Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রেজিলিয়েন্স’

Share your knowledge. It’s a way to achieve immortality.

Dalai Lama

Knowledge is like money: to be of value it must circulate, and in circulating it can increase in quantity and, hopefully, in value.

Louis L’Amour

২৩৫.

ফিলিপাইনের ভুমিকম্পের ভয়াবহতা দেখে অস্থিরতা কাজ করছিলো ভেতরে ভেতরে। ঘর পোড়া গরু সিদুরে মেঘ দেখলেও ভয় পায়। আমার অবস্থা হয়েছে ওরকম। ঢাকায় ওরকম কিছু হলে ঘুরে দাড়াতে পারবো কি না আমরা? নাকি এই অধ্যুষিত নগরী মৃত্যুনগরীতে পরিনত হবে? ঠিক এই সময়ে একটা ইনভিটেশন চলে এলো ওয়ার্ল্ডব্যাংক থেকে। পৃথিবীর নগরগুলোর ভূমিকম্পের ‘রেজিলিয়েন্স’ মানে কতো কম ক্ষয়ক্ষতি করিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের জন্য যেসব কাজ করা প্রয়োজন সেটা নিয়ে এই ওয়ার্কশপ। রেজিলিয়েন্স এর অর্থ অনেক কিছুই।

২৩৬.

ভুমিকম্পের একটা লাইফসাইকেলে যা যা করনীয় – সেখানে প্রথম ধাক্কাটা নিতে পারাটাই একটা বড় ধরনের এক্সারসাইজ। অল্পমাত্রার একটা ভুমিকম্প যেখানে বিশাল বড় জনপদকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে – সেখানে অনেকদেশ বড় বড় রিখটার স্কেলের ভূমিকম্প নিয়ে দাড়িয়ে আছে বহাল তবিয়তে। সেটার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান। একমাত্র বিজ্ঞানই পারে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে – মানুষের সীমাবদ্ধতা। নিজের সীমাবদ্ধতাটা জানাটাও যেকারো জন্য একটা বড় স্ট্রেংথ। তাহলে সেটা মিটিগেট করার জন্য খুঁজতে হবে অন্য রাস্তা। ভুমিকম্প মোকাবেলায় মানুষের বড় ধরনের সীমাবদ্ধতা আছে বলেই ওই জায়গাগুলোতেই ‘ফোকাসড’ কাজ করতে হবে। থাইল্যান্ড শিখে গিয়েছে যুদ্ধের কৌশলটা। এখন অন্যদেশ শিখছে ওখানে গিয়ে। নৈরাশ্যবাদী আছে সব জায়গায়। ভুমিকম্পের মতো জটিলতর বিষয়ে আরো বেশি। ওনাদের ধারণা আপনাকেও মন্ত্রমুগ্ধ করবে।

২৩৭.

বলুনতো মানুষ কাজ করে কিসের ভিত্তিতে?

অভিজ্ঞতা! আপনার সহজ উত্তর।

একটা ভূমিকম্প না হলে এর ভয়াবহতা জানবো কিভাবে? একটা দুটো দেখে ঠিকই শিখে নেবো ‘রেজিলিয়েন্স’ হবার কৌশল। আগে থেকে শেখা বাতুলতা মাত্র।

বলেন কি?

ঠিক তাই। ভূমিকম্প ঠেকাতে হলে দরকার অভিজ্ঞতা। একটা দুটো হলে শিখে নেবো ঠিকই!

এটা তো ঠেকে শেখা হলো। লাখ লোকের জীবন দিয়ে পরীক্ষার প্রয়োজন আছে কি আদৌ? আপনি জানেন ঢাকার বিল্ডিং কোডের কি অবস্থা? আর সেটার ভয়াবহতা? মনে আছে তো রানা প্লাজার কথা?

২৩৮.

এর পরের উত্তর নিস্প্রয়োজন। আচ্ছা, আপনি কি জানেন ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ঠেকাতে বিজ্ঞান গিয়েছে কোথায়? আমি নিজেই জানতাম না। এর প্রুভেন ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ যে দেশগুলো ব্যবহার করছে – ক্ষয়ক্ষতির হার অবিশ্বাস্যভাবে কমিয়ে নিয়ে এসেছে তারা। ফেলে দিন আদিমযুগের কন্টিনজেন্সী প্ল্যান, দরকার একটা ওয়েল রিহার্সড অ্যাকশন আইটেম, ঠোটের আগায় থাকবে স্টেপগুলো। ওটাই হচ্ছে ভুমিকম্প ঠেকানোর সবচেয়ে বড় যথার্থ বিনিয়োগ। কি হলে কি করনীয় সেটা নির্ধারণ করা জরুরী। আমাদের দেশের জন্য কি প্রযোজ্য সেটা জানাবে বিজ্ঞান। সেটা মানুষের হাতের নাগালে। খুঁজে নিতে হবে আমাদেরকেই। ভুমিকম্পের ছোট একটা সূত্র আছে। কোথাও যদি একবার হয় ভূমিকম্প, ছোটমাপের হলেও – ওটা ফিরে আসবে আবার!

২৩৯.

অফিসের কাজে পারিনি থাকতে, ছুটিরদিনগুলো বেছে নিয়েছিলাম ওই ওয়ার্কশপগুলোতে থাকার জন্য। সব ছুটির দিন ওরাও পারেনি, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটরের সাথে কথা বলে ডকুমেন্টগুলো নিয়েছিলাম হাতে। ফিলিপাইনের ‘আর্থকোয়াকস এন্ড মেগাসিটিজ ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটা কোম্পানি এটার কনসালটেন্সি করছে। লিড কন্সাল্ট্যান্ট ডক্টর ফুয়াদ বেঁদিমেরাদ মধ্যবয়স্ক হলেও তার ধারণা মুগ্ধ করলো আমাকে। সবকিছুতে লোকাল এক্সপার্টিজ তৈরী করানোর জন্য মুখিয়ে আছেন উনি। এতো দেখি গুরু মারা বিদ্যা। ওই একটা ধারনাতেই তাকে আপন করে নিলাম। একেবারে মনের ভেতর।

২৪০.

ইতিপূর্বে কনসালটেন্সি করেছেন সেকয়েকটা দেশের উদাহরনও টেনে নিয়ে এলেন উনি। ওই দেশগুলোর নিজস্ব জনবল ছিলো না – এই ভুমিকম্পের ‘রেজিলিয়েন্সের’ উপর। বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করানোর থেকে নিজেদের মানুষ তৈরীর উপর জোর দেয়াতে সেই দেশগুলো কিছুটা নিমরাজি হয়েই ইনভেস্ট করেছিলো। বাইরে থেকে লোক এনে কাজ করলে সাময়িকভাবে কম খরচে কাজটা হয়ে যায়। লঙরানে ওটাতেই খরচ বেশি পড়ে। প্রতিবার কাজের জন্য বাইরের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয়। এখন তারা শুধুমাত্র নিজেদের দেশের কাজ করে বেড়াচ্ছে না – অন্যদেশেও কনসালটেন্সি করছে। আয় করছে বৈদেশিক মুদ্রা।

২৪১.

উন্নত আর অনেক উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু প্রাকটিস নিয়ে এলেন আমাদের সামনে। হয়তোবা আমাদের এজেন্সিগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব তাকে পীড়া দিয়েছে বেশি। বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশ এমনভাবে এগুচ্ছে যে তারা তাড়াতাড়ি টেক্কা দেবে উন্নতবিশ্বের অনেকদেশকেই। কীওয়ার্ড, ভাগাভাগি করে জ্ঞানের সর্বোত্তম ব্যবহার। আমাদের সরকারী এজেন্সীগুলোর মধ্যে নিজেদের জ্ঞানগুলো ভাগাভাগি করলে খরচ কমে আসবে ধারণার বাইরে। সেই বাড়তি টাকা দিয়ে উন্নততর জ্ঞান আহরণ করো। আর সেটাকে ভাগাভাগি করে নিজেদের আহরিত জ্ঞান ছড়িয়ে দাও নিজেদের মধ্যে। আটকাতে পারবে না কেউ তোমাদের।

২৪২.

কফি ব্রেকে ধরলাম তাকে। কার্ড অদল বদলের মধ্যেই প্রশংসা করলাম তাঁর উপাত্তের। মন থেকেই। স্মার্টফোনে তাঁর বক্তৃতার অংশবিশেষ লেখা ছিলো বলে ডেলিভারি দিলাম এক নিমিষেই। আমার স্মৃতিশক্তির তারিফ করলেন উনি। খুব খুশি মনে হলো তাঁকে। আমার কথা একটাই, আমি কমিউনিকেশনের লোক। ইট সুরকি বুঝি না আমি। কমিউনিকেশনে ‘রেজিলিয়েন্স’ বানিয়ে দাও আমাকে। ভুমিকম্পের ‘গোল্ডেন’ বাহাত্তুর ঘন্টার আগেই টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা পূর্বাবস্থায় আনার জ্ঞানের সুরুঙ্গটা দেখিয়ে দাও আমাকে। জ্বলজ্বল করে উঠলো উনার চোখ। লাঞ্চ ব্রেকে আমাকে আটকে ফেললেন উনি। ওটাই চাইছিলাম মনে মনে। দুঘন্টায় ওলটপালট হয়ে গেল ওর ল্যাপটপ। অনেকগুলো প্রেজেন্টেশনের ওপর রানডাউন দেয়া হয়ে গেলো ওর মধ্যেই।

২৪৩.

ধারণা করুন, ভুমিকম্পের পরে আমি আপনি আটকে পড়েছি বিল্ডিংয়ের ধ্বংসাবশেষের নিচে। সাথে রয়েছে মোবাইলফোন। ওটাতো থাকে পকেটেই। পকেটের সেই অক্ষত মোবাইলফোনটাতে কোনো সিগনাল বার না পেলে কতটা অসহায় মনে হবে নিজেকে? কারণ, ভুমিকম্পের শুরুতেই পড়ে গিয়েছে মোবাইলফোন টাওয়ারগুলো। জীবিত থেকেও যোগাযোগ না করতে পারার কারণে অনেককিছুই ঘটে যেতে পারে। চলুন ঘুরে আসি জাপানে। এগারোই মার্চ, দুহাজার এগারো। ভুমিকম্পের মাত্রা ছিলো নয়। ওর ধাক্কায় তৈরী হয় সুনামি। জাপানের মতো ভুমিকম্প ‘রেজিলিয়েন্স’ প্রটেকশন থাকা অবস্থায় মারা যান বিশ হাজারের মতো মানুষ। অবাক হয়ে যাবেন তাদের টেলিযোগাযোগ সার্ভিস পূর্বাবস্থায় আনার গ্রাফটা দেখে।

জাপানের লাইফলাইন সার্ভিসগুলোর রেস্টোরেশন গ্রাফ - ফিক্সড লাইন (টেলিফোন) আর মোবাইল - হলুদ আর ম্যাজেন্টা রঙয়ে

জাপানের লাইফলাইন সার্ভিসগুলোর রেস্টোরেশন গ্রাফ – ফিক্সড লাইন (টেলিফোন) আর মোবাইল – হলুদ আর ম্যাজেন্টা রঙয়ে

২৪৪.

এখানে সবগুলো লাইফলাইন সার্ভিসই দেখানো হয়েছে আপনার বোঝার সুবিধার্থে। কয়েকটা সিরিজ ভুমিকম্পের পরও বিচ্যুতি হয়নি টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার। প্রথম ধাক্কা সামলেছে প্রথম দুদিনেই। অলৌকিক কিছু নয় কিন্তু। প্রয়োজন কিছু নীতিমালা। পারবো আমরাও। তৈরী হয়ে আছে গাইডবুকগুলো, দরকার স্টেকহোল্ডারদের ভ্যালিডেশন আর সামান্য কিছু ক্যালিব্রেশন। আবার, বিভিন্ন প্র্যাক্টিশনারদের জন্যও নিয়ে আসবো সহজবোধ্য ইনডিকেটর! ঝুলিতে আরো রয়েছে এসম্পর্কীয় আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ডগুলো!

আসছি সামনে – দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে।

Advertisements

Read Full Post »

%d bloggers like this: