Feeds:
Posts
Comments

Posts Tagged ‘রেফারেন্স পেপার’

If the world is cold, make it your business to build fires.

– Horace Traubel

৫৮৮.

স্বাধীন, শক্তিশালী রেগুলেটরি সংস্থা সবসময় চেয়েছে ডাব্লিউটিও। ইন্ডাস্ট্রির আর রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নয় এমন সংস্থা। সরকারী বেসিক টেলিযোগাযোগ সেবা দিচ্ছে এমন কোম্পানিকেও ছাড় দিতে পারবে না এই রেগুলেটর। বাজারে অন্য কোম্পানিগুলোকে দেখভাল করতে হবে এক নীতিমালা দিয়ে। টেলিযোগাযোগে স্পেকট্রাম, ‘রাইট অফ ওয়ে’ আর নাম্বারিং হচ্ছে দেশের সীমিত সম্পদ। স্পেকট্রাম হচ্ছে আমাদের মতো দেশগুলোর জন্য লাইফলাইন। ভবিষ্যত ব্রডব্যান্ড নির্ভর করছে এর ওপর অনেকাংশে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আর সাত শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধি নির্ভর করছে এর ওপর।

৫৮৯.

আর নাম্বারিং হচ্ছে সবার জন্য ভয়েস কল করার নিশ্চয়তা। ইউনিভার্সাল এক্সেস। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক বসাতে গেলে রাস্তার ‘রাইট অফ ওয়ে’র মতো তাদের ‘লিগাল এক্সেস প্রভিশনিং’য়ে সরকার কিছু টাকা পায়। আবার সেটা ঠিকমতো না বলা থাকলে সমস্যায় পড়ে ইনভেস্টররা। দক্ষতার সাথে সম্পদগুলোর ‘অ্যালোকেশন’ না হলে দেশ হারায় প্রবৃদ্ধির সুযোগ। সম্পদগুলোর ‘অ্যালোকেশন প্রসিডিউর’ হতে হবে স্বচ্ছ, পক্ষপাতিত্ব ছাড়া। ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডগুলোর বর্তমান ‘অ্যালোকেশন’ উন্মুক্ত থাকতে হবে সবার জন্য। সবাই জানবে কে কি পাচ্ছে। তবে সরকারী ‘অ্যালোকেশনে’র বিস্তারিত দরকার নেই এই চুক্তিতে।

৫৯০.

দেশগুলোর ডাব্লিউটিও’র এইসব ‘কমিটমেন্ট’ বিশ্ববাজারে একটা শক্ত সিগন্যাল দেয়। মানে সেক্টরে রিফর্ম চাচ্ছে দেশটা। আবার চুক্তিতে সাক্ষর করেছেন কিন্তু মানছেন না – তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে। মেষপালকের ওই নেকড়ে আসার গল্পে আসবে আর না কেউ। ইনভেস্টমেন্ট ‘ক্রেডিবিলিটি’ মানে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে দেশ। কয়েকটা কনসাল্টিং ফার্মের রিপোর্ট দেখে যা বোঝা গেল যারা ডাব্লিউটিও’র রেফারেন্স পেপারে সত্যিকারে ‘কমিট’ করেছিলেন – তাদের দেশে এফডিআই এসেছে অনেকগুণ।

৫৯১.

আসলেই অনেকগুণ। আর বেশি এফডিআই মানে বেশি প্রতিযোগিতা। নতুন নতুন টেলিযোগাযোগ ইনফ্রাস্ট্রাকচার। নতুন প্রোডাক্ট, হাজারো বিকল্প – দাম না কমে যাবে কোথায়? মানে আসল (প্রোডাকশন কস্ট) দামের কাছাকাছি চলে আসবে ইন্টারনেটের দাম। অথবা এখনকার দামে অনেকগুণ বেশি ইন্টারনেট। তবে এফডিআই আনার জন্য সবচেয়ে বড় কাজ করে দেশটা যখন তার নিজ টেলিযোগাযোগ কোম্পানিটা বেসরকারি করে দেয়। এটা ইনভেস্টরদের জন্য সবচেয়ে বড় সিগন্যাল। মানে, সরকারী কোম্পানিকে বাঁচাতে অন্যায় কিছু করবে না দেশটা।

[ক্রমশ:]

Advertisements

Read Full Post »

I attribute my success to this: I never gave or took any excuse.

– Florence Nightingale

৫৬৬.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

৫৬৭.

ওই উনিশশো ছিয়ানব্বইতে ‘বেসিক টেলিকমিউনিকেশনস’ নিয়ে একটা ‘রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্কে’ কি কি থাকা উচিত – সেটা লেখা হলো নেগোশিয়েশন টেবিলে। মাথা নাড়লো মানে ‘নড’ দিল ওই বিরাশিটা দেশ। কিছু সঙ্গা আর তার জন্য দরকারী ধারা ছিলো ওখানে। সঙ্গায়িত না করলে কি হয় সেটা আমার থেকে ভালো জানবে কে আর? সঙ্গায়িত না করলে পরে যে যার মতো নেয় ভেবে। এটার পরিনতি হয় ভয়াবহ। ওই সময়ে যে বিষয়গুলো দেশগুলো মেনে নিয়েছিলো সেটা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম প্রথমে। কারণ, এখনো মানেনি অনেক দেশ।

৫৬৮.

তবে, যারা মেনেছিল – তারা আজ দাড়িয়েছে টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে একেকটা নক্ষত্র হিসেবে। ওই দেশগুলোর কোম্পানিগুলো চালাচ্ছে পৃথিবীকে। ওই ‘রেফারেন্স পেপারে’ টেলিযোগাযোগের ব্যবহারকারী হিসেবে আমার আপনার মতো গ্রাহকদের নেয়নি শুধু, সার্ভিস দিচ্ছে যারা তাদেরকেও শামিল করেছে সঙ্গার মধ্যে। কোন সার্ভিস যদি একটা বা গুটিকয়েক কোম্পানি দেয় আর – সেই সার্ভিসটার বিকল্প তৈরী করার প্রয়োজন না পড়ে – সেটাকে তারা বলতে চাচ্ছে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’। যেটা ছাড়া দেশ অচল। দেশের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে ওই সার্ভিসগুলো।

৫৬৯.

উদাহরণ নিয়ে আসি, কী বলেন? যেমন, বিটিসিএলের কক্সবাজার থেকে ঢাকা পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল ব্যান্ডউইডথ আনার জন্য দুই একটা সার্কিটের বেশি প্রয়োজন নেই বাংলাদেশের। এখানে বেশি সার্কিট তৈরী করলেই বরং খরচ পড়বে বেশি। আর সেটা পড়বে গিয়ে গ্রাহকদের ঘাড়ে। এদিক দিয়ে না হলে অন্যদিক দিয়ে। মানে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’ আনা নেয়া করতে গিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে একে ‘রেপ্লিকেট’ করা গেলেও টাকাতে নাও কুলাতে পারে দেশগুলোর জন্য। তবে ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস’টাকে কে নিয়ন্ত্রণ করছে আর তার ওই সম্পর্কিত বাজারে পজিশন কেমন সেটা দেখবে রেগুলেটর। ওই সার্ভিসটার দাম হবে কস্ট বেসড – মানে লাভ করে নয়। মোদ্দা কথা, ব্যবসা করবে না এখানে সরকারী কোম্পানী। 

[ক্রমশ:]

Read Full Post »

Education costs money. But then so does ignorance.

– Sir Claus Moser

৫৬২.

নীতিমালার একটা ‘প্রেডিক্টাবিলিটি’র কথা বলে ইনভেস্টররা। যেকোনো ব্যাপারে একটা চালু নীতিমালা থাকার কথা। লেখা থাকলে ভালো। আর লেখা না থাকলে রেগুলেটরে ওই মানুষটা পাল্টালে বিপদ। যেকোন ঝামেলা মেটানোর জন্য একটা ‘ওয়েল ডিফাইন্ড’ প্রোসিডিং না থাকলে একেক সময়ে একেক রেজল্যুশন হলে ভয়ে থাকে ইনভেস্টররা। এধরনের অনিশ্চয়তা চায় না বিলিয়ন ডলারের এই ইনভেস্টররা। আর তারা ‘হিট এন্ড রান’ ব্যবসা করতে আসেনি নতুন দেশে। ‘লাভ করলাম আর চলে গেলাম’ কিসিমের ব্যবসা হয় না এই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেক্টরে। আর যদি পাল্টাতেই হয় – সেটার একটা ‘প্ল্যানড’ রোডম্যাপ থাকতে হবে আগে থেকে। সবাই জানবে পরিবর্তনটা। কবে হবে, কিভাবে হবে, কে করবে, কাদের মাধ্যমে করবে, ইন্টার-ডিপেন্ডেন্সি কোথায় – সব বলা থাকবে ওই পাবলিক ডকুমেন্টে।

৫৬৩.

উন্নয়নশীল দেশগুলোর ‘বোঝার সমস্যা’র কারণে বড় বড় বাণিজ্যিক লেনদেন ব্যহত হচ্ছিলো অনেকদিন ধরে। আবার টেলিযোগাযোগ সেবাটাও দাড়িয়ে গেল দেশেগুলোর জনগনের একটা মৌলিক অধিকার হিসেবে। ব্যবসাতে সমস্যা হওয়াতে সেটা নিয়ে এগিয়ে এলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড অর্গানাইজেশন, ডাব্লিউটিও। বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে প্রথম চুক্তিটা হয় উরুগুয়ে রাউন্ডে (১৯৮৬-৯৪)। ততোদিনে টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস জেনারেট করছে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার। এটা নিয়ে সব দেশ না ভাবলেও ভাবছিল অনেকেই। প্রথম কথা শুরু হয় ভ্যালু এডেড সার্ভিস নিয়ে। মোবাইলটাও ছিলো ওই সার্ভিসের মধ্যে। ১০৮টা দেশ টেলিযোগাযোগের ভেতরে বাণিজ্যিক গল্পে সন্মতি দেয়। উরুগুয়ে রাউন্ডের পর (১৯৯৪-৯৭) নতুন দেন-দরবারে বেসিক টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস নিয়ে কাজ করতে গিয়ে এই সেক্টরের রিফর্মের আলাপটা চলে আসে। এতো বড় বাজার – দরকার রেগুলেটরি রিফর্ম।

৫৬৪.

পুরনো মান্ধাতা আইন দিয়ে না চালিয়ে নতুন ‘ইনোভেটিভ’ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরের প্রয়োজন মনে করলো সব দেশ। রেগুলেটরের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে দরকার চমত্কার একটা আইন। সময়োপযোগী। সরকারী কোম্পানি ভালো না ব্যবসায়। বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এগুলো দিয়ে দেয়া যায় বরং। রেগুলেটর না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো পারবে না সরকারী কোম্পানির সাথে। দরকার শক্ত রেগুলেটর। কথা বলবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে। ওই ১০৮টা দেশ যে চুক্তিতে মত দেয় সেটাতে নতুন টেলিযোগাযোগ কোম্পানি খোলা থেকে শুরু করে ফরেন ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের নীতিমালা আর দেশগুলোর ভেতর যোগাযোগের নতুন মাত্রা আনলো বলে। ওটা না হলে আজকের সাবমেরিন ক্যাবলের দেখা পেতেন বলুন?

৫৬৫.

মজার কথা হচ্ছে ওই একশো আটটার মধ্যে নিরানব্বইটা দেশ বেসরকারি প্রতিযোগিতা আনতে চাইলো এই টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে। ফিক্সড, মোবাইল আর ইন্টারন্যাশনাল লঙ-ডিসটেন্স সার্ভিস – প্রায় সবকিছুতেই। এরমধ্যে বিরাশিটা দেশ হচ্ছে আরো বুদ্ধিমান। তারা সেক্টরটাকে আরো বাড়ানোর জন্য মেনে নিলো একটা ব্লুপ্রিন্ট। ‘রেগুলেটরি প্রিন্সিপালস’ বলে টেলিযোগাযোগ রেগুলেশনের ওপর একটা রেফারেন্স পেপার তৈরী করলো তারা। ওটা পড়লে মাথা খারাপ হয়ে যাবে আপনার। আজকের নয়, বিশ বছর আগের চিন্তা কিন্তু!

[ক্রমশঃ]

Read Full Post »

%d bloggers like this: