যাংক তো বসে থাকে না আমার জন্য সারা রাত – তার অফিস খুলে? টাকা দেবার দ্বায়িত্বও ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু এটিএমএর ওপর। আমাকে যারা চেনেন, তারা বলবেন, ‘আপনি তো কম্পিউটারের লোক, এ কথা তো বলবেনই আপনি। সব সিদ্ধান্ত তো আর ছাড়া যাবে না মেশিনের ওপর।’

০৭.

মানছি আপনার কথা। তবে, আমাদের প্রতিষ্টানগুলো প্রতিদিন হাজারো ঘন্টা নষ্ট করছে এমন কিছু ‘অপারেশনাল’ সিদ্ধান্ত নিতে যেটা সহজেই ছেড়ে দেয়া যায় কিছু ‘রুল বেসড’ সিস্টেমের ওপর। ভুল বুঝবেন না, কম্পিউটারের কথা বলছি না এখানে। বরং, কম্পিউটার ধরতেও হবে না ওটা তৈরী করতে। যেগুলো আমাদের ম্যানেজারদের মাথায় আছে অথবা ‘আগে কিভাবে করা হয়েছে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে’ সেটাকে কাগজে সিকোয়েন্স আকারে বিভিন্ন ‘সিদ্ধান্তের শাখা’ ধরে লিখে পাঠিয়ে দিন নিচের দিকে। তারা ঠিকই পারবে ওই সব সিদ্ধান্তগুলো দিয়ে কাজ করতে যেগুলো এতোদিন নিচ্ছিলেন বড় বড় ম্যানেজাররা। সত্যি বলছি! ‘ডিসিশন ট্রি’র অ্যাকশন পয়েন্টের সত্যিকারের গ্রাফিকাল রিপ্রেজেন্টেশন একবার করেই দেখুন না কাগজে, অবাক হয়ে যাবেন নিজেই। নিজের হাত কামড়াবেন – এতোদিন কতো সময় নষ্ট করেছেন ফালতু কাজে।

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

The first rule of any technology used in a business is that automation applied to an efficient operation will magnify the efficiency. The second is that automation applied to an inefficient operation will magnify the inefficiency.

– Bill Gates

২১৮.

কম্পিউটার রকিব না?

শুনেছি কথাটা অনেক অনেকবার! মেনেও নিয়েছি। সত্যি কথা বলতে – সিনিয়রদের কাছ থেকে শুনলে খারাপ লাগতো না কিন্তু। বরং, স্নেহের একটা প্যাকেজিং থাকতো ওর মধ্যে। কম্পিউটারের হাজারো সমস্যা? ডাকো ওকে। সলভ করার জন্যই তো আমি। বন্ধুদের ডাকে খোঁচা না থাকলে আর বন্ধুই বা কেন? আবার, আমারো দোষ না থাকলে এই নাম কেন? অফ-লাইন ইন্টারনেটের যুগ থেকেই ব্যবহার করছি এই কম্পিউটার। এফটিপি মেইল দিয়ে ব্রাউজ করতাম নেট – ওই অফলাইনেই! পুশ পুল এসএমএস তো দেখছেন এখন! ওই পুশ পুল মেইল দিয়ে ব্রাউজ করতাম নেট! জেদ করে সব কাজেই ব্যবহার করতে চাইতাম কম্পিউটার।

২১৯.

নব্বইয়ের দিকে কম্পিউটার মানে টাইপের যন্ত্র, সে ধারনা থেকে বের করার জন্যই আমার ওই প্রানান্তকর চেষ্টা। কম বকা খাইনি ওর জন্য। ধরা যাক জরুরি একটা ফ্যাক্স পাঠাবার কথা আমার, মোডেমের ড্রাইভারের সমস্যার কারণে সেটা পাঠানো যায়নি গত কয়েক ঘন্টায়। ফ্যাক্স মেশিন কিন্তু পড়ে আছে আমার রুমে। জিদ চেপেছে – পাঠাবো এই নচ্ছার কম্পিউটার দিয়েই। যাবি না মানে – তোর বাবা যাবে, এই মটো নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ছুটিটাই বাতিল হয়ে গেলো! অবহেলা করেছি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্সটা। চাকরি চলে যাবার কথা! মাঝখান দিয়ে সাত দিনের ছুটিটা নট্ হয়ে গেলো।

২২০.

কিসের মন খারাপ, কিসের কি? রাত তিনটে বাজিয়ে ওই ফ্যাক্সের আরেকটা কপি পাঠিয়ে ঘুমুতে গেলাম। লিনাক্স কার্নালটা ওটা সাপোর্ট করছিলো না। কম্পাইল আর রি-কম্পাইল করেই মিটলো ঝামেলাটা। সাড়ে পাঁচটায় আবার পিটি। আহারে দিনগুলি! কোনো কিছুই অসম্ভব মনে হয়নি তখন! শরীরের চেয়ে বড় হৃত্পিণ্ড নিয়ে আমার সিনিয়ররা আগলে ছিলেন আমাকে। কম্পিউটার রকিব, ও একাজ না করলে করবেটা কে আর? সামওয়ান হ্যাজ টু ডু দ্য ইনোভেশন, লেট হিম ইনোভেট!

২২১.

আমার রুটি রোজগার রেডিও যোগাযোগের সূত্রে বাঁধা থাকলেও কম্পিউটার কমিউনিকেশনে পড়ে ছিলো বুকভরা ভালবাসা। উপায় কি? ওদের বিয়ে না দিয়ে উপায় আছে আমার? ইংরেজিতে ম্যারিং আপ বলে কথাটা ওটার জন্য একদম সত্যি! এইচএফ (হাই ফ্রিকোয়েন্সি) রেডিওর সাথে কম্পিউটারের ডুপ্লেক্স সাউন্ডকার্ড আর লিনাক্সের বেসব্যান্ড এন্টেনা টিউনারের সঙ্গে দরকারী সফটওয়্যার! বেশি নয়, বছরখানিক লেগেছিলো মাত্র। তিনশো বউড পার সেকেন্ডের রেডিও মোডেম বানাতেই সময় লেগেছিলো এই যা।

২২২.

সবকিছুতে কম্পিউটার কেন? ভালো প্রশ্ন। ছোটবেলা থেকে অটোমেশনের ওপর একটা দুর্বলতা জন্মে গিয়েছিলো। ওর কারণও ছিলো। ওয়েস্টার্ন সিনেমার নায়কের মতো বন্দুকের নল কামড়ে না বড় হলেও ক্রিস্টাল ডায়োড আর ট্রানজিস্টর কতো চিবিয়েছি তার ইয়ত্তা নেই। তবে সেটা একটু বড় হয়ে – রাগের মাথায়, সার্কিট ঠিকমতো কাজ না করার কারণে। অফিসের একঘেয়ে রিপিটেটিভ কাজগুলো ফেলে দিতাম প্রসেসে। করতো মানুষই। তবে, একটা প্রসেসের মধ্যে। প্রসেসের মধ্যে হিউমান ইন্টার-অ্যাকশন লুপহোল তৈরী করলে – প্রসেসটার কয়েকটা চেক এন্ড ব্যালান্সে ধরা পরত জিনিষটা।

২২৩.

আমার ধারনায় – বড় কাজকে ছোট ছোট মাইলস্টোনে ভাগ করে কয়েকজনের মধ্যে দিলে – অটোমেশনের মতোই কাজ করে। সবার আউটপুট কানেক্টেড আপনার সাথে। যাবে কোথায়? সেমি-অটোমেটিক। শেলস্ক্রিপ্টের মতো। খানিকটা ‘ফর লুপ’এর ধারণা থেকেই। সামরিক বাহিনীর সব কাজের জন্য একেকটা এসওপি – ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর’ আমার কাজের মূল প্রেরণা। কাজ না হবার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না – এসওপি আছে না? ফলে ডিসিশন মেকিং প্রসেসটাও – ‘ডিএমপি’ কাজ করে দ্রুত। ম্যানাজেমেন্টের জন্য বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ ম্যাগাজিনটাও অনেককিছু নিয়েছে সামরিক বাহিনী থেকে। চেখে দেখুন নিজেই স্পেশাল কালেকশনের কিছু অংশ।

২২৪.

ভাবতাম অটোমেশনে জোর দিলে কাজ বের হবে তাড়াতাড়ি। সেটা কাজও করেছে অনেক জায়গায়। প্রচুর অটোমেশনের কাজও করানো হয়েছে আমাকে দিয়ে। প্রথম দিকে কাজও হয়েছে ভালো। আমি অন্য জায়গায় চলে গেলে সেটা পড়েছে মুখ থুবড়ে। ভালো ডকুমেন্টেশন থাকা সত্ত্বেও না কাজ করার পেছনে ওই প্রজেক্টের পরবর্তী ওনারশীপ দায়ী থাকে কিছুটা। এখন কাজ করছি নলেজ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। সমস্যা একটাই। মানুষ চলে গেলে মুখ থুবড়ে পড়ে প্রজেক্ট। সেকারণেই কাজ করছি নলেজ ‘কন্টিনিউটি’ ম্যানেজমেন্ট নিয়ে।

২২৫.

এই ‘কন্টিনিউটি’ অংশটাই সমস্যা কাটাবে আসা করি। নতুন আইডিয়া বটে, আমাদের জন্য। প্রতিদিন কাজের একটা স্ন্যাপশট থাকবে সবার কাছে। সবার কাজের খতিয়ান সবাই দেখতে পারবে বছর ধরে। সপ্তাহের এক দিন সবাই দেখবে বিগ পিকচারটা। কোথায় এগুলো তার কাজ আর বাকি সবার। মানে বড় কাজটার কোন মডিউলে কাজ করছিলো সে। আর না হলে হাতির কান দেখার মতো অবস্থা হবে ওদের। প্রতিযোগিতা তৈরী হবে আউটপুটে। খাওয়া দাওয়াও হতে পারে সেদিন! ওয়েল ডিফাইন্ড প্রসেস তৈরী করতে সময় নিলেও করতে হবে সবকিছু ফেলে। প্রসেসটা ক্লায়েন্টও জানবে। সরকারের ক্ষেত্রে জনগণ। একবার দাড়িয়ে গেলে বস প্রতিদিন না থাকলেও অসুবিধা নেই। কাজ থাকবে না মানুষ ডিপেন্ডেন্ট হয়ে। ওটা হবে প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট। অমুক নেই তো হবে না কাজ – সেদিন যাচ্ছে চলে। কাজের তদারকি করবে ক্লায়েন্ট, পরোক্ষভাবে। সরকারের ক্ষেত্রে ওই জনগণই।

২২৬.

তবে সব জায়গায় ‘চলো করি অটোমেশন’ ভাবার আগে বিল গেটসের কথাটা মনে রাখবেন। হাটুন কিছুটা পেছনে, মানে সমস্যাটা থেকে বেরিয়ে এসে। প্রসেসটা দক্ষ বা কার্যকর না হলে ব্যাকফায়ার করতে পারে। ভালো দিক হচ্ছে – অটোমেশন অকার্যকর প্রসেসকে আরো আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয়। এফিসিয়েন্ট প্রসেসটাই সবকিছুর মূলে। আবার, দরকার মতো – উই হ্যাভ টু স্ট্রিমলাইন দ্য ওয়ার্কফ্লো! বছর লাগলেও কষ্ট করে তৈরী করুন একটা ‘কার্যকর’ প্রসেস ওয়ার্কফ্লো। বিয়ের রাতে বেড়াল মারার মতো। শান্তি চলে আসবে কাজে। আমি মেরেছিলাম কিনা? বলেন কি ভাই? ভয় ডর কি নেই আমার?

২২৭.

সামনের দিনগুলোতে কিভাবে কোম্পানিগুলোর বাজেট কাট হবে সেটার জন্য বসে থাকতে হবে না আরেকটা বছর। টাকা কম, ভালো কাজ আর স্বচ্ছতা; অটোমেশন ছাড়া গতি নেই সামনের দিনগুলোতে। এফিসিয়েন্ট আর কার্যকর অটোমেশন করার আইডিয়া নিয়ে আসছি সামনেই। ওয়ার্কফ্লোসহ! মাইন্ডম্যাপ? ওটা বোনাস! এই প্রাকটিসটা সবার মধ্যে ঢুকে গেলে আসবে ভালো কাজ আর স্বচ্ছতা। কত মানুষ আমাদের, খাওয়াতে হবে না সবাইকে? আনবো ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ধারণা। সবার জন্য স্বাস্থ্য আর দুরের স্বপ্ন নয়। টাকা নেই – ভুল কথা। হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রির ‘কার্যকর’ প্রসেস ওয়ার্কফ্লো তৈরীই আছে পাশের দেশ থাইল্যান্ডে। দেশের জন্য ‘কাস্টমাইজেশন’ আর দরকারী ‘ম্যাপিং’ না করতে পারলে বিশ বছর কি শিখলাম তাহলে? ফেরৎ দিতে হবে না?

দেশের জন্যই তো! থাকছেন তো সাথে?

Read Full Post »

Great anger and violence can never build a nation. We are striving to proceed in a manner and towards a result, which will ensure that all our people, both black and white, emerge as victors.

– Nelson Mandela (Speech to European Parliament, 1990)

২০৩.

নেলসন ম্যান্ডেলার ‘লঙ ওয়াক টু ফ্রিডম’টা পড়তে যেয়ে চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছিলো বার বার। আমাদের দেশের সাথে অনেকগুলো ঘটনা মিলে যাচ্ছে বলে কষ্টটা বেড়েছে। অবাক কান্ড – অন্য জায়গায়! বইটার নতুন ভার্সনটার মুখবন্ধ লিখেছেন আমার প্রিয় একটা মানুষ। তাকে খুব কাছ থেকে পেয়েছিলাম দু দুবার। কথাও বলেন চমত্কার। নিশ্চিত আমি, ধরে ফেলেছেন আপনি। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন। দেশকে কিভাবে তুলতে হয় সেটা দেখেছি তার ফরেন পলিসিতে। মুখবন্ধ পড়তে গিয়েই বইটা দুবার বন্ধ করে ভাবছিলাম। ক্লিনটন তার সাথে ম্যান্ডেলার কিছু কথাবার্তার স্ন্যাপশট নিয়ে এসেছেন মুখবন্ধেই। প্রথমটা পড়ে ধাতস্থ হতে না হতেই পরেরটা মনের অর্গল খুলে দিলো। পাশ কাঁটাতে পারলাম না বইটাকে।

২০৪.

‘সত্যি করে বলুনতো?’ ক্লিন্টনের প্রশ্ন, ‘দীর্ঘ সাতাশ বছর পর জেল থেকে মুক্তির পথে হাঁটার সময় কেমন মনে হয়েছিলো আপনার? ওদেরকে কি নতুন করে ঘৃনা করতে শুরু করছিলেন?’

‘অবশ্যই ঘৃনা করেছিলাম।’ ম্যান্ডেলার সহজ সরল উত্তর। ‘ওরা আমাকে আটকে রেখেছিলো অনেকটা বছর। অমানবিক ব্যবহার করেছে আমার সাথে। জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সময়টা পার করেছি এই কুঠুরিতে। বিয়েটাও শেষ হয়ে গিয়েছে ওই কারণে। বাচ্চাদের বড় হওয়ার সময় পারিনি পাশে থাকতে। প্রচন্ড রকমের ক্রোধান্বিত ছিলাম ওদের ওপর। আতঙ্কগ্রস্ত সময় পার করতে হয়েছে ওই লম্বা – আটকে থাকার সময়টাতে।’

‘তবে মুক্তির সময়ে গাড়িটার কাছে হেঁটে যাচ্ছিলাম যখন – অনেক চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছিলো মাথায়। গেটটা পার হবার সময় একটা উপলব্ধিতে পৌছালাম। ওদেরকে তখনো ঘৃনা করলে ওরাতো পেয়ে গেলো আমাকে। ওটাতো চাইনি আমি। মুক্তি চেয়েছি বরং ওই সংকীর্ণতা আর বিদ্বেষের শৃঙ্খল থেকে। ওই সর্বগ্রাসী ঘৃনা তুলে নিলাম ওদের ওপর থেকে। ওই মুহূর্ত থেকেই।’

___
* পুরো মুখবন্ধটা নিয়ে আসবো সামনে। আমাজনে বইটার লিঙ্কে গেলে প্রথম অধ্যায়টা পড়তে পারবেন বিনামূল্যে। জীবন পাল্টে দিয়েছে এই আমাজন। বইয়ের কাভারের ছবিটার উপর ক্লিক করুন। পুরো মুখবন্ধটা পড়তে ভুলে যাবেন না কিন্তু। বলে নিচ্ছি আগে, আমি বঙ্গানুবাদে বিশ্বাসী নই। আমার ধারনায়, মুখবন্ধের শেষ প্যারাটাই পুরো বইটার ওয়ান লাইনার!  ভুল হলে ক্ষমা করে দেবেন আশা করি।

Read Full Post »

The reasonable man adapts himself to the world; the unreasonable one persists in trying to adapt the world to himself. Therefore all progress depends on the unreasonable man.

George Bernard Shaw

১৮৭.

সময়টা [ছিলো] বর্ষাকাল। সন্ধার ট্রাফিক লাইট পোস্টে এসে দাড়ালো গাড়িটা। আমার মানে অফিসের দেয়া গাড়ি। মেয়ে একটা এসে দাড়ালো গাড়িটার পাশে। আমার আর তার মধ্যে ব্যবধান হচ্ছে গাড়ির কাঁচের জানালাটা। গাড়ির এসিটা ভালোভাবে না কাজ করলেও জানালার কাঁচ তুলে পানির ঝাপটা থেকে বাঁচার চেষ্টা করছিলাম। বর্ষার সঙ্গে বেশ ঠান্ডা বাইরে। মেয়েটার বয়স আমার মেয়ের সমান হবে হয়তোবা। অপুষ্টির কারণে বয়স বোঝা দুস্কর হলেও নিজের মেয়েটার কথা মনে হলো ওমুহুর্তে। ভিক্ষে চাইছে না মেয়েটা। ফুল বিক্রির পাশাপাশি সাহায্য চাইলো অস্ফুট স্বরে। তুমুল বৃষ্টি পড়ছে বাইরে। সাথের প্লাস্টিকটা মাথায় না দিয়ে ফুলগুলোকে ঢেকে রেখেছে বরং। মনে হচ্ছে ফুলগুলোর কাছে ওর শরীরটা কিছুই নয়। ভার্বাল কমিউনিকেশনের পাশাপাশি অঙ্গভঙ্গি করে কথা বলার চেষ্টার অংশ হিসেবে নাক লাগিয়ে দিলো জানালার কাঁচে। প্রচুর ঠান্ডার কারণে ওর নাকের নিশ্বাস কাঁচকে ঘোলা করে দিচ্ছিলো বারবার। সহ্য করতে পারলাম না আর। মনুষ্যত্ব ছাপিয়ে উঠলো – দুপাশেই মানুষ। বৃষ্টি আর প্রচন্ড ঠান্ডার মধ্যে একজন অন্যজনকে দাড়িয়ে করে রেখেছে। জন্ম পক্ষপাতদুষ্ট বলে ও আজ জানালার ওপাশে। কাঁচ নামিয়ে দিলাম, সমতা আনার ব্যর্থ চেষ্টা। বৃষ্টি আর ঠান্ডা থেকে তাকে বাঁচাবার কথা মনে হলো – গাড়িতে নিয়ে বাসায় পৌছে দিলে কেমন হয়? মেয়ে বাচ্চা বলে সামলে নিলাম নিজেকে। রাস্তার বাকি বাচ্চাদের কি হবে তাহলে? কিনে নিলাম সবগুলো ফুল বরং। আশা করছি বৃষ্টিতে বেশিক্ষণ না ভিজে ও চলে যাবে বাসায়।

১৮৮.

যাদের ভাগ্য আপনার আমার মতো অতটা সুপ্রসন্ন নয় তাদের জন্য কাজ করবে কে? যাদের নুন্যতম অধিকার নিশ্চিত করতে পারছিনা আমরা – তাদেরকে নিয়ে চিন্তা করছে কেউ? উন্নত দেশগুলোতে ‘ওয়েলফেয়ার ফান্ড’এর ধারণা মানুষকে একটা নুন্যতম ‘ফীড’ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে – সেটার ধারণা আসবে কবে? ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ ব্যাপারটা আসবে এর ঠিক পরে। আমার ধারণা, আমরা যারা পারছি তাদেরকেই নিশ্চিত করতে হবে সেটা। সরকারকে একটা ভালো মডেল দেখাতে হবে আমাদেরকেই।

১৮৯.

অফিসে আমার কাজের একটা বড় অংশ হচ্ছে – নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরী করা। কার্যক্ষেত্রের সাথে উদ্যোক্তা তৈরীর সম্পর্কটা আরো গভীরে। সারাদিন ধান্দা করি নতুন কার্যক্ষেত্রের খোঁজে। খুঁজে ফিরি উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের। নতুন লাইসেন্স, মানে নতুন কিছু এমপ্লয়মেন্ট। এখন বিশ্ব আবার সরে আসছে সনাতন ‘লাইসেন্সিং রেজীম’ থেকে। সেটা নিয়ে আসবো আরেকদিন। একেকটা গাইডলাইন আনছি কার্যক্ষেত্র তৈরীর ধারনায় – আবার নিজেই আমি অটোমেশনমুখী। অটোমেশনই নিয়ে আসবে স্বচ্ছতা। কাজগুলো মানুষ নির্ভর না হয়ে প্রসেস নির্ভর হলে সেদেশকে ফিরে তাকাতে হবে না আর। সেকারণে আমি ‘অ্যাকসেন্চারের’ মতো ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং কোম্পানিগুলোর ভক্ত। আজ একটা অর্গানাইজেশনের প্রসেস ডেভেলপমেন্ট করে দিন, ছোট সিদ্ধান্তগুলো মানুষের উপর ছেড়ে দিলে ঝামেলা হতে বাধ্য। সবকিছুর একটা ‘স্ট্যান্ডিং অপারেটিং প্রসিডিউর’ তৈরী করে নিতে বলুন সবাইকে। সেটাই কমিয়ে নিয়ে আসবে ন্যায়বর্জিত কাজ। আমার ধারনায় জ্ঞান স্বল্পতায় মানুষই ক্ষতি করতে পারে আরেক মানুষের, প্রসেস নয়।

১৯০.

আবার মানবসম্পদকে যথাযথ ব্যবহার না করলে সেটা অভিশাপে পরিনত হতে দেরী হবে না। নতুন কর্মক্ষেত্র মানে নতুন চাঞ্চল্য। সেটার ফাঁকে খুঁজতে হবে নতুন বাজার – দেশের বাইরে। আর নয় পড়ে থাকা – অন্যের বাজার হয়ে। সত্যি যেটা, অটোমেশন নষ্ট করবে আমাদের অনেকের চাকুরী। তাদের জন্য আমাদের খুঁজতে হবে নতুন পথ। ওয়েলফেয়ার ফান্ডের ধারনাটা আসবে সামনে। যারা কোনো কাজ পাবেন না, তাদেরকে তো আর ফেলে দেয়া যাবে না। কিছু মানুষ কোন কাজই পাবেন না, তাই বলে কি ওদের অধিকার নেই কি বাঁচার?

১৯১.

যন্ত্র কৃষিনির্ভর আর ইন্ডাস্ট্রিয়াল ‘হেভি’ কাজগুলোকে কেড়ে নিয়েছে মানুষের কাছ থেকে। সত্যিই তো, আর কতো কষ্ট করবে মানুষ? ফলে সার্ভিস সেক্টরে এখন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। সেখানেও ধারণা করছি সত্তুর শতাংশ মানুষ কাজ হারাবে অটোমেশনের কাছে। ফলে কমবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা। সেটা কমলে কমবে অটোমেশনের অগ্রগতি। এটা একটা সাইকেল বটে।

একটা উদাহরণ নিয়ে আসি বরং।

অটোমেশনের ফলে মানুষের কি হয় বলুনতো?

সত্যিকার অর্থে চাকুরী হারায় তারা। উন্নত দেশগুলো তাদের আবার একটা ওয়েলফেয়ার ফান্ডের উপর বাঁচিয়ে রাখে। সেই ‘ফীড’টা চলতে থাকে ততদিন পর্যন্ত যতদিন সে না আরেকটা চাকরি পাচ্ছে। চাকরি খুঁজেও বের করে সেই দেশগুলো।

আচ্ছা, ওয়েলফেয়ার ফান্ডটা আসে কোথা থেকে?

ওয়েলফেয়ারের পুরো টাকাটা আসে জনগনের রাজস্ব থেকে।

আচ্ছা ওয়েলফেয়ারে থাকা মানুষটা কি কোন ট্যাক্স দেয়?

না, তারা দেন না।

তাহলে অটোমেশনের কারণে সবাই চাকুরী হারালে তাদেরকে রাখতে হবে ওয়েলফেয়ারের ওপর। ওঁরা আবার ট্যাক্স দেবেন না। তাহলে চলবে কিভাবে দেশ?

ওটার উত্তরও আছে। সেটায় আসছি পরে। আমার কাজ হচ্ছে এই আংশিক অটোমেশনে সুবিধা নিয়ে নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরী করা। আজও একটা ডিরেক্টিভ নিয়ে কাজ করলাম যা নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরী করবে। আর অটোমেশনের কারণে সেটা এখন ওয়েবসাইটে – মানে পৌছে গিয়েছে সবার কাছে – স্বচ্ছতার সাথে।

১৯২.

ফিরে আসি পুরো অটোমেশনের ব্যাপারে। এটা নির্ভর করছে আমাদের ইচ্ছার ওপর। আজ আমরা পুরো পৃথিবীর সব সম্পদকে যদি উৎসর্গ করি মানবজাতির উদ্দেশ্যে, আর ছুটি দিয়ে দেই সবাইকে চাকুরী থেকে? আর অটোমেশনকে যদি ব্যবহার করি আমাদের সব চাহিদা মেটানোর জন্য – উচ্চমানের খাদ্য, বাসস্থান, কাপড় আর যা লাগে? হাই স্ট্যান্ডার্ড লিভিং তৈরী করবো সবারই জন্য। সবই সম্ভব। এর জন্য লাগবে মোটে দশ বছর – সেটাও দরকার হচ্ছে প্ল্যানিং আর তার প্রয়োজনীয় ইনফ্রাস্ট্রাকচার বানানোর জন্য। বানিয়ে বলছি? পড়েই দেখুন এই বইটা। ‘দ্য বেস্ট দ্যাট মানি ক্যান্ট বাই: বিয়ন্ড পলিটিক্স, পভার্টি এন্ড ওয়ার’ মিথ্যা বলেনি এতোটুকু। ফিরে যাই ওয়ার্ল্ড হাঙ্গার এডুকেশন সার্ভিস রিপোর্টে। মাথা খারাপ করা রিপোর্ট। পৃথিবী আসলে পুরো মানবজাতিকে খাওয়ানোর মতো খাদ্য উৎপাদন করে অনেক আগে থেকে। তার তিরিশ বছর পর পৃথিবীর জনসংখ্যা সত্তুর শতাংশ বৃদ্ধি সত্ত্বেও এগ্রিকালচার ইন্ডাস্ট্রি মানুষ প্রতি সতেরো শতাংশের বেশি ক্যালোরি উৎপাদন করে আজ। না খেয়ে মরার কথা নয় মানুষের। সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী দিন প্রতি একেকজনের জন্য অন্তত প্রায় তিন হাজার কিলোক্যালোরির বেশি খাদ্য উৎপাদন হয় এই পৃথিবীতে। তাহলে সমস্যা কোথায়?

১৯৩.

ফিরে আসি আমার ডেস্কে। হাজারো স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটর বলছে এগোচ্ছি আমরা। এটা সত্য যে পিছিয়ে পড়ছি আবার কিছু বিষয়ে। কাজ বের করতে হবে আমাদের – সবার জন্য। ছোট রেড ডটের কথা মনে আছে? বিশ্বের অনেক ম্যাপে সিঙ্গাপুরকে দেখানো হয় ওই ছোট একটা রেড ডট দিয়ে। ওদের ইনফরমেশন আর কমিউনিকেশন রেগুলেটরের সাইট থেকে নেয়া নিচের ছবিটা। আমাদেরটাও তৈরী করতে বসে গিয়েছি আমি।

manpowerGrowth

নতুন কার্যক্ষেত্র তৈরীর ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে লিটল রেড ডট

১৯৪.

সবার আগে মন পড়ে আছে কিভাবে ওই মেয়েটাকে [ওদের মতো সবাইকে] জন্মগত একটা নুন্যতম অধিকার দেয়া যায়। ফুল বিক্রি করতে হবে না ওকে। আমার মেয়ের মতো পড়বে ও, একটা নিশ্চিত ছাদের নিচে।

Read Full Post »

Today you’ll be in negotiation with somebody in Africa and learn the man’s been to Oxford, Cambridge, and Harvard and speaks six languages. I barely speak English.

– Aidan Heavey, CEO, Tullow Oil (Ireland)

১৪৬.

কফি নিয়ে এসেছি দুটো –মনের ভুলে, নেবে নাকি একটা?

খানিকটা অবাক হয়েই তাকালো সে। ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না বলে মনে হলো। নিজের কথা গিলে খাওয়ার মতো অবস্থায় দাড়িয়ে গেল মনে হচ্ছে।

রিওয়াইন্ড করার মানে হয় না কোনো। র-সুগারের প্যাকেটটা এগিয়ে দিলাম বরং।

সুগার আলাদা করেই নিয়ে এসেছি – তোমার আন্দাজ জানা নেই আমার।

মেয়েটা দাড়িয়ে গেল হঠাত্‍ করে। কিছুটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই। এগিয়ে এলো কিছুটা। জিনিস দুটো আমার হাত থেকে নিলো সে।

আই উড লাভ টু, ধন্যবাদ তোমাকে। ইউ আর সো থটফুল! নিয়ে আসা উচিত ছিলো আমারই।

খাঁটি ব্রিটিশ অ্যাকসেন্ট, কিংস কলেজে পড়েছে সে।

১৪৭.

গতকাল থেকে কনফারেন্স শুরু হয়েছে আফ্রিকার একটা দেশে। একই টেবিলে বসছি আমরা। দুজনের এক টেবিল। টুকটাক হয়েছে কথা। গতকাল কার্ড বিনিময়ের সময় পেছনের ‘কিউআর কোড’ দেখে যে ভূয়সী প্রশংসা করলো তাতে মনে হলো কোডটা আমিই আবিস্কার করেছি।

ওয়াজ আই ব্লাশিং? ব্রেকে একটা ‘কিউআর কোড’ জেনারেটর বের করে দিতে হয়েছিলো ওকে।

আজ সকাল থেকে খুবই ব্যস্ত সে। একটা রিপোর্ট পাঠাতে হবে তার অফিসে। কেনিয়ান কমিউনিকেশন কমিশনে। কফি ব্রেকেও যেতে পারেনি সকাল থেকে। আভাস দিলো রিপোর্টটার ব্যাপারে, সাঁজিয়ে নিয়ে এসেছে প্রায়। কিছু কসমেটিক চেঞ্জ বাকি। এর মধ্যে দুটো কফি ব্রেক পার। ওঠেনি ল্যাপটপ ছেড়ে। সেকারণেই কফিটা আনা।

টাইমজোনে ঘাপলা হলেই হতচ্ছাড়া ঘুম যায় পালিয়ে। ভোর পাঁচটায় উঠে সব ই-মেইলগুলোকে সিসটেম করাতে ব্রেকে নেটওয়ার্কিং করা যাচ্ছে ভালো।

১৪৮.

একটা ক্রোসান্টও নিয়ে এসেছো দেখা যাচ্ছে। আমার জন্য নাকি?

থতমত খেয়ে গেলাম এবার। আসলেই তাই। ওর জন্যই নিয়ে এসেছিলাম। কাঁচুমাচু মুখ করে এগিয়ে দিলাম ওকে। টুইস্টেড ক্লাসি ব্রেইডের চুলগুলোকে বেশ মানিয়েছে ওর হাস্যজ্জল মুখে।

এটা গছানোর জন্য কি বলবে বলে রিহার্সাল দিয়েছো, বলতো?

হাসলাম আমি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইছে সে।

রিপোর্ট শেষ, ফুর্তিতে আছ মনে হচ্ছে। এড়ানোর চেষ্টা করলাম।

বল না প্লিজ, অনুনয় করলো সে।

হাসতে গিয়ে গালে টোল ফেলে দিলো মনে হচ্ছে। চুল থেকে একধরনের গ্লিটারিং আভা তার আফ্রিকান ডিম্বাকার মুখটাকে আকর্ষনীয় করে রেখেছে।

রিহার্সাল শুরু করলাম, দ্বিতীয়বার।

ভাবটা এমন করবো যে ক্রোসান্টটা আমার জন্যই নিয়ে এসেছি আমি।

তারপর? চোখ বড় বড় করলো সে। যথেষ্ট ইমপর্টেন্স দেবার সিগন্যাল দিচ্ছে – আমার কথায়।

তারপর বলবো, ভুলেই গেছি যে ক্রোসান্ট খেয়ে এসেছি একটা, নেবে নাকি এটা?

মৃদু হাততালির অভিনয় করলো সে। ‘রিহার্সাল চমত্‍কার, আর তার থেকে চমত্‍কার তোমার অভিনয়। হলিউডে যাচ্ছ কবে?’

কেনিয়া: নির্ধারণ করেছে নুন্যতম গতি, স্কুল আর হেলথকেয়ার সিস্টেমকে নিয়ে এসেছে ভেতরে ...

কেনিয়া: নির্ধারণ করেছে নুন্যতম গতি, স্কুল আর হেলথকেয়ার সিস্টেমকে নিয়ে এসেছে ভেতরে …

১৪৯.

এই গত জুলাই মাসে কেনিয়া সাহস করে বিশাল এক কাজে হাত দিয়েছে। তিনশো কোটি ডলারের কাজ। আমাদের টাকায় দুহাজার চারশো কোটি টাকা, ইন্টারনেটের স্পীড বাড়ানো আর ডিজিটাল সার্ভিসগুলোকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কিভাবে নেয়া যায় সেটার জন্যই নেয়া হয়েছে এই নতুন ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজি। দুহাজার সতেরোর মধ্যে দেশব্যাপী ‘নির্ভরযোগ্য’ ইন্টারনেট আর ডিজিটাল সার্ভিসগুলোকে কিভাবে সেখানে নেয়া হবে সেটাই এখানে উপজীব্য। নিখুত প্ল্যান, এদিক ওদিক হবার জো নেই একেবারে।

ব্রডব্যান্ড ডেফিনেশন, স্বপ্ন দেখছে না কেনিয়া, বাস্তবে রূপান্তর করছে দুহাজার সতেরোর মধ্যে ...

ব্রডব্যান্ড ডেফিনেশন, স্বপ্ন দেখছে না কেনিয়া, বাস্তবে রূপান্তর করবে দুহাজার সতেরোর মধ্যে …

অতিনো হাত নেড়েচেড়ে বোঝাচ্ছিল ওদের ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিটা, নিখুতই বলতে হবে। জ্বলজ্বল করছে ওর চোখ, মনেই হচ্ছে আত্মস্থ করেছে মন থেকে। মনে প্রাণে বিশ্বাস করছে মেয়েটা – কাজ করবেই এটা। আমাকেও বিশ্বাস করিয়ে ফেলেছে এর মধ্যে।

১৫০.

মাঝ রাতে জন্ম নেয়ায় ওর নামের মর্মার্থ পেলাম দুপুরের খাবারের টেবিলে বসে। দুপুরে খুঁজে খুঁজে আমার টেবিল বের করেছে সে। কিন্তু কাছে এসেই ভড়ং।

তোমার সাথেই বসতে হচ্ছে শেষ পর্যন্ত! ফাঁকা কেন তোমার টেবিল? টিপ্পনী কাটলো সে।

হাসলাম বরং। প্রশ্রয়ের হাসি। বয়সে অনেক ছোট সে।

সব টিপ্পনীর উত্তর দিতে নেই। ফলাফল পেলাম কিছুক্ষণের মধ্যে। খাবারের মাঝখান থেকে উঠে গেল সে। ফিরে এলো আরেকটা প্লেট নিয়ে। কিছু ফ্রাইড প্ল্যানটেনস পাশে রাখা। নিজের জন্য নিয়ে এলো বুঝি!

তোমার পছন্দ হবে এই মাছের ‘স্টু’টা। ওবোকুন মাছের সাথে টমেটো দিয়ে তৈরী কিন্তু। স্পাইস দেয়া। স্পাইস খাওতো তোমরা। ‘ওবেএজা তুতু’ বললেই হবে এখানে।

১৫১.

আছে কি ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিটাতে? ‘স্টু’টা লাগছে চমত্‍কার।

দুহাজার সতেরোর মধ্যে পঁচাত্তর শতাংশ লোকাল বিজনেসকে অনলাইনে আনার অনেকগুলো অ্যাকশন পয়েন্ট দিয়ে শুরু করা হয়েছে এটা। অতিনোর শার্প রেসপন্স।

ফিস রোল চেখে দেখবে নাকি একটা? মাংসের পাইয়ের মধ্যে মাছের ফিলিং, ডিপ ফ্রাইড!

অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে। চেখে দেখবো ‘খন। আর কি আছে স্ট্রাটেজিতে?

ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়েই অনেকগুলো অ্যাকশন পয়েন্ট আছে এখানে, প্রথম পাতাটা তুলে দিচ্ছি শুধু, পুরো রিপোর্টটা দিচ্ছি নিচে ...

ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়েই অনেকগুলো অ্যাকশন পয়েন্ট আছে এখানে, প্রথম পাতাটা তুলে দিচ্ছি শুধু, পুরো রিপোর্টটা দিচ্ছি নিচে …

সরকারীভাবে যোগাযোগের সত্তুরভাগ জিনিসপত্র অনলাইনে আনতে হবে ওই সময়ের মধ্যে। চল্লিশ শতাংশ মানুষকে ডিজিটালি লিটারেট মানে ডিজিটাল সার্ভিস নেবার নুন্যতম শিক্ষার মধ্যে আনতে হবে একই সময়ে। এর জন্য যা যা করতে হবে তার সব কিছুই বলা আছে ওই স্ট্রাটেজিক পেপারে – অ্যাকশন পয়েন্ট আকারে। কেনিয়ান ওয়েবসাইটগুলোর নুন্যতম বিশ শতাংশ আনতে হবে আমাদের নিজস্ব ভাষায়।

মনে হলো পেপারটা পুরোই মুখস্ত ওর! ভালো লাগলো ওর আত্মবিশ্বাসে। মুখমন্ডল থেকে ঠিকরে বের হচ্ছে যেনো!

১৫২.

ডেজার্ট কোনটা পছন্দ তোমার? ‘চিন চিন’ না ‘পাফ পাফ’? হাসি লুকানোর চেষ্টা করলো না আর। রিদমিক শব্দের জন্য বোধহয়।

চেখে দেখলেই হাতে পাবে কিন্তু স্ট্রাটেজিক পেপারটা!

বলে কি, মেয়েটা! পড়ে ফেলছে আমাকে! মাইন্ডরিডার নাকি?

বেকায়দায় পড়লাম মনে হচ্ছে। দেখতে হয় যে চেখে!

ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিকে বছর ধরে সাপোর্ট করার জন্য টাকাটা আসবে কোথা থেকে? আমার দেখা অনেক ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজির সীড ফান্ডিংয়ের পরে সাস্টেনিবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন আসে অনেক।

ঠিক বলেছ হাসান। এই স্ট্রাটেজিক প্ল্যানকে সাপোর্ট করার জন্য বার্ষিক বাজেট থেকে পাঁচ শতাংশ চলে যাবে ওই ফান্ডে। এখন এটা আছে মাত্র ০.৫ শতাংশে! এছাড়াও টেলিকমিউনিকেশন অপারেটররা তাদের রেভিনিউয়ের একটা অংশ ছেড়ে দিচ্ছে লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটির জন্য, বিশেষ করে গ্রামের দিকে।

মাথা নাড়িয়ে সায় দিলাম। কথা বলতে দিলাম ওকেই।

সরকারও প্ল্যান করছে একটা ব্রডব্যান্ড ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড তৈরী করতে। সেটা তুলতে লাগবে চৌত্রিশ কোটি ডলার। এছাড়া এই ব্রডব্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিজে থেকে তুলবে উননব্বই কোটি ডলার।

স্মার্টফোনটা বের করলো সে। স্ট্রাটেজির ব্লুপ্রিন্টটা বড় করলো। সেটা বলছে, তুলে দিচ্ছি হুবহু;

The strategy provides a roadmap to transform Kenya into a knowledge-based society driven by reliable high-capacity nationwide broadband network.

আরেকটা পাতা, শিক্ষা আর হেলথকেয়ার খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে এখানে ...

আরেকটা পাতা, শিক্ষা আর হেলথকেয়ার খাত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেয়েছে এখানে …

১৫৩.

অনেকগুলো থিমেটিক এরিয়া নিয়ে তৈরী হয়েছে স্ট্রাটেজি পেপারটা। প্রথমেই রয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কানেক্টিভিটি আর ডিভাইস সংক্রান্ত বিষয়গুলো। পরের ধাপে রয়েছে কনটেন্ট অ্যাপ্লিকেশনগুলো, উদ্ভাবনা, মানবসম্পদ তৈরী আর সচেতনতা বৃদ্ধির রোডম্যাপ। শেষে আছে সব গুরু বিষয় – নীতিমালা, লিগ্যাল, রেগুলেটরি, ফিনান্স আর বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টির কিছু মাইলস্টোন।

টিং টিং করে আস্তে বেল বাজলো বারান্দায়। লাঞ্চের সময় শেষ। ফেরার পালা কনফারেন্সে। দুজনের কফি নিয়ে কনফারেন্স ভেন্যুতে যাবার দায়িত্ব নিলো অতিনো। আমি ছুটলাম কনফারেন্স প্রোডিউসারের কাছে। দেখা করতে বলেছে, দুমিনিটের জন্য। কার বক্তৃতা প্রক্সি দিতে হয় কে জানে!

১৫৪.

বিকেলের কফি ব্রেকে একজনের কার্ড নেবার জন্য দৌড় দেবার চেষ্টা করতেই আটকালো সে।

ওর কার্ড আছে আমার কাছে। কার্ডস্ক্যান অ্যাপ থেকে ট্রানসফার করে দিচ্ছি এখুনি।

তাই সই। গাইডেড ট্যুর দাও তোমার স্ট্রাটেজিক পেপারের ওপর। কালকের লাঞ্চ আমার উপর।

তাই নাকি? এশিয়ান, আফ্রিকায় এসে হোস্ট বনলো কবে থেকে? লাঞ্চ আমার উপর!

আমি অফার করেছি আগে! তোমাদের ব্রডব্যান্ডের নুন্যতম স্পীড কতো বলতো? সাবজেক্ট পাল্টানোর চেষ্টা করলাম।

স্ট্রাটেজিক প্ল্যান অনুযায়ী মানুষের বাসাবাড়িতে নুন্যতম সংযোগ গতি হবে পাঁচ মেগাবিট/সেকেন্ডের। এছাড়াও স্কুলের সব শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের আইসিটি শিক্ষা করা হয়েছে বাধ্যতামূলক।

ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন? সেটার কথা কি আছে কিছু? সন্দেহ ছুড়ে দিলাম ওর দিকে।

বলো কি তুমি? সরকার শুরু করেছে কাজ, সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে তিরিশ হাজার কিলোমিটারের ফাইবারের নেটওয়ার্ক। নুন্যতম আশি শতাংশ এলাকায় পৌঁছুতে হবে নেটওয়ার্কটাকে! সড়ক আর রেল বিভাগকেও বলা হয়েছে আইসিটির সম্পুরক ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরী করতে। সরকারী সব এজেন্সীকে এর মধ্যেই তার কনটেন্টকে হোস্ট করতে হবে এই শেয়ার্ড নেটওয়ার্কে। গ্রামে ফাইবার নেবার জন্য দেয়া হচ্ছে ট্যাক্স ওয়েভার।

১৫৫.

কনফারেন্স শেষেই দৌড় দিতে হলো। হোস্ট আমার হোটেলে যাবার গাড়ির ব্যবস্থা করেছে। ভেন্যুতে থাকা অসম্ভব হয়ে গিয়েছিল – খরচ বেশি বলে। রাতে এদেশের টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় আমন্ত্রণ করেছে ওদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে – ফলোড বাই ডিনার। ভেন্যু, নতুন জায়গা।

হোটেলে ফিরে সময় পেলাম দেড় ঘন্টার মতো। মাথা ঘুরছে। টাইমার চালু করলাম, সাঁতার আধাঘন্টা।

কেনিয়ার ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজিক প্ল্যানের উপর ইন্টারনেট রিসার্চ – পয়তাল্লিশ মিনিট।

সাঁতার কেটে এলাম। দেহঘড়িকে এডজাস্ট করার নিজস্ব পন্থা। পিঠের ব্যথাটা বাড়লো মনে হচ্ছে।

ইন্টারনেট রিসার্চের ফলাফল ভয়াবহ। আইসিটি রেগুলেশন টুলকিট আর ব্রডব্যান্ড টুলকিটের গল্প বলেছিলাম আগেই। আইটিইউ, ওয়ার্ল্ডব্যাংক আর ইনফোডেভের রিসার্চ পাবলিকেশন্সে কেনিয়ার এই ব্রডব্যান্ড প্ল্যানের মাথা ‘ভিশন ২০৩০’ ফ্রেমওয়ার্ককে নিয়ে এসেছে কেসস্টাডি হিসেবে! মাথা খারাপ করা ফ্রেমওয়ার্ক, কাজ না করে উপায় নেই। গভার্নমেন্ট লেড এই প্রোগ্রামের ট্যাগলাইন পড়তে গিয়ে চোখে পানি এলো চলে। ‘বিল্ড ইট, দে উইল কাম’ কথাটার অন্তর্নিহিত মেসেজ অনেক ভেতরের। সাঁতারের পর চোখে পানি – অসম্ভব ব্যাপার।

১৫৬.

অতিনোকে চিনতেই পারিনি ডিনারে। টারকুইজ কালারের আফ্রিকান ফ্রেঞ্চ লেস স্কার্ট, সঙ্গে মাথায় চমত্‍কার একটা ‘আসো ওকে’র টপ।

মাফ করবেন, চিনতে পারছি না আপনাকে। হ্যাভ উই মেট বিফোর?

হাত বাড়িয়ে দিলো হ্যান্ডসেক করার জন্য, হাসি আটকাতেই পারচ্ছে না সে, কোনোভাবেই।

আফ্রিকায় থেকে যেতে হবে মনে হচ্ছে!

ভালো কথা – নিয়ে এসেছে ‘দ্য ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড স্ট্রাটেজি ফর কেনিয়া’র একটা কপি। নিজে থেকে মনে করে।

তোমার জন্যই কিন্তু। মনে করিয়ে দিলো সে, আবার।

আমার জন্য মানে দেশের জন্য, লিখবো দেশে গিয়ে। অসুবিধা হবে তোমার?

ঠিক আছে, পাল্টে দিও নামটা আমার। সেটিংটাও কিন্তু!

১৫৭.

খেতে বসে নতুন আইটেমগুলোর চেখে দেখার আবদারের মধ্যে ফিরে এলাম স্ট্রাটেজিক পেপারটাতে।

টেরেস্ট্রিয়াল নেটওয়ার্কের কি অবস্থা? দেশের এই লাইসেন্সটার প্রথম ড্রাফট তৈরী করেছিলাম বলে অন্যদেরটাও জানার ইচ্ছা হয় মাঝে মধ্যে।

শোনোনি তুমি সকালের সেশনটা?

না, অ্যাপের সেশনটায় গিয়েছিলাম আমি। সিমুলটেনাস সেশনের এই সমস্যা।

তানজানিয়া, জাম্বিয়া আর কেনিয়া মিলে তৈরী করছে ত্রিদেশীয় ফাইবার নেটওয়ার্ক। ইলেকট্রিসিটি মানে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানির ঘাড়ে চড়ে এই নেটওয়ার্ক করতে লাগবে মাত্র পসট্টি কোটি ডলার।

থামলো সে। পরের প্রশ্নটা ছুড়ে দিলো আমাকেই।

বল দেখি, আইটিইউর রিপোর্ট অনুযায়ী সবচেয়ে বেশি মোবাইল ব্রডব্যান্ডের পেনিট্রেশন কার? আফ্রিকার রিজিওনের কথা বলছি।

সাউথ আফ্রিকা?

ভুল! ঘানা, দুহাজার এগারোর রিপোর্টেই ‘তেইশ শতাংশ’ ছিলো এই মোবাইল ব্রডব্যান্ডে। মাইন্ড ইট, কীওয়ার্ড ‘মোবাইল ব্রডব্যান্ড’।

সেই ঘানা আর ‘বারকিনা ফাসো’ নিজেদের টেরেস্ট্রিয়াল ফাইবার লিংকের কাজ ধরেছে এমাস থেকে।

দেখে নিও আমাদের ছুঁতে পারবে না কেউই।

ভুল হতে পারে আমার। ভেজা ভেজা লাগছে ওর চোখ।

ছুঁয়ে দিতে ইচ্ছা হচ্ছিলো প্রথমে। এমনিতেই। ‘আইনফুলঙস্যাম্যু’ জার্মান শব্দটাই মনে হচ্ছিলো বার বার। পরে যোগ হয় ইংরেজিতে। এম্প্যাথি।

এক্সকিউজ মি, দাড়িয়ে গেল সে। নতুন একটা ডেজার্ট দেখলাম, আনছি এখুনি, ভালো লাগবে তোমার।

* The preceding is a work of fiction. Any resemblance to persons living or dead is purely coincidental.

Read Full Post »

Dominate in your domain; You can do it.

― Jaachynma N.E. Agu, The Prince and the Pauper

১৩৩.

ঈদের দিন আজ! মন ভালো করার একটা গল্প নিয়ে আসি, কি বলেন? সবার জন্য। তুলনার গল্প। পালাবেন না প্লিজ। দেশকে উপরে তোলার গল্প।

আমি আপনার থেকে ভালো, বললেন আপনি।

প্রমান করুন কোথায় কোথায় ভালো আপনি? আমার সহজাত উত্তর।

একশো মিটার স্প্রিন্টে আপনাকে হারিয়েছি, মনে নেই?

মেনে নিলাম। আসলেই হারিয়েছেন আমাকে।

মেট্রিকে আমি স্ট্যান্ড করেছি। আর আপনি?

সত্যি। স্ট্যান্ড করিনি আমি।

ইন্টার ক্যাডেট কলেজ বক্তৃতায় আমি ছিলাম চ্যাম্পিয়ন।

একদম সত্যি কথা। বোমা মারলেও আমার মুখ থেকে বেরুতো না কথা, তখন।

এখন, আপনারাই বলবেন ভালো।

১৩৪.

ছোটবেলায় বাবা মা চাইতেন ডাক্তার হই। বয়সের দোষ ফেলে দিলো অন্য দিকে। এমনই কাজ করলাম যাতে মেডিক্যাল পড়তে না হয় কখনো। মেট্রিকের বায়োলজিতে ভালোই করছিলাম। ইন্টারমিডিয়েটের সময় কিভাবে যেনো বায়োলজি ফেলে পরিসংখ্যান নিয়ে নিলাম, সেটা নিয়ে ভাবি এখনো। হয়েছিলো কি আমার? সে যাই হোক – ইন্টারমিডিয়েটের পরিসংখ্যানই বাঁচিয়ে দিলো আমাকে। তুলনার গল্পে আপনি আমার থেকে দৌড়ে, পরীক্ষায় আর বক্তৃতায় ভালো। স্ট্যাটিসটিকাল ইনডিকেটরের ভাষায় ওই তিনটা বিষয়ে আপনি এগিয়ে। তুলনা করছিলাম আপনার সাথে আমার।

১৩৫.

এখন দেশগুলোই দৌড়াচ্ছে নিজেদেরকে এগিয়ে নেবার জন্য – প্রতিনিয়ত:| নিজের তাগিদেই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই বলে যাকে আর কি। একেক দেশ একেকদিকে ভালো। কেউ ভালো পড়াশোনায়, কেউ আইসিটিতে, আবার কেউ খাদ্য উত্‍পাদনে। আবার অনেকে প্রায় সবকিছুতেই! আফ্রিকার দেশগুলো তাদের ইনডিকেটরগুলোকে ভালো দেখানোর জন্য হেন কাজ নেই করছে না। ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্পর্কিত যতো ইনডিকেটর আছে সেগুলো ভালো হলে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) আনার জন্য অত রোডশো করতে হয় না। কোনো দেশে বিনিয়োগের আগে সেদেশের ইনডিকেটর দেখেই মনকে তৈরী করে ইনভেস্টররা। আমরা ভুলে যাই, আইসিটি নিজেই একটা বড় ইনফ্রাস্ট্রাকচার! মায়ানমারকে দেখে মুখের ভাষা হারিয়ে ফেলছি ইদানিং। চেখে দেখবেন না কি রিপোর্ট একটা? অন্যেরটা না পড়লে আমাদের অবস্থান জানা দুঃসাধ্য! নিজে ঠেকে না শিখে অন্যের ভুল থেকে শেখা ভালো নয়? আমার কথা, হোয়াই রি-ইনভেন্টিং হুইল!

১৩৬.

কিছু কিছু ইনডিকেটর খালি চোখে দেখা যায়, এর জন্য স্ট্যাটিসটিসিয়ান হবার প্রয়োজন হয় না। যেকোনো দেশের একটা শহরের উদাহরণে আসি বরং। শহরের রাস্তা আর তার পাবলিক ট্রানজিট সিস্টেমস দেখলেই খালি চোখে ওর উন্নতি বোঝা যায়। বাকি জিনিসগুলোর তুলনা করার উপায় কি? আইসিটি আমার বিষয় হবার ফলে ফিরে আসি ওর গল্পেই। আইসিটিতে কোন দেশগুলো ভালো করছে? ওটার পরিমাপ কি? তুলনার বিষয়গুলো কি কি হতে পারে? সবাই সেটা মানবে কিনা? সেগুলোর তথ্য কিভাবে নেয়া হবে?

১৩৭.

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে কে করবে?

ইউ এন অর্গানাইজেশন, আপনার উত্তর।

আপনি আসলেই ভালো, অন্ততঃ, আমার থেকে। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) একাজটার ধারণা নিয়ে বসে আছে প্রায় বিশ বছর আগে থেকে। সবদেশের সম্মতির ভিত্তিতে আশির বেশি ইনডিকেটর ঠিক করা হলো বিশ্বের আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ট্র্যাক করার জন্য। রিপোর্ট বের করা শুরু করলো দুহাজার নয় থেকে। এছাড়াও ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নেটওয়ার্ক রেডিনেস ইনডেক্স (এনআরআই) আর ইউএন ই-গভর্নমেন্ট সার্ভের ডাটা একাজে ব্যবহার হয়।

১৩৮.

ভালো কথা, আইসিটির দরকার কেন? আইসিটি ব্যবহার করেই দেশগুলো উঠছে উপরে। যারা পারছে না উঠতে তাদের ঘাটতি আছে এই আইসিটি ব্যবহারে। ভালো গভার্নেসের জন্য দরকার আইসিটির বহুল ব্যবহার। ইনফরমেশন উইথহেল্ড নয়, তথ্য দিয়েই এগুচ্ছে সরকারগুলো। আর সেকারণে আইসিটি। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন আঠারোশো পসট্টি সালে উত্পত্তি হলেও ইউএনের স্পেশালাইজড এজেন্সি হিসেবে নাম লেখায় উনিশশো সাতচল্লিশে। আইসিটি নিয়ে সব কাজ কারবার করতে হয় ওকেই। একশো বিরানব্বইটা দেশ ওর সদস্য হলেও ওর জ্ঞানের আঁধার হচ্ছে সাতশোর বেশি বেসরকারী কোম্পানিগুলো। টেলিযোগাযোগ, স্পেকট্রাম, স্যাটেলাইট আর ইন্টারনেটের ইনফ্রাস্ট্রাকচার নিয়ে যতো পলিসি আর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, ওর সবকিছুই আসে ওর থেকে। তিউনিস কমিটমেন্টের আওতায় ওয়ার্ল্ড ‘সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি’ (উইসিস)র পর অনেক দিন গেছে চলে।

১৩৯.

ডাটা কালেকশন হ্যান্ডবুক, টেলিযোগাযোগ/আইসিটি

ডাটা কালেকশন হ্যান্ডবুক, টেলিযোগাযোগ/আইসিটি

ডাটা এক্সট্রাপলেশনের ধারণা পাবার জন্য মনটা আইটাই করছিলো বেশ কিছুদিন। জেনেভাতে ই-হেলথের উপর এক বক্তৃতা দিতে যেয়ে সুযোগটা গেল বাতলে। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের অফিস থেকে এক লাঞ্চ ব্রেকে চলে এলাম আইটিইউর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেলের সাথে দেখা করতে। জেনেভায় নেমেই আউটলুক মিটিং রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম ওনার কাছে। মিটিং শেষে নামতেই করিডোরে চোখে পড়ল ডাটা সংগ্রহ করার চমত্কার একটা হ্যান্ডবুক। আইটিইউ এর পাবলিকেশন্স এটা। চেয়ে নিলাম কপিটা। পড়ে ফেললাম নিমিষেই। মানে ওই রাতেই – হোটেলে বসে। মাথায় এন্ডরফিনসের সরবরাহ বেড়ে গেলো বলে মনে হলো। দরকার আপনার? নামিয়ে নিন আজই। জানালাম অফিসে। আইটিইউ’র রিজিওনাল অফিসের সাথে খোচাখুচি করে একাউন্ট তৈরী হলো সে মাসেই। কাজে নামতে সময় লাগলেও ছোট একটা কমিটি তৈরী করে ফেললাম। চেকলিস্ট যোগ হলো সঙ্গে। ধাক্কা খেলাম ডাটা টানতে যেয়ে। বিশাল কাজ। কমিটির অন্যদের আইটিইউ’র বিভিন্ন স্ট্যাটিসটিকাল মিটিংগুলোতে পাঠাবার জন্য উত্‍যোগ গ্রহণ করলাম। তার একজন যাচ্ছে মেক্সিকোতে, এই ডিসেম্বরে। থাইল্যান্ডের টাও মিস যায়নি। এগুচ্ছে বাংলাদেশ।

১৪০.

মিটিং ডাকলাম সবাইকে নিয়ে। পর পর কয়েকটা। সব লাইসেন্সড অপারেটর, বুরো অফ স্ট্যাটিসটিক্স সহ। ইনডিকেটর নিয়ে বসলাম, একটা একটা করে। একশোর বেশি ফিল্ড। ইনডিকেটর ডেফিনেশনেই কাবু হয়ে যাচ্ছিলাম বার বার।একেকজন একেকভাবে ডেফিনেশন বুঝলে তো আমাদের অবস্থা খারাপ। চাইলাম এক ডাটা, দিলেন আরেকটা। সমস্যাটা তো মিটলো না। আবার ডাটা দরকার দু-হাজার দশ, এগারো আর বারোর। সবাই সাহায্য করতে চাইলেন। চ্যালেঞ্জ একটাই। এতো ডাটা, পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। দরকার সহসাই। নতুন ডাটাই রেডিমেড থাকছে না, পুরনো ডাটা তো আরো সমস্যা। কিছু কিছু ডাটা প্রজেকশন করলাম। চিঠি, ই-মেইল, ফোন আর তাগাদা পত্র, চলতে থাকলো একাধারে। ডাটা না থাকলে তো তৈরী করা যাবে না, বললেন অনেকে। অনেকেই সাহায্য করলেন আগ বাড়িয়ে। কাজের প্রসেস ডেভেলপ করে ফেললাম – নতুন ইন্টার-ডিপার্টমেন্টাল প্রসেস।

১৪১.

আইটিইউ’র স্ট্যাটিসটিকাল ডিপার্টমেন্টের সাথে লিয়াজোঁ বাড়িয়ে দিলাম এর পাশাপাশি। ডক্টর সুসান আর ভানেসা গ্রে নিজ থেকে সাহায্য করতে শুরু করলেন। আইটিইউ’র রিজিওনাল হেডকোয়ার্টারের সাহায্য চাইলাম। দেশকে উপরে উঠাতে হলে যা যা করা দরকার তার স্কিম তৈরী করে ফেললাম সে মাসেই। চমত্‍কার সম্পর্ক তৈরী করে ফেললাম ওদের সাথে। ডেডলাইন পার হয়ে গেলেও এক্সেস পাওয়া গেলো আপডেট করার। কিছু কিছু জিনিস ওরাই আপডেট করলো, আমাদের পরে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে। অসাধ্য সাধন করে ফেললো, আমার টীম! বলতে গেলে ক্রস ফাংশনাল টীম। সমস্যা শুরু হলো অন্যখানে। ডাটা টানা শুরু করলো আইটিইউর অন্যান্য ডিপার্টমেন্টগুলো। জেনে গেছে ওরা, বাংলাদেশের কোন লোকটাকে মেইল করলে রেসপন্স পাওয়া যায় ঘন্টার মধ্যে। ট্যারিফের ডাটা রিকোয়েস্ট চলে আসলো এর মধ্যে। আমার মনও ভালো, কাজ বাড়ছে, ছোট ছোট কমিটি করছি। প্রসেস তৈরী করছি মনের আনন্দে। কাজ হবে প্রসেস ডিপেন্ডেন্ট, মানুষ ডিপেন্ডেন্ট নয়। মানুষ চলে গেলে কাজ যাতে থমকে না যায় সেজন্য এই প্রসেস তৈরী করা। নিজের দেশ বলে কথা। এসক্যাপও কথা বলছে আমাদের সাথে। মন খারাপ হয়ে আছে – আইসিটি ডাটার বাইরের ডাটাগুলো পাচ্ছি না। টীমও লেগে আছে আমার পেছনে। নাছোড় বান্দা বসের নাছোড় বান্দা টীম প্লেয়ার! ভালোই আছি। চমত্‍কার এই ছেলেমেয়েগুলোকে পাবো কোথায়?

১৪২.

ডাটা দেবার পর শুরু হয় আসল সমস্যা, ভ্যালিডেশন। ডাটা ঠিক আছে কিনা, সেটার জন্য হাজার কোয়েরি। স্বাভাবিক। আমি দেশের ইন্টারনেট পেনিট্রেশনের হার পঞ্চাশ শতাংশ বললেই তো আর সেটা হবে না। ওর সপক্ষে যুক্তি না দিলে সেটা টিকানো মুশকিল। ওরা অন্য ডাটা সোর্স থেকে সেটা ভেরিফাই করে – সবসময়। দুঃখের কথা, বিশ্বব্যাপী আমাদের সাপোর্ট করার ডাটা খুবই কম। আমরা ডাটা দিলে অন্য সোর্স সেটা কনফার্ম না করলে সেটা যায় কেঁচে। তখন ধরি অন্য পন্থা। বৈধভাবেই। সেদিকে আর নাই বা গেলাম। মজার কথা, ভয় নেই ডাটা হারানোর। সবই আছে আইটিইউ’র আইসিটি-আই ক্লাউডে। আপডেট করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। কয়েক দফা ডাটা দিয়ে শিখেছি অনেক কিছু। সেটা আরেকদিন।

মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজ - বাংলাদেশ এগিয়েছে চার চার ধাপ!

মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজ – বাংলাদেশ এগিয়েছে চার চার ধাপ! আবার, অস্ট্রেলিয়ার এনবিএন প্রজেক্ট ওকেও এগিয়েছে চার ধাপ!

১৪৩.

ঘাপটি মেরে পড়ে ছিলাম এমাসের সাত তারিখের জন্য। ‘মেজারিং দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি রিপোর্ট’ ২০১৩ বের হলো বলে। পৃথিবী তাকিয়ে আছে এই রিপোর্টটার দিকে। আমাদের কথা চিন্তা করেই, গরীবদেশগুলো জেনেভা হেডকোয়ার্টারে যেতে না পারলেও পুরো অনুষ্ঠানটাই ওরা আপলোড করেছে ইউটিউবে! এই অনুষ্ঠানটা একাধারে জেনেভার পাশাপাশি আদ্দিস আবাবা, ব্যাঙ্কক, ব্রাসিলিয়া, কায়রো, মস্কো, নিউ ইয়র্কে হয়েছে। লঙ লিভ ইউটিউব! দেখতে চান? যাদের সময় নেই তাদেরকে বলবো টেনে উনিশ মিনিটের মাথায় চলে যেতে। এবার মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজ, যারা ভালো করেছে সেখানে ‘বাংলাদেশে’র নাম বলেছেন ডক্টর সুসান – ঠিক বিশ মিনিটের মাথায়। ডক্টর সুসান তেল্শার, হেড অফ আইসিটি ডাটা এন্ড স্ট্যাটিসটিক্স ডিভিশন পুরো রিপোর্টের একটা ব্রিফ দিলেন ওখানে। আমার তুরুপের তাস ‘থ্যাঙ্ক ইউ’ নোট পাঠানোর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই রেসপন্স করলেন ডক্টর সুসান, তারিফ করলেন বাংলাদেশের। শেষ লাইনে বলেছিলাম আমাদের থ্রিজির কথা। দেখা হবে সামনের বছরে। পাল্টে যাবে বাংলাদেশ। সুখের কথা, আবার ডাটা চেয়েছে আইটিইউ, ডেডলাইন তিরিশে অক্টোবর। সময় নেই একেবারেই। পরের বছর বাংলাদেশ যাবে কোথায়? প্রেডিকশন ইন্জিনিয়ারিংয়ের ধারনায় বর্তমান গ্রোথ রেটে এগোলে ‘একশো তিরিশে’র ভেতরে যাবার ইচ্ছা পোষণ করাটা খুব কি একটা ভুল হবে? আপনি বলুন।

আরো এগুবে বাংলাদেশ, পাল্টাচ্ছি আমরা, পাল্টাতে হবে সবাইকে!

আরো অনেক এগুবে বাংলাদেশ, আমার হাতের ডাটা তাই বলে। সুযোগ হাতছাড়া যাবে না করা!

১৪৪.

গত বছর থেকে এবার এগিয়েছি চার ধাপ, একবারেই। প্রথম ধাক্কায়। আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (আইডিআই) একশো সাতান্নটা দেশের মধ্যে তুলনা করে কে কতটা এগিয়েছে সেটা দেখিয়েছে ওখানে। আবার দুহাজার বারোর আইসিটি প্রাইস বাস্কেট (আইপিবি) ইনডেক্সে গ্রাহকেরা টেলিযোগাযোগ আর ইন্টারনেট খাতে কতো ব্যয় করছে সেটারও স্নাপ্শটটা ক্যাপচার করেছে ওখানেই। ‘পারচেজ পাওয়ার প্যারিটি’ (পিপিপি) মানে গ্রাহকের কেনার ক্ষমতাতে খারাপ নেই আমরা। গ্রাহক পর্যায়ের ইন্টারনেটের দাম নিয়ে ওভাবে কিছু না এলেও এর দাম কমে আসবেই এর মধ্যে। প্রতিযোগিতায় থ্রিজির দাম কমে আসতে বাধ্য।এক্সেসে মানে ‘সংযোগ’ পাবার আইসিটি সাব ইনডেক্সে বাংলাদেশ ভালো অগ্রসর হলেও ‘ব্যবহার’ সাব ইনডেক্সে অনেক কাজ করার স্কোপ রয়েছে। ব্যবহার বাড়াতে হলে ইন্টারনেটের ‘ইউজফুল’ অ্যাপ্লিকেশন আনতে হবে আগে। সরকারী বেসরকারী সার্ভিস ডেলিভারি প্লাটফর্মে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ নেয়া দেয়া বাধ্যতামূলক করলে ‘ব্যবহার’ আইসিটি সাব ইনডেক্স বাড়তে বাধ্য। ইলেকট্রনিকভাবে টিআইএন নেবার পদ্ধতিটা এর ভালো উদাহরণ। খালি ফেইসবুক আর ব্লগিং করে কতো আর? ইলেকট্রনিক ট্রানজাকশানের উপর উন্নত বিশ্বের মতো প্রনোদনা দিলে ভালো করবে বাংলাদেশ। মোস্ট ডাইনামিক কান্ট্রিজের মধ্যে বাংলাদেশকে নিয়ে কি লিখেছে ওরা, পড়তে ইচ্ছা করছে নিশ্চয়ই!

সব তথ্যই সরবরাহ করা হয়েছে একটা ভালো রাইট-আপের জন্য, ভালো লাগছে না?

সব তথ্যই সরবরাহ করা হয়েছে একটা ভালো রাইট-আপের জন্য, ভালো লাগছে না?

১৪৫.

আজ এ পর্যন্তই। ঘুমানোর সময় হলো বলে। বাকি সাব-ইনডেক্সগুলোর মধ্যে আইসিটি “এক্সেস”, “ইউজ” আর “স্কিল” নিয়ে আসছি সামনে। ফেলে দিন আমার বকবকানি, নামিয়ে নিন পুরো রিপোর্টটা, অ্যানেক্স চার ছাড়া। দরকার নেই ওটার আপনার! নিজেই দেখুন চেখে। হাতে নিয়েছি নতুন এক্সেলশিট, উইসিস আর এমডিজির ডাটা টানবো বলে। উইসিস, ও’ইসিডি, ইউনেস্কো, ইউএন রিজিওনাল কমিশন আর আংকটাড মিলে এক বিশাল উইসিস টার্গেট রিপোর্ট চেয়েছে দেশগুলো থেকে – দশ বছরের উপর। ওখানেও হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পিছিয়ে পড়ে থাকার দিন নেই আর! শুরু তো করতে হবে – কোথাও। দেশকে তুলতে হবে ঠিক জায়গায়।

এগুচ্ছি আমরা, পাল্টাচ্ছে বাংলাদেশ!

Read Full Post »

Older Posts »

%d bloggers like this: